Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রে বিবিধ উন্নয়ন প্রকল্পের শিলান্যাস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রে বিবিধ উন্নয়ন প্রকল্পের শিলান্যাস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রে বিবিধ উন্নয়ন প্রকল্পের শিলান্যাস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রে বিবিধ উন্নয়ন প্রকল্পের শিলান্যাস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ


মঞ্চে উপস্থিত হরিয়ানার রাজ্যপাল মাননীয় সত্যদেব নারায়ণ আর্য, হরিয়ানার জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রদ্ধেয় মনোহর লাল, আমার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিমণ্ডলের সহযোগী মাননীয় ঊমা ভারতী মহোদয়া, হরিয়ানা রাজ্য সরকারের মন্ত্রী ভগিনী কবিতা জৈন, বিধায়ক বরালা মহোদয়, রাষ্ট্রীয় মহিলা আয়োগের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মা মহোদয়া, মঞ্চে উপস্থিত অন্যান্য মাননীয় ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশ থেকে আগত অসংখ্য স্বচ্ছাগ্রহী ভাই ও বোনেরা, জ্ঞান, ধর্ম এবং কর্মের ভূমি; যে ভূমিকে সভ্যতার ধাত্রীভূমিও বলা হয়, যেখান থেকে ভগবান কৃষ্ণ মানবতাকে জীবনের পথ দেখিয়েছেন, সত্য ও ন্যায়ের পথকে যে ভূখন্ড প্রশস্ত করেছে, এহেন পবিত্র ভূমিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সকলকে আমি অন্তর থেকে অভিনন্দন জানাই।

এই কুরুক্ষেত্রের মাটিতে হাজার হাজার বছর আগে স্বচ্ছতা অভিযান হয়েছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নেতৃত্বে। এই মাটি থেকেই তিনি অনৈতিকতাকে দূর করার কাজ শুরু করেছিলেন। আজ যুগের পরিবর্তন হয়েছে। আমরা দৈনন্দিন জীবনে পরিচ্ছন্নতার লড়াই লড়ছি। সমগ্র বিশ্বে গীতার দর্শন একটি অতুলনীয় বার্তা। অনৈতিকতার বিরুদ্ধে  নৈতিকতার লড়াইয়ে যে ভীষণ সংগ্রামের আয়োজন হয়েছিল, সেই যুদ্ধভূমিতে জীবন-মৃত্যুর সূক্ষ্ম সীমারেখায় দাঁড়িয়ে হাজার হাজার বছর ধরে মানবসভ্যতাকে শিক্ষা প্রদানকারী একটি দর্শনের জন্য হয়েছিল। স্রীকৃষ্ণের মুখনিসৃত সেই দর্শনকে আজ আমরা শ্রীমদ্ভগবত গীতা রূপে জানি। হাজার হাজার স্বচ্ছাগ্রহীদের স্বচ্ছ শক্তির এই বিস্তার পরিচ্ছন্নতার প্রতি দেশের নতুন সংস্কারের একটি জলজ্যন্ত প্রমাণ।

কুরুক্ষেত্রের এই প্রেরণাস্থলে স্বচ্ছ ভারতের সংকল্প নিয়ে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশ থেকে আগত অসংখ্য স্বচ্ছাগ্রহী ভাই ও বোনেরা নতুন ভারতের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করে তুলছেন। আমাকে বলা হয়েছে যে দেশের অনেক কেন্দ্র থেকেও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অনেকে এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি, হরিয়ানাতেও পাঁচ জায়গায় সমান্তরাল কর্মসূচি চলছে আর সেসব স্থানেও এরকমই জনসমাগম হয়েছে। ফরিদাবাদ, পানিপথ, করণাল ও পঞ্চকুলার মতো শহরগুলির অনুষ্ঠানে হাজির বন্ধুদের পাশাপাশি আমার সামনে বসে থাকা নাইজেরিয়ার প্রতিনিধিদলকেও আমি স্বাগত জানাই। আমাকে বলা হয়েছে যে নাইজেরিয়ার বন্ধুরা একটি শিক্ষা সফরে এসেছেন, এটা দেখার জন্য যে, ভারতে স্বচ্ছ ভারত মিশন এত নাটকীয় সাফল্য কিভাবে পেল, এবং এই সাফল্যকে আপনারা কিভাবে নাইজেরিয়াতে প্রয়োগ করতে পারবেন! আমি সর্বান্তকরণে আপনাদের সাফল্য কামনা করি।

একটু আগেই আপনাদের জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল মহোদয়ের বক্তব্যে যেসব পরিসংখ্যান ও তথ্য জানতে পারলাম, তা আমাকে অভিভূত করেছে। আগে অনেক সরকার এসেছে, কিন্তু নারী শক্তির সঠিক বিকাশ ও মর্যাদা প্রদানে কোনও সরকারই এতো সাফল্য পায়নি। আমি মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর গোটা টিমকে এজন্য অভিনন্দন জানাই। আপনারাও করতালি দিয়ে হরিয়ানা রাজ্য সরকারকে অভিবাদন জানান।

বন্ধুগণ, আজ বিশ্বের অনেক দেশ স্বচ্ছ ভারত অভিযানের অনুকরণ করছে। এটা আপানাদের সংকল্প ও সমর্পণের সুফল। আপনাদের মধ্যে যে বোনেরা আজ ‘স্বচ্ছ শক্তি’ পুরস্কার পেয়েছেন, তাঁদেরকে অনেক শুভেচ্ছা আর আপনাদের নেতৃত্বে বিশ্বাস রেখে যে গ্রামবাসীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিজেদের গ্রামকে পরিচ্ছন্ন করে তুলেছেন, তাঁদেরকেও আমি প্রণাম জানাই। একটু আগে আমি এখানকার প্রদর্শনীটি দেখছিলাম। এক মাসের মধ্যে ১ কোটি ২৫ লক্ষেরও বেশি শৌচাগারকে নানা রঙে রঙিন করে তোলা, একটি বড় সাফল্য। আজকাল কোনও জেলায় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা হলে কয়েক মাস ধরে খবরের কাগজগুলিতে প্রকাশিত হয়, ছবি ছাপা হয়।

এই প্রথমবার আমরা এমন একটি প্রতিস্পর্ধা গড়ে তুলতে পেরেছি, যেখানে শৌচালয়ের নাম রাখা হয়েছে ‘ইজ্জত ঘর’। আর সেগুলির সৌন্দর্যায়নের প্রতিযোগিতা হচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা শৌচাগারের এই মর্যাদাকে স্বীকার করে নিতে পারব না, ততদিন পরিচ্ছন্নতা মানুষের স্বভাবে পরিণত হবে না। এই পরিচ্ছন্নতা প্রতিযোগিতার পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল যে কোনও গ্রামে ঢুকে প্রত্যেক বাড়ির এক কোণায় ছোট ছোট নানা রঙে রঙিন স্থান দেখলে যে কোনও পর্যটক আকর্ষিত হবেন। তাঁরা যখন জানতে পারবেন যে, এগুলি গ্রামের মানুষের ইজ্জত ঘর, তখন তাঁদের মনে সেই গ্রামের পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে একটি সুন্দর ধারণা জন্মাবে। আমরা এই পরিবর্তন আনতে পেরেছি।

ইউরোপে একটি এমন জায়গা রয়েছে, যেখানকার মানুষ বাড়ির দরজার বাইরের অংশটা নানা রঙে রাঙিয়ে রাখেন বলে সেই শহর দেখতে সারা পৃথিবী থেকে অনেক পর্যটক যান। ঐ শহরের মানুষ কিন্তু পর্যটকের কথা ভেবে তাঁদের বাড়ির দরজা রঙিন করেননি। আমার মনে হয়, অদূর ভবিষ্যতে ভারতেও এরকম কিছু গ্রামের কথা আমরা জানতে পারব, যাদের রঙিন শৌচাগারগুলি এতটাই সুদৃশ্য হবে যে, পর্যটকরা তা দেখতে সেইসব গ্রামে যাবেন।

বন্ধুগণ, এই রাজ্যের মাটিতে দাঁড়িয়ে আমি ‘এক পদ, এক পেনশন’ চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, যা অনেক দিন আগেই বাস্তবায়িত হয়েছে। এই রাজ্যের মাটিতে দাঁড়িয়ে আমার ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচি উদ্বোধনের সৌভাগ্য হয়েছে, যা দেখতে দেখতে গোটা দেশে জনআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্বাস্থ্য যোজনা আয়ুষ্মান ভারতের প্রথম উপকৃত হরিয়ানার কন্যারাই। আজ স্বচ্ছ ভারত অভিযানের তৃতীয় সংস্করণও হরিয়ানার মাটি থেকে শুরু করা হচ্ছে।

বন্ধুগণ, হরিয়ানা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছে, আমি তা সুদ সমেত ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে গেছি। বিগত সাড়ে চার বছরে মনোহর লাল মহোদয়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হরিয়ানার জনগণের জীবনযাত্রা মান উন্নত করার চেষ্টা করে গেছি। একটু আগে স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত কিংবা নির্মীয়মান কিছু প্রকল্পের উদ্বোধন কিংবা শিলান্যাস হয়েছে। ঝজ্জরে ন্যাশনাল ক্যান্সার ইন্সটিটিউট, কুরুক্ষেত্রে আয়ুষ বিশ্ববিদ্যালয়, কর্ণালে স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়, পঞ্চকুলায় ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ আয়ুর্বেদ এবং ফরিদাবাদে ইএসআইসি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল হরিয়ানাবাসীর জীবনকে সুগম করে তুলবে। পাশাপাশি, স্থানীয় নবীন প্রজন্মের অনেকের কর্মসংস্থান হবে। এছাড়া, পানীপথে যুদ্ধ বিষয়ক মিউজিয়ামের শিলান্যাস করেছি। সেখানে আমরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য দেশের নিরাপত্তা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় প্রদর্শনী চালু করব।

আমি মনোহর লাল মহোদয়কে অভিনন্দন জানাই যে, তিনি পানীপথের যুদ্ধে যে রূপ কল্পনা করেছেন, তা কয়েক শতাব্দী আগে আজকের ‘এক ভারত’ শ্রেষ্ঠ ভারত’ – এর কল্পনার মতো দেশের বিভিন্ন রাজ্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন বলেই সম্ভব হয়েছে। যাঁরা ইতিহাসের শেকড় থেকে রস নিয়ে বিকশিত হয়, তাঁরাই ইতিহাস গড়ার মাধ্যমে নিজেরাই মহীরূহে পরিণত হতে পারেন। অনেকে ভাবেন, ভারতের ইতিহাস ১৯৪৭ থেকে শুরু হয়েছে এবং একটি পরিবার দিয়েই শুরু হয়েছে। তাঁরা ইতিহাসের শেকড় কাটার পাপ করেছেন।

আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, হরিয়ানার মাটিতে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রকৃত ইতিহাসকে তুলে ধরে পরবর্তী প্রজন্মের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং তাঁদেরকে প্রশিক্ষিত করে তোলার পবিত্র কর্ম আজ এখান থেকে শুরু হচ্ছে। এই সকল প্রকল্পের জন্য আমি হরিয়ানাবাসীকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

এই হরিয়ানার কৃতি কন্যা চাওলা দেখিয়ে দিয়েছেন যে, ভারতের মেয়েদের জন্য মহাকাশের উচ্চতাও যথেষ্ট নয়! আজ বিশ্ব ক্রীড়া ময়দানে হরিয়ানার মেয়েরাই দেশের জন্য সবচেয়ে বেশি সাফল্য নিয়ে আসছে।

বন্ধুগণ, আমি জেনেছি যে, আপনাদের মধ্যে অনেকেই কল্পনা চাওলা তারামণ্ডল এবং এখানকার একটি মহিলা থানা ঘুরে দেখতে গিয়েছিলেন। তা ছাড়া, বর্জ্য থেকে সম্পদ প্রকল্পের নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষি সংক্রান্ত অনেক নতুন প্রযুক্তির অভিনব প্রয়োগ নিয়ে আপনাদের অবহিত করা হয়েছে। এ ধরণের কর্মসূচি আগে দিল্লিতে হ’ত। কিন্তু আমরা দিল্লির বাইরে সারা দেশে এ ধরণের কর্মসূচি করছি। আর আজ এখানে একটি নতুন ধরণের প্রশিক্ষণ শিবিরের সূচনা হ’ল।

বন্ধুগণ, আমি স্পষ্ট করে বলছি যে, মহিলাদের ক্ষমতায়ন হলে সমাজেরও ক্ষমতায়ন হবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই আমরা বিগত সাড়ে চার বছর ধরে মহিলা ক্ষমতায়নের কথা মাথায় রেখে সমস্ত কর্মসূচি রচনা করেছি। ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ অভিযানের মাধ্যমে হরিয়ানার জনসংখ্যায় পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে ভারসাম্যের দিকে এগিয়ে চলেছে। উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে অসংখ্য বোনেদের রান্নার গ্যাস সংযোগ তাঁদের ধোঁয়া থেকে মুক্তি দিয়েছে।  ধর্ষণের ক্ষেত্রে ফাঁসির সাজা সুনিশ্চিত করে আমাদের সরকার জনমানসে একটি বার্তা দিতে চেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মাধ্যমে যে গৃহ দান করা হচ্ছে, সেগুলি বাড়ির মহিলাদের নামেই নথিবদ্ধ হচ্ছে।

বন্ধুগণ, আমাদের সরকারই মহিলাদের রান্নাঘরের বাইরে বেরিয়ে অন্যান্য কাজে দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ করে দিয়েছে। আমাদের আমলেই দেশ প্রথম মহিলা ফাইটার পাইলট পেয়েছে। এখন মিলিটারি পুলিশেও মেয়েদের নিয়োগ করা হচ্ছে। কর্মরত মহিলাদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ১২ সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে ২৬ সপ্তাহ করে দেওয়ায় গর্ভবতী মহিলা ও প্রসূতি মায়েদের পাশাপাশি, নবজাত শিশুদের লালন-পালন ও পুষ্টির ক্ষেত্রে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। রাষ্ট্রীয় পোষণ অভিযান ও প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষিত মাতৃত্ব অভিযানের মাধ্যমে গর্ভবতী, প্রসূতি মা ও শিশুদের মৃত্যু হার হ্রাস পেয়েছে।

এভাবেই প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার মাধ্যমে যে ১৫ কোটি মানুষকে ঋণ প্রদান করা হয়েছে, তার ৭৫% প্রায় ১১কোটি ঋণ মহিলা ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগীদের দেওয়া হয়েছে। দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনার মাধ্যমে প্রায় ৬কোটি মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ইতিমধ্যেই, এই মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে ৭৫হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ প্রদান করা হয়েছে। এই টাকার পরিমাণ ২০১৪ পূর্ববর্তী ৫বছরে এই বাবদ দেওয়া ঋণের তুলনায় আড়াই গুণ বেশি।

        বন্ধুগণ, এবারের বাজেটে অঙ্গনওয়াড়ী, আশাকর্মী এবং রাষ্ট্রীয় পোষণ মিশনের মতো গরিব শিশুদের পুষ্টি ও উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত সমস্ত প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

        বন্ধুগণ, দেশের মা ও বোনেদের গরিমা ও সম্মানের কথা মাথায় রেখেই আমি স্বচ্ছ ভারত অভিযানকে এত গুরুত্ব দিয়েছি। ২০১৪ সালে আপনারা আমাকে প্রধান সেবকের দায়িত্ব দেওয়ার আগে ৩০কোটিরও বেশি মা ও বোনকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে রাতের অন্ধকারের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। বিদ্যালয়গুলিতে শৌচাগার ছিল না বলে অনেক ছাত্রীকে বাধ্য হয়ে স্কুলছুট হতে হতো। ছোটবেলা থেকেই এই করুণ বাস্তব আমাকে কষ্ট দিত। সেজন্যে আমি সুযোগ পেতেই লালকেল্লার প্রাকার থেকে প্রদত্ত প্রথম ভাষণেই মা ও বোনেদের এই কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে সারা দেশে প্রত্যেক বাড়িতে শৌচাগার নির্মাণ ও স্বচ্ছ ভারত অভিযানের আহ্বান রেখেছিলাম। সেই সময় আমাকে নিয়ে অনেক ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ হয়েছে।

       বন্ধুগণ, এই ব্যঙ্গ-বিদ্রূপকারীরা দেশের মা ও বোনেদের এই ভয়ানক সমস্যা সম্পর্কে অভিত ছিলেন না বলেই সম্ভবতঃ এত সমালোচনা করেছেন। কিন্তু আমি সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মগ্রহণকারীদের ব্যঙ্গ-বিদ্রূপকে পরোয়া না করে দৃঢ়সংকল্প  নিয়ে এই অভিযানকে এগিয়ে নিয়ে গেছি। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে দেশের আপামর সাধারণ মানুষ আমার এই অভিযানে সামিল হয়েছেন, আর স্বাধীনতার পর ৭০ বছরে দেশের পরিচ্ছন্নতার পরিধি যেখানে ৪০ শতাংশ ছিল, তা এখন ৯৮ শতাংশে পৌঁছে গেছে। সাড়ে চার বছরে ১০ কোটিরও বেশি শৌচালয় নির্মিত হয়েছে। দেশের ৬০০টি জেলায় ৫ লক্ষেরও বেশি গ্রাম নিজেদের উন্মুক্ত স্থানে শৌচমুক্ত ঘোষণা করেছেন।

          স্বচ্ছ ভারত অভিযানের মাধ্যমে মা ও বোনেদের এই অপমান ও যন্ত্রণা থেকে মুক্তির পাশাপাশি, প্রায় ৪৫ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এই অভিযানে আমাদের দেশে রাজমিস্ত্রীদের পাশাপাশি, রানী মিস্ত্রীদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও নিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এখন তাঁরাই এ বছর দোসরা অক্টোবরে বাপুজীর ১৫০তম জন্মজয়ন্তীর আগে দেশকে ১০০ শতাংশ উন্মুক্ত স্থানে শৌচকর্ম মুক্ত করতে সর্বাধিক শৌচালয় নির্মাণে সাফল্য এনে দেবেন বলে আমার বিশ্বাস।

বন্ধুগণ, গ্রামে গ্রামে যে শৌচলয়গুলি নির্মিত হচ্ছে, সেগুলি যেন ব্যবহার হয়, সেটা দেখাও আমাদের কর্তব্য বলে মনে করি। পঞ্চায়েত প্রধান, পঞ্চায়েত সদস্য, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, অঙ্গনওয়াড়ি ও আশা কর্মীরা এক্ষেত্রে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সাফল্যকে কার্যকরি করে তুলবে।

এখানে পুরস্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন – জম্মু ও কাশ্মীরের অলীনা গ্রামের নাসিমা বেগম, যিনি গ্রামের প্রত্যেক বাড়ি বাড়ি গিয়ে শৌচালয় নির্মাণের জন্য প্রেরণা যুগিয়েছেন। সেই শৌচালয়গুলি গ্রামের পরিবেশকে এত উন্নত করেছে যে, সাধারণ মানুষ খুশি হয়ে নাসিমা বেগমকেই গ্রাম প্রধান হিসাবে নির্বাচিত করেছেন। এরকমই মধ্যপ্রদেশের কন্যা শ্রীমতী নারা এমনই সচেতনতা অভিযান চালিয়ে সোনি জেলার ২১টি গ্রামকে উন্মুক্ত স্থানে উন্মুক্ত স্থানে শৌচকর্মমুক্ত করিয়েছেন। আপনাদের মধ্যে প্রত্যেকেরই এ ধরণের সাফল্যগাথা রয়েছে। সেজন্য আপনাদের সকলকে আমি অনুরোধ জানাব যে, পরস্পরকে নিজেদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানান যে, কী ধরণের সমস্যার সমাধান আপনারা কিভাবে করেছেন – যা শুনে অন্য বোনেরাও তাঁদের পরবর্তী কর্মপদ্ধতি সংস্কার করতে পারবেন।

বন্ধুগণ, পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে স্বাস্থ্যের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু-র একটি রিপোর্ট থেকে জানা গেছে যে, স্বচ্ছ ভারত অভিযানের মাধ্যমে ডায়েরিয়ার মতো অনেক মারণ রোগের হাত থেকে প্রায় ৩ লক্ষ মানুষকে বাঁচানো গেছে। একটি জীবন বাঁচালেই জন্ম-জন্মান্তরের পূর্ণ লাভ করা যায়। আর আপনারা ৩ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচানোর পুণ্য লাভ করেছেন।

বন্ধুগণ, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের গ্রামাঞ্চলে দেড় লক্ষেরও বেশি স্বাস্থ্য কল্যাণ ও সুস্থতা কেন্দ্র নির্মাণ অভিযান এবঙ্গ দরিদ্রদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দ্বারা সারা দেশের গরিব ও মধ্যবিত্তরা উপকৃত হচ্ছেন। একটু আগেই আপনাদের বলেছি যে, হরিয়ানায় ঝজ্জরে ন্যাশনাল ক্যান্সার ইন্সটিটিউট, কুরুক্ষেত্রে আয়ুষ বিশ্ববিদ্যালয়, কর্ণালে স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়, পঞ্চকুলায় ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ আয়ুর্বেদ হরিয়ানাবাসীর জীবনকে সুগম করে তুলবে। ফরিদাবাদে ইএসআইসি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বন্ধুগণ, কেন্দ্রীয় সরকার দেশে বিশাল হাসপাতাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। ইতিমধ্যেই সারা দেশে ২১টি এইম্‌স হাসপাতাল উদ্বোধন হয়েছে কিংবা নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এর মধ্যে ১৪টি এইম্‌স – এর কাজ ২০১৪ সালে আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর শুরু হয়েছে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে আজ হরিয়ানার রিওয়াড়িতে আরেকটি এইম্‌স – এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হ’ল। আমাকে বলা হয়েছে যে, মলেঠী এলাকার সচেতন জনগণ এর জন্য জমি দিয়েছেন, সেজন্য তাঁদের সকলকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। যত দ্রুত সম্ভব আমরা এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করব।

বন্ধুগণ, বড় বড় হাসপাতাল নির্মাণের পাশাপাশি, সারা দেশে প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি কেন্দ্রগুলিতে সস্তায় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। হাঁটু ও হৃদ যন্ত্রের শল্য চিকিৎসার খরচ অনেক কমানো হয়েছে। বৃক্কের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলিতে বিনামূল্যে ডায়ালিসিসের সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। দেশের প্রায় ৫০ কোটি পরিবার আয়ুষ্মান ভারত যোজনার মাধ্যমে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। এই প্রকল্প চালু হওয়ার পর এখনও ১৫০ দিন হয়নি। কিন্তু ইতিমধ্যেই সারা দেশে ১১ লক্ষেরও বেশি গরিব মানুষ এই প্রকল্প দ্বারা উপকৃত হয়েছেন।

বন্ধুগণ, নারী শক্তি নিয়ে কথা বললে দেশের কৃষি ক্ষেত্রে মহিলাদের অবদানের কথা বলতেই হয়। আর আমাদের হরিয়ানা জয় জওয়ান জয় কিষাণের রাজ্য। এই রাজ্য কৃষি ক্ষেত্রে মহিলাদের অবদান অনস্বীকার্য। এবারের বাজেটে আমরা ‘পিএম – কিষাণ যোজনা চালু করেছি। ফলে, ৫ একর ও তারচেয়ে কম জমি যাঁদের রয়েছে, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কেন্দ্রীয় সরকার প্রতি বছর সরাসরি ৬ হাজার টাকা জমা করবে। ২ হাজার করে তিন কিস্তিতে জমা হবে। এর প্রথম কিস্তির টাকা দ্রুত আপনাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছনোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বন্ধুগণ, আপনাদের কেন্দ্রীয় সরকার গ্রাম, গরিব, কৃষক ও মধ্যবিত্তের জীবন সরল ও সুগম করার জন্য দ্রুতগতিতে কাজ করে চলেছে। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে – সাড়ে চার বছর আগে আপনাদের সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একটি সংখ্যাগরিষ্ঠের সরকার গঠন। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণেই আমরা দেশে পরিচ্ছন্ন শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অনেক কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছি। গরিবদের অধিকার লুন্ঠনকারী দালালদের গোটা ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে দিতে পেরেছি। আজ দেশের প্রত্যেক সৎ মানুষ এই চৌকিদারকে ভরসা করছেন। কিন্তু যাঁরা ভ্রষ্ঠ, মোদীকে নিয়ে তাঁদের অনেক কষ্ট। আপনারা হরিয়ানাতেও দেখছেন, বিভিন্ন তদন্ত কমিশনের তৎপরতায় কিভাবে অনেকে ব্যতিব্যস্ত।

বন্ধুগণ, সম্প্রতি দেশে যে মোদী বিরোধী মহাভেজাল জোট মাথা তোলার চেষ্টা করছে, তাঁরা এই তদন্ত এজেন্সিগুলিকে ধমকানো এবং মোদীকে গালি দেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন যে, এই চৌকিদার তাঁদের ধমক ও গালিতে ভয় পেয়ে থামবেও না মাথাও নোয়াবে না। দেশকে দুর্নীতি থেকে মুক্ত করার অভিযান আরও জোরদার হবে, আপনাদের আশীর্বাদ থাকলে দেশ দ্রুত দুর্নীতি মুক্ত হবে। এ বছর আপনারা অনেকেই হয়তো প্রয়াগরাজে অর্ধকুম্ভে গিয়েছেন। গত পরশু শাহী স্নানের দিন পর্যন্ত প্রায় ১৭ কোটি তীর্থযাত্রী এই কুম্ভে গিয়ে ত্রিবেণী সঙ্গমে পুণ্য স্নান করেছেন। অর্থাৎ, ইউরোপের বেশ কিছু দেশের জনসংখ্যারও বেশি মানুষ এই ক’দিনে প্রয়াগরাজে স্নান করেছনে। অথচ, প্রয়াগরাজে অর্ধকুম্ভে পরিচ্ছন্নতা সকলের নজর কেড়েছে। আমেরিকার নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স খবরের কাগজে কুম্ভমেলার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশংসা করে নিবন্ধ ছাপা হয়েছে। এটিই হ’ল পরিবর্তিত ভারতের দৃশ্য।

আমি এবারের কুম্ভমেলাকে পরিচ্ছন্ন কুম্ভের দৃষ্টান্ত রূপে গড়ে তোলার জন্য যে ভাই ও বোনেরা দিন-রাত কাজ করেছেন, তাঁদেরকে এই কুরুক্ষেত্রের পবিত্র ভূমি থেকে প্রণাম জানাই। যে সাধু-মহাত্মারা পরিচ্ছন্নতার সপক্ষে আমাদের ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও প্রবচনের মাধ্যমে তাঁদের প্রেরণা যুগিয়ে গেছেন, তাঁদের প্রণাম জানাই।

ভাই ও বোনেরা, আপনারা দেশের নানা প্রান্ত থেকে এসেছেন। আপনাদের আশীর্বাদ থাকলে দেশ দ্রুত দুর্নীতি মুক্ত হবে, পরিচ্ছন্ন হবে – এই আশা নিয়েই আমি নিজের বক্তব্য সম্পূর্ণ করছি। আরেকবার স্বচ্ছ শক্তি পুরস্কার বিজেতা সকলকে আমি অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

CG/SB/SB