পিএমইন্ডিয়া
এখানে আসার আগে কেউ আমাকে বলেছিলেন, লেহ্-তে ভীষণ ঠান্ডা। শূণ্য থেকে অনেক নিচে তাপমাত্রা। এত ঠান্ডায় আপনারা সকলে এখানে এসেছেন দেখে আমি সত্যিই অবাক হয়েছি। আপনাদের সবাইকে প্রণাম জানাই। বিমানবন্দরে অনেক বয়স্কা মায়েরা আমাকে আশীর্বাদ দেওয়ার জন্য এসেছিলেন। শূণ্য ডিগ্রি থেকে এত কম তাপমাত্রায় তাঁরা খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়েছিলেন। আমিও গাড়ি থেকে নেমে তাঁদেরকে প্রণাম করার জন্য এগিয়ে যাই। মায়েদের এই আশীর্বাদ, এই ভালোবাসা, এত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আমাকে নতুন প্রাণশক্তি যোগায়। আপনাদের এই আপনত্ব, এই স্নেহ দেখে আমার প্রথমে যতটা ঠান্ডা লাগছিল, এখন আর তা লাগছে না।
মঞ্চে উপস্থিত জম্মু ও কাশ্মীরের মাননীয় রাজ্যপাল শ্রীযুক্ত সৎপাল মালিক, আমার মন্ত্রিসভার সদস্য, জম্মু-কাশ্মীরের সন্তান ডঃ জিতেন্দ্র সিং, জম্মু-কাশ্মীর বিধান পরিষদের অধ্যক্ষ শ্রীযুক্ত হাজি আনায়ত আলি, লাদাখ স্বশাসিত পার্বত্য বিকাশ পরিষদ, লেহ্-এর অধ্যক্ষ শ্রীযুক্ত জে টি নামগিয়াল, লাদাখ স্বশাসিত পার্বত্য বিকাশ পরিষদ, কার্গিলের অধ্যক্ষ শ্রীযুক্ত ফিরোজ আহমেদ, রাজ্য বিধান পরিষদের সদস্য শ্রীযুক্ত শেরিং দোরজে এবং এখানে উপস্থিত আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা।
লাদাখ বীর ভূমি। ১৯৪৭ হোক কিংবা ১৯৬২ কিংবা কার্গিল যুদ্ধে এখানকার বীর সৈনিকরা দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। লাদাখের এত সুন্দর পর্বতশ্রেণী থেকে অনেকগুলি নদী জন্ম নিয়েছে। এই ভূমি মানবসভ্যতার জন্য ঈশ্বরের উপহারস্বরূপ। ৯-১০ মাস পর আরেকবার আপনাদের মধ্যে আসার সৌভাগ্য হল। আপনারা যে সমস্যাসঙ্কুল পরিস্থিতির মোকাবিলা করে দিনযাপন করেন তা আমার জন্য প্রেরণাস্বরূপ। আমি আপনাদের জন্য যত বেশি সম্ভব কাজ করতে চাই। আপনারা আমাকে যেভাবে ভালোবাসেন তা সুদ সমেত আপনাদের উন্নয়নের মাধ্যমে ফিরিয়ে দিতে চাই। আমি জানি, বিরূপ প্রকৃতি আপনাদের জন্য অনেক সমস্যার সৃষ্টি করে। বিদ্যুৎ থাকে না, পানীয় জলের সমস্যা হয়। নানা অসুখ-বিসুখের সম্মুখীন হতে হয়। গবাদি পশুর জন্য খাদ্য সংগ্রহ করা সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। অনেক দূর-দুরান্ত থেকে নিজেদের ও গবাদি পশুর খাদ্য সংগ্রহ করতে হয়। যখন আমি আমার দলের সংগঠনের কাজ করতাম, তখন দীর্ঘদিন আপনাদের মধ্যে থেকে এই সমস্যাগুলির সম্মুখীন হওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে।
বন্ধুগণ, এই সমস্যাগুলি দূর করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার দায়বদ্ধ। এজন্য আমি নিজে বারবার লেহ্, লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীরে আসতে থাকি। গতবার বিদ্যুৎ উৎপাদন সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রকল্পের উদ্বোধন কিংবা শিলান্যাস করার জন্য এসেছিলাম। আজও আপনাদের জীবনকে সহজ করে তোলার জন্য প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন কিংবা শিলান্যাসের সৌভাগ্য হয়েছে। দ্রাস জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে লেহ্ এবং কার্গিলের অনেক গ্রামে পর্যাপ্ত এবং সুলভে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। তার আগে, শ্রীনগর-উল্লেস্তিন-দ্রাস-কার্গিল ট্রান্সমিশন রেক শিলান্যাসের সৌভাগ্য হয়েছিল। আজ সেটি উদ্বোধনের সৌভাগ্য হয়েছে। ২,০০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগে নির্মিত এই প্রকল্প এখন লেহ্-লাদাখের বিদ্যুৎ সমস্যা লাঘব করবে।
বন্ধুগণ, এটাই আমাদের সরকারের কাজ করার পদ্ধতি। অহেতুক কাজ বিলম্বিত করার অথবা বিভ্রান্ত করার পুরনো সংস্কৃতি এখন দেশবাসী তামাদি করে দিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে আমরা এই ঝুলিয়ে রাখার সংস্কৃতিকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেব। আমাদের আমলে যেসব প্রকল্পের শিলান্যাস করা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই প্রকল্প সম্পূর্ণ করার জন্য পূর্ণ শক্তি নিয়োগ করা হয়।
ভাই ও বোনেরা, আজ যে প্রকল্পগুলির উদ্বোধন এবং শিলান্যাস করা হয়েছে, সেগুলি বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি, লেহ্-লাদাখকে দেশের অন্যান্য অংশ এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পর্যটন শিল্প উন্নত হবে। এখানকার নবীন প্রজন্মের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। এখানকার ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার সুযোগও বাড়বে। এখানকার প্রকৃতি এত সুন্দর, এই অঞ্চলে যদি উন্নতমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়, আমার বিশ্বাস ভারতের নানা প্রান্ত থেকে ছেলে-মেয়েরা এসে এখানে পড়াশোনা করতে চাইবে। আমি এ ধরণের স্বপ্ন দেখি।
আমাদের সকলের শ্রদ্ধেয় মহান কুশক বকুলা রিম্পোশে সারা জীবন ধরে একটি স্বপ্ন সার্থক করার জন্য কাজ গেছেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল লেহ্-লাদাখকে শ্রেষ্ঠ ভারতের সঙ্গে যুক্ত করা এবং দেশের একতা ও অখণ্ডতার ভাবনাকে শক্তিশালী করে তোলা। কেন্দ্রীয় সরকার তাঁর স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য, লেহ্-লাদাখকে রেল ও আকাশপথে যুক্ত করার জন্য বেশ কিছু বড় বড় প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে। এই প্রকল্পগুলি সম্পূর্ণ হলে লাদাখ প্রথমবার দেশের রেল মানচিত্রে যুক্ত হবে। আর কুশক বকুলা রিম্পোশে বিমানবন্দরে নতুন এবং আধুনিক টার্মিনাল ভবন এখানকার বিমান যাত্রী ও পর্যটকদের উন্নত পরিষেবা প্রদানে সক্ষম হবে।
এভাবে বিলাসপুর থেকে মানালি হয়ে লেহ্ পর্যন্ত রেল লাইন স্থাপনের প্রাথমিক সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এই রেল লাইন তৈরি হয়ে গেলে দিল্লি থেকে লেহ্-এর দূরত্ব অনেক হ্রাস পাবে। শীতকালে তো এখানকার সমস্ত সড়ক পথ অবশিষ্ট ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন রেল লাইন এই সমস্যা অনেকটাই দূর করতে পারবে।
বন্ধুগণ, যে কোন অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে সেখানকার মানুষের জীবন যখন সহজ হয়, কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পায়। সবচাইতে বেশি লাভবান হয় পর্যটন শিল্প। লেহ্-লাদাখ এমনিতেই প্রাকৃতিকভাবে অনুপম নিসর্গ, আধ্যাত্ম, কলা ও সংস্কৃতি এবং দুঃসাহসিক ক্রীড়ার জন্য বিখ্যাত। এখানকার পর্যটন বিকাশের জন্য সরকার অনেক নতুন নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। আজ এখানে পাঁচটি নতুন ট্রেকিং রুট খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার এই রুটগুলিতে সংরক্ষিত এলাকার অনুমতির বৈধতা সাতদিন থেকে বাড়িয়ে ১৫ দিন করে দিয়েছে যাতে পর্যটকরা যথেষ্ট সময় নিয়ে এখানকার পরিবেশ ও প্রকৃতিকে উপভোগ করতে পারেন। ফলে, পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত যুবক-যুবতীদের রোজগার বৃদ্ধি পাবে।
বন্ধুগণ, আমাকে বলা হয়েছে যে এবার ৩ লক্ষেরও বেশি পর্যটক লেহ্-তে এসেছেন এবং প্রায় ১ লক্ষ পর্যটক কার্গিল ঘুরতে গেছেন। তার মানে, কাশ্মীরে গত এক বছরে যত পর্যটক এসেছেন, তার অর্ধেকই এই অঞ্চলে এসেছেন। সেদিন দূরে নেই যখন লেহ্-লাদাখ পর্যটনে নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে।
ভাই ও বোনেরা, আমাদের সরকার উন্নয়নের পঞ্চধারা অর্থাৎ, ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা, যুবকদের কর্মসংস্থান, বয়স্কদের ঔষধ, কৃষকদের সেচ এবং প্রত্যেক মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। লেহ্-লাদাখ ও কার্গিল এই সকল পরিষেবা মজবুত করার চেষ্টা চলছে। লাদাখের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ নবীন শিক্ষার্থী। আপনারা দীর্ঘদিন ধরে এখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন। আজ আপনাদের এই দাবি পূরণ করা হল। সেজন্য আমি আপনাদের সবাইকে, বিশেষ করে আমার নবীন বন্ধুদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। আজ এখানে যে ক্লাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধন করা হল, এতে নুব্রা, লেহ্, জাসকর এবং কার্গিলে চালু ডিগ্রি কলেজগুলির পরিকাঠামো ও সম্পদ ব্যবহার করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুরু হবে। ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার জন্য এর প্রশাসনিক দপ্তর থাকবে লেহ্ এবং কার্গিলে।
বন্ধুগণ, লেহ্-লাদাখ দেশের এমন অঞ্চলে রয়েছে যেখানে বিভিন্ন জনজাতির মানুষ বসবাস করেন। দু’দিন আগে পেশ করা কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটে তপশিলি জাতি ও উপজাতির উন্নয়নে জোর দিয়ে ৩০ শতাংশ বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এবার দলিতদের উন্নয়নের জন্য বাজেটে ৩৫ শতাংশ বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তপশিলি জনজাতির উন্নয়নের জন্য এবারের বাজেটে ১১,০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এখন শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য পরিষেবা উন্নত হবে।
ভাই ও বোনেরা, কেন্দ্রীয় সরকার দেশের প্রত্যেক নাগরিককে উন্নয়নের মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। যাঁদের জীবনে কোন কারণে উন্নয়নের প্রভাব পড়েনি, এই বাজেটে সেরকম যাযাবর সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁদের জীবনযাত্রার প্রকৃতি এমনই যে এক এক ঋতুতে তাঁরা এক এক জায়গায় চলে যান। ফলে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলির সুফল তাঁদের কাছে পৌঁছয় না। তাঁদের কথা ভেবে সরকার, তাঁদের উন্নয়নের জন্য একটি ওয়েলফেয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বাধীনতার ৭০ বছর পরও যাঁরা সরকারি প্রকল্পগুলির সুফল থেকে বঞ্চিত ছিলেন, সেই পশুপালক, সাপুড়ে, বাঞ্জারা, কামার, গরুর গাড়িতে ঘুরে বেড়ানো মানুষদের উন্নয়নের জন্য বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে।
বন্ধুগণ, তাছাড়া দেশের কৃষকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য এ বছর বাজেটে কৃষকদের জন্য অনেক বড় প্রকল্প আনা হয়েছে – ‘পিএম-কিষাণ সম্মান নিধি’। এর মাধ্যমে ৫ একর বা তার থেকে কম পরিমাণ জমির অধিকারী কৃষক পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কেন্দ্রীয় সরকার সরাসরি ৬ হাজার টাকা জমা করবে। প্রত্যেক বছর করবে। বছরে তিন কিস্তিতে ২ হাজার টাকা করে জমা করা হবে যাতে তাঁরা কৃষিক্ষেত্রে বিনিয়োগ নিশ্চিন্তভাবে করতে পারেন। লেহ্-লাদাখের কৃষক পরিবারগুলিও এর মাধ্যমে অনেক উপকৃত হবেন।
এই অঞ্চলের আলু, মটর, ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষিরা লাভবান হবেন। আমি যখন এখানে দিল্লি থেকে এসে সংগঠনের কাজ করতাম, তখন এখানকার সংগঠনের কর্মকর্তারা আমাকে দিল্লি থেকে ফুলকপি ও বাঁধাকপি নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করতেন। কিন্তু তাঁরাও এখানে সব্জি উৎপাদন করতেন। সেই সব্জির স্বাদ ছিল অতুলনীয়। আপনাদের পরিশ্রমে এখন এই এলাকাতেও ফুলকপি ও বাঁধাকপির ভালো চাষ হয়। সরকারের নতুন প্রকল্প এই কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে। দিল্লিতে যাঁরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় বসে থাকেন, তাঁরা জানেন না যে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে কিংবা প্রত্যন্ত মরু অঞ্চলের কৃষকদের জীবনে এই ৬,০০০ টাকা সাহায্য কত সহায়ক হবে।
এই নতুন প্রকল্পের জন্য আমি আপনাদের সবাইকে এবং সারা দেশের গরিব কৃষকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
বন্ধুগণ, লেহ্-লাদাখ-কার্গিল ভারত মায়ের মুকুট, আমাদের গর্ব। বিগত সাড়ে চার বছরে আমরা এই অঞ্চলের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে লাদাখ স্বশাসিত পার্বত্য উন্নয়ন পর্ষদ আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই পর্ষদের ব্যয় সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখন অনেক বেশি অধিকার প্রদান করা হয়েছে। এখন এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থ ব্যয়ের সিদ্ধান্ত স্বশাসিত পর্ষদই নিতে পারে। স্বশাসিত পর্ষদের অধিকারের পরিধি আরও বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্তের ফলে এই অঞ্চলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান আগের তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীলতার সঙ্গে সমাধান করা যায়। এখন আপনাদের প্রতিটি প্রয়োজনের জন্য বারবার শ্রীনগর কিংবা জম্মুতে গিয়ে দরবার করতে হয় না। অধিকাংশ সমস্যা লেহ্-লাদাখেই সমাধান করা যায়।
আমরা বিগত সাড়ে চার ধরে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর মন্ত্র নিয়ে দেশের উন্নয়নে দ্রুতগতিতে দিন-রাত কাজ করে চলেছি।
আমি এখানকার জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, লেহ্, লাদাখ, কার্গিলের উন্নয়নে আমরা যে কোন পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবো না। একটু আগেই আমাদের এক বন্ধু কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের দীর্ঘ তালিকা পড়েছেন। আমি তাই বিস্তারিত বলতে চাই না। কিন্তু আমি এখানকার সমস্ত সমস্যা সম্পর্কে অবহিত। আমি এমন এক প্রধানমন্ত্রী যে ভারতের সমস্ত অঞ্চল ঘুরেছি। সেজন্য আমি সব জায়গা সম্পর্কে ধারণা রাখি। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের থেকে বিস্তারিত খবর নিই ঠিকই, কিন্তু তার থেকেও বেশি অনুভব করতে পারি। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি যে কেন্দ্রীয় সরকার আপনাদের আশা ও আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করে। আজকের এই উদ্বোধন এবং শিলান্যাস অনুষ্ঠান সেই প্রক্রিয়ারই একটি অংশ মাত্র।
আরেকবার আপনাদের জীবনকে সহজ করে তোলার লক্ষ্যে চালু করা সকল প্রকল্পের জন্য আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। এই প্রবল শীতে আপনারা দূর-দুরান্ত থেকে আমাকে আশীর্বাদ দেওয়ার জন্য বিপুল সংখ্যায় এসেছেন। সেজন্য আপনাদের কৃতজ্ঞতা জানাই। পূর্ণ শক্তি দিয়ে আমার সঙ্গে বলুন –
ভারতমাতার জয়
ভারতমাতার জয়
ভারতমাতার জয়।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
CG/SB/DM/
आप जिन मुश्किल परिस्थितियों में रहते हैं, हर कठिनाई को चुनौती देते हैं, वो मेरे लिए बहुत बड़ी प्रेरणा होती है कि आप सभी के लिए और डटकर काम करना है, जो स्नेह आप मुझे देते हैं, वो ब्याज समेत विकास करके लौटाना है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2019
आज जिन परियोजनाओं का लोकार्पण, उद्घाटन और शिलान्यास किया गया है उनसे बिजली
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2019
के साथ-साथ लेह-लद्दाख की देश और दुनिया के दूसरे शहरों से कनेक्टिविटी सुधरेगी, पर्यटन बढ़ेगा, रोज़गार के अवसर बढ़ेंगे और यहां के युवाओं को पढ़ाई के लिए यहीं पर अच्छी सुविधाएं भी मिलेंगी: PM @narendramodi
लेह, लद्दाख का इलाका तो अध्यात्म, कला-संस्कृति, प्राकृतिक सुंदरता और एडवेंचर स्पोर्ट्स के लिए दुनिया का एक महत्वपूर्ण स्थान है।
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2019
यहां टूरिज्म के विकास के लिए एक और कदम सरकार ने उठाया है।
आज यहां 5 नए ट्रैकिंग रूट को खोलने का फैसला लिया गया है: PM @narendramodi
लद्दाख में कुल आबादी का 40 प्रतिशत हिस्सा युवा विद्यार्थी हैं।
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2019
आप सभी की लंबे समय से यहां यूनिवर्सिटी की मांग रही है। आज आपकी ये मांग भी पूरी हुई है।
इसके लिए भी आप सभी को बहुत-बहुत बधाई और शुभकामनाएं: PM @narendramodi
आज इस क्लस्टर यूनीवर्सिटी को लॉन्च किया गया है।
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2019
इसमें नूबरा, लेह, जंसकार, और कारगिल में चल रहे डिग्री कालेजों के संसाधनों का उपयोग किया जाएगा।
छात्रों की सुविधा के लिए लेह और कारगिल में भी इसके प्रशासनिक दफ्तर रहेंगे: PM @narendramodi
इस बजट में सरकार ने घुमंतु समुदायों के लिए भी एक बहुत बड़ा फैसला किया है।
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2019
इन लोगों तक सरकार की योजनाओं का लाभ पहुंचाना भी बहुत मुश्किल होता है।
अब इन लोगों के लिए सरकार ने वेलफेयर डवलपमेंट बोर्ड बनाने का फैसला किया है ताकि सरकार के विकास कार्यों का लाभ इन तक तेजी से पहुंचे: PM
लेह-लद्दाख-कारगिल भारत का शीर्ष है, हमारा मस्तक है।
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2019
मां भारती का ये ताज हमारा गौरव है।
बीते साढ़े 4 वर्षों से ये क्षेत्र हमारी विकास की प्राथमिकताओं का केंद्र रहा है: PM
मुझे खुशी है कि लद्दाख ऑटोनॉमस हिल डेवलपमेंट काउंसिल एक्ट में बदलाव किया गया है और काउंसिल को खर्च से जुड़े मामलों में अब ज्यादा अधिकार दिए गए हैं।
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2019
अब क्षेत्र के विकास के लिए आने वाले पैसे यहां की ऑटोनॉमस काउंसिल ही जारी करती है: PM
काउंसिल के अधिकारों के दायरे और फैसले लेने की शक्ति को भी बढ़ाया गया है।
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2019
इससे यहां के महत्वपूर्ण विषयों को ज्यादा तेज़ी से और ज्यादा संवेदनशीलता से सुलझाया जा सकता है: PM
अब आपको अपनी जरूरतों के लिए बार-बार श्रीनगर और जम्मू नहीं जाना होगा, बल्कि ज्यादातर काम यहीं लेह और लद्दाख में ही पूरे हो जाएंगे: PM
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2019