Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

সরকার প্রধান হিসেবে ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করল মন্ত্রিসভা


নয়াদিল্লি,  ০৬ অক্টোবর  ২০২৬

 

সরকার প্রধান হিসেবে টানা ২৫ বছরের নেতৃত্বের জন্য প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন জানিয়ে আজ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। এটি কেবল প্রথাগত কোনো সম্মাননা নয়, বরং ‘দেশ ও নাগরিককে অগ্রাধিকার’ (Nation First and Citizen First)—এই নীতির মাধ্যমে পরিচালিত প্রধানমন্ত্রী মোদীর এক অসাধারণ যাত্রার উদযাপন। গুজরাটে পরপর তিনটি বিশাল জনাদেশ এবং তিনটি লোকসভা নির্বাচনে প্রাপ্ত সমর্থন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি জনগণের অটুট আস্থারই প্রতিফলন।

নিচে উল্লিখিত দশটি প্রধান বৈশিষ্ট্য গুজরাটের নেতৃত্ব থেকে ভারতের নেতৃত্ব পর্যন্ত তাঁর যাত্রার অবিচ্ছিন্ন ধারাকে তুলে ধরে।

১)গুজরাট থেকে ভারত: উন্নয়নের এক ক্রমবর্ধমান রূপকল্প

এই প্রস্তাবে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদী গুজরাটের সফল উদ্যোগগুলোকে জাতীয় স্তরে নিয়ে গেছেন। ‘স্বাগত’ (SWAGAT)—যার মাধ্যমে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নাগরিকদের অভাব-অভিযোগ শুনতেন—২০১০ সালে জাতিসংঘের ‘পাবলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করে। পরবর্তীতে এটি ‘প্রগতি’ (PRAGATI) কর্মসূচিকে অনুপ্রাণিত করে; এর মাধ্যমে প্রশাসনিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে থমকে থাকা প্রকল্পগুলোর পর্যালোচনা, কাজে প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একইভাবে, ‘জ্যোতিগ্রাম’ (Jyotigram)-এর কৃষি-বিদ্যুতের জন্য পৃথক ফিডার ব্যবস্থা একটি জাতীয় মডেলে পরিণত হয় এবং গুজরাটের সেই পরিকল্পনা রূপায়িত হয় সারা ভারতে।

২)দরিদ্রদের প্রতি নিছক সহানুভূতি নয়, তাঁদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা

নিজের মায়ের দৈনন্দিন সংগ্রামের সাক্ষী হওয়া এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণের সময় সাধারণ মানুষের বঞ্চনা প্রত্যক্ষ করার মধ্য দিয়েই দরিদ্র মানুষের প্রতি এক বিশেষ ধরনের বোধ তৈরি হয় প্রধানমন্ত্রী মোদীর মননে। এই প্রস্তাবটিতে সেই প্রেক্ষিতে গৃহনির্মাণ, পানীয় জল সরবরাহ, ব্যাংকিং পরিষেবা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মতো কর্মসূচিগুলোর উল্লেখ রয়েছে। প্রায় ৬০ কোটি ‘জন-ধন’ অ্যাকাউন্ট খোলা, ৪ কোটিরও বেশি গৃহনির্মাণ এবং ২৫ কোটি মানুষের দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে আসা—এসবই প্রমাণ করে যে কীভাবে ব্যক্তিগত উপলব্ধি জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপে রূপান্তরিত হয়ে সাধারণ মানুষকে মর্যাদার আসন দিয়েছে।

৩)ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন

মানুষকে তাদের ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়তা করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দৃঢ় সংকল্প এই প্রস্তাবের মূল সুর। প্রায় ৩.৫ কোটি মহিলা ‘লাখপতি দিদি হয়ে উঠেছেন। ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-এর মাধ্যমে মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্টার্টআপ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষা সংস্কারের ফলে তরুণদের জন্য সুযোগের পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। ‘পিএম-কিষান’-এর আওতায় ৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ হস্তান্তর করা হয়েছে; অন্যদিকে ‘পিএম-জনমন’ কর্মসূচির মাধ্যমে বিশেষভাবে সংকটাপন্ন জনজাতি গোষ্ঠীর জন্য সুনির্দিষ্ট সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যার ফলে উন্নয়নের সুফল তাদের কাছে পৌঁছেছে-যারা সুদীর্ঘ সময় ধরে পিছিয়ে ছিলেন।

৪)সংস্কারের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার

রাজনৈতিক ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সংস্কার সাধনে প্রধানমন্ত্রী মোদীর আগ্রহ ও সদিচ্ছার ওপর এই প্রস্তাবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জিএসটি প্রবর্তন, জনকল্যাণমূলক পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সংস্কার এবং ঔপনিবেশিক আমলের আইনগুলোর পরিবর্তন—এসবই দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাঁর দৃঢ় সংকল্পের পরিচয় বহন করে। পরিচ্ছন্নতা, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং স্থানীয় পণ্যের ব্যবহারের বিষয়ে তাঁর আহ্বান নাগরিকদের ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে উদ্বুদ্ধ করেছে। তাঁর নেতৃত্বে সংস্কার কার্যক্রম একটি অবিচল অঙ্গীকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা দৃঢ় প্রত্যয়, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং জাতীয় লক্ষ্যের প্রতি অবিচল দৃষ্টির সাক্ষ্য দেয়।

৫)আত্মনির্ভর ভারতের ভিত্তি স্থাপন

প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে মহাসড়ক সম্প্রসারণ ও রেলপথ বিদ্যুতায়নের পাশাপাশি সরকারি মূলধনী ব্যয় ২ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মাত্রায় পৌঁছেছে। বৈদ্যুতিন পণ্য উৎপাদনের মূল্যমান প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৩ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি হয়েছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন—উভয় ক্ষেত্রেই তাঁর দৃঢ় সংকল্প প্রতিফলিত হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো নিজের প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

৬) প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিক সেবা ও জাতীয় আকাঙ্ক্ষার বিস্তৃতি

প্রযুক্তির প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদীর আস্থা দৈনন্দিন পরিষেবা প্রদান থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক ক্ষেত্র—সর্বত্রই ফুটে উঠেছে। জন-ধন যোজনা, আধার এবং মোবাইল সংযোগ ব্যবস্থা জনকল্যাণমূলক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে উন্নত করেছে, অন্যদিকে ইউপিআই আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। ভারতের নিজস্ব কোভিড টিকা তৈরি এবং চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে চন্দ্রযান-৩-এর সফল অবতরণ—এসবই বৈজ্ঞানিকভাবে সক্ষম ও আত্মনির্ভর ভারতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দূরদর্শী চিন্তাধারার প্রমাণ। মহাকাশ গবেষণায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ও জৈব-প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কাজ সেই লক্ষ্যকেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

৭) সংকটময় সময়ে অবিচল নেতৃত্ব

বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার মধ্যেও ভারতকে সঠিক দিশা দেখানোর ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সক্ষমতা এই প্রস্তাবনায় বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কোভিড অতিমারির সময় তিনি সমগ্র দেশকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, দেশীয় টিকা উদ্ভাবনে সহায়তা দিয়েছিলেন এবং দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি নিশ্চিত করেছিলেন। পশ্চিম এশিয়ায় সৃষ্ট সংকটের সময় সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও জ্বালানি নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপ ভারতকে সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলায় সহায়তা করেছিল। তাঁর নেতৃত্বে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের গড়ে তোলা সক্ষমতার সমন্বয় ঘটেছিল, যা কঠিন সময়ে দেশকে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি ও আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।

৮) সুদৃঢ় নেতৃত্ব: শান্তি ও প্রত্যয়ের দিশায়

২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, ২০১৯ সালের বালাকোট বিমান অভিযান এবং ২০২৫ সালের ‘অপারেশন সিঁদুর’—এসব ঘটনা প্রধানমন্ত্রী মোদীর আমলে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নির্ধারিত কঠোর সীমারেখা বা ‘রেড লাইন’-এর বিষয়টি স্পষ্ট করে তোলে। প্রস্তাবনায় এগুলোর পাশাপাশি ৩৭০ ধারা বাতিল, ‘ওয়ান র্যারঙ্ক ওয়ান পেনশন’ নীতি বাস্তবায়ন এবং ‘চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ’-এর পদ সৃষ্টির বিষয়গুলোকেও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। মাওবাদী তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা—এসবই এমন এক নেতৃত্বের পরিচয় দেয় যেখানে জাতীয় সংকল্পের সাথে উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও জন-আস্থার এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে।

৯) বিশ্বমঞ্চে ভারতের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো হয়ে উঠছে

এই প্রস্তাবে ভারতের মর্যাদার অক্ষুন্ন রেখে মতপার্থক্য সত্ত্বেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দক্ষতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। জি-২০ ও ব্রিকস-এ ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা, ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর পক্ষে জোরালো সওয়াল এবং জি-২০-তে আফ্রিকান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্তি তাঁর কূটনৈতিক নেতৃত্বের সাফল্যের প্রতিফলন। ‘ভ্যাকসিন মৈত্রী’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, ভারতের সক্ষমতা কীভাবে অন্যদেরও উপকারে আসতে পারে। ৩৬টি দেশ থেকে প্রাপ্ত সম্মাননা প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতি আন্তর্জাতিক শ্রদ্ধা এবং যৌথ সমাধানের ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও অবদানের বিষয়টিকেই তুলে ধরে।

১০) ঐতিহ্য ও দায়িত্ববোধ থেকে শক্তি সঞ্চয় করে এগিয়ে চলেছে ভারত

প্রধানমন্ত্রী মোদীর দৃষ্টিভঙ্গিতে উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস এবং পরিবেশগত দায়িত্ববোধের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপগুলো গুজরাটের একটি নির্দিষ্ট বিভাগের কার্যক্রম থেকে শুরু করে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির প্রসার এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। যোগব্যায়াম, মিলেট, কাশী বিশ্বনাথ ধাম এবং রাম লালার প্রাণপ্রতিষ্ঠা—এসবই ঐতিহ্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টার যে দৃষ্টিভঙ্গি তিনি তুলে ধরেছেন, তার প্রতি নতুন করে অঙ্গীকার গ্রহণের মাধ্যমেই এই প্রস্তাবটি সমাপ্ত হয়েছে।

হিন্দিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রস্তাবটি দেখতে অনুগ্রহ করে এখানে ক্লিক করুন।

https://static.pib.gov.in/WriteReadData/specificdocs/documents/2026/oct/doc_10106_20261006_15495401.pdf

 

SC/AC/NS….