পিএমইন্ডিয়া
মাননীয় রাষ্ট্রপতি মিশেল এবং সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ,
প্রেসিডেন্ট মিশেলের মতো একজন বিশেষ বন্ধুকে আমাদের দেশে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত।
এ বছর মার্চে প্রেসিডেন্ট মিশেল আমাকে যে অতুলনীয় আতিথেয়তা দেখিয়েছেন তার উপযুক্ত সম্মান দিতে পারলে আমি খুশি হবো।
তিনি এক গভীর দূরদৃষ্টি নিয়ে তাঁর দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঘটনায় বিশ্বের গভীর উদ্বেগের এক বিশেষ অংশীদার তিনিও, বিশেষত, ছোট ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রগুলির জন্য।
মাননীয় প্রেসিডেন্ট আপনার দেশের সৌন্দর্যে আমরা মুগ্ধ। আপনাদের জাতির অগ্রগতিও বিশেষ প্রশংসার দাবি রাখে।
সেসেলস্ – এ আমি যে কথা বলেছিলাম তারই আবার পুনরাবৃত্তি করছি : কোনও দেশের আয়তন যে তার সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না তা আপনার দেশ প্রমাণ করেছে।
আমাদের সম্পর্কের প্রসার ও অগ্রগতির ক্ষেত্রেও প্রেসিডেন্ট মিশেলের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। আমরা এই সম্পর্ককে বিশেষভাবে সম্মান জানাই। কারণ, কৌশলগত দিক থেকে সেসেলস্ আমাদের একজন বিশেষ অংশীদার।
আমাদের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলি বেশ প্রসারিত। এই কারণে আমাদের পারস্পরিক মূল্যবোধ, আত্মীয়তাবোধ, পারস্পরিক গভীর আস্থা ও শ্রদ্ধার মনোভাব এবং সমতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অংশীদারিত্বের মধ্য দিয়ে আমাদের সম্পর্কের ভিত্তি বেশ সুগভীর।
মার্চ মাসে আমার সফর বেশ ফলপ্রসূ হয়েছে। ঐ সময় যে সমস্ত বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সেগুলির যথেষ্ট অগ্রগতি ঘটেছে। প্রেসিডেন্ট মিশেলের বর্তমান সফর আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ভারত মহাসাগর অঞ্চলে নৌ-নিরাপত্তা সহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা যথেষ্ট নিবিড়।
নজরদারি ক্ষমতাকে আরও মজবুত করে তুলতে আমরা পরস্পরকে বিমান, নৌ-তরী এবং উপকূল রক্ষী রাডার – এর যোগান দিয়েছি। জল সীমার ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা ক্রম প্রসারমান এবং তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে।
আমি ইতিমধ্যেই জানিয়েছি যে, ভারত সেসেলস্-কে আরেকটি ইন্টারসেপ্টার উপকূল রক্ষী নৌ-তরী উপহার দেবে।
গত মার্চ মাসে সেসেলস্-কে একটি দ্বিতীয় ডোর্নিয়ার বিমান উপহার দেওয়ার কথা আমি ঘোষণা করেছিলাম। আমি আনন্দিত যে, এ সম্পর্কিত প্রক্রিয়া আমরা দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করেছি এবং আজই এ ব্যাপারে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট এবং আমি দু’জনেই মহাসাগর তথা নীল অর্থনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করি। আমরা দু’জনেই বিশ্বাস করি, ছোট ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলিকে প্রচুর সম্ভাবনাময় মহাসাগরীয় রাষ্ট্র হিসেবেই দেখা উচিত।
সম্প্রতি রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরন্তর উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। আমরা আনন্দিত যে, তাতে মহাসাগর ও সমুদ্র সম্পদ ব্যবহারের বিষয়কে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন মহাসাগরীয় অর্থনীতির বিকাশের ক্ষেত্রে নীল অর্থনীতি সম্পর্কে আমাদের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি মূল কাজটিকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রও তাতে আরও প্রসারিত হয়েছে।
মহাকাশ ক্ষেত্রেও আমরা পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতায় আগ্রহী। এর মধ্যে রয়েছে – ভূমি ও সমুদ্র সম্পদ, মৎস্যচাষ সম্পর্কিত পরামর্শ, জল-হাওয়া সম্পর্কিত পূর্বাভাস এবং বিপর্যয় মোকাবিলার মতো বিষয়গুলিও।
সেসেলস্ – এর অ্যাজাম্পশন আইল্যান্ডে পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রস্তুতিও আমরা শুরু করে দিয়েছি।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও মার্চ মাসে আমরা কথাবার্তা বলেছি। আজকের বিমান পরিষেবা সম্পর্কিত চুক্তিটি দু’দেশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সহজতর করে তুলবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি সমগ্র বিশ্বের কাছে এক বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ। সেসেলস্ – এর মতো দ্বীপ রাষ্ট্রগুলির ক্ষেত্রে তা ভয়ঙ্কর উদ্বেগেরও কারণ। ভারতের পক্ষেও তা বিশেষ উদ্বেগ ও আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেহেতু আমাদের রয়েছে ৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার বরাবর উপকূল রেখা এবং প্রায় ১ হাজার ৩০০টি দ্বীপ।
উন্নয়নের ধারাকে ভবিষ্যতে অব্যাহত রাখতে আমাদের দুটি দেশেরই রয়েছে উচ্চাকাঙ্খামূলক জাতীয় পরিকল্পনা। এ বছরের শেষের দিকে প্যারিসে অনুষ্ঠেয় COP 21- এ জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে আলোচনায় আমরা উভয়েই একটি সুসংহত ও সুষম প্রস্তাব পেশের জন্য একযোগে কাজ করে চলেছি।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের ৭০তম বার্ষিকীতে নিরাপত্তা পরিষদ সহ এই প্রতিষ্ঠানটির সংস্কারের লক্ষ্যে আমরা দুটি দেশই আমাদের অভিপ্রায়ের কথা ব্যক্ত করেছি।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের সম্প্রসারিত নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের আবেদনকে সেসেলস্ সমর্থন জানানোয় আমরা আনন্দিত।
Small Island Developing States – এর সঙ্গে একযোগে কাজ করার জন্য আমাদের ইচ্ছার কথাও আমি ব্যক্ত করেছি। এর লক্ষ্য হল, Samoa Pathway – র মূল উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়িত করা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে পরস্পরের শক্তি বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাওয়া।
আগামী অক্টোবর মাসে তৃতীয় ভারত-আফ্রিকা ফোরামের শীর্ষ বৈঠককে সমর্থন জানানোয় প্রেসিডেন্ট মিশেল’কে আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই।
আন্তর্জাতিক যোগদিবস’কে বিশেষভাবে সফল করে তুলতে সেসেলস্ – এর সক্রিয় ভূমিকার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।
মাননীয় প্রেসিডেন্ট, আমাদের দুটি দেশ আকারে আয়তনে ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু আমাদের সম্পর্ক আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে এক বিশেষ আদর্শ হয়ে থাকবে। আমাদের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলির মূল কেন্দ্রে এই বিশেষ ও অসাধারণ সম্পর্ক সব সময়েই কাজ করে যাবে।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, এ বছর আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে নতুন মাইলফলক স্থাপন করা হল তা আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এক নতুন মাত্রায় উন্নীত করবে।
আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।
PG/SKD/SB
It is always a great pleasure to welcome home a special friend, which President Michel certainly is: PM https://t.co/acgKld2NsC
— PMO India (@PMOIndia) August 26, 2015
Let me repeat what I said in Seychelles: Your country shows that size is no barrier to the scale of achievements: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 26, 2015
Seychelles is a key strategic partner for India: PM @narendramodi https://t.co/acgKld2NsC
— PMO India (@PMOIndia) August 26, 2015
We have excellent security cooperation, especially for maritime security in Indian Ocean Region: PM @narendramodi https://t.co/acgKld2NsC
— PMO India (@PMOIndia) August 26, 2015
The Air Services Agreement today will enable more and easier connections between the two countries: PM https://t.co/acgKld2NsC
— PMO India (@PMOIndia) August 26, 2015
We greatly appreciate Seychelles’ support for India’s candidature for permanent membership of expanded United Nations Security Council: PM
— PMO India (@PMOIndia) August 26, 2015
I am confident that this milestone year for our relationship will be the springboard for taking our strategic partnership to a new level: PM
— PMO India (@PMOIndia) August 26, 2015
Met President Michel. Had productive talks on India-Seychelles ties. pic.twitter.com/e6uZB4uor5
— Narendra Modi (@narendramodi) August 26, 2015
India & Seychelles are working together in key areas like infra, climate change, trade. This will benefit us greatly. http://t.co/1eYL4N3KIm
— NarendraModi(@narendramodi) August 26, 2015