পিএমইন্ডিয়া
নতুন দিল্লি, ১৭ মে ২০২৬
ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী এবং নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মহামান্য রব জেটেন, ১৬ মে ২০২৬ তারিখে হেগে- তে অনুষ্ঠিত তাঁদের বৈঠকে, সুনির্দিষ্ট ও সময়সীমা-বদ্ধ উদ্যোগ এবং যৌথ কর্মপরিকল্পনা অনুসরণের মাধ্যমে ভারত-নেদারল্যান্ডস দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করতে সম্মত হয়েছেন। এই লক্ষ্যে, ভারত ও নেদারল্যান্ডস আগামী ৫ বছরের (২০২৬-২০৩০) জন্য ‘ভারত-নেদারল্যান্ডস কৌশলগত অংশীদারিত্বের রূপরেখা গ্রহণ করেছে।
উভয় পক্ষ নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে সম্মত হয়েছে:
১. রাজনৈতিক সংলাপ
ক. সরকার/রাষ্ট্রপ্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রিসভার মন্ত্রীদের মধ্যে নিয়মিত ভিত্তিতে বৈঠক ও পারস্পরিক সফর বজায় রাখা; যার মধ্যে বহুপাক্ষিক ইভেন্টগুলোর ফাঁকে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
খ. পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে একটি কার্যপদ্ধতি চালু করা, যা এই কৌশলগত অংশীদারিত্বের রূপরেখার অগ্রগতির পর্যালোচনা করতে এবং ভবিষ্যতের পদক্ষেপগুলোর জন্য কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করতে বার্ষিক বৈঠক আয়োজন করবে।
গ. অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট সকল খাতে সহযোগিতা গভীরতর করার লক্ষ্যে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলোর প্রধানদের মধ্যে বৈঠক ও মতবিনিময় জোরদার করবে।
২. অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ
ক. সামগ্রিক ‘যৌথ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিটির’ (জেটিআইসি) বার্ষিক বৈঠকগুলোকে কাজে লাগিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বাজার প্রবেশাধিকার এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য শক্তি, টেলিযোগাযোগ, সামুদ্রিক খাত, পরিকাঠামো ও নগর উন্নয়ন, উদ্ভাবন, ইলেকট্রনিক্স, সেমিকন্ডাক্টর, কৃষি, ঔষধ ও চিকিৎসা প্রযুক্তি, জৈব রাসায়নিক, বস্ত্রশিল্প, লোহা ও ইস্পাত এবং অ্যালুমিনিয়ামের মতো উচ্চ সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। এই লক্ষ্য অর্জনে উভয় পক্ষের কোম্পানিগুলোর মধ্যে যৌথ উদ্যোগ, শিল্প অংশীদারিত্ব এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হবে।
খ. শিল্প ও অর্থনৈতিক সমিতি এবং বাণিজ্য চেম্বারগুলোর সম্পৃক্ততার মাধ্যমে, একে অপরের বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ এবং ব্যবসায়িক ফোরাম আয়োজনের ক্ষেত্রে উৎসাহিত করবে।
গ. বিনিয়োগ সহজতর করবে এবং কোনো সমস্যা দেখা দিলে তার সমাধানের লক্ষ্যে গঠিত দ্বিপাক্ষিক দ্রুত নিষ্পত্তিকারী ব্যবস্থার কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করবে।
ঘ. সরবরাহ শৃঙ্খলের বৈচিত্র্যায়নের লক্ষ্যে, গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সমগ্র মূল্য শৃঙ্খল জুড়ে একটি দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত যৌথ অংশীদারিত্বের সুযোগ অন্বেষণ ও তা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। এই উদ্যোগটি ‘গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ, অনুসন্ধান, গবেষণা ও উদ্ভাবন, মূল্য শৃঙ্খলের একত্রীকরণ, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা, বৃত্তাকার অর্থনীতি, ইএসজি মানদণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট মূল্যায়ন’-এর ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় পরিচালিত হবে।
ঙ. নবায়নযোগ্য শক্তি, টেকসই কৃষি, সামুদ্রিক খাত, পরিকাঠামো, ঔষধশিল্প, মেডটেক এবং উচ্চ-প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোতে ভারত ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে চিহ্নিত পারস্পরিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে। এই লক্ষ্যে, উভয় পক্ষই ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা (বি টু বি) সংযোগ স্থাপনে সহায়তা প্রদান করবে; যৌথ উদ্যোগ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে সমর্থন জানাবে; এবং জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্পের মধ্যকার সহযোগিতাকে উৎসাহিত করবে। টেকসই প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থিতিস্থাপক মূল্য শৃঙ্খলকে এগিয়ে নিতে – ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (এসএমই) অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে, বিনিয়োগ সুবিধা বৃদ্ধি করবে এবং উদ্ভাবন-সহায়ক পরিবেশকে শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হবে।
৩. জল, কৃষি ও স্বাস্থ্য
ক. ২০২২ সালের মার্চে স্বাক্ষরিত এবং ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত চলমান ‘জল বিষয়ক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ নবায়নের যৌথ আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করবে; এবং জল বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ কার্যনির্বাহী গোষ্ঠীর মাধ্যমে এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে।
খ. গঙ্গা অববাহিকায় সমন্বিত জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা, নগর জল ব্যবস্থাপনা, বন্যা সহনশীলতা, নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই জলের গুণমান ও প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে।
গ. জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্টার্ট-আপ প্রচারের মাধ্যমে ‘জাতীয় স্বচ্ছ গঙ্গা মিশন’-এর চলমান কাজে সহায়তা করার জন্য ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স অন ওয়াটার’-কে কাজে লাগাবে।
ঘ. এর কাঠামোতে ‘নগর নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা’ এবং জলই শক্তি দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রচার ও একীভূত করে ভারতের সম্মত শহরগুলির জন্য নগর নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করা এবং প্রকল্পের মাধ্যমে এর প্রয়োগকে উৎসাহিত করা, যার মাধ্যমে ‘জল কর্মসূচী’র যৌথ অঙ্গীকার পূরণ হবে।
ঙ. ভারত-নেতৃত্বাধীন দুর্যোগ-সহনশীল পরিকাঠামো জোট (সিডিআরআই)-এর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য গ্রহণ করা নানা উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত এবং বিশ্বব্যাপী দুর্যোগ-সহনশীল নগর জল পরিকাঠামোর উন্নয়ন ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
চ. কৃষি ও পশুপালন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার ও প্রসারের জন্য যৌথ কৃষি ওয়ার্কিং গ্রুপকে অব্যাহত রাখবে, যা এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত কিন্তু সীমাবদ্ধ নয়: ভারত-নেদারল্যান্ডস সেন্টার অফ এক্সিলেন্স-এর অগ্রগতি পর্যালোচনা, ফাইটোস্যানিটারি ও ভেটেরিনারি বাজারে প্রবেশাধিকার, জলবায়ু সহনশীল কৃষিতে যৌথ সহায়তা, দায়িত্বশীল ভ্যালু চেইন এবং বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা।
ছ. কৃষি-প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি বিষয়ে বিনিময়, জ্ঞান বিনিময় ও দক্ষতা উন্নয়নকে উৎসাহিত করা এবং নতুন কৃষি প্রযুক্তির সহ-উন্নয়নে সহায়তা করা, যেমন – ক্লিন প্ল্যান্ট সেন্টার তৈরি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে স্টার্টআপগুলোকে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে।
জ. স্বাস্থ্যসেবা ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সমঝোতা স্মারক এবং এর যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের অধীনে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সহজতর করার মাধ্যমে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলা করা, যেখানে অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্র যেমন – সীমান্তবর্তী সংক্রামক রোগ ও অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর), অসংক্রামক রোগ (এনসিডি), ডিজিটাল স্বাস্থ্য (এআই এবং সাইবার নিরাপত্তা সহ), জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির উপর বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে। ডাচ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক হেলথ অ্যান্ড দ্য এনভায়রনমেন্ট (আরআইভিএম) এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত লেটার অফ ইন্টেন্ট-এর মাধ্যমে এই সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে সংক্রামক রোগ, বাহকবাহিত রোগ, ওয়ান হেলথ এবং রোগ নজরদারি।
ঝ. জুন ২০২৫-এ স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এবং উক্ত সমঝোতা স্মারকের অধীনে গঠিত যৌথ কার্যনির্বাহী দলের নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে – ঔষধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হবে; যার লক্ষ্য হলো একটি স্থিতিস্থাপক বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে সহায়তা প্রদান এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনকে শক্তিশালী করা। এই সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে – অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি – একাডেমিক সহযোগিতা, নিয়ন্ত্রণমূলক সহযোগিতা, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সম্পৃক্ততা এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ বিষয়ক জ্ঞান বিনিময়।
ঞ. নেদারল্যান্ডস খাদ্য ও ভোক্তা পণ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ (এনভিডাব্লুএ) এবং ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই)-এর মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে বর্ণিত রূপরেখা অনুযায়ী – খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক কর্তৃপক্ষের পারস্পরিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে জ্ঞান বিনিময় করা হবে। এই বিনিময়ের মূল বিষয়বস্তু হবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, বিজ্ঞপ্তি ও সহযোগিতার কার্যপদ্ধতি এবং ইলেকট্রনিক (সনদপত্র প্রদান) ব্যবস্থার ব্যবহার।
৪. উদীয়মান প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, বিজ্ঞান ও শিক্ষা
ক. ভারত ও নেদারল্যান্ডসের জাতীয় গবেষণা অগ্রাধিকারসমূহ বিবেচনায় রেখে, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সহযোগিতার জন্য বিদ্যমান যৌথ কার্যনির্বাহী গোষ্ঠীর মাধ্যমে সরকার, শিক্ষাঙ্গন এবং শিল্পখাতকে সম্পৃক্ত করে সেমিকন্ডাক্টর, এআই, সাইবারসিকিউরিটি, শক্তি উপকরণ এবং বায়োমলিকুলার ও সেল প্রযুক্তির মতো মূল সহায়ক প্রযুক্তিগুলোর উপর বিশেষ জোর দিয়ে উদ্ভাবন ও গবেষণা সহযোগিতা বাড়াবে।
খ. সেমিকন্ডাক্টর এবং সংশ্লিষ্ট উদীয়মান প্রযুক্তি বিষয়ে ভারত-নেদারল্যান্ডস অংশীদারিত্বের সমঝোতা স্মারকটিকে কাজে লাগিয়ে:
১. ভারত ও নেদারল্যান্ডস উভয়ের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার জন্য সহযোগিতার নতুন পথ অন্বেষণ করবে।
২. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ফোটোনিক্স, কোয়ান্টাম এবং সাইবার-সিকিউরিটির মতো খাতে উভয় দেশে প্রযুক্তি মূল্য শৃঙ্খল অংশীদারিত্ব গড়ে তুলে উদীয়মান প্রযুক্তিতে গবেষণা ও উন্নয়নে সহযোগিতা প্রসারিত করবে।
৩. ডাচ সেমিকন কম্পিটেন্স সেন্টারকে ইন্ডিয়ান সেমিকন্ডাক্টর মিশনের সঙ্গে সংযুক্ত করা, যাতে সহযোগিতা, প্রযুক্তি ও প্রতিভা বিকাশের মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টর খাতকে, বিশেষত শিল্প, স্টার্টআপ, স্কেল-আপ, এসএমই এবং তাদের সরবরাহকারীদের সমর্থন ও শক্তিশালী করা যায়।
গ. সেমিকন্ডাক্টর এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে একটি মেধা সেতু তৈরির জন্য আইন্দহোভেন ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি ও ইউনিভার্সিটি অফ টোয়েন্টি এবং ভারতের ছয়টি শীর্ষস্থানীয় কারিগরি প্রতিষ্ঠানের (আইআইএসসি ব্যাঙ্গালোর, আইআইটি বোম্বে, আইআইটি দিল্লি, আইআইটি গান্ধীনগর, আইআইটি গুয়াহাটি এবং আইআইটি মাদ্রাজ) মধ্যে স্বাক্ষরিত সহযোগিতা স্মারকলিপিকে সমর্থন করা, যা এনএক্সপি, এএসএমএল, টাটা এবং সিজি সেমি দ্বারা সমর্থিত।
ঘ. উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডস-ভারত সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন করা এবং জ্ঞান প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরও সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা প্রতিষ্ঠা ও কার্যকর করতে নিয়মিত আলোচনা করবে।
ঙ. স্টেম ক্ষেত্রের মতো শিক্ষামূলক এবং গবেষণামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি ও শক্তিশালী করবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম অন্বেষণ করবে।
চ. ভারত ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে চলমান মহাকাশ অংশীদারিত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে, সরকারি, শিল্প এবং একাডেমিক স্তরে আরও সহযোগিতার ক্ষেত্র অন্বেষণ করা যেতে পারে, যার মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন, জল সমস্যা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং বায়ুর গুণমানসহ সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মহাকাশ-ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
৫. শক্তি রূপান্তর, সুস্থায়ী উন্নয়ন এবং সামুদ্রিক উন্নয়ন
ক. নবায়নযোগ্য শক্তির উপর একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা এবং সর্বোত্তম অনুশীলন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য নিয়মিত সভা করা, একে অপরের শিল্প বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি করা এবং সবুজ হাইড্রোজেন, জৈবশক্তি, জৈব-রাসায়নিক বা চক্রাকার ফিডস্টক, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং ব্যাটারি স্টোরেজের ক্ষেত্রে শিল্প অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা সহজতর করবে।
খ. নবায়নযোগ্য হাইড্রোজেন ক্ষেত্রে যৌথ কার্যক্রমের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সহযোগিতা করা; এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে ভারত ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে একটি গ্রিন করিডোর স্থাপন।
গ. জলবায়ু বিষয়ক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার লক্ষ্যে একটি যৌথ কার্যনির্বাহী গোষ্ঠী গঠনের মাধ্যমে পরিবেশ ক্ষেত্রে জোরালো সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র অন্বেষণ করবে; পাশাপাশি জলবায়ু অভিযোজন ও প্রশমন বিষয়ে সর্বোত্তম অনুশীলন, জ্ঞান এবং প্রযুক্তি বিনিময় করবে।
ঘ. ‘গ্লোবাল বায়োফুয়েলস অ্যালায়েন্স’, ‘ইন্টিগ্রেটেড বায়োরিফাইনারিজ মিশন’, ‘ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স’ এবং ‘সুস্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কমবিট্রেক’ -এর মতো উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে বায়োফুয়েল, বৃত্তাকার অর্থনীতি এবং বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদন বিষয়ক দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করতে যৌথভাবে কাজ করবে।
ঙ. একটি নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং সুস্থায়ী সামুদ্রিক ক্ষেত্রের উন্নয়নে অবদান রাখার লক্ষ্যে – বন্দর, অভ্যন্তরীণ নৌপথ এবং নৌ-পরিবহন খাতে উদ্ভাবনী সবুজ শক্তি সমাধানের প্রসার ঘটানো; পাশাপাশি সামুদ্রিক সহযোগিতা বিষয়ক সম্প্রতি নবায়নকৃত সমঝোতা স্মারক এবং ভারত ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে ‘সবুজ ও ডিজিটাল সমুদ্র করিডোর’ বিষয়ক সম্মত উদ্দেশ্যপত্র -এর আলোকে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা। এই পদক্ষেপ ভারতের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতাকে ইউরোপীয় বাজারের সঙ্গে একীভূত করার মাধ্যমে ভারতের সবুজ হাইড্রোজেন রপ্তানিকেও উৎসাহিত করবে।
চ. ‘সামুদ্রিক সহযোগিতা বিষয়ক যৌথ কার্যনির্বাহী গোষ্ঠী’-র কাঠামোর আওতায়, উভয় দেশ একটি পূর্ণাঙ্গ সবুজ ও ডিজিটাল সমুদ্র করিডোর বিষয়ক রূপরেখা অন্বেষণ করবে; যার মূল লক্ষ্য হলো ভারত ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে একটি পরিবেশগতভাবে টেকসই, ডিজিটালভাবে সমন্বিত এবং অর্থনৈতিকভাবে দক্ষ ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত সামুদ্রিক করিডোর গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করবে।
ছ. স্থানিক পরিকল্পনা ও নগর উন্নয়ন বিষয়ক সমঝোতা স্মারকের অধীনে গঠিত একটি ‘যৌথ কার্যনির্বাহী গোষ্ঠী’-র মাধ্যমে সুস্থায়ী নগর উন্নয়ন বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্ঞান বিনিময়ের লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করা। কঠিন বর্জ্য ও জল ব্যবস্থাপনা, বৃত্তাকার অর্থনীতি, সক্রিয় নাগরিক যাতায়াত ব্যবস্থা, শূন্য নির্গমন পরিবহন ও চার্জিং পরিকাঠামো এবং নগর জীবনে স্থায়িত্ব ও সুশাসন – এই বিষয়গুলোর আওতায় সহযোগিতার বিশেষ ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করবে।
৬. প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
ক. সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দুটির আন্তর্জাতিক সামরিক সহযোগিতা বিষয়ক অধিদপ্তরগুলোর মধ্যে একটি সুসংগঠিত যৌথ ত্রি-বাহিনী (স্থল, নৌ ও বিমান) মিথস্ক্রিয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা; যার লক্ষ্য হবে প্রতিরক্ষা শিল্প ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোর মধ্যকার সহযোগিতাসহ দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতার সমন্বয় সাধন করা।
খ. নৌ মহড়াগুলোতে পারস্পরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে এবং আইএফসি- আইওআর-এ সুনির্দিষ্ট ও প্রয়োজনমাফিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে সামুদ্রিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
গ. ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নেদারল্যান্ডসের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র বাহিনীগুলোর মধ্যে মিথস্ক্রিয়াকে উৎসাহিত করা; যার উদ্দেশ্য হলো ‘ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগর উদ্যোগ’ (আইপিওআই) এবং ‘ভারত মহাসাগরীয় নৌ সিম্পোজিয়াম’ (আইওএনএস)-এর কাঠামোর আওতায় সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
ঘ. সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা মন্ত্রকদুটির মধ্যে সামরিক প্ল্যাটফর্ম ও সরঞ্জাম বিষয়ক প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র বা উপায় অন্বেষণ করবে।
ঙ. দুই প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মধ্যে একটি ‘প্রতিরক্ষা শিল্প রোডম্যাপ’ প্রণয়নের লক্ষ্যে কাজ করা; যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট খাতভিত্তিক সংগঠন—‘সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ান ডিফেন্স ম্যানুফ্যাকচারার্স’ (এসআইডিএম) এবং ‘নেদারল্যান্ডস ইন্ডাস্ট্রি ফর ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি’ (এনআইডিভি)—এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্প ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোর মধ্যেকার সহযোগিতাকে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।
চ. ‘পারস্পরিক লজিস্টিক সহায়তা চুক্তি’ স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ মহড়া চলাকালীন সামরিক ইউনিট বা দলগুলোকে লজিস্টিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সম্ভাব্যতা যাচাই করবে।
৭. নিরাপত্তা সহযোগিতা
ক. প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, জ্ঞান-নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মত অন্যান্য বিষয়সহ – ঐতিহ্যবাহী ও অ-ঐতিহ্যবাহী নিরাপত্তা বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত মতবিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে।
খ. দ্বিপাক্ষিক সাইবার সংলাপ ও সম্পৃক্ততাকে জোরদার করা; যার লক্ষ্য হলো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে বর্ধিত সাইবার সহযোগিতা বিষয়ক উদ্দেশ্যপত্র -এর বাস্তবায়নে সহায়তা করা। এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে বহুপাক্ষিক ফোরামগুলোতে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় সাধন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে সাইবার হুমকি ও সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় যৌথ প্রচেষ্টা চালানো।
গ. দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহযোগিতা জোরদার করা। এর অংশ হিসেবে হুমকির মূল্যায়ন ও সর্বোত্তম অনুশীলন বিষয়ক তথ্য আদান-প্রদান করা এবং জাতিসংঘের মঞ্চে ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ কনভেনশন’ গ্রহণের লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করা।
ঘ. একটি ‘পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তি’ এবং একটি নতুন ‘প্রত্যর্পণ চুক্তি’ চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়া।
ঙ. ‘ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগর উদ্যোগ’ (আইপিওআই)-এ নেদারল্যান্ডসের সদস্যপদ গ্রহণের প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
৮. অভিবাসন, যাতায়াত এবং কনস্যুলার বিষয় সম্পর্কিত
ক. ভারত ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ও ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ বন্ধনকে স্বীকৃতি প্রদান এবং এই বন্ধনে নতুন গতি সঞ্চারের অভিপ্রায় জানাতে হবে।
খ. পরস্পরের দেশে সুষ্ঠু অভিবাসন ও যাতায়াতের সুযোগ করে দিতে সংকল্পবদ্ধ থাকবে।
গ. অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় যৌথভাবে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকবে।
ঘ. শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ, ডক্টরাল গবেষক, সাধারণ গবেষক এবং তরুণ পেশাজীবীসহ উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের সুষ্ঠু যাতায়াতের সুবিধার্থে সহযোগিতা করবে।
ঙ. যাতায়াত ও অভিবাসন বিষয়ক সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন করবে।
চ. ‘ভারত-নেদারল্যান্ডস কনস্যুলার সংলাপ’-এর মাধ্যমে অমীমাংসিত কনস্যুলার বিষয়াবলি নিয়ে নিয়মিত মতবিনিময় করবে।
৯. সংস্কৃতি এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আদান-প্রদান
ক. ধারাবাহিক সংলাপ, বিনিময় কর্মসূচি এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা; যার অন্তর্ভুক্ত থাকবে ঐতিহ্যবাহী স্থান ও ভবনসমূহের সংরক্ষণ ও সংস্কার বিষয়ক জ্ঞান বিনিময়।
খ. সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে চলমান প্রচেষ্টাসমূহকে স্বাগত জানানো; যার মূল লক্ষ্য হলো নকশা (ডিজাইন), দৃশ্যকলা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পরিবেশনকলা এবং জাদুঘর খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা।
গ. সাংস্কৃতিক নিদর্শনাবলির প্রত্যাবর্তন ও পুনরুদ্ধারের অনুরোধসমূহ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা।
ঘ. পারস্পরিক জ্ঞান ও বোঝাপড়া গভীরতর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগসমূহকে উৎসাহিত করা; যার অংশ হিসেবে জাদুঘরগুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ঙ. উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ এবং পর্যটকদের যাতায়াত বৃদ্ধি করবে।
চ. দ্বিপাক্ষিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে প্রাণবন্ত ভারতীয় ও ডাচ জনগোষ্ঠী – পাশাপাশি নেদারল্যান্ডসে বসবাসরত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী ভারতীয়ের – অবদানকে স্বীকৃতি প্রদান করবে।
SC/SB/AS