Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

সিঙ্গাপুরে প্রবাসী ভারতীয়দের আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

সিঙ্গাপুরে প্রবাসী ভারতীয়দের আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

সিঙ্গাপুরে প্রবাসী ভারতীয়দের আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

সিঙ্গাপুরে প্রবাসী ভারতীয়দের আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

সিঙ্গাপুরে প্রবাসী ভারতীয়দের আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

সিঙ্গাপুরে প্রবাসী ভারতীয়দের আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

সিঙ্গাপুরে প্রবাসী ভারতীয়দের আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

সিঙ্গাপুরে প্রবাসী ভারতীয়দের আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

সিঙ্গাপুরে প্রবাসী ভারতীয়দের আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

সিঙ্গাপুরে প্রবাসী ভারতীয়দের আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

সিঙ্গাপুরে প্রবাসী ভারতীয়দের আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


নমস্কার, ওনক্কম, দীপাবলীর পরব সবে সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু আমি শুনলাম এই লিটল ইন্ডিয়া এ বছর অতিরিক্ত এক সপ্তাহ দীপাবলীর আলোকমালায় সজ্জিত ছিল। সেজন্য আমি সকল সিঙ্গাপুরবাসীকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি আগেও সিঙ্গাপুরে এসেছি। আগেও এখানকার ভারতীয়দের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ আমার হয়েছে। কিন্তু আজকের এই সিঙ্গাপুরের পরিবেশ সিঙ্গাপুরবাসীর এই মুড কেউ ভারতে বসে ভারতেও পাবেন না। আমি আপনাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আজ গোটা বিশ্বে ভারতের প্রতি যে সম্ভ্রম যে আস্থা জন্মেছে তার পেছনে মোদীর কোনও কৃতিত্ব নেই। এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব আপনাদের যে ভাই ও বোনেরা দেশে গিয়েছেন অনুকূল কিংবা প্রতিকূল পরিবেশে গিয়ে পরিচিত-পরিচিত নির্বিশেষে সকলকে নিজের করে নিয়েছেন। সেই দেশকেই আপন করে নিয়েছেন। দুধের মধ্যে চিনি যেমন গুলে যায় তেমনভাবে সেখানকার মানুষের সঙ্গে মিশে গেছেন।

আমরা পারসীদের ভারত আগমনের কথা ইতিহাসে পড়েছি। তখন গুজরাটে হিন্দু রাজা ছিলেন জদীরানা। পারসীরা আশ্রয় প্রার্থনা করে সমুদ্র থেকে আবেদনপত্র পাঠালে রাজা তাদের জন্য এক গ্লাস দুধ পাঠিয়ে প্রতীকী বার্তা পাঠান যে এদেশে অনেক মানুষ, ঠাঁই নেই! কিন্তু পারসীরা কী করলেন, তাঁরা সেই গ্লাসের দুধে চিনি মিশিয়ে সেই দুধভরা গ্লাস ফেরৎ পাঠিয়ে বার্তা পাঠান, আমরা বিদেশি এবং সঙ্কটগ্রস্থ। আর এই গ্লাসের দুধে চিনি যেমন অবলীলায় মিশে গেছে, আমরাও তেমনই স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে মিশে যাব এবং চিনির মতোই জনজীবনের মিষ্টত্ব বাড়িয়ে তুলবো। ভারতীয়রাও তেমনই বিশ্বের যে দেশেই গেছে, সেদেশের মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে নিজেদের ব্যবহারের মাধুর্য দিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে সম্পর্ককে মধুর করে তোলে। বিশের অনেক দেশেই শুনেছি কোনও নতুন প্রতিবেশী যদি ভারতীয় হইয় তা হলে সবাই আনন্দিত হয়। তাঁরা নিজেদের ছেলেমেয়েদের ভারতীয় শিশুদের সঙ্গে মেশার জন্য উৎসাহ দেন।

শতাব্দী শতাপীকাল ধরেই ভারতীয়রা যে দেশে গেছেন, তাদের ব্যবহারের জন্য লোকপ্রিয় হয়েছেন, সবাইকে বুকে জড়িয়ে ধরেছেন, আত্মীয়তার সৌরভ ছড়িয়েছেন, সেজন্য ভারত যখন ‘সোনার পাখি’ ছিল তখনও কারও ‘চোখেরবালি’ ছিল না। আর দুর্দিনেও কেউ আমাদের অপমানিত করেনি। কারণ, শতাব্দী শতাপীকালের ভালবাসার সম্পর্ক, আত্মীয়তার সম্পর্ক। বৈদিক যুগ থেকেই আমরা ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এ বিশ্বাস করি। গোটা বিশ্বকে আত্মীয় ভাবার এই উপনিষদের উদ্‌ঘোষ তখন থেকেই আমাদের জীবনের মূলমন্ত্র।

আজ বিশ্ববাসীর মনে ভারতীদের নিয়ে কোনও আশঙ্কার সৃষ্টি হয় না। আর সেজন্যেই, বিশ্ববাসীর মনে এই আস্থার পরিবেশ সঞ্জীবিত রাখার জন্য আমি নানা দেশে বসবাসকারী ভারতীয় ভাই, বোনদের সাদর অভিনন্দন জানাই।

আমি গত মার্চ মাসে একদিনের জন্য সিঙ্গাপুর এসেছিলাম। যে মহাপুরুষ এই সিঙ্গাপুর গড়ে তুলেছেন, একটি সামান্য ধীবর গ্রামকে আজ বিশ্বের সমৃদ্ধতম দেশগুলির সমকক্ষ করে গড়ে তুলেছেন, সেই মহান কর্মবীর লি কুয়ান ইউ’র অন্তিমসংস্কারে অংশগ্রহণ করতে, তাঁকে শেষবারের মতো দু’চোখ মেলে দেখতে এসেছিলাম। সিঙ্গাপুরের কথা ভাবলেই মনে একটা আস্থা জন্মায়।

কেউ যদি মন-প্রাণ থেকে কোনও কিছু করতে চেয়ে সে কাজে লেগে পড়েন, তা হলে তা অবশ্যই সম্পন্ন হয়। স্বপ্ন সাকার করার জন্য সমর্পণ চাই, তবেই সিদ্ধি আপনার চরণ চুম্বন করতে প্রস্তুত থাকবে। প্রসিদ্ধি আর সিদ্ধির মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। যা কিছু একটা করে প্রসিদ্ধি লাভ করা যায়, কিন্তু সিদ্ধিলাভের জন্য চাই তপস্যা। সেজন্য যাঁরা প্রসিদ্ধির জন্য কাজ করেছেন, তাঁদের সিদ্ধিলাভ হয়ে ওঠেনি। কিছুদিন অবশ্যই সংবাদ শিরোনামে থাকা যায়, কিন্তু বিশ্বে পরিবর্তন আনা যায় না। আর তপস্যা মাত্র ৫০ বছর কার্যকালে একটি প্রজন্মের চোখের সামনে সিঙ্গাপুর’কে কোথা থেকে কোথায় পৌঁছে দিয়েছে। ভারত মহান দেশ, বিশাল দেশ, ১২৫ কোটি মানুষের বাসস্থান। এত কিছু থাকা সত্ত্বেও সিঙ্গাপুর থেকে আমরা অনেক কিছুই শিখতে পারি।

আজ থেকে ৫০-৬০ বছর আগে যে মহাপুরুষ সিঙ্গাপুরের পরিচ্ছন্নতার কথা ভেবেছেন, এতদিন পর হলেও ভারত সেই বাণী অনুসরণ করতে পারে। এতে নাগরিকদের সক্রিয় ভূমিকা চাই। মহাত্মা গান্ধী সারা জীবন এই পরিচ্ছন্নতার কথা বলে গেছেন, তিনি এই কথাও বলেছেন যে, আমাকে যদি স্বাধীনতা ও পরিচ্ছন্নতা মধ্যে কোনোটাকে আগে বেছে নিতে হয়, তা হলে আমি পরিচ্ছন্নতাকেই অগ্রাধিকার দেব।
আজ ভারতবাসী জেগে উঠেছে। দীর্ঘকাল আমরা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বাস করেছি। এখন পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদেরকেও বদলাতে হবে। আশার কথা এই যে, ১২৫ কোটি ভারতবাসী এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে। কোনও দেশ কেবলই সরকার চালাতে পারে না, দেশ চলে সাধারণ মানুষের ইচ্ছা দিয়ে, তাঁদের সংকল্প, পৌরুষ, প্রত্যেক নাগরিকের ত্যাগ এবং তপস্যার ভিত্তিতেই রাষ্ট্র নির্মিত হয়। আজ ভারত সেই রাষ্ট্র নির্মাণের পথে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে। এতদিন আমরা যে পরিবেশে নিজেদের পেয়েছি, সেখানে কেউ কোনও কিছু ছাড়তে চাইতেন না। কিন্তু এখন আমরা দেশের স্বার্থে নিজের সামান্য সুবিধা ত্যাগ করতে প্রস্তুত।

উদাহরণ-স্বরূপ, আমি দেশবাসীর কাছে একটি ছোট্ট প্রস্তাব রেখেছিলাম, গ্যাস সিলিন্ডারে ভর্তুকি ছাড়ার আবেদন রেখেছিলাম, যাঁরা সম্পন্ন মানুষ, তাঁরা এই ভর্তুকি না নিলে আমরা অনেক দরিদ্র পরিবারকে ভর্তুকিযুক্ত গ্যাস সিলিন্ডার পৌঁছে দিতে পারবো। এই সামান্য মৌখিক আবেদনে সাড়া দিয়ে আমার দেশের ৪০ লক্ষ সম্পন্ন পরিবার গ্যাস ভর্তুকি ছেড়ে দিয়েছেন। এর আগে আমরা দেখেছি, মহাত্মা গান্ধী কিংবা লালবাহাদুর শাস্ত্রীর কথায় দেশবাসী অনেক কিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। কিন্তু, আজ আমার মতো একজন সামান্য মানুষ যে চা বিক্রেতা থেকে আপানাদের আশীর্বাদে প্রধানমন্ত্রী হয়েছে, তার আবেদনে যে দেশের মানুষ এরকম সাড়া দিতে পারে, আমি নিশ্চিত এই দেশ অচিরেই স্বামী বিবেকানন্দের স্বপ্নের দেশ হয়ে উঠবে। ভারতে যত বৈচিত্র্য রয়েছে, সিঙ্গাপুর আয়তনে ছোট দেশ হলেও তার থেকে কম বৈচিত্র্য এদেশে নেই। কিন্তু, এদেশে প্রত্যেকেই নিজেকে সবকিছুর উর্ধ্বে সিঙ্গাপুরবাসী ভাবেন। সিঙ্গাপুরের আধুনিকীকরণে প্রত্যেক নাগরিক কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এই সংকল্পের রূপায়ণ, এই কর্মযজ্ঞ আমরা সিঙ্গাপুর থেকে শিখতে চাই। যে দেশ থেকে ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর মন্ত্র গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে, সেই দেশের মানুষ আপনাদের একনিষ্ঠতার শিক্ষা নিতে চায়। আজ গোটা বিশ্ব ভারতের দিকে তাকিয়ে আছে। আমি যখন নির্বাচনী প্রচার করছিলাম, তখন সাংবাদিকরা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, আপনার বিদেশ নীতি কী হবে? আমি জানি তাঁরা অত্যন্ত বুদ্ধিমান। তাঁরা জানেন, আমার দুর্বলতা কী? গুজরাটের মতো একটা ছোট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, এত বড় দেশ ভারতের নেতৃত্ব দেবার কোনও অভিজ্ঞতা আমার ছিল না, বিদেশ নীতি সম্পর্কেও আমার তেমন জ্ঞান ছিল না; সেজন্য তাঁরা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে এই প্রশ্নটাই করতেন। আর আমি উত্তর দিতাম যে, বিশ্ব নেতৃত্বের সঙ্গে মাথা নীচু করে কথা বলবো না, তাঁদের চোখে চোখ রেখে কথা বলবো। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ১৮ মাস কেটে গেছে, আমি আমার কথা রেখেছি। ফলস্বরূপ, আজ শুধু আমি নয়, গোটা বিশ্বে কোনও ভারতবাসী এখন মাথা নীচু করে কথা বলেন না। ১২৫ কোটি মানুষের দেশ, তার শক্তি কতটা হতে পারে, তা আজ বিশ্ববাসী অনুভব করছেন। আজ এই দেশকে বিশ্ববাসী কেবল একটি বড় বাজার হিসেবে ভাবছেন না, তাঁরা আজ আমাদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের স্বপ্ন দেখে। প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই এই পরিবর্তন আমরা অনুভব করছি।

প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারত এখন একটি নিরাপদ গন্তব্য। এখন আমার সামনে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই এই পরিবর্তন চেয়েছিলেন। আপনারা চেয়েছিলেন আধুনিক ভারত, যেখানে দারিদ্র্য থাকবে না, প্রত্যেক নবযুবকের কর্মসংস্থান হবে, এই স্বপ্নগুলিকে সাকার করতে আমাদের আরও শক্তি অর্জন করতে হবে। পরিবারে কেউ অসুস্থ হলে প্রয়োজনে বিদেশ থেকেও ঔষধ আনতে হবে।

ভারতের উন্নয়নে বিপুল পরিমাণে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ চাই। আর, ‘এফ ডি আই’ বলতে আমি কেবলই ‘ফরেন ডায়রেক্ট ইনভেস্টমেন্ট’ বুঝি না। আমি বুঝি, ‘ফাস্ট ডেভেলপ ইন্ডিয়া’। আমি মনে করি, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে লজ্জার কিছু নেই। টাকার দরকার পড়লে আমরা প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ঋণ নিই কি না? একেই তো আস্থার সম্পর্ক বলে। আমরা ঠিক এটাই করেছি। সেজন্য আমরা সরকারে আসার পর থেকে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে আমাদের এই অর্থের প্রয়োজন ছিল।

আপনারা সকলেই জানেন, আমাদের দেশের ‘রেলওয়ে নেটওয়ার্ক’ কত বড়। বিশ্বের অনেক দেশের মোট জনসংখ্যার থেকে বেশি মানুষ প্রত্যেক মুহূর্তে ভারতে রেলের কামরায় যাতায়াত করেন। কিন্তু, এই রেলযাত্রা আরও নিরাপদ ও আধুনিক করে গড়ে তোলার প্রয়োজনরয়েছে। গতি আরও বাড়াতে হবে। রেলপথও আরও প্রত্যন্ত স্থানে পৌঁছে দিতে হবে। সেজন্য বিদেশ থেকে উন্নত প্রযুক্তি আমদানি করতে হবে। বিশ্বের যেসব দেশে উন্নত ‘রেলওয়ে নেটওয়ার্ক’ রয়েছে, তাদেরকে আমরা আমাদের দেশে ‘রেলওয়ে নেটওয়ার্ক’ আধুনিকীকরণের আহ্বান জানিয়েছি, বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছি। আমার জন্য রেলপথ পরিবর্তনের অগ্রদূত। সেজন্য আমরা সবার আগে রেলে ১০০ শতাংশ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের দরজা খুলে দিয়েছি। আমি নিশ্চিত, রেলে নতুন প্রযুক্তি, নতুন গতি দেশকে গতিশীল করে তুলবে।

এতদিন বিদেশে গেলে পকেটে লক্ষ টাকা থাকলেও তা দিয়ে এক কাপ চা খাওয়া যেত না, সেই টাকা’কে ডলার, পাউন্ড কিংবা ইউরো’তে এক্সচেঞ্জ করে তবেই চা খেতে পারতেন কিংবা ট্যাক্সি ভাড়া দিতে পারতেন। বিশ্ব বাজারে ভারতীয় মুদ্রার সম্মান বৃদ্ধির জন্য আমরা এবার লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে ‘রুপি বন্ড’ চালু করেছি। ভারতীয় রেলওয়ে প্রচলিত এই ‘রুপি বন্ড’ কিনে বিশ্বের যে কোনও ব্যক্তি এখন ভারতীয় রেলে বিনিয়োগ করতে পারেন। এভাবে বিশ্ব বাজারে ‘রুপি বন্ড’ একটি বিপ্লব আনতে চলেছে। ‘রুপি বন্ড’ ভারতের আর্থিক সম্পন্নতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। প্রত্যেক ভারতীয়র উচিৎ এজন্য গর্ববোধ করা। গোটা বিশ্বের সামনে ভারতীয় সমাজের অস্মিতা ও স্বাতন্ত্র স্থাপনের লক্ষ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আজ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত’কে সবকিছু বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এতে নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র থাকে না। আমরা আজকের যুগে ১২৫ কোটি ভারতবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে ছেলেখেলা করতে পারি না। তাঁদেরকে ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিতে পারি না। পুরনো আমলের অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের সেনা ও পুলিশ, বিদেশী শত্রু কিংবা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের মোকাবিলা করতে পারে না। আপানারা শুনলে অবাক হবেন, আমাদের পুলিশ বাহিনী যে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেন, তাও বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এই পরিস্থিতি বদলাতে হবে। আমাদের নবীন প্রজন্মের প্রতিভা, আমাদের কাঁচামাল এবং আমাদের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের দেশেই প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎপাদন হওয়া উচিৎ। শুধু চাই, আধুনিক প্রযুক্তি। সেজন্য এক্ষেত্রেও আমরা প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের স্বার্থে ৪৯ শতাংশ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের দরজা খুলে দিয়েছি। আর, আমরা বলেছি, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আমরা এমনকি ১০০ শতাংশ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের জন্য দরজা খুলে দিতে তৈরি। একটা সময় ছিল প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে যে কোনও আমদানির সঙ্গে দুর্নীতি জড়িয়ে থাকতো। আমরা গত ১৮ মাসে দুর্নীতির ছোঁয়া বাঁচিয়ে একের পর এক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত করতে সক্ষম হয়েছি।

বিশ্বের যে দেশ যত সমৃদ্ধ তাদেরকে তত বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আজ বিশ্বের সম্পন্নতম দেশগুলি জরায় আক্রান্ত। কিন্তু, ভারতের ৬৫ শতাংশ জনসংখ্যার বয়স ৩৫-এর কম। অর্থাৎ, ৮০ কোটি নবীন প্রজন্মের মানুষের শক্তি ও সংকল্প নিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। এই সামর্থ্যকে আমরা তখনই শক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারবো, যখন আমাদের নবীন প্রজন্মের মানুষকে দক্ষ করে তুলতে পারবো। দক্ষতা উন্নয়ন তাদের সামনে কর্মসংস্থানের পথ খুলে দেবে। সেজন্য এই দক্ষতা উন্নয়নের জন্য আমরা অভিযান শুরু করেছি। সিঙ্গাপুরের আই টি ই এস ছাড়াও জার্মানি এবং ইউ এস-এর কয়েকটি উন্নতমানের সংস্থার সঙ্গে আমরা দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে সামিল হয়েছি। আমি নিশ্চিত, অদূর ভবিষ্যতে এই নবীন প্রজন্মের দক্ষতা দেশে ও বিদেশে নিজেদের অপরিহার্য প্রমাণ করবে।

আমাদের দেশে অনেক নতুন সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মহাবিদ্যালয় চালু হচ্ছে। কিন্তু, উৎকৃষ্টমানের শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা গোটা বিশ্বের শিক্ষক সমুদায়কে আহ্বান জানিয়েছি, বিশেষ করে, প্রবাসী ভারতীয় শিক্ষকদের কাছে আমাদের আবেদন, যখন আপনাদের দেশে আবহাওয়ার কারণে প্রবল শৈত্য ও তুষারপাতে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকে, তখন আপনারা ভারতে চলে আসুন। বছরে ছ’মাস ভারতে পড়ান। তারপর আমাদের ওখানে যখন গরম পড়বে তখন ফিরে আসুন। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করেছি, আর আপনারা শুনলে খুশি হবেন যে, ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার অবসরপ্রাপ্ত পণ্ডিত এবং প্রবীন অধ্যাপক যাঁদের মধ্যে অনেকেই প্রবাসী ভারতীয় তাঁরা ভারতে এসে আমাদের নবীন প্রজন্মকে পড়ানোর জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

এ কথা আপনাদের সামনে বলার তাৎপর্য হল আমরা বিশ্বের যা কিছু উৎকৃষ্ট, যা কিছু শ্রেষ্ঠ তা ভারতে পেতে চাই, ভারতবাসীকে উৎকর্ষের সঙ্গে যুক্ত করতে চাই, যাতে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গোটা বিশ্বকে পথ দেখাতে পারে।

আপনাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন, যাঁদের দেশের গ্রামে এখনও বিদ্যুৎ পৌঁছয়নি। স্বাধীনতার ৭০ বছর পরেও দেশের প্রায় ১৮ হাজার গ্রামে একটি বিদ্যুৎ-এর খুঁটিও নেই। এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করার জন্য আমরা ঠিক করেছি আমরা ২০২২ সালে যখন দেশ স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষ পালন করবে, তখন দেশের প্রত্যেকটি পরিবারে বছরে ৩৬৫ দিন, ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ পৌঁছনোর ব্যবস্থা করবো। গোটা বিশ্ব এখন উষ্ণায়নের সঙ্কটে বিপর্যস্ত। কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে পরিবেশ দূষণ হয়, সে সম্পর্কে এখন সকলেই সচেতন হয়ে উঠেছেন। ভারতীয়রা যুগ যুগ ধরে পরিবেশ ও প্রকৃতিকে রক্ষা করে এসেছেন। বৃক্ষকে পরমাত্মা রূপে আর প্রতিটি জীবকে শিব রূপে পুজো করার ঐতিহ্য ভারতীয় দর্শনে রয়েছে। মহাত্মা গান্ধীর থেকে বড় প্রকৃতি প্রেমিক আর কেউ হতে পারেন না। আমরা তাঁর পদচিহ্ন অনুসরণ করে ২০৩০ সালের মধ্যে ‘নন-ফসিল’ উৎস থেকে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্বপ্ন সাকার করার পথে এগিয়ে চলেছি। আমরা চাই না যে, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে বড় বড় হিমবাহ দ্রুত গলে গিয়ে জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে অসংখ্য ছোট ছোট দ্বীপ দেশগুলি ডুবে যাক। সেজন্য আমরা নিউক্লিয়ার এনার্জি এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনে, জলবিদ্যুৎ, সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি ও বায়োমাস-এর ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছি। এসব ক্ষেত্রে অধিক বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। নিউক্লিয়ার এনার্জির জন্য চাই ইউরেনিয়াম। ইউরেনিয়াম রপ্তানির ক্ষেত্রে রপ্তানিকারী দেশগুলি সন্দেহের চোখে দেখে। কারণ, এর অপপ্রয়োগ মানবতার সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে। কিন্তু, ভারত গোটা বিশ্বের সামনে যে আস্থা অর্জন করেছে আজ আমাদের প্রয়োজন অনুসারে নতুন নতুন দেশ যেমন – কাজাখিস্তান, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়া আমাদেরকে সিভিল নিউক্লিয়ার এনার্জি উৎপাদনের স্বার্থে ইউরেনিয়াম রপ্তানি করতে শুরু করেছে। গত ১৮ মাসে এটা আমাদের অন্যতম সাফল্য।

ভারতএখন ১৭৫ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনের স্বপ্ন দেখছে। যে দেশে বছরে প্রায় ৩৬৫ দিনই আমরা সূর্যের আলো পাই, সেদেশ সৌরশক্তি এবং বায়ুশক্তি থেকে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদন কেন করবে না? পাশাপাশি, আমাদের ৫০০-রও বেশি শহরগুলির আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সু্যোগও আমরা ছাড়বো না। কিন্তু, এই স্বপ্ন সাকার করতে আমাদের বিদেশ থেকে প্রযুক্তি আমদানি করতে হবে, আমাদের নবীন প্রজন্মকে এক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত করে তুলতে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষকদের নিয়ে আসতে হবে, আর এই সবকিছুর জন্য চাই বিদেশি বিনিয়োগ।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কেবলই মিষ্টি মিষ্টি কথায় গড়ে ওঠে না। বিশ্ব আপনাকে হয় প্রতিস্পর্ধী ভাববে অথবা তারা বোঝে আত্মীয়তার ভাষা। আজ ভারত এই দুটি পথই প্রয়োজন অনুসারে ব্যবহার করছে। পশ্চিম এশিয়ার যে দেশগুলিতে আজ সন্ত্রাসবাদ চরমসীমায় পৌঁছে গেছে সেই দেশগুলিতে ৭০ লক্ষ ভারতবাসী রয়েছেন। তাঁদেরকে আমরা ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিতে পারি না। সেজন্য আমরা আমাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ইয়েমেন ও ইরাকের মতো দেশে হাজার হাজার ভারতীয় ভাই, বোন আমাদের কেরলের নার্স বোনেরা আটক হয়ে রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অনেক ক্ষেত্রে সফলও হয়েছি। আমরা তিন মাস আগে থেকেই তাঁদেরকে সতর্ক করেছিলাম এবং দেশে ফিরে আসতে বলেছিলাম। কিন্তু, স্থানীয় মানুষ ও কর্মরত সংস্থার সঙ্গে তাঁদের সুসম্পর্কের ফলে তাঁরা ছেড়ে আসেননি। কিন্তু, এখন চারপাশে গোলাগুলি শুরু হয়ে গেছে। বিশ্বের যে কোনও দেশে কোনও ভারতীয় নিহত হলে ভারতবাসী অস্থির হয়ে পড়েন। এখন হাজার হাজার মানুষের জীবন সঙ্কট। আগে শীত যুদ্ধের সময় বিশ্বের দেশগুলি দু’দলে বিভক্ত ছিল। কিন্তু এখন সেই দিন নেই, এখন গোটা বিশ্ব পরস্পরের প্রতি নির্ভরশীল। কোনও দেশকে আলাদা করে দিয়ে যে বিশ্বের সমৃদ্ধি সম্ভব নয়, তা আজ সকলেই বুঝতে পেরেছেন। ভারত সেজন্য গোটা বিশ্বের সকল দেশকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে অনুঘটক হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশও আজ সেটা উপলব্ধি করছে। এর প্রমাণ আমাদের আহ্বানে এর বছর গোটা বিশ্ব ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করেছে। সকল ভারতবাসী এর জন্য গর্ববোধ করেন। নীল আর্মস্ট্রং যেদিন চাঁদের মাটিতে পদার্পণ করেছিলেন, শুধু আমেরিকা নয়, সকল বিশ্ববাসী সেদিন গর্ব অনুভব করেছিলেন। তেমনই, আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এক কথায় রাষ্ট্রসঙ্ঘে এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে এবং বিশ্বের সকল দেশ এতে অংশগ্রহণ করেছে। সিঙ্গাপুর-ও এর ব্যতিক্রম নয়। এই সাফল্যের কৃতিত্ব একা মোদীর নয়। আপনাদের সকলের প্রতি বিশ্ববাসীর আস্থা এই সাফল্যের প্রেক্ষিত রচনা করেছে।

ভাই ও বোনেরা, এখন আমাদের সামনে একটাই কাজ। সেজন্য ১২৫ কোটি দেশবাসীর আশীর্বাদের পাশাপাশি, গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী ভারতীয় ভাই ও বোনদের আশীর্বাদও চাই। সে কাজটি হল উন্নয়ন। দরিদ্র মানুষের অশ্রু মোছার কাজ, নবীন প্রজন্মকে কর্মসংস্থান দেওয়ার কাজ, কৃষকের মুখে হাসি ফোটানোর কাজ, দেশের মা ও বোনদের ক্ষমতায়নের কাজ, দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা বজায় রাখার কাজ আর বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে বাঁচার মতো উন্নয়নের স্বপ্ন নিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। নিছকই এগিয়ে যাওয়া নয়, আধুনিক হয়ে ওঠা, যা আপনারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে গর্ব করে বলতে পারবেন।

আমাদের পূর্বজদের পরাক্রম আমাদের প্রেরণার উৎস হতে পারে। কিন্তু, তাঁদের পরাক্রম থেকে প্রেরণা নিয়ে বর্তমানকে উজ্জ্বল করে তুলতে পারলে, ভবিষ্যৎ-এর জন্য শক্ত ভিত গড়ে তোলার দায়িত্ব পালন করতে পারলে তবেই কাজের কাজ হবে। আমাদের সামর্থ্য ও পরাক্রম দিয়ে আমাদের ত্যাগ ও তপস্যা দিয়ে, আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে পারলে তবেই আমরা সাফল্য পাবো। ভারসাম্য রেখে এগিয়ে না যেতে পারলে বিশ্ববাসী আমাদের মেনে নেবে না।

আমি বিশ্বাস করি, আমরা যে উন্নয়নের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছি, সেই কর্মযজ্ঞে আপনারাও সামিল হবেন। বিশ্বকে দেবার মতো আমাদের অনেক কিছুই রয়েছে। মাথা উঁচু করে বুক ফুলিয়ে চলার হিম্মত আমাদের আছে। কিন্তু, আমরা এমন দিন চাই না, যাতে কারও সামনে বুক ফোলাতে হয়। সেজন্যই আমরা বর্তমানকে ভবিষ্যতে পৌঁছে দিতে চাই। আমাদের সামর্থ্যকে প্রমাণ করতে চাই। আপনারা সবাই মিলে সিঙ্গাপুর নির্মাণ করেছেন এবং এখনও করে চলেছেন। আমি এই উন্নয়ন যাত্রাকে প্রণাম জানাই। আপনাদের অভিনন্দন জানাই। আর আশা করি, আপনাদের সাফল্যের প্রেরণা নিয়ে, আপনাদের মতোই সঙ্কল্প নিয়ে ভারতের উন্নয়নকে সুনিশ্চিত করতে পারবো। আমি আরেকবার আপনাদের সকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।

ধন্যবাদ।

PG/SB/SB/S