Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ তারিখেদুবাইয়ে ভারতীয় জনগোষ্ঠী আয়োজিত সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ তারিখেদুবাইয়ে ভারতীয় জনগোষ্ঠী আয়োজিত সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ তারিখেদুবাইয়ে ভারতীয় জনগোষ্ঠী আয়োজিত সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ তারিখেদুবাইয়ে ভারতীয় জনগোষ্ঠী আয়োজিত সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ


আমার সৌভাগ্যযে আরেকবার আপনাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ হল।

২০১৭ সালেহিজ হাইনেস ক্রাউন প্রিন্স অফ আবু ধাবি ভারত সফরে এসেছিলেন। ২০১৭ সালে আমাদেরপ্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন সমারোহে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন। হয়তো কয়েক দশক পরউপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারতের এত গভীর, ব্যাপক এবং স্পন্দিত সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

আজ এইউপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধুই ক্রেতা ও বিক্রেতার নয়,অংশীদারিত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ভারত এজন্য গর্ববোধ করে যে ৩০ লক্ষেরও বেশিপ্রবাসী ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা এই উপসাগরীয় দেশগুলির উন্নয়ন যাত্রায়অংশগ্রহণ করেছেন। আমি উপসাগরীয় দেশগুলিকে হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই, তাঁরা দেশেরবাইরে এই ৩০ লক্ষ মানুষকে এমন কাজের পরিবেশ দিয়েছেন যে এই মানুষেরা এই অঞ্চলগুলিকেতাঁদের দ্বিতীয় ঘর বলে মনে করেন।

ভারতীয়রাওএই দেশগুলিকে নিজের দেশ মনে করে ততটাই দায়বদ্ধতা নিয়ে পরিশ্রম করে এসব দেশেরউন্নয়নের স্বপ্নকে নিজেদের মনে অঙ্কুরিত করে নিয়েছেন। আর এক প্রকার মানব গোষ্ঠীরঅংশীদারিত্বের উত্তম উদাহরণ আমরা উপসাগরীয় দেশগুলিতে অনুভব করছি, সংযুক্ত আরবআমিরশাহীতে অনুভব করছি। অনেকেই অবাক হয়েছে যে, আমি যখন গতবার এসেছিলাম হিজ হাইনেসক্রাউন প্রিন্স তখন আবু ধাবিতে মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেন। আমি দেশের ১২৫ কোটিভারতবাসীর পক্ষ থেকে এই হিজ হাইনেস ক্রাউন প্রিন্সকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।মন্দির নির্মাণের মাধ্যমে তিনি সদ্ভাবনার নতুন সেতু গড়ে তুলছেন।

আমরা সেইপরম্পরায় পালিত পোষিত হয়ে বড় হয়েছি যেখানে মন্দির মানবতার একটি মাধ্যম; পবিত্রস্থল, মানবতার, ঐক্যের একটি অনুঘটক। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, স্থাপত্যের নিরিখে, আধুনিকপ্রযুক্তির নিরিখে, বার্তা প্রদানের নিরিখে এই মন্দির অভিনব হবে এবং আমরা যেবসুধৈব কুটুম্বকম মন্ত্রে বিশ্বাস করি, সেই মন্ত্র বিশ্ববাসীকে অনুভব করানোরক্ষেত্রে সহায়ক হয়ে উঠবে।

আমি এইমন্দির নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত সকলকে অনুরোধ করব যে আপনারা সতর্ক থাকবেন, এখানকারশাসকরা ভারতের প্রতি এতটা সম্মান প্রদর্শন করেছেন, আপনাদের দিক থেকে যেন কোনত্রুটি না থেকে যায়! মানবতার উদার আদর্শ এবং ভাবনার গায়ে যেন কোন আঁচড় না লাগে এটাদেখার দায়িত্ব মন্দির নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত আর ভবিষ্যতে মন্দিরে যে ভক্তরা আসবেনপ্রত্যেকেরই। আপনাদের কাছে আমি ভারতের সাংস্কৃতিক পরম্পরা রক্ষার প্রত্যাশা রাখব।

আজ দেশউন্নয়নের নানা নতুন উচ্চতা অতিক্রম করছে। এটা ভারতের জন্য সম্মানের বিষয় যে আজএকটি আন্তর্জাতিক স্তরের শীর্ষ সম্মেলনে ভারতকে বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে।আমাকে এখানে বক্তব্য রাখার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আপনাদের পক্ষে এখানে ভারতের খবরপাওয়া কঠিন নয়। আপনারা এতটাই দেশের খবর রাখেন যে আমি দুটি কথা বললে, আপনারা দশটিকথা বলে দেবেন। ভারতের প্রতিটি প্রান্তের মানুষ এখানে রয়েছেন। আপনারা জানেন, ভারতকত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ১২৫ কোটি ভারতবাসী নিজেদের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে কেমনআত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে চলেছেন, তা আপনারা খুব ভালোভাবেই অনুভব করছেন!

আমরা সেইদিনও দেখেছি যখন, আরে ছাড়ুন ভাই, কিছুই হবে না! চলুন বিছানা গোটাই, অন্য কোথাওযাই! – এ ধরনের নিরাশা, আশঙ্কা আর দ্বিধার কালখণ্ড আমরা পেরিয়ে এসেছি।

একটা সময়ছিল যখন দেশের সাধারণ মানুষ জিজ্ঞাসা করতেন যে, এটা হওয়া সম্ভব? এটা হবে? কিংবাআমাদের দেশে এসব হতে পারে কী? সেই পরিস্থিতি থেকে যাত্রা শুরু করে বিগত চার বছরেদেশ এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, মানুষ জিজ্ঞাসা করতে শুরু করেছেন, মোদীজি বলুন, কবেহবে? এই প্রশ্নে কোন নিরাশা নেই, বিশ্বাস আছে যে, হলে এখনই হবে।

২০১৪-তেআমরা আন্তর্জাতিক স্তরে ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’-এ ১৪২ নম্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। অর্থাৎ,তালিকার পেছন থেকে শুনলে নাম নেওয়া শুরু করলে তাড়াতাড়ি পৌঁছনো যেত, সামনে থেকেএগুলে অনেক সময় লাগতো। কিন্তু তার পরের তিন বছরে আমরা ৪২টি স্থান অতিক্রম করে ১০০নম্বর স্থানে পৌঁছে গিয়েছি। বিশ্বের কোনও দেশ এত দ্রুত এত বিরাট উল্লম্ফনে ৪২স্থান অতিক্রম করতে পারেনি। কিন্তু কেউ ভাববেন না যে আমরা ঐ স্থানে থেমে থাকবো।আমরা আরও ওপরে যেতে চাই আর সেজন্য যেখানে নীতিগত পরিবর্তন করতে হবে, রণনীতিপরিবর্তন করতে হবে, সব ধরনের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আমরা আনতে চলেছি যাতে আমরা দ্রুতবিশ্বমানের সমতুল হয়ে উঠতে পারি।

বিশ্বায়নএমন জিনিস নয় যে আমরা যেখানে আছি সেখানেই বসে থাকবো, আর অন্যান্য দেশ লভ্যাংশ নিয়েবেরিয়ে যাবে। বিশ্বায়ন এমন জিনিস যাতে বিশ্বের সকল নাগরিকই নিজের দায়িত্ব পালনকরে, পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থেকে, অন্যের থেকে শিখে, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সে সবউচ্চতা অতিক্রম করতে পারে। বিশ্বের অন্তিম প্রান্তের কোনও দেশ কিংবা জনগণেরকল্যাণে লাগবে, আর তবেই তো সত্যিকারের অর্থে আমরা ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ মন্ত্রকেসাফল্যমণ্ডিত করে দেখাতে পারব।

ভারত নিজেরআন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আজ বিশ্ব বলছে যে একবিংশ শতাব্দীএশিয়ার শতাব্দী। কিন্তু তার মানে এটা নয় যে, এমনই এমনই হয়ে যাবে। একবিংশ শতাব্দীকেএশিয়ার শতাব্দী করে তুলতে আমাদের পরিশ্রম করতে হবে। এতে তাৎক্ষণিক লাভ হয়তো আমাদেরহবে না। তবুও দীর্ঘস্থায়ী ভালোর জন্য আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। মহাত্মা গান্ধীহামেশাই ‘শ্রেয়’ এবং ‘প্রিয়’ নিয়ে আলোচনা করতেন। ‘প্রিয়’ কাজটি করা উচিৎ নাকি‘শ্রেয়’ কাজটি করা উচিৎ? আমরা ‘শ্রেয়’ কাজগুলি করার চেষ্টা করছি, সেগুলি সমসাময়িক‘প্রিয়’ না হলেও একদিন সেটাকে প্রিয় বলে মনে হবে।

কিছু সামর্থ্যবানমানুষ থাকেন, যাঁদের যে কোন পদক্ষেপ তখনই ‘প্রিয়’ বলে মনে হয়। কারও পদক্ষেপ আবারতখনই কঠিন বলে মনে হয়, সুফল পেতে সময় লাগে। যেমন বিমুদ্রাকরণ দেশের গরিব মানুষতখনই বুঝেছিলেন যে, সঠিক লক্ষ্যে শক্তিশালী পদক্ষেপ। কিন্তু যাঁদের রাতের ঘুম চলেগেছে তাঁরা দু’বছর হতে চললো – কেঁদেই চলেছেন!

জিএসটি চালুহবে কি হবে না এই দ্বন্দ্ব সাত বছর ধরে চলছিল। আমরা তিন বছরের মধ্যে চালু করেদিলাম। এখন এটা ঠিক যে, আমরাও বছরের পর বছর একটা বাড়িতে থেকে অন্য বাড়িতে গেলেরাতে নতুন বাড়ির জন্য যত খুশি আনন্দ উপভোগ করি না কেন, ভোরবেলা ঘুম চোখে বিছানাথেকে নেমে অভ্যাস মতো বাঁদিকে বাথরুমে যেতে গিয়ে দেওয়ালে ধাক্কা খেতে পারি। তারপরঘুম ভাঙ্গলে বুঝতে পারি যে, নতুন বাড়িতে আছি, এখানে বাথরুম ডানদিকে। এরকম অভিজ্ঞতাপ্রত্যেকেরই আছে, তাই না? একজন মানুষের জিবনে সামান্য পরিবর্তনে এরকম অভিজ্ঞতারসম্মুখীন হতে হয় আর যখন ৭০ বছর পুরনো ব্যবস্থায় ১২৫ কোটি জনগণ অভ্যস্ত, দু’তিনপ্রজন্মের অভ্যাসে প্রিবর্তন এলে সমস্যা তো হবেই। কিন্তু এই পরিবর্তন একটি শ্রেয়পদক্ষেপ।

মহাত্মাগান্ধী আমাদের এই পথ দেখিয়ে গেছেন। আজ এত কম সময়ে জিএসটি-র বেশ কিছু সমস্যাদূরীকরণের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই জনমনে এক ব্যবস্থার স্বীকৃতি পেয়ে এগিয়ে চলেছে, দেশবদলাচ্ছে।

গতকাল আমিআবু ধাবিতে অনেকক’টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। ‘লোয়ার জকুম কনসেশান এগ্রিমেন্ট মিড্‌লইস্ট আপস্ট্রিম’-এর অন্তর্গত ভারতীয় কোম্পানিগুলির প্রথমবার বিনিয়োগের মাধ্যমে এইঅংশীদারিত্বের একটি উজ্জ্বল সূত্রপাত হল। আমার বলার তাৎপর্য এটাই যে, আজ আমাকেপরবর্তী অনুষ্ঠানে পৌঁছতে হবে তাই আপনাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলতে পারব না।কিন্তু আপনারা এত বিপুল সংখ্যায় এসেছেন, এত ভালোবাসা দিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত আমারদৃষ্টিই পৌঁছচ্ছে না। আমি আপনাদের হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। এখন আমাকে অনেকদূরত্ব অতিক্রম করতে হবে। আগামী ৭০-৮০ ঘন্টার মধ্যে পাঁচটি দেশের সফর সেরে ভারতেফিরবো। জর্ডন, প্যালেস্তাইন, আবু ধাবি, এখন দুবাইয়ের কর্মসূচি সেরে আমাকে ওমানযেতে হবে। সেখানেও আজ সন্ধ্যায় আমার বিপুল সংখ্যায় ভারতীয়দের সাক্ষাৎলাভের সৌভাগ্যহবে। আপনাদের কৃতজ্ঞতা জানাই, আপনাদের আশ্বস্ত করি, যে স্বপ্ন আপনারা দেখছেন, যেস্বপ্ন ভারতে আপনাদের প্রিয়জনেরা দেখছেন, আমরা সবাই মিলে নির্দিষ্ট সময়ের আগেইসেসব স্বপ্ন বাস্তবায়িত করব। আপনাদের এই ভরসা দিচ্ছি। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

PG/SB/DM