পিএমইন্ডিয়া

মঞ্চে উপস্থিত এই মন্ত্রণা সভার সভাপতি শ্রীরাম রামবাহাদুর রায় মহোদয়, আমার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার মাননীয় সদস্য শ্রী প্রকাশ জাভড়েকর, ডঃ সত্যপাল সিং, ইউজিসি-র চেয়ারম্যান ডঃ ধীরেন্দ্র প্রসাদ সিং, ‘রিসার্চার ফর রিসার্জেন্স এডুকেশন’ – এর চেয়ারম্যান ডঃ সচিদানন্দ যোশী, ইগনুর চ্যান্সেলর ডঃ নাগেশ্বর রাও, এই মন্ত্রণা সভায় উপস্থিত কেন্দ্রীয়, রাজ্য এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির চ্যান্সেলর, ভাইস চ্যান্সেলর ও নির্দেশকগণ এবং অন্য সকল মাননীয় ব্যক্তিবর্গ, ভাই ও বোনেরা।
আজ আপনারা সবাই ‘শিক্ষায়তনিক নেতৃত্বের পুনরুত্থানের জন্য শিক্ষা’ বিষয়ক মন্ত্রণা সভায় একটি সার্থক আলোচনার জন্য এখানে একত্রিত হয়েছেন। সবার আগে আমি আপনাদের সবাইকে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপনের জন্য অভিনন্দন জানাই। ভবিষ্যৎ ভারতের জন্য, নতুন ভারতের জন্য এহেন বিষয়ে মন্থন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং সময়ের দাবিও বটে। বন্ধুগণ ‘পুনরুত্থান’ শব্দটি নিয়ে ভাবলে আমার মন ও মস্তিষ্কে প্রথম স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে। স্বামী বিবেকানন্দই শতবর্ষ পূর্বে ভারতে দর্শন-শক্তির পুনরুত্থান বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছিলেন। এটা তখনকার কথা, যখন বিশ্ব আমাদের দেশের ক্ষমতা, সামর্থ্য, অবদান, পৌরুষ ও পরাক্রম সম্পর্কে সম্পূর্ণ রূপে বিস্মৃত হয়েছিল, এসব কিছুকে পরিকল্পনামাফিক বিস্মৃতির অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। স্বামী বিবেকানন্দের উক্তি দিয়েই আজ আমি নিজের বক্তব্য শুরু করতে চাই। তিনি শিক্ষা সম্পর্কে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছিলেন, যা আজও আমি মনে করি, এই মন্ত্রণাসভার আলোকবর্তিকা হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেছিলেন, ‘এমন সার্বিক শিক্ষা চাই, যা আমাদের মানুষ করে গড়ে তোলে। কারও মস্তিষ্কে ঠুসে দেওয়া তথ্যের সম্ভারকেই শুধু শিক্ষা বলা যায় না। আমাদের নানা ভাবনা ও দর্শন এমনভাবে আত্মস্থ করা উচিৎ, যা নিজের জীবন গঠনের পাশাপাশি মানবতার প্রসার ও চরিত্র গঠন করবে’ – এটা বিবেকানন্দের কথা। আজ যদি আমি পুনরুত্থানের কথা বলি, আমি মনে করি না যে এর বাইরে খুব বেশি কিছু প্রয়োজন রয়েছে। তবে, সময় পরিবর্তনের সঙ্গে কিছু বিষয় যুক্ত হতে থাকে। কিন্তু তা জুড়তে থাকে সেই মূল ভাবনার আলোতেই। স্বামীজি বর্ণিত শিক্ষার তিনটি স্তম্ভ হ’ল – জীবন গঠন, মানবতা ও চরিত্র গঠন। স্বামীজির এই ভাবনা থেকে প্রেরণা নিয়ে আমি সাহস করে সময়ের দাবি মেনে এগুলির সঙ্গে আরেকটি স্তম্ভ যুক্ত করতে চাই, তা হল, নব উন্মেষ – উদ্ভাবন। উদ্ভাবন রুদ্ধ হলে জীবন থেমে যায়। কোনও যুগ, কাল, কোনও ব্যবস্থা এমন হতে পারে না, যেটি উদ্ভাবন ছাড়া অগ্রগতি করতে পারে! বেঁচে থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হ’ল উদ্ভাবন। উদ্ভাবন না থাকলে জীবনকে বহন করতে হয়, ব্যবস্থা, ভাবনাচিন্তা, জীবন, পরম্পরা – সবকিছুই বোঝায় পরিণত হয়। আমরা যদি এই চারটি স্তম্ভ নিয়ে আমাদের উচ্চ শিক্ষার পুনরুত্থান নিয়ে ভাবি, তা হলে একটি সঠিক দিকনির্দেশ পাবো। শিক্ষার এমন দিশা, যা ব্যক্তির জীবন থেকে শুরু করে সমাজের প্রয়োজনে, এমনকি রাষ্ট্র নির্মাণের কাজে লাগবে! শিক্ষার এই দিশাকে সেই সময়ে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভিন্নভাবে বুঝিয়ে ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্ম কোনও না কোনও লক্ষ্যসাধনের জন্যই হয়। সেই লক্ষ্যসাধনের ক্ষেত্রে শিক্ষার খুব বড় অবদান থাকে। আমি সেই ভাবনাকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে বলব। ব্যক্তির জীবনের মতো প্রত্যেক সংস্থারও জন্ম হয় কোনও লক্ষ্যসাধনের জন্যই। আর সেজন্য সাধন ও সাধ্য যেন একসূত্রে গাঁথা থাকে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
বন্ধুগণ, যখন বিদ্যা, বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে কথা হচ্ছে, তখন আপনাদের দেশের পুরাতন পরম্পরার দিকে নিয়ে যেতে চাই। আমাদের সংস্কৃতির ভিত্তিস্তম্ভ হ’ল বেদ। আপনারা সবাই জানেন যে, ‘বেদ’ নামটি সংস্কৃত শব্দ ‘বিদ্’ থেকে এসেছে। এই শব্দের অর্থ হ’ল ‘জ্ঞান গ্রন্থ’। এই ‘বিদ্’ শব্দ থেকেই ‘বিদ্যা’ শব্দের উৎপত্তি, অর্থাৎ জ্ঞান। আর জ্ঞান ছাড়া আমাদের সমাজ, আমাদের দেশ, এমনকি আমাদের জীবনের আধারকেও কল্পনা করা যায় না।
বন্ধুগণ, জ্ঞান ও শিক্ষা শুধুই বইয়ে থাকে না। শিক্ষার উদ্দেশ্য ব্যক্তির প্রত্যেক চারিত্রিক গুণের ভারসাম্যযুক্ত বিকাশ। আর ভারসাম্য যুক্ত বিকাশের জন্য প্রতিনিয়ত উদ্ভাবনের প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের প্রাচীন তক্ষশীলা, নালন্দা, বিক্রমশীলার মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে জ্ঞানের সঙ্গে উদ্ভাবনেও জোর দেওয়া হ’ত। সেজন্য ঐ বিদ্যামন্দিরগুলি থেকে আচার্য চাণক্য, আর্যভট্ট, পাণিনী, ধন্বন্তরি, চরক, শুশ্রুত-র মতো অসংখ্য বিদ্বান উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তাঁরা যদি শুধুই পুঁথিগত জ্ঞানকে পর্যাপ্ত ভাবতেন, তা হলে বিশ্ব কি এই মানের রাজনীতি শাস্ত্র, অর্থশাস্ত্র, ভূ-তত্ত্ব, শল্য চিকিৎসা, গণিত এবং ব্যাকরণে নিয়মাবলী পেত? আমার মতে, পেত না। আর সেজন্য যখন পুনরুত্থানের জন্য শিক্ষা নিয়ে কথা হয়, তখন আমাদের ভাবনায় নবীন রক্তের নিয়মিত যোগান না থাকলে সমাজ চলতে পারে না।
ভাই ও বোনেরা, শিক্ষা ও পুঁথিগত বিদ্যা নিয়ে আমাদের দেশের আধুনিক ইতিহাসে তিনজন মহাপুরুষের ভাবনা একই রকম ছিল। তাঁরা হলেন – বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকর, দীনদয়াল উপাধ্যায় এবং ডঃ রামমনোহর লোহিয়া। এই মহাপুরুষেরা শিক্ষায় চরিত্র ও সমাজ কল্যাণে প্রতিবিম্ব দেখেছেন। বাবাসাহেব আম্বেদকর লিখেছেন, ‘চরিত্রহীন ও বিনয়হীন সুশিক্ষিত ব্যক্তি পশুর চেয়েও বিপজ্জনক। সুশিক্ষিত ব্যক্তির শিক্ষা যদি গরিব বিরোধী হয়, তা হলে সেই ব্যক্তি সমাজের জন্য অভিশাপ হয়ে ওঠে। শিক্ষার অধিক গুরুত্ব চরিত্র গঠনে নিহিত’। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় বলেছেন, ‘সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার প্রকৃতি অনুযায়ী শিক্ষিত করতে হবে। তবেই সে সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবে’। এখানে তিনি শিক্ষাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সীমার মধ্যে আবদ্ধ রাখেননি। ব্যক্তিকে সমাজ থেকেই শিক্ষিত হতে হবে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে সঞ্চারিত সংস্কার থেকে শিক্ষিত হতে হবে। রামমনোহর লোহিয়া বলতেন, ‘শিক্ষা হওয়া উচিৎ গবেষণা-ভিত্তিক। শিক্ষা ব্যবস্থা যেন ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসূত্রে বাঁধতে পারে। আমরা তেমন সমাজ কল্পনা করতে পারি না, যা ভিন্ন ভিন্ন বৃত্তে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে রাখবে। আমরা ব্যক্তিকে নিয়েই পরিবার, পরিবারগুলিকে একই ধারায় একই সূত্রে বিস্তারের কল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা এমন সব বৃত্তের কল্পনা করতে পারি না, যেগুলি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত নয়। কারণ, পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত না থাকলে সমাজের বৌদ্ধিক বিকাশ, বিস্তার এবং সংস্কারের প্রবৃত্তি গড়ে ওঠা অসম্ভব’। এই তিন মহান চিন্তকের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, শিক্ষার কোনও লক্ষ্য না থাকলে এটি প্রাণহীন শংসাপত্রের বেশি আর কিছু নয়।
বন্ধুগণ, আমাদের আরেকটি বাস্তবকে মেনে নিতে হবে। আজকের বিশ্বে কোনও দেশ, সমাজ কিংবা ব্যক্তি এককভাবে বাঁচতে পারে না। আমাদের নিজেদের বিশ্ব নাগরিক এবং ভূবনায়িত গ্রামের দর্শনে সম্পৃক্ত হতে হবে। এই দর্শন আমাদের সংস্কারে প্রাচীনকাল থেকেই রয়েছে। আমরা যখন ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ এবং ‘সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ’ বলে নিজেদের প্রাচীন ঐতিহ্যকে স্মরণ করি, এগুলি তো ভূবনায়িত গ্রামের কল্পনাই করে গেছে! আজ সরকার সেই দূরদৃষ্টি নিয়েই শিক্ষাকে একটি লক্ষ্য প্রদানের প্রচেষ্টায় নানা উদ্ভাবনের চেষ্টা করে চলেছে।
বন্ধুগণ,
আজ আমাদের দেশের প্রায় ৯০০টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশে প্রায় ৪০ হাজার কলেজ রয়েছে। আপনারা ভাবতে পারেন যে কত বড় শক্তির সম্ভাবনা! আমরা যদি নিজেদের গ্রাম ও শহরের সমস্যাগুলিকে সমাধানের জন্য এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সাহায্য নিই, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। আমার বলার অর্থ হল, আমরা ‘ইন্টারলিঙ্ক ইনস্টিটিউটন্স টু ইনোভেট অ্যান্ড ইনক্যুবেট’–এর দর্শন নিয়ে কাজ করলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বপ্নকে যুক্ত করতে পারব। তাহলে ছাত্রছাত্রীরা যখন রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন নিয়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বেরিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের দায়িত্ব নেবে, তখন সেগুলির পরিনাম অনেক ইতিবাচক হবে।
বন্ধুগণ,
উচ্চশিক্ষায় আমরা উচ্চ বিচার, উচ্চ আচার, উচ্চ সংস্কার এবং উচ্চ ব্যবহার প্রদান করতে পারলেই সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রেও উচ্চতা পাওয়া সম্ভব। আমার ছাত্রছাত্রীদের কাছে অনুরোধ যে ক্লাসরুম ও পাঠক্রমের বাইরে দেশের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে নিজেদের জুড়তে হবে। একথা ভেবেই আমরা বিদ্যালয় স্তরে ‘অটল টিঙ্কার ল্যাব’ চালু করেছি। বিদ্যালয় স্তরে ছাত্রছাত্রীদের উদ্ভাবনের প্রবৃত্তি বৃদ্ধির জন্য ইতিমধ্যেই দেশের দু’হাজারটিরও বেশি স্কুলে এই অটল টিঙ্কার ল্যাব চালু হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এর সংখ্যা আমরা পাঁচ হাজারে পৌঁছে দিতে যাচ্ছি। ইতিমধ্যেই আমি প্রযুক্তির মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সিং-এর দ্বারা সারা দেশের চালু অটল টিঙ্কারিং ল্যাবগুলিতে প্রশিক্ষিত ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে কথা বলেছি। অষ্টম, নবম, দশম শ্রেণীর ঐ ছাত্রছাত্রীরা এমন বুদ্ধিদীপ্ত কথা বলছিল যে আমার ওদেরকে ছেড়ে আসতে ইচ্ছা করছিল না।
আমাদের সরকার শিক্ষা জগতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষায় পরিকাঠামো উন্নত করতে রাইস বা রিভাইটালাইজিং অফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড সিস্টেম্স ইন এডুকেশন কর্মসূচি ব্যাপকভাবে শুরু করেছি। এর মাধ্যমে ২০২২ সালে স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তির আগে এই বাবদ ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে সুফল পাওয়ার চেষ্টা চলছে। সরকার সেজন্য হায়ার এডুকেশন ফান্ডিং এজেন্সি স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় উচ্চতর শিক্ষা অভিযানের বাজেট তিনগুণ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একটু আগেই, মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর যে পরিসংখ্যান দিচ্ছিলেন, আমরা তার থেকেও এগিয়ে যেতে চাই।
ভাই ও বোনেরা,
বিগত চার বছরে দেশে অনেক ক’টি নতুন আইআইটি, আইআইএম, আইআইএসইআর, আইআইআইটি এবং কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। সরকার একটি নতুন নীতি প্রণয়ন করেছে যার অন্তর্গত দেশে ২০টি ইনস্টিটিউট্স অফ এমিনেন্স গঠন করার প্রচেষ্টা চলছে। এর মধ্যে ১০টি হবে সরকারি এবং ১০টি বেসরকারি ক্ষেত্রে। বর্তমানে বিশ্বের ৫০০টি উৎকৃষ্টতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আমাদের দেশের হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানই রয়েছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নয়নে আগামী কয়েক বছরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা খরচ করা হবে। আপনারা নিশ্চয় জানেন যে গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ ফর অ্যাকাডেমিক নেটওয়ার্ক, অর্থাৎ ‘জ্ঞান যোজনা’র মাধ্যমে আমরা ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলিতে পড়ানোর জন্য সারা পৃথিবীত সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
আমাদের সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাবনা-চিন্তার উন্মুক্ত প্রবাহের পক্ষপাতি। আমরা আইআইএম-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলিকে স্বায়ত্তশাসন দিয়ে এই পরম্পরা শুরু করেছি। দেশের বিদ্বজ্জনরা এই নিয়ে কেন কোন আলোচনা করেন না, সংবাদমাধ্যমও কোন কথা বলে না। অথচ তাঁরা এই সংস্কারের জন্য বিগত ২০-২৫ বছর ধরে লেখালেখি করছিলেন। হয়তো তাঁরা এতটা আশাই করেননি। আইআইএম ইতিমধ্যেই নিজের পাঠ্যক্রম, শিক্ষক নিয়োগ, বোর্ড মেম্বার নিয়োগ এবং প্রসারের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেয়। আপনারা প্রত্যেকেই জানেন যে আমি কী বলছি!
ভারতে উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে এটি একটি অভূতপূর্ব প্রয়োগ। সম্প্রতি ইউজিসি গ্রেডেড ইকনমিক রেগুলেশন জারি করেছে যাতে বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলিকে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হয়েছে। এই রেগুলেশনের মাধ্যমে দেশের ৬০টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসন পেয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ও রয়েছে। আপনাদের মধ্যে অধিকাংশেরই কার্যকাল ৪-৫ বছর মাত্র। এর মধ্যেই আপনাদেরকে কিছু লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। প্রথম দিন থেকেই ভাবতে হবে যে আমার কার্যকালের মধ্যে এতটা লক্ষ্যসাধন করতে পারলেই আমি ভবিষ্যতের জন্য ভাবনার উত্তরাধিকার রেখে যেতে পারব। সেজন্যই উচ্চশিক্ষায় পুনরুত্থান এত প্রয়োজন। আজ প্রতিদিন নতুন নতুন প্রযুক্তি আসছে। সময়ের দাবি মেনে নতুন এই নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগে শিক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। শিক্ষক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য। দেশে যদি গরিবের ছেলেরা গরিবই হতে থাকে, আর বড়লোকের ছেলেরা বড়লোক, গরিবদের বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পথ যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেখাতে না পারে, তাহলে কী লাভ! গরিব কিম্বা বড়লোক সমস্ত অভিভাবকরাই চান যে তাঁদের ছেলেমেয়েরা ভাল শিক্ষা পাক। ভাল শিক্ষক ছাড়া এটা সম্ভব নয়। আর সেই শিক্ষকদের মিশন মোডে কাজ করতে হবে। যাঁরা এটা করতে পারেন, সেসব প্রতিষ্ঠান থেকেই বড় বড় সিইও, বৈজ্ঞানিক, ডাক্তার, কবি-সাহিত্যিক আমরা পেয়ে থাকি। উচ্চ মননসম্পনন কবি-সাহিত্যিকদের চিন্তায় নিজস্বতা থাকে। তাঁরা মা সরস্বতীর আশীর্বাদপ্রাপ্ত হন। কিন্তু তাঁরা জীবনের অভিজ্ঞতা, সমাজের প্রতি সংবেদনশীলতা ও স্বপ্নসঞ্জাত কথা বলেন। এগুলি শুধুই কিছু শব্দের সমষ্টি মাত্রই নয়, বরং তা হল সম্পূর্ণ ভাববিশ্ব, যা শব্দের গর্ভাধানের মাধ্যমে কবিতা বা সাহিত্যের জন্ম দেয়। তা তিনি কলম দিয়েই লিখুন কিংবা কম্প্যুটারে। সেজন্য সমাজের সুখ-দুঃখকে বুঝতে হলে মাটিতে পা রেখেই অনুভব করতে হবে। আর এই মাটির সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার সংযোগ স্থাপনই হচ্ছে আজকের সময়ের চাহিদা। প্রাচীনকালে গুরুকূলে ছাত্রছাত্রীদের জঙ্গলে কাঠ কাটতে পাঠানো হ’ত। অনেক রাজকুমাররাও ঐ গুরুকূলে থেকে গুরুর সেবা করে, সমাজ জীবনে বাস্তব সমস্যাগুলির মুখোমুখী হয়ে সমাধানের মাধ্যমে সত্যিকারের মানুষ হিসাবে বড় হতেন। আমি আপনাদেরকেও অনুরোধ করব, এরকম আবহ সৃষ্টি করুন, যাতে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পার্শ্ববর্তী দরিদ্র বস্তিগুলিতে গিয়ে মা ও শিশুর অপুষ্টি, অশিক্ষা, মাদকের শিকার দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরিচিত হয়। এই সচেতনতা তাদেরকে এসব সমস্যার সমাধানে চিন্তাভাবনা করতে উদ্বুদ্ধ করবে। তাদের উদ্ভাবন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
কিছুদিন আগে আমার লোকসভা ক্ষেত্র বেনারস গিয়েছিলাম। সেখানে কাশী বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু নবীন ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। আমি জানিনা তাঁরা কখনও উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন কিনা, কিন্তু আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ায় জানতে পারলাম যে তাঁরা ৪-৫ বছর আগে একটি সংস্থার গোড়াপত্তন করেছে। সেটির নাম হল ‘ট্রাই টু ফাইট’। শুরুতে ৩-৪ জন ছিল, এখন তাদের অনেক বড় দল হয়ে গেছে। এই ছেলে-মেয়েরা শহরের বিভিন্ন আস্তাকুড়ের আবর্জনা থেকে প্লাস্টিক কুড়োনো ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কাজ করছে। তাদের প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যেই এরকম এক হাজারেরও বেশি ছেলে-মেয়ে এখন পড়াশোনা শুরু করেছে।
সেই বস্তির ছেলে-মেয়েদের বাবা-মা সারাদিন আলাদা আলাদা কাজ করেন। ছেলে-মেয়েদের দিকে দেখার সময় নেই। আমাদের ‘ট্রাই টু ফাইট’ গোষ্ঠীর ছেলে-মেয়েরা তাদেরকে শিক্ষামুখী করে তোলে। ছবি আঁকা শেখায়। সেরকম একটি মেয়ের আঁকা তৈলচিত্র তারা আমাকে উপহার দিয়েছে। এত সুন্দর ছবি যে কি বলব আপনাদের।
দেখুন ঐ কলেজের ছেলে-মেয়েরা খেলাধূলায় অংশগ্রহণ করতে পারত, ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে পারত। কিন্তু তাঁরা সেবার পথ বেছে নিয়েছে এবং তাঁদের এলাকার এক হাজারেরও বেশি দরিদ্র শিশুদের জীবন বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছে। আর এই স্বপ্নকে মনের সংবেদনার সঙ্গে যুক্ত করে কাজ করে গেছে।
এরকম সমাজের জন্য কাজ করতে থাকা সংস্থাগুলির সঙ্গে যত বেশি করে নবীন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা যুক্ত হবেন, তত বেশি করে দেশের দরিদ্র, বঞ্চিত মানুষ লাভবান হবেন। এইসব কাজের জন্য অধিক বাজেটের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা যখন স্কুলে পড়তাম তখন শিক্ষকরা বলতেন আজ কতটা সেবার কাজ করেছ তা লিখে এনে কাল দেখাবে। আপনারা অনেকেই হয়তো এরকম মাস্টারমশাইদের কাছে বড় হয়ে উঠেছেন। কিন্তু আমি জানি দেশের অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীরাই সেই শিক্ষা পায় না। আর যে ছাত্রছাত্রীরা বাস্তবে এ ধরণের সেবা কাজ করে না, তাদেরকে যদি এনিয়ে উত্তর লিখতে দেওয়া হয়, ১০০ জনের মধ্যে ৯০ জন লিখবে যে আমি আসার সময় একজন অন্ধকে রাস্তা পার করিয়েছি। এদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো সত্যিই পার করিয়েছে। কিন্তু অধিকাংশই করায়নি। তারা এই অল্প বয়সেই মিথ্যা কথা লেখার অভ্যাস তৈরি করে নিয়েছে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় উদ্ভাবন না থাকলে এই পরিনাম হওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই। ছেলে-মেয়েদের ছোটবেলা থেকেই সেবার সংস্কারে অভ্যস্ত না করতে পারলে, ভবিষ্যতে তারা প্রাণহীন যন্ত্র হয়ে বড় হবে।
সেজন্যই পরিবর্তন চাই। আমি যখনই কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যাই, তখন আমার অফিস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে চিঠি যায়, আমি একটি শর্তে আপনাদের সমাবর্তনে যেতে পারি, আমার সঙ্গে ৫০ জন বিশেষ অতিথি থাকবে। তাঁদের জন্য প্রেক্ষাগৃহে সামনের সারিতে বসার ব্যবস্থা থাকতে হবে। সমাবর্তনের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারি ও ছাত্রছাত্রীরা অবাক হয়ে যান যে আমার বিশেষ অতিথিরা ঐ অঞ্চলের কোন সরকারি স্কুলের সপ্তম থেকে দশম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রী যারা মূলত বস্তির বাসিন্দা। আমি তাদেরকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে দর্শক হিসেবে বিশেষ অতিথি করে সঙ্গে নিয়ে যাই যাতে সেই শিশুদের মনে ঐ দৃশ্য দেখে এই বিশ্বাস জন্মায় যে আমিও কোনদিন ঐরকম শিক্ষিত হয়ে সমাবর্তনে সংবর্ধিত হব। বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারাই তো তাদের কাছে বিরাট ব্যাপার। আমি তাদের মনে সেই পরিবেশটাই রোপন করে দিতে চাই। স্বপ্নের বীজ বপন করি।
ছোট ছোট বিষয়, সমস্ত পরিবর্তনের জন্য বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজন হয় না। পরিবর্তনের ইচ্ছাশক্তি চাই। তাদের সঙ্গে জুড়তে হবে। সঙ্কল্প নিয়ে লড়তে হবে। তবেই সাফল্য পাওয়া যাবে। সেজন্যই আমি যখন আপনাদের শিক্ষিত বিদ্বানদের মধ্যে আসে, একটি বিষয়ে অবশ্যই জোর দিই, সেটি হল ‘সিটি বেস্ড এক্সেলেন্ট সেন্টার্স’। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এই দায়িত্ব নিতে হবে যে আপনাদের প্রতিবেশে শিক্ষা এবং সমস্যা সমাধান বাস্তু ব্যবস্থাকে সঠিক রূপে গড়ে তুলুন। সেজন্য আমি আপনাদের কয়েকটি উদাহরণ দিতে চাই।
আমাদের ছাত্রছাত্রীদের স্থানীয় এলাকার মানুষকে ডিজিটালি স্বাক্ষর করে তোলার দায়িত্ব প্রদান করা যেতে পারে। এভাবে তারা ‘আয়ুষ্মান ভারত’, ‘উজালা’, ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’-এর মতো প্রকল্পগুলির সঙ্গে জনগণকে পরিচিত করিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নম্বর পাবেন। এভাবে তারা সাধারণ মানুষের জীবনকে সহজ করে দিতে পারেন। ছাত্রছাত্রীরা তাদের এলাকায় জল সংরক্ষণ, পরিবেশ এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজও করতে পারেন।
এরকম অনেক কাজের তালিকা তৈরি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি পরস্পরের সঙ্গে ভাবনা বিনিময়ও করতে পারে। শুধু ছাত্র আর শিক্ষকরা নয়। প্রতিষ্ঠানগুলিকে বলব এতে প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদেরও যুক্ত করুন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ সবচাইতে প্রভাবশালী রূপে হতে পারে। ফলে, আমাদের ছাত্রছাত্রীদের সামর্থ্য এবং সমাজ সচেতনতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
ভাই ও বোনেরা,
দেশের যুব সমাজের ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশ্বের সামনে নতুন ‘ব্র্যান্ড ইন্ডিয়া’ পরিচিতি গড়ে উঠেছে। দেশের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়, আইআইটি ও আইআইএম-এর ছাত্রছাত্রীরা বিদেশে গিয়ে ভারতের নাম উজ্জ্বল করেছে। অনেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বড় বড় কোম্পানি পরিচালনা করছেন। কাজেই আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েদের বুদ্ধিমত্তা ও সক্ষমতার অভাব নেই। আমাদের কাছে লক্ষ লক্ষ সমস্যা যেমন আছে, কোটি কোটি সমাধানও আছে।
এটা সত্য যে আজকের বিশ্বে সমস্ত বড় বড় কোম্পানিগুলি কোন না কোনদিন স্টার্ট-আপ কোম্পানি ছিল। একথা মাথায় রেখে সরকার ‘স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়া’, ‘স্ট্যান্ড-আপ ইন্ডিয়া’, ‘স্কিল ইন্ডিয়া’র মতো প্রকল্প চালু করেছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আগামীদিনে আমাদের ছেলে-মেয়েরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, ফাইভ-জি প্রযুক্তি, ব্লক চেন, বিগ ডেটা অ্যানালিসিস ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে। আপনাদেরকেই সেই ছেলে-মেয়ে গড়ে তুলতে হবে। আমরা সবাই জানি যে আমাদের কাছে প্রযুক্তি প্রশিক্ষিত বড় মানবসম্পদ রয়েছে। স্টার্ট-আপ-এর ক্ষেত্রে ভারতেই দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যবস্থা রয়েছে। ইনোভেটিভ ইন্ডেক্সে আমরা নিয়মিত উন্নতি করছি।
এই সমস্ত প্রেক্ষাপটে দেশের নবীন প্রজন্ম এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উভয়েরই অনুকূল। সেজন্য আমরা সবাই মিলে দেশের নবীন প্রজন্মের মনে সামাজিক বিজ্ঞান মনস্কতা এবং উদ্ভাবক প্রবণতা গড়ে তুলতে পারি।
বন্ধুগণ,
পুনরুত্থান তখনই সম্ভব যখন আমরা সবাই এক পা এগিয়ে আসব। এমনিতেও গবেষণার মাধ্যমে পুনরুত্থানের ত্রুটিগুলি সমাপন করে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা তো চলছেই। কিন্তু পাশাপাশি নতুন অনুকূল পরিবর্তন আনাও এর সঙ্গে যুক্ত হওয়া উচিৎ।
শুধু আমাদের ত্রুটিই দূর করা নয়। অসুস্থ বলে শুধু চিকিৎসা নয়। অসুখ যাতে না হয় সেরকম স্বাস্থ্যবান হয়ে উঠতে হবে। দেশের শিক্ষা জগতের শ্রেষ্ঠ মানুষেরা এখানে রয়েছেন। আপনাদের প্রতি আবেদন, নতুন ভারত নির্মাণের জন্য আপনারা দেশের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করে তুলুন, নবীন প্রজন্মের মনে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলুন। এই কামনা জানিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের জন্য আপনাদের সবাইকে হৃদয় থেকে অনেক অভিনন্দন জানাই। আপনারা এখানে যে চিন্তাভাবনা করবেন, আমি দৃঢ় নিশ্চিত সেই মন্থন থেকে আমাদের পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুযায়ী অনেক নতুন সমাধান বেরিয়ে আসবে। যাঁরা আগামীদিনের স্বপ্ন নিয়ে বাঁচেন, তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের এই মন্থন সুফলদায়ক হোক। আপনাদের মতো মানুষেরা সমাজকে অনেক কিছু দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনাদের মনন, চিন্তন দেশকে আগামীদিনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপহার দেবে। এই আশা নিয়ে আরেকবার এই উদ্যোগের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে আমার বক্তব্য সম্পূর্ণ করছি। অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
ধন্যবাদ।
CG/SB/SB/DM/…
ज्ञान और शिक्षा सिर्फ किताबी नहीं हो सकते हैं।
— PMO India (@PMOIndia) September 29, 2018
शिक्षा का मकसद व्यक्ति के हर आयाम का संतुलित विकास करना है और संतुलित विकास Innovation के बिना संभव नहीं है।
हमारे प्राचीन तक्षशिला, नालंदा, विक्रमशिला जैसे विश्वविद्यालयों में ज्ञान के साथ INNOVATION पर भी ज़ोर दिया जाता था: PM
हमें एक और वास्तविकता को स्वीकार करना होगा कि आज दुनिया में कोई भी देश, समाज या व्यक्ति isolate होकर नहीं रह सकता।
— PMO India (@PMOIndia) September 29, 2018
हमें ‘ग्लोबल सिटीजन और ग्लोबल विलेज’ के दर्शन पर सोचना ही होगा।
और ये दर्शन तो हमारे संस्कारों में प्राचीन काल से ही मौजूद है: PM
उच्च शिक्षा हमें
— PMO India (@PMOIndia) September 29, 2018
उच्च विचार,
उच्च आचार,
उच्च संस्कार और
उच्च व्यवहार के साथ ही समाज की समस्याओं का
उच्च समाधान भी उपलब्ध करती है।
मेरा आग्रह है कि विद्यार्थियों को कालेज, यूनीविर्सिटी के क्लास रुम में तो ज्ञान दें हीं लेकिन उन्हें देश की आकांक्षाओं से भी जोड़ें: PM
इसी मार्ग पर चलते हुए केंद्र सरकार की भी यही कोशिश है कि हम हर स्तर पर देश की आवश्यकताओं में शिक्षण संस्थानों को भागीदार बनाएं।
— PMO India (@PMOIndia) September 29, 2018
इसी विजन के साथ हमने अटल टिंकरिंग लैब की शुरुआत की है। इसमें स्कूली बच्चों में Innovation की प्रवृत्ति बढ़ाने पर फोकस किया जा रहा है: PM
हमारी सरकार शिक्षा जगत में निवेश पर भी ध्यान दे रही है।
— PMO India (@PMOIndia) September 29, 2018
शिक्षा का इंफ्रास्ट्रक्चर बेहतर बनाने के लिए RISE यानि Revitalisation of Infrastructure and Systems in Education कार्यक्रम शुरु किया गया है।
इसके जरिए वर्ष 2022 तक एक लाख करोड़ रुपए खर्च करने का लक्ष्य रखा गया है: PM
सरकार ने HEFA- यानि HIGHER EDUCATION FUNDING AGENCY की स्थापना भी की है जो उच्च शिक्षण संस्थाओं के गठन में आर्थिक सहायता मुहैया कराएगी।
— PMO India (@PMOIndia) September 29, 2018
सरकार ने राष्ट्रीय उच्चतर शिक्षा अभियान का बजट भी बढ़ाने का निर्णय लिया है: PM
हमने IIM जैसे संस्थानों को स्वायत्ता देकर इसकी शुरुआत कर दी है।
— PMO India (@PMOIndia) September 29, 2018
अब IIM को अपने कोर्स करिकुलम, टीचर अपाइंटमेंट, बोर्ड मेंबर अपाइंटमेंट, एक्सपेंशन, खुद तय करने की शक्ति मिल गई है।
सरकार की इनमें अब कोई भूमिका नहीं होगी। भारत में उच्च शिक्षा से जुड़ा ये एक अभूतपूर्व फैसला है: PM
हाल ही में UGC ने ग्रेडेड एटॉनॉमी रेग्यूलेशंस भी जारी किए हैं।
— PMO India (@PMOIndia) September 29, 2018
इसका उद्देश्य शिक्षा के स्तर को सुधारना तो है ही, इससे उन्हें सर्वश्रेष्ठ बनने में भी मदद मिलेगी।
इस रेग्यूलेशन की वजह से देश में 60 Higher Education Institutes और Universities को ग्रेडेड अटॉनॉमी मिली है: PM
मेरी कोशिश रहती है कि जहां कहीं भी मैं कॉन्वोकेशन में जाऊं, तो वहां पर 40-50 गरीब बच्चों को भी उस कार्यक्रम में बुलाया जाए।
— PMO India (@PMOIndia) September 29, 2018
ये बच्चे आते हैं, देखते हैं कि कैसे बड़े भैया,बड़ी दीदी डिग्रियां लेकर खुश हो रहे हैं, उनका सम्मान किया जा रहा है, तो उन्हें भी प्रेरणा मिलती है: PM
Sharing my remarks at the 'Conference on Academic Leadership on Education for Resurgence' held in Delhi. https://t.co/GO2XBvFftn pic.twitter.com/bS9j6BdFsQ
— Narendra Modi (@narendramodi) September 29, 2018
जब पुनरुत्थान के बारे में सोचता हूं तो मन मस्तिष्क में पहली छवि स्वामी विवेकानंद जी की बनती है।
— Narendra Modi (@narendramodi) September 29, 2018
उन्होंने शिक्षा के 3 स्तंभ दिए - जीवन निर्माण, मानवता और चरित्रगठन - जो आज भी प्रासंगिक है।
इन विचारों से प्रेरित होकर मैंने एक और स्तंभ जोड़ा है - इनोवेशन। pic.twitter.com/qNyL4M4B4s
Three great Indians of the 20th century- Dr. Babasaheb Ambedkar Ji, Pandit Deendayal Upadhyaya Ji and Dr. Ram Manohar Lohia emphasised on the power of education. pic.twitter.com/kkRL3DEy9l
— Narendra Modi (@narendramodi) September 29, 2018
Encouraging innovation among young India. pic.twitter.com/ymXyMlnhlr
— Narendra Modi (@narendramodi) September 29, 2018
Boosting infrastructure, providing financial assistance to institutions, building new world class centres of education and more.
— Narendra Modi (@narendramodi) September 29, 2018
Here are some of the steps being taken by the Centre in the education sector. pic.twitter.com/Geqq6k25nv