Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

১১ মে, ২০১৮ তারিখে নেপাল সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস বিবৃতি

১১ মে, ২০১৮ তারিখে নেপাল সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস বিবৃতি

১১ মে, ২০১৮ তারিখে নেপাল সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস বিবৃতি

১১ মে, ২০১৮ তারিখে নেপাল সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস বিবৃতি


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী কে পি শর্মা

ওলিজি,

বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ,

উপস্থিত সংবাদ মাধ্যমের বন্ধুগণ,

নমস্কার!

প্রধানমন্ত্রী জ্যু, তপাইলে মেরী হার্দিক স্বাগত র সৎকার গর্নুভয়ো।

য়স লাই ম হার্দিক আভার ব্যক্ত গর্দ ছুঁ।

বন্ধুগণ,

নেপালের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেক পুরনো হলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে এটি আমার তৃতীয় নেপাল সফর। এ থেকে এটা স্পষ্ট হয় যে, ভারত-নেপাল সম্পর্ক নিয়ে আমার সরকারের দায়বদ্ধতা কত গভীর। কিন্তু আমি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে কিংবা সাধারণ নাগরিক হিসাবেও যখন নেপালে এসেছি, এখানকার জনগণ আমাকে আপন করে নিয়েছেন। এবার আপনারা যেভাবে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন, তার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী ওলিজি ও তাঁর সরকার এবং নেপালবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। নেপালের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক উভয় সরকারের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের ঊর্ধ্বে সাধারণ মানুষের পারস্পরিক, পারিবারিক গভীর ও মধুর সম্পর্কের ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

বন্ধুগণ, আমার এই সফর একটি ঐতিহাসিক সময়ে হচ্ছে। এই তো কিছুদিন আগে আপনাদের দেশে নির্বাচন হয়েছে, আপনারা নিজেদের আশা-আকাঙ্খাকে বাস্তবায়িত করার জন্য ঐতিহাসিক জনাদেশ দিয়ে একটি নতুন সরকার নির্বাচন করেছেন। এক বছরের মধ্যেই সাফল্যের সঙ্গে ত্রিস্তরীয় নির্বাচন করানোর জন্য আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। নেপালের ইতিহাসে প্রথমবার দেশের প্রত্যেক প্রান্তে প্রান্তিক সরকার গড়ে উঠেছে। এটি শুধু নেপালের জন্যই নয়, ভারত ও এই সমগ্র অঞ্চলের জন্যও একটি গর্বের বিষয়। নেপাল সামাজিক ও আর্থিক পরিবর্তনের জন্য একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যার ভিত্তি হবে সুশাসন এবং সমতার ভিত্তিতে উন্নয়ন। ১০ বছর আগে নেপালের নবীন প্রজন্ম বুলেটের পথ ছেড়ে ব্যালটের পথ বেছে নিয়েছে। যুদ্ধ থেকে বুদ্ধের পথে এগিয়ে আসার এই পরিবর্তনের জন্য আমি নেপালের জনগণকে অন্তর থেকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।

বন্ধুগণ,

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ভারত ও নেপালের প্রাচীন সম্পর্ককে আরও নতুন শক্তি যুগিয়েছে। গণতন্ত্র এমন একটি শক্তি, যা সাধারণ থেকে অসাধারণ সকল মানুষের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ ও অধিকার প্রদান করে। ভারত এই শক্তিকে অনুভব করেছে আর আজ ভারতের প্রত্যেক নাগরিক তাঁদের স্বপ্ন পূরণে উৎসর্গীকৃত। আমি আপনাদের সবার চোখে সেই চমক দেখতে পাচ্ছি যে, আপনারাও নেপালকে সেই পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। আমি আপনাদের চোখে নেপালের জন্য এমনই স্বপ্ন দেখছি। প্রধানমন্ত্রী ওলিজিকে তাঁর এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার প্রক্রিয়ায় আমি ১২৫ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

বন্ধুগণ,

সম্প্রতি নেপালের প্রধানমন্ত্রী মাননীয় ওলিজিকে দিল্লিতে সংবর্ধিত করার সু্যোগ হয়েছিল। নেপালকে নিয়ে তিনি কি ভাবছেন, তা জানার সুযোগ হয়েছিল। ওলিজি তাঁর ‘সমৃদ্ধ নেপাল, সুখী নেপালী’ স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে চান। ভারতও সর্বদাই নেপালের সমৃদ্ধি ও সুখ কামনা করে, ভবিষ্যতেও করবে। ভারতও একই ধরণের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছে।

বন্ধুগণ,

ভারতে আমাদের সরকারের মূলমন্ত্র হ’ল ‘সকলের সঙ্গে সকলের উন্নয়ন’। সমাজের কোনও অংশ, দেশের কোনও প্রান্ত যেন এই উন্নয়ন ধারা থেকে বঞ্চিত না হয়, আমরা নিয়মিত সেই প্রচেষ্টাই করে যাচ্ছি। ফলস্বরূপ, পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ সর্বত্র উন্নয়নের রথ ছুটতে শুরু করেছে। স্বাধীনতার পর থেকে যে অঞ্চলগুলিতে উন্নয়নের আলো একদমই পৌঁছয়নি, আমাদের সরকার সেই অঞ্চলগুলির উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। বিশেষ করে, দেশের পূর্বভাগ – নেপালের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলি; উত্তর প্রদেশ থেকে শুরু করে বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সমকক্ষ করে তোলার সংকল্প নিয়ে আমরা কাজ করে চলেছি। এই অঞ্চলগুলিতে যে উন্নয়নযজ্ঞ চলছে, তার দ্বারা নিশ্চিতভাবেই প্রতিবেশী রূপে নেপাল সর্বাধিক লাভবান হবে।

বন্ধুগণ,

আমাদের জল ব্যবস্থাপনা এবং শক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রে আমরা আজ একটি নতুন অধ্যায় জুড়েছি। প্রধানমন্ত্রী ওলিজি’র সঙ্গে একসাথে আজ ৯০০ মেগাওয়াট শক্তি উৎপাদনক্ষম অরুণ-৩ বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপনের সৌভাগ্য হয়েছে। প্রায় ৬ হাজার কোটি ভারতীয় টাকা বিনিয়োগে এই প্রকল্প নেপালে সর্ববৃহৎ প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। এভাবে জল, স্থল ও অন্তরীক্ষ মাধ্যমে পরস্পরের সম্পর্ক আরো নিবিড় করে তুলতে হবে। জনগণের মধ্যে সম্পর্ক যত প্রস্ফুটিত, ফলবান এবং শক্তিশালী হবে, তা যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য আমরা ভারত ও নেপালের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছি।

বন্ধুগণ,

ভারত ও নেপালের সম্পর্ক শক্তিশালী করতে আমাদের মুক্ত সীমান্ত বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। কোনও অবাঞ্চিত শক্তিকে আমরা এই মুক্ত সীমান্তের অপব্যবহার করতে দেব না। গত মাসে আমরা দু’জনে বীরগঞ্জে প্রথম ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্টের উদ্বোধন করেছি। এই চেক পোস্ট যখন পূর্ণ শক্তিতে কাজ শুরু করবে, তখন সীমান্ত বাণিজ্য এবং আসা-যাওয়া অনেক বেশি সহজ হবে। জয়নগর-জনকপুর রেলপথের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

বন্ধুগণ,

গত মাসে মাননীয় ওলিজির সঙ্গে দিল্লিতে ও আজ এখানে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যে নতুন সম্পর্কের সূচনা হয়েছে, তা আমাদের সম্পর্কে একটি নতুন প্রাণশক্তি সঞ্চার করেছে। নেপালকে নিয়ে তিনি কি ভাবছেন, তা জানার সুযোগ হয়েছিল। ওলিজি তাঁর ‘সমৃদ্ধ নেপাল, সুখী নেপালী’ স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে চান। আমরাও তাই চাই। আজ যখন আমি ভারত-নেপাল সম্পর্ক নিয়ে ভাবি, তখন অত্যন্ত আশাবাদী হয়ে উঠি। এই আশা, বিশ্বাস, ভরসা এবং পারস্পরিক বন্ধুত্বের ভাবনা নিয়ে আমি আরেকবার প্রধানমন্ত্রী ওলিজি, তাঁর সরকার ও নেপালবাসীকে অন্তর থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

ভারত নেপাল মৈত্রী

অমর রহোস।

ধন্যবাদ।

CG/SB/SB