পিএমইন্ডিয়া
অনেকে ভাবেন, টাকা থাকলেই সড়ক নির্মাণ করা যায় কিন্তু বাস্তবে সড়ক নির্মিত হলেই টাকা আসতে শুরু করে। আজকের যুগে উন্নয়নের প্রাথমিক প্রয়োজন হল, পরিকাঠামো নির্মাণ। বিদ্যুৎ সরবরাহ, পানীয় জল সরবরাহ, সেচের সুষম ব্যবস্থা এবং সড়ক নির্মাণ – পরিকাঠামো নির্মাণের এই উপাদানগুলির উন্নয়ন আমাদের সার্বিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। জীবনের উৎকর্ষসাধনে গতি আনে। কিন্তু আমাদের দেশে অধিকাংশ সরকারই পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সময় দ্বিধাগ্রস্থ থাকে – এসব কাজ করলে ভোট পাওয়া যাবে তো! নির্বাচনে জয়লাভের পরাকাষ্ঠাই এই দ্বিধার উৎস। এই দ্বিধাই আমাদের দেশে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু করার প্রধান প্রতিবন্ধক। অনেক বছর ধরেই আমরা এই দ্বিধার শিকার। সমাজে দলিত, পীড়িত, শোষিত, বঞ্চিত মানুষের উন্নয়নের জন্য চিন্তা করা, উন্নয়নের পথে তাদের সমান অংশিদারিত্ব সুনিশ্চিত করাকে রাজ্যগুলি অগ্রাধিকার দেয়। পাশাপাশি, সর্বাঙ্গীন উন্নয়ন না হলে, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সুদূর প্রসারী উন্নয়ন না হলে একটি জাতিকে আত্মনির্ভর করে তোলা যায় না। আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে সুদূর প্রসারী উন্নয়নে পরিকাঠামো নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
হরিয়ানা একটি ছোট রাজ্য। তবুও পরিকল্পনায় ২২ হাজার কোটি টাকা সড়ক নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করা কম কথা নয়। এই বিনিয়োগ এ রাজ্যের নবীন প্রজন্মের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে, উন্নয়নের গতি বাড়াবে।
আমরা যদি কোরিয়ার দৃষ্টান্ত গ্রহণ করি তা হলে দেখবো, সেই দেশে আধুনিক প্রশস্ত জাতীয় মহাসড়ক নির্মাণের সময় অনেকেই সরকারের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এত গরিব দেশ; যথেষ্ট স্কুল নেই, হাসপাতাল নেই – এত কোটি কোটি টাকা সড়ক নির্মাণে কেনো খরচ করা হবে। কিন্তু সমস্ত সমালোচনাকে উপেক্ষা করে তৎকালীন কোরিয়া সরকার তাদের মহাসড়ক নির্মাণ জারি রাখে, যা পরবর্তী সময়ে গোটা কোরিয়ার জীবনকে বদলে দেয়। আজ কোরিয়া বিশ্বের সমৃদ্ধতম দেশগুলির অন্যতম।
পরিকাঠামো নির্মাণের মাহাত্ম্য এমনই। সেজন্য আমাদের নীতিন গড়করি মহোদয়ের নেতৃত্বে এই অল্প সময়ে সারা দেশে এত কাজ হয়েছে, যা বিগত ৬০ বছরে হয়নি। একদিকে ‘ভারতমালা’ প্রকল্প আর অন্যদিকে ‘সেতু ভারতম’ প্রকল্প। এর আগে অটল বিহারী বাজপেয়ীজির শাসনকালে ভারতকে উত্তর থেকে দক্ষিণে এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমে যুক্ত করার আকাঙ্খা নিয়ে স্বর্ণিম চতুষ্কোণ নির্মাণ করা হয়েছিল। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সেই কর্মযজ্ঞ আজও ভারতের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
এখন যে মহাসড়ক নির্মিত হচ্ছে তা কেবলই আমাদের যাতায়াতের পথকে সুগম করবে না, এই মহাসড়ক হরিয়ানাকে গতিশীল করে তুলবে, গোটা দেশের সঙ্গে উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে হরিয়ানাকে দ্রুত উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে দেবে।
সাগরমালা প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতের সমুদ্রতটগুলিকে যুক্ত করার, সমুদ্রতটের পরিকাঠামো, উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, যাতে দেশের প্রত্যেক প্রান্ত সমুদ্রপথে বাণিজ্যের সুবিধা নিতে পারে সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভালো পরিকাঠামো থাকলে হিমাচলের আপেলকে দ্রুত সমুদ্রপথে বিশ্বের অনেক স্থানে পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে। এতে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনই ক্রেতারাও তাজা ফল খেতে পারবেন। এভাবে আমাদের গ্রামীণ উৎপাদনকে দ্রুত নিকটবর্তী সমুদ্র বন্দরে পৌঁছে দিয়ে সাগরমালা মহাসড়ক সংযোগ রপ্তানির সুবিধাকে ত্বরান্বিত করবে।
সেতু ভারতম প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের দেশের রেলপথে যেখানে লেভেল ক্রসিং রয়েছে সেখানে উড়াল পুল নির্মাণের মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। নীতিনজীর অক্লান্ত পরিশ্রমে রেলপথ ও সড়ক পথের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে এই সুসংহত প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে।
এত দ্রুত গতিতে কাজ এগোচ্ছে যে আপনারা অবাক হবেন। আমাদের দেশে যেখান দিয়ে রেলপথ গেছে দু’পাশের গ্রামগুলি উন্নত হয়েছে। কিন্তু, গ্রামের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পানীয় জলের পাইপ বসাতে গেলে রেল মন্ত্রক থেকে অনুমতি পেতে ২-৪ বছর লেগে যেতো। সেজন্য সেই গ্রামগুলির অর্ধেক অঞ্চল পানীয় জল সরবরাহ এবং সেচের সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকতো। আমরা সরকারে এসে এমন কিছু নিয়ম চালু করি যাতে পরিকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে এ ধরণের লালফিতের ফাঁস থেকে দ্রুত বের করে উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা যায়।
আমি আজকাল প্রতি মাসে একবার করে সকল রাজ্যের মুখ্য সচিবদের সঙ্গে আলোচনায় বসি। সাক্ষাৎ আলোচনা সম্ভব না হলে ভিডিও কনফারেন্স-এ বসি। কোন্ রাজ্যে কোন্ প্রকল্পের কাজ কেন থমকে আছে সে সম্পর্কে খোঁজখবর নিই। আপনারা শুনলে অবাক হবেন, গত পাঁচ-ছয় মাসে এই অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ লক্ষ কোটি টাকার থমকে থাকা প্রকল্প আবার চালু করে দিতে পেরেছি। সেতু ভারতম প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশে প্রায় ৩৭৫টি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলি নির্মিত হলে সারা দেশের উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।
সেতু ভারতম-এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা খরচ করে কোথাও সেতু নির্মাণ, কোথাও সেতু প্রশস্ত করা, কোথাও সমান্তরাল সেতু নির্মাণের মতো কাজ একসঙ্গে শুরু হয়েছে। এর সংহত রূপায়ণের জন্য আমরা ভারতমালা কর্মসূচি শুরু করেছি। আপনারা শুনলে অবাক হবেন স্বাধীনতার ৬০ বছর পরেও আমাদের দেশে ১২৩টি এমন জেলা রয়েছে, অর্থাৎ মোট জেলার ২০ শতাংশ আজও কোনও জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত নয়। ভারতমালা কর্মসূচির মাধ্যমে ঐ ১২৩টি জেলাকেও জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত করার অভিযান শুরু করেছি। আগামী বছরগুলিতে আমাদের কাজের গতি আরও বাড়বে।
দিল্লির চারদিকে পূর্ব থেকে পশ্চিমে মহাসড়ক গড়ে উঠলে দিল্লিকে এড়িয়ে হরিয়ানা থেকে রাজস্থান বা উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে দ্রুতগতিতে যাওয়া যাবে। এতে হরিয়ানাবাসীর যাতায়াতের সময় বাঁচবে, দিল্লিতে যানজট কমবে। আর ভবিষ্যতে এই মহাসড়কের দু’পাশে যে ব্যাপক নগরোন্নয়ন হবে অনেক নতুন কলোনী গড়ে উঠবে, শহর গড়ে উঠবে, মানুষের জীবনযাত্রায় উৎকর্ষ বাড়বে। এসব ভেবেই এহেন মহাসড়ক নির্মাণের পেছেনে এত কোটি কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে।
আমি হরিয়ানা সরকারকে, নীতিন গড়করি মহোদয়’কে এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন বিভাগের সকল কর্মীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আপনাদের নিরলস পরিশ্রম আধুনিক ভারত’কে গতিশীল করে তুলতে রেল ও সড়ক যাত্রাকে অনেক বেশি নিরাপদ করে তুলতে, রেল স্টেশনগুলিকে আধুনিক করে তুলতে, রেলপথের বিস্তারকে সহজ করে তুলতে, ডিজেল চালিত রেলের জায়গায় বিদ্যুৎ চালিত রেল প্রবর্তনের মাধ্যমে পরিবেশ-বান্ধব আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আপনাদের অবদান অনস্বীকার্য। আগামী ২০২২ সালে ভারত স্বাধীনতার ৭৫তম জয়ন্তী পালন করবে, আমার স্বপ্ন তখন ভারতের প্রত্যেক গ্রামে সারা বছর সপ্তাহে সাত দিন চব্বিশ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হবে। আমি জানি, এই কাজ সহজ নয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন যেমন কঠিন কাজ, দূরদূরান্তের প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়াও তেমনই কঠিন কাজ। কিন্তু, আমরা সেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছি। আগামী ২০২২ সালে ভারত স্বাধীনতার ৭৫তম জয়ন্তী পালন করবে, আমার স্বপ্ন তখন ভারতের প্রত্যেক গ্রামে সারা বছর সপ্তাহে সাত দিন চব্বিশ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করবই, আমরা এই কাজ এগিয়ে নিয়ে চলেছি।
যুগ বদলেছে। এখন মহাসড়কই শুধু যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম নয়। মহাসড়ক তো চাই-ই পাশাপাশি আমাদের ডিজিটাল ভারতের স্বপ্নকে সাকার করতে ইনফরমেশন ওয়েভ-ও চাই। একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী পরিকাঠামো নির্মাণে হাইওয়ের পাশাপাশি আইওয়ে-ও চাই। তবেই আমরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গোটা দুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবো। সেজন্য আধুনিক ভারত নির্মাণের ক্ষেত্রে আইওয়ে’কে আমরা আগ্রাধিকার দিয়েছি। গোটা দেশকে দ্রুত অপ্টিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত করার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। আমাদের দেশে আজও লক্ষাধিক গ্রাম রয়েছে, যেগুলিকে এখনও ডিজিটাল কানেক্টিভিটি সমৃদ্ধ করে তোলা যায়নি। এটাও অত্যন্ত কঠিন কাজ। আমরা এই কঠিন দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিয়েছি। একবিংশ শতাব্দীর ১৫ বছর পেরিয়ে গেছে, স্বাধীনতার ৭০ বছর হতে চলেছে, আজও এদেশের ১৮ হাজার গ্রামে একটিও বিদ্যুৎ-এর খুঁটি পোঁতা হয়নি। আমরা সেই দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিয়েছি, আমি লালকেল্লার প্রাকার থেকে ঘোষণা করেছি যে ১৮ হাজার গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি, তা যত দুর্গম অঞ্চলই হোক পার্বত্য এলাকা বা মরু অঞ্চল হোক আমরা সেই গ্রামগুলিতে আগামী ১ হাজার দিনের মধ্যেই বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবো। আমরা সেই অভিযান শুরু করে দিয়েছি।
ভাই ও বোনেরা, আধুনিক ভারত গড়ে তোলার জন্য যে পরিকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে আমরা সেই প্রয়োজনকে মাথায় রেখে দ্রুতগতিতে কাজ করে চলেছি। হরিয়ানা এই অভিযানে অত্যন্ত লাভবান হবে একথা ভেবেই মনোহরজী এই কর্মযজ্ঞকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আমি হরিয়ানাবাসীকে আরেকবার শুভেচ্ছা জানাই, আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই। আমার সঙ্গে সমস্বরে বলুন – ভারতমাতার জয়, ভারতমাতার জয়, ভারতমাতার জয়,
PG/SB/SB/06/S
Wherever infrastructure is good, development is possible. Quality of life improves with good infrastructure: PM https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) November 5, 2015
Good infrastructure has the potential to transform nations: PM @narendramodi in Haryana https://t.co/DiOE3xjsL7
— PMO India (@PMOIndia) November 5, 2015
There are so many districts not connected with a national highway. Bharat Mala project will change that: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 5, 2015
We have made attempts to transform the railways- increase speed, extension, expansion, better stations. Lot of initiatives are happening: PM
— PMO India (@PMOIndia) November 5, 2015
Why is it that after so many years 18,000 villages do not have electricity? Govt has decided that every village must have electricity: PM
— PMO India (@PMOIndia) November 5, 2015
Money doesn't build roads, roads brings money. My speech while laying fountain stone for highway projects in Sonepat https://t.co/EqDKFYEelt
— Narendra Modi (@narendramodi) November 5, 2015