Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

২১সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে লক্ষ্মণরাও ইনামদারের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিতসহকার সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

২১সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে লক্ষ্মণরাও ইনামদারের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিতসহকার সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

২১সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে লক্ষ্মণরাও ইনামদারের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিতসহকার সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

২১সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে লক্ষ্মণরাও ইনামদারের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিতসহকার সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


দেশের নানাপ্রান্ত থেকে আগত সহকারিতা আন্দোলনের সঙ্গেযুক্ত মাননীয় ব্যক্তিবর্গ,

লক্ষ্মণ রাওজী ইনামদার এর জন্মশতবার্ষিকী সমারোহ এই সহকারিতাআন্দোলনকে আরও জঙ্গম করে তুলুক, নতুন প্রেরণা জোগাক, আর আজ আপনারা সমাজের প্রতিসংবেদনশীল হয়ে সবাই মিলে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলির সমাধানখুঁজে বের করুন।

আমাদের দেশ বহুরত্নগর্ভা। প্রত্যেক কালখণ্ডে দেশেরপ্রতিটি ভূখণ্ডে সমাজের জন্যে বেঁচে থাকা, সমাজের জন্যে কোনও না কোনও অবদান রাখাঅসংখ্য মানুষ জন্মগ্রহণ করেছেন। দেশের এমন কোনও ভূখণ্ড নেই যেখানে, কিম্বা এমনকোনও কালখণ্ড নেই যখন এরকম সমাজের প্রতি সমর্পিত ব্যক্তিরা নিজেদের দায়িত্ব পালনকরেন নি! আজকাল কিছু ক্ষমতাসীন মানুষ টিভি, খবরের কাগজ, নানা প্রচার মাধ্যমে এতছেয়ে থাকেন, এত মান-সম্মান পান যে তাদেরকে অনেক বড় বলে মনে হয়। কিন্তু আমাদের দেশেএমন অনেকে রয়েছেন যে তাঁরা কখনও খবরের কাগজের শিরোনামে থাকেন না, তিভিতে জ্বলজ্বলকরেন না, কেউ তাঁদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন না, মান-সম্মান প্রতিষ্ঠার জাঁকজমক থাকেনা, একেকজন মূক সাধকের মতো সমর্পিতপ্রাণ হয়ে – একটি প্রদীপ থেকে সহস্র প্রদীপপ্রোজ্জ্বলন করেন। এভাবে তিল তিল করে প্রোজ্জ্বলিত শরীরের প্রতিটি কণা আদর্শেরজন্যে, মূল্যবোধ লালনের খাতিরে জীবনপাত করেন। অপরিচিত চেহারা হলেও তাঁরা দেশকে যাদেন তার মূল্য কোনও অংশে কম নয়। উকিলসাহেবও একজন তেমনি নীরব সমাজকর্মী ও সাধকছিলেন।

আজ অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন যে, আমরা তো নামই শুনিনি,আর আপনারা শতবার্ষিকী পালন করছেন। আমি বলবো, এই যে নাম শোনেন নি, এটাই ছিল তাঁরবৈশিষ্ট্য! নিজেকে সর্বদা পেছনে রেখেছেন! আমার মতে সহকারিতা আন্দোলনে সাফল্যেরমন্ত্র এটাই, নিজের নাম যশ খ্যাতিকে যথাসম্ভব নস্যাৎ করে সবাই মিলে সাধারণ মানুষকেএগিয়ে দেওয়া।

তিনি ব্যক্তি নির্মাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করে রাষ্ট্রনির্মাণের একটি পথ খোঁজেন। আমার সৌভাগ্য যে জীবনের অনেকটা সময় তাঁর সান্নিধ্যপেয়েছি। যুবাবস্থায় অনেক বছর আমি তাঁরই নির্দেশিত পথে চলেছি। আর সেজন্যে আমার কাছেউকিলসাহেবের জীবন একটি নিত্য প্রেরণার উৎস। ২৫-৩০ বছর আগে আমি তাঁর জীবন নিয়ে একটিবই লিখতে গিয়ে অনুসন্ধান করে অবাক হয়ে যাই ; এত বছর তাঁর সান্নিধ্যে ছিলাম, কিন্তুকত কিছু জানিনা। আর তিনি প্রয়াত হওয়ার পর অনুভব করি যে আদর্শ জীবন ধারণের প্রকৃষ্টউদাহরণ ছিল তাঁর জীবনযাত্রা। কিন্তু নিজেকে সর্বদা পাদপ্রদীপ থেকে দূরে রাখতেন,সঙ্গীদের এগিয়ে দিতেন, সাথীদের সম্মিলিত শক্তিকে এগিয়ে দিতেন, জীবনদর্শনকেসম্পাদিত করে নিজের মধ্যেই এই মহান ঐতিহ্যের অমূল্য রত্ন সঞ্জীবিত রাখতেন।

শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে হয়তো অনেক অনুষ্ঠান পালিত হবে,সহকারিতা আন্দোলন একটি নতুন শক্তি পাবে। কিন্তু আজ উকিল সাহেবের শতবার্ষিকী পালনকেউপলক্ষ্য করে আপনারা যখন সহকারিতা ক্ষেত্রে তাঁর কী কী অবদান ছিল; সেসব স্মরণ করেএগিয়ে যান, সারাদিন বসে আলাপ আলোচনা করুন। বিশ্বে সহকারিতা ক্ষেত্রে আজ ‘সেরাঅভ্যাস’ কী কী সেগুলি নিয়েও আলোচনা করুন।

কৃষিতে আমরা সহকারিতার মাধ্যমে কিভাবে এগুবো, ২০২২এরমধ্যে আমাদের কৃষকদের আয় কিভাবে দ্বিগুণ করা যায়, আর কী কী জিনিস আমরা যুক্ত করবো,কোন কোন বাজে অভ্যাস আমরা ত্যাগ করবো যাতে আমাদের কৃষি জগত আর গ্রামীণ জীবনকেআধুনিক ভারতের প্রয়োজন অনুসারে উন্নয়নমুখী করে গড়ে তুলবো!

এখন গ্রামকে পেছনে ফেলে শহর এগিয়ে যাবে সেটা আর সম্ভবনয়। উন্নয়নে ভারসাম্য থাকতে হবে, সমান সুযোগ দিতে হবে। এই উন্নয়নে ভারসাম্য ও সমানসুযোগই সহকারিতা’র মূলমন্ত্র। সময়ের সঙ্গে যে কোনও ব্যবস্থা ত্রুটিসম্পন্ন হয়েউঠতে পারে। কোনও কোনও ব্যবস্থা কালবাহ্য হয়ে উঠতে পারে। সহকারিতা ক্ষেত্রের সঙ্গেযুক্ত প্রতিটি মানুষকে আত্মচিন্তন করে যাওয়া উচিৎ। এমন তো নয় যে, কো-অপারেটিভ একটিপরিকাঠামো? একটি আইনগত ব্যবস্থা, যা সাংবিধানিক সীমারেখার মধ্যে গড়ে ওঠা এমন কিছু,যার চৌকাঠ পার হলে আমরাও কো-অপারেটিভ হয়ে উঠছি! আমার মনে হয়, তা হলে বড় ভুল হয়েযাবে।

এত বড় দেশ। ব্যবস্থা, নিয়ম, পরিকাঠামো, ডু’জ অ্যান্ডডোন্‌স-এর প্রয়োজন হয়। কিন্তু সহকারিতা এইসব দিয়ে চলে না। সহকারিতা একটি আত্মিকব্যাপার। সহকারিতা কোনও ব্যবস্থা নয় – একটি আত্মা। আর এই আত্মার জন্য সংস্কারঅবশ্যম্ভাবী। আর সেজন্য ইনামদারজি বারংবার বলতেন, ‘বিনা সংস্কার নেহি সহকার’অর্থাৎ সংস্কারহীন সহকারিতা উপযোগী নয়।

আজ কখনো মনে হয়, সেই আত্মা কোনও শরীরের মধ্যে হারিয়েযায়নি তো! আমাদের সহকারিতার এই আত্মাকে পুনর্জীবিত ও পুনর্চেতনার জন্য উকিল সাহেবের থেকে বড় প্রেরণা আর কে হতে পারেন!আর আমরা যত বেশি করে এই সহকারিতার আত্মাকে বলীয়ান করে তুলব, তা ব্যবস্থার মধ্যেযদি কোনও ত্রুটি অঙ্কুরিত হয়ে থাকে, তাকেও সে অবলীলায় ঠিক করে দেবে।

আমাদের দেশে গ্রাম-ভিত্তিক সহকারিতা আন্দোলন গড়ে উঠেছে।কিন্তু একথাকে অস্বীকার করা যায় না যে, এই নিয়ম-কানুনের মাধ্যমেই যখন আর্বানকো-অপারেটিভ ব্যবস্থা গড়ে উঠতে শুরু করে, তার মধ্যে ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্র – এটাওআর্বান; এসব ক্ষেত্রে যে রূপান্তরন প্রক্রিয়া শুরু হয়, তাতে অনেক দ্বন্দ্ব ও সংশয়বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। কিন্তু গ্রামীণ সহকারিতা আন্দোলন সেই তুলনায় আজও অনেক বেশিপবিত্র, অনেক কম কলুষিত।

কৃষকদেরও মনে হয় যে, হ্যাঁ, এটাই আমার সঠিক পথ। আর যাঁরাএই সহকারিতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন, তাঁদেরও মনে হয় যে, এর মাধ্যমে আমরা গ্রাম,গরিব ও কৃষকদের হিতে কিছু করছি! আজ আপনারা অনেক আলোচনা করবেন। আমার মনে একটা ছোট্টবিষয় জেগে উঠেছে। আপনাদের বলছি, আপনারা অবশ্যই এটা নিয়ে আলোচনা করবেন।

আমাদের দেশে কৃষকদের অনেক সমস্যা রয়েছে। কিন্তু আপনারাখতিয়ে দেখলে বুঝবেন যে, কৃষকরা যা কেনেন – বাজারদরে কেনেন আর যা বিক্রি করেন তাপাইকারি দরে বিক্রি করেন। এই প্রক্রিয়াকে কি করে বদলানো যায়? যাতে কৃষকরা পাইকারিদরে কিনতে পারেন আর বাজার দরে বিক্রি করতে পারেন। তবেই তাদের কেউ ঠকাতে পারবে না।এতে দালালদের বাড়বাড়ন্ত কমবে। যাঁরা ডেয়ারি শিল্প নিয়ে পড়াশুনা করেছেন,কো-অপারেটিভ ডেয়ারি যাঁদের বিষয়, তাঁরা জানেন যে সেখানে কৃষক পাইকারি দরে কেনে আরপাইকারি দরে বিক্রি করেন। ডেয়ারি শিল্পের সাফল্যের মূল এটাই। আগে যাঁরা গবাদি পশুপালন করতেন, তাঁদেরকে ১০টি বাড়িতে গিয়ে দুধ বিক্রি করতে হ’ত। আর আজ তাঁরা কালেকশনসেন্টারে গিয়ে ১০ লিটার দুধ পাইকারি দরে বিক্রি করে দিয়ে আসে। তাঁরা পশুর খাবার,ওষুধপত্র এবং পশুপালন সংক্রান্ত অন্যান্য সামগ্রীও পাইকারি দরে ডেয়ারি থেকেইকেনেন। এই গোটা ব্যবস্থার দ্বারা সামগ্রিকভাবে গোটা গ্রাম লাভবান হয়।

পরিণামস্বরূপ, ডেয়ারি দ্বারা প্রত্যেক গ্রামবাসীর কোনওনা কোনওভাবে অতিরিক্ত আয় হয়। আমরা যদি এটাই ব্যক্তিগতভাবে পাইকারি দরে দুধ সরবরাহকরি, তা হলে এত লাভ হবে না। কো-অপারেটিভ আছে বলেই এই রোজগার সম্ভব হয়েছে। আমরা কিএই ধরনের কো-অপারেটিভ আন্দোলন শুরু করতে পারি? এর কিছু পরম্পরাগত ব্যবস্থা ছিল।আগে ৫ মণ্ডলী হ’ত, যা সাধারণ মানুষ প্রতিযোগিতামূলকভাবে চালাতো। সহকার ক্ষেত্রএকটি নতুন রূপ নেয়। এছাড়া, আরও এরকম ১০টি বিষয় রয়েছে, যেগুলি কেউ বাস্তবায়িতকরেননি। আমরা কি সেই নতুন ক্ষেত্রগুলিকে বুঝে নিয়ে সহকারিতার মাধ্যমে সমস্যারসমাধান করতে পারি। এরকম অসংখ্য ক্ষেত্র রয়েছে, যেখানে আজও সহকারিতার ছোঁয়া লাগেনি।আর যেখানে ছোঁয়া লেগেছে, সেখানেও অনেক প্রতিযোগিতা যেমন চিনি, দুধ এসব ক্ষেত্রেভীষণ প্রতিযোগিতা, আর অন্য অনেক ক্ষেত্রে এক প্রজন্মের পরিশ্রম যুক্ত হলে তবেই তাসহকারিতার শক্তি বৃদ্ধি করবে।

আমরা কি একটি নতুন প্রজন্মকে সহকারিতা আন্দোলনে প্রেরণাযুগিয়ে গ্রামীণ জীবনে আমূল পরিবর্তনের জন্য গড়ে তুলতে পারি? আমাদের দেশের যাচরিত্র, এদেশের উন্নয়নকে সহকারিতা আন্দোলনই সবচেয়ে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এটাবিদেশ থেকে ধার করা চিন্তা প্রক্রিয়া নয়। এটা আমাদের স্বভাব ও সংস্কারের অনুকূলব্যবস্থা। আর সেজন্য আমাদের দেশে এই ব্যবস্থার অঙ্কুরোদগম প্রাকৃতিকভাবেই সম্ভব।বাইরে থেকে ইনজেক্ট করতে হবে না। বাইরে থেকে আমরা যাই আনি না কেন, সমাজেপ্রাকৃতিকভাবেই তার একটা প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। কিন্তু এটি আমাদের সহজ প্রাকৃতিকব্যবস্থার অংশ বলেই আমরা মিলেমিশে একে দ্রুত অঙ্কুর থেকে মহীরূহ করে তুলতে পারব।

এখন যেমন দেশে নিম আচ্ছাদিত ইউরিয়ার উৎপাদন হচ্ছে, এতেলাভবান হয়েছেন দেশের কৃষকরা। ইউরিয়া নিয়ে সাম্বৎসরিক হৈচৈ বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তুএই নিম আচ্ছাদনের জন্য নিমের ফলই যোগাড় করে একত্রিত করা, তা থেকে তেল বের করা, সেইতেল ইউরিয়া উৎপাদনকারী কারখানায় পৌঁছে দেওয়া; এতগুলি নতুন কাজ তৈরি হয়েছে। এইকাজগুলি করার জন্য আমাদের গ্রামের মহিলারা সহকারিতা মণ্ডলী গড়ে তুলতে পারেন।তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ অরণ্য থেকে নিমের ফল সংগ্রহ করবেন, কেউ কেউ তেল বের করবেন আরঅন্যরা সেই তেল সার কারখানায় পৌঁছে দেবেন। এভাবে একটি নতুন স্বউদ্যোগের ক্ষেত্রগড়ে উঠতে পারে।

আমি আমাদের এই ডেয়ারিওয়ালা বন্ধুদের প্রায়শই বলি, আপনারাযেমন কৃষকদের পশুপালনের জন্য প্রেরণা যোগান, তেমনই মৌপালনের জন্য উৎসাহিত করুন। আর কেউ যদি নিজের বাড়িতে ৫০টি মৌ-উপনিবেশ স্থাপন করে, তা হলে বছরে ন্যূনতম২ লক্ষ টাকার মধু বিক্রি করতে পারবেন। এই অতিরিক্ত আয়ের পাশাপাশি ক্ষেতের আলগুলিতেমৌ-উপনিবেশ স্থাপনের ফলে ফলনও বৃদ্ধি পাবে। বাজারে যে রাসায়নিক মোম পাওয়া যায়,তাঁর দাম যদি ১০০ টাকা কেজি হয়, মৌ উপনিবেশ থেকে উৎপন্ন মোমের দাম ৪০০-৪৫০ টাকাকেজি। ভারতেই এর বড় বাজার রয়েছে। কিন্তু আমাদের কৃষকরা এখনও এ ব্যাপারে সচেতন নন।শতাধিক প্রজাতির মৌমাছি রয়েছে। সরকারের উদ্যান পালন ক্ষেত্রে যাঁরা কাজ করেন,তাঁদের সাহায্য নিতে পারেন। মৌ পালনের জন্য আপনাদের কোনও অতিরিক্ত পরিশ্রম করতেহবে না। কিন্তু আয় বেড়ে যাবে। আর যতটা উৎপাদিত হয়েছে, পুরো মধু যদি বিক্রি নাও হয়,তা হলে বাড়িতে রাখলে নষ্ট হবে না, ছেলেমেয়েরা খেলে তাদের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।পাশাপাশি আপনারা গুজরাটের ডেয়ারি নেটওয়ার্ককে ব্যবহার করে দেশে মধু বিপ্লব আনতেপথিকৃত ভূমিকা পালন করবেন।

একথা বলারতাৎপর্য হ’ল এরকম নানা নতুন নতুন ক্ষেত্রে আমরা কিভাবে এগিয়ে যাব। ভারতের বিশাল সমুদ্রতটে বসবাসকারী মৎস্যজীবী ভাই-বোনরা প্রতিকূলআবহাওয়াজনিত কারণে বছরে ছ’মাস কর্মহীন থাকেন। বর্ষায় উত্তাল সমুদ্রে মৎস্য শিকারতাঁদের পক্ষে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তাঁরা ঘরে বসে থাকতে বাধ্য হন। কিন্তুআমাদের দেশে সমুদ্র গুটিকার চাষ জনপ্রিয় হয়নি। আমাদের সমুদ্রতটবর্তী মৎস্যজীবী ভাইবোনেরা যদি কো-অপারেটিভের মাধ্যমে সমুদ্রের জলেই সমুদ্র গুটিকার চাষ করে, তা হলেতা ওষুধ ক্ষেত্রে অত্যন্ত মূল্যবান কাঁচামাল সরবরাহ করতে পারবে। সারা পৃথিবীর ওষুধনির্মাণ রসয়নাগারগুলিতে এই সমুদ্রের জলে উৎপন্ন সমুদ্র গুটিকার অত্যন্ত চাহিদারয়েছে। মাত্র ৪৫ দিনের জীবনচক্রে সমুদ্র গুটিকা পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সমুদ্রতটবর্তীপ্রতিটি গ্রামে কোনও রকম পরিশ্রম না করেই মৎস্যজীবী ভাইবোনেরা মাত্র ৪৫ দিনেরমধ্যে একেক দফা সমুদ্র গুটিকার ফসল তুলতে পারেন। তারপর, এর থেকে সামান্য কিছুগুটিকার রস বের করে সেই রস আপনারা ফসলের ক্ষেতে ছড়িয়ে দিন, এতে আপনার ফলন বৃদ্ধিপাবে। আমার মৎস্যজীবী ভাই ও বোনেরা এভাবে ঐ কর্মহীন ছ’মাসে নতুন উপায়ের পথ খুঁজেপেতে পারেন। আর যে মহিলাদের দিনরাত বাড়িতেই থাকতে হয়, এই সমুদ্র গুটিকার চাষতাঁদের জন্য সাম্বৎসরিক রোজগারের সুযোগ এনে দিতে পারে। দেশের এই বিশাল সমুদ্রতটনীল বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

আমার বলার তাৎপর্য হ’ল আমাদের দেশে গ্রামীণ অর্থ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রেসহকারিতা আন্দোলন এভাবে ছোট ছোট জিনিসের মাধ্যমেই বড় পরিবর্তন আনতে পারে। উকিলসাহেব যেসব তত্ত্ব, সংস্কার ও সংবেদনশীলতাকে এই সহকারিতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তকরেছেন, সেই মৌলিক তত্ত্বগুলি নিয়ে আজ যে সকল সহকারিতা ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্তবন্ধুরা এখানে এসেছেন, এই ভাবনাগুলির প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে তাঁরা আরও মানুষকেতাঁদের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবেন, তবেই আমাদের সহকারিতা আন্দোলন প্রকৃত অর্থেসাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার মাধ্যমে সমান অংশীদারিত্বের ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যেতেকাজে লাগবে।

এই প্রত্যাশা নিয়ে উকিল সাহেবকে স্মরণ করে আপনাদের সকলকে হৃদয় থেকে অনেকঅনেক শুভেচ্ছা জানাই। ধন্যবাদ।

PG /SB/ SB