পিএমইন্ডিয়া
নয়াদিল্লি, ২৪ মার্চ, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ রাজ্যসভায় ভাষণ দেন এবং পশ্চিম এশিয়ায় বর্তমান সংঘাতের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদী বলেন, তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ গোটা বিশ্বে এক তীব্র জ্বালানি সঙ্কটের জন্ম দিয়েছে, যার প্রভাব ভারতেও পড়েছে এবং উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, এই সংঘাত ভারতের বাণিজ্যিক পথগুলি বিঘ্নিত হওয়ায় পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাস ও সারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিয়মিত সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলিতে প্রায় এক কোটি ভারতীয়ের বসবাস। এই অবস্থায় তাঁদের নিরাপত্তা ও জীবন-জীবিকা গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে, তিনি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে আটকে থাকা বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাবিকের অবস্থার প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “এমন এক সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে, ভারতের সংসদের এই মর্যাদাপূর্ণ উচ্চকক্ষ থেকে সমগ্র বিশ্বের উদ্দেশে শান্তি ও পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর উচ্চারিত হওয়া একান্ত আবশ্যক।”
সংঘাত শুরুর পর থেকে ভারতের জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতার বিস্তারিত তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী সভাকক্ষে জানান যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে পশ্চিম এশিয়ার অধিকাংশ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে দুই দফায় টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং ভারত উপসাগরীয় অঞ্চলের সব দেশের পাশাপাশি ইরান, ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রেখে চলেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এর মূল লক্ষ্য হ’ল, পারস্পরিক আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে এই অঞ্চলে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা; আর এই লক্ষ্যে সংঘাত প্রশমন এবং ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় খুলে দেওয়া সংক্রান্ত বিষয়গুলি বিশেষভাবে আলোচনায় স্থান পেয়েছে। ভারতের দৃঢ় অবস্থানের উপর জোর দিয়ে তিনি ঘোষণা করেন যে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং হরমুজ প্রণালীর মতো আন্তর্জাতিক জলপথগুলিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়; পাশাপাশি অসামরিক এলাকা, অসামরিক পরিকাঠামো এবং জ্বালানি ও পরিবহন-সংক্রান্ত পরিকাঠামোর উপর চালানো সব ধরনের হামলারও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বিরোধিতা করেছে ভারত। শ্রী মোদীর মতে, “এই যুদ্ধে যে কোনো হুমকিই মানবতার স্বার্থের পরিপন্থী; আর তাই ভারতের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা হ’ল – সব পক্ষকে যত দ্রুত সম্ভব একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করা।”
সঙ্কটকালীন সময়ে দেশে-বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের অবিচল অগ্রাধিকারের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৩,৭৫,০০০-এরও বেশি ভারতীয়কে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে; এর মধ্যে শুধু ইরান থেকেই ফিরে এসেছেন ১,০০০-এরও বেশি ভারতীয়, যাঁদের মধ্যে ৭০০-এরও বেশি তরুণ মেডিক্যাল শিক্ষার্থীও রয়েছেন। একইসঙ্গে, তিনি এই আশ্বাসও দেন যে, সঙ্কটের এই সময়ে সরকার অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে কাজ করে চলেছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্যিক পথ, বিশেষ করে অপরিশোধিত তেল, গ্যাস এবং সারের পরিবহনের ক্ষেত্র হিসেবে হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রণালীর মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। তবে, প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও সরকার আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে বিকল্প পথ তৈরির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে; এর একমাত্র লক্ষ্য হ’ল, যেখান থেকেই সম্ভব, ভারতে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ সুনিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশ বর্তমানে এই প্রতিটি প্রচেষ্টার সুফল দেখতে পাচ্ছে; গত কয়েক দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি বোঝাই জাহাজ ভারতে এসে পৌঁছেছে এবং আগামী দিনগুলিতেও এই লক্ষ্যে আমাদের প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।”
ভারতের এক দশকের কৌশলগত প্রস্তুতির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন যে, প্রতিটি সঙ্কটই একটি দেশের দৃঢ় সংকল্প এবং তার প্রচেষ্টার পরীক্ষা নেয়; আর গত এগারো বছর ধরে এমন সব ধারাবাহিক ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে দেশ এই ধরনের চ্যালেঞ্জগুলির সফল মোকাবিলা করতে পারে। অপরিশোধিত তেল, এলএনজি এবং এলপিজি আমদানি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে তিনি সংসদে জানান, আগে যেখানে ২৭টি দেশ থেকে এগুলি আমদানি করা হ’ত, এখন ৪১টি দেশ থেকে এইসব জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই সঙ্কটের সময়ে ভারত অপরিশোধিত তেলের মজুত গড়ে তোলার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং তেল কোম্পানিগুলিও পর্যাপ্ত পরিমাণে পেট্রোল ও ডিজেল মজুত রেখেছে। গত এগারো বছরে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টনেরও বেশি ‘কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত’ (Strategic Petroleum Reserves) রাখা হয়েছে এবং বর্তমানে ৬৫ লক্ষ মেট্রিক টনেরও বেশি মজুত ভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজ চলছে। এর পাশাপাশি, ভারতের তেল পরিশোধন ক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমি এই সংসদ এবং দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, ভারতের কাছে অপরিশোধিত তেল মজুতের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার সুদৃঢ় বন্দোবস্ত রয়েছে।”
কোনও একটি নির্দিষ্ট জ্বালানি উৎসের ওপর অত্যধিক নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে সরকারের কৌশল বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, অভ্যন্তরীণ গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে এলপিজি-র পাশাপাশি ‘পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস’ (পিএনজি)-এর ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত এক দশকে পিএনজি সংযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং সাম্প্রতিক দিনগুলিতে এই প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা হয়েছে।
ভারতের আত্মনির্ভরশীলতার স্বপ্নকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, গত বেশ কয়েক বছর ধরে সরকারের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ছিল প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের ওপর নির্ভরতা কমানো। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে ভারতের ৯০ শতাংশেরও বেশি তেল বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজের মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। এমন এক পরিস্থিতি যে কোনও আন্তর্জাতিক সঙ্কটের সময় দেশের ঝুঁকি ও সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় সরকার ‘মেড-ইন-ইন্ডিয়া’ বা ভারতে তৈরি জাহাজ নির্মাণের লক্ষ্যে প্রায় ৭০,০০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প চালু করেছে; পাশাপাশি জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ ভাঙা শিল্প এবং রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও দ্রুতগতিতে চলছে। তিনি আরও বলেন যে, ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রকে এখন অনেক বেশি শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করে তোলা হয়েছে; বর্তমানে দেশের প্রয়োজনীয় অধিকাংশ অস্ত্রশস্ত্রই দেশেই উৎপাদন করা হচ্ছে। এছাড়া, জীবনদায়ী ওষুধের জন্য একটি দেশীয় ‘এপিআই’ পরিমণ্ডল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এবং ‘রেয়ার আর্থ মিনারেলস’ বা বিরল খনিজ আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অধিকতর আত্মনির্ভরশীলতাই হ’ল, এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ এবং এই প্রতিটি ক্ষেত্রেই বড় ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।”
বর্তমান সংকটের অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন অর্থনীতির ভিতকে নাড়িয়ে দিয়েছে এবং পশ্চিম এশিয়ায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে যথেষ্ট সময় লাগবে। তিনি বলেন, ভারতের ওপর এই সঙ্কটের বিরূপ প্রভাব যতটা সম্ভব কম রাখার নিরন্তর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে দেশের শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির উপর সরকারের নজরদারি একটি মজবুত রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী যে, এই সম্মিলিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।”
কৃষি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, আসন্ন মরশুমে কৃষকরা যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সার পান, তা সুনিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সবরকম প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমি আবারও দেশের কৃষকদের আশ্বস্ত করতে চাই, যে কোনও চ্যালেঞ্জের সমাধান খুঁজে পেতে সরকার তাঁদের পাশে রয়েছে এবং এটি আমাদের অবিচল অঙ্গীকার যে, কোনও সঙ্কটের বোঝা যেন তাঁদের উপর না পড়ে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, আগামী দিন দেশবাসীর কাছে একটি বড় পরীক্ষা আসতে চলেছে এবং এই পরীক্ষায় সফল হতে রাজ্যগুলির সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি রাজ্য সরকারগুলির কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘পিএম গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’-র সুফলগুলি যেন যথাসময়ে সুবিধাপ্রাপকদের কাছে পৌঁছানোর বিষয়টি সুনিশ্চিত করা হয়; কারণ সঙ্কটের সময় দরিদ্র মানুষ, শ্রমিক এবং পরিযায়ী শ্রমিকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হন। পরিযায়ী শ্রমিকদের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং রাজ্য সরকারগুলির পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সঙ্কটের এই সময়ে কালোবাজারি ও মজুতদাররা অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে; তাই যেখানেই এ ধরনের অভিযোগ উঠবে, সেখানেই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “অত্যাবশ্যকীয় পণ্যসামগ্রীর নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ সুনিশ্চিত করা প্রতিটি রাজ্যেরই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত এবং আমি সকল রাজ্য সরকারের প্রতি বিনীত আবেদন জানাচ্ছি, তারা যেন এটি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।” সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী রাজ্য সরকারগুলির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সঙ্কটের তীব্রতা বা মাত্রা নির্বিশেষে ভারতের শক্তিশালী অগ্রগতির ধারা যেন অব্যাহত থাকে এবং প্রতিটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও সংস্কার যেন দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়িত হয়। কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ের ‘টিম ইন্ডিয়া’ র কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া সত্ত্বেও নমুনা পরীক্ষা, টিকাকরণ এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে একে অন্যের সঙ্গে সহযোগিতা করেছিল, ঠিক সেই একইভাবে এখন দেশকে পথ দেখাতে হবে। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “সমস্ত রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দেশ এই গুরুতর আন্তর্জাতিক সঙ্কটকে যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে; আমাদের সেই একই ‘টিম ইন্ডিয়া’র চেতনাকে সঙ্গী কড়ে এগিয়ে যেতে হবে।”
এই চ্যালেঞ্জের অনন্য প্রকৃতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, বর্তমানের এই সঙ্কট এক ভিন্ন ধরনের সঙ্কট এবং এর সমাধানের জন্যও ভিন্ন ধরনের পন্থার প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদী বলেন, “আমাদের অবশ্যই ধৈর্য, সংযম এবং শান্ত মনে প্রতিটি চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে।”
দৃঢ় সংকল্পের বার্তা দিয়ে নিজের ভাষণ শেষ করার সময় প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, পরিস্থিতি প্রতি মুহূর্তে বদলাচ্ছে এবং যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় ভারতের নাগরিকদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি। এই যুদ্ধের বিরূপ প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্ক করার পাশাপাশি, তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে এক সুদৃঢ় আশ্বাসও প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, “সরকার সর্বদা সতর্ক ও সজাগ রয়েছে, সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তার কৌশল প্রণয়ন ও প্রতিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে। এই দেশের মানুষের কল্যাণই আমাদের অগ্রাধিকার; এটিই আমাদের পরিচয় এবং এটিই আমাদের শক্তি।”
SC/MP/SB
Speaking in the Rajya Sabha. https://t.co/NAcbZLZq7P
— Narendra Modi (@narendramodi) March 24, 2026
होर्मुज़ स्ट्रेट में दुनिया के अनेक जहाज़ फंसे हैं, उनमें बहुत बड़ी संख्या में भारतीय क्रू मेंबर्स हैं।
— PMO India (@PMOIndia) March 24, 2026
ये भी भारत के लिए एक बड़ी चिंता का विषय है।
ऐसी विकट परिस्थिति में आवश्यक है कि भारत की संसद के इस उच्च सदन से शांति और संवाद की एकजुट आवाज़ पूरे विश्व में जाए: PM…
गल्फ देशों में करीब एक करोड़ भारतीय रहते हैं, वहां काम करते हैं।
— PMO India (@PMOIndia) March 24, 2026
उनके जीवन और आजीविका की सुरक्षा भी भारत के लिए बहुत बड़ी चिंता है: PM @narendramodi
पश्चिम एशिया में चल रहे इस युद्ध को तीन सप्ताह से अधिक का समय हो चुका है।
— PMO India (@PMOIndia) March 24, 2026
इस युद्ध ने पूरे विश्व में गंभीर ऊर्जा संकट पैदा कर दिया है: PM @narendramodi
कमर्शियल जहाजों पर हमला और होर्मुज स्ट्रेट जैसे अंतर्राष्ट्रीय जलमार्ग में रुकावट अस्वीकार्य है।
— PMO India (@PMOIndia) March 24, 2026
भारत ने नागरिकों पर, सिविल इंफ्रास्ट्रक्चर पर, एनर्जी और ट्रांसपोर्ट से जुड़े इंफ्रास्ट्रक्चर पर हमलों का विरोध किया है: PM @narendramodi
युद्ध की शुरुआत के बाद से मैंने पश्चिम एशिया के ज्यादातर देशों के राष्ट्राध्यक्षों के साथ दो राउंड फोन पर बात की है।
— PMO India (@PMOIndia) March 24, 2026
हम गल्फ के सभी देशों के साथ लगातार संपर्क में हैं।
हम ईरान, इजरायल और अमेरिका के साथ भी संपर्क में हैं।
हमारा लक्ष्य डायलॉग और डिप्लोमेसी के माध्यम से क्षेत्र…
भारत डिप्लोमेसी के ज़रिए, युद्ध के इस माहौल में भी भारतीय जहाज़ों के सुरक्षित आवागमन के लिए सतत प्रयास कर रहा है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 24, 2026
युद्ध के बाद से ही होर्मुज स्ट्रेट में जहाजों का आना जाना बहुत चुनौतीपूर्ण हो गया है।
— PMO India (@PMOIndia) March 24, 2026
लेकिन विपरीत परिस्थितियों के बावजूद, हमारी सरकार ने संवाद से, कूटनीति के माध्यम से...रास्ते बनाने का प्रयास किया है: PM @narendramodi
प्रयास ये है कि जहां से भी संभव हो, वहां से तेल और गैस की सप्लाई भारत पहुंचे।
— PMO India (@PMOIndia) March 24, 2026
ऐसी हर कोशिश के नतीजे भी देश देख रहा है।
बीते कुछ दिनों में दुनिया के अनेक देशों से कच्चा तेल और LPG से भरे जहाज़ भारत आए हैं।
इस दिशा में हमारे प्रयास, आने वाले दिनों में भी जारी रहेंगे: PM…
हमारी economy के fundamentals मज़बूत हैं।
— PMO India (@PMOIndia) March 24, 2026
और सरकार पल-पल बदलते हालात पर नज़र रखे हुए है।
सरकार, इसके short-term, medium-term और long-term,ऐसे हर प्रभाव के लिए एक रणनीति के साथ काम कर रही है: PM @narendramodi
सरकार ने खाद की पर्याप्त सप्लाई के लिए आवश्यक तैयारियां की हैं।
— PMO India (@PMOIndia) March 24, 2026
सरकार का निरंतर प्रयास है कि किसानों पर किसी भी संकट का बोझ न पड़े।
मैं देश के किसानों को फिर आश्वस्त करूंगा कि सरकार, हर चुनौती के समाधान के लिए उनके साथ खड़ी है: PM @narendramodi