পিএমইন্ডিয়া
মাননীয় বিশিষ্ট ভদ্রমণ্ডলী,
সন্ত্রাসবাদ বিশ্বব্যাপী এক প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।সংঘর্ষলিপ্ত অঞ্চল থেকে দূর-দূরান্তের পথঘাট সর্বত্রই সন্ত্রাসবাদের ভয়ঙ্কর মূল্য আমাদের দিতে হচ্ছে।
দুঃখের বিষয় সন্ত্রাসবাদের আদিম রূপ এখনও রয়ে গেছে।এমন অনেক দেশ রয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রীয় নীতির একটি হাতিয়ার হিসেবে আজও সন্ত্রাসবাদ’কে ব্যবহার করা হচ্ছে।
কিন্তু, সন্ত্রাসবাদের পরিবর্তিত চেহারাও এখন আমাদের সামনে স্পষ্ট।বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ, এজেন্টের মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপন, দেশের ভেতরে উদ্ভূত সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতি এবং সাইবার জগৎ’কে সন্ত্রাসবাদের প্রচার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের ঘটনা এখন আমরা প্রত্যক্ষ করছি।
বহুত্ববাদী এবং উদার সমাজ ব্যবস্থাও এখন এক নতুন ধরণের হুমকির মুখোমুখী।সন্ত্রাসমূলক কাজকর্মে কিছু মানুষকে প্ররোচিত করা হচ্ছে এবং আক্রমণের লক্ষ্য হিসেবে সমাজকে বেছে নেওয়া হচ্ছে।
সমগ্র বিশ্বে নিরাপত্তার যে বলয় বা কাঠামো রয়েছে, তা নানা ধরণের নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জের মোকাবিলার উপযোগী করে তৈরি, যার উপযোগিতা আগামীদিনেও অক্ষত থাকবে।কিন্তু, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করার মতো সুসংহত প্রকৌশল এখনও বিশ্বে গড়ে ওঠেনি।তাই, আমাদের হাতে বর্তমানে যে ব্যবস্থা রয়েছে তাকেই হাতিয়ার হিসেবে ভেবেচিন্তেই এখন থেকে ব্যবহার করতে হবে।
মাননীয় ভদ্রমণ্ডলী, আমাদের সামনে এখন যা সবচেয়ে বেশি জরুরি, তা হল যে সন্ত্রাসবাদের চরিত্র আমরা প্রত্যক্ষ করছি, তার মোকাবিলা করার মতো প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
সমস্ত রকমের রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে আমাদের এখন ঐক্যবদ্ধভাবে একযোগে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।
সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে কোনও বৈষম্য করা চলবে না।একইভাবে, রাষ্ট্রগুলির মধ্যেও যেন কোনও রকম বৈষম্য বা মতভেদ না থাকে।
সন্ত্রাসবাদকে যারা সমর্থন করে ও মদত দেয়, আমাদের উচিৎ তাদের পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া।একইসঙ্গে যাঁরা মানবতার মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত হয়ে আমাদের সমান অংশীদার তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে আমাদের।
সন্ত্রাসবাদের এই অদ্ভূত চ্যালেঞ্জের মোকাবিলার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর পুনর্বিন্যাসের দায়িত্বও আমাদের।
অনতিবিলম্বেই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে আমাদের এক সুসংবদ্ধ আলাপ-আলোচনার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া উচিৎ।
গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সন্ত্রাসবাদ বিরোধী তৎপরতা আরও জোরদার করে তুলতে হবে।
সন্ত্রাসবাদীদের কাছে অস্ত্রশস্ত্রের জোগান যে কোনও উপায়েই বন্ধ করা প্রয়োজন।সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপকে ধ্বংস করতে হবে এবং সন্ত্রাসবাদমূলক যে কোনও অপরাধমূলক কাজকর্মে অর্থ যোগান দেওয়ার প্রবণতাও রোধ করতে হবে।
সাইবার জগৎ’কে সুরক্ষিত করে তুলতে আমাদের উচিৎ একে অপরের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া।সেইসঙ্গে, সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মের উদ্দেশ্যে ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া যাতে ব্যবহার না করা হয়, সেদিকেও আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে ধর্মীয় নেতা, চিন্তাবিদ এবং জনমত গঠনে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে সঙ্ঘবদ্ধ হতে হবে।বিশেষত, তরুণ ও যুবসমাজ যাতে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মে লিপ্ত না হয়, সেই লক্ষ্যে আমাদের এই আন্দোলন পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন।সন্ত্রাস কবলিত দেশগুলিতে এই আন্দোলন গড়ে তোলা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
ধর্ম থেকে সন্ত্রাসবাদকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে।উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে একজোট হতে হবে সকলকেই।
একইসঙ্গে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিম এশিয়া ও আফ্রিকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থার বাতাবরণকে শক্তপোক্ত করে তোলা।
বর্তমানে শরণার্থী সমস্যার যে চিত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি, তার সমাধানেও এই ব্যবস্থা বিশেষভাবে জরুরি।
বিশিষ্ট ভদ্রমণ্ডলী,
আজকের দিনে সারা পৃথিবীর ৬ কোটি মানুষ এখন নিরাশ্রয় এবং নিরাপত্তা ও সুরক্ষাপ্রার্থী।
পশ্চিম এশিয়ায় মানবতার সমস্যার এই ভয়ঙ্কর চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সমগ্র বিশ্বই এখন ওয়াকিবহাল।যে সমস্ত দেশ শরণার্থীদের আশ্রয় দেবে, এই চ্যালেঞ্জের দায় গিয়ে পড়বে তাদের ওপরও।
যে দেশগুলি তাদের সীমান্ত দিয়ে শরণার্থীদের আসার পথ সহজ করে দিয়েছে এবং তাঁদের আশ্রয় দিয়েছে, তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই।
বিশ্বব্যাপী মানবতার এই বৃহত্তম চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় আমাদের প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি এক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। একইসঙ্গে প্রয়োজন এই সমস্যা মোকাবিলায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের এক দৃঢ় ও অনমনীয় পদক্ষেপ।
PG/SKD/SB/S