পিএমইন্ডিয়া
মাননীয়া অধ্যক্ষ মহোদয়া, আমি সংসদের সমস্ত সদস্যের পক্ষ থেকে এবং নিজের পক্ষ থেকে এই ষোড়শ লোকসভার সম্পূর্ণ কার্যকালে অধ্যক্ষ রূপে হাসিমুখে যে ধৈর্য্য ও ভারসাম্য রক্ষা করে সংসদ সঞ্চালনা করেছেন, সেজন্য অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই।
আমি জানি যে, আপনার মননে দেবী অহল্যার জীবন ও শিক্ষার প্রভাব আদর্শ-স্বরূপ। সেজন্য আপনি কখনও আপনার ডান দিকের আবার কখনও বাম দিকের জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্যকে নিক্তিতে মেপে প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছেন। কিন্তু যে সিদ্ধান্তই নিয়েছেন, সেটি ভারতীয় সংস্কৃতি ও সংবিধানের আদর্শ মেনে নিয়েছেন, যা লোকসভার গরিমা বৃদ্ধি করেছে বলে আমার বিশ্বাস।
আপনি যে স্ত্রী সংগঠনের সূত্রপাত করেছেন, লোকসভায় নির্বাচিত নবীন সদস্যাদের জন্য যেভাবে প্রতিটি বক্তৃতার আগে বিষয় ও তথ্য প্রদান করে তাঁদের সমৃদ্ধ করে আপনি একজন অভিভাবক ও শিক্ষকের ভূমিকা পালন করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
অধ্যক্ষ মহোদয়া, ২০১৪ সালে আমিও একজন নবীন সাংসদ হিসাবে লোকসভায় পা রেখেছিলাম। এখানকার কিছুই জানতাম না। আমি জানতাম যে, আমার আগে ১৩ জন প্রধানমন্ত্রী এখানে বসে তাঁদের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু আমার সামনে যে প্লেট রাখা আছে, সেখানে শুধু তিন জন প্রধানমন্ত্রীরই নাম লেখা কেন? এরকম বড় জিজ্ঞাসা থেকে শুরু করে টেবিলের কোন বোতামটা কিভাবে কাজ করে, তেমন খুঁটিনাটি বিষয় আমাকে অবগত করিয়েছেন, আমার অগ্রজ সাংসদ সদস্যরা।
অর্থাৎ, প্রায় প্রত্যেক বিষয়ে আমার জিজ্ঞাসা নিবারণ করা সহজ ছিল না। তখন প্রায় তিন দশক পর দেশে একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠিত হয়েছে, যা স্বাধীনতার পর প্রথম অ-কংগ্রেসী সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার। ফলে, ষোড়শ লোকসভার ১৭টি অধিবেশনের মধ্যে ৮টি অধিবেশনে ১০০ শতাংশেরও বেশি কাজ হয়েছে। ফলে, আজ আমরা ৮৫ শতাংশেরও বেশি সুফলদায়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এই লোকসভা থেকে বিদায় নিচ্ছি।
সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর একটি নিজস্ব দায়িত্ব থাকে। এখন তোমারজী সেই দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর আগে ভেঙ্কাইয়াজী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন। তিনি এখন দেশের মহামান্য উপ-রাষ্ট্রপতি হিসাবে দক্ষভাবে রাজ্যসভা সঞ্চালনা করছেন। আমাদের আরেকজন সদা হাস্যমুখ বন্ধু অনন্ত কুমারজীর অভাব আমরা সবসময় অনুভব করি। এরা সবাই ষোড়শ লোকসভা পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
আরেকটি কারণে এই ষোড়শ লোকসভা গর্ব করতে পারে, তা হল – স্বাধীনতার পর এই লোকসভাতেই সর্বাধিক মহিলা সাংসদ ছিলেন। এর মধ্যে ৪৪ জন মহিলা সাংসদ নবনির্বাচিত হয়ে এসেছিলেন, মন্ত্রিসভাতেও সর্বাধিক মহিলা মন্ত্রী হয়েছেন। আর প্রথমবার দেশের প্রতিরক্ষা ও বিদেশ দপ্তর সামলাচ্ছেন দু’জন মহিলা মন্ত্রী। এই সংসদের অধ্যক্ষ-ও মহিলা, আমাদের রেজিস্ট্রার জেনারেল, সেক্রেটারি জেনারেল – এনারা প্রত্যেকেই মহিলা। এদের সবাইকে অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই।
আপনারা ভাববেন না যে, আমি এখন সরকারের সাফল্য বর্ণনা করতে উঠে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু যে কাজ এই লোকসভা গত পাঁচ বছরে করেছে, তার অংশীদার ও কৃতিত্বের দাবিদার সরকার পক্ষ এবং বিরোধী পক্ষের সমস্ত সাংসদরাই। আপনাদের সকলের সাহায্যেই আজ ভারত বিশ্বের ষষ্ঠ অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে। আপনাদের নীতি প্রণয়নে দক্ষতার ফলেই ভারত অদূর ভবিষ্যতে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি হয়ে ওঠার লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এই সময়কালের মধ্যেই ভারত ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে উচ্চস্থান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে।
দেশের জনগণের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং সঙ্কটের বিরুদ্ধে লড়াই করার সামর্থ্য বৃদ্ধিতে আপনাদের নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আজ বিশ্বের সমস্ত প্রতিষ্ঠিত রেটিং সংস্থা ভারতের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উচ্চাশা পোষণ করছে।
জ্বালানি ক্ষেত্রে ও জ্বালানি সাশ্রয় ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্য বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এখন বিশ্বের পেট্রোলিয়াম উৎপাদনকারী দেশগুলির মহাজোটের যেমন ক্ষমতা, ভবিষ্যতে বিকল্প শক্তি উৎপাদনকারী দেশগুলির মহাজোটের ক্ষমতা তারচেয়ে বেশি হবে বলে আমার বিশ্বাস। ভারত বিশ্ব উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে এবং পরিবেশ নিরাপত্তার সপক্ষে বিশ্বের সূর্যশক্তিতে ধনী দেশগুলির মহাজোট আন্তর্জাতিক সৌরসংঘ গঠন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং তার নেতৃত্ব প্রদান করছে। আমার মতে, এটাও ষোড়শ লোকসভার কার্যকালেরই ফসল।
এই সময়কালেই মহাকাশ গবেষণায় ভারত বিশ্বে অগ্রণী দেশ হয়ে উঠেছে। একসঙ্গে শতাধিক উপগ্রহ উৎক্ষেপণের সাফল্যে একটি সফল উৎক্ষেপক দেশ হিসাবে মহাকাশ গবেষণার গন্তব্য হয়ে উঠেছে। ফলে, মহাকাশ গবেষণা এখন অর্থনৈতিক গতিবিধির একটি কেন্দ্র হয়ে উঠছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং নির্মাণ শিল্পের ক্ষেত্রে ভারত আজ আত্মনির্ভর হয়ে উঠে দেশের উন্নয়নকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে চলেছে।
সমগ্র বিশ্বে আজ ভারতের বক্তব্যকে মনোযোগ দিয়ে শোনা হয়। আপনারা ভাববেন না যে, শুধু মোদী কিংবা সুষমাজীর দক্ষতার কারণে এই সাফল্য এসেছে। এর মূল কারণ হ’ল – সংখ্যাধিক্যের সরকার। বিশ্বের প্রত্যেক দেশই সংখ্যাধিক্যের সরকারকে বিশেষ নজরে দেখে। ২০১৪’র আগে তিন দশক ধরে আমাদের দেশে সংখ্যাধিক্যের সরকার ছিল না বলে, দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। সেজন্য আমাদের সাফল্যের কৃতিত্ব মোদী কিংবা সুষমাজীর কৃতিত্ব নয়, এটি হ’ল ২০১৪ সালে ১২৫ কোটি ভারতবাসী যে সংখ্যাধিক্যের সরকার গঠনে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তার কৃতিত্ব।
তেমনই, এই ষোড়শ লোকসভার আমলেই আমরা অনেক দেশের সঙ্গে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পারস্পরিক সমস্যা মেটাতে পেরেছি। যেমন – বাংলাদেশের সঙ্গে ছিট মহল সমস্যার সমাধান। দেশ বিভাগের পর থেকেই এই সমস্যা ছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ গঠনের সময়ে সহায়ক দেশ হয়েও এই সমস্যার সমাধান হয়নি। এত বছর পর ষোড়শ লোকসভা সর্বসম্মতিক্রমে এই সমস্যার সমাধান করে বিশ্ববাসীকে একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। সেজন্য আমি এই লোকসভার সমস্ত সাংসদদের কৃতজ্ঞতা জানাই।
একইভাবে, ষোড়শ লোকসভার সময়েই বিশ্বে ভারতে মানুষের অধিকার ও মানবিক মূল্যবোধের ছবি আরও উজ্জ্বল হয়েছে। যুগ যুগ ধরে ভারতবাসী উপনিষদে বর্ণিত ‘বসুধৈব কুটুম্বকম্’ মন্ত্রে বিশ্বাসী। নেপালে ভূমিকম্প, মালদ্বীপে পানীয় জলের সঙ্কট, ফিজি ও শ্রীলঙ্কায় প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় এবং বাংলাদেশে মায়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সমস্যা নিরসনে ভারতের ভূমিকার পাশাপাশি, ইয়েমেনের রাজনৈতিক সঙ্কটে আটকে পড়া ভারতীয়- সহ কয়েক হাজার বিদেশিদের উদ্ধার করে নিরাপদে তাঁদের দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সাফল্য ষোড়শ লোকসভার মুখ উজ্জ্বল করেছে।
মানবতার ক্ষেত্রে এরকম উল্লেখযোগ্য ভূমিকার পাশাপাশি, ভারত যোগাসনকে বিশ্বে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ভারতের আবেদনে সাড়া দিয়ে রাষ্ট্রসংঘ সর্বাধিক কম সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দেশের সমর্থন লাভ করে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ঘোষণা করেছে। গত দু’বছর ধরে সারা পৃথিবীতে এটি পালন করা হচ্ছে। রাষ্ট্রসংঘে বাবাসাহেব আম্বেদকর এবং মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তী পালন করা শুরু হয়েছে। বিশ্বের প্রায় সকল দেশে এ বছর বাবাসাহেব আম্বেদকরের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী এবং মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জন্মজয়ন্তী পালন করা হয়েছে। ১৫০টি দেশের বিশিষ্ট গায়করা মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিনে তাঁর প্রিয় ভজন ‘বৈষ্ণব জন কো তেনে রে কহিয়ে’ গেয়ে তাঁকে সমবেত শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছেন। এভাবে, সারা বিশ্বে একটি ‘সফট পাওয়ার’কে কিভাবে সঞ্চারিত করা যায়, তার একটি উদাহরণ আমরা আজ অনুভব করতে পারছি।
এবার প্রজাতন্ত্র দিবসেও আমাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে দেশের সমস্ত রাজ্য মহাত্মা গান্ধী বিষয়ক ট্যাবলো সাজিয়ে দিল্লির রাজপথে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেছিল। ষোড়শ লোকসভা কালেই আমরা এই সভাকক্ষে সংবিধান দিবস পালন করেছি, বাবাসাহেব আম্বেদকরের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তাঁকে নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়েছে, এই লোকসভার সদস্যরাই রাষ্ট্রসংঘের স্থায়ী উন্নয়নের লক্ষ্যে কী কী করণীয়, সে বিষয়ে আলোচনা করেছে – এই সমস্ত কিছুই মাননীয় অধ্যক্ষ আপনার সঞ্চালনায় সম্ভব হয়েছে।
ষোড়শ লোকসভায় মোট ২১৯টি বিল পেশ করা হয়েছে, যার মধ্যে ২০৩টিই পাশ হয়েছে। এই লোকসভার সদস্যরা আগামী নির্বাচনী সভাগুলিতে এবং নির্বাচনের পরও কোনও কিছু লিখতে গিয়ে গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করবেন যে, তাঁরাই কালো টাকা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব কঠোর আইন প্রণয়ন করেছেন। পাশাপাশি, দেউলিয়া কোম্পানি সংক্রান্ত আইবিসি আইন, বেনামী সম্পত্তি সম্পর্কিত আইন, আর্থিক অপরাধী ও দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া তহবিল তছরূপকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করেছেন। এই সমস্ত আইন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের শক্তি বৃদ্ধি করেছে। সেজন্য আগামী প্রজন্ম এই ষোড়শ লোকসভাকে মনে রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।
এই ষোড়শ লোকসভা-ই অভিন্ন পণ্য ও পরিষেবা কর প্রণয়ন করেছে। রাত ১২টায় সংসদের উভয় কক্ষে সংযুক্ত অধিবেশন ডেকে সরকার পক্ষ কোনও রকম কৃতিত্ব না নিয়ে দেশের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের অনুমতিক্রমে এই বিল পাশ করেছে।
তেমনই এই ষোড়শ লোকসভাই আধার বিলকে আইনি শক্তি প্রদান করেছে। এই আধার বিশ্বে একটি অতুলনীয় বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্র হিসাবে উচ্চ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
দেশ স্বাধীন হলেও আমাদের কোনও এক সীমাবদ্ধতার কারণে শত্রু-সম্পত্তি বিষয়ে কোনও সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এই ষোড়শ লোকসভা অত্যন্ত কঠোরতার সঙ্গে শত্রু-সম্পত্তি বিল পাশ করে ১৯৪৭ সালের দগদগে ঘায়ে মলম লাগানোর কাজ করেছে।
ষোড়শ লোকসভা সামাজিক ন্যায়ের লক্ষ্যে উচ্চ বর্ণের গরিব মানুষদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। এক্ষেত্রে দেশের সংবিধানে সংরক্ষণ পাওয়া অন্য কারও অধিকার হরণ না করে ১০ শতাংশ সংরক্ষণ সুনিশ্চিত করেছে।
তেমনই, ওবিসি কমিশন গঠন কিংবা এসসিএসটি আইন সম্পর্কে সর্বোচ্চ আদালতে ভুল বোঝাবুঝি দূর করা, কর্মরত গর্ভবতী মায়েদের জন্য গর্ভধারণ ও প্রসব পরবর্তী সবেতন ছুটিকে ১২ সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে ২৬ সপ্তাহ করার ক্ষেত্রে সাফল্য এই ষোড়শ লোকসভার কৃতিত্ব বিশ্ববাসী মনে রাখবে। এই ষোড়শ লোকসভা ১ হাজার ৪০০ কালবাহ্য এবং পরস্পর বিরোধী আইন বাতিল করে দেশের বিচার প্রক্রিয়াকে সরল করার ক্ষেত্রে শুভ সূচনা করেছে। এক্ষেত্রে যে কাজ বাকি রয়েছে, তা করার জন্য অন্যতম বিরোধী নেতা শ্রদ্ধেয় মুলায়ম সিং ইতিমধ্যেই আশীর্বাদ জানিয়েছেন। আমি একে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে মনে করি। স্বাধীনতার পর এত বছরে দেশ যেখানে পৌঁছনো উচিৎ ছিল, এদেশের সংসদ এখন পর্যন্ত দেশকে সেখানে পৌঁছে দিতে পারেনি। অথচ, সংসদ সদস্যরা নিজেদের বেতন বৃদ্ধির কাজটি ঠিক করে গেছেন। এই কলঙ্ক থেকে মুক্তির পথ ষোড়শ লোকসভা দেখিয়েছে।
একটি সমালোচনা আমরা দীর্ঘকাল ধরে শুনে আসছি যে, সংসদের ক্যান্টিনে সংসদ সদস্যরা সস্তায় খাবার খান। কিন্তু বাইরে এই খাবারের মূল্য অনেক বেশি। দেশের বড় বড় নেতারাও এই কলঙ্ক থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পারেননি। এই প্রথম দলমত নির্বিশেষে আলোচনার মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা মিলেমিশে এই কলঙ্ক মোচনের পথ খুলে দিয়েছেন। এই প্রথম জিতেন্দ্রজীর নেতৃত্বে কমিটি এই বিষয়টি নিয়ে হিসেব-নিকেশ করে সংসদ ক্যান্টিনের খাবারের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছেন। কিন্ত আমার মতে, পুনর্বার সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার এলে এই বিষয়ে আমরা আরও যুক্তিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারব।
ষোড়শ লোকসভায় অনেক তর্ক-বিতর্ক, আরোপ-প্রত্যারোপ হয়েছে। অনেকে বলেছেন, এমনটি হলে ভূমিকম্প এসে যাবে। কিন্তু গণতন্ত্রের শক্তি ও মর্যাদা এমনই যে, সেরকম কিছু হয়নি। আরোপ-প্রত্যারোপের সময়ে সরকার পক্ষ এবং বিরোধী পক্ষের কেউ কেউ এরকম শব্দ প্রয়োগ করেছেন, যা করাটা উচিৎ ছিল না। এই সভাকক্ষের নেতা হিসাবে আমি সেজন্য ‘মিক্ষামী দুখমঃ’ বলে ক্ষমতা চাইছি……. ক্ষমা প্রার্থনার জন্য জয় হিন্দ পরিবেশে ‘মিক্ষামী দুখমঃ’ একটি বড় বার্তাবাহী শব্দবন্ধ – আমি এই ভাবনাকেই ব্যক্ত করতে চাই।
মল্লিকার্জুনজীর সঙ্গে আমার অনেক বিতর্ক হয়েছে। আজ তাঁর কন্ঠস্বর ঠিক থাকলে আমরা সবাই উপকৃত হতাম। কিন্তু কখনও আমি তাঁকে বিরোধিতা না করতে দেখে অবাক হয়ে নিজের তথ্য বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করার প্রয়োজন বোধ করেছি। আবার, আমার ভাবনাকে সদা জাগ্রত রাখার ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্য দ্বারা উপকৃত হয়েছি। সেজন্য আমি খারগে সাহেবের কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি যে নিষ্ঠার সঙ্গে সংসদে পূর্ণ সময় কাটাতেন, যেমন দীর্ঘকাল ধরে শ্রদ্ধেয় আডবাণীজী নিষ্ঠার সঙ্গে সংসদে পূর্ণ সময় কাটাতেন – তা আমাদের সকলের জন্য শিক্ষণীয় বিষয়। প্রায় ৫০ বছর ধরে জনপ্রিতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালন করাটা কম কথা নয়। তাঁরা যেভাবে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেছেন, সেজন্য সম্মান জানিয়ে আমি তাঁদের অভিনন্দিত করতে চাই।
প্রথমবার যখন এই সভাকক্ষে পা রেখেছিলাম, তখন জীবনের অনেক মানেই জানতাম না। এখানে এসে শিখেছি আলিঙ্গন করা আর গলায় ঝুলে পড়ার মধ্যে পার্থক্য কী? প্রথমবার বুঝতে পেরেছি যে, সভাসদদের চোখ কেন রেগে লাল হয়? চোখের দুষ্টু খেলাও প্রথমবার এই সভাকক্ষেই দেখেছি, যা নিয়ে বিদেশি সংবাদ মাধ্যমও অনেক ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেছে। প্রত্যেক সাংসদের দায়িত্ব সংসদের গরিমা রক্ষা করা। আমি সেই গরিমা রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছি।
এই সভাকক্ষে এসে আমি অনেক সাংসদ মহোদয়ের প্রতিভা সম্পর্কে জানতে পেরেছি। একদিন যখন আমি ভাষণ দিচ্ছিলাম, তখন রাষ্ট্রপতি মহোদয় সম্পর্কে বলার পর এমন অট্টহাসি শুনতে পেয়েছি, যা সাধারণত বিনোদন জগতের উপযোগী। এই অট্টহাসি ইউটিউবে প্রচারিত হলে সাংসদ মহোদয়রা অনেক বড় বড় শিল্পীকেও মাত করে দিতেন।
এই সভাকক্ষে এসে আমি অনেক নতুন নতুন পোশাক দেখতে পেরেছি। আমাদের টিডিপি সাংসদ নারামলি শিবপ্রসাদ অদ্ভূত সব পোশাক পরে আসতেন। অনেক ‘টেনশন’ তাঁর দিকে ‘অ্যাটেনশন’ দিয়ে গিয়ে মুক্ত হয়ে গিয়েছে। আমার মতো নতুন একজন সাংসদ আপনাদের সকলের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। আপনাদের সকলের নেতৃত্ব ও পথপ্রদর্শন আমার প্রধানমন্ত্রীত্বের প্রথম দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করতে সহায়ক হয়েছে। সেজন্য আমি আপনাদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই শ্রদ্ধেয় মুলায়ম সিংজীকে, যাঁর স্নেহ আমার কাছে আশীর্বাদ-স্বরূপ। আমি তাঁকে হৃদয় থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।
লোকসভার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত কর্মচারীকে আমি অন্তর থেকে অভিনন্দন জানাই, যাঁরা সমস্ত সাংসদদের দেখাশোনা করেছেন। দলমত নির্বিশেষে সমস্ত সাংসদদের শুভেচ্ছা জানাই, যাঁরা একটি সুস্থ ও গণতান্ত্রিক পরম্পরা বজায় রেখে সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেছেন।
আপনাদের সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার বক্তব্যকে সম্পূর্ণ করছি। আরেকবার নত মস্তক হয়ে এই সভাকক্ষের সমস্ত সাংসদদের হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।
ধন্যবাদ।
SSS/SB/SB
Several sessions in this Lok Sabha had good productivity. This is a very good sign.
— PMO India (@PMOIndia) February 13, 2019
I appreciate @MVenkaiahNaidu Ji, Late @AnanthKumar_BJP Ji for their service as Ministers for Parliamentary Affairs: PM @narendramodi in the Lok Sabha
India's self-confidence is at an all time high.
— PMO India (@PMOIndia) February 13, 2019
I consider this to be a very positive sign because such confidence gives an impetus to development: PM @narendramodi
The world is discussing global warming and India made an effort in the form of the International Solar Alliance to mitigate this menace: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 13, 2019
It is this Lok Sabha that has passed stringent laws against corruption and black money: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 13, 2019
It is this Lok Sabha that passed the GST.
— PMO India (@PMOIndia) February 13, 2019
The GST process revealed the spirit of cooperation and bipartisanship: PM @narendramodi