Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

‘স্মার্টইন্ডিয়া হ্যাকাথন, ২০১৮’ : ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গ্র্যান্ড ফিনালেতে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী


আজএক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘স্মার্ট ইন্ডিয়া হ্যাকাথন’-এর গ্র্যান্ড ফিনালেতে ভাষণদিলেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী। অংশীদারিত্বমূলক প্রশাসন তথা পরিচালনব্যবস্থার গুরুত্বের বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন তাঁর এদিনের ভাষণে।

দেশেরতরুণ ও যুবসমাজের ওপর তাঁর গভীর আস্থা ও বিশ্বাসের কথা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রীবলেন যে তরুণ পেশাদার কর্মী, তরুণ সিইও, নবীন বিজ্ঞানী এবং তরুণ সরকারিআধিকারিকদের সঙ্গে আলাপচারিতার কোন সুযোগই তিনি হাতছাড়া করতে রাজি নন। দেশকে এগিয়েনিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে তরুণ প্রজন্ম যেভাবে চিন্তাভাবনা করে, তা লক্ষ্য করে তিনিবিশেষ সুখ ও আনন্দ অনুভব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্মার্ট ইন্ডিয়া’র ‘স্মার্ট’উদ্ভাবকদের সঙ্গে কাজ করতে পারা খুবই আনন্দের বিষয়। ‘নতুন ভারত’ গঠনের স্বপ্নকেসফল করে তুলতে তিনি আহ্বান জানান তরুণ ও যুবসমাজের উদ্দেশে।

শ্রীমোদী বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হল শ্রমশক্তি এবং ইচ্ছাশক্তি। জনসাধারণ যদিপরিবর্তনকে বাস্তবায়িত করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন, তাহলে তা অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু কোন সরকারযদি মনে করে যে সে একাই এই পরিবর্তন সূচিত করতে পারবে, তাহলে তা একটি বড় ভুল ছাড়াআর কিছুই হতে পারে না।

গতবছরের তুলনায় এ বছরের হ্যাকাথনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধিপাওয়ায় স্পষ্টতই খুশি ও আনন্দ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর আগেরহ্যাকাথনে যে সমস্ত প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছিল, তা ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছেবলে তিনি জানতে পেরেছেন।

প্রসঙ্গত,উদ্ভাবন প্রচেষ্টার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন শ্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন,উদ্ভাবনের মূলমন্ত্রই হল উদ্ভাবন প্রচেষ্টা, উদ্ভাবন স্বত্ব, নির্মাণ বা উৎপাদনএবং সমৃদ্ধি। এই চারটি পদক্ষেপই দেশকে দ্রুত বিকাশের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। উদ্ভাবনপ্রচেষ্টার পাশাপাশি, উদ্ভাবিত পণ্যের ওপর স্বত্ত্বাধিকারের প্রয়োগও প্রয়োজন। উৎপাদনকেনিখুঁত করে তোলার মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে দ্রুততার সঙ্গে তা পৌঁছে দেওয়া উচিৎ। তাহলেইএই কাজে সাফল্যের দেখা মিলতে পারে।

শ্রীমোদী বলেন, বর্তমান বিশ্বের বহু সমস্যার সমাধানের শক্তি রয়েছে উদ্ভাবন প্রচেষ্টারমধ্যে। দেশের সহ-নাগরিকদের জীবনকে উদ্ভাবন প্রচেষ্টার মাধ্যমে কিভাবে রূপান্তরমুখীকরে তোলা যায়, সে সম্পর্কেও আমাদের চিন্তাভাবনা করা উচিৎ।

গবেষণাও উদ্ভাবন প্রচেষ্টার লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্তের কথাও প্রধানমন্ত্রীএদিন তুলে ধরেন তাঁর ভাষণে। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের জন্য ‘অটলটিঙ্কারিং ল্যাবরেটরি’, ‘আইআইটি’, ‘আইআইএসসি’ এবং ‘এনআইটি’তে প্রতি বছর বি-টেক,এম-টেক এবং এমএসসি কোর্সের ১ হাজার শ্রেষ্ঠ ছাত্রছাত্রীদের জন্য ‘প্রধানমন্ত্রীররিসার্চ ফেলোশিপ’ দানের ব্যবস্থা, উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে আরও বেশিমাত্রায় স্বায়ত্তশাসনের অধিকারদান, ২০টি বিশ্বমানের উৎকর্ষ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাইত্যাদির কথা তিনি উল্লেখ করেন এই প্রসঙ্গে।

‘মেকইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচিটি কিভাবে একটি ব্র্যান্ড হয়ে উঠেছে এবং সারা বিশ্বেইজনপ্রিয়তা লাভ করেছে, তার একটি দৃষ্টান্তও এদিন তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনিবলেন, চার বছর আগে ভারতে মোবাইল ফোন উৎপাদনের ইউনিট ছিল মাত্র দু’টি। কিন্তুবর্তমানে, সারা দেশে ছড়িয়ে রয়েছে এ ধরনের ১২০টি ইউনিট। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের তুলনায় পেটেন্টও ট্রেডমার্ক নথিভুক্তিকরণের সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেনতিনি।

স্বাস্থ্য,কৃষি, স্থাপত্য, আইনকানুন বিষয়ক এবং গ্রামীণ বিকাশ সম্পর্কিত ভিন্ন ভিন্ন হ্যাকাথনআয়োজনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্যও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন,উদ্ভাবন প্রতিভাসম্পন্ন কৃষিবিদ, প্রযুক্তিবিদ, স্থপতি, চিকিৎসক, আইনজীবী এবংব্যবস্থাপক ও প্রবন্ধকের প্রয়োজন রয়েছে আমাদের দেশে। সুতরাং, এই ধরনের হ্যাকাথনেরআয়োজন করা হলে দেশে প্রতিভা উন্মেষের এক নতুন মঞ্চ গড়ে উঠবে। ‘প্রগতি’র মঞ্চেবিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে তাঁর নিয়মিত পর্যালোচনা বৈঠকের কথাও এদিন উল্লেখকরেন প্রধানমন্ত্রী।

‘স্মার্টইন্ডিয়া হ্যাকাথন’-এ অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে এদিন এক আলাপচারিতায় মিলিত হন তিনি।

PG/SKD/DM