Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী শ্রী রনিল উইক্রমাসিংহের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস বিবৃতি

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী শ্রী রনিল উইক্রমাসিংহের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস বিবৃতি

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী শ্রী রনিল উইক্রমাসিংহের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস বিবৃতি

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী শ্রী রনিল উইক্রমাসিংহের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস বিবৃতি

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী শ্রী রনিল উইক্রমাসিংহের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস বিবৃতি

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী শ্রী রনিল উইক্রমাসিংহের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস বিবৃতি

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী শ্রী রনিল উইক্রমাসিংহের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস বিবৃতি

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী শ্রী রনিল উইক্রমাসিংহের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস বিবৃতি

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী শ্রী রনিল উইক্রমাসিংহের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস বিবৃতি


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রনিল উইক্রমাসিংহে, সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ,

আমি আপনাদের, অধ্যাপক মৈত্রী উইক্রমাসিংহে ও আপনাদের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে পেরে আনন্দিত।

ইউনাইটেড ন্যাশনাল ফ্রন্ট ফর গুড গভর্ন্যান্স জোটকে শ্রীলঙ্কায় গত মাসের সংসদীয় নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য আপনাদের আরও একবার অভিনন্দন জানাই।

আপনি প্রথম বিদেশি রাষ্ট্র সফরের জন্য ভারত’কে বেছে নেওয়ায় আমরা অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার গতবারের পূর্ণ মেয়াদ প্রথম এন.ডি.এ. সরকারের আমলের সঙ্গে মিলে যাওয়াটা আমাদের কাছে অত্যন্ত সুখের।

ভারত-শ্রীলঙ্কা সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনার বিশ্বাস এবং সমর্থনের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনি আমাদের অত্যন্ত মূল্যবান বন্ধু, শ্রীলঙ্কার উন্নতি ও দায়বদ্ধতার জন্য যার স্বপ্ন ভারতে উচ্চ প্রশংসিত।

এ বছরটি ভারত-শ্রীলঙ্কা সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক বছর। ঠিক যেমনটা শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রেও। আপনাদের রাষ্ট্রপতি সিরিসেনা প্রথম বিদেশ সফরের জন্য গত ফেব্রুয়ারি’তে ভারত’কে বেছে নেওয়ায় আমরা গর্বিত হয়েছিলাম। আমারও শ্রীলঙ্কায় গত মার্চে এক অসাধারণ সফরের সুযোগ ঘটেছিল। আর এখন আমরা আমাদের মধ্যে পেয়েছি, প্রধানমন্ত্রী শ্রী উইক্রমাসিংহে’কে।

শ্রীলঙ্কা এ বছর দু’বার পরিবর্তন, সংস্কার, সামঞ্জস্য ও উন্নতির জন্য ভোট দিয়েছে। শ্রীলঙ্কার গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য সম্পর্কে এর থেকে বলিষ্ঠতর কোনও কথা হতে পারে না। শান্তিপূর্ণ, সকলকে সামিল করে নিয়ে এক সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে শ্রীলঙ্কার যাত্রা এর থেকে কোনও স্পষ্টতর সংকেত মেলে না।

ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ও বন্ধু হিসেবে আমরা শ্রীলঙ্কার সাফল্য কামনা করি। আমরা আপনাদের উন্নতিতে আনন্দিত হই এবং আপনাকে ভারতের অক্ষুণ্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিই। তাই সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা সরকার কয়েকটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ায় আমরা আনন্দিত। এই নেতৃত্ব এক বড় আশার সময় প্রশংসনীয় রাজনৈতিক ঐক্যের পরিচয় দিয়েছে।

শ্রীলঙ্কার বিচক্ষণতা ও নেতৃত্বের প্রত্যয় ও সেদেশের মানুষের সমর্থনে শ্রীলঙ্কা যে প্রকৃত উন্নয়নের সুফল অর্জন করবে, যাতে করে সেদেশে বসবাসকারী শ্রীলঙ্কার তামিল জনগোষ্ঠী সহ শ্রীলঙ্কার সকল অধিবাসী সাম্য, ন্যায়, শান্তি ও মর্যাদার জীবন-যাপন করে এক ঐক্যবদ্ধ শ্রীলঙ্কায়।

আমাদের দুটি দেশ, দক্ষিণ এশিয়া এবং আমাদের গোটা নৌ-এলাকার জন্যই আপনাদের উন্নতি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী ও আমি আজ অসাধারণ আলোচনা সেরেছি।

মার্চ মাসের পর থেকে মুদ্রা সোয়াপ ব্যবস্থা সহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। প্রধান প্রধান দ্বিপাক্ষিক প্রয়াস ও প্রকল্পগুলিতে এগিয়ে চলার কাজে এখন গতি আসবে বলে আমরা আশা প্রকাশ করেছি।

আমরা উভয়েই গভীরতর অর্থনৈতিক সম্পর্ক চাই। আমাদের বাণিজ্য আরও বাড়ুক এবং শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে সেটা আরও ভারসাম্যযুক্ত হোক, এটা আমাদের আশা। আমরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সহ এই লক্ষ্য আরও খোলাখুলি এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ ভারতীয় বাজারে কী করে অর্জন করতে পারবো, সে নিয়েও আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা যাঁরা শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিশেষ করে, শক্তি, পরিকাঠামো ও পরিবহণ ক্ষেত্রে অংশগ্রহণে আগ্রহী, তাদের জন্য ওঁর সমর্থন চেয়েছি।

আমাদের দুটি দেশের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে, মানবিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে আমাদের দু’দেশের সমাজের সর্বস্তরের মানুষের যাতে উপকার হয়, আমি সেজন্য ভারতের পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী শ্রী উইক্রমাসিংহে’কে আমাদের উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্ব চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমি সবরকম দায়বদ্ধতার আশ্বাস দিয়েছি – পরিকাঠামো, রেল, শক্তি উন্নয়ন প্রকল্প, কৃষি, সক্ষমতা গড়ে তোলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, মহাকাশ ও অসামরিক পারমানবিক ক্ষেত্রের সবকটিতে।

মানুষে মানুষে বন্ধনের লালন-পালনের প্রয়াস আমরা চালিয়ে যাবো। অতি সম্প্রতি আমরা এক উত্তেজক টেস্ট সিরিজ শেষ করেছি। ক্রিকেট মাঠে মহান কুমার সাঙ্গাক্কারার নৈপুণ্য দেখতে পারা থেকে আমরা সকলেই বঞ্চিত হবো।

আমরা নিজেদের ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্বার্থকে মানি এবং একে অপরের উদ্বেগের বিষয়গুলি সম্পর্কে সজাগ থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্বীকার করি। আমাদের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহযোগিতায় নিজেদের দায়বদ্ধতার প্রতি আস্থার কথা আমরা উভয়েই নতুন করে স্বীকার করেছি।

সন্ত্রাসের মোকাবিলায় আমরা সহযোগিতা বাড়াবো এবং আমাদের নৌ-এলাকার প্রতিবেশী সুলভ সুরক্ষা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য একসঙ্গে কাজ করবো। প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে শ্রীলঙ্কার আমাদের বৃহত্তম অংশীদার আর আমরা এই ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রসার ঘটানোর কাজ চালিয়ে যাবো।

প্রধানমন্ত্রী উইক্রমাসিংহে এবং আমি মৎস্যজীবীদের বিষয়টিও আলোচনা করেছি। দু’পক্ষের মৎস্যজীবীদের সঙ্ঘ ও সমিতিগুলি এ ব্যাপারে সমাধানসূত্র খুঁজতে তাঁদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে আমরা একমত হয়েছি।

আমি ওঁকে একথা জানিয়েছি যে, এটি মানবিক বিষয় হিসেবে দেখা উচিত, জীবিকা ও জীবনযাত্রার ওপর যার প্রভাব পড়ে। আমরা ভারতীয় ধীবরদের গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য যাওয়ায় উৎসাহিত করতে কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছি, সেকথাও আমি ওঁকে জানিয়েছি।

পরিশেষে বলি, একে অপরের সাফল্যের ক্ষেত্রে এবং আমাদের অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের প্রশ্নে ভারত ও শ্রীলঙ্কার গভীর স্বার্থ আছে।

এটা এমনই একটা সম্পর্ক যেটা ভারত ও শ্রীলঙ্কার জনসাধারণের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। আমাদের দুই দেশের জন্য এটা সমরকৌশলগত দিক থেকেও খুব গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রপতি শ্রী সিরিসেনা এবং প্রধানমন্ত্রী শ্রী উইক্রমাসিংহে’কে সঙ্গে নিয়ে আমরা ভবিষ্যতের দিকে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জকভাবে তাকিয়ে দেখতে পারি।

ধন্যবাদ।

PG/SB/S