Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

‘স্টার্টআপ’ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ (২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫, স্যান জোস, ক্যালিফোর্নিয়া)

‘স্টার্টআপ’ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ 
(২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫, স্যান জোস, ক্যালিফোর্নিয়া)

‘স্টার্টআপ’ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ 
(২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫, স্যান জোস, ক্যালিফোর্নিয়া)


আপনাদের প্রত্যেককেই আমার ধন্যবাদ!

তরুণ ও বিশিষ্ট প্রদর্শকদের সকলকেই আমার সাদর অভিনন্দন।

রবিবারের সকালে সকলে একসঙ্গে উপস্থিত থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।

রিড হফ্ম্যান, আপনার লিঙ্কডইন একটি দারুন জিনিস। এখানে এমনকি ভারতেও অনেকের কাছে আপনি এক অনুপ্রেরণা।

মোহন, ভেঙ্কি, অ্যাম্বাসাডার আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।

আজ এখানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আমার কাছে এটি একটি বিশেষ উপলক্ষ, কারণ ‘স্টার্টআপ’ বিষয়টির সঙ্গে আমি একাত্মতা বোধ করছি।

আমি জানি যে, এক সময় সিলিকন ভ্যালি থেকে ওয়াশিংটন’কে এভাবেই দেখা হত। ঠিক এইভাবেই বেঙ্গালুরুর প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা নয়াদিল্লি সম্পর্কে ভাবতেন।

আমি এটাও জানি যে এমন কোনও সমস্যা নেই যেগুলি সম্পর্কে কোনও অ্যাপস্ আপনারা তৈরি করে উঠতে পারেননি।

গত বছর আমি যখন দিল্লিতে পদার্পণ করলাম, তখন আমার সরকারকে আমি একটি ‘স্টার্টআপ’ বলেই মনে করতাম। আপনারা যেমন চলার পথে অনেক বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছেন, এরকম অনেক বাধা আমাকেও অতিক্রম করতে হয়েছে।

আপনারা যে অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, তা আমি জানি। কিন্তু, নতুন কিছু সৃষ্টি করার যে বিস্ময়কর আনন্দ তাও আমি অনুভব করি।

মানব ইতিহাস ও অগ্রগতিকে আকার, রূপ ও অবয়ব দিয়েছে কল্পনা, অনুপ্রেরণা, আবিষ্কার ও উদ্ভাবন।

খুব ঝোড়ো বাতাস বইলে কেউ কেউ হয়তো জানলাটাকে বন্ধ করে দিতে চাইবে। কিন্তু, এমন অনেকে আছেন, যাঁরা তখন একটি উইন্ডমিল তৈরি করে ফেলবেন কিংবা সমুদ্রে ভাসিয়ে দেবেন তাঁদের পালতোলা নৌ-যান।

কোনও কিছুকে উপলব্ধির বিষয়টি চ্যালেঞ্জ কিংবা সুযোগ হিসেবে মনে করার মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তা হল অকর্মন্যতা ও উদ্যোগের মধ্যে যে পার্থক্য তারই সমান। অর্থাৎ, যেমন চলছে চলতে দাও কিংবা এগিয়ে চলো এগিয়ে চলো – এই দুটির মধ্যে যে পার্থক্য, বিষয়টা অনেকটা সেরকমই।

‘স্টার্টআপ’ এমনই একটি ধারণা যা এই পৃথিবীর মতোই প্রাচীনত্বের দাবি রাখে। প্রতিটি অর্থনৈতিক যুগের সূচনা হয়েছে পূর্বের বিষয়টিকে সরিয়ে দিয়ে নতুনকে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে। পুরাতনকে বাতিল করে নতুন মত ও ধারণাকে প্রতিষ্ঠা করার মধ্য দিয়ে।

অগ্রগতির চালিকাশক্তিই হল ‘স্টার্টআপ’। যে সমস্ত বড় বড় প্রতিষ্ঠান আজ গড়ে উঠেছে তার মূলে ছিল কিন্তু বিগত দিনের ‘স্টার্টআপ’।

পার্থক্য শুধু এটুকুই যে ‘স্টার্টআপ’-এর এক নতুন উর্বর ক্ষেত্র ও পরিবেশ সম্ভব করে তুলেছে আজকের ডিজিটাল যুগ।

আমরা এমনই এক বিশ্বে বাস করছি যা সম্পদ আহরণের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠেনি, গড়ে উঠেছে ধারণার প্রচার ও প্রসারের মধ্য দিয়ে। সৃষ্টিকর্তা নয়, গ্রাহকই সেই ধারণা ও প্রয়োগের আবিষ্কারক।

আজকের দিনে বিকাশের স্বাভাবিক গতি বা হারকে তুচ্ছ করে দিয়েছে ‘স্টার্টআপ’। মাত্র এক বছরের মধ্যেই একটি ধারণা বা মতবাদ ছড়িয়ে পড়তে পারে সারা বিশ্বে। গ্রাহকদের সংখ্যা বাড়তে পারে মিলিয়নের হারে। কর্মীদের সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে হাজারের হিসেবে। আর মূল্যায়ন বাড়তে পারে বিলিয়ন হারে।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও সংহতির সহাবস্থান এনে দিয়েছে স্থাপনা শক্তি এবং এই ধারণা ও মতের সমর্থক মানুষ উদ্যম ও উদ্যোগের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত করে দিয়েছে এক নতুন বিশ্বের দ্বার।

পরিবেশগত অবস্থা ও ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে সিলিকন ভ্যালিতে। ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে এখানে যেভাবে গড়ে তোলা হয়েছে বর্তমান বিশ্বকে তা সম্ভব করে তুলতে পারেনি আর কেউ।

বড় বড় কোনও নাম নয়, ব্যক্তি নয়, কিন্তু ছোট ছোট সংস্থা – তারাই প্রতিদিন মানব জীবনকে শিল্প ও সৃষ্টিশীলতার আনন্দের মধ্য দিয়ে সমৃদ্ধ করে তোলার নতুন নতুন উপায় উদ্ভাবন করে চলেছে।

আমেরিকার সাফল্যের মূল বিষয় হল এটিই, যা সমগ্র বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করেছে।

তাই, ‘স্টার্টআপ’ প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে আমি ভারতের রূপান্তর এবং যুব শক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির একটি কার্যকর হাতিয়ার বলেই মনে করি।

আমাদের দেশে ৩৫ বছরের কম বয়সী ৮০ কোটি তরুণ ও যুব শক্তি রয়েছে। তারা পরিবর্তন প্রয়াসী। তা সম্ভব করে তোলার মতো শক্তি ও উদ্যম তাদের রয়েছে। তাদের রয়েছে, লক্ষ্যে পৌঁছনোর মতো দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়। যখন ভারতের ৫০০ শহরের প্রত্যেকটিতে শুরু হবে ১০টি করে ‘স্টার্টআপ’ এবং ৬ লক্ষ গ্রামের প্রত্যেকটিতে নিয়মিতভাবে গড়ে উঠবে ৬টি করে ক্ষুদ্র বাণিজ্যিক সংস্থা, তখন আমরা এক বিশাল অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাবো এবং তখনই সৃষ্টি হবে বিরাট সংখ্যক কর্মসংস্থানের সুযোগ।

ভারতে ‘স্টার্টআপ’-এর উপযোগী পরিবেশ দ্রুত গড়ে উঠছে। দেশের যুবসমাজের উৎসাহ, উদ্যম এবং উদ্ভাবনী শক্তি এই পরিবেশ গড়ে তুলছে।

দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন নতুন সুযোগ ও দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে বেড়ে উঠছে এক বিশাল বিপণন সম্ভাবনা। নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমাদের রয়েছে আগ্রহ, সুযোগ-সুবিধা ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। একটি ধারণা ও মতবাদকে আশ্রয় করে তা লালন করা, তার মধ্যে গতিসঞ্চার করা এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে ঝুঁকি গ্রহণ করার মতো শক্তি আমাদের রয়েছে।

বিরাট উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ‘স্টার্টআপ’ শুরু করার কাজে ভারত এখন প্রস্তুত। বিগত কয়েক বছর ধরে এই উৎসাহ উদ্দীপনা একটু একটু করে শুরু হয়েছে।

এখানে এমন অনেকে ‘স্টার্টআপ’-এর সঙ্গে যুক্ত আছেন, যাঁদের মূল বা শিকড় ভারতে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিচর্যা, কৃষি, বিশুদ্ধ জ্বালানি, নিরাপত্তা, দরিদ্র সাধারণের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং নির্মল জল সুলভ করে তুলতে তাঁরা প্রযুক্তি প্রয়োগের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।

আমাদের ‘স্টার্টআপ’ শুধুমাত্র বাণিজ্যিক সাফল্যেরই সূচক নয়, বরং সামাজিক উদ্ভাবনের তা এক বলিষ্ঠ উদাহরণ।

ভারতবাসী যে গতিতে ডিজিটাল প্রযুক্তিকে গ্রহণ করেছে তা যে কোনও মানুষের শিক্ষা, ভাষা, বয়স ও উপার্জনকে বাধা বলে মানে না।

ভারতের প্রায় ১০০ কোটি মানুষের হাতে রয়েছে একটি করে সেল ফোন। স্মার্ট ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা লক্ষ লক্ষ। যত দিন যাচ্ছে তা বাড়ছে প্রায় দ্বিগুণ হারে।

ভারতের উন্নয়ন চাহিদা এখন বিরাট এবং তা পূরণ করার বিষয়টিও আশু জরুরি।

উন্নয়নের প্রচলিত পথ বা চিরাচরিত ধারাতে আমাদের এখন সন্তুষ্ট থাকলে চলবে না।

ডিজিটাল ভারত গড়ে তোলার পেছনে শক্তি বা দর্শন হল এটাই। এই প্রসঙ্গে গত রাতেই আমি বলেছি যে আমাদের বর্তমানে করণীয় হল শাসন ব্যবস্থার রূপান্তরে প্রযুক্তির প্রয়োগ, নাগরিকদের ক্ষমতায়ন, সুযোগের পথের অন্তরায়গুলি দূর করা, সামাজিক পরিবর্তনকে আরও গভীরতর করে তোলা, উন্নয়নের ক্ষেত্র প্রসার এবং তার মধ্যে গতিসঞ্চার, পরিষেবার মানে উন্নতি, দরিদ্র সাধারণ মানুষের জন্য পণ্যসামগ্রীর নক্শা উদ্ভাবন, বিশেষ বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য পরিষেবাকে আধুনিক করে তোলা এবং পৃথিবীর জন্য নিরন্তর উন্নয়নের এক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।

আমাদের এই দর্শনকে সফল করে তুলতে ‘স্টার্টআপ’-এর রয়েছে এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

পরিকাঠামো নির্মাণ থেকে পরিষেবার প্রসার, পণ্য উৎপাদন থেকে মানবসম্পদের বিকাশ, সরকারকে সাহায্য করার পাশাপাশি নাগরিকদের দক্ষতা বাড়ানো এবং ডিজিটাল সাক্ষরতার প্রসারে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার রয়েছে এক বিশাল সাইবার জগৎ, যা সকলের সামনে অফুরন্ত সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত করে দিতে পারে।

তাই, ‘স্টার্টআপ’কে আমি কোনও স্বল্পকালীন বিনিয়োগ নয় বরং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি হিসেবেই দেখতে চাই।

আমাদের প্রয়োগ ও উদ্যমের সীমানা বলে যদি কিছু থাকে, তা হল আমাদের কল্পনাশক্তি।

আমাদের রয়েছে মহাকাশ দপ্তর, যার পোর্টালে তথ্য ও পরিসংখ্যান সকলের জন্য উন্মুক্ত। গত কয়েক মাসে সরকার পরিচালনা তথা শাসন ব্যবস্থা ও উন্নয়নের কাজে আমরা ১৭০টির মতো প্রয়োগকে কাজে লাগিয়েছি।

এর অনেকগুলিই ভারতে নতুন নতুন উদ্যোগের চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।

ডিজিটাল দিক থেকে শুধুমাত্র সুযোগ সৃষ্টি কিংবা শহরাঞ্চলের সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে বিজ্ঞানের অগ্রগতির মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ নয়।

আমি দেখতে চাই, ‘স্টার্টআপ’-এর যে শক্তি ও ধারণা, তা যেন দেশের অর্থনীতিকে উজ্জ্বলতর করে তোলে এবং গ্রাম ভারতের সাধারণ মানুষের ভাগ্যও যাতে তার সাহায্যে আলোকিত হয়। হস্তশিল্প থেকে পর্যটন – সম্ভাবনার শেষ প্রান্ত এবং ভারতে তার সুফলের প্রান্তসীমা সুদূর প্রসারিত।

দেশের গ্রামীণ নারী সমাজের জন্য তার প্রয়োজন বিশেষভাবে। কারণ, যখনই সুযোগ পেয়েছেন, তখনই তা তাঁরা কাজে লাগিয়েছেন বিস্ময়কর সাফল্যের সঙ্গে। তাঁরা শুধুমাত্র গ্রামীণ অর্থনীতিকেই বদলে দিতে পারেন না, তাঁরা বদলে দিতে পারেন আমাদের সমাজকেও।

আমাদের উন্নয়নের মডেলে সরকারি ক্ষেত্র ও বেসরকারি ক্ষেত্রের কথাই শুধু বলা হয়। কিন্তু, আমি বলি আরেকটি ক্ষেত্রের কথা, যা হল ব্যক্তিগত ক্ষেত্র। যার মধ্যে রয়েছে ব্যক্তির প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা সংস্থা, অতিক্ষুদ্র সংস্থা এবং অতিক্ষুদ্র লগ্নি ব্যবস্থা।

আর ঠিক এই কারণেই এ বছর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে আমি ‘স্টার্টআপ’ ইন্ডিয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছিলাম।

আমরা আমাদের কর্মসূচি চালু করেছি আমাদের মিশনকে সফল করে তোলার লক্ষ্যে। আমি আপনাদের আশ্বাস দিয়ে বলতে পারি যে, সরকারি দীর্ঘসূত্রিতায় আপনাদের সৃষ্টিশীলতার গতি কখনই রুদ্ধ হবে না।

আমাদের একটি মিশন হল – ‘অটল উদ্ভাবন মিশন’, যা আমাদের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর নামানুসারে উদ্ভাবনের লক্ষ্যে চিহ্নিত।

আমাদের অন্য মিশনটি হল – ‘সেতু’, হিন্দিতে যার অর্থ বন্ধন বা যোগসূত্র। স্বনির্ভরতা এবং মেধার ব্যবহার এই দুয়ের সমন্বয়ে গড়ে উঠবে সেতু। এটি হল উৎসাহদানের মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা দান সম্পর্কিত একটি কর্মসূচি।

নক্শা উদ্ভাবন, উন্নয়ন এবং নতুন নতুন পণ্যের উৎপাদনের লক্ষ্যে বৈদ্যুতিন উন্নয়ন তহবিলও আমরা গঠন করছি।

আমাদের নিয়ম-কানুন ও প্রক্রিয়াতেও আমরা পরিবর্তন আনছি, যাতে ভারতে বাণিজ্যিক কাজকর্ম শুরু করা এবং তা চালিয়ে যাওয়া আরও সুবিধাজনক হয়ে ওঠে।

আমাদের ডিজিটাল পরিকাঠামো ও পরিষেবাকে সকলের কাছে সুলভ ও সকলের জন্য উন্মুক্ত করে তুলতে চাইছি, যাতে তার সাহায্যে দেশের ৬ লক্ষ গ্রামে ব্রডব্যান্ড, বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে বিনামূল্যে ওয়াইফাই-এর সুযোগ পৌঁছে দেওয়া যায়।

একইসঙ্গে আমরা তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা, মেধাসম্পদ অধিকার এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলির ওপরও গুরুত্ব আরোপ করছি।

সুতরাং, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘স্কিল ইন্ডিয়া’ এবং ‘ডিজাইন ইন্ডিয়া’ অনন্ত সুযোগ ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে দিতে চলেছে।

সুতরাং বন্ধুগণ, ‘স্টার্টআপ’-এর কথা চিন্তা করলেই বিদেশে আমাদের প্রথম উদ্যোগের কথা হিসেবে সিলিকন ভ্যালির কথাই স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মনে এসে যায়।

ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে এক স্বাভাবিক উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা অংশীদারিত্ব, যা জ্ঞাননির্ভর অর্থনীতিকে নতুন রূপ দিতে পেরেছে।

এখানে ‘স্টার্টআপ’-এর কাজে যুক্ত কর্মীদের ১৫ শতাংশই ভারতীয় বলে আমি জানি। এখানে এবং ভারতে হাজার হাজার ভারতীয় পেশাদার কর্মীর অবদান রয়েছে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মার্কিন সংস্থার সাফল্যের পেছনে। তাঁদের অনেকেই আজ শীর্ষস্থানের অধিকারী।

পরবর্তী প্রজন্মের জন্য উন্নত জৈব জ্বালানি, সৌরশক্তি এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলি একযোগে কাজ করে চলেছে।

গ্রামীণ ভারতে সুলভে জৈব চিকিৎসা-পদ্ধতি পৌঁছে দিতে স্ট্যানফোর্ডের পণ্ডিত ও গবেষকরা দিল্লির ভারতীয় গবেষকদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করছেন। সৌরশক্তি-ভিত্তিক সেচ ব্যবস্থা গড়ে তুলে ক্ষুদ্র কৃষকদের জীবনযাত্রার মানে পরিবর্তন আনছে এম.আই.টি. টাটা সেন্টারের Khethworks.

আমাদের মাঝে আজ এখানে উপস্থিত আছেন স্ট্যানফোর্ডের তরুণ ভারতীয় বিজ্ঞানী মনু প্রকাশ, যাঁর নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি গবেষণাগারও রয়েছে।

আমাদের সহযোগিতা ও সমন্বয়ের শক্তি হল এটাই। এখানে বসেই আপনারা প্রত্যন্ত গ্রামের এক ছোট্ট শিশুর নাড়িস্পন্দন অনুভব করতে পারবেন।

আমার আশা যে, ভারতের এক ছোট্ট শহরের ছোট্ট একটি মেয়ে আজ এই প্রদর্শকদের চাক্ষুষ করে তার নিজের প্রকল্প গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখবে। হয়তো মুম্বাই কিংবা উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনও একজন তার স্বপ্নকে একদিন সফল করে তুলবে।

ডিজিটাল সেতুবন্ধনের সম্ভাবনা হল এটাই – পরস্পরের থেকে দূরে বসবাসকারী মানুষের জীবনকে যুক্ত করা এবং তাঁদের অদৃষ্ট ও ভবিষ্যতকে পরিবর্তনের পথে নিয়ে যাওয়া।

যুবশক্তি ও উদ্ভাবনের সম্ভাবনার বীজ লুকিয়ে রয়েছে এখানেই।

ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অংশীদারিত্বের বাতি প্রজ্জ্বলিত হতে পারে এর সাহায্যেই, তা আমাদের দু’দেশের সমৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে পারে এবং আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বের মধ্যে জাগিয়ে তুলতে পারে এক নতুন সম্ভাবনা।

আমাদের তা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে এক ডিজিটাল শতকের দিকে। মানুষের কঠিন সমস্যার সমাধান এবং আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে ওঠার শক্তিও আমরা পাই তার থেকে।

আজ আমি অনেক নতুন নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে ওঠায় বিশেষ আনন্দিত।

আমি ভারত তহবিল (BHARAT Fund) গড়ে তুলতে পেরে নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি। শুধুমাত্র ভারতের জন্যই নয়, উন্নততর স্বাস্থ্য, কৃষি, পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি এবং প্রযুক্তির লক্ষ্যেও তা কাজ করে যাবে।

ভারতে ‘স্টার্টআপ’-এর জন্য ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে কোয়ালকম। আমি এই ঘোষণায় খুবই আনন্দিত। আমি ধন্যবাদ জানাই ‘টাই’কে ‘স্টার্টআপ’-এর উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে তাদের মূল্যবান পরামর্শের জন্য।

আমি জানি, উদ্যম ও প্রতিভা এই দুটি শক্তিকে অবলম্বন করে আপনারা সাফল্য অর্জন করবেন। কিন্তু, যখনই আপনাদের কোনও সহযোগীর প্রয়োজন হবে কিংবা চলার পথে কোনও বাধা-বিপত্তির মুখে পড়বেন আমরা থাকবো আপনাদের পাশেই।

আজকের এই বিশেষ দিনটির জন্য ন্যাসকম, ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট আমেদাবাদ এবং টাই সিলিকন ভ্যালি’কে আমি ধন্যবাদ জানাই।

ভারতের বহু তরুণ প্রতিভাকে আপনারা উজ্জীবিত করেছেন। হাজার হাজার নতুন স্বপ্নকে সফল করে তোলার পথে এগিয়ে চলেছেন এবং ভারত-মার্কিন অংশীদারিত্বকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে দিয়েছেন – এই দর্শন আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপলব্ধি করছি।

আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।

PG/SKD/SB/S