পিএমইন্ডিয়া
বোল মেরী মাঁ – জয় জয় ঊমিয়া
বোল মেরী মাঁ – জয় জয় ঊমিয়া
বোল মেরী মাঁ – জয় জয় ঊমিয়া
আজ মহাশিবরাত্রি,
হর হর মহাদেব
বিপুল সংখ্যায় আগত মাঁ ঊমিয়ার সকল ভক্তবৃন্দ,
আজ যখন আমরা ঊমিয়াধামে এসেছি, শক্তির উপাসনায় নিজেদের সমর্পণ করতে, আগে আগে তিনবার জয়কার দেব, তারপর নিজের কথা বলব। ভারতমাতার নামে তিনবার জয়কার দেব।
পরাক্রমী ভারতের জন্য ভারতমাতার জয়
বিজয়ী ভারতের জন্য ভারতমাতার জয়
বীর জওয়ানদের জন্য ভারতমাতার জয়
আমি সবার আগে এই মন্দিরের ট্রাস্টিদের কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানাই। তাঁরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব নিয়েছেন। আমাদের দেশে এক ধরণের মানুষ আছেন, যাঁরা সমস্ত ধার্মিক প্রবৃত্তিকে ভণ্ডামী বলে ভাবেন। তারা মনে করেন, এইসব ধার্মিক প্রবৃত্তি সকলের ভালো করবে না, কারও কারও ভালো হবে। তাদের অজ্ঞানতার জন্য আমার করুণা হয়।
আমাদের দেশের হাজার হাজার বছরের ইতিহাস দেশের মুনি-ঋষি-আচার্য-ভগবন্ত-গুরুজন-শিক্ষক-বৈজ্ঞানিক ও কৃষকরা নিজ নিজ অবদানের মাধ্যমে গড়ে তুলেছে। এই সকল চালিকাশক্তির প্রাণভোমরা ছিল আমাদের আধ্যাত্মিক পরম্পরা। পরাধীনতার দীর্ঘ কালখন্ডেও ১,০০০ – ১,২০০ বছর ধরে ভারতের প্রত্যেক প্রান্তের শিক্ষিত মানুষেরা দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরম্পরাকে সঞ্জীবিত রাখতে লড়াই করেছেন, আত্মবলি দিয়েছেন। এ কেমন প্রেরণা, যা দেশের আধ্যাত্মিক চেতনা ও ঐতিহ্যের মাধ্যমে সমাজ জীবনকে সঞ্চালিত করে। আর একটি আধ্যাত্মিক ব্যবস্থা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে সঞ্চারিত হয়।
আমাদের এই আধ্যাত্মিক ব্যবস্থা ও পরম্পরাকেই আমাদের সামাজিক চেতনার মূল প্রাণশক্তি। আর তার মাধ্যমে সামাজিক জীবনে সময়ানুকূল পরিবর্তনও এসেছে। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বিস্মৃত ও কালবাহ্য হয়ে যায়, শুধু কিছু আচার – ব্যবহার থেকে যায়। আধ্যাত্মিক ব্যবস্থাকে সঠিকভাবে বুঝতে হলে সেই আচার – আচরণের পর্দা সরিয়ে চেতনার আত্মাকে খুঁজতে হবে। তখনই এর শেকড়কে অনুভব করা যাবে। অনেকেই জানেন না যে, তিন বছর পর পর ছোট কুম্ভ হয় আর ১২ বছর পর পর বড় কুম্ভ কেন হয়? ভারতে সাংস্কৃতিক ঐক্যের গুরুত্ব অপরিসীম। এই সমাগম দেশের মানুষকে যতটা আধ্যাত্মিক প্রেরণা যোগায়, ততটাই সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের অংশ হয়ে ওঠে। আগেকার দিনে আমাদের দেশে যেরকম গণতান্ত্রিক কাঠামো ছিল, তখনকার আধ্যাত্মিক নেতা, সমাজ সংস্কারক ও জ্ঞানী তপস্যীরা তিন বছর ধরে প্রব্রজ্যার মাধ্যমে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করতেন এবং সমাজ জীবনে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতেন, সেগুলির সমাধান তাঁরা কিভাবে করেছেন, সেই সমস্ত বিষয় নিয়ে তাঁরা প্রত্যেক অর্ধ কুম্ভে ৪০ – ৪৫ দিন ধরে একসঙ্গে বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ভারতের কোথায় কোন্ প্রান্তে কী চলছে, সে বিষয়ে সবাইকে অবগত করা হ’ত। আর সেই আলোচনা থেকে যা কিছু ভালো, সেগুলির ভিত্তিতে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হতেন, সেই বার্তা নিয়ে সবাই ফিরে যেতেন। আর ১২ বছরে একবার এই পুরো সময়ের মধ্যে যে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলির প্রয়োগ কোথায় কতটা সফল হয়েছে, আর কোথায় ব্যর্থ হয়েছে, তা নিয়ে পর্যালোচনা করতেন। সমাজে আর কী পরিবর্তনের প্রয়োজন, তা যথাযথ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হ’ত। সেখানে সামাজিক, ধার্মিক এবং রাজা-মহারাজাদের মতো রাজনৈতিক নেতারাও সামিল হতেন। তাঁরা স্ব-স্ব ক্ষেত্রে সেসব সিদ্ধান্ত মেনে চলতেন।
এবারে প্রয়াগরাজে যে অর্ধ কুম্ভ হয়েছে, সেখানে স্বচ্ছাগ্রহীদের তৎপরতা এবার সারা পৃথিবীর প্রশংসা কুড়িয়েছে। যে স্থানে বিগত ৫ – ৬ সপ্তাহ ধরে ২০ – ২২ কোটি মানুষ পুণ্য স্নান করেছেন, সেখানকার অস্থায়ী ব্যবস্থাY পরিচ্ছন্ন রাখার বড় দায়িত্ব তাঁরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। এই স্বচ্ছাগ্রহের প্রেরণা আধ্যাত্মিক চেতনা থেকেই উদ্ভূত।
রাষ্ট্রপিতা মহাত্মা গান্ধী প্রায় ১০০ বছর আগে হরিদ্বারে কুম্ভমেলায় গিয়ে স্বচ্ছ কুম্ভ দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। গান্ধীজীর ১৫০তম জন্মজয়ন্তী বর্ষে প্রয়াগরাজে স্বচ্ছ কুম্ভ সম্পন্ন করে আমরা তাঁর প্রতি শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেছি। স্বাধীনতার পর এতদিন আমাদের দেশে রাষ্ট্র পুনর্নিমাণে আধ্যাত্মিক শক্তির অনাদর, উপেক্ষা কিংবা আধ্যাত্মিক চেতনা সম্পর্কে শীতল সংবেদনশীলতার ফলে দেশের কোটি কোটি মানুষের শক্তি ও শ্রদ্ধাকে রাষ্ট্র নির্মাণে প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে শাসন ক্ষমতায় থাকা মানুষেরা পিছিয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু সৌভাগ্যবশত, আজ সমাজের অভ্যন্তরীণ আধ্যাত্মিক বযবস্থা আরেকবার জেগে উঠছে। ভারতের যে কোনও প্রান্তে যান, এখন তা অনুভব করতে পারবেন। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেরণার পেছনে ভক্তিযুগের দর্শনের প্রভাব রয়েছে। এদেশে ভক্তিযুগে সাধু-সন্ন্যাসীরা অনেক সমাজ সংস্কার করেছেন। চৈতন্য মহাপ্রভূ থেকে শুরু করে রমণ মহর্ষী ভারতের নানা প্রান্তে সমাজের বিভিন্ন স্তরে আধ্যাত্মিক চেতনার সঞ্চর করতে পেরেছিলেন বলেই ১৮৫৭’র মহাবিদ্রোহের জন্ম নিয়েছিল।
আরেকবার দেশে আধ্যাত্মিক চেতনা জেগে উঠেছে। একে আমি কোনও জাতির শক্তি হিসাবে দেখছি না। একে আমি রাষ্ট্র পুনর্নির্মাণের ভিত্তি স্থাপনের উদ্যোগ হিসাবে দেখছি। সেজন্য আমি মা ঊমিয়ার চরণ বন্দনা করতে এসেছি।
এখন দেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এই সময়ে কোনও অসম্পূর্ণতা নিয়ে এগিয়ে চলা যাবে না। খুঁটিনাটি সমস্ত ত্রুটি দূর করে এগিয়ে যেতে হবে। সবকিছুকে বড় করে তুলতে হবে। এরকম মেজাজ না থাকলে আমরা সর্দার প্যাটেলের মূর্তিকে বিশ্বের সর্বোচ্চ মূর্তিতে পরিণত করতে পারতাম না! আমরা কেন একে বিশ্বের সর্বোচ্চ মূর্তিতে পরিণত করেছি, তাতে অনেকের সমস্যা হচ্ছে। আমরা কেন বুলেট ট্রেন চালু করতে যাচ্ছি, তাতেও অনেকের সমস্যা রয়েছে! আপনারাই বলুন আমাদের এগুলি করা উচিৎ কি উচিৎ না! আমাদের বীর জওয়ানরা যে পরাক্রমের পরিচয় দিচ্ছেন, তাঁকে কি আমাদের ছোট করে দেখা উচিৎ? বড় করে দেখতে হবে। তাঁদের শৌর্যকে সম্মান জানাতে হবে। ভারতের মেজাজ ও সাধারণ মানুষের মন বদলেছে। সেজন্যই আজ দেশ যে কোনও সংকল্প গ্রহণ করতে পারে এবং তা বাস্তবায়িত করতে পারে।
মা ঊমিয়ার চরণতলে এখানে যে আধ্যাত্মিক চেতনা আমাদের মধ্যে জেগে উঠেছে, যে আশীর্বাদ আমরা পেয়েছি, তার ভিত্তিতে সমাজকে পরিবর্তন করা আরও সহজ হবে। কেউ কি আগে ভাবতে পারতেন যে, গোটা বিশ্ব একদিন আমাদের পাশাপাশি নাকে হাত দিয়ে যোগাসনে বসবেন, আর নানা যোগ প্রক্রিয়া শেখার চেষ্টা করবেন। আজ বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে যান, যোগাভ্যাসের উৎসব চলছে। এই যোগাসন মোদী শেখায়নি, এটি তো আমাদের ঋষি-মুনিদের ঐতিহ্য। মোদী শুধু হিম্মত দেখিয়ে বিশ্বকে সঠিক পথ দেখিয়েছে আর বিশ্ববাসী এর সুফল অর্জন করতে লেগে পড়েছেন।
আজ যখন আমরা মা ঊমিয়ার চরণতলে বসে আছি, ছগনবাপার কথা মনে না করলে নিজেদেরই ছোট করব। আজকের এই সমস্ত কর্মকাণ্ডের পেছনে ছগনবাপার দূরদৃষ্টিকে স্বীকার করতেই হবে। তিনিই প্রথম কন্যাসন্তানদের শিক্ষার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ছগনবাপার শতাব্দী সমারোহে আমি বলেছিলাম যে এই মহাপুরুষ জানতেন যে, এই সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সহজ রাস্তা কোনটা। তিনি শিক্ষার পথ অবলম্বন করেছিলেন বলেই আজ এই পাটিদার সমাজ এত উন্নতি করেছে।
কিন্তু এখন একজন ছগনবাপা দিয়ে চলবে না। এখন হাজার হাজার ছগনবাপার প্রয়োজন রয়েছে, যাঁরা সমাজকে নতুন সামর্থ্য ও নতুন চেতনা দিয়ে নতুন পথে চালিত করার ক্ষমতা রাখেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, মা ঊমিয়াধামে এ ধরণের ব্যবস্থা অবশ্যই গড়ে উঠবে।
ভাই সি.কে.’র মতো নবীনদের টিম এখানে কাজ করছে। সি.কে. ভাইকে আমি ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে জানি। সর্বদা হাসিমুখ কিন্তু পবিত্র ভাব নিয়ে সর্বদা কাজ করে চলেছেন। সেজন্য আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, এই টিম যার আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলেন আর.পি.। এই টিম পুরনো টিমের আশীর্বাদ নিয়ে তাঁদের সমস্ত দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন এবং আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই নিজেদের দায়িত্ব সম্পাদন করবেন।
আমাদের সকলের এগিয়ে যাওয়া উচিৎ। কিন্তু ভুল পথে এগোলে তাকে এগিয়ে যাওয়া বলে না। যতই মা ঊমিয়ার পুজো করুন না কেন, মায়ের গর্ভে থাকা কন্যা সন্তানকে মেরে ফেললে মা ঊমিয়া কি ক্ষমা করতে পারেন? কী, আপনারা চুপ কেন? দেখুন, আমি আপনাদের মধ্য থেকেই বড় হয়ে উঠেছি। সকলকে চিনি। তাই আপনাদের বলার অধিকার আমার আছে। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বলছি না, আগে আমি ওঝাদের দু’চোক্ষে দেখতে পারতাম না। তাঁদের আমি এত বকেছি, আর কেউ এত বকার সাহস দেখাননি। গুজরাটে পুত্র সন্তানের তুলনায় কন্যা সন্তানদের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার পেছনে রয়েছে এই ওঝা তহশিল। যেখানে মা ঊমিয়ার আশীর্বাদ রয়েছে, সেখানেই কন্যাভ্রূণ হত্যা মহাপাপ।
মা ঊমিয়ার আশীর্বাদ নিয়ে আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে কিছু চাইব? না কোনও অর্থ চাই না। দু’হাত তুলে বলুন, দেবেন কি? তা হলে সকলে দু’হাত উপড়ে তুলে মা ঊমিয়াকে প্রণাম জানিয়ে বলুন, ‘আজ থেকে ভুল করেও কেউ কন্যাভ্রূণ হত্যার পাপ করবেন না। শিক্ষিত চিকিৎসকরাও অর্থ রোজগারের উদ্দেশ্যে ভুলপথে যাবেন না। সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে আপনারা সমাজকে বোঝান যে, পুত্র ও কন্যা উভয়েরই জন্মানোর প্রয়োজন রয়েছে, সবাই সমান’। আপনারা দেখছেন যে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ক্ষেত্রে আমাদের দেশের জন্য সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ পদক আনছেন মেয়েরা। মাধ্যমিক কিংবা উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল দেখুন, সবচেয়ে বেশি নম্বর পাচ্ছেন মেয়েরা। অনেকে ভাবেন যে, ছেলে হলে বৃদ্ধাবস্থা ভালো কাটবে। এই ভ্রম থেকে বেরিয়ে আসুন। আমি এরকম অনেক পরিবার দেখেছি যে, চার ছেলে চারটি বিশাল বাংলো বাড়িতে থাকে, আর বাবা-মা’কে বৃদ্ধাশ্রমে রাখেন। অনেক মেয়েকে দেখেছি বৃদ্ধ বাবা-মা’কে দেখার জন্য নিজে বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি এখানকার মানুষের কাছে আজ মেয়েদের অধিকার চাইতে এসেছি। আর আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, আপনারা আমাকে ফেরাবেন না।
মা ঊমিয়ার আশীর্বাদ নিয়ে আমি আরেকটি দুশ্চিন্তার কথা আপনাদের জানাতে চাই। আমি কাউকে দোষ দিচ্ছি না, দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের নবীন প্রজন্মের অনেকেই নেশার শিকার। এই ভুল পথ দেখে তাঁদের বাঁচান, না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সর্বনাশ হয়ে যাবে। আর এক্ষেত্রে আধ্যাত্মিক চেতনাই আপনাদের সহায়ক হতে পারে। ঊমিয়াধামকে সমাজ শিক্ষা, সামাজিক চেতনা ও সামাজিক বিপ্লবের কেন্দ্র করে গড়ে তুলুন। তা হলেই আপনারা নিজেদের সমাজকে অনেক আধুনিক সময়ের অনেক জটিলতা ও কুপ্রভাব থেকে বাঁচাতে পারবেন। আপনাদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। আপনারা দুশ্চিন্তা করবেন না। ২০১৯-এর পরও আমিই কেন্দ্রীয় সরকারের নেতৃত্ব দেব। সেজন্য আপনাদের সহযোগিতার জন্য যা যা করার কেন্দ্রীয় সরকার তা করবে। এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমার বক্তব্য সম্পূর্ণ করছি। অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আরেকবার বলুন –
বোল মেরী মাঁ – জয় জয় ঊমিয়া
বোল মেরী মাঁ – জয় জয় ঊমিয়া
বোল মেরী মাঁ – জয় জয় ঊমিয়া
ভারতমাতার জয়।
CG/SB/SB
No one can ever forget the role of Saints and Seers in strengthening our society. They have given us valuable teachings. They even gave us the strength to fight evil and oppression: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2019
Our Saints and Seers taught us to absorb the best of our past and, at the same time look ahead and keep changing with the times: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2019
Doing something at a small scale isn’t acceptable to us.
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2019
Our work will always be at a large scale, benefitting all sections of society: PM @narendramodi
At the community level, it’s important to emphasise on top quality education for youngsters: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2019
Those who believe in Maa Umiya can never support female foeticide.
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2019
I appeal to you all- let us create a society where there is no discrimination based on gender: PM @narendramodi
With the blessings of Maa Umiya, the Bhumipujan of Vishv Umiyadham took place amidst unparalleled enthusiasm. Here are some glimpses. pic.twitter.com/ZLIjJHn2TJ
— Narendra Modi (@narendramodi) March 4, 2019
We are committed to building a society where gender sensitivity and gender equality are vital cornerstones pic.twitter.com/L8rAiV91BX
— Narendra Modi (@narendramodi) March 4, 2019