Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

‘সেতু ভারতম’-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

‘সেতু ভারতম’-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল রাজ্য থেকে আগত প্রতিনিধিগণ, আমার মন্ত্রী পরিষদের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, সাংসদ মহোদয়গণ এবং অন্য সকল সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ।

সাধারণত, সরকার দু-একটি সেতু নির্মাণ করলে, দু-একটি সড়ক নির্মাণ করলে তাকে বড় ঘটনা বলে মানা হয়। সংবাদমাধ্যমের নজর সেদিকে থাকে। সবাই এই বিষয়ে কথা বলতে থাকেন, কারণ অনেক বছরের দাবি পূরণ আর ১৫ বছর প্রতীক্ষার পর কিছু হয়েছে। আমরা এই অনুভূতি বুঝতে পারি। সেজন্য আমরা একটি পূর্ণাংগ সুসংহত দৃষ্টিভংগী গ্রহণ করেছি। আমরা সমস্যাগুলি সম্পর্কে জানি, দেশকে সেসব সমস্যা থেকে বাইরে বের করতে সম্পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করেছি। সাধারণত সরকার দফায় দফায় কাজ করতে অভ্যস্ত। প্রথমে পাঁচটা, তারপর সাতটা, তারপর দশটা। আমরা কোয়ান্টাম জাম্প বা বিরাট লাফের চেষ্টা করেছি, ব্রেক-থ্রু করেছি, পুরনো গতি এবং নির্ণয়ের প্রক্রিয়া থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসার। গতি বাড়িয়ে দেওয়া, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, এভাবেই সকল পরিকল্পনা সার্থক হয়।

‘সেতু ভারতম’, এখনই নীতিনজি বলছিলেন, আপনারা শুনলে অবাক হবেন যে এত বড় সরকারি ব্যবস্থায় কেউ জানে না কোন সেতুর ঠিকানা কোথায়। কেমন করে এতদিন কাজ হত ! আমি কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে দোষ দিতে চাই না, অমুক প্রধানমন্ত্রী, তমুক প্রতিমন্ত্রীকে দোষারোপ করতে চাই না। ব্যবস্থার দোষ, আমরা এই বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দিই না। আমরা সেজন্য গোড়াতেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছি। সেতুগুলির গ্রেডেশানের কাজ এখনও চলছে, বয়সের নিরিখে, দৈর্ঘ্য-প্রস্থের নিরিখে, উপকরণের নিরিখে, নকশার নিরিখে স্তরবিভাজন চলছে। সেগুলির ঠিকানা নির্দিষ্ট করা হচ্ছে মহাকাশ প্রযুক্তির মাধ্যমে অক্ষরেখা, দ্রাঘিমা রেখার হিসেবে। কাগজে-কলমে যেখানে সেতু রয়েছে সেখানে সত্যি সত্যি সেতু রয়েছে কিনা সেটাও আমরা এবার জানতে পারব।

আগে হাইওয়ে বা জাতীয় মহাসড়ক নির্মাণের জন্য জমি কেনা হত, কিন্তু হাইওয়ে নির্মিত হতেই তার দু’পাশের জমি জবরদখল হত। এখন সেই পথকে ফোর লেন কিংবা সিক্স লেন করতে চাইলে প্রস্থের দিকে বাড়ানো সম্ভব হয় না। জবরদখলকারীদের উচ্ছেদ করা সম্ভব হয় না প্রত্যেক দু’বছর পর যে নির্বাচন আসে তার ভোটবাক্সে প্রভাব পড়ার ভয়ে। তাছাড়া জবরদখলকারীরা আদালতে গিয়ে দ্রুত স্থগিতাদেশ নিয়ে আসে।

আমরা একটা ছোট্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সড়ক নির্মাণের জন্য আমরা যতটা জমি কিনবো তার দু’কিনার ঘেঁষে আসা-যাওয়ার সড়ক নির্মাণ করব। অতিরিক্ত জমি মাঝখানে ছেড়ে দেব যাতে ভবিষ্যতে প্রশস্ত করার সময় ভেতর দিকে প্রশস্ত করা যায়। এক্ষেত্রে জবরদখলের কোনও সুযোগ থাকবে না। এভাবে সুদূরপ্রসারী সকল সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রতিটি সড়কে ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার ব্যবধানে বিশ্রামাগার ও আহারাদির ভালো ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। গ্রামীণ মানুষকে জিনিস বিক্রি করতে শহরে যেতে হয়। তাঁরা যদি পথেও কোথাও সেই সব জিনিস ন্যায্য দামে বিক্রি করে দিতে পারেন, তাহলে তার অর্থ ও সময়ের সাশ্রয় হবে। আমরা এমনই সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এক সঙ্গে প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে সারা দেশে প্রায় ১,৫০০টি সেতু নির্মিত হচ্ছে। আগে রেলপথ ও সড়কপথ নির্মাণের জন্য উভয় দপ্তরের মধ্যে চিঠিচাপাটি চলত, উভয় দপ্তরে এত চিঠি জমা হত যে সেগুলি জমা করলে কাগজের মিনার গড়ে তোলা যেত। আমরা বলি, এভাবে চলবে না, আপনারা মুখোমুখি বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করুন। সেজন্য আমরা একটা স্ট্যান্ডার্ড ফর্মুলা বা আদর্শ নিয়ম তৈরি করেছি। রেলপথের ওপর ফ্লাইওভার বানালে সেটা কেমন হবে, রেল ও সড়কপথের মধ্যে ক্রসিং থাকলে কেমন সেতু হবে সেগুলির আদর্শ নক্সা জমা পড়লেই দ্রুত অনুমোদন করে দাও। এর পরিণাম এই ১,৫০০টি সেতুর কাজ একসঙ্গে চালু হয়েছে। এর মধ্যে কিছু পুরনো সেতুর মেরামতির কাজ হবে, প্রত্যেকটি কাজ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করতে হবে। জমির প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলতে হবে। আমরা পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি। আমাদের শরীরে শিরা-ধমনীর যে ভূমিকা, দেশের উন্নয়নে পরিকাঠামো নির্মাণের একই গুরুত্ব রয়েছে। সড়ক ও রেল পরিকাঠামো উন্নয়ন হলে প্রতিটি রাজ্যের গতি বাড়বে, দেশের গতি বাড়বে।

যুগ পরিবর্তনের সঙ্গে পরিকাঠামো পরিবর্তনের পরিভাষা বদলায়। আমার মনে পড়ে, আমরা যখন ছোট ছিলাম, আকালের সময় মাটির কাজ হত। গ্রামের মুরুব্বিরা চিঠি লিখতেন, আমাদের গ্রামে মাটির কাজ করিয়ে দিন, আসা-যাওয়ার সুবিধা হবে। আকালের সময় আমাদের এলাকার বিধায়ক এবং সাংসদ মাটির কাজ করিয়ে বাহবা কুড়োতেন, ভোটবাক্সেও সেই বাহবা প্রতিফলিত হত। তারপর কিছুদিন মানুষ পিচের রাস্তার জন্য আবেদন-নিবেদন করতেন, আর এখন গ্রামবাসীদের দাবি হল, ফাইবার রোড চাই। আমরা এই সময় পরিবর্তনের চাহিদা পূরণ করতে চাই। সেজন্যই আমরা গ্রামীণ সড়ক পরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি।

এবার প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় বিরাট অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। আজ আমাদের হাইওয়ের পাশাপাশি ‘আই-ওয়েজ’-ও চাই। ‘আই-ওয়েজ’ মানে ইনফরমেশন ওয়েজ ! হাইওয়ের দু’পাশ দিয়ে আমরা ডিজিটাল অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে চাই। আমরা যত দ্রুত সেচ পরিকাঠামো গড়ে তুলতে পারব, তত দ্রুত কৃষির উৎপাদন বাড়বে।

আগে রেল বাজেট পেশ করলেই সংসদে করতালির ঝড় উঠত। অমুক অমুক সাংসদকে খুশি করতে তার এলাকায় নতুন রেলপথ বা নতুন কোনও ট্রেন চালু করার ঘোষণা করো। বাস্তবে কিছুই হয়তো হবে না। আগে ঘোষিত পুরনো অনেক প্রকল্প অর্ধ সমাপ্ত বা অসমাপ্ত হয়ে পড়ে আছে, কোনও কোনটার জন্য হয়তো অর্থ বরাদ্দই হয়নি তাই কাজও শুরু হয়নি। আমি রেলমন্ত্রীকে বললাম, ভাই হাততালি দিয়ে দেশ চলে না, রেলওয়ের আমূল পরিবর্তন করতে হবে। প্রয়োজনীয় গন্তব্যে রেলপথ পাতো, গেজ পরিবর্তন করো, ডিজেল থেকে ইলেক্ট্রিক ট্রেনে পরিবর্তনের কাজ করো, পরিবেশ-বান্ধব কাজ করো, গতি বাড়ানোর কাজ করো রেলওয়ের অগ্রাধিকারটাকেই পালটে দিয়েছি আমরা। আমাদের দেশের শুধু রেলওয়েতে গত দু’বছরে যে পরিবর্তনসাধিত হয়েছে সেদিকে কেউ তাকাচ্ছেন না, কারণ আমরা নীরবে কাজ করে যাচ্ছি। যারা বিগ ব্যাঙ্ক-এর কথা বলেন, সংস্কারের কথা বলেন, শুধু রেলওয়েকে দেখলে বুঝবেন পরিবর্তন কিভাবে হবে, রেলোয়ে কোথায় পৌঁছতে পারে !

অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক হোক, রেলওয়ে নেটওয়ার্ক হোক, সড়ক যাতায়াত ব্যবস্থা হোক কিংবা সেতু নির্মাণ, সকল ক্ষেত্রে গোটা দেশের গুণগত পরিবর্তনের চেষ্টা চালাচ্ছি। শুধু কিলোমিটার বাড়ালে চলবে না, উন্নত পরিষেবা দিতে হবে। সেজন্য আমরা রাষ্ট্র গঠনে পরিকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। শরীরকে মজবুত করতে তার শিরা-ধমনীগুলির যে ভূমিকা, দেশকে শক্তিশালী করতে তার পরিকাঠামো উন্নয়নেরও একই ভূমিকা। রেল, সড়ক, অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক, জলপথ, গ্রিড কানেক্টিভিটি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ক্ষেত্রে যত গুরুত্ব প্রদান করা হবে, আগামীদিনে তত দ্রুত গতিতে পরিবর্তন আসবে। সরকার সেই লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।

আমি নীতিনজিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই এই ‘সেতু ভারতম’-এর মাধ্যমে দেশের সকল সেতুর দিকে তাকানোর জন্য। আমি চাই আমাদের দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা, বিশেষ করে যারা ইঞ্জিনিয়ারিং ও আর্কিটেকচার নিয়ে পড়েন, তাঁরা দেশের পুরনো সেতুগুলি নিয়ে, সেগুলির প্রযুক্তি নিয়ে পি এইচ ডি করুন, গবেষণার মাধ্যমে নির্মাণ শিল্পকে সমৃদ্ধ করুন। পাশ করার পর নতুন সেতু নির্মাণ ক্ষেত্রে কিংবা পুরনো সেতু রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে ইন্টার্নশিপ করুন। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, পাশাপাশি উৎকৃষ্ট মানবসম্পদ গড়ে উঠবে। পরিকাঠামো উন্নয়নও হবে। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এই সকল বিষয় নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমি আর একবার উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জানাই।

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

PG/SB/DM/