Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

সুত্তুর মঠের প্রতিষ্ঠাতা জগদ্‌গুরু ডঃ শ্রী শিবারাত্রি রাজেন্দ্র মহাস্বামীজীর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন সমারোহে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

সুত্তুর মঠের প্রতিষ্ঠাতা জগদ্‌গুরু ডঃ শ্রী শিবারাত্রি রাজেন্দ্র মহাস্বামীজীর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন সমারোহে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

সুত্তুর মঠের প্রতিষ্ঠাতা জগদ্‌গুরু ডঃ শ্রী শিবারাত্রি রাজেন্দ্র মহাস্বামীজীর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন সমারোহে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

সুত্তুর মঠের প্রতিষ্ঠাতা জগদ্‌গুরু ডঃ শ্রী শিবারাত্রি রাজেন্দ্র মহাস্বামীজীর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন সমারোহে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


প্রশ্ন উঠেছিল, আমি এখানে হিন্দিতে বক্তব্য পেশ করলে তা অনুবাদ করলে শোনানোর প্রয়োজন হবে কি না? মঠাধ্যক্ষ স্বামীজী নিজেই বললেন, তর কোনও প্রয়োজন নেই, এখানে সবাই হিন্দি বোঝেন। এই পবিত্র উপলক্ষে এখানে আসার সৌভাগ্য লাভ করে আমি ধন্য। এত বিপুল সংখ্যায় হাজির সন্ত মহাপুরুষ, প্রবীণ সন্ন্যাসীদের সান্নিধ্যে আসার সৌভাগ্য আমাদের কমই হয়।

কিছুদিন আগে আমি লন্ডন গিয়েছিলাম। বিশ্ববাসী ভাবেন, গণতন্ত্র-মানবতাবাদ, নারী ক্ষমতায়ন ইত্যাদি বিষয়ের সকল ভাবনাচিন্তার জন্ম বুঝি সেদেশেই হয়েছে। কিন্তু, সেদেশেই বসেশ্বরজীর মূর্তির আবরণ উন্মোচনের সৌভাগ্য আমার হয়েছে। সমাজ সংস্কারক কেমন হওয়া উচিত, নারী ক্ষমতায়ন কী হয়, তৃণমূল স্তরের গণতন্ত্রের শক্তি কেমন হয়, কয়েক শতাব্দী আগে এই ভূমির সন্তান মহাপুরুষ বসেশ্বরজী বিশ্ববাসীর সামনে তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সুইডেনের পার্লামেন্টের স্পিকার সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কয়েক শতাব্দী আগে বসেশ্বরজী কী কী করেছেন আমার বক্তব্যে সেসব শুনে তিনি অবাক হয়ে যান। কয়েক শতাব্দী আগে কেবল ভাবনাচিন্তা-দর্শনে নয়, ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং আচরণের মাধ্যমেও কিভাবে সেসব সিদ্ধ করে দেখিয়েছেন! আজ সেই পরম্পরারই অন্য একটি অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আমি নিজেকে অনেক সৌভাগ্যবান বলে মনে করি।

গোটা বিশ্বে, এই বিষয়ে জ্ঞানের অভাব রয়েছে, আমাদের দেশেও যাঁরা নিজেদের বুদ্ধিমান ভাবেন, এলিট ক্লাস ভাবেন, তাঁরা জানেন না যে, ভারতের ঋষি-মু্নি-সন্ত-মহাত্মা সমাজের কল্যাণে কত বড় বড় কাজ করে গেছেন! জানেন না বলেই যত্রতত্র তাঁদের মুখে আমাদের মহান ঐতিহ্যের সমালোচনা করতে দেখা যায়। এই দেশের বৈশিষ্ট্য হল সহস্রাব্দ প্রাচীন এই সমাজ জীবনে নানা সময়ে নানা ধরণের কুসংস্কার প্রবেশ করেছে। সমাজে বিকৃতি এসেছে, ভুল রীতিনীতি সমাজের আত্মাকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে, কিন্তু এই সমাজের শক্তি দেখুন এই সমাজেই জন্মগ্রহণ করেন অসংখ্য সন্ত, সমাজ সংস্কারক, ঋষি-মুনিরা তাঁরা সমাজপতিদের বিরোধিতা সত্ত্বেও সমাজকে কুসংস্কারমুক্ত করার অবিরাম চেষ্টা চালিয়েছেন।

এঁদের জন্যই এই দেশ, এই পরম্পরা কয়েক হাজার বছর ধরে টিকে রয়েছে। প্রত্যেক যুগে যখনই সংকট এসেছে, কুসংস্কারের শৃঙ্খলে সমাজ আবদ্ধ হয়েছে, এই সমাজ থেকেই একজন নতুন মহাপুরুষ সেসব কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেজন্যই আমি আজ পবিত্র জগদগুরু শিবারাত্রি রাজেন্দ্র মহাস্বামীজীর জন্মশতবার্ষিকী সমারোহে এসেছি, সেই মহান পরম্পরাকে প্রণাম জানাতে এসেছি, যে মহান পরম্পরা সমাজকল্যাণের চিন্তা করে সমাজসংস্কারের কাজে নিয়জিত থেকেছে। আমরা যদি স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকে তাকাই, বিংশ শতাব্দীতে স্বাধীনতা সংগ্রাম যে তীব্র আকার নিয়েছে তাঁর ভিত গড়ে দিয়েছিলেন অষ্টাদশ এবং উনবিংশ শতাব্দীতে আমাদের ভক্তিযুগের সন্ত মহাপুরুষরা। ভারতের পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ সকল প্রান্তের সমস্ত ভাষার এমনি একজন বা একাধিক সন্ত জন্ম নিয়েছিলেন, যাঁরা সমাজের আত্মাকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করে গেছেন। মঠ-মন্দিরের চৌহদ্দী থেকে বেরিয়ে এসে তাঁরা সমাজের আত্মাকে জাগ্রত করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে স্বাধীনতার স্পৃহা জাগিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। ১৮৫৭-র স্বাধীনতার সংগ্রামেই সেই জ্যোতি প্রথম দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। সেই প্রোজ্জ্বলনের ফলস্বরূপ মানুষের স্বাধীনতার স্পৃহা আকাশচুম্বী হতে হতে ১৯৪৭-এর স্বাধীনতায় তা চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। মহাত্মা গান্ধী এই সন্তমহাপুরুষদেরই উত্তরাধিকার বহন করেছেন। দেশ তাঁকে নিছকই একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে গ্রহণ করলে আসমুদ্র হিমাচলের আবালবৃদ্ধবনিতার নেতা হয়ে উঠতে পারতেন না। সেজন্য তাঁকে মহাত্মা আখ্যা দেওয়া হয়েছিল।

এই মঠও তেমনই এক মহাপুরুষের প্রতিষ্ঠিত পীঠস্থান। আগেও আমার এখানে আসার সৌভাগ্য হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে এই মঠের অবদান বিশাল। এখানে প্রায় এক লক্ষ শিক্ষার্থীর জীবন গঠিত হচ্ছে। সন্তরা এখানে সরকারের কাজ করছেন। এভাবে তাঁরা সরকারের বোঝা লাঘব করছেন, সমাজকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলছেন।

আজ এখানে এই শতবার্ষিকী সমারোহে ‘নলেজ রিসোর্স সেন্টার’-এর শুভারম্ভ হয়েছে। একথা সত্য যে পূর্ববর্তী শতাব্দীগুলিতে ধনশক্তি কিংবা সৈন্যশক্তিকেই রাষ্ট্রশক্তি পরিমাপের আধার মানা হতো। কিন্তু, একবিংশ শতাব্দী জ্ঞানচর্চার শতাব্দী। যে দেশের কাছে যত বেশি তথ্য, যত বেশি জ্ঞান, সময় থেকে এগিয়ে থাকা উদ্ভাবনী শক্তি থাকবে তারা অন্যান্য দেশ থেকে তত এগিয়ে থাকবে। সন্তরা একবিংশ শতাব্দীর এই শক্তিকে চিনতে পেরেছেন এবং সেই শক্তিকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ঋদ্ধ করে তুলতে আজ এই ‘নলেজ রিসোর্স সেন্টার’ আজ শুরু করছে।

বিগত অনেক শতাব্দী ধরে মানবজাতি যে গতিতে জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তি-ভিত্তিক উন্নয়নের পথে হেঁটেছে একবিংশ শতাব্দীতে সেই গতি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন প্রতি বছর, প্রতি মাসের প্রত্যেক দিনের প্রতিটি ঘন্টা বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কার, প্রযুক্তির প্রভূত্ব সমাজ জীবনকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। আগে কখনও এমনটি হয়নি। আমরা সাধারণ মানুষ কল্পনাও করতে পারবো না, এত দ্রুত প্রযুক্তি উন্নয়ন হচ্ছে। আমরা সেসব প্রযুক্তির ব্যবহার ভালোভাবে সড়গড় হয়ে ওঠার আগেই বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কারে প্রযুক্তিকে আরও এগিয়ে দিচ্ছে। ভারত কি এখন অপেক্ষা করবে যে কোনও মহাপুরুষ, সন্ত মহাত্মার আশীর্বাদধন্য হয়ে দেশ মহান হবে। কোনও সন্ত কিন্তু এরকম মনে করেন না। সন্তানরাই তাই এই ‘নলেজ রিসোর্স সেন্টার’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

নতুন নতুন আবিষ্কার হওয়া উচিত। আপনারা জানেন, কিছুদিন আগেই প্যারিসে বিশ্বের সমস্ত দেশের নেতারা বিশ্ব উষ্ণায়ন থেকে মানবজাতিকে রক্ষার উপায় খুঁজে বের করতে একত্রিত হয়েছিলেন। সেখানে দুটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রথমতঃ, ভারত, আমেরিকা, ফ্রান্সের প্রতিনিধিরা এই সঙ্কটের সম্মুখীন হওয়ার উপযোগী আবিষ্কারের উপর জোর দিয়েছে। আর দ্বিতীয় সিদ্ধান্তটি হল, বিশ্বের যে ১২২টি দেশের মানুষ বছরে ৩০০ দিনের বেশি সূর্যালোক পান তারা একত্রিত হয়ে সেই সূর্যশক্তিকে মানবজাতির কল্যাণে কতভাবে কাজে লাগানো যায় তা নিয়ে গবেষণা ও যৌথ প্রয়োগে উৎপন্ন সৌরশক্তিকে বিকল্প শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে ভারতের নেতৃত্বে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছে।

এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হবে। এর ভিত্তি হল জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং আবিষ্কার। মানবজীবনে বড় পরিবর্তন আনতে এটি একটি পদক্ষেপ। আমি জানি, এই উত্তম পদক্ষেপের মাধ্যমেই পূজ্য স্বামীজীর জন্মশতবার্ষিকীতে সর্বশ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হচ্ছে। সেজন্য আপনাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, আপনাদের আমার অভিনন্দন জানাই।

এ ধরণের উত্তম প্রয়াসের ক্ষেত্রে ভারত সরকার সর্বদা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত। এই উৎকৃষ্টমানের গবেষণা কেন্দ্র থেকে যেসব উদ্ভাবন সমাজ জীবনে কাজে লাগাবে, জ্ঞান ভান্ডার বৃদ্ধি করবে, মানবজাতির কল্যাণে সহায়ক হবে, সেই লক্ষ্যে আমরা সকলে চেষ্টা চালিয়ে যাব।

আজ আমি যখন এই পবিত্র অনুষ্ঠানে এসেছি, আমি বীর সৈন্যদের জন্য গর্ব করতে চাই, তাঁদের কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, অভিনন্দন জানাতে চাই। যুদ্ধের সময় তাঁরা শ্ত্রু দেশ এবং প্রতিপক্ষ সেনাবাহিনীর উপর মহাবিক্রমে ঝাপিয়ে পড়েন। আজ যখন মানবতার শত্রুরা ভারতের অগ্রগতি দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে আমাদের উপর চোরাগোপ্তা আক্রমণ হানছে, এই যেমন আজ পাঠানকোট বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে জঙ্গীহানা চালিয়েছে, আমাদের নিরাপত্তা কর্মীরা তাঁদের আক্রমণ প্রতিহত করেছে, তাঁদের মেরে ফেলেছে। দেশের সম্পত্তি মানবতার শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে যে নিরাপত্তাকর্মীরা শহীদ হয়েছেন, আমি তাঁদের আত্মোৎসর্গকে প্রণাম জানাই আর দেশবাসীকে আশ্বস্ত করি যে শত্রুর অপবিত্র ইচ্ছাকে সমূলে উৎপাটন করার সামর্থ্য আমাদের সেনা ও নিরাপত্তাকর্মীদের রয়েছে। আমি সেই অকুতোভয় বীর যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, সেই নিরাপত্তা বাহিনীগুলিকে অভিনন্দন জানাই আর এমন সময়ে দেশের আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য্য এবং রাষ্ট্রীয় একতার সমস্বরকে সেলাম জানাই। এই সমস্বর এত জোরালো যে এতে শত্রুর ঘর-সংসার ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব। আমরা সেই সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাব। এই প্রত্যাশা নিয়েই আপনাদের সকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই। পূজ্য স্বামীজীর চরণে প্রণাম জানাই আর আশা করি এই ‘নলেজ রিসোর্স সেন্টার’ আমাদের একবিংশ শতাব্দীতে নতুন শক্তি জোগাবে। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

PG/SB/SB