পিএমইন্ডিয়া
সভাগৃহে উপস্থিত সুপ্রিম কোর্টের শ্রদ্ধেয় বিচারপতিবৃন্দ, বাইরে থেকে আসাবন্ধুগণ, ভাই ও বোনেরা,
আজ বুদ্ধ পূর্ণিমা। এই বুদ্ধ পূর্ণিমার পবিত্র পার্বণে আপনাদের সবাইকে এবংদেশবাসীকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। দেশ বদলাচ্ছে, ছুটির দিন, কিন্তু আমরা কাজ করছি।আজকের দিনটির আরেকটি বিশেষত্ব রয়েছে। ১৮৫৭ সালে এই ১০ মে তারিখেই স্বাধীনতাসংগ্রামের প্রথমপর্ব সিপাহী বিদ্রোহ রূপে ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল।
আজ ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার পক্ষ থেকে আধুনিকতার দিকে আরেক পা বাড়ানো হচ্ছে।সেজন্য আমি মাননীয় প্রধান বিচারপতি এবং তাঁর গোটা টিমকে হৃদয় থেকে অনেক অনেককৃতজ্ঞতা জানাই, অভিনন্দন জানাই। এর আগে, তাঁর সঙ্গে এলাহাবাদ হাইকোর্টে দেখাহয়েছিল। তিনি সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একটি বিস্তারিত পরিসংখ্যান পেশ করেবলেছিলেন, দেশে কত লক্ষ লক্ষ মামলা অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে! তিনি দেশের সকলবিচারপতির কাছে আবেদন রেখেছিলেন, যাতে তাঁরা গ্রীষ্মাবকাশ এবং পুজোর ছুটির সময়কিছু অতিরিক্ত দিন আদালত খোলা রেখে কাজ করেন। এমন আবেদন শুনে আমি খুব প্রেরণাপেয়েছিলাম। তারপর, একথা জেনে খুব খুশি হয়েছি যে, তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে সুপ্রিমকোর্ট এবং দেশের অনেক হাইকোর্টে অধিকাংশ বিচারপতিরাই এবছর দেশের গরিব মানুষদেরস্বার্থে বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে গ্রীষ্মাবকাশে কাজ করার সিদ্ধান্তনিয়েছেন। এজন্য আপনাদের কৃতজ্ঞতা জানাই। পরিমাণগতভাবে এর পরিণতি কী হবে জানিনা কিন্তু এই ধরনের ভাবনা সমগ্র পরিবেশকেইবদলে দেয়। দায়িত্বশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে একটি নতুন বিশ্বাসজন্ম নেয়। ‘নতুন ভারত’-এর জন্ম এই নতুন বিশ্বাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আর সেজন্য আমিআপনাদের সবাইকে হৃদয় থেকে অনেক কৃতজ্ঞতা জানাই।
প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে সরকারের যে অভিজ্ঞতা, আমি রাজ্যেও কাজ করেছি,এখানেও কাজ করছি, দুর্ভাগ্যবশত দেশের রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার এবং সরকারের সঙ্গেযুক্ত সকল ব্যবস্থা যতটা বরাদ্দ করে, তা হল হার্ডওয়্যার বাবদ। হার্ডওয়্যার কেনা, হার্ডওয়্যারবসানোকেই আমরা প্রযুক্তি বলে মেনে নিয়েছি। আগে যেমন সরকারি অফিসগুলিতে আধিকারিকদেরঘরে গেলে টেবিলের ওপর ফুলদানি থাকতো, ছোট আধিকারিক হলে ছোট ফুলদানি আর বড় আধিকারিকহলে বড় ফুলদানি থাকতো! যুগ বদলে গেছে, এখন সেই ফুলদানির স্থান নিয়েছে কম্প্যুটার।অনেকে তো একে কোনও দিন খোলেনও না, হাত-ও লাগান না! কিন্তু দেখতে খুব ভাল লাগে।সেজন্য সমস্যা প্রযুক্তির নয়, বাজেটেরও নয়, সমস্যা হ’ল মানসিকতার। আজ বুদ্ধপূর্ণিমা। ভগবান বুদ্ধের একটি বাণী অত্যন্ত প্রেরণাদায়ী । তিনি প্রায়ইবলতেন, ‘মন বদলায়, মত বদলায়, মন্তব্য বদলায় – তখনই পরিবর্তন শুরু হয়। এখন তো ছ’মাসনা হতেই মোবাইল ফোনের সেট পুরনো লাগতে শুরু করে, নতুন মডেলের মোবাইল ফোন কেনারবায়না শুরু হয়। যত নতুন মডেলের ফোনই আসুক না কেন, অনেকের পকেটে ‘কন্ট্যাক্ট লিস্ট’লেখা ছোট ডায়েরি থাকে। মোবাইল ফোনে ‘কন্ট্যাক্ট লিস্ট’-এর পুরো ব্যবস্থা থাকলেও ঐডাইরি রাখতে হয়। বন্ধুদের মাঝে বসি বলে আধুনিক প্রযুক্তির মোবাইল ফোন চাই। কিন্তুসবুজ আর লাল বোতাম টেপা ছাড়া আর বিশেষ কোনও ব্যবহার জানি না। পরিস্থিতি এমন যেআমরা কাউকে এসএমএস পাঠিয়ে আবার তাঁকে ফোন করে জিজ্ঞেস করি, আমার এসএমএস পেয়েছো?সমস্যা সফট্ওয়্যার কিংবা হার্ডওয়্যারে নিহিত নেই, এর জন্য একটি মিলিত মত তৈরিকরতে হয়, একটি শৃঙ্খল ছিঁড়ে গেলে সমগ্র প্রক্রিয়াটিই থমকে দাঁড়ায়। এখন দেখুন, আমিসহ আমরা যতক্ষণ হাতে নিয়ে খবরের কাগজ না পড়ি, ততক্ষণ মনেই হয় না যে, খবরের কাগজপড়েছি। কিন্তু নবীন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা খবরের কাগজ ছুঁয়েও দেখে না, তাঁরা মোবাইলফোনে আঙুল স্পর্শ করে করে দুনিয়ার সমস্ত খবরের খুঁটিনাটি জেনে যান। এই পরিবর্তনেরসঙ্গে আমাদের নিজেদের জুড়তে হবে, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের আবহ গড়ে তুলতে হবে,তবেই সাফল্য আসবে। দু-এক জনের উৎসাহে চলবে না।
সেজন্য মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয় বলছিলেন যে, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবংআলাপ-আলোচনা শুরু করা হয়েছে। যাতে ব্যবস্থার উপর থেকে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত একেভালভাবে চালু করা যায়! প্রযুক্তির ক্ষমতা বড় অদ্ভুত। যাঁরা এই ক্ষমতাকে অনুভবকরবেন, তাঁরাই একে ব্যবহারের কথা ভাববেন। গোড়ায় বেশ ভয় করে, মনে হয় – পারবো না!আপনারা ভাবুন, যখন বাড়িতে প্রথমবার টিভি এসেছিল, কিংবা ভিসিআর এসেছিল, একই অবস্থাছিল, অথচ আপনার বাড়ির কনিষ্ঠ সদস্যটি কিন্তু সহজেই তা চালাতে পারতো। এই যেপ্রজন্মের ব্যবধান – সমস্যা এখানেই লুকিয়ে থাকে!
এই ব্যবধানকে মানিয়ে নেওয়া পূর্ববর্তী প্রজন্মের জন্য সামান্য কঠিন হয়।কিন্তু একে মানিয়ে নিয়ে অভ্যাসে না আনতে পারলে তৃণমূল স্তরে চালু করা অসম্ভব। এটাইনতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের সবচাইতে বড় সমস্যা!
আমার মতে, ‘ই-গভর্ন্যান্স’ হ’ল ‘ইজি-গভর্ন্যান্স, এফেক্টিভ গভর্ন্যান্স, ইকোনমিকালগভর্ন্যান্স, এনভায়রনমেন্ট ফ্রেন্ডলি গভর্ন্যান্স। আমরা এই ই-গভর্ন্যান্সকে জীবনেরপ্রত্যেক ক্ষেত্রে কিভাবে প্রয়োগ করব? আমরা যে আজ কাগজ ব্যবহার করি, একটি ‘এ-ফোর’মাপের কাগজ উৎপাদনে গোটা প্রক্রিয়ায় মোট ১০ লিটার জল লাগে। তবেই ভাবুন, আমরা যদি‘পেপার-লেস’ ব্যবস্থা চালাতে পারি, তা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কত বড় কাজ করেযাব! কত অরণ্য বাঁচাতে পারব এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারব! বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতেপারা মানে পরিবেশ দূষণকে অনেকটা প্রতিহত করতে পারা। এই নতুন ব্যবস্থা এমনইশক্তিশালী, কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত সাহস করে বাই নিয়মিত ব্যবহার না করব – ভয় ওদ্বিধা কাটবে না! তার মানে এই নয় যে, আগের সবকিছু খারাপ, নতুন সবকিছু ভাল এভাবেপ্রচার করব! বিষয়টিকে এভাবে দেখার কোনও প্রয়োজন নেই। বলতে হবে, নতুন ব্যবস্থাঅত্যন্ত সরল, এতে খুব কম সময়ে কাজ সম্পন্ন হয়।
সাধারণত, সরকার এবং সরকারি বিভাগগুলি মনে করে, আমরা যা করছি, তাই খুব ভাল,আমাদের কোনও ভুল নেই, আমাদের কোনও ত্রুটি নেই! যাঁরা যেখানে কাজ করেন, সেখানকারব্যবস্থা সম্পর্কে এরকম ভাবা স্বাভাবিক। মাস দুয়েক আগে আমি একটু ঝুঁকি নিয়ে সকলসরকারি বিভাগে বার্তা পাঠিয়েছি, আপনাদের মতে, ব্যবস্থায় কোথাও কোনও ত্রুটি রয়েছেকি না, কোনও ভুল হচ্ছে কি না, কোনও প্রক্রিয়াকে সরলতর করার প্রয়োজন রয়েছে কি নাজানান! কিছুদিন তো কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি, বড়কর্তারা বলতেন, না সাহেব, আমাদের তোসবই ঠিক চলছে। কিন্তু তারপরই নানা পরামর্শ আসতে শুরু করে, আমি পেছনে পড়ে থেকেপ্রায় ৪০০টি এমন সমস্যা সনাক্ত করি, যেগুলির সমাধান করতেই হবে! আমি এগুলি সমাধানেরদায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে, বিশেষ করে ১৮-২২ বছর বয়সী ছাত্রছাত্রীদের কাজ দিয়েসাফল্য পেয়েছি। তাদের জন্য একটি ‘হ্যাকাথন’ কর্মসূচি শুরু করেছি, তাদেরকে ৩৬ ঘন্টাধরে একই ছাদের নীচে রেখে বলেছি, এই সমস্যাগুলির সমাধানের পথ তোমাদেরই খুঁজে বেরকরতে হবে। শতাধিক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২ হাজার ছাত্রছাত্রী ঐ হ্যাকাথনকর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছে। আর আমাকে অবাক করে দিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দেড়দিনেরমধ্যেই তাঁরা অধিকাংশ সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করেছে। আর তাদের বের করা সরকারিদপ্তরগুলির পছন্দও হয়েছে। বেশ কয়েকটি বিভাগ তো ইতিমধ্যেই ঐ সমাধানগুলি কার্যকর করেবিভাগীয় কর্মপ্রক্রিয়াকে ত্রুটিমুক্ত ও দ্রুত করে তুলেছে। গত দু’মাসের মধ্যেইএগুলির বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। তার মানে, আমাদের হাতের কাছেই অপার সম্ভাবনা রয়েছে,আমাদের শুরু চেষ্টা করে যেতে হবে। আমি চাই, আপনারাও এ ধরনের সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতাঅনুভব করলে, সেগুলি সমাধানের দায়িত্ব নবীন প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে পারেন!দেখবেন, তারা নতুন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে আপনাদের ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলিকে কতদ্রুত দূর করে দেবেন! আমার মতে, আইটি+আইটি = আইটি, এটা কোনও গণিতের বিষয় নয়।আইটি+আইটি = আইটি’র মানে হ’ল, ইনফরমেশন টেকনোলজি + ইন্ডিয়ান ট্যালেন্ট = ইন্ডিয়াটুমরো! আমাদের এই সামর্থ্য রয়েছে। আমরা কিভাবে এই সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে সামনেএগিয়ে যাব!
একটা সময় ছিল, যখন টেরাকোটা কিংবা পোড়ামাটির মুদ্রা তৈরি হতো। সময়পরিবর্তনের সঙ্গে কখনও তাম্রমুদ্রা, রৌপ্যমুদ্রা, স্বর্ণমুদ্রা এমনকি চর্মমুদ্রাচালু হয়েছিল। তারপর ধীরে ধীরে কাগজের টাকা চালু হয়। যুগ পরিবর্তনের সঙ্গে এইপরিবর্তনগুলি আমাদের পূর্বজরা স্বীকার করে নিয়েছিলেন। এখন কাগজের টাকাকে বিদায়জানিয়ে সম্পূর্ণ ডিজিটাল অর্থ ব্যবস্থা চালু করার সময় এসেছে। এই পরিবর্তনে আমাদেরঅভ্যস্ত হতে হবে। এই পরিবর্তন অনুযায়ী আমাদের স্বভাব বদলাতে হবে।
এ বিষয়ে আমারও তেমন অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু গত বছর ৮ নভেম্বরের পর থেকে এবিষয়ে আমি আগ্রহ দেখাতে শুরু করি। আমি ৮ নভেম্বর বিমুদ্রাকরণের পর অনুভব করি যে,নোট ছাপানো, তাকে সুরক্ষিত রাখা, ব্যাঙ্কগুলিতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পরিবহণব্যবস্থার পেছনেই দেশের কোটি কোটি টাকা প্রতিদিন খরচ হয়। একটি এটিএম পাহারা দিতেছ’জন নিরাপত্তা কর্মী লাগে। এইসব খরচ সাশ্রয় করতে সরকার প্রযুক্তিবিদদের দ্বারস্থহয়। আর আমাদের অবাক করে দিয়ে তাঁরা খুব কম সময়ের মধ্যেই ‘ভীম অ্যাপ’ উদ্ভাবন করেন।এই অ্যাপ আপনার মোবাইল ফোনে ডাউনলোড করে নিন, এক টাকাও খরচ নেই, তারপর এর মাধ্যমেইআর্থিক লেনদেন, কেনাবেচা শুরু করে দিন। কোনও সমস্যা নেই। টাকায় হাতও দিতে হবে না।এভাবে সরকারের যে কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় হবে, তা গরিব জনসাধারণের ছেলেমেয়েদেরশিক্ষা, গৃহহীনদের জন্য গৃহ নির্মাণে ব্যবহার করা যাবে।
প্রযুক্তি গোটা অর্থনৈতিক পরিবেশকেই বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। আমরা একে কত দ্রুতএবং কিভাবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজে লাগাব, তা নিয়ে ভাবতে হবে। আমার অভিজ্ঞতাবলে, মানুষ দ্রুত সচেতন হচ্ছেন, দ্রুত এর গুরুত্ব বুঝতে পারছেন। নিজে না পারলেওনবীন প্রজন্মের কাউকে সঙ্গে রাখছেন, প্রয়োজনে নিয়োগ করছেন, আজ আমরা প্রযুক্তির যেযুগে আছি, বিগত এক হাজার বছরে প্রযুক্তি সমাজজীবনে যেসব দায়িত্ব পালন করেছে, যতপরিবর্তন এসেছে বিগত ৩০ বছরে তার থেকে সহস্রগুণ বেশি সামাজিক দায়িত্ব পালন করেছে।যে কাজ হাজার বছরে হয়নি, তা গত ত্রিশ বছরে হয়েছে। আর আজ যা হচ্ছে, অল্পদিনেরমধ্যেই তা-ও বাতিল হয়ে যেতে পারে। এত দ্রুত প্রযুক্তি বদলাচ্ছে যে, সেদিন আর দূরেনেই যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পাবে। হয়তো মানবজাতিকেই শাসনকরবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনা করবে। এতে ভাল হবে কি খারাপ হবে, তা বিতর্কেরবিষয়। কিন্তু এটাই বাস্তব। চালকহীন গাড়ি আসবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সে গাড়ি চলবে।তা হলে, যাঁরা গাড়ি চালানো শিখেছেন, তাঁদের কী হবে? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রচলনেরপর কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কিরকম? এ বিষয়ে যাঁরা বিশারদ, তাঁরা বলছেন, কৃত্রিমবুদ্ধিমত্তা প্রচলনের পর কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও নাকি বিরাট মাত্রায় বৃদ্ধি পাবে।তখন গোটা বিশ্ব নতুন ভাবনার পথে পরিচালিত হবে, সেজন্য নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুতথাকতে হবে। এসব কথা বলার অর্থ হ’ল বিশ্ব কত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, প্রযুক্তিমানবজাতিকে কোন্ পথে পরিচালিত করতে যাচ্ছে, আমরা যদি সেই প্রেক্ষাপটের সঙ্গেনিজেদের সামান্য মানিয়ে নিতে না পারি, তা হলে ব্যবধান এত বেড়ে যাবে, আর আমরা এতইঅপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ব, যে আমাদের দিকে ফিরে তাকানোর কেউ থাকবে না। সেই অবস্থা আসতেখুব বেশি দেরী নেই।
সেজন্যই মহাকাশ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আমরা জোর দিচ্ছি। আজ ভারত মহাকাশপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশ্ববাসীর শ্রদ্ধা আদায় করে নিয়েছে। আমাদেরমঙ্গলযান, প্রথম প্রচেষ্টাতেই সাফল্যের সঙ্গে মঙ্গলগ্রহে পৌঁছে গেছে। মঙ্গলযাত্রারক্ষেত্রে এই সাফল্য দৃষ্টান্তস্বরূপ। আর এত কম খরচে তাঁরা এই অসম্ভবকে সম্ভবকরেছেন যে কী বলবো! আজ আমরা যদি একটা ট্যাক্সি ভাড়া করি, তা হলে কিলোমিটার প্রতি১০-১১ টাকা দিতে হয়। আর আমাদের বৈজ্ঞানিকরা মঙ্গলগ্রহে মহকাশ যান পাঠিয়েছেন,কিলোমিটার প্রতি মাত্র ৭ টাকা খরচ করে। হলিউডে মহকাশযাত্রা নিয়ে কোনওকল্পবিজ্ঞানের চলচ্চিত্র নির্মাণে যত টাকা খরচ হয়, তার থেকে কম খরচে ভারতীয়বৈজ্ঞানিকরা সত্যি সত্যি মঙ্গলগ্রহে মঙ্গলযান পাঠিয়ে দিয়েছেন। এই হ’ল আমাদেরবৈজ্ঞানিকদের আশ্চর্য প্রতিভা আর সামর্থ্য। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, মহাকাশ বিজ্ঞানেএত বড় সাফল্যের অধিকারী দেশটি ফলিত বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। আমরাসরকারে আসার পর, আমি একটি কর্মশালার আয়োজন করি, যেখানে সকল বিভাগের যুগ্মসচিবেরাঅংশগ্রহণ করেন, সেখানে প্রশাসনের ক্ষেত্রে মহাকাশ প্রযুক্তিকে কিভাবে সর্বাধিকউপযোগী করে তোলা যায়, যেমন মহাকাশ প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা সড়কনির্মাণের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বাঁক না রেখে সরল নক্শা তৈরি করতে পারি। আদিবাসীজনজাতিদের জমির অধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রেও আমরা মহকাশ প্রযুক্তির ব্যবহার করেছি।মহকাশ চিত্রের মাধ্যমে বনভূমি চিহ্নিত করে সেখানে যে জমিগুলিতে কৃষিকাজ করা হ’ত ১৫বছর পুরনো মহকাশ চিত্রের সঙ্গে তুলনা করে, সেই কৃষিজমিগুলিতে যে আদিবাসী ভাই-বোনেরঅধিকার বর্তায়, তাঁদের কোনও বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও ঐ মহাকাশ চিত্রকে দলিল হিসাবেগ্রহণ করে আমরা তাঁদের জমির পরচা দিয়েছি।
আজ বিচার ব্যবস্থায় বিশেষ করে, ফৌজদারি বিচারের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিরসাহায্যে ন্যায়-বিচারের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু মোবাইল ফোন এমনসব প্রমাণরেখে যায় যে, বৈজ্ঞানিকভাবে সেগুলিকে প্রমাণ হিসাবে পেশ করা যায়। ফরেনসিকবিজ্ঞানের ভূমিকা প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সিসিটিভি ক্যামেরারফুটেজ দেখে আপনারা দ্রুত রায় দিতে পারেন। একথা বলার তাৎপর্য হ’ল গোটা বিচারব্যবস্থার সামর্থ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ফরেনসিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির একটিগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আমরা যত দ্রুত এই জিনিসগুলিকে প্রয়োগ করা শিখব, ততনিখুঁত বিচার করতে পারব।
এখন কেউ কল্পনা করতে পারেন যে, ক্রিকেটে আগে আম্পায়ারকেই সকল সিদ্ধান্তনিতে হ’ত। এখন তো থার্ড আম্পায়ার ঠিক করে, বলটা ঠিক ছিল কি না, দাগে পা ছিল কি না –আর আলো জ্বেলে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়। সেজন্য আম্পায়ারদের চাকরি কিন্তু চলে যায়নি।তাঁদের সিদ্ধান্ত আরও নিখুঁত হয়েছে।
একটু আগেই রবিশঙ্করজি ‘প্রো-বোনো’ নিয়ে কথা বলছিলেন। আমি আপনাদের সবারসামনে বলতে চাই যে, আমাদের দেশের ভাবনাচিন্তা এই দেশের নাগরিকরা এরকম – এটা বাস্তবনয়। এই দেশের মেজাজকে চিনতে হবে, এ দেশের মেজাজ আলাদা। এটা সেরকম মঞ্চ নয়। আমি যেউদাহরণ দিতে চলেছি, সেটা এখানকার উপযোগী। তবুও আপনারা আমাকে ক্ষমা করবেন। ২০১৪সালে সাধারণ নির্বাচনের আগে আমার দল যখন আমাকে ভাবি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণাকরেছিল, তখন প্রধান শাসক দল কংগ্রেসের বড় বড় নেতানেত্রীদের উপস্থিতিতে দিল্লিতেএকটি বড় দলীয় সভা হয়েছিল । সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, এবার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসাবেদেশের মানুষকে বছরে ৯টি রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের পরিবর্তে ১২টি সিলিন্ডারদেওয়া হবে। সে সময় লোকসভায় বছরে ৯ না ১২টি সিলিন্ডার দেবে, এই নিয়ে বিতর্কওহয়েছিল। নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হয়ে প্রথমবার লালকেল্লার প্রাকার থেকে আমিসম্পন্ন দেশবাসীদের কাছে একটি ছোট্ট অনুরোধ রাখি যে, যদি সম্ভব হয়, আপনারা রান্নারগ্যাসে ভর্তুকি ছেড়ে দিন, এটুকুই বলেছিলাম। আর আমি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বলতেপারি, আমার দেশের ১ কোটি ২০ লক্ষ পরিবার আমার আবেদনে সাড়া দিয়ে রান্নার গ্যাসেভর্তুকি ছেড়ে দেন। সেই বছরে ৯-১২টি সিলিন্ডারের প্রেক্ষিত থেকে তুলে এনে দেশকেআজকের অবস্থায় পৌঁছে দিতে পেরেছি। কারণ, আমরা দেশের সামর্থ্যকে জানি।
একবার আমি চিকিৎসকদের কাছে আবেদন রাখি যে, আপনারা ব্যস্ত মানুষ, সারা মাসরোগী দেখেন। শুধু প্রত্যেক মাসের ৯ তারিখ দরিদ্র গর্ভবতী মহিলাদের কাছ থেকে কোনওফি না নিয়ে, তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পারেন কী? আপনারা শুনে খুশি হবেন যে,দেশের কয়েক হাজার স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ নিজেদের ক্লিনিকের বাইরে নোটিশ ঝুলিয়ে দেনযে, প্রতি মাসের ৯ তারিখ গরিব গর্ভবতী মহিলাদের নিঃশুল্ক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাহবে, অনেকে তো বিনা পয়সায় প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রও দিয়ে দেন।
আমি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, ভয়ানক ভূমিকম্পের ধ্বংসলীলায় গুজরাটবিধ্বস্ত হয়ে উঠেছিল, তখন আমি রাজ্যের ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রছাত্রীদের কাছে ছ’মাসনিঃস্বার্থ পরিষেবার আবেদন জানিয়েছিলাম। অসংখ্য ছাত্র আমার আবেদনে সাড়া দিয়েযুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করে গুজরাটের পরিকাঠামো স্বাভাবিক করে তোলে। আজ আমি দেশেরবিচার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত মহানুভব ব্যক্তিদের বিশেষ করে উকিল বন্ধুদের কাছেআবেদন রাখছি, এই যে আমরা ‘প্রো-বোনো’ নামক অ্যাপটি তৈরি করেছি, সেটিকে আপনারা সবাইডাউনলোড করুন। নিজেদের নাম নথিভুক্ত করে অঙ্গীকার করুন যে, আপনারা দেশের হতদরিদ্রমানুষদের আইনি সাহায্য দানের ক্ষেত্রে নিঃশুল্ক পরিষেবা দেবেন। গরিব মানুষদের আইনিসাহায্য দেওয়ার ক্ষেত্রে গোটা দেশে আপনারা একটি আন্দোলন গড়ে তুলুন। প্রযুক্তিরউত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে এই ‘প্রো-বোনো’ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। প্রযুক্তিরমাধ্যমে যাঁদের দরকার, তাঁরা আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, এক্ষেত্রে ছোট ছোটঅ-সরকারি সংস্থাগুলিও লিঙ্ক-আপ করে এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে পারে। দেশের কোনওদরিদ্র বিধবা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকাও যদি অন্য গরিব মায়েদের ঘরে গ্যাসের উনুন পৌঁছেদেওয়ার স্বার্থে নিজে লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস সিলিন্ডারে ভর্তুকি পরিত্যাগ করতেপারেন, সারা দেশের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা যদি প্রতি মাসের ৯ তারিখে গরিবমায়েদের নিঃশুল্ক পরিষেবা দেন, বিপর্যয়ের সময় দেশের নবীন প্রজন্মের কারিগরিপ্রশিক্ষণরত ছাত্রছাত্রীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করতে পারেন, আমার দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে ৪২ হাজার নবীন বিজ্ঞানী যদি ৩৬ ঘন্টা খাওয়া-দাওয়া শিকেয় তুলেএক ছাদের নীচে সমবেত হয়ে দেশের ৪০০টি প্রশাসনিক সমস্যা সমাধান করে দিতে পারে, তাহলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, আমারা উকিল বন্ধুরাও এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এগিয়ে এসেগরিব মানুষদের সাহায্য করার মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে লাগবেন।
এই আশা নিয়ে, আপনারা যে নতুন প্রক্রিয়া শুরু করলেন, খানউইলকর মহোদয়কে আমিঅনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। প্রধান বিচারপতি সাহেবকে অনেক অভিনন্দন জানাই। আমিবিশ্বাস করি, ডিজিটাল ইন্ডিয়ার লক্ষ্যে বিচার ব্যবস্থায় আধুনিকতম প্রযুক্তিরব্যবহারে আপনাদের এই প্রচেষ্টা দেশকে উন্নত পরিষেবা প্রদান করবে। অনেক অনেকধন্যবাদ।
PG/PB/SB
Our understanding of technology should not be limited to hardware only: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) May 10, 2017
When it comes to technology, it is true that mindset became a problem: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) May 10, 2017
Embracing technology can't happen if only a few people are keen on it. The scale must be larger: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) May 10, 2017
E-governance is easy, effective and economical. It is also environment friendly. Paperless offices will benefit the environment: PM
— PMO India (@PMOIndia) May 10, 2017
Technology has the power to transform our economic potential as well: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) May 10, 2017
Impact and influence of artificial intelligence is going to increase. Space technology is also becoming important: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) May 10, 2017
Need of the hour is to focus on application of science and technology: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) May 10, 2017
Let us create a mass movement to provide legal aid to the poor: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) May 10, 2017