পিএমইন্ডিয়া
এখানে উপস্থিত সিনে জগতের সমস্ত রথী-মহারথী। এই মহাসমারোহে স্বাগত জানানোর জন্য আপনাদের সকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আজ আমার সিনেমা জগতের মহারথীদের মাঝে এসে, সৃষ্টিশীল বিশ্বের সঙ্গে বার্তালাপের সৌভাগ্য হয়েছে। সম্ভবত, আমার জীবনে এটি এ ধরণের প্রথম সুযোগ। কালেভদ্রে কারোর কারোর সঙ্গে নমস্কার-প্রতি নমস্কারের সুযোগ হয়েছে। কিন্তু কখনও আলাপের সৌভাগ্য হয়নি। গুজরাটে দীর্ঘকাল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছি, তবুও সুযোগ হয়নি। কিন্তু আজ সুযোগ পেয়েছি।
আপনাদের নির্দেশনায়, আপনাদের প্রতিভায় ভারতে সিনেমা নিরন্তর নতুন নতুন সাফল্য পাচ্ছে। প্রার্থনা করি, এই পরম্পরা ভবিষ্যতেও জারি থাকবে। এ বছর আপনারা সকলে বিশেষ সাফল্য অর্জন করুন। আপনাদের সবাইকে ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ ইন্ডিয়ান সিনেমার জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
বিগত দু’দশক ধরে কোন না কোনভাবে এই মিউজিয়াম নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। আজ এর উদ্বোধনের মাধ্যমে আমাদের সিনেমার সোনালী অতীতকে এক জায়গায় সংরক্ষণের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হল। আমি প্রায়ই অনুভব করি যে আমার পূর্বসূরীরা আমাকে এরকম অনেক ভালো কাজ করার সুযোগ দিয়ে গেছেন। আপনারা সবাই যখন নতুন ভারতে নতুন সিনেমা নির্মাণের কাজ করে যাচ্ছেন, আপনাদের প্রতি আমার একটি প্রশ্ন রয়েছে। এখানে সকল প্রজন্মের অভিনেতা, অভিনেত্রী, নির্দেশক ও কর্মকুশলীরা রয়েছেন। আপনাদের ভাষাতেই প্রশ্নটি করছি।
হাউ ইজ দ্য জোশ – হাউ ইজ দ্য জোশ
হাউ ইজ দ্য জোশ – হাউ ইজ দ্য জোশ
আজকাল আপনাদের এই উৎসাহ সকলের চোখে পড়ছে। নতুন ভারত নির্মাণের জন্য আপনাদের এই উৎসাহ অনেক অর্থবাহী।
বন্ধুগণ, সিনেমার দুনিয়া রঙিন হয় এবং এর অনেক মাত্রা থাকে। ন্যাশনাল ফিল্ম মিউজিয়াম দেশবাসীর সামনে এর বহুমাত্রিকতাকে তুলে ধরবে যা সিনেমাপ্রেমী মানুষ উপভোগ করবেন। এখানে বিনোদন শিল্পের গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এই জগতের সমস্ত শাখার রথী-মহারথীদের জীবন সম্পর্কে জানা যাবে। তাঁদের জীবন সংগ্রামের সোনালী গল্পগাথার কিছু ঝলক সাধারণ মানুষ জানতে পারবেন, দেখতে পারবেন।
আমি মনে করি, ন্যাশনাল ফিল্ম মিউজিয়াম থেকে আমাদের নবীন প্রজন্ম অনেক কিছু দেখা, শেখা ও বোঝার সুযোগ পাবে। কিছুক্ষণ আগে আমিও এই প্রদর্শনশালা ঘুরে দেখেছি। ভেবেছিলাম, প্রথম দুটো তলা দেখব। দেখতে দেখতে তিনতলাতেও যেতে ইচ্ছা করল। জানি আপনারা এসে গেছেন, অপেক্ষা করছেন। কিন্তু এত সুন্দর করে সব সাজানো রয়েছে যে দেখতে দেখতে আমি শেষ পর্যন্ত চলে গিয়েছি। আপনাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে সেজন্য ক্ষমা চাইছি।
এই সমৃদ্ধ মিউজিয়ামে আমাদের ইতিহাসের গৌরব যেমন রয়েছে, ভবিষ্যতের প্রাণশক্তিও রয়েছে। এতে প্রাচীনতার মান রয়েছে, আধুনিকতার সম্মান রয়েছে। এর ‘গুলশন বহল’ আমাদের ইতিহাসের সাক্ষী। তেমনই অত্যাধুনিক অট্টালিকা দূরদর্শীতার পরিচায়ক। গুলশন বহল বাড়িতে সিনেমার প্রথম দিকের গৌরবগাথার সঙ্গে পরিচয় হবে। আমাকে বলা হয়েছে যে এই অংশে ৩০ ঘন্টার এমন ফুটেজ রয়েছে যাতে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে আমাদের সৈনিকদের শৌর্য প্রদর্শিত হয়েছে।
আমি ফিল্ম ডিভিশনকে অভিনন্দন জানাতে চাই। সেনাবাহিনী থেকে এগুলি সংগ্রহ করে তারা ডিজিটাইজেশন করেছেন। ফলে, দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে দেশের ২০ লক্ষ সৈনিক ও আধিকারিকদের শৌর্য সম্পর্কে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারবে, প্রেরণা পাবে।
অনেক কম মানুষই জানেন যে, কোন বিশ্ব যুদ্ধেই আমাদের দেশের কোন স্বার্থ ছিল না, কোন জাতীয় পতাকার সম্মান রক্ষার ব্যাপার ছিল না, তবুও দুই বিশ্ব যুদ্ধে আমাদের দেশের দেড় লক্ষ সৈনিক শহীদ হয়েছেন। আর দুঃখের কথা যে, এই বিষয়গুলিকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখানে এলে এই নতুন মাধ্যমে দেশবাসী আসল সত্যটা জানতে পারবে। নতুন প্রজন্ম প্রেরণা পাবে। আমি যখন বিশ্ববাসীর সঙ্গে কথা বলি, তখন বলি আপনারা আমাকে ‘শান্তি’ শেখাবেন না, বিশ্বে শান্তি স্থাপনের জন্য বিভিন্ন দেশে আমাদের দেড় লক্ষ সৈনিক শহীদ হয়েছেন। এটাই আমাদের ইতিহাস, আমাদের গাথা, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রেরণা যোগাবে।
বন্ধুগণ, বাস্তবে সিনেমা এবং সমাজ উভয়ে পরস্পরের প্রতিফলন। সমাজে কি চলছে তা সিনেমায় দেখা যায়। আর সিনেমায় যা হয় তা দিয়ে সমাজ প্রভাবিত হয়। অনেক সময় আপনারা হয়তো এটাও দেখেছেন যে মানুষ সমাজে আসা পরিবর্তনগুলি চিহ্নিত করছে। অনেক পরিবর্তনের পূর্বাভাস সিনেমায় দেখা যায়। আমি মনে করি এটা অনেক বড় ব্যাপার। কলা ও সংস্কৃতি সমাজের ভবিষ্যতকে যাচাই করে। আমার মনে আছে ৬০-৭০-এর দশকে মনোজ কুমারের দেশভক্তিমূলক সিনেমার একটি সিরিজ বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। এর পেছনে হয়তো দেশের সুদীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের প্রভাব রয়েছে।
তেমনই, ৭০-৮০-র দশকে ‘রাগী যুবক’-এর ভূমিকা জনপ্রিয় হয়। কিন্তু সমাজে পরিবর্তন এলে, রাগ কমে এলে আশা ও আকাঙ্ক্ষা বাড়তে শুরু করে। সিনেমাতেও এর প্রতিফলন দেখা যায়। সমাজে পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রত্যেক যুগে সিনেমাও বদলেছে। আজ আমরা একটি নতুন প্রবণতা দেখতে পাচ্ছি। একটা সময় ছিল যখন মেইনস্ট্রিম সিনেমার নায়করা সবসময়ই বড় শহর, বড় পরিবার, মুম্বাই, দিল্লির সুদর্শন যুবক হত। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে এই পরম্পরা বদলেছে। টিয়ার-২, টিয়ার-৩ শহর; ছোট ছোট জায়গা থেকে চরিত্ররা উঠে আসছে। সেসব চরিত্র রূপায়ণে ঐ ধরণের শহরগুলির সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে-মেয়েরা উঠে আসছে, আর নতুন প্রাণশক্তিতে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে সঞ্জীবিত করছে। এটাও পরিবর্তিত ভারতের একটি রূপ, যা আমি দেখছি ও অনুভব করছি।
আজ খেলাধূলা, স্টার্ট-আপ এমনকি দশম কিংবা দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষার ফলেও আপনারা দেখবেন বড় শহরের নামী স্কুলের বদলে ছোট ছোট শহরের অখ্যাত স্কুলের ছেলে-মেয়েরা ভালো ফল করছে। অর্থাৎ, দেশের সুপ্ত শক্তি ও সামর্থ্য জেগে উঠছে। আমরা ভারতের দারিদ্র্য ও অসহায়তা নিয়ে অনেক সিনেমা দেখেছি। আমার মতে একটি পরিবর্তনশীল সমাজের লক্ষ্মণ হল, সমস্যার পাশাপাশি সমাধানের পথও সিনেমাগুলিতে দেখাচ্ছে। আমরা তো এমন স্বভাবের মানুষ যাঁরা দারিদ্র্যকে সদ্গুণ বলে মেনে এসেছি। ছিন্ন বস্ত্র নিয়েও অহঙ্কার করতে জানি, কারণ আমাদের সত্যনারায়ণের কথা শুরু হয় এভাবে – এক বেচারা গরিব ব্রাহ্মণ ছিলেন … অর্থাৎ, দারিদ্র্যকে সদ্গুণ ভাবাই আমদের মানসিকতায় স্থান করে নিয়েছে।
কিন্তু এখন পরিবর্তিত ভারত ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবে, দেখায়ও। আমাদের সিনেমাতেও এই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সমস্যা তো আছেই, এখন তার সমাধানও আছে, সমস্যাকে দূর করার জন্য প্রবল ইচ্ছাশক্তি আছে। ভারত বদলাচ্ছে, নিজেদের সমস্যার সমাধান নিজেরাই খুঁজছেন। লক্ষ লক্ষ সমস্যার কোটি কোটি সমাধান বের করার চেষ্টা চলছে। আমরা বদলাতে পারি, এই আত্মবিশ্বাস সর্বস্তরে পরিলক্ষিত হচ্ছে। আর এটাই সেই আত্মবিশ্বাস যার কারণে এখন সমাজকে নাড়িয়ে দেওয়া বিষয়গুলি উত্থাপনে সঙ্কোচ হচ্ছে না। আমরা সঙ্কটে ঘাবড়াবো না, সমস্যাকে লুকাবোও না। বরং, সামনে এনে তাকে দূর করার চেষ্টা চলছে। নতুন ভারতের এই নতুন বিশ্বাসই একজন ভারতীয়কে গর্বে ভরিয়ে দেবে।
বন্ধুগণ, আরেকটি প্রবণতাও হয়তো আপনারা লক্ষ্য করেছেন। আগে একটি সিনেমা নির্মাণে ৮, ১০, ১৫ বছর লেগে যেত। বিখ্যাত সিনেমাগুলির পরিচয় হত – সেগুলি তৈরি হতে কতটা সময় লেগেছে তা দিয়ে। কিন্তু এখন কয়েক মাসের মধ্যেই এক একটি সিনেমা তৈরি হয়ে আসছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তৈরি হচ্ছে। দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রেও তেমনই আগে বাস্তবায়িত হতে ৩০-৪০ বছর লেগে যেত; এই মিউজিয়াম তৈরি হতে যেমন ২০ বছর লেগেছে। কিন্তু এখন কেমন প্রতিটি সরকারি প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ হচ্ছে – তা দেখতে পাচ্ছেন। আমি যদি বলি যে দেশের নবীন আকাঙ্ক্ষাগুলি অনুভব করে আপনারাও নিজেদের বদলে নিয়েছেন, তাহলে হয়তো আমার বক্তব্য ভুল হবে না। আপনারা দু’কদম এগিয়ে রয়েছেন। আপনাদের এই শক্তি রাষ্ট্র গঠনে বড় অবদান রাখে।
বন্ধুগণ, আমাদের বিনোদন শিল্পের প্রেক্ষিতে মানবিক ভাবনা, সংবেদনাগুলি, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, কমেডি-ট্র্যাজেডির সমস্ত মাত্রা পরিলক্ষিত হয় যা বিশ্বকে যুক্ত করে। তা সে যে দেশই হোক, মানবিক চিন্তাভাবনা তো একইরকম হয়। ভারতীয় বিনোদন শিল্প এই মর্মকে অনুভব করেছে।
আমি একবার বিদেশ যাচ্ছিলাম। বিমানে আমার সহযাত্রী আমাকে একটি আজব প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, আমি ভারতে প্রায়ই যাওয়া-আসা করি। ভারতীয় সিনেমা দেখি। আপনাদের শিল্পীরা গাছকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে কেন? মন্দিরে গিয়ে কাঁদে কেন? চিৎকার করে কেন? আমি তাঁর প্রশ্ন শুনে বুঝতে পারি যে তিনি সেই ভারতীয় পরম্পরাকে বুঝতে চাইছেন, কিভাবে মানুষ দ্রুত নিজের সংবেদনা প্রকাশ করে আবার সহজ হয়ে ওঠে। আমাদের সিনেমায় সাধারণ মানুষের এই প্রকৃতিকে অত্যন্ত সরলভাবে তুলে ধরা হয়। আমি মনে করি এটা সহজ কাজ নয়। এটা তখনই সম্ভব যখন কলা, সংস্কৃতি, অভিনেতা এবং সাহিত্যিক মাটির সঙ্গে জুড়ে থাকেন, বীজ অঙ্কুরণের স্পন্দনকে অনুভব করতে পারেন। তখনই এত সহজভাবে এই অভিব্যক্তিগুলি প্রকাশ করা সম্ভব হয়।
হাস্যরস উৎপন্ন করা থেকে শুরু করে দর্শকদের নিজেদের অন্ধভক্ত করে তোলা পর্যন্ত সবকিছু শিল্পীরা দক্ষতার সঙ্গে করে থাকেন। সিনেমা জগতের এই অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধিকে আমি শুভেচ্ছা জানাই। আমাদের নবীন প্রজন্ম যেমন ব্যাটম্যানের অন্ধভক্ত, তেমনই বাহুবলীরও অন্ধভক্ত। আমাদের কলাকুশলীরাও এখন আন্তর্জাতিক সংবেদনা সৃষ্টি করতে সক্ষম। এই সিনেমাই গোটা বিশ্বে ভারতীয়ত্বের প্রতিনিধিত্ব করে। বিশ্বকে ভারতের প্রতি আকর্ষিত করে। বক্স অফিসে সাফল্যের পাশাপশি বিশ্বের সর্বত্র ভারতের ব্র্যান্ড গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে।
আমরা সবাই জানি যে রাজকাপুর সাহেবের সিনেমা নিয়ে শুধু দেশে নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই উন্মাদনা রয়েছে। এরকম অনেক মানুষের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। এমনকি আমি বেশ কিছু দেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরিচিত হয়েছি যাঁরা অনেক হিন্দি সিনেমার গান ভালোভাবে গাইতে পারেন। সম্প্রতি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়ে এরকম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি। রাত দুটো-আড়াইটা পর্যন্ত পারস্পরিক আলোচনার পাশাপাশি অনেক আড্ডা হয়েছে। তখন তিনি আমাকে ‘ইচকদানা ইচকদানা’ গানটি নির্ভুল উচ্চারণে গেয়ে শুনিয়েছেন। তিনি আমাদের ভাষা জানেন না, ইচকদানার অর্থও জানেন না। আমিও জানি না। কিন্তু সিনেমার শক্তি অনুভব করেছি। কিছুদিন আগে দক্ষিণ কোরিয়া সফরে গিয়ে, সে দেশের রাষ্ট্রপতির বাড়িতে ভোজনের আগে সে দেশের স্কুলের বাচ্চাদের কন্ঠে ‘হাতি মেরা সাথী’র গান শুনে বাচ্চাদের জিজ্ঞেস করেছিলাম যে তারা গানটির মানে জানে কি না! তারা বলে যে ‘হাত’ শব্দটির মানে জানলেও বাকি শব্দগুলির মানে জানে না! অথচ তারা কত সুন্দর হাত পা নেড়ে গানটি গেয়েছে, সেজন্য তাদের কত না পরিশ্রম করতে হয়েছে। আমি ফিরে এসে গানটিকে কোরিয়ান ভাষায় ডাবিং করিয়ে ঐ স্কুলের বাচ্চাদের পাঠিয়েছিলাম। আমাদের দেশে একটি টিভি সিরিয়াল খুবই জনপ্রিয়, ‘সাস ভি কভি বহু থি’। আমি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে দেখেছি, বিশেষ করে আফগানিস্তানে প্রত্যেক পরিবারে এই সিরিয়াল অত্যন্ত জনপ্রিয়।
আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলিতে ভারতের সাধারণ মানুষের জীবনের প্রতি আগ্রহ রয়েছে, তাঁরা খোলাখুলি আমাদেরকে নিয়ে কথা বলেন। আমি একবার ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসে কথা বলার সময় জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, তিনি তাঁর পত্নীকে সঙ্গে আনেননি কেন?
একটা কমিউনিস্ট দেশের কমিউনিস্ট নেতা আমার প্রশ্নের জবাবে যা বললেন তা শুনে আমাদের এখানকার কমিউনিস্টরা হয়তো আঘাত পাবেন। তাঁদেরকে আপনারা চেনেন!
আমাদের প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের আমন্ত্রণ রক্ষা করতে তিনি কেন তাঁর স্ত্রীকে আনেননি, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন যে বাড়িতে একটা সমস্যা আছে।
আমি জিজ্ঞাসা করি, বার্ধক্যজনিত সমস্যা?
তিনি বলেন, না। আমার স্ত্রী প্রতিদিন কয়েক ঘন্টা ধরে আমাদের ভাষায় ডাবিং করা রামায়ণ সিরিয়াল দেখেন। সেটা ছেড়ে তিনি কোথাও যেতে চান না।
এখন বুঝতে পারছেন আমাদের সংস্কৃতির প্রভাব কতটা হতে পারে! আমরা নিজেরা যদি নিজেদের এই শক্তি চিনতে না পারি, তাহলে আর কাউকে দোষ দিতে পারি না।
বন্ধুগণ, সিনেমার মৌনশক্তিকে অনুঘটক হিসেবে ব্যবহার করে আপনারা পরিচ্ছন্নতা, নারী ক্ষমতায়ন, ক্রীড়া, শিশুদের নানা সমস্যা, জটিল রোগ নিয়ে সচেতনতা, সৈনিকদের শৌর্য নিয়ে নানা ভাবনার বীজ, দর্শক ও শ্রোতাদের মনে বপন করতে পারেন। এসব বিষয়গুলি নিয়ে তৈরি সিনেমাগুলির সাফল্য প্রমাণ করেছে যে সামাজিক বিষয় নিয়ে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সিনেমাও যেমন বক্স অফিসে সফল হতে পারে, তেমনই রাষ্ট্র গঠনেও অবদান রাখতে পারে।
বন্ধুগণ, আপনাদের চিত্র নির্মাণের প্রক্রিয়া যেভাবে দেশের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যকে তুলে ধরে তা কেন্দ্রীয় সরকারের ‘এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর ভাবনাকে পোক্ত করে।
আমাদের হিন্দি সিনেমায় নেপালি ভাষা ও নেপালের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু ভারতের প্রত্যেক রাজ্যের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। কোন অভিনেতা-অভিনেত্রী যখন অন্য ভাষার দু-একটি বাক্য উচ্চারণ করেন, তিনি দেশের একতার বার্তা বহন করেন। তাঁর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। যে দেশে ১০০টি ভাষা আর ৭০০টি কথ্যভাষা আছে – আমরা এক্ষেত্রে কত ধনী। এই বিবিধতাকে আমরা কিভাবে ঐক্যসূত্রে বাঁধব? অন্যের ভাষা শেখা এর অন্যতম উপায়। এই বার্তালাপের শক্তি আমাদের মধ্যে রয়েছে।
একটু আগেই রাজ্যবর্ধনজি বলছিলেন, দেশে অনেক পর্যটনস্থল বিখ্যাত সিনেমার শ্যুটিং-এর কারণে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছে। সিনেমা খুব সুন্দরভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানকে তুলে ধরে পর্যটন শিল্পের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। আজকাল ভারতে পর্যটন শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটছে। কিন্তু আজও দেশের বাইরে অনেকে তাজমহল ছাড়া আর কোন জায়গার নাম শোনেনি। অথচ আমাদের কাছে বিশ্বকে দেখানোর মতো অনেক কিছু আছে। গর্বের সঙ্গে, শৌর্যের সঙ্গে বিশ্ববাসীর চোখে চোখ রেখে কথা বলার মেজাজ গড়ে তুলতে আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। আমি মনে করি, পর্যটন এমন একটি শিল্প যেখানে ন্যূনতম বিনিয়োগে অধিকতম আয় হয়, গরিব মানুষের কর্মসংস্থান হয়।
আপনাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্যুটিং করতে গিয়ে প্রশাসনিক অনুমতি পেতে যে যে অসুবিধা হয় বলে আপনারা জানিয়েছেন, আমরা তা নিয়ে অভিজ্ঞ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থাটিকে সরল করার চেষ্টা করেছি। এখন দেশের যে কোন স্থানে শ্যুটিং-এর অনুমতির জন্য একটি নতুন ‘সিঙ্গল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স’ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। ন্যাশনাল ফিল্ম ডিভিশন কর্পোরেশনের আধিকারিকদের এই দায়িত্ব দেওয়া হবে। ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’-এর পাশাপাশি ‘ইজ অফ ফিল্মিং’কে সুনিশ্চিত করার জন্য আমরা সবরকম প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। আমাদের ওপর ভরসা রাখুন।
বন্ধুগণ, ভারতীয় সিনেমার উন্নয়নে দেশে ইতিবাচক আবহ গড়ে তোলার স্বার্থে এক ব্যাপক আলাপ-আলোচনা, আত্মমন্থনের জন্য সরকার আপনাদের পাশে থাকবে। কিছুদিন আগে সিনে জগতের কয়েকজন বন্ধু আমার কাছে জিএসটি নিয়ে দুশ্চিন্তা ব্যক্ত করেছেন। তাঁদের বক্তব্য আমি মন দিয়ে শুনেছি। অনুভব করেছি যে সৃষ্টিশীল কাজের মূল্যায়ন অর্থ দিয়ে করা যায় না। আমি তাঁদের বিষয়টি জিএসটি কাউন্সিলে তুলে ধরেছি। আমি খুশি যে কাউন্সিল আমার অনুরোধকে বিবেচনা করেছে এবং ১০০ টাকার বেশি মূল্যের টিকিটে জিএসটি ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করে দিয়েছে।
বন্ধুগণ, আপনাদের আরেকটি দুশ্চিন্তার বিষয় ছিল ‘পাইরেসি’। এর প্রতিরোধে সিনেমাটোগ্রাফ রেগুলেশন, ১৯৫২ সংশোধনের লক্ষ্যে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। এই সংশোধনে ‘ক্যামকার্ডিং’কে দণ্ডযোগ্য অপরাধ ঘোষণা করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বন্ধুগণ, বিগত সাড়ে চার বছরে আমরা ১,৪০০-রও বেশি কালবাহ্য কিংবা পরস্পর বিরোধী আইন বাতিল করেছি। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে একটি করে আইন বাতিল করে আইনি প্রক্রিয়াকে সরল করেছি। সিনেমা সংক্রান্ত সংশোধন করে আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর করে তুলতে আপনাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে, এক একটি শব্দ ভালো করে পড়ে, যাচাই করে তবেই এই সংশোধনী আনতে হবে। আপনাদের মধ্যে কেউ এ কাজে নেতৃত্বের জন্য এগিয়ে আসুন, যিনি অ্যানিমেশন এবং ভিস্যুয়াল এফেক্ট সম্পর্কে জানেন। কিভাবে চুরি প্রতিরোধ করা যায়, তিনি সে ব্যাপারে ভালো করে বলতে পারবেন।
দেখুন, আজ বিশ্বে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ যতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, ‘ডিজাইনিং ইন্ডিয়া’ও ক্রমে একইরকম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আমাদের যে সৃষ্টিশীল মেধা রয়েছে, তারা অনেক কিছু দিতে পারে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে, ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর এক্সেলেন্স ফর অ্যানিমেশন, ভিস্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং অ্যান্ড কমিক্স’ স্থাপনের লক্ষ্যে আমরা কাজ করে চলেছি। আমার মনে হয়, একইভাবে দেশে যোগাযোগ ও বিনোদন ক্ষেত্রের জন্য স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা উচিৎ। সিনেমা জগতের মানুষেরা এক্ষেত্রে সাহায্য করতে এগিয়ে এলে অদূর ভবিষ্যতেই আমার এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রচারের স্বার্থে, তার ওপর সিনেমা তৈরি করার জন্য কিছু করায় আমার সায় নেই। আমি চাই, সাধারণ মানুষের স্বার্থে, ভালো সিনেমা তৈরির স্বার্থে, ভালো দর্শক তৈরির স্বার্থে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে এই শিল্পের উন্নতির স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন।
বন্ধুগণ, আপনাদের কারোর কারোর সঙ্গে এমনই একটি আলোচনা থেকে একটি পরামর্শ এসেছিল যা আমার খুব ভালো লাগেছে। দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন আমরা করতে পারি। প্রতি দু’বছরে একবার করে – লাগাতার। এখন আপনাদের যে ‘ফেস্টিভ্যাল’ হয় তার ভিত্তি হয় সৃষ্টিশীলতা। কিন্তু আমরা সিনেমার বাণিজ্যায়নকে ভিত্তি করে ‘গ্লোবাল ফিল্ম সামিট’ কিংবা সিনেমা সংক্রান্ত নানা প্রযুক্তির আদান-প্রদান নির্ভর এহেন শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করতে পারি! তাহলে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা ছাড়াও এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত কলাকুশলীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও রোজগার বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ১০০ বছরের যাত্রাপথে যেসব অভিজ্ঞতা সঞ্চিত হয়েছে, সেসব কিছু দেশের ঐক্য, সংহতি রক্ষায় এবং পর্যটন উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।
বন্ধুগণ, সিনেমা জগৎ মানে যেমন গ্ল্যামার – একটা ঝাঁ চকচকে ব্যাপার রয়েছে, কিন্তু তার বাইরে একটি বড় দুনিয়া আছে – আশা, প্রত্যাশা, দুঃখ, যন্ত্রণা অনেক কিছু আছে। আজ আমি যখন মিউজিয়াম দেখছিলাম, অনুভব করেছি যে সেই সময় কত না কষ্ট করে সিনেমা তৈরি হয়েছে। মানুষ শুধু অভিনেতা-অভিনেত্রী আর গায়ক-গায়িকাদের মনে রাখেন। কিন্তু আরও কত মানুষের পরিশ্রম এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে।
আমি জানি, আপনাদের ইন্ডাস্ট্রিতেও এমন সব মানুষ আছেন, যাঁরা প্রযুক্তিগতভাবে, সৃষ্টিশীলতার নিরিখে, দক্ষতার নিরিখে এক একজন প্রতিষ্ঠান হয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠার পেছনে তাঁরা কত যে পরিশ্রম করেছেন, সেটা আমরা জানি না।
আমি মনে করি, তাঁরা যদি নিঃসঙ্কোচে সেই লড়াইয়ের কথা অন্যদের শোনান, আজ সোশ্যাল মিডিয়া এত উন্নত হয়েছে সেখানে যদি লেখেন, কখনও তুষারাচ্ছন্ন হিমালয়ের কোলে কখনও শ্যুটিং করতে কেমন সমস্যায় পড়েছেন, তারপরও কেমন হাসি মুখে পোজ দিয়েছেন – এগুলি পড়লে নবীন প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা প্রেরণা পাবেন। সাধারণ যুবক-যুবতীরাও প্রেরণা পাবেন। বাস্তবটা বুঝতে পারবেন যে গ্ল্যামারই সব নয়, এর পেছনে রয়েছে অনেক পরিশ্রম।
আপনারা নিজেদের খাটো করে দেখাবেন না। আজও সমাজের একটা বড় অংশ আপনাদের থেকে প্রেরণা পেতে পারে। জীবনের কঠিন লড়াইয়ের মোকাবিলায় আপনাদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মনের জোর ফিরিয়ে আনতে পারে।
এরকমই, আমার অনুরোধ এই মিউজিয়ামে যেভাবে সাজানো রয়েছে, তেমনই ভিন্ন ভিন্ন কালখণ্ডে ভারতীয় সিনেমার শক্তি ও সামর্থ্য কেমন ছিল, প্রভাব কেমন ছিল, তখন সিনেমা তৈরি করতে কি কি সমস্যা হত, কিভাবে মোকাবিলা করতে হত – এসব নিয়ে গবেষণা করা হোক, স্বতন্ত্র সংগ্রহশালা গড়ে তোলা হোক। আজ একবিংশ শতাব্দীতে যখন সিনেমা নির্মাণের পদ্ধতি, প্রযুক্তি সবকিছু বদলে গেছে, তখন পুরনো দিনের তথ্যাবলী সংগ্রহ করে সাজিয়ে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এমনিতেও আমাদের ভাবা উচিৎ যে কি করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মনে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। আপনারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন, বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞান-ভিত্তিক সিনেমার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। নবীন প্রজন্মের বিজ্ঞানমনস্কতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এগুলি বেশ প্রভাবশালী ভূমিকা পলন করছে। আপনারা নানা ক্ষেত্রের কৃতিদের ওপর বায়োপিক সিনেমা তৈরি করেন। কিন্তু আমার মনে হয়, বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও পরিবেশ বিষয়ে আমরা অনেক কিছু করতে পারি।
বন্ধুগণ, আপনারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন যে আমাদের সরকার পদ্ম পুরস্কার নিয়ে একটি পরিবর্তন এনেছে। বিগত চার বছরে আমরা খুঁজে খুঁজে এমন সব নীরব কর্মীদের চিহ্নিত করেছি যাঁরা মানবতার সেবায় নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এমনকি পদ্ম পুরস্কার পাওয়ার আগে তাঁদের অনেকের সম্পর্কে নিজের রাজ্যের খবরের কাগজেও দু’লাইন লেখা হয়নি। কেউ গরিবদের বিনামূল্যে চিকিৎসা করে যাচ্ছেন, কেউ জীবনের সমস্ত রোজগারের টাকা দিয়ে স্কুল খুলেছেন। এই মহান মানুষদের আমরা খুঁজে খুঁজে পদ্ম পুরস্কার দিয়েছি। তাঁদেরকে নিয়েও আপনারা যদি ‘বায়োপিক’ তৈরি করেন তাহলে সমাজ প্রেরণা পাবে। দশরথ মাঝিকে নিয়ে তৈরি সিনেমার মতো সাফল্যও আসবে।
বন্ধুগণ, ইতিহাস সচেতন সমাজ হিসেবে আমরা কিছুটা পিছিয়ে আছি। ১৮৫৭-র সিপাহি বিদ্রোহকে আমি ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলি। রাজা মহারাজা এবং বিদ্রোহী সৈনিকরা ছাড়াও আমাদের দেশের বিভিন্ন জনজাতির মানুষ যেভাবে তখন ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়েছে, আত্মবলিদান দিয়েছে, একসঙ্গে ১০০-২০০ জনের ফাঁসি হয়েছে এবং অনেক ঐতিহাসিক তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। আপনারা এগুলি নিয়ে কাজ করতে পারেন।
সম্প্রতি সরকার একটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। আমরা জনজাতি সমাজের ঐ বীরদের কাহিনী উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট রাজ্যে মিউজিয়াম গড়ে তুলছি! ভারচ্যুয়াল মিউজিয়াম গড়ে তোলারও ইচ্ছে রয়েছে। এক্ষেত্রে আপনারা সরকারকে সাহায্য করতে পারেন। অ্যানিমেশনের মাধ্যমে ভারচ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন করাতে পারেন। এভাবে আমরা নতুন প্রজন্মকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গর্ব করার মতো অনেক কিছু দিয়ে যেতে পারবো। নকশালপন্থীরা তাদের বিভ্রান্ত করতে পারবে না! বিভ্রান্তরাও সঠিক পথে ফিরে আসবে, সমাজের মূলস্রোতে উন্নয়নের পথে ফিরে আসবে।
আরেকটি অনুরোধ, আপনারা অনেকেই থিয়েটারের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেছেন, অনেকে এখনও মাঝেমধ্যে মঞ্চে অভিনয় করেন। নাট্যশাস্ত্র ভারতের প্রাচীণ ঐতিহ্য। সেজন্য নাটকের ইতিহাস এবং অভিজ্ঞতার উপাদানগুলিকেও একত্রিত করে এখানে আনুন। তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উপকৃত হবে। দেশের প্রতিটি ভাষার নাটকের ঐতিহ্যকে সিনেমা থেকে আলাদা করে না দেখে একসঙ্গে রাখুন। এই লক্ষ্যে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে আপনারা কিছু করতে পারলে থিয়েটার শিল্পও উপকৃত হবে, আপনাদের নতুন প্রতিভার যোগান অব্যাহত থাকবে।
বন্ধুগণ, গণতান্ত্রিক সমাজে কোনও সরকার যদি বলে যে আমরা একাই সব কাজ করতে পারি, তাহলে তারা শুধু সমাজকে বোকা বানাচ্ছে না, নিজেদেরও ধোকা দিচ্ছে, ভ্রমের দুনিয়ায় বসবাস করছে। সকলের উন্নয়নের জন্য সরকারকে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে।
সরকারের সমস্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্পে গণ-অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে, দেশবাসীকে নিজেদের কর্তব্য মনে করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ভূমিকাকে আমি প্রশংসা করি, তাদের অবদানকে প্রণাম জানাই। আপনারা এমন মানুষ, যাদেরকে কোনরকম পরামর্শ দেওয়ার অধিকার আমাদের নেই, কারণ পরামর্শও আপনাদের স্বাধীনতাকে খর্ব করতে পারে। সেজন্য যদি কিছু বেশি বলে থাকি, তাহলে ক্ষমা করবেন। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই দেশকে বিশ্বের জন্য কিছু করার জন্য প্রস্তুত করি। এই শিল্প ভারতের অসামান্য ঐশ্বররয, অসংখ্য প্রতিভাবান মানুষের ১০০ বছরের তপস্যার ফল। আপনাদের ওপর বিশ্ববাসীর অধিকার রয়েছে, আমাদের দায়িত্ব বিশ্বের সামনে আমাদের এই ঐশ্বর্যকে তুলে ধরা, প্রেরণা যোগানো।
এই আশা নিয়ে আপনাদের সকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
CG/SB/DM/
नेशनल फिल्म म्यूजियम में एंटरटेनमेंट इंडस्ट्री के गौरवशाली इतिहास के बारे में विस्तार से जानकारी मिलेगी।
— PMO India (@PMOIndia) January 19, 2019
प्रसिद्ध फिल्मी हस्तियों के बारे और उनके संघर्षों के स्वर्णिम किस्से-कहानियों की झलक मिलेगी।
हमारी युवा पीढ़ी को काफी कुछ देखने, सीखने और समझने का अवसर मिलेगा: PM
वास्तव में फिल्म और समाज – दोनों एक दूसरे के रिफ्लेक्शन्स होते हैं।
— PMO India (@PMOIndia) January 19, 2019
समाज में क्या हो रहा है वो फिल्मों में देखने को मिलता है और जो फिल्मों में हो रहा है, वो समाज में भी आपको दिखता है।
कला जगत आने वाले कल को परख लेता है: PM
हमने भारत की गरीबी पर तो बहुत फिल्में देखी है, भारत की बेबसी पर भी फिल्में देखी हैं।
— PMO India (@PMOIndia) January 19, 2019
मेरा मानना है कि ये एक बदलते समाज की निशानी है कि अब प्रॉब्लम्स के साथ-साथ सॉल्यूशंस पर भी फिल्में देखने को मिलती हैं।
साफ है, आज समाज के साथ फिल्मों में भी ये बदलाव दिख रहा है: PM
समस्याएं है तो अब उसका सॉल्यूशन भी है।
— PMO India (@PMOIndia) January 19, 2019
अड़चन है तो उसे दूर करने का जुनून भी है।
भारत बदल रहा है, अपना हल खुद ढूंढ़ रहा है।
हम बदल सकते हैं, ये आत्मबल दिख रहा है: PM
यही वो कॉन्फिडेंस है, जिसकी वजह से अब समाज को झकझोरने वाले विषयों को उठाने में झिझक नहीं होती।
— PMO India (@PMOIndia) January 19, 2019
हम परेशानियों से घबराते नहीं, उन्हें छिपाते नहीं, बल्कि सामने लाकर उसे दूर करने का प्रयत्न करते हैं: PM
बात चाहे फन पैदा करने की हो या फैन बनाने की, हम यहां भी अपना असर डाल सकते हैं।
— PMO India (@PMOIndia) January 19, 2019
मैं फिल्म जगत को इस उपलब्धि के लिए अपनी शुभकामनाएं देना चाहता हूं कि आज हमारा युवा बैटमैन का फैन है, तो साथ में बाहुबली का भी फैन है।
हमारे किरदारों की भी अब ग्लोबल अपील है: PM
भारत के सॉफ्ट पावर की शक्ति में हमारी फिल्मों की बड़ी भूमिका है। दुनिया को भी वह अपनी ओर आकर्षित करती रही हैं।
— PMO India (@PMOIndia) January 19, 2019
हमारी फिल्में बॉक्स ऑफिस पर तो धूम मचाती ही हैं, साथ ही पूरे विश्व में भारत की साख बढ़ाने, भारत का ब्रैंड बनाने में भी बड़ा रोल प्ले करती हैं: PM