পিএমইন্ডিয়া
নয়াদিল্লি, ১৪ মার্চ, ২০১৫ সমবেত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিবর্গ ও মাননীয় শ্রোতাবৃন্দ, ওয়ণকম ! ভারতের প্রধানমন্ত্রীরূপে আমার প্রথমবার জাফনায় আসা, আমি যদি আজ এখানে কোন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ না করে শুধুই এই মাটিকে প্রণাম করে যেতাম, তাহলেই সেটা শ্রীলঙ্কায় ও পুরো পৃথিবীতে একটি বড় ঘটনা হিসেবে মানা হত। জাফনা তার একটি নিজস্ব পরিচয় নির্মাণ করছে। গোটা বিশ্বে জাফনার ভালোবাসার বার্তা থেকে একটি নতুন সৌরভ অনুভূত হচ্ছে। আর, এটা আমার সৌভাগ্য যে এই শান্তি, সৌভ্রাতৃত্ব, সদ্ভাবনার এই সৌরভ মাখা বাতাসে আঘ্রাণ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমান বিগনেশ্বরজি গুজরাট নিয়ে অনেক প্রশংসা করেছেন। ভারতে এই সময় যে কো-অপারেটিভ ফেডেরালিজমকে জোর দিয়ে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে তার প্রশংসা করেছেন। আর, ভারত থেকে তাদের কি কি প্রত্যাশা রয়েছে তারও উল্লেখ করেছেন। শ্রীলঙ্কা আর ভারতের সম্পর্ক বিশিষ্ট প্রকারের। আমরা শুধুই প্রতিবেশী, তা নয়। আমরা সাংস্কৃতিক রূপে পরস্পরের সঙ্গে জুড়ে থাকা মানুষজন। জাফনার জীবনযাত্রায় অনেক উত্থান-পতন এসেছে। এখানকার মানুষ অনেক কঠিন দিনের সম্মুখীন হয়েছেন। এখানকার বিশ্ব প্রসিদ্ধ গ্রন্থাগার, যেখানে প্রায় ১ লক্ষ উন্নতমানের গ্রন্থ, পাণ্ডুলিপি অর্থাৎ, বলতে গেলে একদিক দিয়ে মানবজাতির অমূল্য মণিমাণিক্যের ভাণ্ডার জাফনার কাছে ছিল। কিন্তু এসব কিছু পুড়ে গেছে, ভস্ম হয়ে গেছে। আজ আবার নতুন করে অনেক বই একত্র করা হয়েছে, গ্রন্থাগারটিতে নতুন করে প্রাণসঞ্চার করা হয়েছে। রাস্তা তৈরি হয়েছে, রেল হয়েছে, বন্দর হয়েছে, বিমানবন্দরও হয়েছে – এ সমস্ত কিছু মানুষকে পরস্পরের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার কাজে লাগে। কিন্তু গ্রন্থাগার যখন তৈরি হয়, যেখানে বই থাকে সেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দীকালকে জুড়ে দেওয়ার কাজ হয়। এই শতাব্দীকাল ধরে জুড়ে দেওয়ার কাজ আবার শুরু হয়েছে। আর, তার জন্য জাফনার সমস্ত মহানুভব ব্যক্তিদের হৃদয় থেকে অভিনন্দন জানাই। আজ আমার আনন্দের দিন। এখানে এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শিলান্যাস করতে আসার সৌভাগ্য হয়েছে। এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রকে তৈরি করতে স্পর্ধার প্রয়োজন ছিল, স্থাপত্যের স্পর্ধা। আর, স্পর্ধার মাধ্যমেই ঠিক হয়েছে কোন কৃতিকে বেছে নেওয়া হবে। এটাও দেখা হয়েছে, কোন কৃতিতে জাফনার পরম্পরা অভিব্যক্ত হবে। আর, এই যে এখুনি তার ভিডিও দেখানো হল, কেমন করে তৈরি হবে তা দেখানো হল, তা থেকে স্পষ্ট বুঝতে পারা যায় যে পুরাতনের সঙ্গে নতুনের একটি অদ্ভুত সঙ্গম তৈরি করা হয়েছে। ভারতের জন্য এটি গর্বের কথা যে জাফনায় এমনি অদ্ভুত একটি বিশ্বমানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের সুযোগ আমরা পেয়েছি। আমি জাফনাবাসীদের, শ্রীলঙ্কাবাসীদের আশ্বাস দিচ্ছি যে ভারত সরকার যে কাজ হাতে নিয়েছে তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ হবে আর কল্পনা থেকেও ভালো হবে। আর, আমার জন্য খুশির বিষয় এই যে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রথম অনুষ্ঠানের জন্য আমি অগ্রিম আমন্ত্রণ পেয়ে গেছি। আর, তার মানে কতটা প্রত্যয় রয়েছে তা স্পষ্ট। এই প্রত্যয়ের কতটা প্রত্যয় আছে তাও স্পষ্ট। আজ আমার জন্য এই যাত্রা এক প্রকারের ত্রিবেণী সঙ্গম। আজ এখানে আসার আগে তলাইমনার-এ রেললাইনের উদ্বোধন করে এসেছি। মনে এত আনন্দ হয়েছিল ঐ দৃশ্য দেখে যে সমুদ্রের তট অবধি রেললাইন আর অন্য পাড়ে রামেশ্বরম। এই প্রকল্প নিজেই ভারতের যে কোন নাগরিককে, যারা এ কাজ করেছে তাদের জন্য গর্ব হয়, আনন্দ দেয়। তলাইমনার-এ আজ যে রেল প্রকল্পের লোকার্পণ হল আমি বিশ্বাস করি তা গোটা এলাকার বিকাশকে একটি নতুন গতি দেবে। আমার জন্য আজ দ্বিতীয় খুশির বিষয় হল জাফনার যে হাউজিং প্রোজেক্ট আমি লোকার্পণ করেছি। আর, সেই সঙ্কটের সময় যে সব পরিবার সহ্য করেছে আজ তারা নিজের ঘর পেয়েছে, নিজের মাথা গোঁজার ঠাই পেয়েছে, তাদের আশীর্বাদের শক্তি অনেক বেশি। আর, এক প্রকারে আমাদের ওখানে কথিত আছে, সেবা পরম ধর্ম : এই হাউজিং প্রোজেক্ট এক ধরণের উত্তম থেকে উত্তম ধর্মকার্য যা সেবা রূপে করার সুযোগ আমরা পেয়েছি। আর, এই তৃতীয় প্রকল্প যেখানে আমি শিলান্যাস করছি সেটা এই কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এভাবে আজ আমার যাত্রার ত্রিবেণী সঙ্গম সম্পন্ন হয়েছে। আমি গতকাল এখানকার সংসদে বক্তব্য রাখার জন্য নিমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। সেখানে আমি আমার মনের কথা বলেছি যা আজ খবরের কাগজগুলিতে খুব বেশি করে ছাপা হয়েছে। শ্রীলঙ্কাকেও উন্নতি করতে হবে। একতা ও অখণ্ডতা দিয়েই প্রগতি সম্পন্ন হবে। একতার সঙ্গে সৌভ্রাতৃত্বও চাই। আর যে কোনও ভূখণ্ডে প্রত্যেক নাগরিকের সমান সুযোগ পাওয়া উচিত। এতে প্রত্যেকরই এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এই শুভেচ্ছা ভারতের পক্ষ থেকে প্রত্যেক শ্রীলঙ্কাবাসীকে, প্রত্যেক নাগরিককে জানাই। আমি নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি শান্তি, একতা, সদ্ভাবনা – এগুলি প্রগতির মূল মন্ত্র, এগুলি বিকাশের মূল মন্ত্র। আর আমিও আপনাদের বিকাশের নতুন শিখরে দেখতে চাই, এই মাটিতে দেখতে চাই। আপনারা আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন, সম্মান দিয়েছেন। আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আর আপনাদের আশ্বাস দিই – শ্রীলঙ্কার প্রগতি আর বিকাশের জন্য ভারত যা করতে পারে করবে। ভারত কখনও পেছনে থাকবে না। এই বন্ধুত্ব শত শত বর্ষ পুরনো। আর আগামী শত শত বর্ষ পর্যন্ত এই বন্ধুত্ব থেকে যাবে। আমরা এই বন্ধুত্ব রক্ষা করব। আমি আরও একবার আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই। ওয়ণকম !