Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

সেশেলস – এর নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


s2015031162921 [ PM India 125KB ]

s2015031162920 [ PM India 75KB ]

নয়াদিল্লি, ১২ মার্চ, ২০১৫ উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যায় আসা ভাই ও বোনেরা, সেশেলস – এ এই প্রথমবার এলাম, কিন্তু মনে হচ্ছে অনেক আগে থেকেই আপনাদের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। গতকাল গভীর রাতে এসেছি, তবুও পথের দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা সেশেলসবাসীদের ভালোবাসা অনুভব করছিলাম। আপনারা যেভাবে স্বাগত জানিয়েছেন, সেজন্য আমি এখানকার সরকার, এখানকার নাগরিকদের এবং আপনাদের সকলকে অন্তর থেকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই। সেশেলস আর ভারত – বিজ্ঞান একথা বলে যে, হাজার হাজার বছর আগে আমরা একই মাটির মানুষ ছিলাম, কিন্তু যখন প্রলয় আসে সব ছিটকে যায়। এই মাটি আর ভারতের মাটি, হাজার হাজার বছর আগেই হাজার হাজার মাইল দূরে সরে যায়। প্রকৃতি মাটিকে আলাদা করেছে, কিন্তু আমাদের হৃদয়কে দূরে সরায় নি। কখনও মনে হয় ভারত আর আমাদের সেশেলস – এর মাঝে একটি বিশাল সমুদ্র রয়েছে। কিন্তু, এই সমুদ্র আমাদের আলাদা করার জন্য নয়, এই সমুদ্র আমাদের মেলায়। সমুদ্রের তটে দাঁড়িয়ে আমরা অঙ্গুলি নির্দেশ করে বলতে পারি, ঐ দিকে আমার মুম্বাই, ওখানে আমার চেন্নাই, ঐ দিকে আমার কোচি। এই নৈকট্য, এই নিশ্চয়তা….. আর এই অর্থে, আমি বুঝি যে আমাদের মধ্যে একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। আজ ভারত এই নিয়ে গর্ব করে যে আপনারা ভারতবাসী যেখানেই গিয়েছেন, যে পরিস্থিতিতে গিয়েছেন, যে প্রতিকূলতার মধ্যে জীবনধারণ করেছেন, শতাব্দীকাল ধরে – এটা কম সময় নয় – কথিত আছে ১৭১৭’তে প্রথম কিছু ভারতীয় এখানে এসেছিলেন, আর তারপর থেকে আসতেই থাকেন। ১০০ – ১২৫ বছর ধরে অনেক বেশি আসা-যাওয়া চলতে থাকে। কিন্তু, এই সম্পূর্ণ কালখন্ডে আপনাদের ব্যবহারে, আপনাদের কথা শুনে এখানকার মানুষ আপনাদের আপন করে নেয় আর আপনারাও এই দেশকে আপন করে নেন। এটাই তো আমাদের মূল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য – বসুধৈব কুটুম্বকম্ – সম্পূর্ণ বিশ্বকে আমরা একটি পরিবার ভাবি। আর যাঁরা এই সংস্কারে লালিত-পালিত, যাঁদের জন্য এই পৃথিবী মা, তাঁদের আত্মীয়তায় ভৌগোলিক সীমা থাকে না। দেশের সীমা তার দর্শনকে বিভাজিত করে না। দর্শন অপার সাগরের মতো ছড়িয়ে থাকে, আর আপনাদের ব্যবহারে সেই দেশ গর্ব অনুভব করে যে আপনারা গোটা দুনিয়ায় ….. আজও পৃথিবীর যেখানেই যান কান্তিলাল জীবন শাহ্ – এর নাম শুনতে পাবেন। এখন তো আমাদের মধ্যে নেই, কিন্তু তিনি নিজের কৃতকর্মের মাধ্যমে বিশ্বের সর্বত্র সেশেলস – এর নাম উজ্জ্বল করেছেন, এক মূল ভারতীয় হিসাবেও নাম উজ্জ্বল করেছেন। বিশ্ব তাঁকে সম্মানিত করেছে। অনেক পুরষ্কারও পেয়েছেন তিনি। আর তা কেবল আর্থিক কারবারের জন্য নয়। তিনি বেশি ভেবেছিলেন প্রকৃতিকে রক্ষার কথা। আজ যে আবহাওয়ার পরিবর্তন নিয়ে গোটা দুনিয়া দুঃচিন্তায়, কান্তিলাল শাহ্ যুবাবস্থা থেকেই সেশেলস – এর নাগরিকদের সজাগ করার কাজ করছিলেন, মানুষকে জাগিয়ে তুলছিলেন। সামুহিক বা বাস্তুসম্পদের জন্য মানুষকে সচেতন করছিলেন। একজন ভারতীয় হিসাবে তাঁর এ ধরণের জীবন, এহেন কাজ প্রত্যেক হিন্দুস্তানীকে গর্বিত করে, অহঙ্কার যোগায়। আর এমনই অসংখ্য মানুষ এখানে রয়েছেন, যাঁরা নিজেদের বুদ্ধি, শক্তি, ক্ষমতা, কল্পনাশক্তি, সামর্থ, ধন – সবকিছু দিয়ে সেশেলস – এর নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। এতবড় সংখ্যায় ভারতীয়রা এখানে থাকেন। আর আমরা গুজরাটবাসীরা তো একটি পুরানো ঘটনা সম্পর্কে জানি, যখন ইরান থেকে পার্সিরা আসেন আর এ দেশের রাজা তাঁদের জন্য দুধ ভরা বাটি পাঠান আর পার্সিরা ঐ দুধে চিনি মিশিয়ে রাজা’কে ফেরৎ পাঠান। বাটি ভরাই ছিল কিন্তু যখন চিনি মিশিয়ে পাঠানো হল তখন একফোঁটা দুধও বাইরে পড়েনি। কিন্তু, দুধ মিষ্টি হয়ে গেল। পার্সিরা এই প্রতীকী বার্তা দিল যে আমরা ইরান থেকে অবশ্যই এসেছি কিন্তু ভারতের মাটিতে এমনভাবে মিলে-মিশে যাব যে আপনাদের মিষ্টত্ব বাড়বে। আমি বুঝি সেই পরম্পরা ….. ভারতীয় সমুদায়ের মানুষ এসে সেশেলস – এ সেভাবেই মিলে-মিশে গেছেন যাতে সেশেলস – এর মিষ্টত্ব বাড়িয়েছেন, ঔজ্জ্বল্য বাড়িয়েছেন, সামর্থ্য জুগিয়েছেন। আর এভাবেই নিজেদের ব্যবহার দিয়ে, আচরণ দিয়ে আমার কোনও ভারতীয় ভাই পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তে গিয়ে যখন সেই সমাজের উন্নতির জন্য বেঁচে থাকেন, সেই সমাজের উন্নতিসাধনে কাজ করেন, সেই মাটির জন্য নিজের জীবনপাত করেন, তখন ভারতীয় হিসাবে আমাদের বড় গর্ব হয়। আমি আজ আপনাদের মাঝে এসে তেমনই গর্ব অনুভব করছি। আনন্দ প্রকাশ করছি, আপনাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি। আর, আমি বিশ্বাস করি যে, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের মানুষরাও এসব সংস্কার, এসব ঐতিহ্য বজায় রাখবে, আর পৃথিবীতে ভারতের গৌরব, ভারতের স্বাতন্ত্র্য প্রকাশে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বজায় থাকবে। ভাই ও বোনেরা, মাস দশেক আগে ভারতের সাধারণ নির্বাচন হয়েছে, আর অনেক বছর পর, প্রায় ত্রিশ বছর পর ভারতের মানুষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে একটি সরকার গঠন করেছেন। আর, আমাকে বলা হয়েছে, ভারতে যখন নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হচ্ছিল, তখন আপনারাও এখানে উৎসব পালন করছিলেন। এই উৎসব একথাও প্রমাণ করে যে আপনারা সেশেলস – এর উন্নতি তো চানই, তার জন্য চেষ্টাও করেন – কিন্তু আপনাদের মনে এটাও রয়েছে, ভারতও প্রগতির পথে এগিয়ে যাক, ভারতও নতুন উচ্চতার শিখরে পৌঁছোক। আর, আমরা তো সেই মানুষ, যাঁরা বসুধৈব কুটুম্বিতার কথা বলি, কল্পনা করি সমস্ত পৃথিবী এগিয়ে যাক, সমস্ত বিশ্ব শান্তিতে বাঁচুক, সমস্ত বিশ্ব উন্নতি করুক। এটাই আমাদের স্বপ্ন, এটাই তো আমাদের সংস্কার, এটাই আমাদের সংকল্প যে আমরা পৃথিবীর জয় চাই, বিশ্বের কল্যাণ চাই। আর, সে কাজ করার জন্য ভারতকেও নিজের দায়িত্ব পালন করার জন্য সক্ষম হতে হবে। যদি ভারত গরিব থাকে, পিছিয়ে থাকে তা হলে বিশ্ব মানবের আশা-আকাঙ্খা পূরণ করার ক্ষেত্রে ভারত কোনও ভূমিকা পালন করতে পারবে না। তা হলে বিশ্ব কল্যাণের ভূমিকাও পালন করতে হলে ভারত’কে মজবুত হতে হবে, সামর্থ্য জোটাতে হবে, সুখে-শান্তিতে সুজলা-সুফলা দেশ হয়ে উঠতে হবে। আর সেজন্যই গত ৯ – ১০ মাসে দেশকে বিকাশের নতুন উচ্চতা অতিক্রমণের পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ভারতের সর্বাঙ্গীন বিকাশ আর বিশ্বের সঙ্গে বেশি করে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। আজ দুনিয়ার ছোট ছোট দেশগুলি, যেগুলি এক-একটা দ্বীপ, সেগুলি একটি দুশ্চিন্তার শিকার। পৃথিবীতে কারা পারমাণবিক বোমা বানাচ্ছে কি বানাচ্ছে না, তা দ্বীপগুলিতে বসবাসকারী মানুষকে এতটা ভাবায় না, কিন্তু চিন্তার বিষয় হল, ‘এই ভূমণ্ডলীয় উষ্ণায়ন যদি বাড়তে থাকে তা হলে আমরা থাকব কি থাকব না? আমাদের দ্বীপ জলের নীচে চলে যাবে না তো? শত শত বছর ধরে, দুই তিন প্রজন্ম ধরে যেখানে বসবাস করছি, জলস্তর বেড়ে সেটা ডুবে যাবে না তো?’ আর পৃথিবীকে বাঁচানোর কাজ শুধু দ্বীপগুলিতে বসবাসকারী মানুষ নিজের সুরক্ষার জন্য কিছু করলেই হয়ে যাবে, তা নয়। পৃথিবীর সমস্ত দেশ মিলে-মিশে আবহাওয়ার পরিবর্তন নিয়ে ততটাই চিন্তা করা উচিৎ, যতটা আজ পৃথিবী সন্ত্রাসবাদ নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে। সন্ত্রাসবাদের সঙ্কট যত গভীর, ততটাই এই ছোট ছোট দ্বীপে বসবাসকারী মানুষের কাছে আবহাওয়ার পরিবর্তনজাত আতঙ্ক অনুভূত হয়। ভারতে ….. সহস্র বছর ধরে আমাদের সংস্কার রয়েছে, আমাদের ছেলেমেয়েরা ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে মাটিতে পা রাখলে তাদের বলা হয়, তুমি পৃথিবী মায়ের বুকে পা রাখছো। আগে পৃথিবী মায়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। অর্থাৎ, আমাদের এই পৃথিবী মাকে ব্যথা দেওয়ার কোনও অধিকার নেই, এটা আমাদের সংস্কৃতি আর সংস্কারে রয়েছে। প্রকৃতিকে ভালোবাস, প্রকৃতির সঙ্গে কথা বল, প্রকৃতি থেকে শেখো – এটাই আমাদের শেখানো হয়েছে। সমগ্র ব্রহ্মান্ড’কে একটি পরিবার হিসাবে মানা হয়েছে, আর সেজন্য বিশ্বকে এই সঙ্কট থেকে বাঁচানোর কাজও – আমরা যে পরম্পরায় লালিত-পালিত, যে সংস্কার নিয়ে আমরা এগিয়েছি, যে সংস্কৃতি আমাদের ঐতিহ্য থেকে পেয়েছি – আমরা যদি তা নিয়ে বেঁচে থাকতে শিখে নিই, অন্যদের বাঁচার পথ দেখাই আর বিশ্ব সেভাবে বাঁচার অভ্যাস বানায়, তা হলে হয়তো এত বড় সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সম্পূর্ণ মানবজাতি একটি সহজপথে চলতে পারবে, এগিয়ে যেতে পারবে। আমরা নদীকে মা বলি, গাছপালায় পরমাত্মাকে দেখতে পাই। এসব কথাই তো পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। কিন্তু এই পরমাত্মার পাশাপাশি, আধুনিক বিষয়গুলিকেও জোর দিতে হবে। আমাদের বিকাশের সেই রাস্তাকে আপন করে নিতে হবে, যা কয়েকশো বছর পরও মানবজাতির কল্যাণে বাধা না সৃষ্টি করে। পরমাত্মা আমাদের যা দিয়েছে, তা উপভোগ করার অধিকার আমাদের সকলের। কিন্তু আমাদের সন্তানদের জন্য যা ধার্য তা উপভোগ করার অধিকার আমাদের নেই। এরকম কোনও মা-বাবা হয় কি? পৃথিবীতে এমন কোনও মা-বাবা রয়েছেন কি যারা বাচ্চাদেরটাও খেয়ে নেন? কোনও মা-বাবা এরকম নেই। আর সেজন্যই, আজ থেকে ১০০ বছর পর আপনার ছেলেমেয়েদের ছেলেমেয়ে হবে, তাদের ছেলেমেয়ে হবে, তাদেরও ছেলেমেয়ে হবে। তারা পানীয়জল পাবে কি না? বিশুদ্ধ বাতাস পাবে কি? তাঁদের বসবাসের জন্য ভালো পৃথিবী পাবে? যদি আমরা তাদের এই ঐতিহ্য দিয়ে যেতে চাই, তা হলে আজ আমাদের জীবনকে বদলাতে হবে আর সেজন্যই সেই লক্ষ্যে আমাদের কাজ করতে হবে। ভারত একটি বড় কাজ শুরু করেছে। সেই কাজটি হল, সৌরশক্তি আর বায়ুশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ। পৃথিবীকে বর্তমান সঙ্কট থেকে বাঁচানোর জন্য ভারতের যে ভূমিকা তা পালন করতে আমরা ২০২২ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট সৌরশক্তি উৎপন্ন করার সংকল্প নিয়েছি। তখন ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্ণ হবে। তখন ভারত স্বাধীন অমৃত মহোৎসব পালন করবে। আমরা পৃথিবীকে একটা উপহার দিতে চাই, যা পৃথিবীকে উষ্ণায়ন থেকে বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। আমরা ঐ সময়ের মধ্যে ৬০ গিগাওয়াট বায়ুশক্তিও তৈরির পথে যেতে চাই। এই লক্ষ্য খুবই বড়। কিন্তু, এই সংকল্প নিয়ে আমরা এজন্য চলছি যে আমাদের প্রেরণা শুধু হিন্দুস্তানের প্রত্যক ঘরে আলো জ্বালানো নয়। এরকম ছোট ছোট দ্বীপে যাঁরা বসবাস করেন, ছোট ছোট দেশ, তাঁদের জীবন রক্ষা করাও আমাদের প্রেরণা, আমাদের সংকল্প। আর সেজন্যই সৌরশক্তি উৎপন্ন হবে ভারতে কিন্তু তার সরাসরি লাভ পাবে সেশেলস – এর ভাবী প্রজন্ম, এ ধরণের স্বপ্ন নিয়ে আমরা কাজ করছি। আজ ভারতের পৃথিবীকে দেওয়ার মত অনেক কিছু আছে। ভারত আজ পৃথিবীর সব থেকে যুবক দেশ। এদেশের ৬৫ শতাংশ মানুষের বয়স৩৫ বছরের নীচে। যে দেশে কোটি কোটি লোক বয়সে নবীন , সে দেশ সুযোগ পেলে পৃথিবীর ভাগ্য বদলে দিতে পারে। এই নতুন সরকারের চেষ্টা এটাই যে, আমরা নবীনদেরকে সব থেকে বেশি সুযোগ কেমন করে দেব, বিকাশের ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি তাদেরকে কেমন করে কাজে লাগাবো। এই লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে চলেছি। আর সেজন্য আমরা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র অভিযান চালিয়েছি। আমি বিশ্বকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, আসুন আপনারা যা কিছু তৈরি করছেন, আমাদের দেশে এসে করুন। আর আমি আশ্বাস দিচ্ছি, আপনারা যা উৎপাদন করছেন, তার থেকে কম খরচে তৈরি হবে, তাড়াতাড়ি হবে, আরও ভালো হবে। আজ আপনার উৎপাদন ৫টি দেশে যায়, হিন্দুস্তানে তৈরি করুন, ৫০টি দেশে পৌঁছতে শুরু করবে। আজ আপনার ব্যালেন্সশিটে ৫,১০টি শূন্য থাকে। দেখতে দেখতে আপনার ব্যালেন্সশিটে আরও ৫-১০টি শূন্য জুড়ে যাবে, এটাই শক্তি। আর আমি দেখছি যে বিশ্বে একটি আকর্ষণ তৈরি হয়েছে। ভারতে রেল নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। এত বড় রেলওয়ে। অর্থাৎ, ২৪ ঘন্টায় হিন্দুস্তানে যত লোক রেল চড়ে, যদি তার হিসাব করি, তা হলে হয়তো একসঙ্গে ১০০টি সেশেলস – এর জনসংখ্যা হিন্দুস্তানের রেলের কামরায় থাকে। আপনি কল্পনা করতে পারেন, রেলের কতটা বিকাশ সম্ভব। রেলকে আমরা আধুনিক বানাতে চাই। রেলকে আমরা দূরদূরান্তে পৌঁছে দিতে চাই। আর এই রেলের কর্মচারীদের ওপর আমরা কেন চাপ সৃষ্টি করছি? শুধু ভারতের জনগণের যাতায়াতের সুবিধার কথা ভেবে নয়। রেল এক এমন পরিবহণ ব্যবস্থা যা উষ্ণায়ণের সঙ্কট থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে পারে। গণপরিবহণে ‘এমিশন’ কম হয়। আর যখন ‘এমিশন’ কম হয় বিশ্ব উষ্ণায়ণও কমে। আর বিশ্ব উষ্ণায়ণ কমলে আবহাওয়া পরিবর্তনের দুশ্চিন্তা কমে, আর আবহাওয়া পরিবর্তনের দুশ্চিন্তা কমলে সেশেলস – এর মতো দেশগুলিতে বাঁচার গ্যারান্টি তৈরি হয়। রেলপথ ওখানে তৈরি হবে, কিন্তু লাভ হবে এই ছোট ছোট দ্বীপগুলিতে বসবাস করা পৃথিবীর এই ছোট ছোট দেশগুলির নাগরিকদের। কারণ, ভারত এত বড় দেশ। আমরা চাই, ভারতের রেল দ্রুতগতিতে চলুক। আমরা চাই, ভারতীয় রেলের বিস্তার হোক। আমরা চাই, ভারতীয় রেল আধুনিক হোক। আর সেজন্য আমরা ১০০ শতাংশ ফরেন ডায়রেক্ট ইনভেস্টমেন্ট – এর দরজা খুলে দিয়েছি। আমি বিশ্বকে আহ্বান জানিয়েছি, আপনাদের কাছে প্রযুক্তি রয়েছে, আসুন। আপনাদের কাছে ধন রয়েছে, আসুন। আপনি নিজের ব্যবসা বাড়াতে চান, আসুন। ভারতীয় রেলও পৃথিবীর অনেক দেশের অর্থনীতির উন্নতি সাধন করতে পারে, এতটাই শক্তিশালী। আর সেজন্যই আমি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র ক্ষেত্রে একে কাজে লাগাচ্ছি। সেশেলস – এর মতো ছোট ছোট দেশ, সেগুলিকে কি রক্ষা করা উচিৎ নয়? ছোট ছোট দেশের নিরাপত্তার সমস্যা থাকে। এতে তাদের সম্পূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য সঙ্কটে পড়ে যায়। এদের নিরাপত্তার চিন্তা করা কি উচিৎ নয়? এটা কি ভারতের দায়িত্ব নয় যে ভারত মহাসাগরে নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিয়ে তাদের দিকে হাত বাড়ায়, সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে যাতে সেশেলস – এর মতো দেশগুলির নাগরিকরা বিশ্ব বাজারে এগিয়ে যেতে পারে এবং সমুদ্রতটগুলিকে নিরাপত্তার সঙ্কট থেকে বাঁচাতে পারে। যদি বাঁচাতে হয় তা হলে ভারত’কে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে হবে আর এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা ভারতে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উৎপাদনে জোর দিয়েছি। আমরা দেশজ ব্যবস্থাগুলির বিকাশ ঘটাতে চাই। আজ এখানে আমি একটি রাডার উপহার দিতে এসেছি। এই রাডার সেশেলস তার সামুদ্রিক সুরক্ষায় নতুন শক্তি জোগাবে, নতুন দৃষ্টি দেবে, নতুন চোখ দেবে। ১৫০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে কোনও আক্রমণ বা গন্ডগোল হচ্ছে কিনা তা তারা দেখতে পাবে। একাজ ভারত কেমন করে করলো? কারণ, ভারতে দেশজ উৎপাদনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আগামীদিনে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রকে আরও অনেক বাড়াতে চাই, যাতে লাভ হয়। কার লাভ ? আপনাদের মতো আমাদের বন্ধু দেশগুলির লাভ হবে, প্রতিবেশী দেশগুলির লাভ হবে, এই ভারত মহাসাগর নিরাপদ হবে। আর সেজন্যই আমাদের প্রত্যেক পদক্ষেপ, ভারতের মাটিতে প্রতিটি পদক্ষেপ পৃথিবীর কল্যাণ নিয়ে আমাদের যে ভাবনা, তার অনুরূপ এবং অনুকূল বানাতে আমাদের চেষ্টা এবং তা থেকে আপনারা লাভবান হবেন। আমরা স্কিল ডেভেলপমেন্টে জোর দিচ্ছি। আজ সমগ্র বিশ্বে, অনেক বড় বড় দেশ, বড় বড় অর্থনীতি একটি সঙ্কট নিয়ে যুঝছে, আর তার সমাধান অর্থ দিয়ে সম্ভব নয়। তার সমাধান প্রযুক্তি দিয়ে সম্ভব নয়। আর সেটা হল মানবসম্পদ। সবারই কাজের লোক চাই। পৃথিবীর দ্রুততম অর্থনীতিরও মেধাবী মানবসম্পদ চাই। আগামী ২০ বছরে সমস্ত পৃথিবীকে সব থেকে বেশি মানবসম্পদ সরবরাহের শক্তি ভারতের রয়েছে। কারণ, এই দেশ যার হাতে কুশলতা রয়েছে, পৃথিবী যে ধরণের মানবশক্তি চায়, সে ধরণের মানবশক্তি তৈরি করার লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে চলেছি। স্কিল ডেভেলপমেন্ট’কে আমরা একটি হিসেবে নিয়েছি। আর আমরা স্কিল ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে এমন তরুণ প্রজন্ম তৈরি করতে চাই, যারা নিজেরাই ভালো এন্টারপ্রেনার হতে পারেন। যাঁরা এন্টারপ্রেনার হতে পারবেন না, তারা নিজেই কুশল মানবশক্তি রূপে কাজ পেতে পারেন। কিছু কর্মপ্রার্থী রয়েছেন, তাঁরা ভালো কাজ পান। কিছু ‘জব ক্রিয়েটার’ তৈরি হোক। এভাবে পৃথিবীর প্রয়োজন মেটাতে যা যা কাজে লাগবে সেসব বিষয়ে জোর দিয়ে ভারতের সমৃদ্ধির যাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে এই উদ্যোগ। আজ আমরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রাষ্ট্রপতি মিশেলের সঙ্গে আজ আমার বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ভারত আর সেশেলস এক জোট হয়ে আমরা কতটা শক্তি নিয়ে এগিয়ে যেতে পারি। আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আপনারা শুনলে খুব খুশি হবেন। ভারত সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, সেশেলস – এর যে নাগরিক ভারতে আসতে চায়, তাঁকে তিন মাসের ভিসা বিনামূল্যে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, এখন আপনাদের সেখানে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না, দূতাবাসে বারবার যেতে হবে না। এখন ‘ভিসা অন অ্যারাইভল’ হবে। আপনি ভারতের এয়ারপোর্টে পৌঁছান, ছাপ পড়ে যাবে, চলে আসুন। আমরা চাই, ভারত আর সেশলস – এর মধ্যে পর্যটন বাড়ুক। আর এখানে যাঁরা গুজরাটি রয়েছেন, তাঁরা তো জানেনই। গুজরাটিরা তো ভাবতে থাকে যে, রবিবারে কোথায় যাব? এই উইকএন্ড-এ কোথায় যাব? আমরা চাই যে, এয়ার ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ুক, ডায়রেক্ট ফ্লাইট বাড়ুক। ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরাসরি সেশেলস – এ বিমান যাতায়াত হোক। এতে পর্যটনের বিকাশ ঘটবে, আর পর্যটনের বিকাশ হলে সেশেলস থেকে যারা হিন্দুস্তানে যাবেন তাঁরা ভারত’কে ভালোভাবে জানবেন। আর ভারত থেকে যাঁরা আসবেন, তাঁরা সেশেলস – এর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবেন। আর আমি মানি, পর্যটন পৃথিবীতে দ্রুতগতিতে বেড়ে চলা ব্যবসা। কিন্তু পর্যটন মানবজাতিকে পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার একটি বড় মাধ্যম। বিশ্বকে জানা-বোঝা, নিজের বানানোর একটি বড় উপায়। আর এই মাধ্যমকে আমরা বিকশিত করতে চাই। ভাই ও বোনেরা, আজ সময় সীমিত। মাত্র কয়েক ঘন্টার জন্য আমি এসেছি, প্রথমবার এসেছি। কিন্তু মনে হয়, ভালো লাগতো যদি বেশি সময় নিয়ে আসতাম। এখন আপনারা এত ভালোবাসা দিয়েছেন যে আবার আসতেই হবে। বেশি সময় নিয়ে আসতে হবে, আপনাদের সবার মাঝে থাকতে হবে, এই সুন্দর দেশটিকে দেখতে হবে। তো আমি আরেকবার আপনাদের ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। আর আমার পক্ষ থেকে সমগ্র দেশবাসীর পক্ষ থেকে আপনাদেরকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। আর, স্বাগত সম্মানের জন্য আপনাদেরকে অনেক ধন্যবাদ জানাই। আওজো। নমস্তে।