Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রারবান মিশনের প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রারবান মিশনের প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


আজ সকালে আমি নয়া রায়পুরে ছিলাম। নয়া রায়পুরে যখনই যাই নতুন কিছু দেখতে পাই। মনে হয় নয়া রায়পুর দিনে যতটা বাড়ে, রাতে তাঁর চাইতে বেশি বাড়ে। আজ আমি নয়া রায়পুরে শহরের দরিদ্র মানুষদের জন্য আবাসন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি। এখন আপনাদের মাঝে এসেছি। এই প্রকল্প প্রান্তিক আদিবাসী মানুষদের জন্য গড়ে উঠেছে। এটি ভারতের সকল প্রান্তের দরিদ্র আদিবাসী মানুষদের কল্যাণে গড়ে ওঠা একটি বৃহৎ প্রকল্প।

আগে সরকারের অভ্যাস ছিল সবকিছু দিল্লিতে বসে করার। বিজ্ঞান ভবনে সারা দেশ থেকে দু-চারশো প্রতিনিধিকে ডেকে নিয়ে আসো, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করো, সংবাদ-মাধ্যমের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখো, টিভিতে ২৪ ঘন্টা ধরে প্রচারিত হবে, কত বড় কাজ হচ্ছে! আমি সরকারকে দিল্লি থেকে বের করে এনে প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছি, গ্রামে গ্রামে গরিব কৃষক ও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। সরকারি আধিকারিকদের ফৌজ এখন গ্রামে গ্রামে পৌঁছে গিয়ে দেশের উন্নয়নকে নতুন গতিপ্রদান করেছেন। সেজন্যই হয়তো আজ এত ছোট একটা জায়গায় আমার আসার খবর পেয়ে লক্ষাধিক মানুষ পৌঁছে গিয়েছেন। যেদিকে তাকাচ্ছি, শুধু মানুষের মাথা দেখতে পাচ্ছি। ওদিকের পাহাড়টিও যেন মানুষের ভিড়ে সজীব হয়ে উঠেছে, কোথাও পাথর দেখা যাচ্ছে না, শুধু মানুষের মাথা দেখা যাচ্ছে। এই অদ্ভুত দৃশ্য দেখে আমি আপ্লুত। আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমি নিশ্চিত জনসাধারণের এই আশীর্বাদকে পাথেয় করে আমরা দেশের উন্নয়নকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারবো। এ বিশ্বাস আমার মনে প্রতিদিন আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। আপনাদের এই ভালোবাসা আমাকে আরও বেশি পরিশ্রম করতে এবং ঘাম ঝরাতে প্রেরণা যোগায়।

আজ এখানে ১০৪ বছর বয়সী মা কুঁয়রবাঈ-এর আশীর্বাদ গ্রহণ করার সৌভাগ্য হয়েছে। যাঁরা নিজেদের নবীন ভাবেন, তাঁরা কি নিজের চিন্তাভাবনাকে নবীন ভাবেন? এই ১০৪ বছর বয়সী মা কুঁয়রবাঈ টিভিও দেখেন না, খবরের কাগজও পড়েন না, এই মায়ের অক্ষরজ্ঞানই নেই, প্রান্তিক একটি গ্রামে থাকেন। তিনি কারও কাছে শুনতে পেয়েছেন যে, এই প্রধানমন্ত্রী দেশের সকলকে শৌচালয় নির্মাণের আহ্বান জানিয়েছেন। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি নিজের ছাগল বিক্রি করে শৌচালয় নির্মাণ করেছেন। তাঁর এই উদ্যোগ ভারতে পরিবর্তনের প্রতীক। দেশ বদলাচ্ছে। এই মায়ের সংকল্প ও দৃষ্টান্ত স্থাপন বাকি গ্রামবাসীদেরো প্রেরণা যোগাবে। আমি সংবাদ-মাধ্যমের বন্ধুদের অনুরোধ করি যে, আমার ভাষণ না দেখালেও চলবে, কিন্তু আপনারা অবশ্যই মা কুঁবরবাঈ-এর বক্তব্য গোটা দেশ ও বিশ্বে প্রচার করুন। এই দৃষ্টান্ত সমাজকে শক্তি যোগাবে। আজ আমি মা কুঁবরবাঈ-কে সম্মানিত করতে পেরে গর্ব অনুভব করছি।

দুটি আদিবাসী এলাকার আরও বেশ কয়েকজন মহান কর্মী মা, বোন ও ভাইদের সম্মান জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। অম্বাগড় চৌকি এবং ছুরিয়া – এই দুটি ব্লকের কর্মীদের উদ্যোগে এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতায়, এই দুটি ব্লকই উন্মুক্ত স্থানে মল-মূত্র ত্যাগের অভ্যাসমুক্ত ব্লকের স্বীকৃতি পেল। এই দুই ব্লকের কোনও মানুষ এখান আর খোলা মাঠে শৌচকর্ম করতে যান না। পরিচ্ছন্নতা ছোট কথা নয়। এই পরিচ্ছন্নতা দেশের সকল প্রান্তের প্রতিটি গ্রামের প্রত্যেক মানুষকে রোগমুক্ত সুস্থ করে তুলবে। রোগমুক্ত, সুস্থ ও সবল ভারত গড়ে তুলবে। অম্বাগড় চৌকির নাগরিকদের আমি সেলাম জানাই, তাঁরা তাঁদের এলাকায় খোলামাঠে প্রাতঃকৃত্য সারতে গেলে শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রীও এক্ষেত্রে কোনও রকম কর প্রণয়নের কথা ভাবতে পারেনি, কিন্তু আপনারা ভেবেছেন। আপনাদের এই সাহস ও বুকের পাটাকে আমি সেলাম জানাই। আপনাদের এই উদ্যোগ থেকে আমি শিক্ষা গ্রহণ করলাম। এর মাধ্যমে আপনারা সবচাইতে বড় সম্মান জানালেন ঘরের মা ও বোনেদের। এতদিন তাঁরা বাধ্য হয়ে খোলা মাঠে প্রাতঃকৃত্য সারতেন, তাঁদেরকে এই লজ্জাজনক পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করা এবং সুস্থ, সবল সন্তানধারণ, জন্মদান, সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ দৃষ্টান্তমূলক। ১০৪ বছর বয়সী মায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আপনারা গোটা দেশের সামনে এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এর থেকে বড় সাফল্য আর কী হতে পারে। আমি আপনাদের এই সাফল্যকে অন্তর থেকে অভিনন্দন জানাই।

আজ এখানে আরেকটি প্রকল্পের শুভ সূচনা হল – জনওষধি ভাণ্ডার। গরিব মানুষ, পরিশ্রম করে পরিবারের ভরণপোষণ করেন। তাঁরা পরিকল্পনা করেন আগামী ৫ বছরের মধ্যে পরিবারের জন্য এই কাজ করবো, ১০ বছরের মধ্যে এতটা করবো। সাইকেল কিনতে, ছেলেমেয়েদের জন্য নতুন জামাকাপড় কিনতে কিংবা বাড়ির কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে এত খরচ হয়ে যায় যে সবসময় সেই পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয় না। ঋণ হয়ে যায়। সরকার সেজন্য গরিব মানুষদের সস্তায় ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার এই প্রকল্প শুরু হয়েছে। আর আমরা কাউকে বিনা চিকিৎসায় মরে যেতে দেব না। এই জনঔষধি ভাণ্ডার গড়ে তোলার জন্য আজ আমি ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর কর্মীদলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। এই প্রকল্প উদ্বোধনের সুযোগ দিয়েছেন বলে আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

আজ এখানে রারবান মিশনেরও শুভ সূচনা হচ্ছে। কেউ কেউ বলেছিলেন, আপনারা দেশ জুড়ে এতগুলি স্মার্ট সিটি গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছেন, তা হলে স্মার্ট ভিলেজ গড়ে তুলছেন না কেন? এই স্মার্ট ভিলেজ গড়ে তোলার প্রকল্পের নামই রারবান মিশন। এ বিষয়ে আগেই আমাদের মন্ত্রীমহোদয় শ্রী চৌধুরী বিস্তারিত বলেছেন। এটা ঠিক যে সারা দেশেই শহরমুখী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বৃদ্ধ মা-বাবা গ্রামে থেকে যান, ছেলেমেয়েরা পড়াশুনা এবং রোজগারের খোঁজে শহরে চলে যায়। শহরের উন্নত জীবনমান, উচ্চ শিক্ষা, সুচিকিৎসা, ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ, সন্ধ্যায় পরিবার সহ ঘুরতে যাওয়ার জন্য আধুনিক যানবাহন, দ্রুত চলাচলযোগ্য সড়ক ও রেলপথ – ইত্যাদির আকর্ষণে অধিক মানুষ শহরমুখী হয়ে পড়েছেন। ফলে, শহরে আসা এই মানুষদের কর্মসংস্থান, মাথা গোঁজার ঠাঁই থেকে শুরু করে তাঁদের জন্য উপযুক্ত পানীয় জল সরবরাহ, নর্দমা ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে রাজ্য সরকার ও নগরপালিকাগুলির কোনও মাথাব্যথা ছিল না। যে শহরের লোকসংখ্যা ছিল এক লক্ষ সেখানে যদি কয়েক বছর পর দ্বিগুণ তিনগুণ মানুষ এসে থাকতে শুরু করেন, তা হলে এমনিতেই সকল প্রকার নাগরিক পরিষেবা ভেঙে পড়ার কথা। সেজন্য আগামী পাঁচ বছর বা দশ বছরে একটি শহরের লোকসংখ্যা কত হতে পারে সে সম্পর্কে আগে থেকে ধরে নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে নগরোন্নয়ন করলে তবেই উদ্ভূত পরিস্থিতির মোকাবিলা করা সম্ভব। এই রারবান মিশন এমনই একটি প্রকল্প। এখানে ‘রুরাল’ ও ‘আরবান’ উন্নয়নকে মিশিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা ছকে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রতি ৫-৭টি গ্রামের মধ্যে যেটি বর্ধিষ্ণু, যেখানে বাকি গ্রামগুলি থেকে ছেলেমেয়েরা পড়তে আসে, যেখানে সকাল-সন্ধ্যা হাট বসে, যেখানে ন্যূনতম স্বাস্থ্য পরিষেবা রয়েছে, সেরকম গ্রামগুলির উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুরুতে এই তালিকায় ছিল মাত্র ১০ হাজার গ্রাম। কিন্তু, ইতিমধ্যেই তা বেড়ে এখন প্রায় ২৫ হাজার গ্রামের নাম এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এভাবে ৫-৭টি গ্রামের ২৫০ থেকে ৪০ হাজার জনসংখ্যার জন্য ক্লাস্টার অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে কাজ করবে ‘রারবান মিশন’। শুরুতে গোটা দেশে এরকম ৩০০টি ‘রারবান সেন্টার’ গড়ে তোলার ইচ্ছা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এই বছরেই অন্ততপক্ষে ১০০টি ‘রারবান সেন্টার’ গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য হয়েছে। এই উন্নয়নের লক্ষ্য হল গ্রামের পরিবেশকে বজায় রেখে নগরের সুযোগ-সুবিধাগুলি গ্রামের মানুষদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

কেবলমাত্র ৫০টি শহরের উন্নয়ন করলেই ভারতের মতো বড় দেশের আর্থিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, কচ্ছ থেকে কামরূপ – এত বড় দেশকে উন্নত করতে হলে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞকে গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দিতে হবে। ‘রারবান মিশন’ কেন্দ্রগুলিকে ‘গ্রোথ সেন্টার’ হিসেবে গড়ে তুললে দেশের উন্নয়নের নিয়ন্ত্রক করে তোলার কল্পনা রয়েছে। সারা দেশে অসংখ্য ছোট ছোট কুটির শিল্প ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে উঠবে। এই ‘গ্রোথ সেন্টার’গুলি নির্বাচনের ক্ষেত্রে আদিবাসী এলাকাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এভাবে গ্রামগুলির জীবনমান উন্নত করা হবে।

এখানে আজ চারটি উন্নতমানের বিদ্যালয়েরও উদ্বোধন হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে গড়ে ওঠা এই স্কুলগুলিতে উন্নত শিক্ষাদানের ব্যবস্থা থাকায় এই অঞ্চলের খুব কম ছেলেমেয়েকেই শিক্ষালাভের জন্য শহরে যেতে হবে। বাবা-মায়ের অনেক সাশ্রয় হবে। এজন্য আমি ছত্তিশগড় সরকারকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

এখানে বিপুল সংখ্যায় কৃষক ভাই ও বোনেরা এসেছেন। আমি দু’দিন আগে একজন সাংবাদিকের লেখা নিবন্ধ পড়ছিলাম। তিনি লিখেছেন, দীর্ঘদিন পর সরকার কৃষকদের মনে ভরসা যোগানোর মতো কোনও প্রকল্প এনেছে। এই প্রকল্পটি হল ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’। আমাদের দেশের অধিকাংশ কৃষক আকাশের দিকে তাকিয়ে চাষবাস করেন, ঈশ্বরের ওপর ভরসা রাখেন। ভালো বর্ষা হলে ভালো ফসল হয়। কিন্তু অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, ভূমিকম্প ও বন্যায় ফসল নষ্ট হয়। এ ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সরকার এই ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’ এনেছে। পূর্ববর্তী পরিকল্পনাগুলিতে কৃষকরা নিয়মিত প্রিমিয়াম দিতে চাইতেন না। তাঁরা ভাবতেন, প্রিমিয়াম দিলে বীজ কিভাবে কিনবো, সার কোথা থেকে আনবো, সেচের খরচ কোথা থেকে আসবে, গরু-বাছুর, হাঁস-মুরগীর খাদ্য কোথা থেকে আসবে? সেজন্য ৩০ হাজারের জন্য যে বিমা করেছেন, মেয়াদ শেষ হলে কেটেকুটে ফেরৎ পেতেন ৬ হাজার টাকা বা সামান্য কম-বেশি। আর মেয়াদ শেষ হলে যে টাকা হাতে পেতেন, সেটাও ঋণ শোধ করতেই ফুরিয়ে যেত। ঐ টাকা পরিবারের কোনও কাজে লাগতো না। এই সকল সমস্যার কথা ভেবে নতুন প্রকল্পটি গড়ে তোলা হয়েছে। এতে মাত্র ১.৫ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ প্রিমিয়াম হিসেবে দিতে হবে। আগে ৮ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ প্রিমিয়াম দিতে হতো, কোথাও কোথাও এমনকি ৫২ শতাংশ প্রিমিয়ামও দিতে হয়েছে। কিন্তু, এবার ২ শতাংশ উচ্চসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বেশি কাউকে দিতে হবে না। পাশাপাশি, সময়সীমাও শিথিল করা হয়েছে। ফসল কাটার পর ১৪ দিনের মধ্যে কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হলে, ফসলের ক্ষতি হলে বিমার টাকা পাওয়া যাবে।

এগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আগে অনেক বড় এলাকা নিয়ে পূর্বাভাস অনুযায়ী হিসেব করা হতো। আমরা এই পূর্বাভাসের এলাকাগুলির আকারে ছোট করেছি, যাতে কৃষকদের ক্ষতি কম হয়। এমনকি, কোনও গ্রামের একজন মানুষও যদি বিমা করেন, তাঁর এলাকার ক্ষতি নির্ধারণ করে তাকে বিমার টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে। এই ক্ষেত্র সমীক্ষা ও বিমার টাকা প্রদানের জন্য উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি করবে। কখনও পূর্বাভাস দেওয়া হল, জুন মাসে বৃষ্টি হবে। কিন্তু জুন পেরিয়ে, জুলাই পেরিয়ে, আগস্ট মাসও পেরিয়ে গেল – কিন্তু বৃষ্টি হল না। তা হলে কৃষকরা কী করবেন? বর্তমান প্রকল্প অনুসারে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে ফসল নষ্ট হলে, ভালো ফসল না হলে, এমনকি বীজ বপন না করতে পারলেও তিনি অবিলম্বে ২৫ শতাংশ বিমার টাকা পাবেন। তারপর, উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষেত্র সমীক্ষা ও অন্যান্য প্রক্রিয়া চলতে থাকবে।

ভাই ও বোনেরা, ভারতের ইতিহাসে কৃষকদের জন্য এত বড় সুরক্ষাকবচ এর আগে আর হয়নি। আপনারা আমাদের নির্বাচিত করে ক্ষমতায় বসিয়েছেন, আপনারা আপনাদের সেবায় পূর্ণ নিয়োজিত। এই সরকার গরিবের সরকার। এই সরকার দলিত মানুষের সরকার, আদিবাসীদের সরকার, বঞ্চিত, পীড়িত মানুষদের সরকার। সমাজের প্রান্তিকতম মানুষটির কল্যাণের সংকল্প নিয়ে এই সরকার কাজ করছে। সেজন্য গৃহনির্মাণ হোক কিংবা ওষধিভাণ্ডার গড়ে তোলা হোক, রারবান মিশন হোক কিংবা ফসল বিমা হোক, স্বচ্ছ ভারত আন্দোলনের কাজে ঝাপিয়ে পড়া হোক, দরিদ্র মানুষের জীবনমানকে উন্নত করতে এই সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

ভাই ও বোনেরা, এই বিষয়গুলি আগামীদিনে অবশ্যই সাধারণ মানুষের জীবনমানকে উন্নত করতে পারবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে। আজ ১০৪ বছর বয়সী মা কুঁয়রবাঈ-এর আশীর্বাদ আমার বিশ্বাসকে আরও লক্ষ গুণ বাড়িয়ে তুলেছে। এটাই সঠিক পথ। আমরা এভাবেই এগিয়ে যাব। আমি আরেকবার আপনাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে, সকলকে প্রণাম ও ধন্যবাদ জানাই।

ভারতমাতার জয়।

PG/SB/SB/S