পিএমইন্ডিয়া
উপস্থিত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিবর্গ,
আজ আমার কর্মশক্তির অনেক প্রশংসা শুনলাম। কিন্তু, গলা বসে গেছে। সকাল থেকে একের পর এক ভাষণ দিয়ে যাচ্ছি। তার প্রভাব তো থাকবেই। আগামীকাল ঠিক হয়ে যাবে। একবার অরুণজি আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন, তখন পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কথা হচ্ছিল। আমি কথায় কথায় তাঁকে কিছু বলেছিলাম। কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম, তিনি আমার সেই কথাগুলিকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে লেগে পড়লেন। অনেক মানুষকে তাঁর সঙ্গে যুক্ত করলেন। এই প্রয়াসের জন্য আমি তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।
যে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিরা আজ পুরস্কার পেয়েছেন তাদেরকে সম্মানিত করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আমার বিশ্বাস, আপনারা যে কাজ করেছেন তা অন্য অনেকের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে। আর এই পরম্পরা চলতে থাকবে। আপনাদের সাফল্য আগামীদিনে আরও অসংখ্য মানুষকে প্রেরণা যোগাবে। আর সেজন্য আপনাদের অভিনন্দন জানাই। আর আশা করি যেখানেই সুযোগ পাবেন, আপনারা নিজেদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলুন, কিভাবে এই অসাধ্যসাধন করেছেন, কিরকম বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন, কিভাবে সেই বাঁধাকে অতিক্রম করেছেন – এই সবকিছু অনেককে প্রেরণা যোগাবে। আজ শিল্পী বন্ধুরা খুব সুন্দর অনুষ্ঠান করেছেন। এভাবেই তারা আপনাদের সম্মান জানিয়েছেন। আপনাদের এই সম্মান আমাদের নবীন প্রজন্মকে এ ধরনের কাজে এগিয়ে আসতে প্রেরণা যোগাবে।
আমি দেখছি এই স্বচ্ছ ভারত অভিযানে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে, সংবাদমাধ্যম, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া নিজেদের মতো করে অভিযান শুরু করেছে। তাঁরা ক্যামেরা তাক করে দেখাচ্ছেন কারা ডাস্টবিনের বাইরে নোংরা ফেলছেন। ক্যামেরায় ধরা পড়ার পর তাঁরা লজ্জিত হচ্ছেন। অন্যরাও বুঝতে পারছেন ডাস্টবিন থাকতেও নোংরা কেন বাইরে ফেলবেন। পরিচ্ছন্নতা আসলে স্বভাবের মধ্যে আনতে হবে। একবার স্বভাব তৈরি হয়ে গেলে আপনি আর নোংরা সহ্য করতে পারবেন না। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের সমাজ ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিয়ে যতটা সচেতন সামাজিক পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ততটাই উদাসীন। বাড়িতে আপনি যদি বাইরে থেকে আসেন, বয়স্করা বলবেন, পা ধুঁয়ে ঘরে ঢোক। জুতো বাইরে রেখে এস ! তাঁরা হয়ত ধার্মিক কারণে এ ধরনের নির্দেশ দেন। এটা আমাদের পরম্পরার মধ্যে রয়েছে। অমুক কাজ করলে হাত ধুতে হবে, তমুকটা করা যাবে না – এসব নির্দেশ সম্পর্কে আপনারা সবাই অবহিত। শহর হোক কিংবা গ্রাম, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে অতি সচেতন আমাদের সমাজ সামাজিক পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উদাসীন। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু পাশাপাশি, সামাজিক পরিচ্ছন্নতাকেও ততটাই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অনেকের মনে হল দেশ তো স্বাধীন হয়েই গেছে। আর কিছু করার দরকার নেই। যা করার সব সরকার করবে। গ্রামে একটা ছোট গর্ত রয়েছে, গ্রামের সমস্ত মাতব্বররা জিপ ভাড়া করে ১০০ কিলোমিটার দূরে জেলা সদর কিংবা রাজ্যের রাজধানীতে গিয়ে দাবি জানাবে যে আমাদের গ্রামে একটি গর্ত রয়েছে। সেটা ভরতে হবে। অথচ, এই জিপ ভাড়ার পয়সা খরচ করে অতি সহজেই ঐ গর্তটা ভরে ফেলা যেত, গ্রামের কিছু গরিব মানুষের রোজগার হত।
স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রবল ইচ্ছাশক্তি নিয়ে আমাদের পূর্বজরা যদি স্বাধীন হওয়ার পর দেশ গড়ার কাজে লেগে পড়তেন তাহলে আজ আমরা কোথায় পৌঁছে যেতাম। ১৯৬০ সালের মধ্যেই এই দেশ একটি সমৃদ্ধ দেশ হয়ে উঠত। কিন্তু উল্টোটা হয়েছে। এটা আমার কাজ নয়, অমুকের কাজ। এভাবে ভাবলে কোন কাজ হয়না। স্বচ্ছ ভারত অভিযানের ক্ষেত্রেও আমরা যদি ভাবি এটা নিছকই সরকারি কর্মসূচি তাহলে এটাও কোনদিন সফল হবে না। মোদীর এই কর্মসূচি সেদিন মুখ থুবড়ে পড়বে।
এটা যদি রাজনৈতিক দলগুলির কর্মসূচি হয়, সরকারের কর্মসূচি হয়, তাহলে এতে হিতে বিপরীত হবে। এটা আমাদের সবার কর্মসূচি হওয়া উচিত। যেখানে সেখানে নোংরা ফেলার অধিকার প্রধানমন্ত্রীরও নেই। কোন নাগরিকেরই এই অধিকার নেই। এই পরিবেশ আমরা যতদিন না বানাতে পারব, ততদিন এই পরিস্থিতি বদলাবে না। যেদিন আমি লালকেল্লার প্রাকার থেকে দেশবাসীর কাছে এই অভিযানের আহ্বান জানিয়েছিলাম, আমি আগে ভেবে তা কোন কাগজে লিখে আনিনি। বলতে বলতে এই অভিযানের কথা মাথায় এসেছিল, আর বলে দিয়েছিলাম। এটাই আমার স্বভাব। কিন্তু তখনই বুঝেছিলাম আমি একটা বড় ঝুঁকি নিয়ে নিয়েছি। এবার আমার চুল ছিঁড়ে ফেলা হবে। ভাষণ দিতে দিতেই আমি এই ঝুঁকির কথা ভেবেছি। তখন গান্ধীজির কথা ভেবে নিজের মনে প্রেরণা যোগাই। আগামী ২০১৯-এ মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশত জন্মজয়ন্তী হবে। এতদিন পরেও কি আমরা তাঁর একটি ইচ্ছাকে পূরণ করতে পারবো না ? গান্ধী আমাদের কী দেননি ? তাঁর ইচ্ছাপূরণের চেষ্টা কি আমরা করতে পারি না ? এই প্রেরণা নিয়েই স্বচ্ছ ভারত আন্দোলন শুরু হয়েছে। আর আমি কল্পনাও করিনি যে এত বিপুল সংখ্যক দেশবাসী এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়বেন। আমার বক্তব্যের মধ্যে কোন ভুল থাকলে আমাকে ক্ষমা করবেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দেশের সংসদে কখনও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়নি। কিন্তু গত এক বছর ধরে সংসদের প্রতিটি অধিবেশনে পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের সমালোচনা করা হয়েছে। কেউ কল্পনাও করতে পারবেন না, এই সংবাদমাধ্যম সাধারণত বিজ্ঞাপন না পেলে, ব্যবসা না হলে কোন কিছু প্রচার করে না। কিন্তু আমি কখনও ভাবতেই পারিনি যে তারা প্রায় সকলেই নিঃস্বার্থভাবে এই আন্দোলনে যুক্ত হয়ে পড়বেন। এত সাংবাদিক, এত বড় বড় শিল্পীরা এই অভিযানে যুক্ত হয়ে পরিচ্ছন্নতাকে তাদের জীবনের মূলমন্ত্র করে তুলেছেন, এমনটি স্বাধীন ভারতে এর আগে কখনও হয়নি। এই আন্দোলনের এটা একটা বড় সাফল্য। যাদের সঙ্গেই দেখা হয় তাঁরা বলেন, মোদীজি আপনার জন্য বেঁচে থাকা মুশকিল হয়ে পড়েছে। আমি জিজ্ঞাসা করি কেন, কি হল ? তিনি বলেন, আমি পান মশলা খাই, কিন্তু আমার নাতি আমাকে থুতু ফেলতে দেয় না। বাড়ির মধ্যে সবাই মোদী মোদী করতে থাকে। আমি বলি, এমনটি নয় যে মোদীই প্রথম পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কথা বলা শুরু করেছে। অনেক গান্ধীবাদী মানুষ এ কাজ করতে গিয়ে তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁরা জানতেন এর মাধ্যমে কতটা লাভ হবে।
আপনারা দেখেছেন, আমাদের দেশে গভীর কূপ খনন করতে গিয়ে একটা বাচ্চা সেই গর্তে পড়ে গেলে খবর পেয়ে সকল টিভি চ্যানেলের ক্যামেরাম্যানরা সেখানে পৌঁছে যান। তারপর লাইভ টেলিকাস্ট শুরু হয়, এখন সে শ্বাস নিচ্ছে, এখন তার চোখ নড়ছে, কিছুক্ষণ পর সেনাবাহিনীর লোকেরা পৌঁছে যাবেন, নেতারা এসেছেন, কিন্তু সাধারণ মানুষ নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ, ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রায় ২৪ ঘন্টা ধরে বা যতক্ষণ পর্যন্ত বাচ্চাটি উদ্ধার হয়নি লাগাতার এই ধারাবিবরণী চলেছিল। অনেক পরিবারে মায়েরা তখন টিভির সামনে থেকে সরেননি। অনেক বাড়িতে সেদিন রান্না হয়নি। বাচ্চাটাকে জীবন্ত উদ্ধার করা যাবে কিনা তা নিয়ে গোটা দেশ চিন্তান্বিত ছিল। কিন্তু, আমাদের দেশে নোংরা পরিবেশে থাকার ফলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার শিশু মারা যায়। এই ১ হাজার শিশুর জন্য কারোর মনে কোন হেলদোল নেই। এখন বলুন, এই পরিস্থিতি আমরা কতদিন চলতে দেব ? প্রতিটি দরিদ্র পরিবারে অপরিচ্ছন্নতার ফলে যেসব রোগ হয় সেগুলির চিকিৎসায় গড়ে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়। যদি একটি পরিবারের ৭ হাজার টাকা বাঁচানো যায় তাহলে প্রতি মাসে গড়ে ৫০০ টাকা বাঁচানো সম্ভব।
এইসব কিছু ভাবলে বোঝা যায় যে আমাদের পরিবেশ নোংরা করার কোন অধিকার নেই। এই দায়িত্ব কেবল সরকারের নয়, পৌর সংস্থার নয়, এই দায়িত্ব আমাদের সকলের। কেউ যদি এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হতে চান তাহলে স্বাগত। অন্যথা, এই আন্দোলনকে হাস্যাস্পদ করে তুলবেন না। আমার মনে আছে, কাশীর প্রভূ ঘাটের কথা। সেখানে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নাগাল্যান্ডের একটি মেয়ে একাই ঘাট পরিষ্কার করা শুরু করেছিল। রোজ মানুষ নোংরা ফেলত আর ঐ মেয়েটি একা একা পরিষ্কার করত। ধীরে ধীরে তার সঙ্গে নবীন প্রজন্মের আরও অনেক ছাত্রছাত্রী জুড়ে যায়। অধিকাংশই বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী। তারা রোজ পরিষ্কার করত, আর কিছু লোক এসে কাক ভোরেই নোংরা ফেলে যেত। সেই নোংরা দেখে মেয়েটি কেঁদে ফেলত। কিন্তু তারপরই সে ও তার বন্ধুরা আবার পরিষ্কার করার কাজে লেগে পড়ত। এই নবীন প্রজন্মের ছেলেমেয়েগুলি আমার জন্য প্রেরণার উৎস। তারাই পরিবর্তন আনছে। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর একটি স্কুলের ছেলেমেয়েরা একটি খুব কার্যকরী অ্যাপস বানিয়েছে। তাদের সেই অ্যাপসটি আমেরিকায় একটি প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেয়েছে। ঐ অ্যাপসটি যারা প্রতিদিন আপনার নোংরা-আবর্জনা সংগ্রহের জন্য আসবেন, তাদের জন্য এবং যারা আবর্জনা ফেলতে যাবেন তাদের জন্যও অত্যন্ত উপযোগী। ইতিমধ্যেই ঐ অ্যাপসটির একটি বাজার গড়ে উঠেছে। অথচ যারা ঐ অ্যাপসটি বানিয়েছে তারা প্রত্যেকেই অষ্টম কিংবা নবম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রী। সম্প্রতি তারা আমেরিকা থেকে পুরস্কার নিয়ে ফিরেছে।
তার মানে, ইতিমধ্যেই অনেক ধরনের মানুষ এই অভিযানে সামিল হয়েছেন। গতকাল আমাকে আমাদের ভেঙ্কাইয়াজি বলছিলেন, আমেদাবাদের বাসিন্দা একজন ১০২ বছর বয়সী বৃদ্ধা রোজ সকালে তার এলাকার পথে বেড়িয়ে পড়েন। সবাই যাতে ডাস্টবিনে নোংরা-আবর্জনা ফেলেন তার তদারকি করার দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। ১০২ বছর বয়সী বৃদ্ধা এ ধরনের কাজ করছেন। কেমন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে দেখুন। বিয়ের কণেরা বলছে, ঐ বাড়িতে শৌচাগার নেই, আমি ঐ বাড়ির বউ হব না। এক মা নিজের ছাগল বিক্রি করে শৌচাগার নির্মাণ করেছেন। পরিবর্তন আসছে। এখন স্বচ্ছ ভারত অভিযান একটি আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়েছে। আজও আমাদের দেশে ৬০ কোটি মানুষ খোলা মাঠে প্রাতঃকৃত্য সারতে যান। এটা বিশ্বব্যাঙ্কের সমীক্ষার ফল। সকল রোগের উৎস ঐ খোলা মাঠ।
শৌচালয় নির্মাণের অভিযান যখন শুরু করেছি, তখন সরকারি বাজেটে এটা ছিল না। পরবর্তী সময়ে আমি ক্যাপাসিটি বিল্ডিং-এর কাজ করেছি। প্রায় ২০০ জন জেলাপ্রশাসক এই বিষয়ে প্রশিক্ষিত হয়েছেন। গোটা দেশে ৬০০-র বেশি জেলা রয়েছে। আমি চাই, বাকিরাও এসে প্রশিক্ষণ নিন। কারণ, নিজেদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। আমরা অনেক চেষ্টা করে এ বছর দেশের গ্রামাঞ্চলে ৬০ লক্ষ শৌচাগার নির্মাণের সঙ্কল্প নিয়েছি। আমি গতকাল খবর নিচ্ছিলাম কতটা কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। গতকাল গান্ধীজির জন্মদিনে আমাকে বলা হয়েছে যে ইতিমধ্যেই ৯৫ লক্ষ শৌচাগার নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যালয়গুলিতে ৪ লক্ষ ১৫ হাজার শৌচাগার নির্মিত হয়েছে। রেলওয়ে প্রায় ৫,৭০০ সাধারণ শৌচাগারকে বায়ো-টয়লেটে রূপান্তরিত করেছে। কেননা, এক একটা ট্রেন রেলপথকে অনেকটা নোংরা করে রেখে যেত।
এই সমস্ত কিছু শুরু হওয়ার পরও অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারেন। সরকারকে জবাব দিতেই হবে। সরকার জবাব না দিয়ে পালাতে পারবে না। কিন্তু আমি চারটি দেশের কথা উল্লেখ করতে চাই – সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং দক্ষিণ কোরিয়া। এগুলি প্রত্যেকটাই ছোট ছোট দেশ। আমাদের এক একটি রাজ্য থেকেও ছোট। সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী ১৯৫৯ সালে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছিলেন। তখন তো সিঙ্গাপুর একটা জেলেদের গ্রামের মতো ছিল। ১৯৬৮ পর্যন্ত তিনি তেমন সাফল্য পাননি। তবুও, সে দেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউ হাল ছাড়েননি। ১৯৬৮-র পর তিনি যে সাফল্য পান তার পরিণাম আজকের সিঙ্গাপুর। তেমনই, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি ১৯৬০ সালে তাঁদের দেশের পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সে দেশের আইনের সমর্থন ছিল। সাধারণ মানুষও তাঁর সমর্থনে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এভাবেই লাগাতার উন্নয়নের মাধ্যমে মালয়েশিয়া একটি পরিচ্ছন্ন দেশ হয়ে ওঠে। দক্ষিণ কোরিয়াতেও তাদের রাষ্ট্রপতি সাধারণ মানুষের সমর্থনে দ্রুত সাফল্য লাভ করেন। ১৯৬০ সালেই থাইল্যান্ডের রাজা নিজে ঝাড়ু হাতে নিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেতৃত্ব দেন। কিন্তু ঐ সবক’টি দেশকেই আজকের অবস্থায় পৌঁছতে লাগাতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়েছে।
আমাদের দেশ এত বড়। আমাদের অভ্যাস কেমন তা আমরা সবাই জানি। প্রতিদিন সাফাই কর্মীদের কেমন ধরনের প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয় তাও আমরা জানি। কিন্তু, গান্ধীজি আমাদের সকলের প্রেরণা স্রোত। তাঁর কথা ভেবে ১২৫ কোটি মানুষ যদি ঠিক করে যে আমরা এগিয়ে যাব, তাহলে আমরাও অবশ্যই সাফল্য পাব। দলমত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষ সচেতন হন, দেখবেন কত দ্রুত পরিবর্তন আসতে শুরু করবে। আজ প্রতিটি গ্রামে এত অর্থ বরাদ্দ হচ্ছে যে আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না। গ্রাম প্রশাসন চাইলে এ কাজ নিজেরাই সামলাতে পারেন। কিন্তু শহর বলুন, কিংবা গ্রাম, আমাদের সবচাইতে বড় সমস্যা হল আমাদের অভ্যাস। আমাদের স্বভাব বদলাতে হবে। পরিবেশটাকে বদলাতে হবে। ইতিমধ্যেই অনেক পরিবর্তন এসেছে। আমি দেখেছি গাড়ি নিয়ে কেউ যাচ্ছে, কাঁচ নামিয়ে খালি বোতল ছুঁড়ে ফেলেছে, অন্যরা ছুটে গিয়ে সেই গাড়িকে থামিয়ে গাড়ির মালিককে দিয়ে বোতল উঠিয়ে ডাস্টবিনে ফেলতে বাধ্য করেছে। এ ধরনের দৃশ্য দেখলে আমি মনে জোর পাই। নবীন প্রজন্ম আমাকে প্রতিনিয়ত প্রেরণা যোগাচ্ছে। তারা এই বিষয়টিকে জীবনের ব্রত করে নিয়েছে। এমনি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পরিবর্তন সুনিশ্চিত।
ইতিমধ্যেই ‘বর্জ্য থেকে সম্পদ’ একটি অর্থকরী পেশা হয়ে উঠেছে। অনেক কম মানুষই হয়ত ভেবেছেন যে এটিও একটি লাভজনক ব্যবসা হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু আজ এটি সবচাইতে বড় সম্ভাবনাপূর্ণ ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। আজ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ভিন্ন ধরনের মানুষজনও যুক্ত হচ্ছেন। প্রযুক্তির আমদানি হচ্ছে। ‘বর্জ্য থেকে সম্পদ’ ব্যবসা পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সম্প্রতি একটি মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তাদেরকে আমি একটা পরামর্শ দিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম, মন্দিরের আবর্জনা থেকে ধূপকাঠি বানানোর চেষ্টা করুন। তারা আমার পরামর্শ শুনে কাজ শুরু করে সাফল্য পায়। এখন তারা নিজেদের স্বার্থেই যত বেশি সম্ভব মন্দির পরিষ্কার করেন, আর ধূপকাঠি বানিয়ে সেই মন্দিরগুলির সামনেই বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করে। সম্প্রতি আমি অনেককেই বলেছি, ছোট ছোট শহরগুলিতে ২-৩ কিলোমিটার দূরত্বে একটি করে ছোট গর্ত খুড়ুন। তাতে কেঁচো ছেড়ে দিন। তারপর সেই গর্তে ঐ অঞ্চলের আবর্জনা ফেলতে থাকুন। ছোট ছোট কেঁচোরা এতবড় সাফাই কর্মচারী হয় যে তারা দ্রুত আবর্জনাকে সারে পরিণত করে দেয়। সেই জৈব সার আপনাদের বাড়ির সব্জি ক্ষেতে বা ফুল চাষে অত্যন্ত উপযোগী হয়ে উঠবে। এই ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা সুলভে অনেক সাফল্য পেতে পারি।
পুনর্নবীকরণ কোন পাশ্চাত্য ধারণা নয়। এটা ভারতের মূল স্বভাবের অন্তর্গত। কোন কালেই কোন কিছু ফেলে দেওয়া আমাদের সংস্কৃতির অঙ্গ ছিল না। পুনর্নবীকরণ এবং পুনর্ব্যবহার যুগ যুগ ধরে ভারতীয় সংস্কৃতিতে রয়েছে। আমাদের দেশে জামাকাপড় পুরনো হয়ে গেলে আমরা সেগুলি ছিঁড়ে বাচ্চাদের কাঁথা বানাই। তারপর, আরও ছিঁড়ে গেলে সেগুলি জড়ো করে গদি বানাই। তারপরও ছিঁড়ে গেলে সেগুলি টুকরো টুকরো করে ঘর মোছার কাজে লাগাই। অর্থাৎ, যতটা সম্ভব প্রত্যেকটি জিনিসকে আমরা ব্যবহার করবার চেষ্টা করি। ছুঁড়ে ফেলার সংস্কৃতি কোনদিনই আমাদের দেশে ছিল না। আমাদের প্রত্যেকের বাড়িতেই একটি গুদামঘর থাকে। যা কিছু পুরনো এবং ব্যবহারের অযোগ্য সব ঐ গুদামঘরেই জমা হয়। দিদিমা-ঠাকুমারা বলেন, ফেলিস না, রেখে দে, কাজে লাগবে। দীপাবলীর সময় বাড়ি-ঘর পরিষ্কার করা হলে তখনও দিদিমা-ঠাকুমাদের সতর্ক দৃষ্টি থাকে। যেসব জিনিস বা আসবাবপত্র বের করে দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে কোনটা যদি কোনভাবে সারাই করে ব্যবহার করা যায় তাহলে তারা সেগুলিকে ফেলতে দেন না। সেজন্যই বলছি, সামান্য স্বভাব বদলালেই পরিচ্ছন্নতা অভিযান সফল হবেই। এটা কোন উপদেশের বিষয় নয়। আমরা সবাই এগুলি অনুভব করি। আমরা চাইলে সাফল্য আসবেই।
আমার মনে হয়, আর বেশিক্ষণ আপনাদের ক্ষুধার্থ রাখা উচিত নয়। ইতিমধ্যেই আপনাদের খাওয়ার সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। সেজন্য আপনাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে বক্তব্য সম্পূর্ণ করছি। আমি আরেকবার এই প্রয়াসের জন্য আপনাদের অভিনন্দন জানাই। আর দেশবাসীর কাছে প্রার্থনা করি যে এ দেশকে নোংরা করার অধিকার আমাদের নেই। অনেকে তো জোরে চেঁচিয়ে ‘ভারত মাতার জয়’ বলে তারপর সেখানেই থুতু ফেলেন। তাহলে ভারত মায়ের জয় আর কোথায় হল। এই অসামঞ্জস থেকে আমাদের দেশকে বের করে আনতে হবে।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
Shall join #Safaigiri Awards. Will spend time with those who made inspiring efforts for a Swachh Bharat. #MyCleanIndia @IndiaToday
— Narendra Modi (@narendramodi) October 2, 2015
Once @aroonpurie & me were talking & we spoke about cleanliness. Whatever suggestions I gave were implemented in letter & spirit: PM
— PMO India (@PMOIndia) October 2, 2015
Congratulate all award winners. Their work will inspire so many: PM at #Safaigiri @IndiaToday http://t.co/Iy8hu3Nre5 #MyCleanIndia
— PMO India (@PMOIndia) October 2, 2015
SwachhBharat is one programme where many people have helped particularly media & that too electronic media: PM at #Safaigiri @IndiaToday
— PMO India (@PMOIndia) October 2, 2015
Swachhatais a matter of Swabhav. Once its a part of your nature you will never make your surroundings dirty: PM at #Safaigiri @IndiaToday
— PMO India (@PMOIndia) October 2, 2015
We gave importance to personal hygiene but when it came to social hygiene we did not give the same importance: PM @narendramodi #Safaigiri
— PMO India (@PMOIndia) October 2, 2015
If you feel SwachhBharat Abhiyaanis a government programme it wont succeed. This has to be our programme: PM at #Safaigiri @IndiaToday
— PMO India (@PMOIndia) October 2, 2015
Who can be a bigger inspiration than Mahatma Gandhi: PM @narendramodi at #Safaigiri http://t.co/Iy8hu3Nre5 @IndiaToday #MyCleanIndia
— PMO India (@PMOIndia) October 2, 2015
Now cleanliness is being discussed in Parliament. We have even been cornered on it but the fact is discussions are happening: PM #Safaigiri
— PMO India (@PMOIndia) October 2, 2015
We do not have the right to make our nation dirty: PM @narendramodi at #Safaigiri @IndiaToday
— PMO India (@PMOIndia) October 2, 2015
#Safaigiri Awards function was an enjoyable programme with a serious message & unequivocal support to Swachh Bharat Abhiyaan. #MyCleanIndia
— Narendra Modi (@narendramodi) October 2, 2015
I congratulate @aroonpurie, @IndiaToday for their passion & support towards SwachhBharat Mission. #MyCleanIndia
— NarendraModi(@narendramodi) October 2, 2015
Spoke on social hygiene, making cleanliness a habit & positive role of media on issue of cleanliness. #MyCleanIndia http://t.co/CLoKdtZnRo
— NarendraModi(@narendramodi) October 2, 2015
What amazes me is the way people from all walks of life have made SwachhBharat Abhiyaantheir own & are contributing towards #MyCleanIndia.
— NarendraModi(@narendramodi) October 2, 2015