Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

শান্তি পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট শিখর সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য

শান্তি পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট শিখর সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য

শান্তি পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট শিখর সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য


রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা,

মহাসচিব বান কি-মুন,

মান্যবরগণ,

সংযুক্ত রাষ্ট্রসংঘের স্থাপনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধক্ষেত্রে সাহসী সৈনিকরা করেছিলেন| ১৯৪৫ সালের মধ্যে—ইতিহাসের সর্ববৃহত স্বেচ্ছা বাহিনী, ভারতীয় সেনার পঁচিশ লক্ষ জওয়ান এতে যুক্ত হয়েছিলেন| চব্বিশ হাজারেরও বেশি সেনা এতে শহীদ হয়েছিলেন এবং এর অন্তত অর্ধেক নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন|

সেই মহান বলিদানের উত্তরাধিকার এখন তিনটি দেশই ভাগ করে নিচ্ছে| তারা এখন সংযুক্ত রাষ্ট্র সংঘের শান্তি রক্ষা অভিযানের সবচেয়ে বেশি অবদানকারীদের মধ্যে পরিগণিত হচ্ছে|
রাষ্ট্রসংঘের শান্তিরক্ষা অভিযানে এক লক্ষ আশি হাজার ভারতীয় সেনা অংশ গ্রহণ করেছে—যা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি|

লাইবেরিয়ায় রাষ্ট্রসংঘের অভিযানে ভারতই প্রথম দেশ, যারা মহিলাদের দ্বারা গঠিত পুলিশ পাঠিয়েছে|

ভারত বিভিন্ন দেশের শান্তি রক্ষাকারী অধিকারিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে চলেছে| এখন পর্যন্ত আমরা ৮২টি দেশের অন্তত ৮০০ জন আধিকারিককে প্রশিক্ষিত করেছি|

আমি রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামাকে এই শান্তিরক্ষা শিখর সম্মেলনের আয়োজক হওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি| এটা সংস্থার ৭০তম বার্ষিকী বলেই যে সঠিক সময়ে হয়েছে তা নয়, এর কারণ নিরাপত্তার পরিবেশ পরিবর্তিত হয়ে গেছে| আর শান্তিরক্ষার দাবি ক্রমে বেড়ে গেলেও এর উত্সগুলি খোঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে|

বর্তমানে শান্তি রক্ষাকারীদের শুধুমাত্র শান্তি আর নিরাপত্তা রক্ষার জন্যই ডাক পড়ে না, নানারকম জটিল প্রতিকূলতায়ও তাঁদের ডাক পড়ে |

চাহিদা উর্ধমুখী, কিন্তু উত্সগুলি প্রায়শই অপর্যাপ্ত| শান্তি রক্ষাকারীদের দেওয়া আদেশ অনেক সময় তাদেরকে দ্বন্দ্বের মধ্যে ফেলে দেয়, তাঁদের অভিযানের সাফল্যের জন্য তাঁদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যেও ফেলতে হয়|

যেসব দেশ তাদের বাহিনীকে পাঠালো, তাদের যখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় কোনো ভুমিকা থাকে না, সমস্যা তখন আরও বড় আকার নেয়| বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে পরিচালকদের পর্যাপ্ত প্রতিনিধি তাঁদের থাকে না|

শান্তিরক্ষা অভিযান বিবেচনাপূর্বক হওয়া উচিত এবং তাদের সীমাবদ্ধতাকে সম্পূর্ণ উপলব্ধির মাধ্যমে তাতে রাজনৈতিক সমাধানের সহায়তা থাকা উচিত|

আমরা আনন্দিত যে শান্তি অভিযানে উচ্চ পর্যায়ের স্বাধীন প্যানেল এই বিষয়টিকে অনুধাবন করতে পেরেছে| প্যানেল-এর প্রস্তাব সম্পর্কে দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ায় সংযুক্ত রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবকে আমরা ধন্যবাদ জানাই| আমরা তাঁদের দ্রুত বিবেচনার জন্য অপেক্ষায় থাকব|

সংযুক্ত রাষ্ট্রসংঘের শান্তিরক্ষার প্রতি ভারতের প্রতিশ্রুতি আরও সুদৃঢ় হবে এবং আরও বাড়বে|

সংযুক্ত রাষ্ট্রসংঘের শান্তিরক্ষা অভিযানে আমরা যে অবদান রাখতে চাই, তার ঘোষণা আমরা দিয়েছি|

যার মধ্যে রয়েছে বর্তমানের অথবা নতুন অভিযানে আরও ৮৫০ জন পর্যন্ত সৈন্যের অতিরিক্ত বাহিনী যুক্ত করা, মহিলা শান্তিরক্ষীর বেশি প্রতিনিধি সহ অতিরিক্ত ০৩ টি পুলিশ ইউনিট পাঠানো, জটিল অবস্থা মোকাবিলায় দক্ষদের পাঠানোর প্রতিশ্রুতি, রাষ্ট্রসংঘের অভিযানে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের পাঠানো এবং শান্তি রক্ষাকারীদের জন্য ভারতে আমাদের সুবিধা কেন্দ্রে ও ময়দানে বাড়তি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা|

সবশেষে, আমি বিশেষ জোর দিয়ে বলতে চাই যে, সংযুক্ত রাষ্ট্রসংঘের শান্তিরক্ষার সাফল্য শেষ পর্যন্ত সৈন্যদের কাঁধের অস্ত্রের ওপর নির্ভর করে না, বরং তা নির্ভর করে নৈতিক বলের ওপর যা সংযুক্ত রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত|

সংযুক্ত রাষ্ট্রসংঘের প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজনীয়তা রক্ষার জন্য আমাদের অবশ্যই সংযুক্ত রাষ্ট্র সংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই দীর্ঘদিন থেকে জমে থাকা কাজগুলি শেষ করতে হবে|

সংযুক্ত রাষ্ট্র সংঘের সর্বোচ্চ আদর্শ রক্ষায় যেসব শান্তি রক্ষাকারী আত্ম বলিদান দিয়েছেন, তাঁদেরকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে চাই| আর তাতে যদি শান্তি রক্ষাকারী শহীদদের স্মরণে যে শহীদ প্রাচীর তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা যদি দ্রুত নির্মান করা হয়, তাহলে তা যথোপযুক্ত হবে| এই পদক্ষেপে অর্থ সহ সমস্ত সহায়তায় পাশে দাঁড়াতে ভারত তৈরী|