Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

২ এপ্রিল, ২০১৬ তারিখে সৌদি আরবের রিয়াধে এল অ্যান্ড টি আবাসনে এল অ্যান্ড টি কর্মীদের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

২ এপ্রিল, ২০১৬ তারিখে সৌদি আরবের রিয়াধে এল অ্যান্ড টি আবাসনে এল অ্যান্ড টি কর্মীদের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


আমার প্রিয় সাথীগণ,

আপনাদের ঘামের গন্ধই বলতে গেলে আমাকে এখানে টেনে এনেছে। এই ঘাম শুধু আপনাদের পরিবার-পরিজনের গ্রাসাচ্ছাদনের ব্যবস্থাই করে না, কেবল ডলার বা পাউন্ড উপার্জনেই কাজে লাগে না, এটা ভারতের মর্যাদা বৃদ্ধি করে। আমরা যখন কাজ করি তখন এর গুরুত্ব বুঝতে পারি না, মনে হয় নিছকই একটি প্রকল্পের কাজ করছি। কিন্তু অজান্তেই অনেক ইতিহাস রচিত হয়। ভারতীয়রা আফ্রিকায় গিয়ে অনেক কষ্ট করে রেল লাইন স্থাপন করেছিলেন। সেখানকার মানুষ আজও ভারতীয়দের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আপনারা যদি মরিশাস-এ যান দেখবেন, সেখানকার সরকার যে উপকূলে প্রথম ভারতীয়রা সেখানকার মাটিতে পা রেখেছিলেন, সেখানে একটি সমৃদ্ধ সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছে। সেই সংগ্রহশালায় গেলে, সেখানকার ভারতীয়দের গত দেড়শো বছরের কঠিন সংগ্রামের ইতিহাস, তাঁদের রক্তঘামের বিনিময়ে অর্জিত সভ্যতা গড়ে তোলার ইতিহাসকে সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে। সেগুলি দেখে আমি শিহরিত হয়েছিলাম। আপনারা এখন যা করছেন, শতাব্দীকাল পর হয়তো এখানেও তা রিয়াধের উন্নত সামাজিক জীবনে বুনিয়াদ হিসাবে পরিগণিত হবে।

আপনাদের মধ্যে খুব কম লোকই আমাকে সরাসরি চিঠি লিখেছেন। কিন্তু, আপনারা নিজেদের পরিবার-পরিজনকে যে চিঠি লিখেছেন, তা থেকে অনেক খবর আমার কাছে আসতে থাকে। অনেক দুঃখ, যন্ত্রণা, দুশ্চিন্তা আবার কখনও অনেক আনন্দের কথাও শুনেছি। আপনারা যে সমস্ত প্রতিকূলতার সম্মুখীন, নিজেদের পরিশ্রম, সাহস ও শৌর্যের মাধ্যমে সেগুলিকে জয় করে যে আনন্দ আপনারা পরিবার-পরিজনকে এনে দেন, তা আমাকে অত্যন্ত আনন্দ দেয়। পাশাপাশি, অনেক দুশ্চিন্তার খবরে আপনাদের পরিবারের মানুষের মনের উৎকন্ঠা আমার মনেও সমানভাবে সঞ্চারিত হয়। আপনাদের সুখ-দুঃখ আমাদের সকলের সুখ-দুঃখ। সেজন্য ভারত সরকার গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ভারতীয়দের স্বার্থে কতটা কী করা যায়, সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি সৌদি আরবের মাননীয় নৃপতির কাছেও কৃতজ্ঞ, তিনি আজ আপনাদের সঙ্গে এই সাক্ষাতের সুযোগ করে দিয়েছেন। ভারতীয়রা এখানে কিভাবে কাজ করছেন, সে সম্পর্কে আমার প্রশ্নের জবাবে তিনি অত্যন্ত প্রশংসা করেছেন। তাঁর প্রশংসা শুনে গর্বে আমার বুক ভরে গেছে।

সেদিন আর দূরে নেই, যখন ভারতের মানবসম্পদ বিশ্বের প্রায় সর্বত্র পৌঁছে যাবে। আধুনিক বিশ্বের উন্নয়নে যে ধরণের মানবসম্পদ প্রয়োজন গোটা বিশ্বকে সে ধরণের মানবসম্পদ যোগান দেওয়ার সামর্থ্য ভারতের রয়েছে। ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি হল, নবীন প্রজন্মের ৮০ কোটি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের কম। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ভারত সরকার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। ইতিমধ্যেই লক্ষাধিক ঘন্টা প্রশিক্ষণের কাজ হয়েছে। এখানে আপনারা অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছেন। আমাকে যেভাবে বলা হয়েছে, আপনারা কোনও রকম লোকসান না করে লক্ষ লক্ষ ঘন্টা ধরে এই বিশাল প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। কেবল উন্নত প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই এই সাফল্য আসা সম্ভব নয়। আপনাদের পরিশ্রম ও নিয়মানুবর্তিতা এই সাফল্য এনেছে।

একটি দেওয়াল ভেঙ্গে গেলে সেই দেওয়াল গড়ে তোলা যায়। কিন্তু, একজন মানুষ চলে গেলে কিছুই বাঁচে না। আপনারা নিয়মানুবর্তার সঙ্গে কাজ করে ভারতের সম্মান বৃদ্ধি করেছেন। আপনাদের পাঠানো অর্থে দেশে আপনাদের সন্তান-সন্ততি লেখাপড়া করে বড় হচ্ছে। পাশাপাশি, আপনাদের কাজের ধরন দেখে সৌদি আরবের মানুষের মনে আপনাদের প্রতি যে সম্ভ্রম গড়ে উঠেছে, তা থেকে তাঁরা কোনও প্রকল্পে মানবসম্পদ আমদানির ক্ষেত্রে সবার আগে ভারত’কে বেছে নিচ্ছেন। এর মানে, আপনারা পরোক্ষভাবে দেশের অন্য অনেকের কর্মসংস্থানের পথ খুলে দিচ্ছেন। আপনাদের এই সামর্থ্যের জন্য আপনারা প্রত্যেকেই ধন্যবাদার্হ।

আপনারা যেখানে থাকেন, সেখান থেকে কর্মস্থল হয়তো অনেক দূরে। অনেকে দূতাবাসে চাকরি করেন, ছুটির সমস্যা থাকে। আপনাদের এই সব সমস্যা দূর করার উদ্দেশ্যে ভারত সরকার ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে ‘মদত’ নামক একটি পোর্টাল চালু করেছে। আপনারা এর মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনও স্থানে বসবাসকারী ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন, পাশাপাশি বিশ্বের যে কোনও প্রান্ত থেকে ভারতীয়রা ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।

সম্প্রতি ভারতের আরেকটি পরিচয় গড়ে উঠেছে। সেটি হল – কূটনীতিতে মানবিক মুখ। বিশ্বের যে কোনও স্থানে ভারতীয়রা সঙ্কটগ্রস্ত হলে ভারত সরকার দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে সক্ষম হচ্ছে। ইয়েমান থেকে যেভাবে কয়েক হাজার ভারতীয়কে আমরা উদ্ধার করতে পেরেছি, বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে দু-একটি ভারতীয় পরিবারও যদি থাকেন, তাঁদের সঙ্কটে আমাদের বিদেশ মন্ত্রী সুষমাজী এবং তাঁর গোটা দল তৎক্ষণাৎ ঝাঁপিয়ে পড়েন। সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে কূটনীতির ক্ষেত্রে যতটা অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তার থেকেও বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, সেদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে। সেজন্যই এই ‘মদত’ পোর্টাল চালু করা হয়েছে।

আরেকটি ব্যবস্থা আমরা গড়ে তুলেছি, সেটি হল – ‘ই-মাইগ্রেট’ এর মাধ্যমে কর্মী ও চাকরিদাতা সংস্থার সঙ্গে ভারত সরকারের যোগাযোগ বৃদ্ধি করে ভারতীয়রা যাতে কোনও বিদেশি ব্যক্তি বা সংস্থার দ্বারা যাতে প্রতারিত না হন, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতেই এই রিয়াধ এবং জেড্ডায় ‘ওয়ার্কার্স রিসোর্স সেন্টার’ গড়ে তুলে ইমিগ্রেন্টদের রেগুলারাইজ করার ব্যবস্থা করা হবে। দ্বিতীয়ত, একটি ২৪X৭ হেল্পলাইন কলসেন্টার স্থাপন করা হবে। এই কল সেন্টার নিঃশুল্ক পরিষেবা দেবে এবং এতে বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে, যাতে আপনারা নিঃসঙ্কোচে নিজেদের সমস্যার কথা বলতে পারেন।

আমি সবসময়ে নিজেকে দেশের কাজে নিয়োজিত রাখি। সেজন্য ভারত সরকারের যে কেউ সরাসরি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন, mygov.in-এর মাধ্যমে সরাসরি আপনাদের অভাব-অভিযোগের কথা আমাকে জানাতে পারেন। তেমনই আপনারা যদি নিজেদের মোবাইল ফোনে নরেন্দ্র মোদী অ্যাপ ডাউনলোড করে নেন, তা হলে আমি সবসময়ে আপনাদের পকেটে থাকবো। আপনাদের প্রধানমন্ত্রী আপনাদের পকেটে – এরচেয়ে বেশি কী চান? আশা করি, এর মাধ্যমে আপনাদের সঙ্গে আমার সম্পর্কে দীর্ঘস্থায়ী হবে।

আজ ভারতে যেভাবে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হচ্ছে, তা বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। আজ বিশ্ব ভারত’কে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছে। এখনে আপনারা যখন নিজেদের ভারতীয় বলে পরিচয় দেন, তখন কিরকম প্রতিক্রিয়া দেখেন? নিশ্চয়ই তাঁরা খুব খুশি হন। একবার তাঁরা আপনার হাত ধরলে আর ছাড়তে চান না, তাই না? গোটা বিশ্বে এখন প্রতিভাবান, আধুনিক প্রযুক্তি প্রশিক্ষিত মানবসম্পদের তীব্র চাহিদা রয়েছে। এই পরিচয় ও চাহিদা-ই ভারতের শক্তি।

আপনাদের সবাইকে আমার অনেক অনেক শুভেচ্ছা। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনাদের মাধ্যমে ভারতের সুনাম বৃদ্ধি হবে। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

PG/SB/SB/S