Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

সুইডেন ও যুক্তরাজ্য সফরের প্রক্কালে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতি


 

সুইডেন এবং যুক্তরাজ্য সফরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন :

“উত্তর ইউরোপ তথা উত্তর আটলান্টিক দেশগুলির শীর্ষ বৈঠক এবং কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রগুলির প্রধানদের বৈঠক উপলক্ষে আগামী ১৭-২০ এপ্রিল পর্যন্ত আমি সুইডেন ও যুক্তরাজ্য সফল করব।

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টিফান লফভেনের আমন্ত্রণে আমার প্রথম সুইডেন সফর উপলক্ষে ১৭ এপ্রিল আমি স্টকহোম-এ অবস্থান করব। ভারত ও সুইডেনের পরস্পরের মধ্যে রয়েছে এক উষ্ণ মৈত্রী সম্পর্ক। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং এক মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক তথা নিয়মনীতি পরিচালিত বিশ্ব শৃঙ্খলার ভিত্তিতেই গড়ে উঠেছে আমাদের দু’দেশের এই অংশীদারিত্বের সম্পর্ক। ভারতের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় সুইডেন হ’ল আমাদের এক মূল্যবান সহযোগী। প্রধানমন্ত্রী লফভেন এবং আমি দু’দেশের বাণিজ্যিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানেও মিলিত হব। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন প্রচেষ্টা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, দক্ষতা বিকাশ, স্মার্টনগরী, বিশুদ্ধ জ্বালানি, স্বাস্থ্য এবং ডিজিটাল পদ্ধতির প্রয়োগ ও ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বদানের মাধ্যমে আমাদের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রচেষ্টার একটি দিশাও আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। সুইডেনের রাজা মাননীয় কার্ল ষোড়শ গুস্টাফের সঙ্গেও আমি এক সাক্ষাৎকার বৈঠকে মিলিত হব।

ভারত ও সুইডেন যুক্তভাবে ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, ডেনমার্ক এবং আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে ১৭ এপ্রিল তারিখে ভারত-নর্ডিক শীর্ষ বৈঠকের আয়োজন করবে। উত্তর ইউরোপ এবং উত্তর আটলান্টিকের এই দেশগুলি নির্মল প্রযুক্তি, পরিবেশগত সমস্যার সমাধান প্রচেষ্টা, বন্দর আধুনিকীকরণ, দক্ষতা বিকাশ এবং উদ্ভাবন প্রচেষ্টার শক্তিতে বিশ্বাস করে। ভারতে রূপান্তরের লক্ষ্যে আমরা যে দৃষ্টিভঙ্গী গ্রহণ করেছি তার সঙ্গে সঙ্গতি ও সাযুজ্য রয়েছে এই দেশগুলির চিন্তাভাবনার।

প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে’র আমন্ত্রণে এ মাসের ১৮ তারিখে আমি লণ্ডনে উপস্থিত থাকব। এর আগে আমি শেষবারের মতো যুক্তরাজ্য সফরে গিয়েছিলাম ২০১৫-র নভেম্বরে। এক বলিষ্ঠ ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতেীক আধুনিক অংশীদারিত্বের শরিক হ’ল ভারত ও যুক্তরাজ্য।

লণ্ডনে অবস্থান করার সুবাদে আমাদের ক্রমপ্রসারমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আরও নতুন কিছু মাত্রা যোগ করার মতো সুযোগ আমাদের সামনে উপস্থিত হবে। স্বাস্থ্য পরিচর্যা, উদ্ভাবন প্রচেষ্টা, ডিজিটাল পদ্ধতির প্রয়োগ ও ব্যবহার, বিদ্যুৎ শক্তির প্রসার, বিশুদ্ধ জ্বালানি এবং সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কিত ক্ষেত্রগুলিতে ভারত-যুক্তরাজ্য অংশীদারিত্বের মাত্রা আরও উন্নীত করার ওপর আমি বিশেষভাবে মনোনিবেশ করব। ‘জীবন্ত সেতু’ এই বিষয়বস্তুকে অবলম্বন করে ভারত ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ককে যাঁরা বহুধা প্রসারিত হতে সাহায্য করেছেন, বিভিন্ন পেশা ও বৃত্তির আরও অনেক মানুষের সঙ্গে আমার যোগাযোগের সুযোগ ঘটবে।

মহামান্য রানীর সঙ্গেও এক সাক্ষাৎকারে আমি মিলিত হব। দু’দেশের সিইও-দের সঙ্গেও এক ফাঁকে আমি সংক্ষিপ্ত কিছু আলোচনা সেরে নেব। তাঁরা অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের এক নতুন কর্মসূচির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে চলেছেন। লণ্ডনে একটি উন্নত আয়ুর্বেদ কেন্দ্রের আমি সূচনা করব। সেই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক সৌর সমঝোতা মঞ্চের নবীনতম সদস্য হিসাবে স্বাগত জানাব যুক্তরাজ্যকে।

১৯ ও ২০ এপ্রিল যুক্তরাজ্য আয়োজিত কমনওয়েলথ রাষ্ট্র-প্রধানদের বৈঠকে আমি যোগদান করব। সেখানে কমনওয়েলথ-এর নতুন সভাপতি হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবে মাল্টা। কমনওয়েলথ হ’ল বহু রাষ্ট্রকে নিয়ে গঠিত একটি অসাধারণ মঞ্চ, যা শুধুমাত্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্র এবং ছোট ছোট বিকাশশীল দ্বীপ রাষ্ট্রকেই সাহায্য করে না, সেইসঙ্গে উন্নয়নের যে কোনও প্রশ্নেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে সোচ্চার হয়।

আমার সুইডেন ও যুক্তরাজ্য সফর এই দেশগুলির সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা প্রচেষ্টার মাত্রাকে আরও উন্নীত করতে সাহায্য করবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে আত্মপ্রত্যয়ী”।

PG/SKD/SB