Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

শ্রীলঙ্কার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ


s2015031363070 [ PM India 206KB ]

s2015031363072 [ PM India 230KB ]

s2015031363073 [ PM India 263KB ]

s2015031363074 [ PM India 145KB ]

নয়াদিল্লি, ১৩ মার্চ, ২০১৫ প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ শ্রীলঙ্কার জাতীয় সংসদে ভাষণ দিয়েছেন। তিনি তাঁর ভাষণে বলেন, শ্রীলঙ্কার মতো সুন্দর, সংস্কৃতিমনস্ক বন্ধু রাষ্ট্র সফরে এসে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। শ্রীলঙ্কার জাতীয় সংসদে উপস্থিত থেকে তিনি গর্বিত বোধ করছেন। শ্রীলঙ্কার সংসদের সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তিনি যথেষ্ট ওয়াকিবহাল বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কার সংসদ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম প্রাচীন গণতন্ত্র। বিশ্বের অনেকের থেকে আগে শ্রীলঙ্কার অধিবাসীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাঁদের মতামত ব্যক্ত করেছিলেন। ভারতের ১২৫ কোটি দেশবাসীর অভিনন্দন তিনি শ্রীলঙ্কাবাসীদের জানান। একই সঙ্গে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের অগণিত ভারতীয় ক্রিকেট প্রেমীদের অভিনন্দনও তিনি কলম্বোবাসীকে জানান। ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যকে তিনি যথেষ্ট মর্যাদা দেন বলে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, ভবিষ্যতে ভারত ও শ্রীলঙ্কার পায়ে পা মিলিয়ে চলার অঙ্গীকারের কথাও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। শ্রী নরেন্দ্র মোদী জানান, গত মে মাসে তিনি যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদ গ্রহণ করেন, সেই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে তিনি অত্যন্ত গর্বিতবোধ করেছিলেন। তিনি বলেন, ঐ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে গণতন্ত্রের জয়ের প্রতীক। যে কোনও দেশকেই তার প্রতিবেশী দেশের আচরণ প্রভাবিত করে বলে প্রধানমন্ত্রী মত প্রকাশ করেন। ভারতের ভবিষ্যতের যে দিশা তিনি দেখেন, একই ভবিষ্যতের ভাবনা তিনি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিষয়েও ভাবেন বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। একই অঞ্চলে ভারত ও শ্রীলঙ্কার ভবিষ্যৎ যাত্রাপথ একই, তা হল দু’দেশের মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন। ভারত ও শ্রীলঙ্কা যদি একই সঙ্গে চলে তবে তারা অনেক মসৃণ ও দ্রুতভাবে অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে। কলম্বোতে দাঁড়িয়ে উত্তরে হিমালয়ের দিকে দৃষ্টি দিলে এই সমগ্র অঞ্চলের সমৃদ্ধ বৈচিত্র্যময় বাতাবরণ এবং অভিন্ন প্রাচীন সভ্যতায় দু’দেশের যোগসূত্রের আভাস পাওয়া যায়। ভারত ও শ্রীলঙ্কা দুটি দেশই একই সভ্যতা এবং একই ধরণের ইতিহাসের শরিক। আজ ভারত ও শ্রীলঙ্কা গর্বিত দুটি স্বাধীন দেশ। বলতে গেলে, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে তথাকথিত কোনও আঞ্চলিক সীমানা নেই। কিন্তু দুটি দেশ সব অর্থেই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। যেদিক থেকেই দেখা হোক না কেন ভারত ও শ্রীলঙ্কার ভাষা, সংস্কৃতি, খাদ্য, পোশাক-পরিচ্ছদ, ঐতিহ্য সব দিক থেকেই যথেষ্ট যোগাযোগ ও সাদৃশ্য আছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কা দুটি দেশের সম্পর্কের যোগসূত্র মহেন্দ্র ও সঙ্ঘমিত্রার যাত্রা দিয়ে শুরু হয়েছিল। বহু বছর আগে ভারতের শান্তি, সহিষ্ণুতা ও বন্ধুত্বের বার্তা নিয়ে মহেন্দ্র ও সঙ্ঘমিত্রা কলোম্বযাত্রা করেছিলেন। শ্রীলঙ্কায় রামায়ণ কথারও চিহ্ন আছে। বহু বছর আগেকার মহেন্দ্র ও সঙ্ঘমিত্রার এই বাণী পরবর্তীকালে স্বামী বিবেকানন্দ এবং শ্রীলঙ্কার মহাবোধি সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা অগগারিকা ধর্মপালা বন্ধুত্বের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় মহাত্মা গান্ধীর অনুগামীদের মধ্যেও বন্ধুত্বের বার্তা প্রতিফলিত হয়েছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কা প্রায় একইসঙ্গে স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে এবং সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা বিস্ময়কর অগ্রগতির পথে এগোচ্ছে। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে শ্রীলঙ্কার এই অগ্রগতি ভারত সহ অন্যদের উৎসাহিত করে তুলছে। বাণিজ্য, নৈপুণ্য এবং বৌদ্ধিক ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে উঠছে আজকের শ্রীলঙ্কা। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে সহযোগিতার বার্তাবহনকারী হিসেবে শ্রীলঙ্কা নেতৃত্ব দিচ্ছে। শ্রীলঙ্কার এই অগ্রগতি, উন্নতি এবং অবদানে ভারতের আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে প্রতিটি দেশের সাফল্য নির্ভর করবে কিভাবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলি নিজেদেরকে তুলে ধরছে। এই অঞ্চলের প্রতিটি দেশই হিংসা ও সন্ত্রাসের বলি হয়েছে। আবার, প্রত্যেক দেশেই শান্তিপূর্ণ সমাধানের দৃষ্টান্তও আছে। প্রতিটি দেশই নিজেদের দেশের অভ্যন্তরীণ এই সমস্ত সমস্যা নিজস্ব ভঙ্গিতে সমাধান করে চলেছে। রাজ্য, জেলা এবং গ্রামগুলিকে আরও ক্ষমতা প্রদান করে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলি গণতন্ত্রকে আরও মজবুত করে তুলছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। তিনি আরও বলেন, গত ১৩ বছর ধরে তিনি একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং আজ তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী। ভারতবর্ষকে আরও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে গড়ে তোলাই আজ তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রথম কাজ। তিনি বলেন, এজন্য রাজ্যগুলিকে আরও ক্ষমতা ও সম্পদ প্রদান করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় রাজ্যগুলিকে সমানভাবে অংশগ্রহণ করানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী জানান। শ্রীলঙ্কা দীর্ঘ বহু বছর ধরে হিংসা ও সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে। কিন্তু আজ সেই সব কিছুকে জয় করে শ্রীলঙ্কা দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। শ্রীলঙ্কায় সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনে পরিবর্তন ও ঐক্যের জন্য সারা দেশের সম্মিলিত মত প্রকাশিত হয়েছে। ঐক্য ও সম্প্রীতি, শান্তির মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার ভবিষ্যৎ আরও শক্তিশালী হবে বলে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় মত প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর ভাবনায় একটি আদর্শ প্রতিবেশী রাষ্ট্র এমন হবে যার সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির আদানপ্রদান সহজ হয়। ভারতের সামগ্রিক বৃদ্ধির হার আবার বাড়তে শুরু করেছে এবং ভারত ক্রমশ বিশ্বের দ্রুততম বিকাশশীল দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে একটি শক্তিশালী আর্থিক শরিক হিসেবে শ্রীলঙ্কার আত্মপ্রকাশ করারও ক্ষমতা আছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে আরও বাড়িয়ে তুলতে ভারত ও শ্রীলঙ্কা একযোগে কাজ করবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের থেকে শ্রীলঙ্কা যেন পিছিয়ে না পড়ে। আর, এরই জন্য ভারত ও শ্রীলঙ্কার দ্রুত সুসংহত অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করা উচিত। অর্থনীতির ক্ষেত্রে দ্রুত বিকাশের জন্য গোটা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের যে সম্ভাবনা আছে, তা ভারত ও শ্রীলঙ্কা দু’দেশেরই সদ্ব্যবহার করা উচিত। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে এবং বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন দেশগুলির মধ্যে প্রযুক্তি ও আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানোর যে প্রয়াস শুরু হয়েছে তাতে ভারত ও শ্রীলঙ্কার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করা উচিত। শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ভারত ১৬০ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং এর সঙ্গে শ্রীলঙ্কায় রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে ৩১ কোটি ৮০ লক্ষ মার্কিন ডলার আর্থিক সাহায্যও দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ভারত দিয়েছে। পারমানবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য নতুন দিল্লি ও কলম্বো গত মাসেই একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, মহাকাশ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুটি দেশের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কা দুটি দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। এই উদ্দেশ্যে দিল্লিতে জাতীয় সংগ্রহালয়ে যে সব শ্রীলঙ্কার অধিবাসীরা আসবেন তাদের জন্য ফি কমানোর কথা গত মাসে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর জন্মস্থান ভাবনগর প্রাচীনকালে একটি বৌদ্ধদের আন্তর্জাতিক কেন্দ্র ছিল। খনন কার্য করার ফলে সেখানে একটি দু’হাজার শয্যাবিশিষ্ট ছাত্রাবাসের নিদর্শন পাওয়া গেছে। ঐ স্থানটিকে পুনর্গঠন করার জন্য পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে নৌ-ক্ষেত্রে যৌথ নজরদারির দায়িত্ব নিতে হবে। ইতিহাস বলে, ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে কাজ করলে অনেক বেশি উন্নতি করতে পারবে। দুটি দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ফলে ২০০৪ সালের ভয়াবহ সুনামি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে। ২০০১ সালে ভুজে ভূমিকম্প পরবর্তী পুনর্গঠনের সময়েও একই অভিজ্ঞতা হয়েছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে মতবিরোধ থাকতেই পারে তবে, তা পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় মত ব্যক্ত করেন। আজ সময় এসেছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও একবার নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়ার। আর, তারই সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পথ খোলা রেখে এই সম্পর্ককে আরও জোরদার করার সময় এসে গেছে। গত মাসে ভারতকে সফরের দেশ হিসেবে নির্বাচন করার জন্য শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি সেরিসেনা যে নির্বাচন করেছিলেন তাতে তিনি গর্বিত বোধ করছেন বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। একইসঙ্গে শ্রীলঙ্কায় রাষ্ট্রপতি সেরিসেনার অতিথি হওয়ার জন্য গর্বিত বোধ করছেন বলে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী জানান। এই দৃষ্টান্তই দুটি ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিফলিত হওয়া উচিত। আগামীকাল মাধুরোড যাওয়ার জন্য একটি ট্রেনের সূচনা করার উদ্দেশে তিনি তালাইমানার যাচ্ছেন বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। এই যাত্রাপথটি ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে যোগাযোগকারী অতি প্রাচীন রেলপথ। সংসদের সমস্ত উপস্থিত সদস্য এবং অধ্যক্ষ’কে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর ভাষণ সমাপ্ত করেন।