পিএমইন্ডিয়া
তিনটি আলাদা-আলাদা প্রশ্ন ভিন্নভাবে এসেছে। আমি সবার আগে দেশবাসীদের, বিশেষ করে আপনাদে রসকলকে MyGov -এর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই। আমাদের দেশে গণতন্ত্রের একটি সহজ মানে হল একবার ভোট দিয়ে দাও, তারপর পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য তাঁদেরকে সকলসমস্যা সমাধানের ঠিকে দিয়ে দাও, ঐ পাঁচ বছরে তাঁদের কাজে কোনও ঘাটতি থাকলে পরবর্তীনির্বাচনে নতুন ঠিকাদার খুঁজে নেওয়া হবে। আর তাঁদেরকে বলা হবে, দেখো ওঁরা করেনি,তোমরা করে দাও। এভাবে নিছকই ভোট দিয়ে সরকার নির্বচন পর্যন্ত সীমিত থেকে গেলেগণতন্ত্রের প্রকৃত মেজাজই অঙ্কুরিত হতে পারে না। গণঅংশীদারিত্বের মাধ্যমেই এতবড় দেশে গণতন্ত্র সফল হতে পারে। আজ প্রযুক্তির প্রয়োগে এই গণঅংশীদারিত্ব সম্ভবপর হয়েছে। আজ যে ‘স্বচ্ছ ভারত’ অভিযান চলছে, তাও গণঅংশীদারিত্বের উত্তম উদাহরণ। মানুষনিজে চেষ্টা করেছেন, সংগঠন, নেতা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সবাই কিন্তু কিছু নাকিছু করার চেষ্টা করে থাকেন। আপনাদের প্রশ্ন ছিল সুশাসন, আমাদের দেশের রাজনীতিতে সুশাসনকে বাজে রাজনীতি বলা হয়। এটা সত্যি যে রাজনীতিতে নির্বাচনে জেতার পর সরকারের চেষ্টা থাকে নানা জনমোহিনী নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরবর্তী নির্বাচনে কিভাবে আরও বেশি ভোট পেতে পারে, সেভাবেই সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া। সেজন্যই এই উদ্দেশ্য প্রণোদিত পদক্ষেপগুলি কিছু দূর এগিয়েই এলিয়ে পড়ে।
আপনারা যা ভেবেছেন, যা বুঝে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বিনিয়োগ করেছেন, তা যদি যাঁদের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা তাঁদের উপকারেই না লাগে, তা হলে কিছুদিন বিভিন্ন সংবাদ-মাধ্যম ও অন্যান্য মহলে প্রশংসা কুড়াতে পারে, কিন্তু সুশাসন সুনিশ্চিত না করলে সাধারণ মানুষের জীবনে পরিবর্তন আসবে না। মনে করুন – রাজকোষ থেকে বিনিয়োগ করে একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল গড়ে তোলা হল, ভালো দালানবাড়ি গড়ে তুলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি আনা হল, কিন্তু সেখানে গিয়ে রোগী যদি সুচিকিৎসা না পায়, এমারজেন্সি’তে তাঁকে দেখার কেউ না থাকেন, এক দরজা থেকে আরেক দরজায় ঘুরতে হয় – তা হলে কী লাভ? সুশাসনের অভাবে এক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকা জলে যাবে। আর সেজন্যই উন্নয়ন আর সুশাসনের মধ্যে ভারসাম্য থাকা উচিৎ। তবেই সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। আমাদের দেশের দুর্ভাগ্যযে, কিছু সংবাদ-মাধ্যমের মতামত স্রষ্ঠারা জনমতের দোহাই দিয়ে পঞ্চায়েতে কিছু হলেও চানযে প্রধানমন্ত্রী জবাবদিহি করুক। কোনও পৌরসভা, জেলা পরিষদ কিংবা মহানগরপালিকায় কিছু হলে, যে কোনও রাজ্যের কোনও ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর জবাবদিহি চান। রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটা ঠিকই আছে, টি আর পি’র জন্যও হয়তো ঠিক। প্রধানমন্ত্রীর যতসমস্যাই হোক – সেটা কোনও ব্যাপার নয়, গণতন্ত্রে এরকমই হওয়া উচিৎ, আর আমার মতো কেউপ্রধানমন্ত্রী হলে বেশি করেই হওয়া উচিৎ। কিন্তু এর কুপ্রভাব পড়ে পঞ্চায়েতে, তাঁরা নিজেদের গুরুত্ব অনুভব করে না। পৌরসভা, মহানগরপালিকা, জেলা পরিষদ কিংবা রাজ্যমন্ত্রি সভার সদস্যরাও মনে করেন যে তাঁদের কোনও দায়িত্ব নেই। এতে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় শাসন ব্যবস্থা। সুশাসনের প্রথম শর্তই হল, যিনি যে কাজের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সেই কাজের জন্য তাঁকেই জবাবদিহি করতে হবে। তাঁর অধস্তনদের কাছে যেমন জবাবদিহি প্রত্যাশা করা যায় না, তাঁর উপরওয়ালাদের কাছেও তেমনই জবাব চাওয়া উচিৎ নয়। সুশাসনের পাশাপাশি, জনসচেতনতা এবং জনমত গঠনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা নিলে তবেই এই পরিস্থিতির উন্নতি হওয়া সম্ভব। আমার মতে, অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার মূলেথাকে কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত বা সরকারি ব্যবস্থা। আমি জানি, তাই বলছি এজন্য কী কীহয়েছে। সকল ক্ষেত্রে সরকারের নাক গলানো উচিৎ নয়। সাধারণ মানুষের সামর্থ্য বৃদ্ধির খাতিরে সকল ক্ষেত্রে সরকারের নাক গলানো উচিৎ নয়। কিন্তু ভারতীয় শাসন ব্যবস্থায় ব্রিটিশ আমল থেকেই সকল ক্ষেত্রে নাক গলানো সরকারের স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ব্যবস্থায় পরবর্তন আনা কঠিন হলেও সুশাসনেরত খাতিরে এই পরিবর্তন আবশ্যক। জনগণকে প্রত্যেক ক্ষেত্রেই বারবার সরকারের কাছে জবাবদিহি চাইতে হবে কেন? এই পরিস্থিতিথেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এটাই সহজ কথা, জেরক্সের প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ার পরও আমরা সকল শংসাপত্র প্রত্যর্পিত করার ব্যবস্থা চালু রাখি। সাধারণ ঘরের যুবক-যুবতীদের পড়াশুনা কিংবা চাকরি বাকরির ক্ষেত্রে শংসাপত্র প্রত্যর্পিত করার জন্য তহশীলদার,বিধায়ক, সাংসদ কিংবা গেজেটেড আধিকারিকদের বাড়িতে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হয়। উভয়েরই অনেক সময় নষ্ট হয়। আমরা এসে এই প্রথা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। মানুষকে বিশ্বাসকরতে হবে। এখন দরখাস্ত জমা দেওয়ার সময় সঙ্গে শংসাপত্রগুলির ফটোকপি জমা দিলেই হয়। কাজে যোগদানের সময় সংশ্লিষ্ট আধিকারিক একবার মূল শংসাপত্রের সঙ্গে ফটোকপিগুলি মিলিয়ে নিলেই হবে। সুশাসনে প্রক্রিয়া সহজ হবে, সাধারণ মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়বে,মানুষ সহজে সবকিছু জানতে পারবেন – আমি এ ধরনের ব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষে। এটা ঠিকযে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সাধারণ মানুষের ততটা প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই, যতটা পঞ্চায়েত, পুরসভা কিংবা রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক থাকে। তবুও আমরা‘ইজ অফ ড্রয়িং বিজনেস’-এর অভিযান শুরু করেছি। রাজ্যগুলির মধ্যে কটি প্রতিযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলেছি, তাদেরকে লাইসেন্স প্রথা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রোৎসাহিত করেছি, যে রাজ্যগুলিকে আমরা পিছিয়ে পড়া রাজ্য বলে ভাবি, সেসব রাজ্য আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এসেছে, অনেক শাসনপ্রক্রিয়াকে ইতিমধ্যেই সরল করে তুলেছে। প্রযুক্তি নির্ভর করে তুলেছে। ফলে, সেসব রাজ্যে সুশাসন অনুভব করা যাচ্ছে। সম্প্রতি আমরা ‘-ইনাম’ নামক একটি পরিকল্পনা গড়ে তুলেছি – ‘ই-মান্ডি’। আজ কৃষক কতটা কায়তাঁর উৎপাদিত ফসল বিক্রি করবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে এই প্রযুক্তি তাঁর সহায়ক হয়ে উঠেছে। আমার মতে, গণতন্ত্রের দ্বিতীয় বড় শক্তি হল ‘গ্রিভেন্স রিড্রেসল সিস্টেম’। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আওয়াজ সরকারের কানে পৌঁছয়। সরকারের কানে তাদের আওয়াজ পৌঁছলে তবে সরকার তাদের সমস্যা সমাধানে সদর্থক ভূমিকা নিতে পারে। সেজন্যই সুশাসনের খাতিরে এক্ষেত্রে আমাদের অনেক কিছু করার আছে। সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনা এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সেসব সমস্যা সমাধানের যথাযথ ব্যবস্থা থাকা উচিৎ। সরকারি ব্যবস্থা যেন সাধারণ মানুষের হাত ধরে তাঁকে সমস্যার ঘূর্ণিপাক থেকে বের করে আনতে পারে, তা নিশ্চিত করা সুশাসনের অঙ্গ। সম্প্রতি আমরা প্রত্যেক মাসে একটি ‘প্রগতি’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছি, যাতেকেন্দ্র ও রাজ্যের সকল সচিবও মহাসচিবদের মুখোমুখী বসে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমার কাছে সাধারণ মানুষের যেসব অভিযোগ ও আবেদন আসে, সেগুলি সম্পর্কে সরাসরি তাঁদের জিজ্ঞেস করি, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করার চেষ্টা করি। কোনও জটিল বিষয় সমাধানের ক্ষেত্রে সকলের মতামত জানতে চাই। যদি কারও পেনশন পাওয়া নিয়ে অভিযোগ থাকে, তাহলে পেনশন সংক্রান্ত সকল সমস্যা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করার জন্য চাপ সৃষ্টি করি। কেন হয়নি? কিভাবে করবেন? নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কিভাবে করবেন? সুশাসনের খাতিরে এ ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছি। আমার বিশ্বাস, সুশাসনের আবহ গড়ে তুলে ইতিমধ্যেই অনেক সমস্যা সমাধান করতে পেরেছি। একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিক প্রশ্ন করেছিলেন, আজ ভারত বিশ্বে সবচাইতে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়া অর্থব্যবস্থার দেশ বলে যে দাবি উঠেছে, তা কতটা সঠিক। তাঁকে আমি জবাব দিয়েছি, এটা ঠিক যে ভারত এখন বিশ্বের বড়দেশগুলির মধ্যে সবচাইতে দ্রুতগতিতে অগ্রসরমান অর্থ ব্যবস্থার দেশ হয়ে উঠেছে। উপর্যুপরি দু’বছর ধরে খরাপরিস্থিতি সামলেও আমরা এই অগ্রগতি জারি রাখতে পেরেছি। আমাদের কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে খরার কুপ্রভাব অপ্রতিরোধ্য। দ্বিতীয়ত, গোটা বিশ্বে এখন আর্থিক মন্দা চলছে। সারা পৃথিবীতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা অনেকহ্রাস পেয়েছে। এহেন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ৭.৫ শতাংশেরও অধিক আর্থিক অগ্রগতির জন্য আমি ১২৫ কোটি দেশবাসীকে অভিনন্দন জানাই। এটা তাঁদেরই পরিশ্রমের পরিণাম।
সেজন্য প্রশ্ন ওঠে,অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিবর্তন কিভাবে সম্ভব? আমাদের পরিবারে একজন রোজগার করলে, তিনি যদি মাসে ২০ হাজার টাকা পান, তাহলে পরিবার কিভাবে চালাতে হবে! খরচের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার কোনটাকে দেব? কী কী কিনবো, কতটা কী খাবো, সবজি কতটা, দুধ কতটা, বাচ্চাদের জন্য জামাকাপড় এ মাসে কিনবো না কিনবোনা! এসব নিয়ে আকাশ-পাতাল ভাবতে হয়। কিন্তু, পরিবারের আরেক সদস্য যদি মাসিক ১০ হাজার টাকা রোজগার শুরু করে তাহলে পরিস্থিতি বদল হয়, ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসে। দেশও তেমনই একটা বড় পরিবার। রাজকোষে বেশি টাকা থাকলে উন্নয়নের কাজ বেশি করা যায়, মানুষের কর্মসংস্থান বাড়ে, রাস্তঘাট ভালো ভাবে বানানো যায়, দূরদুরান্তে ভালো সড়ক ও রেল পথের বিস্তার ঘটানো সম্ভব হয়। নির্মাণকর্মীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়। মানুষের রোজগার বাড়ে। রোজগার বাড়লে ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে। যে জুতো পরতো না, সে জুতো কিনে পরবে, যে এক বেলা খেয়ে কষ্টে দিন কাটাতো, সে দু’বেলা ভরপেট খাবে। পকেটে টাকা এলে সে খরচ করবে। খরচ করলে টাকা বাজারে আসবে, বাজারে টাকা এলে দেশের আর্থিক উন্নয়নহ বে। সহজ ব্যাপার। এজন্য বিশেষ কোনও কৌশলের প্রয়োজন পড়েনা।
কিছু নির্দিষ্ট নিয়মের যথাযথ বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে। যতটা সম্ভব আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদের সুষম ব্যবহারের কথা ভাবতে হবে। প্রাকৃতিক সম্পদকে যত ভালো ভাবে কাজে লাগাতে পারব,তত ই আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি হবে, মানব সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করতে পারব। আমাদের দেশে ৩৫ বছরের নীচে নবীন প্রজন্মের মানুষই রয়েছেন ৮০ কোটির ওপর। সেজন্য নিজেদের কতটা ক্ষমতা, কিভাবে সেই ক্ষমতাকে কাজে লাগালে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব তা নিয়ে ভাবতে হবে।
ভারতের মতো দেশে আমাদের হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্য রয়েছে। আমরা যদি পর্যটন শিল্পকে সাফল্যের সঙ্গে চাঙ্গা করতে পারি, তা হলে দ্রুত আর্থিক উন্নয়ন সম্ভব। ঐতিহ্যকে অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করতে হবে। তাজমহলে পর্যটক বৃদ্ধির জন্য নতুন করে খুব বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন পড়বে না।
সেই সময় যদি খবরের কাগজ প্রকাশিত হত, তা হলে হয়তো সম্পাদকীয় লেখা হতো, দেশের মানুষের পেটে ক্ষুধা রাজা তাজমহল নিয়ে ব্যস্ত, শ্রমিকদের কী দূরবস্থা। কিন্তু সেই তাজমহলই আজ লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত করছে। দেশের জন্য এধরনের কর্মসংস্থানই প্রয়োজন।
বেশি দিন নয়, ৩০ বছর। আমরা যদি ৮ শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন জারি রাখতে পারি, তা হলে বিশ্বের যা কিছু ভালো রয়েছে, সবই একদিন আপনাদের চরণে সমর্পিত হবে। আপনি কৃষক হলেও আধুনিকতম নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেননা। যাঁর কেবল ২ একর জমি রয়েছে, সেখানেও তিনি আজকের তুলনায় বেশি ফসল কিভাবে ফলাবেন সেদিকেই জোর দিতে চাই।
দ্বিতীয়ত, ভারতে যত উৎপাদক রয়েছেন, তাঁদের উচিৎ বিশ্ববাজারকে লক্ষ্য করে এগিয়ে যাওয়া। এখন ভারতে তৈরি হওয়া মেট্রোরেল অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি হওয়া শুরু হয়েছে। জাপানি কোম্পানি মারুতি ভারতে নির্মিত গাড়ি বিদেশে রপ্তানি করলে ভারতের অর্থনীতি শক্তিশালী হয়।
বর্তমানে আমরা কোটি কোটি টাকার পেট্রোলিয়ামজাত নানা পদার্থ বিদেশথেকে আমদানি করি। আমরা এখন সৌরশক্তি উৎপাদনে জোর দিয়েছি। যত বেশি সৌরশক্তি উৎপাদিতহবে, তত কম পেট্রোলিয়ামজাত পদার্থ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে। এই সাশ্রয় আমাদেরউন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। পাশাপাশি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকারঅস্ত্রশস্ত্র ও যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় অথচ ভারতের নবীন প্রজন্মেরমেধা রয়েছে। আমরা যদি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের প্রযুক্তি আমদানি করতে পারি,বিদেশি বিনিয়োগ আনতে পারি – তা হলে আমাদের দেশের নবীন প্রজন্মের কর্মসংস্থানত্বরান্বিত হবে, দেশের নিরাপত্তাও সুনিশ্চিত হবে।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আগামী ৩০ বছরে বিশ্বের যা কিছু ভালোরয়েছে, সবই একদিন আপনাদের চরণে সমর্পিত হবে।
তৃতীয় প্রশ্নটি ছিল, স্বাস্থ্য পরিচর্যা ক্ষেত্রে সম্বন্ধেএই দুশ্চিন্তা স্বাভাবিক। আমরা ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি স্বাস্থ্যই সম্পদ। প্রত্যেকেই অন্যকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন কিন্তু অধিকাংশ মানুষই নিজে তা পালন করেননা। প্রাচীনকালে গ্রামেসকল রোগের চিকিৎসা করতেন একজন বৈদ্য। আর আজ চোখ, কান, পা,হাত, মাথা প্রতিটি অঙ্গেরই আলাদা-আলাদা চিকিৎসক রয়েছেন। তবুও রোগ বাড়ছে। তার মানে আমরা চিকিৎসায় যতটা উৎসাহী ততটা স্বাস্থ্য সচেতন নই।
বিশুদ্ধ পানীয় জলের অধিকার প্রত্যেক নাগরিকেরই রয়েছে। কিন্তু আমরা এখনও দেশের প্রত্যেক নাগরিককে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দিতে পারিনি। জল থেকেই অনেক রোগ ছড়ায়। জলের উৎসগুলিকে দূষণমুক্ত করতে আমরা স্বচ্ছ ভারত অভিযান শুরু করেছি। এই অভিযান একপ্রকার অসুস্থতার বিরুদ্ধে, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই। বিশ্বব্যাঙ্কের মতে, একটি দরিদ্র পরিবারের একজন সদস্য অসুস্থ হলে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়।সেজন্য আমাদের প্রথমত, PreventingHealth Care- এ জোর দিতে হবে। পরিচ্ছন্নতা, যোগাসন আর খাদ্যাভাস। দ্বিতীয়ত সুলভ স্বাস্থ্য পরিষেবা।
ভারতে কিডনি সংক্রান্ত নানা সমস্যা বাড়ছে। হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিন ডায়ালিসিস করাত হয়। আমরা কিভাবে এই রোগ থেকে মুক্তি পাব? বিগত বাজেটে আমরা ঘোষণা করেছি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে সরকারি হাসপাতালগুলিতে অত্যাধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবা কক্ষ চালু করব। সেখানে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করতে পারেন, ডায়ালিসিস পরিষেবা চালু করতে পারেন।
রোগ শুধু সাধারণ মানুষেরই হবে, বড় লোকদের হবে না – এমনটাহতে পারে না। কিন্তু, আমরা সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখেই স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে টিকাকরণ ইত্যাদি বিষয়ে কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপন দিই।
এরপরও দেখা গেছে যে, লক্ষ লক্ষ শিশুকে এখনও টিকাকরণ সম্ভব হয়নি। অনেক ধনী পরিবারের শিশুরাও টিকাকরণের আওতায় আসেনি। কারণ, তাদের বাবা-মারা সাধারণ মানুষের সাথে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকাকরণে লজ্জা পান। সন্তাদের ভবিষ্যৎ ওসুস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে অভিভাবকদের এই উচ্চমন্যতা পরিত্যাগ করে এগিয়ে আসতেহবে।
স্বাস্থ্য বিমার ক্ষেত্রে আমরা আরও আধুনিক চিন্তাভাবনা করছি। বাজেটে এ সম্পর্কেও উল্লেখ রয়েছে। যাতে দরিদ্র থেকে দরিদ্রতম ব্যক্তিরওশুধুই স্বাস্থ্য নয়, স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথাও ভাবা হয়েছে। আমরা এক্ষেত্রে দ্রুতচূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।
৭ আগস্ট হস্ত তাঁত দিবস। আমরা জানি, মহাত্মা গান্ধীরনেতৃত্বে স্বদেশী মন্ত্র গাইতে গাইতে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা বিদেশি বস্ত্রপুড়িয়েছিলেন। এজন্য গত বছর থেকে আমরা এই দিনটিকে হস্ত তাঁত দিবস হিসেবে পালন করারসিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে হস্ত তাঁত, খাদি ইত্যাদি ক্ষেত্রকে আরওআধুনিকীকরণ ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়াহয়েছে। ১২৫ কোটি ভারতবাসী যদি সিদ্ধান্ত নেন যে, আমরা যত জামাকাপড় পরিধান করি তারকমপক্ষে ৫ শতাংশ তাঁত ও খাদির হবে, তা হলেই দেখবেন, সাধারণ মানুষের হাতে অনেক টাকাচলে আসবে, যা ভারতীয় অর্থনীতির অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করবে। আমি প্রত্যেককে অনুরোধকরছি, আগামী ২ অক্টোবর জাতির জনককে মনে রেখে আপনারা প্রত্যেকেই কিছু খাদি বস্ত্রকিনুন সেইসময়ে খাদি বস্ত্রের কিছু ছাড়ও দেওয়া হয়। বস্ত্র ছাড়াও খাদি ও হস্ত তাঁতেআরও অনেক নিত্য ব্যবহার্য জিনিস তৈরি হয় – আপনারা সেগুলির ব্যবহার শুরু করে দেখুন।বস্ত্র প্রযুক্তিতে আমাদের ফ্যাশন ডিজাইনাররা চমৎকার সব উদ্ভাবন করেছেন, যেগুলিগোটা বিশ্বে পূর্ণাঙ্গ হেলথ কেয়ারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এসব কথামাথায় রেখে আমরা একটি বড় অভিযান শুরু করতে পারি, এখান থেকেই একটি মার্চেনটাইলগতিবিধি ইতিমধ্যেই শুরু করতে পেরেছি, যা গঙ্গা সাফাই অভিযানের পাশাপাশি হস্ত তাঁতশিল্পকেও জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ভারতের বিদেশ নীতি এমনই যে আমরা আগ্রাসী নই। আমরা বৈদেশিকসম্পর্কের অন্যান্য দেশের মতো চিন্তাভাবনা করি না। ভারত চায়, তার প্রতিবেশী ওঅন্যান্য দেশগুলি সমৃদ্ধি ও সম্পন্নতায় ভরে উঠুক। কিন্তু ভারত নিজের নিরাপত্তা ওআর্থিক অগ্রগতি সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন। এই নিরাপত্তা ও সম্পন্নতার কথা মাথায় রেখেআমরা আমাদের বৈদেশিক নীতিকে পরিচালনা করি। এক্ষেত্রে আমরা বিশ্বের নানা প্রান্তেবসবাসকারী ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের সাহায্যপ্রার্থী। আপনারা হয়তো লক্ষ্যকরেছেন যে ইতিমধ্যেই বিশ্বে ভারতের সম্মান ও মর্যাদা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। একথামাথায় রেখে আমরা দু’হাত বাড়িয়ে আপনাদের নিজের দেশে বিনিয়োগের জন্য আমন্ত্রণ জানাই।পাশাপাশি, তাঁদের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে চাই। তাঁদের সঙ্গে আমরা ১২৫ কোটিভারতবাসীর স্বপ্ন এবং ভবিষ্যৎ’কে যুক্ত করতে চাই। দেশের মাটির ঋণ শোধ করার কথাভাবুন। ঈশ্বর আমাদের অনেক শক্তি দিয়েছেন। আমরা অধিকাংশই সেই শক্তিকে খণ্ডিত হতেদিই। আবার কেউ কেউ সেই শক্তিকে এমন তেজস্বী করে তোলেন যে আমাদের মাথা উঁচু করেতাকাতে হয়। আপনারা সেই মন্ত্র নিয়ে চললে দেখবেন আমাদের দেশে বিনিয়োগের কত সম্ভাবনারয়েছে। সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হল পর্যটন ক্ষেত্রে। বর্তমানে পর্যটকের সংখ্যা আগেরতুলনায় আরও বেড়েছে। গত ছ’মাসে ৪০ লক্ষেরও বেশি বিদেশি পর্যটক এসেছেন। ই-ভিসা চালুহওয়ায় পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি পর্যটনস্থানগুলিতে স্বচ্ছ ভারতঅভিযানের সাফল্যও পর্যটনের বাই-প্রোডাক্ট হিসাবে বিশ্বের কাছে ভারতের ভাবমূর্তিউজ্জ্বল করেছে। তৃতীয়ত, ভারতের হাজার হাজার বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যগুলির পাশাপাশিআমাদের সুবিশাল সমুদ্রতটগুলির বৈচিত্র্য পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়েউঠছে। পর্যটকরা যখনই জানতে পারবেন যে, পাঁচ হাজার বছর পুরনো অমুক ঐতিহ্য কিংবাদু’হাজার বছর পুরনো ঐতিহ্য এই ঐতিহাসিক স্থানগুলিতে গেলে প্রত্যক্ষ করা যাবে, তখনএদেশ আরও বেশি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। এদেশে এত বৈচিত্র্যরয়েছে যে, শুধু তামিলনাড়ুর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গেলে ইডলির দশ রকম স্বাদপাওয়া যায়। তেমনই ফ্যাশন ডিজাইনাররা দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘুরেবেড়ালে কয়েকশো রকমের পোশাকের বৈচিত্র্য দেখতে পাবেন। এগুলো নিয়ে গবেষণা করে তাঁরানতুন ও আধুনিক উদ্ভাবনের পথে যেতে পারেন। সেজন্যই ভারতে বিনিয়োগ অনাবাসী ভারতীয়দেরক্ষেত্রে তাঁদের ব্যবসা সম্প্রসারণের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। পাশাপাশি,আপনারা দেশের সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। আপনারা যে দেশে থাকেন,সেখান থেকে প্রতি বছর ৫টি অভারতীয় পরিবারকে ভারতে আসার ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করতেপারেন। আপনারা দেখবেন, তাঁদের ভারত সম্পর্কে ধারণা বদলে গেছে।
এই পর্যটন আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশের বিন্দুমাত্র ক্ষতি নাকরে দেশের নবীন প্রজন্মের সামনে কর্মসংস্থানের নতুন নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতেপারে। আমাদের বিবিধ সামাজিক সংস্কার এবং ঐতিহ্যের ভিত এতই সুদৃঢ় যে, ভারতীয়রা অনেকসঙ্কটকে সহজেই অতিক্রম করতে পারে।
ইদানীং আমার যাবতীয় জ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সমাজসেবা।আপনারা ভাবুন, বাবাসাহেব আম্বেদকর বিদেশে গিয়ে এত উচ্চশিক্ষা লাভ করেছেন।জন্মসূত্রে দলিত হওয়ায় তাঁকে এদেশে অনেক অপমান সহ্য করতে হয়েছে। তবুও তিনি বিদেশেপাওয়া সকল মান-সম্মান, পদ, প্রতিষ্ঠা, পদবি’রমোহ ত্যাগ করে দেশে ফিরে এসেছিলেন।দেশের জন্য কাজ করেছেন। মহাত্মা গান্ধী এবং সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলও নামী ব্যারিস্টারেরপসরা ছেড়ে এসে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। বীর সভারকারওব্যারিস্টার ছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগদান করায় তাঁর জীবনের বাকিদিনগুলিআন্দামানের কারান্তরালে অতিবাহিত করতে হয়েছে। এরকম অসংখ্য মহামানব দেশের জন্য অনেককিছু ত্যাগ করেছেন। সেতুলনায় আমরা কিছুই করতে পারিনি। আমরা কি বাড়ির পাশেই যেসরকারি স্কুল রয়েছে, সেখানে গিয়ে ঘন্টাখানেক ছাত্রছাত্রীদের পড়াতে পারি, আমরা গিয়েযদি প্রধান শিক্ষককে বলি, তা হলে তিনি হাসিমুখে বরণ করে নেবেন। শুধু আপনাকে মনথেকে ভাবতে হবে, সে এটা আমরা করব।
কিছুদিন পর পরই দেখি, গো-রক্ষার নামে কিছু মানুষ দোকান খুলেবসে পড়েছেন। আমার ভীষণ রাগ হয়, গো-মাতার প্রতি ভক্তি, গো-মাতার সেবা করা আলাদাজিনিস। প্রাচীনকালে রাজা-বাদশারা যুদ্ধের সময়ে সেনাবাহিনীর সামনে গরুর পাল নিয়েযেতেন, যাতে প্রতিপক্ষ গো-হত্যার ভয়ে আগে আক্রমণ না করে। তেমনই আজকাল অনেকেই সারারাত সমাজ বিরোধী কাজকর্ম করেন আর দিনের বেলায় গো-মাতার রক্ষক হয়ে পড়েন। আমিও রাজ্যসরকারগুলিকে অনুরোধ করি যে, এ ধরনের স্বেচ্ছাসেবী মহান গো-রক্ষকদের তালিকাপ্রস্তুত করুন। রাজ্য পুলিশকে তদন্ত করতে বলুন। দেখবেন, ৭০-৮০ শতাংশ গো-রক্ষকেরমুখোশ খুলে যাবে।
আমাদের দেশে অধিকাংশ গরুর মৃত্যু হয় প্লাস্টিক খেয়ে। আমিযখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, তখন রাজ্যব্যাপী পশু স্বাস্থ্য শিবির চালুকরেছিলাম। সেসব শিবিরে অনেক গরু ও অন্যান্য পশুর শল্য চিকিৎসাও সম্পাদিত হয়েছে।একবার একটি গরুর পেট থেকে দু’বালতির থেকেও বেশি প্লাস্টিক বেড়িয়ে এসেছিল। কাজেই আরযাঁরা সত্যিকারের গোমাতার সেবক, তাঁদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা দেখুন যাতেগরুগুলি যত্রতত্র পড়ে থাকা প্লাস্টিক খেয়ে মারা না যায়।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অন্যদের প্রতারণা করার জন্য নয়। একটিসমর্পণের ভাব, করুণা, ত্যাগ ও আত্মবলিদানের ভাবনা নিয়ে স্বেচ্ছাসেবীরাএগিয়ে এলে তবেই তারা সমাজের জন্য ইতিবাচক কিছু করতে পারবে। অথচ আমাদের দেশেঅধিকাংশ স্বেচ্ছাসেবী তাঁর বাড়িতে যে খবরের কাগজ কিংবা দুধ দিতে আসেন, ডাক সরবরাহকরতে আসেন – তাঁদেরকে একটি প্রশ্নও করেও জানতে চান না, যে তাঁর ক’টি ছেলেমেয়ে,তাঁরা লেখাপড়া করে কি না! এ ধরনের সমাজসেবার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শোনারপ্রয়োজন নেই। আপনার পাশের বাড়ির গরিব মানুষটির জন্য কাজ করুন তাহলেই আপনি দেশেরসবচেয়ে বেশি সেবা করবেন।
আজ আপনাদের হাতে একটি বড় শক্তি এসেছে। আপনারা এর মাধ্যমেবলতে পারবেন যে, অনেক মিথ্যা কথা বলেছো, কিন্তু আসল সত্য হল এই। প্রধানমন্ত্রীকিছু বলে দিলেই তা মেনে নেবেন না। ভালো লাগলে মানবেন-না হলে মানবেন না। আপনিও বলতেপারেন যে, আজ আপনি এসব ভালো কথা বলছেন কিন্তু ১০ বছর আগে আপনি এই কাজটি করেছেন।প্রযুক্তি আপনার হাতে সেই শক্তি তুলে দিয়েছে।
গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য হল – রাজনীতিবিদদের সমালোচনা শুনতেহয়। যাঁরা সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না, তাঁদের অন্যদের উপদেশ দেওয়ারও কোনও অধিকারনেই। এই প্রযুক্তির মঞ্চ আমাদের আরও শিক্ষিত করে তুলবে। আমরা এর মাধ্যমে নিজেদেরভুলগুলিকে চিহ্নিত করতে পারবো, নিজেদের সংশোধন করতে পারবো। যাঁরা লজ্জাবশত কোনওপ্রশ্ন করতে পারেননি, তাঁরা আগামীদিনে এগিয়ে আসবেন। আজ আর নয়, অনেকেই মনে মনেভাবছেন, প্রধানমন্ত্রীর জবাব অনেক দীর্ঘ, আপনারা একথাও আমাকে নিসঙ্কচে লিখে জানাতেপারেন। লিখতে পারেন যে, আপনি এই কথাগুলো ভুল বলেছেন; এটাই হল MyGov -এরমাধ্যমে ক্ষমতায়ন। এর মাধ্যমে সরকার গণঅংশীদারিত্বকে প্রোৎসাহিত করতে চায়। লক্ষলক্ষ মানুষ ইতিমধ্যেই এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, কোটি কোটি মানুষ এর সঙ্গে যুক্তহওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন, আপনাদের সকলের চেষ্টাতেই এসব কিছু বাস্তবে পরিণত হবে। অনেকঅনেক ধন্যবাদ।
PG/SB/SB
The Prime Minister arrives for the Town Hall programme. #MydayatMyGov pic.twitter.com/decjYQScBd
— PMO India (@PMOIndia) August 6, 2016
The Prime Minister meeting some of those people who have shared their views during #MannKiBaat programme. pic.twitter.com/xdcWVJNTrP
— PMO India (@PMOIndia) August 6, 2016
The PMO App has been launched by Prime Minister @narendramodi. pic.twitter.com/oEIVa5ouYe
— PMO India (@PMOIndia) August 6, 2016
PM meets the youngsters who developed the PMO App. pic.twitter.com/NqDpobxm2g
— PMO India (@PMOIndia) August 6, 2016
The spirit of a democracy is incomplete if one thinks the citizen's role stops at voting. Participative democracy is essential: PM
— PMO India (@PMOIndia) August 6, 2016
Often, Governments think only about winning the next election and then their policies are also shaped accordingly: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 6, 2016
'Last mile delivery' is as important as policies. The benefits must reach the intended beneficiaries: PM @narendramodi #MydayatMyGov
— PMO India (@PMOIndia) August 6, 2016
Good governance means those processes that are redundant do not exist: PM @narendramodi #MydayatMyGov
— PMO India (@PMOIndia) August 6, 2016
Grievance redressal systems are the biggest strengths of a democracy: PM @narendramodi #MydayatMyGov
— PMO India (@PMOIndia) August 6, 2016
India is among the fastest growing economies in the world: PM @narendramodi #MydayatMyGov
— PMO India (@PMOIndia) August 6, 2016
If there is one sector that can power the economy it's the agriculture sector: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 6, 2016
The unique spirit of our villages must remain and at the same time they must have facilities associated with cities: PM
— PMO India (@PMOIndia) August 6, 2016
Khadi for nation and Khadi for fashion, this must be our guiding principle: PM @narendramodi #MydayatMyGov
— PMO India (@PMOIndia) August 6, 2016
Questions on foreign policy, tourism and on volunteering being asked now. There is also a question on the 'Narendra Modi Mobile App.'
— PMO India (@PMOIndia) August 6, 2016
Our foreign policy is only about India First: PM @narendramodi #MydayatMyGov
— PMO India (@PMOIndia) August 6, 2016
We are seeing an increase in tourist arrivals in India: PM @narendramodi #MydayatMyGov
— PMO India (@PMOIndia) August 6, 2016
A spirit of social service is a part of our culture. We have always helped people in times of need: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 6, 2016