পিএমইন্ডিয়া
এখনরাত ৮টা, দেশের উন্নতির জন্য আয়োজিত এত বড় কর্মযজ্ঞে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যায়সমাগত নবীন প্রজন্মের ভাই ও বোনেরা। আপনাদের এই উপস্থিতি প্রমাণ করে যে দেশেপরিবর্তন আসছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
আমিদেশের ভিন্ন ভিন্ন কেন্দ্র থেকে আগত নবীন বন্ধুদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। ‘স্মার্টইন্ডিয়া হ্যাকাথন’ আয়োজনের জন্য মানবসম্পদ বিকাশ মন্ত্রী শ্রী প্রকাশ জাভড়েকরজিএবং তাঁর পুরো টিমকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাই।
‘স্মার্টইন্ডিয়া’র ‘স্মার্ট ইনোভেটর্স’দের মধ্যে এসে আমি খুব আনন্দ অনুভব করছি। প্রযুক্তিরমাধ্যমে যাঁরা ভিন্ন ভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করছেন, আপনারা সবাই যেপ্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
বিগতকয়েক ঘন্টা ধরে আপনারা সবাই একটি যে ঐকান্তিকতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, আমার সামনেরস্ক্রিনে দেখেতে পাচ্ছি আপনাদের উৎসাহ, উদ্দীপনা, মনে হচ্ছে যে আপনাদের কোনপরিশ্রমই হচ্ছে না, আপনারা বিন্দুমাত্র বিরক্তও হচ্ছেন না, আপনাদের দেখে আমারক্লান্তি দূর হয়ে যাচ্ছে। আজকের প্রজন্ম যখন রাষ্ট্র গঠনের জন্য এভাবে ঝাঁপিয়েপড়ে, তখন ‘নতুন ভারতে’র ইচ্ছা ও সঙ্কল্প আরও শক্তিশালী হয়ে পড়ে।
বন্ধুগণ,আমি গতবারও ‘স্মার্ট ইন্ডিয়া হ্যাকাথন’-এ এসেছিলাম। যখন আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয় যেআপনি আবার যাবেন? তখন আমি বললাম – কেন না? আমি অবশ্যই এই নবীন আবিষ্কারকদের সঙ্গেদেখা করতে চাই। তাঁদের কথা শুনতে চাই, তাঁদের থেকে কিছু শেখার চেষ্টা করতে চাই।
কেউযদি ভাবেন যে তিনি সর্বজ্ঞানী, তিনি সবকিছু জানেন, তাহলে আমি মনে করি জীবনে তারথেকে বড় ভুল আর কিছু হতে পারে না। কোন সরকার যদি এরকম ভাবে আর নিজের অহং নিয়ে বসেথাকে যে সব কাজ সরকারই করবে, তাহলে আমি মনে করি এটা সবচাইতে বড় ভুল হবে। সেজন্য,আমি সবচাইতে বেশি জোর দিই অংশগ্রহণে এবং অংশগ্রহণমূলক প্রশাসনে।
বিশ্বেরযে কোন প্রতিস্পর্ধা এ দেশের ১২৫ কোটি মানুষের ইচ্ছাশক্তি এবং শ্রমশক্তির সামনে বড়কিছু নয়। যেখানে জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে, কর্মক্ষম জনসংখ্যার এইপ্রাচুর্য যে দেশের রয়েছে, সে দেশ যদি সঙ্কল্প গ্রহণ করে, তাহলে কোন লক্ষ্যসাধনইঅসম্ভব নয়।
আমিবিশেষভাবে নবীন প্রজন্মের কথা বলব যাঁদের উৎসাহ, উদ্দীপনা এবং আকাঙ্ক্ষায় নতুনভারতকে দেখতে পাই, তাঁরা ভরসাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেন। হ্যাঁ, আমরা একবিংশ শতাব্দীতেভারতকে সেই যোগ্য স্থানে অবশ্যই পৌঁছে দেব।
সেজন্যইআমি নবীন পেশাদার বন্ধুদের, নবীন সিইও-দের, নবীন বিজ্ঞানী এবং প্রশাসকদের সঙ্গেসাক্ষাতের কোন সুযোগ হারাতে চাই না। আপনাদের এই উৎসাহ, এই প্রাণশক্তিই ‘নতুন ভারত’কেসাকার করে তুলতে সবচাইতে বড় নিয়ন্ত্রক শক্তি।
কিন্তুপ্রশ্ন উঠতে পারে, এই নতুন ভারতে রূপান্তরণ কি সীমিত প্রয়াসের দ্বারা সম্ভব হতেপারে?এর উত্তর হল, না! এর জন্যে প্রয়োজন হল, সমস্যাগুলির শিকড় পর্যন্ত গিয়ে সমাধানেরজন্যে প্রথাগত উপায়ের বাইরে নতুন নতুন পদ্ধতি, নতুন নতুন পথ খোঁজা।
আমাদেরসরকারের এই প্রচেষ্টাই আমাদের ‘স্মার্ট ইন্ডিয়া হ্যাকাথন ইনিশিয়েটিভ’ পর্যন্তপৌঁছে দিয়েছে।
আমাকেবলা হয়েছে যে গতবারের হ্যাকাথনে যে প্রায় ৬০টি কর্মসূচী চূড়ান্ত হয়েছে, তার মধ্যেঅর্ধেক সমাপ্ত হওয়ার পথে, আর বাকিগুলি আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ হবে।
আমিঅত্যন্ত আনন্দিত যে গত বছর এখানে ৪০ হাজারেরও বেশি যুবক-যুবতী অংশগ্রহণ করেছিলেন।এ বছর সেই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১ লক্ষ ছাপিয়ে গেছে। এ বছর কেন্দ্রীয় সরকারের ২৭টিমন্ত্রকের সঙ্গে রাজ্য সরকারগুলিও এই হ্যাকাথনে অংশগ্রহণ করছে। আমাকে বলা হয়েছে যেহ্যাকাথনে সফ্টওয়্যার এডিশনের পাশাপাশি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে হার্ডওয়্যারএডিশনও যুক্ত করা হবে।
এইপ্রচেষ্টার জন্য আমি সমস্ত নবীন বন্ধু এবং বিভিন্ন মন্ত্রক ও রাজ্য সরকারগুলিকেঅনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। আমাকে বলা হয়েছে যে এবার আপনারা বন্যা ব্যবস্থাপনা এবংদাবানলের মতো কয়েকটি বড় সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করবেন। আমার বিশ্বাস যে প্রযুক্তিরমাধ্যমে রূপান্তরণের যে পথে আমরা এগিয়ে চলেছি তা আমাদের অবশ্যই এই লক্ষ্যসাধনেপৌঁছে দেবে।
বন্ধুগণ,এখন আমর এমন যুগে রয়েছি যখন জ্ঞানই শক্তি, আবিষ্কারই উন্নয়নের নিয়ন্ত্রক। সেইজ্ঞানকে ছড়িয়ে দিতে আমাদের যতটা উদ্ভাবনী ক্ষমতা দেখাব, দেশের উন্নতিও ততটাই দ্রুতহবে।
আমরাযখন উদ্ভাবনের কথা বলি তখন এটা নিছকই একটি শব্দ নয়। উদ্ভাবন একটি অনুষ্ঠানও যেকিছু প্রতিযোগিতার আয়োজন হল, তার ফল বেরোল, পুরস্কার দেওয়া হল আর উদযাপনের পর সবাইখুশি হয়ে নিজের নিজের ঘরে চলে গেল। উদ্ভাবন এমন একটি প্রক্রিয়া যা নিরন্তর চলতেথাকে। আপনারা যখন কোন সমস্যাকে বুঝতে পারবেন, কিছু প্রশ্ন করবেন, নতুন নতুন ভাবনারমাধ্যমে তার সমাধান করার চেষ্টা করবেন, আর সেই ভাবনাগুলিকে বাস্তবায়িত করার চেষ্টাকরবেন, তখনই আপনারা কিছু আবিষ্কার করতে পারবেন।
সেজন্যইআমি বলি, ‘আই ট্রিপ্ল পি’ ( IPPP ) অর্থাৎ, ইনোভেট, পেটেন্ট, প্রোডিউস অ্যান্ড প্রস্পার। এই চারটি সিঁড়িঅতিক্রম করার মাধ্যমেই দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতে পারে। আমরা যত আবিষ্কার করব,যত দ্রুত সেই আবিষ্কারগুলিকে পেটেন্ট করাতে পারব, তার উৎপাদনের পথ সহজ করে তুলব,যত দ্রুত সেগুলিকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেব, ততটাই দেশ সমৃদ্ধ হবে।
সেজন্য,আমাদের সরকার নিরন্তর উদ্ভাবনকে উৎসাহ যুগিয়ে আসছে। ‘অটল ইনোভেশন মিশন’-এর মাধ্যমেদেশে উদ্ভাবন এবং শিল্পোদ্যোগের সংস্কৃতি গড়ে তোলা হচ্ছে। আমাদের উদ্দেশ্য একটিএমন বাস্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেখানে অল্প বয়সেই ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতেরপ্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করানো হবে। আমাদের প্রচেষ্টা হল ‘ইন্টারনেট অফ থিঙ্গস’, ‘কৃত্রিমবুদ্ধিমত্তা’, ‘ব্লক চেন প্রযুক্তি’, ‘থ্রিডি’ এবং ‘রোবোটিক্স’-এর অভিজ্ঞতা প্রাপ্তিরজন্য ছাত্রছাত্রীদের যাতে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করতেহয়।
অল্পবয়সেই আবিষ্কারের মনোবৃত্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা সারা দেশে প্রায় ২,৪০০বিদ্যালয়কে বেছে নিয়েছি। ভবিষ্যতে এই বিদ্যালয়গুলির সংখ্যা বৃদ্ধি করে সরকার ৩০হাজার পর্যন্ত পৌঁছে দিতে চায়। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে‘অটল টিঙ্কারিং ল্যাব্স’ চালু করা হয়েছে। এই গবেষণাগারগুলিতে ছাত্রছাত্রীদেরচিরাচরিত শিক্ষার পাশাপাশি, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গেও পরিচয় করানো হচ্ছে।
বয়ঃসন্ধিকালেএকবার যদি কারোর উদ্ভাবক মনোবৃত্তি গড়ে ওঠে, তাহলে মনে করবেন আপনার অর্ধেক কাজ হয়েগেছে। তারপর আসে গবেষণার পথ শক্তিশালী করার কাজ। আর সেজন্য এবারের বাজেটে উচ্চপ্রযুক্তি শিক্ষার সময় আবিষ্কারকে প্রোৎসাহিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণসিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
সরকার,‘প্রধানমন্ত্রী গবেষণা ফেলোশিপ’ ঘোষণা করেছে। আমি চাই যে আপনারা সবাই এর দ্বারালাভবান হোন। এর মাধ্যমে আইআইটি, আইআইএসসি, এনআইটি-র মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতেবি-টেক, এম-টেক আর এমএসসি-র শ্রেষ্ঠ ছাত্রদের ফেলোশিপ দেওয়া হবে। প্রতি বছর ১হাজার ছাত্রকে এর জন্য নির্বাচন করা হবে। এই ছাত্রদের পাঁচ বছর ধরে প্রতি মাসে ৭০-৮০হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। তাঁরা যাতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবংসেমিনারগুলিতে নিজেদের গবেষণাপত্র পেশ করতে পারেন তার জন্য সরকার ২ লক্ষ টাকার গবেষণাঅনুদানও প্রদান করবে।
বন্ধুগণ,দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে দেশগুলি দ্রুতগতিতে উন্নতি করেছে, একটি ক্ষেত্রে তাদেরমধ্যে মিল ছিল। সেই দেশগুলি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বদিয়েছিল, অগ্রাধিকার দিয়েছিল। ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিই সেই দেশগুলির অর্থনৈতিক উন্নয়নও আবিষ্কারের ভিত্তিভূমি হয়ে উঠেছে।
এজন্যইসরকার দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে যথাসম্ভব স্বায়ত্তশাসন প্রদানের ক্ষেত্রেঅগ্রাধিকার দিচ্ছে। সরকার দেশে ২০টি আন্তর্জাতিক মানের ‘ইনস্টিটিউট অফ এমিনেন্স’নির্মাণের কাজ করছে। এগুলির মধ্যে ১০টি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেওয়াহবে, আর সেগুলিকে মোট ১০ হাজার কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। একদিকে আমরাভবিষ্যতের জন্য সার্বিক পরিকাঠামো গড়ে তুলছি, অন্যদিকে ‘স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া’র মতোপ্রকল্পের মাধ্যমে নতুন স্টার্ট আপ এবং শিল্পোদ্যোগীদের গড়ে তোলার কাজ করছি। আপনাদেরবলতে পারি যে যখন থেকে এই প্রকল্প শুরু হয়েছে, তখন থেকে ইতিমধ্যেই ৬ হাজার স্টার্টআপকে মঞ্জুর করা হয়েছে। এই স্টার্ট আপগুলিকে সরকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে।
বন্ধুগণ,উদ্ভাবনের সংস্কৃতির পাশাপাশি বিশ্বের সামনে উদ্ভূত যে বড় সমস্যাগুলি, সেগুলিরদিকে তাকানোও অত্যন্ত প্রয়োজন। আমার মনে পড়ে যে যখন হলুদ, নিম, বাসমতীর মতো অনেককিছুর পেটেন্ট অন্য দেশগুলি করে নিয়েছিল, তখন আমরা কতটা কষ্ট পেয়েছিলাম। সেজন্যআমাদের সরকার পেটেন্টিং এবং কপিরাইট ব্যবস্থাতেও সংস্কার আনার জন্য বেশ কিছুসিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
পরিণামস্বরূপ,২০১৩-১৪ পর্যন্ত দেশে যেখানে বছরে প্রায় চারহাজার পেটেন্ট নথিভুক্ত হত, এ বছরফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ইতিমধ্যেই ১১,৩০০-রও বেশি পেটেন্ট নথিভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ,আগের সরকারের তুলনায় এখন তিন গুণ বেশি পেটেন্ট নথিভুক্তিকরণ হচ্ছে। ট্রেড মার্কনথিভুক্তিকরণও তিন বছরে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে প্রায় ৬৮ হাজারট্রেড মার্ক নথিভুক্তিকরণ হয়েছিল, আর বর্তমান অর্থ বছরে এই পরিসংখ্যান ২.৫ লক্ষেরওবেশি।
উদ্ভাবনএবং পেটেন্টিং-এর পাশাপাশি, আমাদের সরকার উৎপাদনেও জোর সম্পূর্ণ দিচ্ছে। ‘মেক ইনইন্ডিয়া’ আজ এমন একটি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে, সারা পৃথিবী যার প্রশংসা করছে। আপনাদেরশুধু একটা উদাহরণ দিই তাতেই পুরো চিত্রটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। বন্ধুগণ, চার বছর আগেআমাদের দেশে শুধু দুটি মোবাইল তৈরির কারখানা ছিল। সেখানে আজ চার বছরের মধ্যে দেশ যেগতিতে এগিয়ে চলেছে, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ যে গতিতে চলেছে, ইতিমধ্যেই ভারতে এখন ১২০টি মোবাইলফোন উৎপাদনের কারখানা চালু হয়েছে।
যখনউদ্ভাবন, পেটেন্ট এবং উৎপাদন নিজের গতিতে চলে, তখনই সমৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত হয়।কিন্তু বন্ধুগণ, এর সঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও যুক্ত হয়েছে। এই আবিষ্কারকার জন্য? আমাদের নিজেদের জন্য? দেশের জন্য? নাকি আমার দেশের গরিব-দুঃখী জনগণের জন্য?নিজের প্রয়োজনসাধনের জন্য, নাকি দেশের প্রয়োজনসাধনের জন্য।
আমারনবীন বন্ধুরা আমি ইচ্ছা করেই এই প্রশ্নটি আপনাদের সামনে রাখতে চাই। আন্তর্জাতিক গেজেটগুলিতে,বিভিন্ন ম্যাগাজিনে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দুনিয়ায় আপনাদের গবেষণাপত্র প্রকাশিতহলে আনন্দ অবশ্যই হবে। কিন্তু সেই আনন্দ তখনই তুরীয়ানন্দে পরিণত হতে পারে যখন আপনারউদ্ভাবন দেশের কাজে লাগে, দেশের জনগণের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে।
এইদেশে মাল্টিপল হ্যাকাথনও একটি পদক্ষেপ হতে পারে। যেমন, হেল্থ হ্যাকাথন, ল’ হ্যাকাথন,আর্কিটেকচার হ্যাকাথন, এগ্রিকালচার হ্যাকাথন এবং রুরাল হ্যাকাথন। আমরা এরকম অনেক নতুনপথ খুঁজে বের করতে পারি। আমাদের দেশে ভিন্ন চিন্তাধারার আবিষ্কারক মন চাই। আবিষ্কারককৃষিবিদ, স্থপতি, চিকিৎসক, উকিল এবং ব্যবস্থাপকের প্রয়োজন রয়েছে।
আশাকরি, এই হ্যাকাথন নতুন প্রতিভাদেরকেও মঞ্চ প্রদানের বড় মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। এরমাধ্যমে গণপরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত, পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থা এবং বর্জ্যব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত, পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে যুক্ত, নতুন আবিষ্কারগুলিকেও আমরা তুলেধরতে পারব।
এরমাধ্যমে দেশের জনগণের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যাগুলির সমাধানে সুবিধা হবে, তাঁদের জীবনআরও সহজ হবে। তাছাড়া, আপনাদের আবিষ্কারগুলি দেশের সেবায় কাজে লাগবে।
আমাকেযেমন বলা হয়েছে, আপনারা সবাই এই হ্যাকাথনে হাই রেজোলিউশন ইমেজেস-এর জন্য ড্রোন-এরব্যবহার কেমন হবে তা নিয়ে কাজ করছেন। এখন এর সঙ্গে যুক্ত যে কোন আবিষ্কার দেশের অনেককাজে লাগবে।
আপনারাশুনে অবাক হবেন যে ড্রোন-এর মাধ্যমে নেওয়া ছবিগুলি কিভাবে আমাদের সরকার বিভিন্ন প্রকল্পেরতদারকিতে কাজে লাগিয়েছে। আজ ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’র মাধ্যমে যে গৃহ নির্মাণহয়, ‘প্রধানমন্ত্রী সিচাঁই পরিযোজনা’র মাধ্যমে যে অসম্পূর্ণ প্রকল্পগুলি সম্পূর্ণকরা হচ্ছে, ‘মনরেগা’ প্রকল্পের মাধ্যমে যে কাজ করা হচ্ছে, সেগুলির জিও-ট্যাগিং এবংম্যাপিং-এর ক্ষেত্রে ড্রোন-এর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
গতমাসেই একটি উন্নয়ন বৈঠকে আমরা ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে ‘লাইভ’ সমীক্ষার মাধ্যমে জানতেপেরেছিলাম যে কেদার উপত্যকায় নির্মাণকার্য কতটা সম্পূর্ণ হয়েছে। সেখানে তখন বরফএবং বর্ষা চলছিল। প্রযুক্তি সংযোগে অসুবিধা হচ্ছিল। তবুও আমরা এই নতুন উপায়ে সমীক্ষাকরতে পেরেছি। দিল্লিতে বসেই কেদার উপত্যকা তদারকি করতে পেরেছি। এখন আপনারা আরওনতুন কিছু আবিষ্কার করলে আগামীদিনে এ ধরনের প্রয়োগ বৃদ্ধি পাবে।
আমারযে নবীন বন্ধুরা এই উন্নয়ন বৈঠক সম্পর্কে জানেন না, তাঁদের আমি বলতে চাই যে আমাদেরসরকার এই নতুন তদারকির আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। এর মাধ্যমে আমরা প্রধানমন্ত্রীরকার্যালয়ে বসে কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে রাজ্যগুলির সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে যুক্তহয়ে চালু প্রকল্পগুলির ‘রিয়েল টাইম মনিটরিং’ করি। কোনও প্রকল্প সম্পূর্ণ হতে দেরিকেন হচ্ছে? কি কি সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে? কতটা কাজ হয়েছে আর কতটা বাকি আছে? –এই সবকিছু আমরা সহজেই জানতে পারি।
বন্ধুগণ,পরিবর্তিত সময়ে যে কোন দেশের আর্থিক প্রগতি এখন তার উদ্ভাবন অনুপাতের ওপর নির্ভরকরে। আমাদের দেশে কাঁচামালের অভাব নেই। পরিকাঠামোরও অভাব নেই। আপনাদের মতো নবীনপ্রজন্ম প্রাণশক্তিতে ভরপুর। আমার একটা অনুরোধ, আপনারা যত স্বপ্ন দেখতে চান দেখুন,কিন্তু সেগুলি বাস্তবায়িত করার জন্য অবশ্যই পদক্ষেপ নিন। কোন স্বপ্নকে মরে যেতে দেবেননা। যখন স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য যে কোন কিছু করার জন্য আপনারা তৈরি হয়ে যাবেন, তখনইলক্ষ্যে পৌঁছতে পারবেন।
মনেরাখবেন, আমি যে প্রজন্মের মানুষ আর আপনারা যে প্রজন্মের মানুষ, আমরা কেউই স্বাধীনতাসংগ্রামে অংশগ্রহণের সুযোগ পাইনি। দেশ স্বাধীন করার জন্য লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করেকারাবাসের গৌরব অর্জন করার সুযোগ পাইনি। আমাদের যৌবন দেশের জন্য উৎসর্গ করার সুযোগপাইনি। দেশের জন্য মৃত্যুবরণের সুযোগ পাইনি। কিন্তু আমরা সবাই দেশের জন্য বেঁচেথাকার সৌভাগ্য নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছি। দেশের জন্য মরার সুযোগ পাইনি, কিন্তু দেশেরজন্য বাঁচার সৌভাগ্য হয়েছে। গরিব সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য জীবনধারণেরসুযোগ পেয়েছি। আর সেজন্য নিজেদের প্রতিভা, নিজেদের সামর্থ্য দেশের উন্নয়নে উৎসর্গকরুন। কিভাবে দেশের জন্য প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার হতে পারে, সে ব্যাপারেনিরন্তর ভাবতে থাকুন, চেষ্টা করতে থাকুন।
বন্ধুগণ,আমি দেখতে পাচ্ছি, আপনারা সকাল থেকে বসে আছেন, আর আগামীকাল রাত পর্যন্ত বসবেন। ৩৬ঘন্টা অনেকটা সময়। আমিও আপনাদের আজকের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে শুনতে চাইব। এত কাজের চাপথেকে মুক্ত থাকার জন্য আপনারা হয়তো মাঝে-মধ্যে প্রাণায়াম করেন কিংবা জোরে জোরে প্রশ্বাসগ্রহণ করেন, হাত-পা নাড়াচাড়া করে যোগাসনও করতে পারেন যাতে সামান্য মানসিক বিরামপাওয়া যায়, যার মাধ্যমে নতুন চিন্তাভাবনা দ্রুতগতিতে আসতে শুরু করবে। আপনারা যে যেকাজটি করছেন, তার জন্য আমিও আপনাদের মধ্যে বীজ বপন করছি।
সবারআগে আমি যখন আপনাদের মধ্যে এসেছি, তখন চাইব আপনাদের কিছু অভিজ্ঞতা সম্পর্কে শুনি।ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে আমি যাব। আমাকে বলা হয়েছিল সবার আগে আমি পানিপথ থেকে আসানবীন উদ্ভাবকদের কথা বলার সুযোগ পাব।
PG/SB/DM/…
I am happy to see young minds thinking about ways to take our nation forward. It is a delight to be among smart innovators of smart India: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 30, 2018
Glad to see today's younger generation immerse themselves in nation building. Such efforts give strength to the efforts to build a New India: PM @narendramodi https://t.co/khZNRVGKaI
— PMO India (@PMOIndia) March 30, 2018
There is so much to learn from the youth of India: PM @narendramodi https://t.co/khZNRVGKaI
— PMO India (@PMOIndia) 30 March 2018
Nobody is blessed with all the knowledge in the world. This applies to Governments too...the biggest mistake governments make is to think they alone can bring about change.
— PMO India (@PMOIndia) 30 March 2018
What brings about change is participative governance: PM @narendramodi https://t.co/khZNRVGKaI
The biggest assets of any nation are Shram Shakti and Iccha Shakti. Once the people decide to bring about change, everything is possible: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) 30 March 2018
I am happy that over half the projects selected during last year's Hackathon have been completed and more are nearing completion in the near future: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) 30 March 2018
Essential to know the root of every problem and think about 'out of the box' ways to solve them: PM @narendramodi https://t.co/khZNRVGKaI
— PMO India (@PMOIndia) March 30, 2018
Am told youngsters are working on how we can strengthen our efforts for flood relief and relief in the wake of forest fires: PM @narendramodi https://t.co/khZNRVGKaI
— PMO India (@PMOIndia) March 30, 2018
Innovation is not merely a word. Nor is it restricted to events or occasions. Innovation is a continuous process. Questioning is an important aspect of innovation. Never shy away from questioning: PM @narendramodi https://t.co/khZNRVGKaI
— PMO India (@PMOIndia) 30 March 2018
What will drive innovation is IPPP- Innovate, Patent, Produce, and Prosper.
— PMO India (@PMOIndia) 30 March 2018
We should innovate more, patent them, make their production easier and take it to the people. This is what brings prosperity: PM @narendramodi https://t.co/khZNRVGKaI
An innovative mindset augurs well for students.
— PMO India (@PMOIndia) March 30, 2018
After an innovative mindset comes the desire for research: PM @narendramodi
After the Second World War, the nations that emphasised on higher education witnessed greater prosperity.
— PMO India (@PMOIndia) March 30, 2018
We want to give more autonomy to our higher education sector. Work is being done to create institutions of eminence: PM @narendramodi
Innovation has the power to overcome the challenges our world faces: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 30, 2018
The world is talking about @makeinindia! Today, the number of factories where mobile phones are made has significantly shot up: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 30, 2018
One feels happy when one's work is published but at the same time, we should think about how our innovation transforms the lives of our fellow citizens: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) 30 March 2018
Schools give character certificates to students when they pass out. However, have you noticed, that even those in jail have a 'character certificate.'
— PMO India (@PMOIndia) March 30, 2018
Why not think about an aptitude certificate instead: PM @narendramodi
What our young minds are doing today will benefit the nation in the coming years: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 30, 2018