Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

স্বর্ণ-বিষয়ক প্রকল্পসমূহের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

স্বর্ণ-বিষয়ক প্রকল্পসমূহের উদ্বোধনের পর  প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

স্বর্ণ-বিষয়ক প্রকল্পসমূহের উদ্বোধনের পর  প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

স্বর্ণ-বিষয়ক প্রকল্পসমূহের উদ্বোধনের পর  প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

স্বর্ণ-বিষয়ক প্রকল্পসমূহের উদ্বোধনের পর  প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

স্বর্ণ-বিষয়ক প্রকল্পসমূহের উদ্বোধনের পর  প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

স্বর্ণ-বিষয়ক প্রকল্পসমূহের উদ্বোধনের পর  প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

স্বর্ণ-বিষয়ক প্রকল্পসমূহের উদ্বোধনের পর  প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


উপস্থিত সকল শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিবর্গ,

আমি ছোটবেলা থেকেই ‘সোনায় সোহাগা’ কথাটি শুনে আসছি।কিন্তু এতদিন বুঝতে পারিনি ‘সোনায় সোহাগা’ আসলে কী? আজ আমাদের অর্থমন্ত্রী মহোদয় আমাদের বুঝিয়ে বললেন‘সোনায় সোহাগা’ কাকে বলে। আপনাদের মতো আমিও শুনে অবাক হয়েছি যে আমাদের দেশে ২০হাজার টন সোনা এমনি পড়ে আছে। আমাদের দেশের দারিদ্র্যের মূল কারণও সম্ভবত এটাই যে আমাদের রাজকোষে ২০হাজার টন সোনা এমনি পড়ে আছে। আর সেজন্যেই ভারতের গরীব থাকার কোনও কারণ নেই,কোনও কারণ নেই । কোনও যুক্তি দিয়ে আমি ভারতের গরীব থাকার কোনও কারণ বুঝতে পারি নি। আমরা যদি সামান্য চেষ্টা করি, সঠিক লক্ষে এগিয়ে যাই, তাহলে আমাদের উপর যথারীতি যে ট্যাগ লেগে গেছে, সেই ট্যাগ থেকে মুক্তি পেতে পারি। সেই পথে একটি জরুরি পদক্ষেপ হল আজকের এই স্বর্ণ-বিষয়ক প্রকল্পসমূহের উদ্বোধন।

আমি ছোটবেলা থেকেই লোকমুখে শুনে আসছি যে, ‘ সযত্নে রেখে দাও ভাই, মাঝরাতে কাজে লাগবে! সোনা রেখে দাও,মাঝরাতে কাজে লাগবে! কখনো দরকার পড়লেকাজে লাগবে; কিন্তু আমি আজ পর্যন্ত অনেক লোককে জিজ্ঞেস করেছি, তেমন কাউকে পাইনি যার মাঝরাতে কাজে লেগেছে! কিন্তু মানসিকভাবে তাদের মনে একথা বাসা বেধেছে, ‘সোনা রেখে দাও, মাঝরাতে কাজে লাগবে!’ এই কোনকিছু মনে বাসা বেধে যাওয়া থেকে সমাজের মানুষকে বের করে আনা সহজ কাজ নয়। এমনকি লেখাপড়া জানা মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করুন, দেখবেন, সহজ কাজ নয়! এমনকি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সাহেবের স্ত্রীও যদি কিছু চান, তাকে সোনা কিনে দিতে হয়। যদিও তাঁর অর্থশাস্ত্র সোনা সম্পর্কে ভিন্ন মত পোষণ করে, কিন্তু গৃহশাস্ত্র ভিন্ন হয়, এই পরিস্থিতিতে আমাদের কোনও সৃষ্টিশীল উদ্ভাবনী ব্যবস্থা বিকশিত করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। আর একটি ধারণা গোটা পৃথিবীতেই অনেকে ভাবেন ভারতীয় মহিলাদের কাছে কিছু থাকে না। বাড়ি পিতা কিম্বা স্বামীর নামে, গাড়ি স্বামী কিম্বা পুত্রের নামে, ক্ষেত- খামারও পিতা, স্বামীকিম্বাপুত্রেরনামে। কিন্তু লক্ষ্য করবেন, মহিলাদেরকাছে সোনা থাকে, যা তাদের ক্ষমতার পরিচয়। আমাদের ব্যবস্থা এত ঠুনকো নয়।মহিলাদের কাছে সোনা থাকা আমাদের সামাজিক জীবনে নারী ক্ষমতায়নের একটি বড় দিক।তাঁর নামে বাড়ি না থাকলেও, তাঁর কাছে এই সম্পত্তি থাকে। এই সম্পত্তি নিয়ে পরিবারের কেউ তাঁকে প্রশ্ন করে না, কন্যাও প্রশ্ন করে না, এটা তো মায়ের। আমাদের ঐতিহ্যের এটি একটি ভাল দিক। সোনার মাধ্যমে সামাজিক জীবনে নারী ক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত করা হয়েছে। আমাদের ঐতিহ্যের এই ভাল দিকটিকে আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে। আমাদের মা ও বোনেদের মনের নিরাপত্তাবোধ অক্ষুন্ন রাখতে হবে। আমাদের এই প্রকল্প এই আস্থার সঞ্চার করতে সক্ষম হলে এর সাফল্যের কারণ হবেন মহিলারাই। আমাদের দেশের সম্পন্ন পরিবারগুলিতে পারিবারিক চিকিৎসক থাকেন, অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারেওপারিবারিক চিকিৎসক থাকেন, কিন্তু কোনও নিম্নবিত্ত পরিবারেপারিবারিক চিকিৎসক থাকেন না। কিন্তু ধনী- গরিব নির্বিশেষে প্রত্যেক ভারতীয় পরিবারে একজন পারিবারিক স্বর্ণকার থাকেন, তাদের লোকে বিশ্বাস করে। তিন-চার প্রজন্ম আগে যাদের পরিবার আমেরিকা প্রবাসে চলে গেছে, এমনকি তাদের বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গেও তাঁদের গ্রামের সেই স্বর্ণকারপরিবারের সম্পর্ক অটুট থাকে। তাদের কাছ থেকে গয়না বানিয়ে প্রবাসে মেয়ের বিয়ে দেন প্রবাসী দম্পতি। এই আস্থার সম্পর্ক শতাব্দীর পরশতাব্দীর তপস্যার ফল। এই শক্তিকে আমাদের চিনতে হবে। আর সেজন্যেই এই প্রকল্প সম্পর্কে আমি শ্রীমান দাসকে বলছিলাম যে, গ্রামের স্বর্ণকারদের কেমন করে এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা যায় তা ভাবতে হবে।

একটা সময় ছিল, ১৯৬৪ সাল নাগাদস্বর্ণকাররা সরকারের সবচাইতে বড় শত্রু হয়ে উঠেছিল। আমি ছোটবেলার কিছুসময় গুজরাটের পারটন শহরে কাটিয়েছি। যে গলিতে থাকতাম সেটা ছিল স্বর্ণকারদের গলি। সেখানে এক ভদ্রলোককে দেখতাম খবরের কাগজ জ্বেলেই তিনি সিগারেট ধরাতেন, খবরের কাগজে ছাপা মোরারজিভাইয়ের সমস্ত ফটো সিগারেট দিয়ে জ্বালিয়ে দিতেন। এত রাগের কারণ ছিল, অন্যান্য স্বর্ণকারদেরমতো ভদ্রলোকও মনে করতেন যে সরকার তাদের পেটে লাথি মেরেছে। আজকের এই স্বর্ণ-বিষয়ক প্রকল্পসমূহ এমনভাবে বাস্তবায়ন করা উচিত যাতে সেইসবস্বর্ণকার ভাইয়েরা সবচাইতে বেশি কাজে লাগেন, তাদের ক্ষমতায়ন হয়। তাঁরা কিভাবে আমাদের এই প্রকল্পের এজেন্ট হতে পারেন সেটা দেখতে হবে, কারণ আজও গ্রামের মানুষ ব্যাঙ্কের থেকেও বেশি তাঁদের বিশ্বাস করেন। এই প্রকল্পে গ্রাহকরা জুয়েলারি শো রুম থেকে সোনার অলঙ্কার কিনে তারপর নিজের গ্রামের সেই স্বর্ণকারের কাছে গিয়ে যাচাই করে তবেই শান্তি পাবেন। সেজন্যই আমরা কিভাবে গ্রাহকদের পাশাপাশি স্বর্ণকার বন্ধুদেরকেও এই ‘গোল্ড বন্ড’ প্রকল্পগুলিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারি, কিভাবে আমরা একটি ‘ডিসেন্ট লাইন মেকানিজম’ গড়ে তুলতে পারি সে বিষয়ে আমাদের বিভাগীয় কর্মকর্তারা ভাবুন। এটা করতে পারলে এই প্রকল্প দ্রুত বিস্তারলাভ করবে। সরকারের কোনও পরিকল্পনা বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার পর এত দ্রুত বাস্তবায়ন প্রশংসার দাবি রাখে। সময়সীমা ঠিক করা হয়েছিল ধনতেরাস, কারণ ভারতে বিবাহ অনুষ্ঠানের জন্য যত সোনা কেনা হয়, তার চেয়ে বেশি কেনা হয় ধনতেরাসে। এই সময়েই সবচেয়ে বেশি সোনা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার টন সোনা আমদানি করতে হয়। এখন একটি বড় বাঁধ নির্মাণে কোটি কোটি টাকা খরচ করার পর সুষ্ঠু সেচের জল সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকে তা হলে সেই জল কৃষকের কাছে পৌঁছয় না। আমাদের দেশে ২০ হাজার টন সোনার তেমনই অবস্থা। এই সম্পদকে আমরা দেশের সামর্থ্যে রূপান্তরিত করতে পারলে আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করা সম্ভব হবে। দেশের উন্নয়নে এই সম্পদকে কিভাবে কাজে লাগানো যায়, মানুষের মনে আস্থা বাড়ানো যায় তা দেখতে হবে। আজ কেউ ১৫ দিনের জন্য বাড়ির বাইরে যেতে হলে চিন্তায় পড়ে যান। আত্মীয়দের বাড়িতে সোনাদানা রেখে যাবেন ….. দুশ্চিন্তায় ঘুম আসে না। এবার এই প্রকল্প মানুষের মন থেকে এ ধরণের দুশ্চিন্তা দূর করবে। সোনার বদলে তাঁর কাছে যদি বন্ড-এর কাগজ থাকে চোর বাড়িতে ঢুকেও সেই কাগজ ছুঁয়ে দেখবে না। যাঁর নামে বন্ড শুধু তিনি বা তাঁর কোনও বৈধ উত্তরাধিকারী চাইলে সেই বন্ড ভাঙিয়ে সোনা ফেরৎ নিতে পারেন, আবার কাউকে বিক্রিও করতে পারেন। মাঝ রাতে যদি কাউকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়, জরুরি অপারেশন করতে হয় তা হলে নগদ টাকার বদলে এই বন্ড কাজে লাগবে। বন্ডের এতসব উপযোগিতার কথা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাঙ্কে যে সোনা জমা হবে সেই ব্যাঙ্কের এলাকার কোনও জুয়েলারি তার প্রমোশনের জন্য সহজেই সেই সোনা ব্যবহার করতে পারবেন। জুয়েলারি শিল্পে আমরা আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্রাহক। গতকালই আমি জানতে পেরেছি যে, এক্ষেত্রে আমরা চিনকেও ছাড়িয়ে গেছি। গত নয় মাসে ভারত ৫৫২ টন সোনা কিনেছে আর চিন কিনেছে ৫৪৮ টন। এই প্রকল্প সফল হলে আমাদের বাড়ির সিন্দুকে রাখা সোনা ব্যাঙ্কে জমা পড়বে এবং ব্যবহার্য হয়ে উঠবে। আমদানি ক্ষেত্রে দেশের অনেক সাশ্রয় হবে। এক্ষেত্রে আমরা অনলাইন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করতে পারি, যা রাষ্ট্রহিতে কার্যকরি হবে, দেশের গৌরব বৃদ্ধি করবে। এখনও আমাদের দেশে সোনা কেনার সময় ক্রেতারা বিদেশি হলমার্ক’কে খুব গুরুত্ব দেন। কোন্‌ কোন্‌ বিদেশি হলমার্ক’কে খুব গুরুত্ব দেন সেগুলি আমি বলতে পারবো না, কারণ আমি তো আর সোনা কিনি না। এখন আমরা এই প্রকল্পের মাধ্যমে অশোকচক্র হলমার্ক চালু করেছি। অশোকচক্র আমাদের আস্থার প্রতীক। এই আস্থা আমাদের ব্র্যান্ডকে গোটা বিশ্বে জনপ্রিয় করে তুলবে। আমার বিশ্বাস, ভারতীয় ক্রেতারা এখন বিদেশি হলমার্কের থেকে অশোকচক্র’কে অগ্রাধিকার দেবেন। এবছর ধনতেরাসে অবশ্য এই অশোকচক্র ছাপ মারা সোনা সারা দেশে ১০০-১২৫টি কাউন্টারেই পাওয়া যাবে। ধীরে ধীরে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে এই অশোকচক্র মার্কা সোনা। এই সোনা ক্রেতাদেরকে জাতীয় অস্মিতার সঙ্গে যুক্ত করবে। এত দ্রুত এই প্রকল্পের বাস্তবায়ণের জন্য আমাদের অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে তাঁর মন্ত্রক অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কাজ করেছেন, উন্নত কারিগরি ব্যবস্থার প্রয়োগে উৎপাদনে উৎকর্ষ এসেছে। মনে করুন, এই স্বর্ণমুদ্রাটির কথা যদি বলি এতে এতো সুন্দরভাবে মহাত্মা গান্ধিকে আঁকা হয়েছে, যা হৃদয় ছুঁয়ে যায়। যিনি এঁকেছেন, তাঁকে অসংখ্য ধন্যবাদ। সব কিছুকেই শিল্পের দৃষ্টিতে দেখা আমার স্বভাব। আমি অরুণজীর নেতৃত্বে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করা গোটা দলটিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। ধনতেরাস ও দীপাবলির পবিত্র উৎসবে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানাই। এই শুভেচ্ছা নিয়েই ভারত আবার স্বর্ণযুগের পথে পা বাড়াক। আপনাদের সবার ঘরে থাকা ২০ হাজার টন সোনাই ভারত’কে স্বর্ণযুগে নিয়ে যাবার জন্য যথেষ্ট। আপনারা এই স্বর্ণময় সুযোগকে কাজে লাগান। তবেই এই সোনায় সোহাগা অবসরকে উপভোগ করতে পারবেন। এই আকাঙ্খা ও শুভেচ্ছা রইলো। ধন্যবাদ।

PG/SB/SB/S