Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

হিন্দুস্তান টাইম্‌স লিডারশিপ সামিট ২০১৫’য় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


সকল সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ এবং এই শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত সমস্ত বয়োজ্যেষ্ঠরা,

আপনারা বিষয় বেছে নিয়েছেন যে আমরা উজ্জ্বল ভারতের পথে এগিয়ে চলেছি কি না? আমি বিশ্বাস করি, এই দু’দিন পক্ষে-বিপক্ষে যে তর্ক চলবে, অনেক নতুন ভাবনা উঠে আসবে, নতুন নতুন পরামর্শ, নানা পরিস্থিতির মূল্যায়নের মাধ্যমে যে কথাগুলি উঠে আসবে সবই দেশের উন্নয়নে কাজে লাগবে।

আমি হিন্দুস্থান টাইম্‌স এবং শোভনাজী’কে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। এই অনুষ্ঠানে সকল ভাবাদর্শের বিশিষ্ট মানুষেরা এসে পরস্পরের সঙ্গে আলাপচারিতা নিজের কথা বলেন। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ভারত ইতিমধ্যেই বিশ্বের সর্বাধিক উন্নয়নশীল বড় দেশগুলির মধ্যে অগ্রগণ্য হিসেবে স্বীকৃত। এই সময়ে গোটা বিশ্বে মন্দা চলছে। চিনের অনেক সমস্যার কথা বিগত দিনে জানা গেছে। ইউরো অঞ্চলে জি ডি পি ১.৫ শতাংশে এসে থেমে গেছে। আর, এখন বিশ্ব ব্যাঙ্কের হিসেব অনুযায়ী ভারতের জি ডি পি ৭.৫ শতাংশ, গত তিন মাসের গড় হিসেব ৭.৪ শতাংশ। এসব তথ্যের হিসেব প্রমাণ করে যে ভারত সাফল্যের সঙ্গে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে চলেছে। এই পরিণাম হঠাৎ করে হওয়া সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের বর্তমান স্থিতিকে বিচার করা উচিৎ।

দ্বিতীয়ত, আমাদের বিগত দিনের পরিপ্রেক্ষিতেও দেখা প্রয়োজন। আমরা যদি বিগত দু’বছর কিংবা পাঁচ বছরকে উপেক্ষা করে দাড়িপাল্লা নিয়ে বসি তা হলে সঠিক পরিমাপ সম্ভব নয়। আমি জানি, এটা খুব কঠিন কাজ। সেজন্য চাই মুক্তমন এবং সাহস, আমরা কোথায় ছিলাম, কিভাবে ছিলাম, সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা কত কঠিন ছিল। চারপাশে হতাশার পরিবেশ ছিল। এখানে যেসব শিল্পপতি ছিলেন তাঁরা এক পা বাইরে বের করে ফেলেছিলেন, আর দ্বিতীয় পা বাড়ানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান পরিস্থিতিকে যাচাই করলে বোঝা যাবে, আমার চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর প্রয়োজন নেই। দেশে একটি স্থিতিশীল সরকার ক্ষমতায় আসার পরিণাম এটা। একথা কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না। যত ভালো পার্টি-ই হোক, যত দক্ষ প্রশাসকরা ক্ষমতায় আসুন না কেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ না হলে, যে জোট সরকার গড়ে ওঠে তার সঙ্গে একটি আশংকার পরিবেশও গড়ে ওঠে। করবো, কি করবো না, করতে পারবো কি পারবো না! কিন্তু, বিগত সাধারণ নির্বাচনে ভারতের সাধারণ মানুষ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার উপহার দেওয়ায় দেশে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার পথ প্রশস্ত করেছে। এই কৃতিত্ব ১২৫ কোটি ভারতবাসীর।

কোনও সরকারই হঠাৎ করে পরিবর্তন আনতে পারে না। এর জন্য কঠিন পরিশ্রম করতে হয়। আমরা জানি, বিশ্ব ব্যাঙ্ক সহজে ব্যবসা শুরুর পরিবেশ রেটিং করে। অনেক বছর ধরেই ওই তালিকায় আমরা হয় থেমে থাকি অথবা পিছিয়ে পড়ি। আমরাও এই পশ্চাৎপদ রেটিং নিয়ে অভ্যস্ত হয়ে প্রেছিলাম। কিন্তু, নতুন সরকার আসার পর হঠাৎ-ই ভারতের রেটিং এক লাফে ১২ পয়েন্ট এগিয়েছে। এই উল্লম্ফন দেখে বিশ্ববাসী অবাক। এই অগ্রগতি একা কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। রাজ্যগুলির সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের যৌথ পর্যায়সমূহের পরিণামেই এই ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে উঠেছে। এই যৌথ প্রয়াস প্রক্রিয়াকে সরল করে। ‘মিনিমাম গভর্নমেন্ট, ম্যাক্সিমাম গভর্ন্যান্স’-এর স্বপ্ন সাকার করে। ২০টি ফর্ম ভরার বদলে ২টি ফর্ম ভরলেই কাজ চলে। শুরুর প্রক্রিয়া ৩ বছর থেকে কমিয়ে ছ’মাসে আনা যায়। সেজন্য আমি আগে সকল রাজ্যের উচ্চ আধিকারিকদের দিল্লিতে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলি, একটি ১০০ পয়েন্টের চার্টার দিই, দু’দিনের যৌথ কর্মশালার আয়োজন করাই।

ফলস্বরূপ, এই সূচনালগ্নেই অল্পসময়ের মধ্যে আমরা বিশ্ব রেটিং-এ ১২ পয়েন্ট এগিয়ে যাই। সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল যে রাজ্যগুলি আর্থিক দিক দিয়ে এতদিন অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পিছিয়ে ছিল, যেমন – ওড়িশা, ঝাড়খন্ড, ছত্তিশগড় সহজে ব্যবসা শুরুর পরিবেশ নির্মাণে এই অল্প সময়ের মধ্যে তারাই সবচাইতে ভালো কাজ করেছে, তারাই নেতৃত্ব দিচ্ছে। তার মানে রাজ্যগুলিতে একটি নতুন শক্তি, নতুন জ্বালানি, নতুন বিশ্বাস জন্ম নিয়েছে। আর রাজ্যগুলির বুনিয়াদ পোক্ত হলেই সেই থামগুলির ওপর দেশের আর্থিক ইমারৎ তৈরি হতে পারে। আমাদের মানসিকতা যদি এমন হয় যে দিল্লি শুধু দেবে আর রাজ্য নেবে তা হলে এগোবে না। কেন্দ্র ও রাজ্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমান গতিতে একই লক্ষ্য নিয়ে চলার চেষ্টা করলে পরিণাম নিজে থেকেই সামনে আসবে।

কেন্দ্র ও রাজ্য যাতে একসঙ্গে মিলে কাজ করতে পারে সেকথা মাথায় রেখে নিতি আয়োগ গঠিত হয়েছে। চতুর্দশ অর্থ কমিশন মোট অর্থের ৪২ শতাংশ রাজ্যকে দিয়েছে। আজ এমন পরিস্থিতি বদলেছে যে রাজকোষের মোট অর্থের ৬৫ শতাংশ এখন রাজ্যের পকেটে আর ৩৫ শতাংশ কেন্দ্রের কাছে। আগে কখনও এরকম ছিল না। আগে সংরক্ষিত ছিল। ৩৫ শতাংশ রাজ্যের আর ৬৫ শতাংশ কেন্দ্রের হাতে থাকতো। আমরা এই পরিবর্তন এনেছি। আমি মুখ্যমন্ত্রীদের কমিটি বানিয়ে তাঁদেরকে বলেছি যে, আপনারা আলাপ-আলোচনা করে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ঠিক করুন। এতদিন কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিত কী কী করতে হবে। এই প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রীরা একসঙ্গে বসে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি মুখ্যমন্ত্রীদের এই সহযোগিতার জন্য অসংখ্য অভিনন্দন জানাই।

প্রথমবারের মতো আমরা রাজ্যগুলি্তে এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিল গড়ে তোলার আগ্রহ দেখাই যাতে উৎকৃষ্ট উৎপাদন, উৎকৃষ্ট প্যাকেজিং, উৎকৃশট ব্র্যান্ডিং-এর মাধ্যমে রাজ্যগুলি তাদের উৎপাদনকে বিশ্ব বাজারে রপ্তানিযোগ্য করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এগিয়ে আসে।

আমাদের এত বড় দেশ। আমরা ইন্ডিয়া বলি, ভারত বলি, কিন্তু দেশের বাইরে অনেকেই আমাদের সঠিকভাবে বুঝতে পারেন না। অধিকাংশই মুম্বাই’কে চেনেন, দিল্লি ও কলকাতাকে চেনেন। আই টি বিপ্লবের পর বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ’কে চেনেন। কিন্তু, গোটা ভারতের শক্তি সম্পর্কে বিশ্ববাসী অবহিত নন। আমরা এই প্রথম বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে রাজ্যগুলিকে যুক্ত করেছি। বিদেশ মন্ত্রকে রাজ্যগুলির সঙ্গে বিশ্ব বাজারের যোগাযোগ গড়ে তোলার জন্য আলাদা বিভাগ গড়ে তুলেছি। বিশ্ব নেতৃত্বের সঙ্গে রাজ্যগুলির যোগাযোগ বৃদ্ধি পেলে তারা রাজ্যগুলির শক্তি সম্পর্কে অবহিত হবেন। তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন শুরু হবে, পর্যটন বাড়বে; তবেই পরিবর্তন আসবে।

আমাদের চিন্তার পরিসীমা আমাদের কর্মপদ্ধতিকে নির্ধারণ করে। আমরা তার বাইরে বেরোতে পারি না। কেন্দ্রীয় সরকার যদি বলে আগামী এক বছরে ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারখানা গড়ে তোলা হবে, দেড় লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে, তা হলে তাবড় তাবড় অর্থনীতিবিদরা লিখেবেন, ‘সরকার দারুণ কাজ করেছে, দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে’। কিন্তু আমরা কী করেছি? ১০০টি শহরের সঙ্গে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে, ঐ শহরগুলির সকল রাস্তার আলো এল ই ডি বাল্ব লাগানো হবে। ইতিমধ্যেই ২০টি শহরে এই কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। ৮৩টি শহরে কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজ সম্পন্ন হলে বছরে ২১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের সাশ্রয় হবে। আর, ঐ শহরগুলির নাগরিকদের বছরে মোট ৪৫০০০ কোটি টাকা বিদ্যুতের বিল কম দিতে হবে। বছরে ৪৫০০০ কোটি টাকার সাশ্রয় শুধু ১০০টি শহরে, ভাবতে পারছেন, কতটা পরিবর্তন আসবে!

আমরা চণ্ডীগড়ে একটি পাইলট প্রজেক্ট শুরু করেছি। নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে চণ্ডীগড়’কে কেরোসিন মুক্ত শহরে পরিণত করার। বিনোদ শর্মা মহোদয় যদি এখানে থাকেন, তা হলে তিনি অন্য কিছু শুনতে পাবেন। আমি কেরোসিন মুক্ত করাচ্ছি। চন্ডীগড়ে প্রতি বছর ৩০ লক্ষ লিটার কেরোসিন খরচ হয়। তাতে ভর্তুকি থাকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। আমরা খোঁজ নিয়ে জানলাম, যাঁরা গ্যাস সিলিন্ডারে ভর্তুকি পান, তেমনই অনেকেই কেরোসিনেও ভর্তুকি নেন। যাঁদের বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার রয়েছে, বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে তাঁরা কেন কেরসিনে ভর্তুকি পাবেন? এটা বন্ধ করে দিতেই দেখা গেল, প্রায় ৮০ শতাংশ কেরোসিন সাশ্রয় হল। আর যে ৩২০০ পরিবার শুধু কেরোসিন ব্যবহার করেন, তাঁদের ভর্তুকিতে কেরোসিন দেওয়ার ব্যবস্থা চালু রেখে, তাঁদের জন্য গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। এই অভিযান সফল হলেই আমরা চন্ডীগড়’কে কেরোসিন মুক্ত ঘোষণা করে দেব। এভাবে অনেক ভর্তুকির টাকা বাঁচবে, পাশাপাশি পরিবেশ দূষণও হ্রাস পাবে। এই ৩০ লক্ষ লিটার পেট্রোলের সঙ্গে ডিজেল মিশে কতটা দূষণ ছড়াতো? অর্থাৎ, ভারতকে বিশ্ব বাজার থেকে তুলনায় কম তেল আমদানি করতে হবে। ততটা কম ফরেন এক্সচেঞ্জ খরচ হবে। ততটা কম অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের খরচ বাঁচবে।

আমরা গ্যাস সিলিন্ডার’কে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের সঙ্গে যুক্ত করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ভর্তুকি দেওয়া শুরু করেছি। এই ব্যবস্থা চালু করার পর দেখা গেল কয়েকটি গ্যাস সিলিন্ডার তুলতে কেউ এগিয়ে আসছেন না। ফলে কয়েক কোটি অতিরিক্ত গ্যাস সিলিন্ডারের ভর্তুকি সাশ্রয় হয়। আমরা যদি সরাসরি ভর্তুকি কমিয়ে দিতাম তাহলে অনেক বিপ্লবী হাততালি দিতেন, খবরের কাগজে লিখতেন, মোদীর দম আছে! কিন্তু, টার্গেটেড সাবসিডি’র লিকেজ কমিয়ে আমি কোনও বিপ্লব আনিনি, সাশ্রয় করেছি। দুর্নীতি কমানোর মাধ্যমে উদ্দেশ্য সিদ্ধি হয়েছে – ওয়েলফেয়ার স্টেটের এইটাই কর্তব্য। আমরা কিভাবে সম্পদ গড়ে তুলি তা দেখতে হবে।

আমাদের দেশের মানুষের স্বভাব কেমন। এখানে অধিকাংশ বিমানযাত্রীরা বসে রয়েছেন, তাই বিমানের উদাহরণ দিচ্ছি। আমি কোনও সিটে বসেছি, পাশের সিটটি খালি, সেখানে আমার হাতের ব্যাগ-পাউচ-বই রেখে দিলাম। এবার বিমান ছাড়ার একটু আগে সেই সিট যার, তিনি এসে গেলে আমার ব্যাগ-পাউচ-বই তুলে নিতে হল। এতেও আমরা বিরক্ত হই। এই মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। আপনাকে ঈশ্বর এত দিয়েছেন, তবু ৪০০-৫০০ টাকা গ্যাস সিলিন্ডারের ভর্তুকি কেন নেবেন? আমি খুশি, যে এর জন্য আমাকে তেমন প্রচার চালাতে হয়নি। আমার আবেদনে সাড়া দিয়ে ইতিমধ্যেই দেশের ৪০ লক্ষ মানুষ গ্যাস সিলিন্ডারে ভর্তুকি নেওয়া বন্ধ করেছেন। এই টাকা আমরা রাজকোষ জমা করিনি। ৪০ লক্ষ মানুষের উদারতাকে সম্মান জানাতে সরকার ৪০ লক্ষ গরিব মানুষ’কে খুঁজে নিয়ে তাঁদের হাতে ঐ ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডার তুলে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেছে। তাঁদের রান্নাঘর প্রদূষণ মুক্ত হওয়ায় তাঁদের স্বাস্থ্যখাতে কম খরচ করতে হবে, পরিবেশ নির্মলতর হবে। যাঁরা ভর্তুকি ছেড়েছেন, তাঁদের কার ভর্তুকি কোন্‌ রাজ্যের কোন্‌ দরিদ্র্য পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সেটা জানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আপনি যদি জানতে পারেন যে আমার ত্যাগের ফলে অমুক রাজ্যের তমুক পরিবার উপকৃত হয়েছে তা হলে আপনার মনে কত আনন্দ হবে।

কেউ আগে বিশ্ব বাজারে ভারতীয় টাকাকে শক্তিশালী করার উপায় ভাবেনি। কিন্তু, আমরা লণ্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে ভারতীয় রেলের ‘রুপি বন্ড’ চালু করেছি। ডলার-পাউন্ড-ইউরোর মতো এখন থেকে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে রূপিয়া বন্ড কিনে যে কেউ সরাসরি ভারতীয় রেলে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এরপর, আমাদের এন টি পি সি’কেও সেপথে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। লন্ডন ছাড়াও সিঙ্গাপুর বা অন্য কোনও বিদেশি স্টক এক্সচেঞ্জে আমরা এমন রূপিয়া বন্ড চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। দেশের আর্থিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আমাদের দেশের রেলপথে লেভেল ক্রসিংগুলিতে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। রেলপথের উপর দিয়ে উড়ালপুল বানিয়ে দিলে সড়ক ও রেল যোগাযোগের নিরাপত্তা ও গতি দুটোই বাড়তে পারে। কোনও রাজ্য সরকার উড়ালপুল বানাতে চাইল কিন্তু রেল দপ্তর অনুমতি দিল না, এমনও দেখেছি যে অনেক জায়গায় দু’পাশের জমিতে উড়াল্পুল তৈরি হয়ে আছে কিন্তু মাঝে খালি, রেল দপ্তরের অনুমতির অপেক্ষা। দু থেকে চার বছর পেরিয়ে গেছে, অনুমতি আসেনি। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমরাফর্মুলা বানিয়েছি। প্রতি মাসে একবার উভয়পক্ষের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা একসঙ্গে বসে সমাধানের পথ খুঁজবেন। এভাবে কাজ করার ফলে আজ আর একটিও এ ধরণের প্রকল্পের কাজ থেমে নেই। দু-তিন বছর ধরে যা থেমে ছিল সর্বত্র এখন কর্মযজ্ঞ শুরু হয়ে গেছে, অনেক ক্ষেত্রে কাজ শেষের পথে। কাজে গতি এভাবেও আনা যায়।

আমাদের দেশে যতই উন্নয়ন হোক না কেন …… মনে করুন একটি সাইকেলের টিউবে হাওয়া ভরার সময় আমরা দেখি ৪০ ডিগ্রি হাওয়া গেল কি ৩০ ডিগ্রি হাওয়া গেল। কিন্তু, টিউবের কোনও একটা জায়গা যদি হঠাৎ বেলুনের মতো ফুলে ওঠে, মিটারে যত ডিগ্রিই দেখাক না কেন সাইকেল কি চলবে? যতক্ষণ পুরো টিউবে সমানভাবে হাওয়া না যাবে সাইকেলটি চলার মতো অবস্থায় পৌঁছবে না। তেমনই দেশের অর্থনীতিও, শুধু দেশের পশ্চিমাঞ্চলে উন্নয়ন হলে চলবে না, পূর্ব ভারতেও সমান উন্নয়ন হতে হবে। আমাদের একথা বুঝতে হবে যে, পূর্ব উত্তর প্রদেশ, বিহার, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি এবং ওড়িশায় দ্বিতীয় সবুজ বিপ্লবের সম্ভাবনা রয়েছে। সেজন্য আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলির কেন্দ্র বিন্দু এখন পূর্ব ভারত হওয়া উচিত। তা হলেই দেশের অর্থনীতি নতুন শক্তি পাবে।

তেমনই, দিন চারেক আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়েছে, সংবাদ মাধ্যম হয়তো লক্ষ্য করেছে, ভারতে এখন রেল ইঞ্জিন তৈরি হবে। অনেক বছর ধরে ফাইল চালাচালি হচ্ছিল। সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ, ৪০ হাজার কোটি টাকা। দুটো রেলইঞ্জিন বানানোর জন্য। ইতিমধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে গেছে। কাজও শুরু হয়ে গেছে। গত সপ্তাহের কথা। এই দুটি কারখানাই পূর্ব ভারতের উন্নয়নে কাজে লাগবে, দুটো কারখানাই গড়ে উঠবে বিহারে। এই সিদ্ধান্ত এখন নিয়েছি, বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিয়েনি। একথা বলার তাৎপর্য হয়তো আপনারা লক্ষ্য করেছেন বাজেটে আমরা পূর্ব ভারতে নানা ক্ষেত্রে পারিকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়িয়েছি। প্রথমবারের মতো আমরা পূর্ব ভারতকে গ্যাস গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করছি।

দেশে এখন ইউরিয়া সারের ক্ষেত্রে ৮০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, এভাবে টাকা নষ্ট হচ্ছে। কৃষি ক্ষেত্রে সংস্কার এনে এই ভর্তুকি বন্ধ করা যেতে পারে। কেমন করে? আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কেউ দাবি করতে পারেন যে এটা তাদের সময়ই হয়েছে। আমি সেই বিবাদে যাব না। কিন্তু, কোনও কাজ ১০০ শতাংশ বাস্তবায়িত না করলে পরিণাম সামনে আসে না। এই ৮০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকিপ্রাপ্ত ইউরিয়া সারের কতটা কৃষকের হাতে পৌঁছয় তার খোঁজ কেউ রাখে না। আসলে এই ভর্তুকিপ্রাপ্ত ইউরিয়ার সিংহভাগ রাসায়নিক কারখানাগুলির কাঁচামালে পরিণত হয়। তারা প্রসেসিং করে নিজেদের পণ্য বাজারে বিক্রি করে দেয়। আমরা ভর্তুকিপ্রাপ্ত ইউরিয়াকে ১০০ শতাংশ ‘নিম কোটিং’ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নঈই। ‘নিম কোটিং’ হলে এই ইউরিয়া চাষের কাজ ছাড়া আর কোনও কাজে লাগানো যাবে না। ইতিমধ্যেই ভারতে উৎপাদিত সকল ইউরিয়াতে নিম কোটিং-এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ইউরিয়ায় নিম কোটিং-এর কাজও আর এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে যাবে। ইউরিয়ায় চুরি বন্ধ করায় ভর্তুকি বাঁচে। সংস্কারপন্থীদের ভালো লাগলে এটাকেও তাদের সংস্কার বলা উচিৎ।

কর্মে দক্ষতা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে কাজ করলে সুফল আসবেই। অথচ, সার কারখানাগুলিতে বাস্তবে কী হতো, অদক্ষতার জন্য অতিরিক্ত লাভের ব্যবস্থা ছিল, এরকম ব্যবস্থা ছিল যে উৎপাদন ৫০ শতাংশ হলে এক প্রকার ভর্তুকি পাওয়া যেত। উৎপাদন মূল্য ১০০ শতাংশ হলে অন্যপ্রকার ভর্তুকি, অর্থাৎ যত খারাপ কাজ করবে তত বেশি ভর্তুকি। এরকম চলতো। আমরা এসে সকলের ‘ইনপুট কস্ট’-এর যে মূল্য তা ‘কমন’ করে দিয়েছি। গ্যাসের ক্ষেত্রেও আমরা সব কিছু ‘কমন’ করে দিয়েছি। তারপর বলেছি, সবার রেট নির্দিষ্ট হবে। বাজারজাত হওয়ার পর ভর্তুকি নির্ধারণ করা হবে। এখন তারা দক্ষতার মাপকাঠিবাড়াতে বাধ্য।

একটু আন্তরিকভাবে কোনও কিছু বদলাতে চাইলে পরিবর্তন আসবেই।

আমি হিসেব করছিলাম, আমাদের দেশে প্রায় ৮৫টি বড় প্রকল্প গোড়াতেই থমকে ছিল। না জানি কোন্‌ প্রধানমন্ত্রী সেগুলির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, ভিত্তিপ্রস্তরটিই হয়তো হারিয়ে গেছে, কয়েকশো কোটি টাকার প্রকল্প, বাস্তবায়িত হলে খুব ভালো হতো, আমরা সেগুলির ‘রিভিউ’ করাই, আর আজ আনন্দের সঙ্গে বলতে পারি যে, সেগুলির মধ্যে ৬০-৬৫টি কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। যেমন, মহারাষ্ট্রে ডাভোল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, দু’বছর ধরে বন্ধ ছিল, গত মাসে আমরা আবার সেটা চালু করেছি। বিদ্যুৎ অপ্রতুল, কারখানা বন্ধ, কর্মীদের রোজগার বন্ধ, অর্থনীতি পিছিয়ে পড়ছিল। কয়লা ক্ষেত্রেও তেমনই আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ কয়লা উৎপাদনের রেকর্ড করেছি আমরা। তেমনই স্বাধীনতার পর, সর্বাধিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সবচাইতে বেশি সংখ্যক গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে, সাধারণ মানুষের বাড়িতে ও কৃষিক্ষেত্রে বিদ্যুৎ পৌঁছনোর কাজ করেছি আমরা। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষেত্রে ৮.৫ শতাংশ বৃদ্ধি কম কথা নয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষ্যে আমরা কাজ করেছি তা হল, পরিকাঠামো নির্মাণ। স্বাধীনতার পর ৬০ বছর হয়ে গেছে, ৭০ বছর হতে চলেছে, এখনও দেশে ১৮ হাজার গ্রামে একটি বিদ্যুতের খুঁটিও বসেনি। আমি কারও সমালোচনা করতে চাই না। পূর্ববর্তী সকল সরকার একাজে অগ্রগতির চেষ্টা অবশ্যই করেছে। আমি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বলেছি আমার পরিণাম চাই। সেজন্য যা যা করার সব আমরা করবো। আর গত ১৫ আগস্টে লালকেল্লার প্রাকার থেকে ঘোষণা করেছি যে, আগামী ১ হাজার দিনের মধ্যে আমরা ওই ৮ হাজার গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেব।

যে কাজ ৭০ বছরে করা সম্ভব হয়নি তা ১ হাজার দিনে করতে হলে কতটা পরিশ্রম করতে হবে। তারমানে প্রতিদিন প্রায় ১৯টি গ্রামে আমাদের বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে হবে। সবাইকে অনুরোধ, আপনাদের মোবাইল ফোনে একটি ‘অ্যাপ’ নিন, ‘গ্রামীণ বিদ্যুতিকরণ’ ডাউনলোড করুন, এখানে হয়তো জ্যামার হবে, যাই হোক, আপনারা করে দেখবেন, দেখবেন, আমার ঘোষনার পর প্রায় ১০০ দিন পেরিয়ে গেছে, এর মধ্যে ১ হাজার ৯০০ গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য হয়েছিল, গতকাল রাতে আমি ‘অ্যাপ’-এ দেখলাম ইতিমধ্যেই ৩ হাজার ৪টি গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। আপনারাও ‘অ্যাপ’-এর মাধ্যেম দেখতে পারবেন, কোন্‌ কোন্‌ গ্রামে কাজ সম্পন্ন হয়েছে, আর কোন্‌ কোন্‌ গ্রামে কাজ চলছে, খুঁটি পৌঁছেছে, তার পৌঁছেছে। যে ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছেন তাঁদের ই-মেলও দেওয়া হয়েছে। একথা বলার তাৎপর্য হল – তাঁরা এই অভিযানকে প্রতিস্পর্ধারূপে গ্রহণ করেছেন, তাঁদের পরিশ্রমের সুফল পাবেন দেশের দরিদ্র জনসাধারণ। সরকার এভাবেই সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে।

আমরা সাগরমালা, ভারতমালা, ভারতনেট-এর মতো কিছু বড় প্রকল্প শুরু করেছি। বিশ্ব অর্থনীতিতে বন্দরক্ষেত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু, আমাদের দেশে বন্দর প্রশাসন, রেল প্রশাসন, সড়ক পরিবহণ ব্যবস্হা, সবকিছু নিজের নিজের মতো চলছিল। কোনও সাংসদের চাপে দু’কিলোমিটার রেলপথ কি সড়কপথ বৃদ্ধি পেল, সংসদে রেল বাজেট পেশের সময় যে যে সাংসদের এলাকায় রেলপথ বৃদ্ধির পরিকল্পনা থাকতো, তাঁরা বাজেটের সমর্থনে তালি বাজাতেন। কিন্তু, দেশের কথা ভেবে, পরিকাঠামো নির্মাণের খাতিরে উন্নয়ন হচ্ছিল খুব কম। আমরা এসে বন্দর ক্ষেত্রের জন্য আলাদা রেল দপ্তর খুলে দিই, পোর্ট রেল ডিপার্টমেন্ট। এই রেল একটি বন্দরের সঙ্গে অন্য বন্দরকে রেলপথ জুড়ে পরস্পরের মধ্যে আদান-প্রদানের সুযোগ বৃদ্ধি করবে। এই কাজ সুসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকবো। আমরা সেজন্য পরিকাঠামো নির্মাণকেই অগ্রাধিকার দিয়েছি। আমাদের দেশের ‘রিফর্মিস্ট’রা চান যে সরকার অধিক ‘ডিস্‌ইনভেস্টমেন্ট’ করুক। ধর্মঘট হলে কারও কোনও পরোয়া নেই। প্রথম পাতায় ছবিসহ খবর ছাপবে, ‘মোদি মুর্দাবাদ, মুর্দাবাদ’ – দেশ কীভাবে চলছে!

এতদিন শুনতাম, সকল জাহাজ কোম্পানি লোকসানে চলছে। অনেক বছর ধরে লোকসানে চলছিল ওরা। কিন্তু, আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, আমরা ক্ষমতায় আসার পর সকল লোকসান পুষিয়ে সেই জাহাজ কোম্পানিগুলি আজ লাভের মুখ দেখছে। অর্থাৎ, আমরা পূর্বের যে দুটি মাত্র বিকল্প ছিল, ‘ডিস্‌ইনভেস্টমেন্ট’ করা অথবা না করা তার বাইরে তৃতীয় বিকল্পের সন্ধান করেছি, ‘কর্পোরোটাইজ’ করার পথে, কর্মসংস্কৃতি পরিবর্তন করা, রাজনীতি মুক্ত করা, দক্ষতা বাড়ানোর পথে পা বাড়িয়ে পরিবর্তন আনতে পেরেছি। এমনই অনেক উদ্যোগ হয়েছে। জানি না, ক’টা বাজে এখন আমাকে সংসদে যেতে হবে। খুশির খবর হলো, সংসদে শীতকালীন অধিবেশন ইতিবাচকভাবে চলছে। এর কৃতিত্ব মোদীর নয়, এর কৃতিত্ব সকল রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি মাননীয় সাংসদদের সদিচ্ছার। সেজন্য আমার বক্তব্য শেষ করতে হবে। সরকার কিভাবে কাজ করছে, আর দেশ কিভাবে এগিয়ে চলেছে সে সম্পর্কে অসংখ্য উদাহরণ সহ এক সপ্তাহ ধরে ‘ভাষণ’ দেওয়া যেতে পারে। দেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। শুধু কর্মসূচি নিয়ে ভাবলে ভাবনার সীমাবদ্ধতা থাকে, ইচ্ছাশক্তি নিয়ে ভাবতে হবে। সাফল্যের মূল আধার ইচ্ছাশক্তি। ইচ্ছাশক্তির বুনিয়াদের উপরেই নীতি তৈরি হয়, সেই নীতিগুলি কার্যকর করতে কোন্‌ কর্মপদ্ধতি নিতে হবে, সেই কর্মপদ্ধতি বাস্তবায়িত করতে আপনার ‘টাইম টেবিল’, ‘রোড ম্যাপ’ এবং বাস্তবায়নের গতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আজ দেশে ভাবনাচিন্তা করা পরামর্শদাতার কোনও অভাব নেই। শুধু তাদের ভালো পরামর্শগুলিকে বাস্তবায়িত করা, মাটিতে নামিয়ে আনার প্রয়োজন। আমরা সেই প্রচেষ্টাই করে যাচ্ছি। মাটিতে নামিয়ে আনার চেষ্টা, যেসব সাফল্য দেখতে পাচ্ছেন, সেগুলি ‘দুম’ করে হয়ে যায়নি। এগুলি নিরন্তর প্রয়াসের পরিণাম, অনেকের মিলিত প্রয়াসের পরিণাম। এই দেশ অবশ্যই এগিয়ে যাবে, আপনারা ভরসা রাখুন।

গোটা দুনিয়া আজ একথা স্বীকার করছে। আমাদের সমস্যা হল, স্বামী বিবেকানন্দ অনেক বছর ধরে দেশে কাজ করেছেন, কিন্তু যতদিন শিকাগোয় গিয়ে সাফল্য পাননি, ততদিন দেশের মানুষ তাকে জানতো না। তেমনই এখন বিশ্বের সকল রেটিং সংস্থা আমাদের স্বীকৃতি দিচ্ছে বলে সবাই স্বীকার করছে যে দেশ এগুচ্ছে সকল ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

এই সমারোহে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোয় আপনাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

আপনারা যে বিষয় নিয়ে বলতে বলেছিলেন, সেই বিষয়েই আবদ্ধ থাকার চেষ্টা করেছি। নির্বাচনী বক্তৃতার ‘মেজাজ’ আলাদা থাকে, এখানে আমি ভিন্ন ‘মেজাজ’ নিয়ে এসেছি, এখানকার পরিবেশের সঙ্গে মানানসই বক্তব্য রাখার চেষ্টা করেছি।

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

PG/BD/SB/S