Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

সৌভাগ্য যোজনা উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী শ্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, শক্তি মন্ত্রী শ্রী আর কেসিং, শক্তি মন্ত্রকের সচিব শ্রী অজয় কে ভাল্লা, পেট্রোলিয়াম সচিব শ্রী কপিলদেবত্রিপাঠী, ওএনজিসি’র সিএমডি শ্রী ডিকে সরাফ এবং এখানে উপস্থিত অন্য মাননীয়ব্যক্তিবর্গ,

আজ এক সঙ্গে তিনটি পবিত্র অনুষ্ঠানে ত্রিবেণী সঙ্গম হয়েছে। আজ নবরাত্রেরপঞ্চম দিন, আজকের দিনে স্কন্দমাতার পুজো হয়, স্কন্দমাতা সৌর মন্ডলের অধিষ্ঠাত্রীদেবী, তাঁর আশীর্বাদে নবরাত্রির এই বিশেষ দিনে দেশের মহিলাদের সুরক্ষা ও তাঁদেরজীবনের সঙ্গে যুক্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প আজ শুরু হতে যাচ্ছে।

আজ শ্রদ্ধেয় পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মদিন। আজকের দিনেই দেশকে‘দীনদয়াল শক্তি ভবন’ উৎসর্গ করা হচ্ছে। পরিবেশ-বান্ধব এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়কারী এই‘গ্রিন বিল্ডিং’ উদ্বোধন করে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমাকে বলা হয়েছে যে, এই সময়ওএনজিসি’র হাজার হাজার কর্মচারী ভিডিও লিঙ্কের বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে এইঅনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। আমি আপনাদের সকলকে এই সুরম্য ভবন উদ্বোধন উপলক্ষেশুভেচ্ছা জানাই।

আজ এখানে দেখতে গেলে অধ্যাত্ম, আস্থা এবং আধুনিক প্রযুক্তির শক্তির ত্রহ্যস্পর্শেএই অঞ্চল উজ্জ্বল।

ভাই ও বোনেরা, গত বছর আজকের দিনেই গরিব কল্যাণ বর্ষ সূচনা হয়েছিল। সরকারঠিক করেছিল যে, এক বছর ধরে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মশতবর্ষকে গরিব কল্যাণবর্ষ রূপে উদযাপন করবে। সেই হিসাবে গরিব কল্যাণ বর্ষ আজ সম্পূর্ণ হলেও গরিবকল্যাণের সঙ্গে এই সরকারের পরিচয় জুড়ে আছে।

জন ধন যোজনা থেকে শুরু করে স্বচ্ছ ভারত অভিযান পর্যন্ত, উজ্জ্বলা যোজনাথেকে করে মুদ্রা যোজনা, স্টার্ট আপ থেকে স্ট্যান্ড আপ ইন্ডিয়া, উজালা যোজনা থেকেউড়ান যোজনা পর্যন্ত আপনারা কেবল গরিবের কল্যাণই দেখতে পাবেন।

কে ভেবেছিলেন যে, কখনও এরকম সরকারও ক্ষমতায় আসবে, যারা ৩০ কোটি গরিবমানুষের জন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলাবে। মাসে এক টাকা আর নব্বই পয়সা হিসাবেপ্রিমিয়াম দিয়ে প্রায় ১৫ কোটি গরিবের বিমা প্রকল্প শুরু করাবে। কে ভেবেছিলেন যে,এত দ্রুত বাড়ি বাড়ি বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে, বিদ্যুৎহীন ঐ বাড়িগুলিতে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছতেইতাঁদের সৌভাগ্যের পথ প্রশস্ত হয়েছে।

‘প্রধানমন্ত্রী সহজ বিজলী হর ঘর যোজনা’র মাধ্যমেসরকার দেশের প্রত্যেক গ্রাম ও শহরে দূরদূরান্তে প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতেচায়। যে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আগে গরিবদের গ্রাম প্রধানের বাড়িতে, সরকারিঅফিসগুলিতে ধর্না দিতে হ’ত। সেই বিদ্যুৎ সংযোগ বর্তমান সরকার নিজে থেকে বাড়ি বাড়িপৌঁছে দিচ্ছে। এর জন্য এক টাকাও খরচ করতে হচ্ছে না।

এই সরকার গরিবের এই সৌভাগ্য প্রশস্তকরার সংকল্প নিয়েছে, এই সংকল্প আমরা সিদ্ধ করে ছাড়ব।

বন্ধুগণ, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়জি বলেছিলেন, ‘আর্থিক প্রকল্পসমূহ এবংআর্থিক প্রগতির পরিমাপ সমাজের উপরের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের দিয়ে করলেহবে না, সমাজের সবচেয়ে নীচের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তির নিরিখে করতে হবে’।অর্থাৎ, সরকারের প্রকল্পগুলি সঠিক কি না, তা যাচাই করে দেখার মাপকাঠি হচ্ছেসেগুলির মাধ্যমে গরিবের কতটা উপকার হচ্ছে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, পণ্ডিতদীনদয়ালজির জন্মদিনে দেশের কোটি কোটি গরিব পরিবারের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করারলক্ষ্যে এত বড় প্রকল্পের সূচনা হচ্ছে।

বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় গরিব পরিবারে, বিশেষ করে, মহিলা ও শিশুদেরযে ধরনের সমস্যা হয়, তা উপলব্ধি করে সরকার এ ধরনের ১৮ হাজার গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছেদেওয়ার সংকল্প নিয়েছিল যে, গ্রামগুলিতে স্বাধীনতার এত বছর পরও বিদ্যুতের খুঁটিপৌঁছয়নি। আমি লালকেল্লার প্রাকার থেকে ১ হাজার দিনের মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ করারপ্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম।

আজ ঐ ১৮ হাজার গ্রামের মধ্যে কেবলমাত্র ৩ হাজার গ্রাম এরকম বাকি রয়েছে,যেগুলিতে আজও বিদ্যুৎ পৌঁছয়নি। আমার বিশ্বাস যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এইগ্রামগুলিতেও বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে।

ভাই ও বোনেরা, নতুন ভারত-এ দেশের প্রত্যেক গ্রামে শুধু বিদ্যুৎ পৌঁছবে না,প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী সহজ বিজলী হর ঘর যোজনা অর্থাৎ এই সৌভাগ্যের সূত্রপাত সরকারেরইচ্ছাশক্তি আর দেশে শক্তি বিপ্লবের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক। শক্তির সমস্যা দূর নাকরে, চালু ব্যবস্থার সংস্কার না করে, পুরনো ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ না করে – এ ধরনেরপ্রকল্পের সূত্রপাত অসম্ভব। এই প্রকল্প তাই বিগত তিন বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকারেরসকল প্রচেষ্টার প্রতীক স্বরূপ।

দেশের মানুষ সেদিন ভুলতে পারবেন না, যখন টিভি চ্যানেলগুলিতে বড় বড় ব্রেকিংনিউজ আসত যে, কয়লার গুদামে এক বা দু’দিনের কয়লা বাকি রয়েছে! বিদ্যুৎ সংকটের সেই কালোদিনগুলিতে যখন গ্রিড বসে যেত, তখন একের পর এক রাজ্য অন্ধকারে ডুবে যেত। আর এসব আমিঅনেক দশক আগেকার কথা বলছি না, বর্তমান দশকেরই গোড়ার দিকে বিগত সরকারের সময় এই কষ্টআপনাদের ভুগতে হয়েছে।

বিগত তিন বছরে কি আপনারা এরকম ব্রেকিং নিউজ দেখেছেন? বন্ধুগণ, দেশ বিদ্যুৎসংকটকে পেছনে ফেলে এসেছে, এখন দেশে বিদ্যুৎ প্রয়োজনের অতিরিক্ত উৎপাদিত হয়। এইসাফল্য এসেছে একটি নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে, নতুন রণনীতি প্রণয়নের মাধ্যমে, বহুমুখীপদক্ষেপের মাধ্যমে।

এই সংস্কারের ক্ষেত্রে যে ভিন্ন ভিন্ন ধাপে একসঙ্গে কাজ করা হয়েছিল, সেগুলিহ’ল – উৎপাদন, সরবরাহ, বন্টন এবং বিদ্যুতের সংযোগ। উৎপাদন সঠিক না হলে সরবরাহ ওবন্টন ব্যবস্থাও মজবুত হ’ত না। আর মুখে যত কথাই বলি, বাড়ি বাড়ি বিদ্যুৎ পৌঁছেদেওয়ার স্বপ্ন অধরা থেকে যেত।

সেজন্য আমরা সরকারের দায়িত্ব নিয়ে সবার আগে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোরদিয়েছি। সৌরশক্তি, জলশক্তি, কয়লা থেকে তাপবিদ্যুৎ এবং নিউক্লিয়ার শক্তি সকলসম্ভাব্য পদ্ধতিতে উৎপাদন বৃদ্ধি চতুর্মুখী কাজ শুরু হয়।

১) বন্ধুগণ, ২০১৫ সালে আমরা কয়লাখনিগুলির জন্য আমরা নতুন অর্ডিন্যান্স চালুকরে প্রথমবার কয়লাখনিগুলির রিভার্স রি-অক্‌শন শুরু করি। ২০০৯-১৪ সাল পর্যন্ত ৫বছরে দেশে ৩৪ মিলিয়ন টন কয়লা উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছিল। আমরা নতুন পদ্ধতিতে বছরে গড়ে৯৩ মিলিয়ন টন বৃদ্ধি করে বার্ষিক ৬৫৯ মিলিয়ন টন উৎপাদনে পৌঁছে দিয়েছি। একথা বলেআমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, সরকার বিগত তিন বছরেই পিএসইউ’গুলির মাধ্যমে যে উৎপাদনবৃদ্ধি করেছে, তা বিগত সরকারের ৫ বছর কার্যকালের মোট বৃদ্ধির তুলনায় দেড় গুণ বেশি।

যেসব রাজ্যে কোনও কয়লাখনি নেই, সেই রাজ্যগুলির কয়লার চাহিদা মেটাতে সরকারচার মাস আগে ‘শক্তি’ নামক একটি নতুন কয়লা বন্টন নীতি চালু করেছে। এর মাধ্যমেবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিকে স্বচ্ছ পদ্ধতিতে নিলামের মাধ্যমেকয়লা বন্টন করা হবে। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে সরকার ‘কোল লিঙ্কেজ’-এর মাধ্যমেবন্টনের জন্য স্বচ্ছ নিলাম নীতি জারি করেছে।

২) বন্ধুগণ, যে কয়লার নিলামি’তে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে, সেইনিলামই আমাদের এই সরকার একটি স্বচ্ছ ও আধুনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশকে উপহারদিয়েছে। বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে সুলভ, সস্তা, স্বচ্ছ, সুনিয়োজিত এবংসুরক্ষিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৬টি মৌলিক সিদ্ধান্ত-ভিত্তিক কাজ করছে।

৩) বিগত তিন বছরে সরকারের প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রথমবার ‘ইনস্টলড্‌ পাওয়ার ক্যাপাসিটি’তে৬০ হাজার মেগাওয়াট বৃদ্ধি হয়েছে, যা লক্ষ্যের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি।

৪) বন্ধুগণ, ভারতের শক্তি সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে আমরা এই সংকল্পওনিয়েছিলাম যে, এই কাজে পরিবেশ-বান্ধব শক্তিকে অগ্রাধিকার দেব। সেজন্য সরকার ২০২২সালের মধ্যে ১৭৫ গিগাওয়াট পরিবেশ-বান্ধব শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্য স্থির করেছিল।অর্থাৎ, এতটা বিদ্যুৎ সৌর, বায়ু ও জল থেকে উৎপাদন করা হবে।

৫) এই লক্ষ্য নিয়ে বিগত তিন বছরে ভারত পুনর্নবীকৃত শক্তি উৎপাদন ক্ষমতাকেপ্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি করতে পেরেছে। প্রায় ২৭ হাজার মেগাওয়াটেরও অধিক শক্তি উৎপাদিতহয়েছে। ইতিমধ্যেই সৌরশক্তির উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

৬) পুনর্নবীকৃত শক্তি ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলে সরকার এটাওসুনিশ্চিত করেছে যে, দেশের সাধারণ মানুষ আগের তুলনায় সস্তায় বিদ্যুৎ পাবে।পুনর্নবীকৃত শক্তি উৎপাদনে সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে জোর দেওয়ার ফলে ২০১৬-১৭ সালে আমরাইউনিট প্রতি সৌরশক্তি ২ টাকা ৪৪ পয়সা আর বায়ুশক্তি ৩ টাকা ৪২ পয়সা দরে পৌঁছে দিতেপারছি। আমাদেরকে এত কম দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে দেখে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতএকটি নতুন আকর্ষণের বিষয় হয়ে উঠেছে।

৭) বন্ধুগণ, সরকার বিদ্যুৎ পরিবহণ ক্ষেত্রেও বিনিয়োগ অনেক বাড়িয়েছে, যারফলে দেশে ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক অনেক দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত তিন বছরে এইপ্রকল্পে দেড় লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। বিগত সরকারের শেষ তিনবছরের তুলনায় এক্ষেত্রে ৮৩ শতাংশ অধিক বিনিয়োগ হয়েছে। বর্তমান সরকার ইতিমধ্যেইলক্ষ্যমাত্রা থেকে ১২ শতাংশ বেশি ট্রান্সমিশন লাইন লাগিয়েছে।

এর ফলে, দেশে শুধু সুরক্ষিত ও ভারসাম্য যুক্ত গ্রিড চালু হয়নি, আমরাঅতিদ্রুত ‘এক দেশ, এক গ্রিড, এক দাম’-এর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছি।

৮) ভাই ও বোনেরা, অনেক বছর ধরে দেশের শক্তি ক্ষেত্র উপেক্ষিত থাকায় এইক্ষেত্রটি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল। শক্তি বন্টনে দৌর্বল্য থাকায় দেশে যতটাবিদ্যুৎ উৎপাদিত হ’ত, পুরোটা মানুষের কাছে পৌঁছতো না। আর বিদ্যুৎ সরবরাহকারীকোম্পানিগুলিও অতিরিক্ত প্রতি ইউনিটে আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছিল।

এই দুর্বলতা দূর করতে, শক্তি সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ২০১৫ সালেসরকার ‘উজ্জ্বল ডিসকম অ্যাসিওরেন্স যোজনা’ সংক্ষেপে ‘উদয়’-এর সূত্রপাত করেছিল। ‘উদয়’-এরউদ্দেশ্য বিদ্যুৎ সরবরাহে নিয়োজিত কোম্পানিগুলিতে উন্নতমানের অপারেশনাল এবংফাইনানশিয়াল ম্যানেজমেন্ট স্থাপন করা। এই কোম্পানিগুলির স্থায়িত্ব এবং ব্যবসাবৃদ্ধি পেলে তাঁরা বিদ্যুৎ বিতরণে অধিক মনোযোগ দিতে পারবে।

আজ তিন বছরের নিয়মিত প্রচেষ্টায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কোম্পানিগুলির স্বাস্থ্যউন্নত হতে দেখা যাচ্ছে। ফলস্বরূপ, সরবরাহ কোম্পানিগুলি গত আগস্ট মাস পর্যন্ত প্রায়২৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করতে পেরেছে, যা তাদের সুদ হিসাবে দিতে হ’ত।

‘উদয়’ চালু হওয়ার প্রথম এক বছরের মধ্যেই ২০১৬’র তুলনায় ২০১৭’য় বিদ্যুৎ সরবরাহকোম্পানিগুলির বার্ষিক লোকসান প্রায় ৪২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ‘উদয়’ যোজনা উন্নয়নেরক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক-সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

৯) বন্ধুগণ, এই সরকার গ্রাম ও শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালীকরে তুলতে দুটি বড় প্রকল্প চালু করেছে।

গ্রামগুলিতে দীনদয়াল উপাধ্যায় গ্রাম জ্যোতি যোজনা চালু করা হয়েছে আরশহরগুলিতে ইন্টিগ্রেটেড পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট স্কিম বা আইপিডিএস চালু করেছে। এই দুইপ্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ৬৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি পরিকল্পনাসমূহ মঞ্জুর করা হয়েছে।এই প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। বিদ্যুৎ বিতরণ প্রকল্প বাবদ কেন্দ্রীয়সরকার রাজ্য সরকারগুলিকে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। এই টাকা বিগত সরকারেরশেষ তিন বছরে প্রদত্ত অর্থ রাশির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

১০) ভাই ও বোনেরা, সারা দেশে শক্তি বিতরণ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার যেসবসিদ্ধান্ত নিয়েছে ও নীতি প্রণয়ন করেছে, তার সরাসরি প্রভাব ‘ইজ অফ ডুইং বিজনেস’কেউৎসাহিত করেছে। শক্তি ক্ষেত্রে ‘ইজ অফ ডুইং বিজনেস’-এ ২০১৫ সালে ভারত বিশ্বে ৯৯তমস্থানে ছিল। বর্তমানে ভারত বিশ্বে ২৬তম স্থানে রয়েছে। র‍্যাঙ্কের ক্ষেত্রে এত বড়উল্লম্ফন এক্ষেত্রে সংস্কারসাধনে কর্মরত সকলের পক্ষে গর্বের কথা।

১১) শক্তি ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্য নিয়ে আরেকটি আন্তর্জাতিক এজেন্সি বলেছেযে, আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা গত বছর রাতে মহাকাশ থেকে পৃথিবীর যেচিত্র নিয়েছিল, তাতে ভারত ঝিক্‌মিক্‌ করছিল। ২০১২’তে ঐ সংস্থার নেওয়া আরেকটি ছবিরতুলনায় এই চিত্র অনেক বেশি উজ্জ্বল।

১২) বন্ধুগণ, এই সরকার শক্তি ক্ষেত্রকে মজবুত করার পাশাপাশি শক্তির চাহিদাহ্রাস করার জন্য আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের কথাও ভেবেছে। আর এই আধুনিক পদ্ধতিতেবিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিদ্যুতের খরচ কমেছে।

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি এলইডি বাল্বের দাম ছিল ৩১০ টাকা। সরকারি প্রচেষ্টায় ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসেএলইডি বাল্ব ৪০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। ‘উজালা’ যোজনার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই দেশে ২৬কোটিরও বেশি এলইডি বাল্ব বিতরণ হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের বছরে আনুমানিক ১৩ হাজার৭০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। বেসরকারি ক্ষেত্রেও ৪১ কোটিরও বেশি এলইডি বাল্ব বিতরণকরা হয়েছে।

এছাড়া, সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়কারী নতুন প্রযুক্তির ১৩ লক্ষ পাখা এবং ৩৩লক্ষেরও বেশি টিউব লাইট বিতরণ করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় কর্মসূচি রূপে ৩৩ লক্ষ ৬০হাজারেরও বেশি এলইডি রাস্তার আলো লাগানো হয়েছে।

১৩) বন্ধুগণ, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা এই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারদেশের সাধারণ নাগরিক, গরিব, দেশের প্রত্যেক উপভোক্তা আমাদের জন্য সর্বোপরি। তাঁদেরথেকে প্রতিটি স্তরে পরামর্শ গ্রহণ এবং কতটা কাজ করতে পারা গেল, সে সম্পর্কেতাঁদেরকে জানানো – এই উভয় ক্ষেত্রেই সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। মোবাইল অ্যাপ,ওয়েবপোর্টাল এবং ড্যাসবোর্ড-এর মাধ্যমে চালু প্রকল্পগুলির অগ্রগতি সম্পর্কে সকলতথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁদের পরামর্শ গ্রহণকরা হয়েছে।

বন্ধুগণ, আমাদের অর্থ ব্যবস্থার বিস্তার দেখে বুঝতে পারা যাবে যে, আগামীবছরগুলিতে আমাদের শক্তির চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে। এক্ষেত্রে আমাদের ভারসাম্য রক্ষাকরে চলতে হবে। দেশের শক্তির প্রয়োজন মেটাতে হাইড্রো কার্বনের বড় ভূমিকা রয়েছে।বর্তমানে দেশের শক্তির চাহিদা মূলত কয়লার মাধ্যমে পূরণ করা হয়। আগামীদিনে আমরাপ্রাকৃতিক গ্যাস ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমেও এই ভারসাম্যআনতে হবে। কার্বনযুক্ত নিঃসরণ হ্রাস করার ক্ষেত্রে আমরা ‘সিওপি-২১ চুক্তি’র দ্বারাঅঙ্গীকারবদ্ধ।

নতুন ভারত-এ আমাদের এমন একটি এনার্জি ফ্রেম ওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে, যা সমতা,দক্ষতা এবং সুদূরপ্রসারী স্থায়ীত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে চলে। আমরা অভ্যন্তরীণসরবরাহ যত বৃদ্ধি করতে পারব, ততই আমদানি নির্ভরতা হ্রাস করতে পারব।

২০২২ সালের মধ্যে আমরা যদি তেল আমদানিতে ১০ শতাংশ হ্রাস করতে পারি, তা কেবলদেশের শিল্প ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে না, অর্থ ব্যবস্থাকেও মজবুত করবে। বিগত ১০বছরে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে দেশকে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার বিদেশি মুদ্রা খরচ করতেহয়েছে। এই অর্থ আমাদের দেশের বিগত ১০ বছরে সাধারণ বাজেটের থেকে প্রায় ৩ গুণ বেশি।আপনারা কল্পনা করতে পারেন, তেল আমদানি হ্রাস করতে পারলে যে অর্থ সাশ্রয় হবে, তাদেশের গ্রামীণ এলাকাগুলির উন্নয়নে খরচ করলে দেশে কত বেশি সামাজিক ও আর্থিক উন্নয়নহবে!

বিগত তিন বছরে তেল ও গ্যাসের ক্ষেত্রে সংস্কারের মাধ্যমে বেশ কিছু বড়গ্রাহক-কেন্দ্রীক উদ্যোগ শুরু করা হয়েছে। যেমন – প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা,এলপিজি ভর্তুকিকে প্রত্যক্ষ নগদ হস্তান্তর প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা, পাইপ লাইনেরমাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ এবং সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের বিস্তারএবং এলপিজি কভারেজ বৃদ্ধি করা।

এছাড়া, পলিসি পর্যায়ে বেশ কিছু বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেমন – তরল জ্বালানিরদাম বিনিয়ন্ত্রণ করা, গ্যাসের মূল্য নির্ধারণে নতুন নীতি প্রণয়ন, অভ্যন্তরীণউৎপাদন বৃদ্ধির নতুন নতুন উপায়, এইচইএলপি অর্থাৎ হাইড্রোকার্বন এক্সপ্লোরেশন এবংলাইসেন্সিং পলিসি প্রণয়ন, ডিএসএফ অর্থাৎ ডিস্কভারড স্মল ফিল্ড এর নিলামির জন্যনীতি প্রণয়ন, সার ক্ষেত্রে গ্যাস পুলিংগ করা।

ভাই ও বোনেরা, সরকার পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সংবেদনশীল। এদিকেলক্ষ্য রেখে ব্যাপকভাবে পেট্রলে ইথানল মেশানো, বায়ো ডিজেল উৎপাদন প্রকল্পসমূহ, এলএন জি টার্মিনালগুলির উন্নয়নের কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে দেশের শক্তি চাহিদা সুরক্ষিত করার জন্য তেল উৎপাদনকারী বড়দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ভারত-রুশ ‘এনার্জি ব্রিজ’ গঠনকরা হয়েছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিদেশিসংস্থার সঙ্গে বেশ কিছু চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আমাদের চাহিদা পূরণেগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সরকারের কর্মসংস্কৃতি পরিবর্তনের ফলে শক্তি ক্ষেত্র আরও শক্তিশালী হয়েউঠছে। আর শক্তি ক্ষেত্র মজবুত হওয়ায় দেশ একটি নতুন কর্মসংস্কৃতি পাচ্ছে। দেশেরপ্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে বসবাসকারী মানুষের জীবনে যখন বিদ্যুৎ ও গ্যাস পৌঁছবে, তখনতাঁদের জীবনমান ও কর্মপদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসবে। আশা করি, ‘উজ্জ্বলা যোজনা’র মতোই‘সৌভাগ্য যোজনা’, বিশেষ করে নারীশক্তির জীবনে সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকরবে। এতে আমাদের সমাজে একটি বড় ভারসাম্যহীনতার অবসান ঘটবে।

গরিব মানুষের জীবনে পরিবর্তনের জন্য, তাঁদের জীবন থেকে অন্ধকার দূর করারজন্য, নতুন ভারত-এর কথা ভেবে প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমি দেশকে আরেকবার অনেকঅনেক শুভেচ্ছা জানাই।

আপনাদেরও অনেক অনেক ধন্যবাদ!!!

জয়হিন্দ!!!

PG /SB/ SB