Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

লুধিয়ানায় জাতীয় অণু শিল্প পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ নয়াদিল্লি, ২০ অক্টোবর, ২০১৬

লুধিয়ানায় জাতীয় অণু শিল্প পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ নয়াদিল্লি, ২০ অক্টোবর, ২০১৬


দেশের নানা প্রান্ত থেকে সমাগত মাইক্রোইন্ডাস্ট্রি বা অণু শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ভাই ও বোনেরা,

একটি কথা প্রচলিত আছে যে, দিল্লি দূর অস্ত,দিল্লি অনেক দূরে! আর হতোও তাই, এত বড় বিশাল দেশ, কিন্তু প্রত্যেক ছোটখাট বিষয়েরজন্যে দিল্লির মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হতো। আমরা এসে সেই পরম্পরায় ইতি টেনেছি। দিল্লির বাইরে যে বিশাল ভারত, তাকে আমরা সমান গুরুত্ব দিতে চেয়েছি। সেজন্যে এখনসর্বত্র মানুষের মনে দিল্লি দূর অস্ত নয়, দিল্লি নিকটস্থ এই উপলব্ধি বাসা বাঁধতেশুরু করেছে। আমাদের আমলে ভারত সরকার যত নতুন নতুন প্রকল্প চালু করেছে, সবই ভারতেরবিভিন্ন প্রান্তে; কলকাতায়, রাঁচিতে, ভুবনেশ্বরে, চেন্নাই কিম্বা হরিয়ানার সোনেপত-এ ।

প্রত্যেকরাজ্যের একটি নিজস্ব মাহাত্ম্য, নিজস্ব শক্তি রয়েছে। আজ আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে লুধিয়ানায়আমার সামনে জাতীয় অণু শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সারা ভারতের মানুষ এসে হাজির হয়েছেন।আমার সৌভাগ্য যে দেশের নানা প্রান্ত থেকে সমাগত অণু শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সকলশিল্পোদ্যোগীদের সম্মানিত করার সুযোগ পেয়েছি। প্রায় ২৫০ জনকে আজ সম্মানিত করা হবে।পূর্ববর্তী সরকারগুলি আমার জন্যে অনেক কাজ রেখে গেছে। নাহলে আজ এই ২৫০ জনকেসম্মানিত করা, তাঁদের সঙ্গে কথা বলার মাধ্যমে নতুন প্রেরণালাভের সৌভাগ্য আমার হতোনা। এই কাজ আগে থেকে শুরু হলে, আপনাদের মধ্যে অনেকে আগেই সম্মানিত হতেন, এখানেঅনেক কম শিল্পোদ্যোগীদের সম্মানিত করা হলে প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলার সময়পেতাম । এখনসংখ্যাধিক্যের ফলে আয়োজকরা প্রত্যেক রাজ্যের একজন করে প্রতিনিধিকে আমার হাতে সম্মানিতকরার ব্যবস্থা করেছেন । বাকিদের সম্মানিত করবেন আমার মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্যশ্রদ্ধেয় মন্ত্রীগণ । কিন্তু আমার পক্ষ থেকে আপনাদের সকলকে সফল যাত্রাও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ – এর শুভেচ্ছা জানাই । শুধু শুভেচ্ছাইনয় , ভারতেরআর্থিক জীবনে পরিবর্তনের খাতিরে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে ক্ষুদ্র –শিল্পোদ্যোগগুলির সমৃদ্ধি,বিশ্ববাজারকে লক্ষ্য করে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারত সরকার সর্বদা আপনাদের পাশেদাঁড়াবে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলবে।

আমার বিশ্বাস, পরপর দু ’ বছর আকালের পরওযেভাবে আজ বিশ্বের দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়া অর্থনীতির দেশগুলির মধ্যে সর্বাধিকদ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে ভারত – কৃষি উৎপাদন অত্যন্ত কম হওয়ার ফলে আমাদের কৃষকরাব্যতিব্যস্ত হলেও পরিষেবা ক্ষেত্র ও ক্ষুদ্র – শিল্পোদ্যোগগুলিরসাফল্য নির্মাণ ক্ষেত্রে নিজেদের পথপ্রদর্শকের ভূমিকায় স্থাপন করেছে । ফলে বিশ্বব্যাংক হোক কিম্বা আইএমএফ ও বিশ্বের সকল ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি সমস্বরে ভারতীয়অর্থনীতির জয়গান গাইছে।

আজ এখানে এসেআরও তিন ধরনের সুযোগ আমি পেয়েছি। প্রথমত, পাঞ্জাবের ৫০০ জন গ্রামীণ মা ও বোনেদেরহাতে প্রতীকীরূপে চরকা তুলে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। এর মাধ্যমে তাঁরা দৈনিক ন্যূনতম১৫০ টাকা রোজগার করতে পারবেন। আমরা যেহেতু খাদিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরতেচাইছি, সুতোর কাজ বাড়াতে চাইছি, এক কথায় কুটির শিল্পের মাধ্যমে স্বনির্ভরতা ওকর্মসংস্থানের যে স্বপ্ন মহাত্মা গান্ধী দেখেছিলেন, আমরা সেই স্বপ্নকে সাকার করারমাধ্যমে দেশের অর্থ ব্যবস্থার ভিত্তিতে সুদৃঢ় করতে চাইছি। চরকা তুলে দেওয়ার পর আমিওদের স্টল দেখতে গিয়েছিলাম, আপনারাও ঘুরে দেখবেন, তাঁদের উৎপাদিত খাদির উৎকর্ষদেখবেন; যথাযথ প্যাকেজিং-এর মাধ্যমে কর্পোরেট বিশ্বে এগুলিকে প্রতিযোগিতায় সামিলকরার সফল প্রয়াস আপনাদের আনন্দ দেবে। মহাত্মা গান্ধী যখন স্বদেশী আন্দোলন শুরুকরেছিলেন, তখন ‘ Khadi for Nation’ মন্ত্র খাদিজাতীয়তাবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। এখন স্বাধীন দেশে আমরা এর মাধ্যমে আর্থিক বিপ্লবগড়ে তুলতে চাই, সেজন্য নতুন মন্ত্র হবে ‘Khadi for Fashion’ আমিনিশ্চিত এই মন্ত্র নিয়ে এগিয়ে গেলে আমাদের গ্রাম, গরিব ও সাধারণ মানুষের আর্থিকজীবনে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। এজন্য আপনাদের প্রত্যেককে খাদিধারী হয়ে ওঠার প্রয়োজননেই। কিন্তু, আপনার বাড়িতে ৫০ ধরনের ফেব্রিক-এর ব্যবহার হয়, এগুলির মধ্যে কিছুকিছু খাদির ফেব্রিক থাকলে দেখবেন, ভালো লাগবে। গরিব মানুষের ঘরে দীপাবলীর প্রদীপেরমতো শান্ত আনন্দের উৎস হয়ে উঠতে পারে এই খাদি। শান্তির চেয়ে জীবনে আর বড় কী চাওয়াযেতে পারে?

আজ আমি এই সকলপরিবারের মা ও বোনেদের আশীর্বাদ পেয়েছি। পাঞ্জাবের মাটি থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণসূচনা হ’ল। এই সময় আমরা যখন গুরু গোবিন্দ সিং-এর ৩৫০তম জন্মজয়ন্তী পালন করছি, আমিঅত্যন্ত শ্রদ্ধা সহকারে তার উক্তি আপনাদের শোনাতে চাই ‘মানস কী জাত সবই, একপেহেচান ওহ’ অর্থাৎ মানুষের একটাই জাত থাকে, তাতে উঁচু-নীচু কিছু হয় না। গুরুগোবিন্দ সিং সেই সময় দাঁড়িয়ে জাত-পাত এবং অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণাকরেছিলেন। কিন্তু আমরা জানি, সমাজের এই বিকৃতিগুলি আজও আমাদের সমাজ থেকে একেবারেঅদৃশ্য হয়ে যায়নি। আজও আমাদের দলিত ভাই-বোনেদের কখনও কখনও এমন কিছু ঘটনার সম্মুখীনহতে হয়, তাতে সকলের মাথা লজ্জায় নত হয়ে যায়। দেশের স্বাধীন হওয়ার ৭০ বছর পরও আমরাএগুলি মেনে নিতে পারি না। আদিবাসী কিংবা দলিত প্রত্যেকেরই দেশের নবীন প্রজন্মেরঅন্য মানুষদের মতোই নতুন প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অধিকার রয়েছে। সকলের মিলিতপ্রয়াসেই ভারতের ভাগ্য পরিবর্তন হতে পারে। যাঁরা পিছিয়ে রয়েছেন, তাঁদেরকে এগিয়েআনতে পারলেই দেশের মঙ্গল হবে।

আমাদের মাঝেশিল্পপতি মিলিন্দজী রয়েছেন, তিনি দলিত সমাজের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তিনি গোটা দেশেস্বউদ্যোগীদের একটি সংগঠন তৈরি করে ফেলেছেন – দলিত চেম্বার অফ কমার্স। আমি একবারতাঁদের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। গিয়ে অবাক হয়েছি, সেখানে ১ হাজার জনেরওবেশি এমন শিল্পপতি রয়েছেন, যাঁদের ব্যবসা বার্ষিক ৫০০ কোটি টাকারও বেশি। সেখানে৩০০ জনেরও বেশি দলিত মহিলা শিল্পপতিদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, যাঁদের ব্যবসা বার্ষিক১০০ কোটি টাকারও বেশি। তাঁদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর আমি ভেবেছি যে, আমাদের দেশেরতপশিলি জাতি ও উপজাতির স্ব-উদ্যোগীদের আরও প্রোৎসাহিত করা উচিৎ। সেজন্য আমরা বিগতবাজেটে তাঁদের জন্য একটি হাব গড়ে তোলার ঘোষণা করেছিলাম। আজ লুধিয়ানার মটিতে গোটাদেশের জন্য আমি সেই হাব-এর শুভারম্ভ করছি। আমার প্রিয় দলিত ভাই-বোন, তপশিলি জাতি ওউপজাতি ভাই ও বোনেরা চাকরির লাইনে আর দাঁড়িয়ে থাকতে চায় না, তাঁরা এমন জীবন গড়েতুলতে চায়, যাতে নিজেই অন্যদের চাকরি দিতে পারে। যাঁদের এমন ইচ্ছা ও স্বপ্ন রয়েছে,তাঁদের জন্য আমি কিছু করতে চাই।

ব্যাঙ্কগুলিকেবলেছি, ‘স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া, স্ট্যান্ড আপ ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতেররাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির ১ লক্ষ ২৫ হাজার শাখা থেকে, শাখা পিছু একজন মহিলা, একজনতপশিলি জাতি ও একজন তপশিলি উপজতি স্ব-উদ্যোগীকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে।এভাবে এই ১ লক্ষ ২৫ হাজার শাখা ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার নতুন শিল্পপতির জন্ম দিতে পারে।আমরা বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিতে পেরেছি! ভারত সরকার যেসব জিনিস বাইরে থেকে কেনে,সেগুলির মধ্যে এই স্ব-উদ্যোগীদের উৎপাদিত পণ্য যা রয়েছে, সেগুলিকে অগ্রাধিকারদেবে। রাজ্য সরকারগুলিকেও আমরা অনুরোধ করেছি যাতে অন্ততপক্ষে ৪ শতাংশ এইস্ব-উদ্যোগীদের থেকেই কেনা হয় । এতে এই স্ব-উদ্যোগীরা স্বাভাবিক বাজার পাবে, পাশাপাশি বিশ্ব বাজারের সঙ্গেপ্রতিযোগিতার জন্য নিজেদের প্রস্তুতিপর্বও সেরে নিতে পারবে।

আজ এখানেআরেকটি প্রকল্পের সূত্রপাত হয়েছে ‘ZED’ অর্থাৎ‘জিরো এফেক্ট জিরো ডিফেক্ট’ । আপনারা সবাই জানেন যে, সাধারণ ক্রেতাও উৎকর্ষ নিয়ে সমঝোতায় আসতে চান না।আগে আমরা দেখেছি যে, ব্যবসায়ীরা সামান্য ত্রুটিযুক্ত পণ্য বড় শহরে বিক্রি না করেমাঝারি ও ছোট শহরগুলিতে পাঠিয়ে দিত, আর বেশি ত্রুটি থাকলে সেগুলি গ্রামে পাঠিয়েদিত। কিন্তু এখন সেদিন আর নেই। এখন গ্রামের মানুষও কোনও জিনিস সামান্য ত্রুটিথাকলে কেনেন না। সেজন্য প্রত্যেক উৎপাদনকারীকে ভালো উৎকর্ষ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেবিশ্ব মানের পণ্য উৎপাদন করতে হবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয়েছিল। কেউ কল্পনাও করতে পারেননি যে জাপানআবার উঠে দাঁড়াবে। কিন্তু, ছোট ও মাঝারি ক্ষুদ্র শিল্প উৎপাদনে উৎকর্ষ বজায় রেখেতারা দ্রুতগতিতে এগিয়ে গেছে। আজ থেকে ১৫-২০ বছর আগেও আমরা বাজারে কোনও জিনিসে ‘মেডইন জাপান’ ছাপ দেখলে নিঃসঙ্কোচে কিনে নিতাম। ঐ জিনিসটি কোন্‌ কোম্পানির তৈরি তাযাচাইও করতাম না। আমি চাই, বিশ্ব বাজারে ভারতে উৎপাদিত জিনিসেরও এমনই সুনাম হোক।‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ মানেই একটি অনুপম আন্তর্জাতিক মানের পণ্য এই স্বপ্ন নিয়ে আমরাএগিয়ে যেতে চাই। সেজন্য আমাদের উৎপাদিত পণ্যের প্রথম শর্ত হবে ‘জিরো ডিফেক্ট’ । সামান্য ত্রুটিও অনেক সময় আমাদের জীবনে বড় বিপর্যয় আনতেপারে। একজন নাবিক যখন নৌকা নিয়ে সমুদ্রপড়ি দেয়, তখন তাঁর নৌকায় সামান্য ছিদ্রওসর্বনাশ ডেকে আনতে পারে। সেজন্য নির্মাতাদের মাথায় সর্বদাই এই ‘জিরো ডিফেক্ট’মন্ত্র কাজ করলে অল্পদিনের মধ্যেই তাঁরা বিশ্ব বাজারে সুনাম ও ভরসা অর্জন করতেপারবেন।

বিশ্ব বাজারআমাদের দু’হাত বাড়িয়ে ডাকছে। কেউ কেউ ভাবতে পারেন, আমি তো ছোট মানুষ, আমার মেশিনওছোট, মাত্র ৫-১০ জন শ্রমিক, আমি আবার কেমন করে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় নামব? এরকমভাবনা ছাড়ুন। আজ বিশ্বে মহাকাশ ও কৃত্রিম উপগ্রহ ক্ষেত্রে ভারত অনেকের থেকে এগিয়েআছে। আমাদের মঙ্গলযান প্রথম প্রচেষ্টাতেই সাফল্যের সঙ্গে মঙ্গলগ্রহে পৌঁছে গেছে।আমাদের নবীন প্রজন্মের বুদ্ধি ও শক্তি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। লুধিয়ানায় আপনারাঅটোরিক্‌শা চেপে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে কিলোমিটার প্রতি ৮-১০ টাকা খরচকরেন। আর আমাদের বৈজ্ঞানিকরা মঙ্গলগ্রহে রকেট পাঠিয়েছেন কিলোমিটার প্রতি মাত্র ৭টাকা খরচ করে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলি এটা কল্পনাও করতে পারে না। আমেরিকার হলিউডেযত টাকা খরচ করে সিনেমা তৈরি হয়, তার থেকেও কম খরচে ভারতের বৈজ্ঞানিক ওপ্রযুক্তিবিদরা মঙ্গলগ্রহে মহাকাশযান পৌঁছে দেন।

এত বড় সাফল্য,কিন্তু তার ইতিহাস যদি দেখেন, বেঙ্গালুরু এবং ভারতের আরও কয়েকটি জায়গায় কারও মোটরগ্যারেজের খালি জায়গায় কয়েকজন উচ্চাকাংখী যুবক কাজ করতেন। আপনারা অনেকেই হয়তোতখনকার ফটো দেখেছেন; দুজন বৈজ্ঞানিক বাইসাইকেলের পেছনে নির্মীয়মান মহাকাশযানেরঅংশবিশেষ বসিয়ে ঠেলে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন! তাঁদের সেদিনের পরিশ্রমের ফল আমরা আজউপভোগ করি, তাঁদের সাফল্যের জন্যে গর্ব অনুভব করি। ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগীরা এমনইস্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যান। আপনাদের উৎপাদিত পণ্যকে কখনই মামুলি ভাববেন না। এর মধ্যেশীর্ষে পৌঁছনোর প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলে আমাদের পরিশ্রম ও উৎকর্ষভাবনা অবশ্যইআমাদের সেই উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।

সময় বদলেগেছে। পণ্যের উৎকর্ষের পাশাপাশি প্যাকেজিং-ও আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।পণ্য বিশ্ব মানের হলেও প্যাকেজিং-এর ক্ষেত্রে কার্পণ্য দেখালে লোকসান হতে পারে।পণ্ডিত নেহরু যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, দেশের আয়ুর্বেদকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য তিনিএকটি কমিশন গঠন করেছিলেন। সেই কমিশনের শীর্ষে ছিলেন শ্রদ্ধেয় জয়সুখলাল হাথি। তাঁররিপোর্টের প্রথম পৃষ্ঠাতেই তিনি লিখেছিলেন, আয়ুর্বেদকে দেশে ও বিদেশের বাজারেজনপ্রিয় করে তুলতে হলে এর প্যাকেজিং বিশ্ব মানের হওয়া চাই। আগের মতো কাগজে মুড়েবিক্রি করলে একে জনপ্রিয় করে তোলা যাবে না। আমি ষাটের দশকের কথা বলছি। আজ আমরাজানি, প্যাকেজিং-এর গুরুত্ব কতটা। যে দেশের মানুষ ইংরাজি জানেন না, সেদেশে যদিআমরা মোড়কের গায়ে ইংরাজি হরফ লিখি, তা হলে বিক্রির প্রশ্নই উঠছে না। সেজন্যসেদেশের ভাষায় প্যাকেজিং করতে হবে। তাই, আমরা ত্রুটিমুক্ত ‘জেড’ প্রকল্পের মাধ্যমেপ্রতিযোগিতায় নামার কথা ভাবছি। এক্ষেত্রে ব্রোঞ্জ থেকে শুরু করে প্ল্যাটিনামপর্যন্ত ৫টি ভিন্ন পর্যায়ে পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কেউ সরাসরিপ্ল্যাটিনাম পুরস্কার পাবেন না। প্রত্যেককেই ব্রোঞ্জ থেকে শুরু করতে হবে। তারপর,সাফল্যের পর্যায় অনুযায়ী পুরস্কারের পর্যায় উন্নয়ন ঘটবে। এই ‘জিরো ডিফেক্ট, জিরোএফেক্ট’ আন্দোলনে ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষেরও বেশি শিল্পপতি অংশগ্রহণ করেছেন। আমরা ৫০টিসূচক রেখেছি। আপনারা সেই ৫০টি সূচকে উৎকর্ষের মাধ্যমে নিজেদের পণ্যকে ত্রুটিমুক্তকরে তুলুন। দেখবেন, কত দ্রুত আমাদের পণ্য বিশ্ব বাজারে নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলবে।এভাবে ভারত সরকারের এই প্রচেষ্টা, এই শংসায়ন বিশ্ববাসীর কাজে লাগবে।

‘জিরো এফেক্ট’নিয়ে বিশ্বের নানা দেশে নানা রকম রণনীতি রয়েছে। আপনাদের পণ্য বিশ্ব বাজারে পৌঁছনোরপর কোথাও শোরগোল তোলা হয় যে কোনও অ-সরকারি সংগঠনের মাধ্যমে ভারতের অমুক পণ্যআমাদের বাজারে বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু সেটি পরিবেশ দূষণের মাধ্যমে উৎপাদিত হয়,সেজন্য এই পণ্যকে বহিষ্কার করা হোক। আর এই কারণেই হয়তো আপনার উৎপাদিত পণ্য সেদেশেরপ্তানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আগামী ৫-১০ বছরে গোটা বিশ্বে এ ধরণের কুৎসা রটনাকারীব্যক্তি ও সংস্থার সংখ্যা বাড়বে বৈ কমবে না, প্রতিযোগিতা এমনই জিনিস। সেজন্য এখনথেকেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে, যাতে আমাদের উৎপাদিত পণ্য বা উৎপাদন প্রক্রিয়াকোনওভাবেই পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকারক না হয়। তা হলেই পণ্য রপ্তানির পর কেউ আরআমাদের বিরুদ্ধে বদনাম করতে পারবে না। তা হলে আমরা জোর দিয়ে বলতে পারব যে,ভারতীয়রা মানবজাতির ভাগ্যকে নিরপদ রাখে, ভবিষ্যৎ-কেও সুরক্ষিত রেখে আপনাদেরউৎকৃষ্ট মানের পণ্য পৌঁছে দিতে পারে। এই ‘জিরো এফেক্ট জিরো ডিফেক্ট’ মন্ত্র নিয়েআমরা এগিয়ে যেতে চাই।

আমি চাই,আপনারা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভারত সরকারে সিদ্ধান্তকে কাজে লাগান। এতদিনআপনারা ভারত সরকার প্রদত্ত শংসাপত্র নিজেদের চেম্বারে ঝুলিয়ে রাখতেন, কেউ এলে দেখাতেনযে, আমরা এই সম্মান পেয়েছি। এখন সরকার এই প্রতিষ্ঠাকে সুদূরপ্রসারী করার জন্যসরকারিভাবে অনুমতি দিচ্ছে যে, আপনারা পুরস্কারের লোগো-টিকে কারখানার শ্রমিকদেরপোশাকেও ছাপিয়ে দিতে পারেন। ঐ লোগো ব্যবহার করে খবরের কাগজ কিংবা বৈদ্যুতিনমাধ্যমে বিজ্ঞাপনও দিতে পারেন । এরফলে, আপনার পাশাপাশি আপনার কারখানার প্রতিটি কর্মচারীও গর্ব অনুভবকরবেন।

এইপ্রকল্পগুলির মাধ্যমে এমনই অনেক ক্ষেত্রে আপনার ব্যবসা বৃদ্ধি পাবে। আজ লুধিয়ানাতেএই সূত্রপাত দেশের উৎপাদন ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করল।

আমরা ‘স্টার্টআপ’কে অগ্রাধিকার দিয়েছি। মুদ্রা যোজনার মাধ্যমে দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্যব্যাঙ্ক ঋণ প্রদানের ব্যাপক কর্মসূচি গোটা দেশে একটি আন্দোলন তৈরি করেছে। আপনারাশুনলে অবাক হবেন যে, মাত্র দেড় বছরে ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি প্রায়পৌনে চার কোটি ব্যবসায়ীকে কোনও গ্যারান্টি ছাড়াই প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ প্রদানকরেছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ ঋণ প্রাপক হলেন মহিলা, দলিত এবং নানা অনগ্রসরশ্রেণীর মানুষ।

আপনারা হয়তোলক্ষ্য করেছেন যে, আজ আমরা শিল্পপতিদের পাশাপাশি ব্যাঙ্কগুলিকেও সম্মানিত করেছি।কারণ, আমরা ব্যাঙ্কগুলিকেও প্রতিযোগিতার ময়দানে আনতে চাই। কোন্‌ ব্যাঙ্ক কত দ্রুতকত বেশি ক্ষুদ্র ও ছোট শিল্পপতিদের ঋণদান করেছে – এসব কিছু দেখে আমরা ব্যাঙ্কগুলিকেপুরস্কার প্রদান করছি। আমরা সারা দেশে ছোট ছোট নির্মাণশিল্পের একটি বড় নেটওয়ার্কগড়ে তুলতে চাই।আমাদের নতুন প্রজন্মের সাহস ও উদ্ভাবন ক্ষমতাকে দেশের কাজে লাগাতেচাই। আমার ঠাকুরদার সময় থেকে যে পণ্য বাজারে জনপ্রিয় আজও সেই পণ্য একইরকম জনপ্রিয়থাকবে তার কোনও মানে নেই। বিশ্ববাজারে সাফল্য পেতে হলে প্রত্যেক প্রজন্মকে নতুন উদ্ভাবনযুক্তপণ্যের কথা ভাবতে হবে। ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগের ক্ষেত্রেও একথা সমান প্রযোজ্য।‘স্টার্ট আপ’ উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দেয়, মেধাকে সুযোগ দেয়। ‘স্টার্ট আপ’-এ ক্ষুদ্রশিল্পোদ্যোগকে ‘স্কেল-আপ’ করানোর জন্য নতুন নতুন চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

আমরা যে‘স্বচ্ছ ভারত’ অভিযান শুরু করেছি, এই পরিচ্ছন্নতার অভিযানেও অনেক বড় ব্যবসার সম্ভাবনালুকিয়ে রয়েছে। বর্জ্য থেকে সম্পদ উৎপাদনের নানা উপায় খুঁজে বের করতে হবে। নতুননতুন যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করতে হবে। এখানে এমনই একটি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করাহয়েছে। এই প্রদর্শনীতেই মাত্র ৫ লক্ষ টাকা দামে একটি ছোট যন্ত্র প্রদর্শিত হচ্ছে,যার মাধ্যমে ফলের সুগন্ধ থেকে সুগন্ধী উৎপাদনের ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের দেশেদরিদ্র থেকে দরিদ্রতম ব্যক্তিও মন্দিরে যান, মন্দিরের বাইরে যদি এমনই একটি যন্ত্ররাখা যায়, তা হলে মন্দিরে যত ফুল-মালা অর্পণ করা হয়, সেগুলি থেকে উৎকর্ষ মানেরসুগন্ধী প্রস্তুত করে বাজারে বিক্রি করা যেতে পারে। এ ধরনের যন্ত্র যত আবিষ্কৃতহয়, আমাদের ‘স্টার্ট আপ’ আন্দোলন ততই সাফল্য পাবে। ছোট ও ক্ষুদ্র ব্যবসা আমাদেরদেশকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

আমি আরেকবারশ্রদ্ধেয় কলরাজ মিশ্র এবং তাঁর গোটা দল, সকল মন্ত্রীগণ এবং তাঁদের বিভাগের সকলআধিকারিকদের অন্তর থেকে অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই। যে গতিতে তাঁরা কুটির শিল্পথেকে ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশে ‘হলিস্টিক নেটওয়ার্ক’ গড়ে তুলে এগিয়ে যাচ্ছেন, তারজন্য সকলকে অভিনন্দন জানাই।

আমি পাঞ্জাবেরশ্রদ্ধেয় মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ সিং বাদল এবং তাঁর সরকারের সকল মন্ত্রী ওআধিকারিকদের কৃতজ্ঞতা জানাই। তাঁরা এই অনুষ্ঠানকে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য অনেকপরিশ্রম করেছেন। বাদল সাহেব আমাদের ভাটিন্ডার কথা মনে করিয়েছেন, সত্যিই আমার আগেভাটিন্ডা যাওয়া উচিৎ ছিল কিন্তু সময়ের অভাবে আমি সেটা করতে পারিনি। প্রায় ১ হাজারকোটি টাকা বিনিয়োগে ভাটিন্ডায় কেন্দ্রীয় সরকার একটি এইম্‌স হাসপাতাল গড়ে তুলছে।বাদল সাহেব আমার অগ্রজ। তাঁর ইচ্ছাকে আমি আদেশ হিসাবে গ্রহণ করলাম আর যত তাড়াতাড়িসম্ভব ভাটিন্ডা এসে এইম্‌স হাসপাতাল পরিদর্শনের প্রতিশ্রুতি দিলাম।

আমি আরেকবারআপনাদের সকলকে অন্তর থেকে অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা জানাই। পাঞ্জাব সরকার ও বিশেষ করেবাদল সাহেবের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

PG/S B/SB