পিএমইন্ডিয়া
প্রশ্ন :প্রিয় শ্রদ্ধেয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়, আমি তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদে সরকারি মহিলা ডিগ্রি কলেজে সাংবাদিকতা স্নাতক অন্তিম বর্ষের ছাত্রী। মহোদয়, আমরা গত পাঁচ বছরে শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক উদ্যোগ দেখতে পেয়েছি। আপনি কি শিক্ষাক্ষেত্রের এই উদ্যোগগুলি নিয়ে সন্তুষ্ট? আমাকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
উপস্থাপক :মাননীয়, আমরা গত পাঁচ বছরে শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক উদ্যোগ দেখেছি। আপনি কি শিক্ষাক্ষেত্রের এই উদ্যোগগুলি নিয়ে সন্তুষ্ট? অনুগ্রহ করে বলুন।
প্রধানমন্ত্রী :আপনার এই প্রশ্নের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আজ দেশের প্রায় আড়াই কোটি যুবক-যুবতীর সঙ্গে বার্তালাপের সৌভাগ্য হল। প্রযুক্তিকে ধন্যবাদ। প্রত্যেক জিনিসকে দু’ভাবে দেখা যায়। যেখানে প্রচেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে আমরা সঠিক পথে চলেছি। আমরা নির্ধারিত সময়-ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এগিয়ে চলেছি।শিক্ষার ক্ষেত্রে যে বিশ্বমান রয়েছে, আমরা তা অর্জন করতে চাই। সেজন্য আধুনিক ভারতে যে ধরণের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা উচিৎ, সরকার সে ধরণের প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। সারা ভারতে আইআইটি এবং আইআইএম-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলির বিস্তার ঘটছে। একইভাবে, আমরা দক্ষতা উন্নয়নের মতো বৃহৎ ক্ষেত্রটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। আজ উচ্চশিক্ষার জন্য আমাদের অনেক ছাত্রছাত্রী বিদেশে যেতে বাধ্য হয়। ফলে দেশের কোটি কোটি টাকা বিদেশে চলে যায়। আমরা দেশে এমন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যাতে আমাদের ছাত্রছাত্রীদের আর উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে হবে না। পরিবর্তে, বিদেশ থেকে ছাত্রছাত্রীদের আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আসতে হবে। এই স্বপ্ন নিয়ে আমরা কাজ করছি। বিগত সাড়ে চার বছরে অনেক কাজ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমি আত্মসন্তুষ্টিতে নিজের পিঠ চাপড়াতে চাই। আমার সন্তুষ্টি হয় স্বপ্নের জন্ম দিয়ে, নতুন নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করে এবং সেই লক্ষ্যসাধনের জন্য এগিয়ে যেতে পারলে আমার আনন্দ নিশ্চিন্তে ঘুমোনোর জন্য নয়, স্বপ্নগুলিকে বাস্তবায়নের জন্য। ধন্যবাদ।
উপস্থাপক : ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এখন উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে আসামের কটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী অনামিত্রা মহান্তা আপনাকে প্রশ্ন করতে চান।
প্রশ্ন : প্রিয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা শিক্ষা সহ দৈনন্দিন জীবনে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার প্রভূত ব্যবহার দেখতে পাচ্ছি। দেশ এবং জনগণের মধ্যে এর প্রভাবকে আপনি কিভাবে দেখেন? ধন্যবাদ।
উপস্থাপক : মাননীয়, শিক্ষা সহ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার প্রভূত ব্যবহারের ফলে দেশ এবং জনগণের মধ্যে কি প্রভাব পড়েছে বলে আপনি মনে করেন? অনুগ্রহ করে বলুন।
প্রধানমন্ত্রী : মানবসভ্যতা নিরন্তর বিকাশের পথে এগিয়ে চলে। প্রযুক্তি একটি বড় নিয়ন্ত্রক শক্তি। নতুন নতুন আবিষ্কার মানুষের জীবনকে প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত করার চেষ্টা করে। কিন্তু বিগত ৪০ বছরে বিশ্ব যে গতিতে পরিবর্তিত হয়েছে … তার পূর্ববর্তী ২০০-৩০০ বছর ধরে আবিষ্কার, প্রযুক্তি ও প্রয়োগ বিশ্বকে এই জায়গায় এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ফলে, বিগত ৪০-৫০ বছরে প্রযুক্তি মানবসভ্যতাকে একটি বিশেষ উচ্চতা প্রদান করেছে। সমুদ্রতল থেকে শুরু করে মহাকাশ, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে শুরু করে ডিজিটাল বিশ্ব – সকল ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবন মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আপনারা দেখেছেন, বান্দিপোরায় একটি বিপিও উদ্বোধন করা হয়েছে। কাশ্মীরে এটিই প্রথম বিপিও যা ডিজিটাল বিপ্লবের ফলেই সম্ভব হয়েছে। আমি যখন বিশ্ববাসীকে বলি যে আমাদের কাছে ১২০ কোটি মানুষের বিস্তারিত বিবরণের তথ্য রয়েছে, তখন সবাই আশ্চর্য হয়ে যায়। আমাদের এত সম্পদ; ডিজিটাল বিপ্লবের ফলে তা পরিমাপযোগ্য হয়ে উঠেছে। জন ধন-আধার-মোবাইল – এই তিনের সমাহারে ভারত সরকার এই সাফল্য পেয়েছে। এখন দেশের যে কোন সাধারণ মানুষকে সরকার যদি কোন অনুদান পাঠাতে চায়, তা তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। শিক্ষাক্ষেত্রেও এখন অসংখ্য বিষয়-নির্দিষ্ট অ্যাপ পাওয়া যায় এবং এর মধ্যে অনেকগুলিই বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়। সেজন্য নতুন প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীরা অ্যাপের মাধ্যমে হোমওয়ার্ক করতে পারছে। এভাবে চলতে থাকলে একটা সময় আসবে যখন দেশে টিউশন এবং কোচিং ক্লাসের রমরমা বন্ধ হয়ে যাবে। প্রশাসনের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেজন্য শুধুই শিক্ষা নয়, আমাদের সামগ্রিক জীবনযাপনে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে এরকম পরিস্থিতি দাঁড়িয়ে গেছে যে একে ছাড়া বাঁচতেই পারব না। সেজন্য আমাদের উচিৎ এটা দেখা যে কিভাবে অধিকাংশ মানুষের কল্যাণে এই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা যায়। ডিজিটাল বিপ্লব দূরশিক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দূর-দুরান্তের পাহাড়ি আরণ্যক পরিবেশে থেকেও দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা দূরশিক্ষার মাধ্যমে উৎকৃষ্ট শিক্ষা পেতে পারে। আমরা দেখছি যে নবীন প্রজন্মের অনেকেই আজকাল ভার্চ্যুয়াল ল্যাবের মাধ্যমে ছেলে-মেয়েদের পড়াচ্ছেন। এতে ছেলে-মেয়েদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। থ্রি-ডি প্রোজেকশনের ফলে ছাত্রছাত্রীরা যে কোন জিনিসকে অনেক ভালোভাবে বুঝতে পারছে। যেমন মনে করুন, শারীর শিক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের হৃদযন্ত্র কিভাবে কাজ করে সেটি মাস্টারমশাই যেভাবেই ব্যাখ্যা করুন না কেন, তার পাশাপাশি থ্রি-ডি প্রোজেকশনে যখন দেখানো হবে, ছাত্রছাত্রীরা অনেক ভালোভাবে বুঝতে পারবে। আমি যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, সরকারি প্রাথমিক স্কুলগুলিতে মধ্যাহ্নভোজন প্রকল্পের কি প্রভাব তা জানতে একটা ছোট সমীক্ষা করিয়েছিলাম। সেই সমীক্ষায় এটাও দেখা হচ্ছিল যে আমরা যদি ডিজিটাল স্মার্ট ক্লাসরুম চালু করি, তাহলে কি পার্থক্য আসবে। কয়েকটি স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুম ছিল। কিন্তু অন্য স্কুলগুলিতে তা ছিল না। তারা মধ্যাহ্নভোজনকেই অগ্রাধিকার দিয়েছিল। কিন্তু স্মার্ট ক্লাসরুম যে স্কুলগুলিতে ছিল, সেগুলিতেও মধ্যাহ্নভোজনের ব্যবস্থা ছিল। সমীক্ষা থেকে জানতে পারলাম যে, স্মার্ট ক্লাসরুমের আকর্ষণে ঐ স্কুলগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি অনেক বেশি এবং স্কুলছুটের সংখ্যা ন্যূনতম। আমাদের সমীক্ষকরা এও দেখেছেন যে বস্তির ছেলে-মেয়েরা স্মার্ট ক্লাসরুমে বসে পড়াশোনা করতে এত আনন্দ পায় যে তারা মধ্যাহ্নভোজনকেও ভুলে যেতে পারে। তাদেরকে ডেকে ডেকে খেতে নিয়ে যেতে হয়। এটা হল আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল প্রভাবের উদাহরণ। আমি নিশ্চিত যে আগামীদিনে বিশেষ করে, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই ডিজিটাল প্রভাব অনেক বড় ভূমিকা পালন করবে। ধন্যবাদ।
উপস্থাপক : মাননীয়, হরিয়ানার কুরুক্ষেত্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গৌরব আপনাকে কিছু জিজ্ঞাসা করতে চায়।
প্রশ্ন : মাননীয় মহোদয়, আমাদের দেশের দারিদ্র্য দেখে খুব কষ্ট হয়। আমরা দেখেছি যে আপনি এই দারিদ্র্য দূরীকরণে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। আপনি কি মনে করেন যে আমরা ভবিষ্যতে দারিদ্র্যমুক্ত ভারত গড়ে তুলতে পারব?
উপস্থাপক : মাননীয়, আমরা দেশে দারিদ্র্য দেখে খুব কষ্ট পাই। আপনি এই দারিদ্র্য দূরীকরণে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। আপনি কি মনে করেন যে ভারত ভবিষ্যতে দারিদ্র্যমুক্ত হবে? অনুগ্রহ করে বলুন।
প্রধানমন্ত্রী :দেশবাসী যদি ভেবে নেয় আমাদের দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হতে হবে, তাহলে বিশ্বের এমন কোন শক্তি নেই যারা আমাদের গরিব করে রাখতে পারবে। ১২৫ কোটি ভারতবাসীর এত সামর্থ্য রয়েছে যে আমরা যদি আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং মানবসম্পদকে যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারি, তাহলে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব নয়। বিগত সাড়ে চার বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আজকাল বিশ্বে দুটো বিষয় উঠে এসেছে। প্রথমটি হল, ভারত বিশ্বের দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়া বড় অর্থনীতির দেশগুলির মধ্যে সর্বাগ্রে। সেজন্য প্রত্যেক ভারতীয় গর্ববোধ করতে পারে। দ্বিতীয়টি হল, রাষ্ট্রসঙ্ঘ সহ সমস্ত আন্তর্জাতিক এজেন্সিগুলির মতে দ্রুতগতিতে দারিদ্র্য থেকে বাইরে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে ভারত এক নম্বরে। ফলে, আমাদের দেশে নব্য মধ্যবিত্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক্ষেত্রেও তাঁদের বক্তব্য যে ভারতে তপশিলি জনজাতি এবং সংখ্যালঘু মুসলমানদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষ সর্বাধিক দ্রুতগতিতে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসছে। মহাত্মা গান্ধী বলতেন, স্বাধীনতা এবং পরিচ্ছন্নতার মধ্যে আমাকে যদি একটিকে বেছে নিতে হয়, তাহলে আমি আগে পরিচ্ছন্নতাকে বেছে নেব। তিনি নিজের জীবদ্দশায় নানারকম পদক্ষেপ নিয়েছেন। স্বাধীনতা আন্দোলনের পাশাপাশি, পরিচ্ছন্নতার জন্যও আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আমরা যত দ্রুত এ ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে পারতাম, তা হয়নি। আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর লালকেল্লার প্রাকার থেকে প্রথম ভাষণে দেশবাসীকে অনুরোধ জানিয়েছিলাম স্বচ্ছ ভারত অভিযান শুরু করার জন্য। আপনাদের সকলের প্রচেষ্টায় আজ এই আন্দোলন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। জম্মু-কাশ্মীরের যে আধিকারিকরা আজ এখানে বসে রয়েছেন, তাঁরাই কিছুক্ষণ আগে অনন্তনাগে আমার হাত থেকে পরিচ্ছন্নতার কাজ করার জন্য পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁদের এই সাফল্যের জন্য ভারতবাসী অত্যন্ত গর্বিত। তাঁদের মতো আধিকারিক এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যটি উন্মুক্ত স্থানে শৌচকর্ম মুক্ত ঘোষিত হয়েছে। ২০১৪ সালে আমরা যখন কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব নিই, তখন দেশে গ্রামীণ পরিচ্ছন্নতা ৩৮ শতাংশ ছিল যা এখন ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এই সাফল্য শুধু সরকারের উদ্যোগেই হয়নি, দেশের মানুষ সঙ্কল্প নিয়ে এগিয়ে আসার ফলেই এই সাফল্য এসেছে। গরিবদের কথা ভেবে দেশে প্রায় অর্ধ শতাব্দী পূর্বেই ব্যাঙ্কগুলির রাষ্ট্রীয়করণ হয়েছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল এই যে ব্যাঙ্কগুলিতে গরিবদের কোন অ্যাকাউন্ট ছিল না। আমরা এই বৈষম্য দূর করার জন্য জন ধন অ্যাকাউন্ট খোলার উদ্যোগ নিয়েছি। ২০১৪ সালে যেখানে দেশের ৪০ শতাংশ জনগণের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল, আজ তা বেড়ে প্রায় ১০০ শতাংশ হয়েছে। রাজ্যগুলির দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে মোট ২৫ থেকে ২৬ কোটি পরিবার রয়েছে। আমরা শাসন ক্ষমতায় আসার পর দেখলাম যে এর মধ্যে প্রায় ৪ কোটি পরিবারের বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। আমরা বিদ্যুৎ পৌঁছনোর অভিযান শুরু করি আর অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলতে পারি যে আজকের দিনে জম্মু-কাশ্মীরে এই অভিযান ১০০ শতাংশ সফল হয়েছে। তার মানে, আমাদের দেশবাসী যদি ঠিক করে একটা সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, তাহলে সেটা করা সম্ভব। জম্মু-কাশ্মীর সেটা প্রমাণ করে দেখিয়েছে। কাজেই, দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে হলেও দেশবাসীকে এমনি সঙ্কল্প নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ভোটের আগে মিষ্টি বিতরণ করলে হবে না। গরিবদের ক্ষমতায়নের দিকে নিয়ে যেতে হবে। তাঁদের মনে দারিদ্র্য থেকে উত্তরণের মেজাজ গড়ে তুলতে হবে। এই আবহ গড়ে তোলার সপক্ষে আমরা শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছি। শিক্ষায় বিপ্লব আনার পাশাপাশি, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে গরিব মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং চিকিৎসা সুনিশ্চিত করার পথে সফল পদক্ষেপ নিয়েছি। আমার বাবা-মা দারিদ্র্যে জীবনযাপন করেছেন। আমি নিজের সন্তানদের দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হতে বাধ্য করব না। এই প্রত্যয় এখন চতুর্দিকে জেগে উঠছে। আর এই প্রত্যয়ই দ্রুতগতিতে দেশকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেবে। আর সেদিন দূরে নেই, আমরা জীবিতাবস্থাতেই দেখে যাব যে ভারত দারিদ্র্য মুক্ত হয়েছে। ধন্যবাদ।
উপস্থাপক : ধন্যবাদ মাননীয়, দেশে এই পরিবর্তনের আবহ দেখে আজকের যুবসম্প্রদায় অত্যন্ত উৎসাহিত। ওড়িশার উৎকল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অঙ্কিতা আপনাকে কিছু বলতে চান।
প্রশ্ন : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়, আমাদের রাজ্যে অনেক ঐতিহ্যশালী পর্যটনস্থল এবং অসাধারণ সমুদ্র সৈকত রয়েছে। আমি নিজের রাজ্যে পর্যটন শিল্পকে উন্নত করার জন্য কিছু করতে চাই। কিন্তু বুঝতে পারি না যে কি করব। শিক্ষাকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করে আমরা কিভাবে ওড়িশার জন্য কিছু করতে পারি?
প্রধানমন্ত্রী : আপনি যে জীবনে সত্যিকারের শিক্ষা পাচ্ছেন, তা প্রমাণিত। সেজন্য আপনাকে শুভেচ্ছা জানাই। আপনি নিজের রাজ্যের সামর্থ্য সম্পর্কে অবহিত। আর তাকে কিভাবে বিকাশিত করা যায় তা নিয়ে ভাবছেন। আপনার এই প্রশ্ন শুনে শ্রীনগরবাসীরা হয়তো অবাক হচ্ছেন। এটা ঠিক যে আমাদের দেশে পর্যটনের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু দেশ এ সম্পর্কে বরাবরই উদাসীন। পর্যটনের প্রথম শর্ত হল আমাদের যা আছে তা নিয়ে গর্ব করতে শিখতে হবে। অথচ আমরা হতাশায় ভুগি, নিজেদের সবকিছুকে ফালতু ভাবি। আমরা নিজেরাই যদি নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নিয়ে গর্ব না করি, তাহলে বিশ্ববাসীকে কিভাবে তা দেখতে আমন্ত্রণ জানাব? বিশ্বে যেখানেই পর্যটন শিল্প উন্নত হয়েছে, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্থানীয় মানুষের গর্বের কারণে সম্ভব হয়েছে। গাইড পর্যটককে নিয়ে একটি পুরনো থামের কাছে গিয়ে বলবেন যে এই থামটির জন্য এই গ্রামবাসী গর্বিত এবং এর ইতিহাস শোনাবেন। পর্যটকদের তখনই মনে হবে যে তাঁর টাকা নষ্ট হয়নি। আপনারা শুনলে খুশি হবেন যে আমরা বিগত সাড়ে চার বছরে পর্যটন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতিসাধন করতে পেরেছি। অদূর ভবিষ্যতেই ভারত পর্যটন ব্যবসায় ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠতে চলেছে। আমার মনে পড়ে একবার আমেরিকা সরকারের নিমন্ত্রণে সে দেশে গিয়েছিলাম। তাঁরা জিজ্ঞাসা করেছিল, আপনার রুচি কি? আমি লিখে জানিয়েছিলাম যে আপনাদের দেশের একটি চাষের ক্ষেত্রে সফল গ্রাম ঘুরে দেখতে চাই। আমার দ্বিতীয় আবদার ছিল যে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের স্কুল দেখতে চাই। তৃতীয় ছিল, একটি ছোট্ট গ্রামের স্বাস্থ্য পরিষেবা দেখতে চাই। আর চতুর্থ ছিল, সে দেশের সবথেকে পুরনো ঐতিহ্যসম্পন্ন বস্তুটি দেখা যার জন্য আমেরিকা গর্ব করে। আমাদের দেশে যে কোন গলিতে গেলে কেউ বলবে যে এই জিনিসটা ২০০০ বছর পুরনো আর ঐটি ৩০০০ বছর পুরনো। এই সম্পদকে আমাদের কর্মসংস্থানের দৃষ্টি থেকে দেখা উচিৎ। ওড়িশার সমুদ্র সৈকত, ঐতিহাসিক ও ধার্মিক স্থাপত্য ওড়িশার বড় সম্পদ। কাজেই পর্যটনকে ঘিরে কর্মসংস্থানের ভাবনা অত্যন্ত ইতিবাচক। আগে দেশে বছরে প্রায় ৭০ হাজার পর্যটক আসতেন। কিন্তু আমাদের উদ্যোগে গত বছর প্রায় ১ কোটি পর্যটক এসেছেন। ২০১৪-র আগে পর্যটন থেকে বছরে গড়ে ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি মুদ্রা আয় হত। গত এক বছরে তা গড়ে ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। এই বৃদ্ধির ফলে ভারতের প্রতি বিশ্বব্যাপী আকর্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে আপনার মতো নবীন প্রজন্মের মানুষেরা অনেক বড় ব্যবসা শুরু করতে পারে। উবের-এর মতো ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেন, হোম-স্টে-র মতো ব্যবস্থা চালু করতে পারেন। এসব ক্ষেত্রে বিশ্বের আধুনিকতম ব্যবস্থাগুলি সম্পর্কে জেনে সেগুলি নিজের রাজ্য তথা দেশে চালু করতে পারেন। সম্প্রতি বেনারসে আমরা প্রবাসী ভারতীয় দিবস উপলক্ষে বিদেশ থেকে প্রবাসী ভারতীয়দের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। কাশীর সাংসদ হিসেবে নিজে উদ্যোগ নিয়েছিলাম। ফলে, ইতিমধ্যেই কাশী ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে হোম-স্টে এবং আধুনিক যাতায়াত ব্যবস্থার যে পরিকাঠামো গড়ে উঠেছে তা অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পকে অনেক উন্নত করবে। আপনারাও ওড়িশার জন্য এরকম কিছু উদ্যোগ নিলে সেখানকার নবীন প্রজন্ম উপকৃত হবে।
উপস্থাপক: ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আপনি গুজরাটের মানুষ। এখন গুজরাটের অ্যামেন কলেজ থেকে বিজয় কুমার আপনার কাছে কিছু জানতে চান।
প্রশ্ন: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়, নতুন বাজেট পেশ করার পর থেকে কৃষকদের স্বার্থে যে নতুন প্রকল্পগুলি চালু হয়েছে সেগুলি সম্পর্কে অনেক শুনেছি। আপনি সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে একটি জনসভায় বলেছেন যে আগামী ১০ বছরে সরকার কৃষকদের স্বার্থে ৭ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকা খরচ করবে। আমার প্রশ্ন হল, সরকার এত টাকা কোথা থেকে আনবে? ধন্যবাদ।
প্রধানমন্ত্রী : আমার মনে হয় আপনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির সমর্থক খবরের কাগজ পড়েন। যদিও আপনি আমার প্রতিবেশী। আমার গ্রাম বডনগরে আর আপনি বিশনগরের বাসিন্দা। এটা ঠিক যে আপনার এলাকার কৃষকদের অনেক সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে, জলের সমস্যা। কিন্তু আমাদের দেশে সম্পদের কোন অভাব নেই। দুর্ভাগ্যবশতঃ দেশের একজন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে সরকার ১ টাকা দিলে সাধারণ মানুষের কাছে ১৫ পয়সা পৌঁছয়। আমরা এসে এখন জনগণের হাতে ১০০ পয়সাই পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করেছি। সরকার যখন প্রতিটি পয়সার সঠিক ব্যবহার করে তখন করদাতারাও সততার সঙ্গে কর দিতে দ্বিধা করেন না। আমি যখন সম্পন্ন দেশবাসীদের রান্নার গ্যাসে ভর্তুকি ত্যাগ করতে আবেদন জানিয়েছিলাম, সেজন্য আইন প্রণয়ন করিনি কিন্তু নিজে থেকেই ১ কোটি ২৫ লক্ষ পরিবার ভর্তুকি ত্যাগ করেন। ফলস্বরূপ, সমসংখ্যক গরিব পরিবারে আমরা বিনামূল্যে রান্নার গ্যাস পৌঁছে দিতে পারি। তেমনই, আমার অনুরোধে দেশের ৪২ লক্ষ বয়স্ক নাগরিক রেল যাত্রায় ভর্তুকি ত্যাগ করেছেন। সেখান থেকেও অনেক অর্থ সাশ্রয় হয়েছে। এভাবেই দেশে সততার আবহ গড়ে তুলে আমরা দ্রুত ৫ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দিকে এগিয়ে চলেছি। আরেকটি রহস্য আমি আপনাদের সামনে উন্মোচন করছি। ডঃ মনমোহন সিং-এর আমলে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের দায়িত্ব সামলাতেন যে মুখ্যসচিব, তিনি আপনার রাজ্যের বাসিন্দা। আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দেশকে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দেশ করে তোলার কথা ঘোষণা করলে তিনি অবাক হয়েছিলেন। কিন্তু আজ তা বাস্তবায়িত হতে চলেছে। দেশের সৎ করদাতাদের প্রদত্ত অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করেই আমরা এই অসম্ভবকে সম্ভব করছি। ১০ বছরে কৃষকদের যখন ৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে, তখন তাঁরা যে কোন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সক্ষম হবেন। এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই তাঁরা এগিয়ে চলেছেন। ধন্যবাদ।
উপস্থাপক : অনেক অনেক ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়। এখন অনেক ছাত্রছাত্রী এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাঁরা আপনাকে শুনছেন। প্রশ্নকর্তাদের উৎসাহিত করার জন্য এবং দেশকে নতুন আলোকবর্তিকা প্রদর্শনের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনি নিজেকে দেশের প্রধান সেবক হিসেবে মনে করে দেশের সেবায় আত্মোৎসর্গ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ : যে নবীনদের সঙ্গে আজ কথা বলার সৌভাগ্য হল, তাঁদের আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব আমার জন্য অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। আমি সবার আগে এই প্রশ্নকর্তা এবং এই কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়া সমস্ত নবীনদের কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের আরেকবার বলি যে এখানে শ্রীনগরে ভীষণ ঠান্ডা। রাত হতেই তা শূণ্যের নিচে নেমে যেতে পারে। তা সত্ত্বেও এখানে অনেক কাশ্মীরি ভাই-বোনেরা বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত রয়েছেন। এটাই কাশ্মীরের প্রাণশক্তি এবং কাশ্মীরিদের ইতিবাচক ভাবনাকে তুলে ধরছে।
মঞ্চে উপস্থিত জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যপাল শ্রদ্ধেয় সৎপাল মালিক মহোদয়, আমার মন্ত্রিসভার সদস্য ডঃ জিতেন্দ্র সিং এবং এখানে উপস্থিত প্রিয় ভাই ও বোনেরা।
বন্ধুগণ, প্রথমেই আমি শহীদ নাজির আহমেদ বানি সহ হাজারো বীরদের শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই যাঁরা দেশের নিরাপত্তা এবং শান্তি বজায় রাখার জন্য আত্মবলিদান দিয়েছেন। শহীদ নজির আহমেদ বানিকে তাঁর অদম্য সাহস ও শৌর্যের জন্য রাষ্ট্র কৃতজ্ঞতার সঙ্গে অশোক চক্র দ্বারা সম্মানিত করেছে। তাঁর মতো যুবকরাই জম্মু-কাশ্মীর তথা দেশের যুবকদের রাষ্ট্রের জন্য আত্মোৎসর্গের পথ দেখান। আমি জম্মু-কাশ্মীরের লক্ষ লক্ষ নাগরিককে শুভেচ্ছা জানাই যাঁরা অনেক বছর পর গ্রাম পঞ্চায়েত এবং নগর পঞ্চায়েতের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। গণতন্ত্রের প্রতি আপনাদের এই নিষ্ঠা, ঘৃণা নিয়ে বেঁচে থাকা কতিপয় মানুষকে একটি বড় বার্তা দিয়েছে। আজ এখানে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত এবং নির্মীয়মান বেশ কিছু প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলান্যাসের সৌভাগ্য হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত এই প্রকল্পগুলি শ্রীনগর এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের জীবনকে অনেক সহজ করে তুলবে বলে আমার বিশ্বাস। সেজন্য আপনাদের সকলকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
আমাদের সরকার ঝাড়খণ্ড থেকে আয়ুষ্মান ভারত যোজনার সূত্রপাত করেছে। উত্তরপ্রদেশ থেকে উজ্জ্বলা যোজনা চালু করেছে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনা এবং প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি যোজনার সূত্রপাত করেছে, তামিলনাড়ু থেকে তাঁতশিল্প সংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় অভিযান শুরু করেছে। হরিয়ানা থেকে ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ আন্দোলনের সূত্রপাত করেছে, আর রাজস্থান থেকে শুরু করেছে পোষণ অভিযান।
আজ গোটা দেশের জন্য এই শ্রীনগরের মাটি থেকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি আমরা চালু করতে যাচ্ছি। সেটি হল, ‘রাষ্ট্রীয় উচ্চশিক্ষা অভিযান’ বা রুসার দ্বিতীয় সংস্করণের সূত্রপাত। এখান থেকেই সারা দেশে ৭০টি মডেল ডিগ্রি কলেজ, ১১টি পেশাদার কলেজ, একটি মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৬০টিরও বেশি আন্ত্রেপ্রেনিউর, উদ্ভাবন এবং কেরিয়ার হাব-এর উদ্বোধন কিংবা শিলান্যাস করা হচ্ছে। এর মধ্যে জম্মু-কাশ্মীরের জন্য অনেক ক’টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
বন্ধুগণ, এভাবেই নতুন ভারতের জন্য গবেষণা, উদ্ভাবন, ইনকিউবেশন এবং স্টার্ট-আপ-এর জন্য একটি নতুন মেজাজ গড়ে তোলা হচ্ছে। সারা দেশের বিদ্যালয়গুলিতে গড়ে তোলা হচ্ছে অটল টিঙ্কারিং ল্যাব্স এবং অটল ইনকিউবেশন সেন্টার। এভাবে আমাদের ‘জয় জওয়ান, জয় কিষাণ, জয় বিজ্ঞান এবং জয় অনুসন্ধান’-এর সঙ্কল্পকে বাস্তবায়নের জন্য আমরা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছি। এর সাক্ষী রইল শ্রীনগর তথা জম্মু ও কাশ্মীর।
বন্ধুগণ, আমরা স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়া আন্দোলন গড়ে তোলার ফলে আজ ভারত চিন এবং আমেরিকার পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্ট-আপ দেশে পরিণত হয়েছে। বিগত চার বছরে ১৫ হাজারেরও বেশি স্টার্ট-আপ সফলভাবে কাজ করে চলেছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ টিয়ার-১ এবং টিয়ার-২ শহরে গড়ে উঠেছে।
বন্ধুগণ, স্টার্ট-আপের পাশাপাশি দেশের গ্রামাঞ্চলে আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তারকে আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি। আজ সারা দেশে স্থাপিত ৩ লক্ষেরও বেশি কমন সার্ভিস সেন্টার গ্রামে গ্রামে ডিজিটাল পরিষেবা প্রদান করছে। লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত করছে। আজ বান্দিপোরায় রাজ্যের প্রথম বিপিও উন্মোচিত হওয়ায় স্থানীয় যুবক-যুবতীদের জন্য অনেক নতুন সুযোগ এসেছে।
ভাই ও বোনেরা, আজ যতগুলি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলান্যাসের সৌভাগ্য আমার হয়েছে, সেগুলি দেশের এমন জেলাগুলিতে চালু হচ্ছে যারা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। রুসা’র দ্বিতীয় পর্যায়ে দেশের ৩৭৫টিরও বেশি জেলায় উৎকৃষ্ট শিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে। এটি সুযোগের সাম্যের লক্ষ্যে আরেকটি বড় পদক্ষেপ। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই সকল জেলার যুবক-যুবতীদের যখন নিজের বাড়ির পাশেই কর্মসংস্থান হবে, তখন তাঁদের মেধার বিকাশ সর্বাধিক হবে, নিজেদের দক্ষতাকে শান দিতে পারবেন।
বন্ধুগণ, ‘নতুন ভারত’-এর আত্মবিশ্বাসের উজ্জ্বল উদাহরণ হল জম্মু-কাশ্মীরের নয় বছর বয়সী কন্যা তজামুল ইসলামের মতো অনেক নবীন বন্ধু যাঁরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নতুন কিছু করার জন্য এগিয়ে আসছেন। এই নবীন সাথীদের উৎসাহ-উদ্দীপনাকে কেন্দ্রীয় সরকার আরও ডানা মেলতে দিতে চায়। সেজন্য ‘খেলো ইন্ডিয়া অভিযান’-এর মাধ্যমে সারা দেশে একটি মেধা অন্বেষণ কর্মসূচি চালু হয়েছে। ছোট ছোট শহর ও শহরতলীতে খেলাধূলার উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এখানে জম্মু-কাশ্মীরের ২২টি জেলাতেও মাল্টিপারপাস স্পোর্টস হল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। আজও গান্দরবলে তেমনই একটি ইন্ডোর স্টেডিয়াম উদ্বোধন করা হয়েছে।
বন্ধুগণ, বিগত ৭-৮ মাসে জম্মু-কাশ্মীরে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও এখানকার সাধারণ মানুষের জীবনকে সহজ করে তোলার জন্য কাজ করে চলেছে। আমাকে বলা হয়েছে যে এখানে ১০-২০ বছর ধরে আটকে থাকা এমন অনেক প্রকল্প বিগত কয়েক বছরে সম্পূর্ণ করেছেন। যেমন বারামুলার সেতু কিংবা বিগত দু’মাসে কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রীর ডাক্তারি পড়ার ব্যবস্থা। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে আপনারা নির্ধারিত সময়ের আগেই জম্মু-কাশ্মীরকে উন্মুক্ত স্থানে শৌচকর্মমুক্ত করে তুলতে পেরেছেন। সেজন্য আপনাদের শুভেচ্ছা জানাই। এখন আপনারা জম্মু ও কাশ্মীরকে দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে প্রত্যেক গ্রামে নলের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহ সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন।
বন্ধুগণ, আমাদের সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে লক্ষ্যসাধনের জন্য সৎ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। ২০১৪ সালে আমি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর জানতে পারি যে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সাত দশক পেরিয়ে গেলেও ১৮ হাজার গ্রামের মানুষ অষ্টাদশ শতাব্দীর মতো অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যেতেন। সেজন্য লালকেল্লার প্রাকার থেকে প্রদত্ত প্রথম ভাষণে আমি এক হাজার দিনের মধ্যে ঐ ১৮ হাজার গ্রামে বিদ্যুৎ পৌছে দেওয়ার কথা ঘোষণা করি। কেন্দ্রীয় সরকার ঐ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই সেই লক্ষ্যসাধনে সফল হয়। তারপর আমরা ‘সৌভাগ্য’ যোজনার মাধ্যমে দেশের প্রত্যেক পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযানে নামি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই আড়াই কোটি বাড়িতে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান সম্ভব হয়েছে। বাকি পরিবারগুলিতেও অদূর ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে এই অভিযানের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীরের প্রায় প্রত্যেক পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগসাধন সম্ভব হয়েছে। সেজন্য আমি রাজ্যের প্রত্যেক ইঞ্জিনিয়ার এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের এবং আপনাদের সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। রাজ্য সরকারের পুরো টিমকে শুভেচ্ছা জানাই।
বন্ধুগণ, জম্মু-কাশ্মীরের প্রত্যেক বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছনোর পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রচেষ্টা চলছে। লেহ্, লাদাখ ও জম্মু হয়ে এখন শ্রীনগরে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সরবরাহের বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধন কিংবা শিলান্যাসের সৌভাগ্য হয়েছে। স্বাধীনতার পর প্রথমবার এখানকার বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী এত ব্যাপক স্তরে কাজ হচ্ছে। আগে ভারতের জন্য ধার্য জল আমরা ধরতে না পারায় প্রবাহিত হয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে চলে যেত। আমরা তার প্রতিটি বিন্দুকে কাজে লাগিয়ে পানীয় জল, সেচ এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করার লক্ষ্যে অনেকগুলি প্রকল্পের কাজ শুরু করেছি।
বন্ধুগণ, সারা দেশে এরকম অসংখ্য প্রকল্পের মাধ্যমে পরিকাঠামো নির্মাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে সড়কপথ, রেলপথ, বিদ্যুৎ, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের মৌলিক পরিষেবা গড়ে তোলার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। জম্মু-কাশ্মীরে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো সুদৃঢ় করতে আজই জম্মু এবং পুলওয়ামায় নির্মীয়মান দুটি এইম্স হাসপাতালের শিলান্যাস করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। ফলে, রাজ্যে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই অনেক বড় পরিবর্তন এসেছে বলে আমি মনে করি। পাশাপাশি দেশের ইতিহাসে প্রথমবার গরিবদের জন্য ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে গরিব মানুষেরা প্রতি বছর পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচের চিকিৎসা বিনামূল্যে করাতে পারবেন। দেশের প্রায় ৫০ কোটি দরিদ্র মানুষ এর মাধ্যমে উপকৃত হবেন। এর মধ্যে ৩০ লক্ষ মানুষ হল জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দা।
বন্ধুগণ, এই প্রকল্পটির মাধ্যমে মাত্র ১০০ দিনের মধ্যেই দেশে ১০ লক্ষেরও বেশি গরিব মানুষের চিকিৎসা সম্ভব হয়েছে। এঁদের মধ্যে অনেকেই কঠিন রোগে আক্রান্ত এবং নিজেদের ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়ে মৃত্যুর জন্য দিন গুণছিলেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রোজ ১০ হাজার দরিদ্র ভাই-বোনেরা চিকিৎসার সুবিধা পাচ্ছেন। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোর মোট জনসংখ্যারও বেশি সংখ্যক মানুষ আমাদের ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’র আওতায় রয়েছেন। কল্পনা করতে পারেন – এটা কত বড় প্রকল্প!
বন্ধুগণ, ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর মতো প্রকল্প ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এরও উৎকৃষ্ট উদাহরণ। কারণ জম্মু ও কাশ্মীর কিংবা দেশের যে কোন রাজ্যের নাগরিক দেশের অন্য যে কোনও রাজ্যের যে কোনও পছন্দমতো হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পারবেন। প্রত্যেক সমস্যা ও প্রতিকূলতায় দেশের যে কোনও প্রান্তের মানুষ, অন্য প্রান্তের মানুষের পাশে দাঁড়াবেন, এটাই তো ভারতের সংস্কৃতি, এটাই কাশ্মীর তথা ভারতের ভাবনা!
বন্ধুরা, এই কাশ্মীরিয়তকে সম্বল করেই আমাদের কাশ্মীরী পণ্ডিতদের ভিন্ন রাজ্য থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে যাঁদেরকে একদিন হিংসার বলি হয়ে রাজ্য থেকে চলে যেতে হয়েছিল। তাঁদের বাড়ি, জমি এবং পূর্বপুরুষদের স্মৃতিকে ফিরিয়ে দিতে হবে, তাঁদের সসম্মানে ফিরিয়ে আনতে হবে। রাজ্য সরকার এজন্য বৈসু এবং সেফপুরাতে ট্যানজিট বাসস্থান গড়ে তোলার কাজ দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। আজ বান্দিপোরা এবং গান্দেরবালে এমনই দুটি ট্র্যানজিট আবাসের শিলান্যাসের সৌভাগ্য হয়েছে। এই প্রকল্পটিও প্রধানমন্ত্রী বিকাশ প্যাকেজের অন্তর্গত।
বন্ধুগণ, এখানে প্রায় ৭০০টি ফ্ল্যাট গড়ে উঠলে শরণার্থী পণ্ডিত পরিবারগুলির পুনর্বাসন হবে। যাঁরা সেখানে ফিরে আসতে আগ্রহী, সরকার তাদের সম্পূর্ণ সুরক্ষা ও সম্মানের সঙ্গে তাঁদের সেখানে থাকার ব্যবস্থা করবে। পাশাপাশি তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রেও সরকার দায়বদ্ধ। ২০১৫ সালে ঘোষিত পিএম ডেভেলপমেন্ট প্যাকেজের মাধ্যমে রাজ্য সরকার ৩ হাজার নিযুক্তিকে মঞ্জুর করে দিয়েছে। আমার বিশ্বাস, এখন নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে।
বন্ধুগণ, আগেই বলেছি যে কাশ্মীরের বীর শহীদ নাজীব আহমেদ বাণী, মহম্মদ ঔরংজেব এবং তজামুর হুসেনরা শান্তি স্থাপন ও দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে আত্মোৎসর্গ করেছেন। স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য যাঁরা বাঁচেন – তাঁরাই সত্যিকারের বীর। যারা অন্যের স্বপ্নকে হত্যা করে, তারা কাপুরুষ!
আজ গোটা দেশ নির্দোষ, নিরস্ত্র কাশ্মীরি যুবক-যুবতীদের হত্যা দেখে ক্ষুব্ধ, কারণ যাঁরা শান্তিতে বাঁচতে চান, তাঁদেরকে জোর করে সন্ত্রাসবাদীদের আক্রমণের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এটাই কাশ্মীরের সন্ত্রাসবাদের সত্য। আমি আপনাদেরকে এবং সমগ্র দেশবাসীকে আশ্বস্ত করছি যে, পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করে সরকার এই সন্ত্রাসের মোকাবিলা করবে। সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মাধ্যমে ভারত গোটা বিশ্বকে জানিয়েছে যে এখন ভারত নতুন রীতিনীতি ও আদর্শ নিয়ে এগিয়ে চলেছে।
আমাদের অগ্রাধিকার হল জম্মু ও কাশ্মীরের উন্নয়ন। আমি আরেকবার শিক্ষা সংক্রান্ত এতগুলি প্রকল্প ও পরিকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পগুলির জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, শ্রদ্ধেয় অটল বিহারী বাজপেয়ী যে স্বপ্ন দেখতেন, উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি আমাদের যে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, তা থেকে এক ইঞ্চিও পিছিয়ে যাব না। তাঁর স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করে দেখাবো। সেজন্য লাদাখ, শ্রীনগর, ও জম্মু অঞ্চলের প্রত্যেক নাগরিককে সঙ্গে নিয়ে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর মন্ত্র নিয়ে আমরা সমৃদ্ধ কাশ্মীর, শান্ত কাশ্মীর, সারা ভারত তথা বিশ্বের পর্যটকদের আমন্ত্রণ জানানোর ক্ষমতা রাখে যে কাশ্মীর তার সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা উপত্যকাগুলির স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আমরা সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।
এই রাজ্যের প্রত্যেক পরিবারের প্রতিটি শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারলে ভারতের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বলতর হবে। এই ওতপ্রোত সম্পর্ককে মাথায় রেখে আমরা সবাই মিলে এ অঞ্চলের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাব, এই বিশ্বাস নিয়ে আপনাদের সবাইকে হৃদয় থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।
ধন্যবাদ।
CG/SB/DM/
There are 2 realities today which make us proud.
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2019
India is the fastest growing large economy in the world.
According to studies, India is also reducing poverty at the fastest pace in the world: PM
अगर देश तय कर ले कि हमें गरीबी से मुक्त होना है, तो दुनिया की कोई ताकत हमें गरीब नहीं रख सकती है।
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2019
हमारे देशवासियों में इतना सामर्थ्य है कि अगर हमारे natural resources और human resources का अगर हम सही तरीके से प्लान करके आगे बढ़े तो गरीबी से मुक्ति पाना मुश्किल नहीं है: PM
2013 में भारत आने वाले विदेशी पर्यटकों की संख्या 70 लाख से भी कम थी, जो 2017 में बढ़कर 1 करोड़ हो गई।
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2019
2013 में foreign exchange earnings का आंकड़ा 18 बिलियन डॉलर था जो 4 साल में बढ़कर 27 बिलियन डॉलर हो गया। यानी करीब 50% की बढ़ोतरी: PM
Tourism की पहली शर्त होती है कि आपको अपनी चीज पर गर्व करना होता है।
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2019
Tourism दुनिया की सबसे तेज गति से आगे बढ़ने वाली अर्थव्यवस्था है।
Tourism कई सारे रोजगार के अवसर भी देता है और हमें tourism को और बढ़ावा देने की जरूरत है: PM
हमारे देश में संसाधनों की कोई कमीं नहीं है, पहले देश के प्रधानमंत्री ने कहा था दिल्ली से एक रुपया निकलता है और 15 पैसा पहुंचता है।
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2019
अब फायदा ये है कि दिल्ली से एक रुपया निकलता है और पूरा 100 पैसा नीचे तक पहुंचता है: PM
मुझे विश्वास है हम जो योजना किसानों के लिए लेकर आए हैं उससे हमारे देश का किसान एक आत्मविश्वास के साथ आगे बढ़ेगा।
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2019
मैं यह भी देख रहा हूं कि हमारा देश 5 ट्रिलियन डॉलर की अर्थव्यवस्था बन कर रहेगा: PM
आज जब मैं श्रीनगर आया हूं तब मैं शहीद नज़ीर अहमद वाणी सहित उन सैकड़ों वीरों को श्रद्धा सुमन अर्पित करता हूं, जिन्होंने शांति के लिए, राष्ट्र की रक्षा के लिए सर्वोच्च बलिदान दिया है: PM
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2019
शहीद नज़ीर अहमद वाणी को उनके इसी अदम्य साहस और वीरता के लिए कृतज्ञ राष्ट्र ने अशोक चक्र से सम्मानित किया है।
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2019
शहीद वाणी जैसे युवा ही, जम्मू कश्मीर और देश के हर नौजवान को देश के लिए जीने और देश के लिए समर्पित होने का रास्ता दिखाते हैं: PM
आज श्रीनगर देश की शिक्षा व्यवस्था से जुड़े एक बहुत बड़े कार्यक्रम की मेज़बानी कर रहा है।
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2019
आप ने नोटिस किया होगा कि 4 साढ़े 4 वर्ष पहले जितने भी बड़े कार्यक्रम लॉन्च होते थे, तो वो सब कुछ दिल्ली में होता था।
लेकिन हमने पुरानी सरकारों की उस कार्य-संस्कृति को बदल दिया है: PM
हमारी सरकार ने
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2019
आयुष्मान भारत योजना की शुरुआत झारखंड से की,
उज्जवला योजना की शुरुआत यूपी से की,
प्रधानमंत्री सुरक्षा बीमा योजना की शुरुआत पश्चिम बंगाल से की,
हैंडलूम से जुड़े अभियान की शुरुआत तमिलनाडु से की,
बेटी बचाओ-बेटी पढ़ाओ की शुरुआत हरियाणा से की: PM
पोषण अभियान की शुरुआत राजस्थान से की,
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2019
और अब आज पूरे देश से जुड़े एक महत्वपूर्ण कार्यक्रम के लिए हम सभी श्रीनगर में हैं।
आज यहां राष्ट्रीय उच्चतर शिक्षा अभियान यानि रूसा के दूसरे फेज़ से जुड़े प्रोजेक्ट्स की शुरुआत की गई है: PM
इनोवेशन, इन्क्युबेशन और स्टार्ट अप्स के लिए एक नया टेंपरामेंट देश में विकसित किया जा रहा है।
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2019
देशभर के स्कूलों में बन रही अटल टिंकरिंग लैब्स हों, अटल इन्क्युबेशन सेंटर्स हों,
जय जवान,
जय किसान,
जय विज्ञान और
जय अनुसंधान का हमारा संकल्प आज और सशक्त हो रहा है: PM
यहां के सामान्य मानवी का जीवन आसान हो इसके लिए यहां प्रशासन जुटा हुआ है।
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2019
मुझे बताया गया है कि अनेक प्रोजेक्ट्स जो 10-20 साल से अटके हुए थे, वो अब पूरे कर लिए गए हैं।
बीते 2 महीने में सैकड़ों डॉक्टरों की भर्ती हो, या बारामुला का पुल हो, ऐसे अनेक प्रोजेक्ट पूरे किए गए हैं: PM
जम्मू कश्मीर में हर घर तक बिजली पहुंचाने के साथ-साथ, पर्याप्त बिजली देने की कोशिश भी की जा रही है।
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2019
लेह-लदाख-करगिल हो,
जम्मू हो या फिर श्रीनगर,
तीनों जगहों पर आज बिजली उत्पादन और ट्रांसमिशन से जुड़े अनेक बड़े प्रोजेक्ट्स का लोकार्पण और शिलान्यास किया है: PM