Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

সি এস আই আর-এর ৭৫তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত প্ল্যাটিনামজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

সি এস আই আর-এর ৭৫তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত প্ল্যাটিনামজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


সূচনাতেই আমি ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থাকে অভিনন্দনজানাই চ্যালেঞ্জপূর্ণ উপগ্রহ উৎক্ষেপণের আরেকটি ঘটনাকে সফল করে তোলার জন্য। 

 

একটিমাত্র পিএসএলভি যানের সাহায্যেদুটি পৃথক কক্ষপথেউৎক্ষেপণ করা হয়েছে আটটি উপগ্রহকে। 

 

সিএসআইআর-এর ৭৫তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিতপ্ল্যাটিনাম জয়ন্তী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করার সুযোগ পেয়েছি আমি। 

 

পরিষদের সভাপতি হিসেবে সিএসআইআর–এরবর্ষব্যাপীপ্ল্যাটিনাম জয়ন্তী অনুষ্ঠানে আপনাদের সকলকে আমি স্বাগত জানাই।  

 

আমি বিশেষভাবে স্বাগত জানাই এই উপলক্ষে উপস্থিতকেন্দ্রীয় বিদ্যালয়গুলির ১৫০ জন বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীকে। একইসঙ্গে স্বাগত জানাইআজকের এই অনুষ্ঠান যাঁরা সরাসরি প্রত্যক্ষ করছেন তাঁদের মধ্যে উপস্থিত বিভিন্নআইআইটি এবং আইআইএসইআর-এর ছাত্রছাত্রীদেরও। 

 

প্রত্যেক ভারতবাসীর পক্ষেই খুব গর্বের বিষয় যে আধুনিকভারতের বিকাশে অঙ্গীকারবদ্ধ সিএসআইআর-এর ৭৫তম বছরটি আজ পালিত হচ্ছে। 

 

জাতির সেবায় নিয়োজিত এই সংস্থা তার দীর্ঘদিনের যাত্রাপথে । 

 

আমাদের গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে এক বিশেষ দিকচিহ্নস্থাপন করেছে সিএসআইআর। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকেই স্পর্শ করে গেছে এই সংস্থারবিশেষ অবদান। 

 

গবেষণা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে সার্বিকভাবে নিয়োজিত সিএসআইআর-এরমধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে ভারতের বহু বৈচিত্র্যের মিলনের মূল সুরটি। 

 

কৃষি থেকে মহাকাশ, জৈব সংবেদন থেকে জৈব ওষুধ, রসায়ন থেকেজলবায়ু পরিবর্তন, ওষুধ উৎপাদন থেকে গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান, ভু-বিজ্ঞান থেকেজ্বালানি শক্তি, খাদ্য থেকে সুগন্ধি, আবাসন থেকে স্বাস্থ্য পরিচর্যা, যন্ত্রপাতিথেকে তথ্যপ্রযুক্তি, চর্মশিল্প থেকে হালকা যুদ্ধবিমান, ক্ষুদ্র অনুসন্ধান থেকে খনিজপদার্থ, অপটিক্স থেকে অপটিক্যাল ফাইবার, পিগমেন্ট্‌স থেকে বৈদ্যুতিন, সড়ক থেকেরোবোটিক্স, সেন্সর থেকে সৌর জ্বালানি, ট্র্যাক্টর থেকে পরিবহণ, ইউএভি থেকে জলযান,জল থেকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস – সর্বত্রই রয়েছে সিএসআইআর-এর উজ্জ্বল উপস্থিতি। 

 

দেশের ট্র্যাক্টর ‘স্বরাজ’, শিশু দুগ্ধ খাদ্য, দেশেরপ্রথম সুপার কম্পিউটার – এ সমস্ত কিছুই হল সিএসআইআর-এর সাফল্যের কয়েকটি মাত্রউদাহরণ। 

 

আজ এই অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত হওয়ার আগে একটিপ্রদর্শনীতে আমি প্রত্যক্ষ করেছি সিএসআইআর-এর সাফল্যের বেশ কিছু ঘটনা। আমি চাই এইপ্রদর্শনীটিকে নিয়ে যাওয়া হোক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতে সেখানকার মানুষও জানতেও বুঝতে পারেন সিএসআইআর-এর কাজকর্মের সাফল্য সম্পর্কে। 

 

সিএসআইআর-কে আধুনিক প্রযুক্তি এবং উদ্ভূত চ্যালেঞ্জেরউপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য সচেষ্ট হতে হবে আমাদের।  

 

আমি মনে করি সিএসআইআর-এর উচিত বাণিজ্যিক কাজকর্ম সহজতরকরে তোলার লক্ষ্যে এক প্রযুক্তিগত মঞ্চ গড়ে তোলা যার মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভিন্নপক্ষকে যুক্ত করে প্রযুক্তির সুফল পৌঁছে দেওয়া যায় সাধারণের কাছে। 

 

সিএসআইআর সম্প্রতি মধুমেহ রোগীদের জন্য দেশের প্রথমআয়ুর্বেদিক ওষুধউদ্ভাবন করেছে। এই ওষুধটির শক্তি ও সম্ভাবনা সম্পর্কে আপনারা সকলেইইতিমধ্যেই অবগত। এখন আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এই ওষুধটির সুফল সম্পর্কে সাধারণমানুষকে সচেতন করে তোলা যাতে তাঁরা এই ওষুধটি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারেন। 

 

ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে এই আধুনিক যুগে কোনও দেশ বিজ্ঞানএবং প্রযুক্তির সাহায্য না নিয়ে বিকশিত হতে পারেনি। এই মুহূর্তে আমাদের দেশ ৭শতাংশেরও থেকে বেশি বিকাশের পথে এগিয়ে চলেছে, তার এখন বিজ্ঞান ও অনুসন্ধান-এর মতোসংগঠনগুলির সহযোগের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সেজন্য আপনাদের রণনীতির অংশ হওয়া উচিৎদেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি রোড ম্যাপ তৈরি করা। যেমন সি এস আই আর এ বছর সৌরবৃক্ষনির্মাণ করেছে। এই সৌরবৃক্ষ চার বর্গফুট স্থান দখল করে আছে। এখন আপনাদের দেখতে হবেকিভাবে দেশের সকল প্রান্তে এই সৌরবৃক্ষ পৌঁছে দেওয়া যায়। কিভাবে অধিকাংশ মানুষ এথেকে উপকৃত হবেন। সৌরশক্তি দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ। আপনারা সকল ক্ষেত্রে বিপ্লব আনতে পারেন। সরকারের লক্ষ্য হ’ল, ২০২২সালের মধ্যে দেশে ১০০ গিগাওয়াট সৌরশক্তি উৎপাদন করা। সেই লক্ষ্যপ্রাপ্তির জন্যসরকার আপনাদের মতো বৈজ্ঞানিকদের সাহায্য চায়। যেমন সৌর-কোষের দক্ষতা কিভাবেন্যূনতম অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে অধিকতম বৃদ্ধি করা যায়। দেশের সাধারণ মানুষের কাজেলাগলে তবেই কোনও প্রযুক্তি সফল হয়। 

 

কৃষক ভাইদের আজকের প্রয়োজনীয়তা হ’ল – দরিদ্র্য মা-বোন ওযুবসম্প্রদায় কিভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যাগুলির সম্মুখীন হচ্ছেন, আপনাদেরআবিষ্কার তাদেরকে কিভাবে সাহায্য করতে পারে। একথা নিরন্তর ভাবতে হবে আর সাফল্যপেতে হবে। বৈজ্ঞানিক ও শিল্প অনুসন্ধান পরিষদ গঠনের উদ্দেশ্য এটাই। বৈজ্ঞানিকঅনুসন্ধান কিংবা আবিষ্কার একদিন কিংবা এক বছরের কোনও কাজ নয়, এতো নিরন্তর চলতেথাকা প্রক্রিয়া। এই লাগাতার প্রক্রিয়া একদিন গেম চেঞ্জার যুগান্তকারী প্রযুক্তিরূপে জন্ম নেয়। 

সি এস আই আর অনেক আগে থেকেই এই কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তুএখন একটি বড় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। সময় নির্দিষ্ট সরবরাহকে কি আমরাপ্রধান আলোচ্য বিষয় করে তুলতে পারি? আপনাদের কাছে আমার অনেক আশা। হয়তো আপনাদেরভরসা করি বলেই একটু বেশি আশাই করি। ৭৫ বছর ধরে আপনারা দেশকে যা দিয়েছেন, তা দেখেইহয়তো এই আশা বেড়েছে। যিনি দিতে পারেন, তাঁর কাছেই তো আমরা হাত পাতি! 

 

সেজন্যই আমি সময়নির্দিষ্ট উৎপাদন ও সরবরাহকে প্রধানআলোচ্য বিষয় করতে চাই। অনুসন্ধানের পাশাপাশি মূল্যবোধের পরিবর্তনকেও ভালোভাবেযুক্ত করার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারি শিল্পজগৎ,বেসরকারি সংগঠন, পরিষেবা প্রদানকারী এবং উপভোক্তার সমন্বয়সাধন করতে হবে। যথাযথসমন্বয়ী প্রচেষ্টা ছাড়া সাফল্য আসে না, সেজন্যই আমাদের এদিকে নজর দিতে হবে। 

 

আমাদের অনেক আবিষ্কার জনগণের কোনও কাজে লাগে না ।  যথাযথ প্রচারের মাধ্যমে আবিষ্কারকে কাজে লাগানো কিংবাজনগণের প্রয়োজনানুসারে আবিষ্কারের পরিবর্তন সাধন করা হয় না। আমাদের যা সম্পদ, সিদ্ধান্তেরমাধ্যমে সমস্যা অনুযায়ী সেই যোগান থেকে নতুন কিছু উৎপাদিত করতে পারলে, সরলীকরণকরলে, আমার মতে এর ব্যাপ্তি, সাধারণ মানুষের উপযোগিতার সঙ্গে, অত্যন্ত সহজভাবেছড়িয়ে পড়তে পারে। বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান কেন্দ্রগুলিকেও স্টেকহোল্ডার-দের থেকেগবেষণা এবং বিকাশের স্তরে প্রতিক্রিয়া সংগ্রহের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আমাদেরস্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া না থাকলে, তাদের প্রয়োজনকে বুঝতে না পারলে চলবেনা। আমাদের প্রকল্প নানা প্রতিযোগিতায় বড় বড় পুরস্কার পেলেও, বড় বড় ম্যাগাজিনে তানিয়ে গালভরা প্রশংসাসূচক প্রবন্ধ ছাপা হলেও, ভারতের মতো দেশে এর সাফল্যসাধারণমানুষের সমস্যার সমাধানেই নিহিত, এটাই হওয়া উচিৎ আসল মাপদন্ড। সি এস আই তার নিজেরপ্রয়োগশালাগুলির মাধ্যমে দেশের নবীন প্রজন্মের জন্য যথাসম্ভব বেশি কর্মসংস্থানেরসু্যোগ করে দিতে পারে তেমন সব ধরনের আবিষ্কারের চেষ্টা করুক, চেষ্টা থাকুক যাতে এইপ্রয়োগশালাগুলিতে যত বেশি সম্ভব নবীন প্রজন্মের মানুষ গবেষণার সুযোগ পান। 

 

আজকাল বিভিন্ন টিভি চ্যানেল প্রতিভা অন্বেষণের নানাঅনুষ্ঠান আয়োজন করে। গান-বাজনা-নাচ সকল ক্ষেত্রেই আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আমাদেরপ্রত্যাশা ছাপিয়ে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় দিচ্ছে। আর শুধুএসব ক্ষেত্রেই নয়, জীবনের সকল ক্ষেত্রেই তাদের মেধা রয়েছে। তাঁরা শুধু সুযোগেরঅপেক্ষায়। আমাদের প্রয়োগশালাগুলি কি দেশের শিশুদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠতেপারে? তারা শনি-রবিবারে মামার বাড়ি বেড়াতে না গিয়ে প্রয়োগশালায় ছুটে আসতে চাইলেআমরা কি সেই সুযোগ করে দিতে পারি? তাদেরকে একটু সময় দিতে পারি? আপনাদের মধ্যেযাঁরা বড় বড় বৈজ্ঞানিক হয়েছেন, তাঁরা নিজেদের শৈশবের কথা ভাবুন। আপনাদের মধ্যেআশৈশব একটা পাগলামি ছিল। তবেই তো আজ আপনারা এতদূর পৌঁছেছেন! তখন কেউ হয়তো আপনারহাত ধরেছেন। আপনারাও তেমনই এই শিশুদের হাত ধরে প্রয়োগশালায় নিয়ে যান। এই দেশেরভাগ্য বদলে যাবে। 

 

সি এস আই আর-এর সম্পদের মাধ্যমে দেশের নবীন প্রজন্মেরউদ্যোগগড়ে তুলতে সুদৃঢ় ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া,স্ট্যান্ডআপ ইন্ডিয়া’ আন্দোলন গড়ে তুলেছি, যেসব নবীন প্রজন্মের মানুষ কিছু করেদেখাতে চান, তাঁদের সঙ্গে আপনাদের আবিষ্কারগুলির পরিচয় ঘটাতে পারলে – তাঁরাউৎপাদনের পথে যাওয়ার সাহস দেখাতে পারেন। আপনাদের আবিষ্কার, সমাজের নানা সমস্যা আরউদ্যোক্তাদের নতুন কিছু করে দেখানোর আকাঙ্খা সমন্বয়ে আমরা হয়তো বিশ্বকে নতুন কিছুদিতে পারব, নতু নতুন ক্ষেত্র উন্মুক্ত হতে পারে! 

 

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দ্বারা গবেষণার জন্য যে বিনিয়োগহয়, সেই ক্ষেত্রগুলিকে আরও প্রসারিত করতে এমন ওয়াবপোর্টাল গড়ে তোলা যেতে পারে,যাতে বিনিয়োগ, গবেষণা আর সেগুলির ফলাফলের বিস্তারিত বিবরণ থাকবে! আমি আপনাদেরগবেষণার গোপন তথ্য এতে উন্মুক্ত করতে বলছি না, সেগুলি আপনাদের সম্পত্তি, কিন্তুআপনারা বিষয়গুলি রাখতে পারেন, যাতে আপনারা যা নিয়ে গবেষণা করছেন তা নিয়ে হয়তো আরওদশ জায়গায় গবেষণা চলছে, যাতে আপনাদের পরিশ্রম বিফলে না যায়, বিনিয়োগ বিফলে না যায়!দশ জন যা নিয়ে গবেষণা করছে, যা এখনও হাওয়ায় রয়েছে, আপনি জানলে হয়তো তার এগারোতমগবেষক না-ও হতে পারেন। আবার হতেও পারেন। এই পোর্টালে আমরা প্রশ্নও রাখতে পারি,সমস্যাও তুলে ধরতে পারি, যাঁরা নতুনভাবে ভাবছেন, আমি হয়তো অন্যরকম নতুনভাবে ভেবেগবেষণাকে এগিয়ে নিতে পারব। 

 

আগামী ২০২২ সালে স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষপূর্তি উৎসবের আগেইসি এস আই আর যাতে নব উৎসাহে নবীন প্রজন্মকে অনেক কিছু করে দেখানোর পথ দেখাতে পারে,আপনারা সেই চেষ্টা করুন। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ২০২২ সালের মধ্যে দেশের কৃষকদেররোজগার দ্বিগুণ করার ব্যবস্থা করব। এই লক্ষ্য বাস্তবায়িত করতে আপনাদেরকে গবেষণারমাধ্যমে ফসলের নতুন বৈচিত্র্য উদ্ভাবন করতে হবে, বিশেষ করে, ডালের বৈচিত্র্যকিভাবে বৃদ্ধি করা যায়, বৃষ্টিধৌত অঞ্চলগুলিতে কোন্‌ কোন্‌ ডালের ফলন কিভাবেবাড়ানো যায়। তা হলে দেশের দরিদ্র মানুষের পুষ্টি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আপনাদের অবদানঅবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। 

 

২০২২ সালের মধ্যে আমরা যদি কৃষিক্ষেত্রে রোজগার দ্বিগুণবাড়াতে পারি, আমি দেশে দূরদূরান্তের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে অনেক আশা নিয়ে আপনাদেরকাছে এসেছি, জেনেটিক সায়েন্স-এর এই যুগে আমাদের বিজ্ঞানীরা অবশ্যই নতুন নতুনআবিষ্কারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনে গতি আনতে পারবেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিণামদর্শাতে পারবেন। নতুন নতুন পুষ্টিকর শাক-সব্জির ফলনের সম্ভাবনা কিভাবে বাস্তবায়িতকরা যায়। শুধুই উৎপাদন এবং চাহিদার মধ্যে ব্যবধান কমানো নয়। স্বয়ম্ভর হয়ে উঠে আমরাযাতে বিদেশে শস্য ও শাক-সব্জি রপ্তানি করতে পারি। আমরা যাতে গালফ্‌ কান্ট্রি-গুলিরপ্রয়োজনের কথা ভেবে শস্য উৎপাদন করতে পারি। আমাদের কৃষিক্ষেত্রে এমনকি লক্ষ্যনির্দিষ্টউৎপাদন বৃদ্ধির কথা ভাবলে আগামী পঞ্চাশ বছর ধরে সুনিশ্চিত বাজার রয়েছে। উৎকর্ষথাকবে, পরিমাণও বাড়বে এমন শস্যের বীজ উৎপাদনের কথা ভাবতে হবে। বিশ্ব বাজারেরপ্রতিযোগিতায় যা টিকে থাকতে পারবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমাদের বৈজ্ঞানিকরা সেইলক্ষ্য পেরিয়ে যেতে পারবেন, ভারতের কৃষকের রোজগার অবশ্যই বাড়বে। গাল্‌ফ কান্ট্রিগুলিতেভারতই সবচাইতে কম খরচে শস্য ও শাকসব্জি, ফলমূল পৌঁছে দিতে পারে। আমরা কি এই সুযোগহাতছাড়া করব? 

 

সি এস আই আর স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে অনেক সাফল্য এনেছে।কিন্তু আমাদের দেশের মানুষকে আজও টিবি, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু ইত্যাদিরোগের সম্মুখীন হতে হয়। এক্ষেত্রে আপনারা কী কী করতে পারেন, আপনারা কি সস্তা ডায়াগনোস্টিককিট্‌স আবিষ্কারকরতে পারেন। স্বাস্থ্যক্ষেত্র আজকাল অনেক বেশি প্রযুক্তি পরিচালিতহয়ে পড়েছে। চিকিৎসক থেকে মেশিনগুলিই বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। চিকিৎসকরা সেসবপরীক্ষার ফল দেখে এক একজন মূর্তিমান সফ্‌টওয়্যারের মতো পরিস্থিতি অনুসারে চিকিৎসাকরেন। আপনারা এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করুন। শুধু ওষুধ নয়, সস্তায় ডায়াগনোস্টিক কিট্‌উৎপাদন করলে গ্রামের আশা কর্মীদের প্রশিক্ষিত করে আমরা তাঁদের হাতে সেসব পৌঁছেদিতে পারি। এতে আমরা অনেক রোগকে মহামারী হওয়া থেকে আটকাতে পারি। এই কিট্‌স উৎপাদনবহুগুণ বৃদ্ধি করতে আমরা নবীন প্রজন্মের প্রতিস্পর্ধী শিল্পোদ্যোগীদের সুযোগ দিতেপারি, দিব্যাঙ্গ ভাইবোনেরাও এক্ষেত্রে এগিয়ে এলে সাফল্য পাবেন বলে আমার বিশ্বাস। 

 

আমরা জানি, দরিদ্র এলাকায় অধিকাংশ রোগের কারণ হ’লঅপরিচ্ছন্নতা। আমি তো আর আপনাদের জঞ্জাল পরিষ্কার করতে যেতে বলতে পারি না! কিন্তুপ্রযুক্তির মাধ্যমে আপনারা জঞ্জাল অপসারণে সস্তা প্রযুক্তি আবিষ্কার করতে পারেন,এটা রকেট উৎক্ষেপণ বিদ্যার মতো জটিল কিছু না হওয়ারই কথা। আপনাদের নতুন নতুনউদ্ভাবন আর নব্য শিল্পোদ্যোগীদের প্রতিস্পর্ধা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গতি আনতে পারে।বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার ক্ষেত্রে নতুন পথ দেখাতে পারলে আপনারা স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বড় অবদান রাখতে পারবেন। পুষ্টির ক্ষেত্রেও অবদান রাখতে পারেন।পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে সাফল্য পেলে শুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহের ক্ষেত্রেও আমরাসাফল্যের মুখ দেখব। ফলে, জলবাহিত রোগও নির্মূল হবে। এই বিষয়গুলি নিছকই স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের চৌহদ্দী পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। বৈজ্ঞানিকদের আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে এগিয়েযেতে হবে। বিশ্বে অনেক প্রযুক্তি রয়েছে। কিন্তু আমাদের চাই সুলভ প্রযুক্তি।এক্ষেত্রে আপনারা অবদান রাখুন।  

 

আমাদের কাছে যা যা আছে সেসবের ভিত্তিতেই প্রযুক্তিবিকাশের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সেসব প্রয়োজন পূর্তির জন্য … কখনও কি হয়, আমরা মনেমনে ভাবি যে আমাদের গবেষণার ফল ৫০ থেকে ১০০ বছর পর পাওয়া যাবে! আমাদের সামনে যেসমস্যাগুলি রয়েছে সেসব সমস্যার সমাধানে বিজ্ঞানের ব্যবহারই আমাদের দেশের প্রাথমিকপ্রয়োজন। সেসব প্রয়োজন পূর্তির ক্ষেত্রে সাফল্য পেলে সেই সাফল্য নিজে থেকেই আপনাকেবিশ্বস্তরের প্রয়োজনীয়তা কিংবা নতুন যুগের প্রয়োজন নিয়ে গবেষণার উৎসাহ যোগাতেপারে।  

 

সিএসআইআর নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কাজ করেছে। কিন্তু আমাদেরজলের উৎসগুলিকে অর্থনৈতিকভাবে, দক্ষভাবে এবং কার্যকরিভাবে প্রয়োগের লক্ষ্যে সকলপ্রয়াস ত্বরান্বিত করার প্রয়োজন রয়েছে। আমরা জানি যে জলসঙ্কট নিয়ে অনেক আলোচনা হয়।প্রত্যেকেই লেখেন যে যুদ্ধের সম্ভাবনার সঙ্গেও জলসঙ্কট যুক্ত রয়েছে। যাঁরা লেখেনতাঁরা লিখতে থাকুন। কিন্তু যাঁরা প্রয়োগশালায় বসে আছেন তাঁদের তো সমাধান খুঁজতেহবে যে আমরা কিভাবে আরও বেশি জল সঞ্চয় করতে পারি, আরও বেশি জল সেচের কাজে লাগাতেপারি। এখন আমরা খুব চেষ্টা চালাচ্ছি ।  কৃষিক্ষেত্রে ‘প্রতিবিন্দুতে অধিক ফলন’ আন্দোলন গড়ে তুলেছি। ভারতের মতো দেশে চাষের জমির গুরুত্বক্রমবর্ধমান। সেজন্য জল ও জমি দুটোকেই গুরুত্ব দিয়ে যতক্ষণ ‘প্রতি বিন্দুতে অধিকফলন’-এর পাশাপাশি ‘প্রত্যেক ইঞ্চি জমিতে একগুচ্ছ ফসল’-এর ওপর গুরুত্ব বৃদ্ধি নাকরব, ততক্ষণ দেশের মানুষ মাটি এবং জল – দুটোরই গুরুত্ব বুঝবে না।  

 

আমাদের সামনে এখন নদীর জল দূষণ একটি অত্যন্ত কঠিন সমস্যাহয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরের পর বছর ধরে গঙ্গা সাফাই প্রকল্প চলছে। ইতিমধ্যে একের পর একসরকার ক্ষমতায় এসেছে। তারা প্রত্যেকেই হয়তো এই সমস্যার সমাধানের জন্য বৈজ্ঞানিকপদ্ধতি খুঁজেছেন। সাধারণ মানুষকে প্রশিক্ষিত করার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক উপায়ে সমস্যানিরসনই সমাধান এনে দিতে পারে। সাধারণ মানুষের একটি প্রয়োজন হল … দেখুন, আজভারতের যত জনসংখ্যা তার থেকে বেশি মোবাইল ফোন চালু আছে। কিন্তু ফোনের ব্যাটারিরআয়ু সীমিত। ব্যাটারি রিচার্জ করতে গ্রামের মানুষকে দূর-দূরান্তে যেতে হয়। যাঁরাফোন বেশি ব্যবহার করেন তাঁদেরকে সঙ্গে ব্যাটারি রিচার্জার নিয়ে ঘুরতে হয়। আমাদেরবৈজ্ঞানিকরা কি এই সমস্যার সমাধান করতে পারেন? তাহলে কতবড় বাজার পাবেন তা কল্পনাকরুন। আমার মনে হয় না ছোট ছোট ক্ষেত্রে বিজ্ঞানকে প্রয়োগ করলে তার মাহাত্ম্য কমেযায়। আমি বৈজ্ঞানিক নই, কিন্তু এটা বুঝতে পারি যে এই ছোট ছোট প্রয়োগের মাধ্যমেইআপনারা দেশের জন্য অনেক বড় বড় কাজ করতে পারবেন। আপনারা যদি এগুলিকে অগ্রাধিকারদেন, তাহলে এর বাণিজ্যিক মূল্যও অপরিসীম। প্রয়োজন তো রয়েইছে। 

 

আপনারা যদি খেলাধূলার জগতের কথা ভাবেন, এখন খেলা আরমাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আপনাদের প্রদর্শনী আমি ঘুরে দেখছিলাম। একজন বললেন,তাঁরা চামড়ার জিনিস কিভাবে তৈরি করেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, খেলাধূলার জন্য কিধরনের জুতো উপযোগী, কি ধরনের পোশাক-আশাক চাই? আসলে ক্রীড়া জগতের উন্নয়নে আরও বেশিকরে বৈজ্ঞানিক আবহ গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। খেলোয়াড়দের মনস্তত্ব থেকে শুরু করেসুবিধাজনক পোশাক-আশাকের যোগান পর্যন্ত নানারকম বৈজ্ঞানিক সহায়তার প্রয়োজন। আপনাদেরবৈজ্ঞানিকদের সহযোগিতা পেলে ক্রীড়া সরঞ্জামের ক্ষেত্রেও আমাদের দেশে অনেক বড় বাজাররয়েছে। মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে আপনারা অনেক এগিয়ে। আপনারা জানেন, কতটা বৈজ্ঞানিকআবহে প্রশিক্ষণ দিয়ে তবেই মহাকাশচারীদেরপাঠানো হয়। খেলাধূলার ক্ষেত্রেও এই আবহপ্রত্যেক খেলার ক্ষেত্রে আলাদাভাবে সুনিশ্চিত করতে হবে। একবিংশ শতাব্দী প্রযুক্তি-চালিতশতাব্দী। গোটা শতাব্দী ধরে মানুষ এমনই প্রযুক্তি-চালিত থাকলেভারতের মতো দেশে এমনইআরও নতুন নতুন অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে। 

 

আমাদের পরম্পরাগত জ্ঞান ও বুদ্ধিকে আমরা যদি আধুনিকব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে পারি তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান বেরিয়ে আসবে।যোগ-বিদ্যা, আয়ুর্বেদ আজ গোটা দুনিয়ায় চর্চার বিষয়। কিন্তু এগুলির বৈজ্ঞানিক রূপবিদেশে পৌঁছতে পারছে না। আমরা কি এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও গবেষণা করতে পারি? 

 

আজ এই অবসরে দেশের শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিকদের জাতীয় পুরস্কারদিয়ে সম্মানিত করা হচ্ছে। যাঁরা এই সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তাঁদেরকে আমি অনেক অনেকশুভেচ্ছা জানাই। এই পুরস্কারগুলির মধ্যে রয়েছে ২০১২-১৫-র ‘শান্তিস্বরূপ ভাটনগরপুরস্কার’, ২০১২-১৪-র ‘সিএসআইআর ডায়মন্ড টেকনলজি জুবিলি অ্যাওয়ার্ড’ ।  গ্রামীণ বিকাশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উন্নয়নসহায়ক আবিষ্কারের জন্য এই সিএসআইআর পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়া, আজ ২০১৬-র ‘সিএসআইআরটেকনলজি অ্যাওয়ার্ড’, ২০১৬-র ‘জি এম রামচন্দ্রন গোল্ড মেডেল’ এবং ২০১৬-র ‘সিএসআইআরইয়ং সায়েন্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড’ দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে। এই সম্মান শুধুমাত্রসংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিকরা পাননি, এভাবে তাঁদের জন্য গৌরবান্বিত তাঁদের পরিবারেরসদস্যবৃন্দ, বন্ধুবান্ধব এবং বিশেষ করে তাঁদের শিক্ষকরাও সম্মানিত হলেন। যে শিক্ষকমহাশয় শৈশবে প্রথম তাঁদের বিজ্ঞান এবং অনুসন্ধান আবিষ্কারের জন্য প্রেরণাযুগিয়েছিলেন তাঁকে আমি প্রণাম জানাই। 

 

দেশও আজ আপনাদের সকলের জন্য গর্বিত। আমি আশা করি এই সফরেআপনি একটি নতুন আশা এবং সাহস নিয়ে আরও দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যাবেন। এই পুরস্কার আপনিছাড়াও অন্যদের দেশের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন নতুন অনুসন্ধান ও নতুন আবিষ্কারেরপ্রেরণা যোগাবে। স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পাঠরত নবীন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরাআপনাদেরকে আদর্শ হিসেবে দেখবে। এই সুযোগে আমি আশা করি আপনারা নতুন প্রজন্মের জন্যআলোকবর্তিকা হয়ে উঠুন এবং নিজেদের দায়িত্ব পালন করুন। সিএসআইআর-এর সঙ্গে যুক্তদেশের নামী প্রতিষ্ঠানগুলিতে কর্মরত বৈজ্ঞানিকদের উচিত স্কুল-কলেজে পাঠরতছেলে-মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো। প্রতি মাসে নিদেনপক্ষে একবার প্রত্যেকবৈজ্ঞানিক যদি কোন কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দিতে যান, অধ্যাপক ওছেলে-মেয়েদের সঙ্গে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন তাহলে সেই স্কুল বা কলেজের ছেলে-মেয়েরাআপনাকে আদর্শ হিসেবে দেখবে। আপনারা পারবেন তো? আজ যে মহান বৈজ্ঞানিকরা পুরস্কৃতহয়েছেন তাঁরা প্রত্যেকেই কমপক্ষে একটি স্কুল কিংবা কলেজকে মেন্টর হিসেবে বেছে নিন।এতে যদি ঐ স্কুল বা কলেজের পাঁচটি ছাত্রও অনুপ্রেরণা পায় তাহলে ভবিষ্যতে দেশে ৩০০নতুন বৈজ্ঞানিক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। যেভাবে আপনারা দেশকে একটি নতুন আবিষ্কারউপহার দিয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরের মানুষের উপকারে আসতে পারেন, তেমনই আপনারাযদি প্রত্যেকে দেশকে এক বা একাধিক বৈজ্ঞানিক উপহার দিতে পারেন তাহলে আগামীশতাব্দীর জন্যও বড় কাজ করে যাবেন। 

 

আমি আরেকবার আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।৭৫তম বর্ষপূর্তির এই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা আগামী ২০২২ সালের জন্য প্রস্তুতি নিতেআমাদের সাহায্য করবে। আপনারাও ঠিক করুন, ২০২২-এ যখন দেশ স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তিউৎসব পালন করবে তখন দেশের জন্য বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে আপনারা আর নতুন কি কিদেবেন। ঐ সময়সীমার মধ্যে দেশের কোন কোন সমস্যার সমাধান করবেন। এই সঙ্কল্প নিয়েই আমরা এই ৭৫তম বর্ষপূর্তিতে আগামী ২৫ বছরের স্বপ্ন নিয়েএগিয়ে যাব। এই আকাঙ্ক্ষা নিয়েই আপনাদের সকলেই অনেক অনেক শুভেচ্ছা।  

 

ধন্যবাদ। 

 

 

 

 

 

PG/SKD/SB/SB/DM