Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রীর কমনওয়েলথ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ভারতীয় পদক জয়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়


নয়াদিল্লি, ১০  অগাস্ট  ২০২৬

 

প্রধানমন্ত্রী : আমি এখানে গত ১২-১৩ বছর ধরে থাকি, আর এখানে নিয়মিতভাবে যাঁদের আমন্ত্রণ জানাই, যাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি, তাঁরা সকলেই ক্রীড়াবিদ। গত ১০-১২ বছরে আপনাদের নৈপুণ্যের কারণে ভারত নিয়মিত সাফল্য অর্জন করছে। আপনাদের উদ্যোগের জন্য সেই সাফল্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে কাজ আমরা স্কুলে গিয়ে করতে পারিনি, সেই কাজ এখন আপনাদের করতে হবে। আপনারা স্কুলে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের উদ্বুদ্ধ করবেন, আপনাদের পদকগুলি তাঁদের অনুপ্রাণিত করবে। 

প্রধানমন্ত্রী : আগেরবার তুমি আমাকে কথা দিয়েছিলে তোমার দুই মেয়েকেই খেলাধুলার জগতে নিয়ে আসবে। 

খেলোয়াড় : হ্যাঁ, ওরা তো এখনও ছোট। আগামী বছর কমনওয়েলথে আমি ৩টি পদক নিয়ে আসব।

প্রধানমন্ত্রী : ঠিক তো ? 

খেলোয়াড় : হ্যাঁ, একদম।

খেলোয়াড় : যখন আমি দৌড়াচ্ছিলাম, আমার ইভেন্ট ছিল ২৯ তারিখে, সেই দিন ছিল গুরু পূর্ণিমা। ওই দিন আমার গুরুকে আমি এই উপহার দিয়েছি।  

প্রধানমন্ত্রী : অনেক অভিনন্দন আপনাকে, আপনি এতো কাঁদছিলেন যে মনে হচ্ছিল আপনার চোখ দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা স্বর্ণপদক বেরিয়ে আসছিল। 

খেলোয়াড় : আমার খুব আনন্দ হচ্ছিল, আমি আবেগাপ্লুত   হয়ে পড়েছিলাম, তাই চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে এসেছিল। প্যারিস অলিম্পিকে ১ কেজির কারণে আমি পদক পাইনি। একজন খেলোয়াড়ের জীবনে অনেক প্রতিকূলতা আসে। গত ৪ বছরে আমি অনেক কিছুর সম্মুখীন হয়েছি, বিভিন্ন সময়ে আহত হয়েছি, পারিবারিক নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। গত ৪টে বছরে আমি নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিলাম। যখন পোডিয়ামে উঠে দাঁড়ালাম, তখন আমাদের পতাকা উত্তোলনের সময় জাতীয় সঙ্গীতের সুর বেজে উঠেছিল, তখন স্যার আমি নিজেকে আর সামলাতে পারিনি, জানেন। আপনা আপনি চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে আসছিল।

প্রধানমন্ত্রী : অনেক অনেক অভিনন্দন।

প্রধানমন্ত্রী : আপনার এই সাফল্য যে শুধুমাত্র আপনারই সাফল্য তা কিন্তু নয়, আপনার এই পদকপ্রাপ্তি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে  অনুপ্রাণিত করবে।

খেলোয়াড় : আমাকে নিয়ে সবাই খুব আতঙ্কে ছিল। প্রথম রাউন্ডে যদি আমি হেরে যাই তাহলে ভারতের জন্য আমরা আর পদক আনতে পারবো না।

প্রধানমন্ত্রী : মনের মধ্যে এই ভাবনাই ছিল।

খেলোয়াড় : হ্যাঁ স্যার।

প্রধানমন্ত্রী : কী হল, রেস্টুরেন্টওয়ালার সঙ্গে ঝগড়া করছিলেন?

খেলোয়াড় : আমরা খুব ভালো খেলেছি, শেষ দিনে যখন আমরা পদক জিতেছি আর আর সেই জয় ছিল পুরো ভারতের, তো সেই সময় আমার একটু খারাপ লেগেছিল। তাই স্যার আমি তাঁকে অনুরোধ করেছি, আর উনি সেটা মেনেও নিয়েছেন। আর এখন প্রয়োজনীয় পরিবর্তনও করেছেন। 

প্রধানমন্ত্রী : জয়লাভের মুহুর্তে যে আনন্দ আপনি আপনার বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন সেই সময়কালে আপনারা খুশিতে ভরপুর ছিলেন। সেই অবস্থায় ওই মানচিত্রের দিকে আপনার নজর পড়েছে এবং দ্রুত বিষয়টি আপনি উত্থাপন করেছেন। অর্থাৎ শুধুমাত্র পদক জয়ের সময়ই দেশের কথা মনে পড়বে তা নয়, দেশের জন্য প্রতি মুহুর্তে ভাবনাচিন্তা করার এই বিষয়টি কোনোও সাধারণ বিষয় নয়। অনেকদিন পর্যন্ত সবার মনে এটা থাকবে। এখন বক্সিং খেলোড়দের সারা পৃথিবীর খেলোয়াড়রা ভয় পাবেন।

খেলোয়াড় : একদম ঠিক বলেছেন স্যার। একটার পর একটা স্বর্ণপদক আমরা জিতে নিচ্ছিলাম, শেষের পরিস্থিতিটি সেরকমই দাঁড়িয়ে ছিল। যেভাবে আমাদের সবাই সমর্থন করছিলেন, আমরা পর পর প্রতিযোগিতাগুলিতে এগিয়ে যাচ্ছিলাম, এটা সত্যিই দারুণ এক বিষয় ছিল। আর আমাদের জয়লাভের ফলে তরুণ খেলোয়াড়রা যেভাবে খেলো ইন্ডিয়া স্কিমের সুফল পাচ্ছে তার ফলে পুরো ক্রীড়া জগতে বিশাল এক পরিবর্তন এসেছে। 

প্রধানমন্ত্রী : আপনারা যদি খেলো ইন্ডিয়াকে আরও সফল করে তুলতে চান এবং এই সাফল্য অর্জন শুধুমাত্র ফিতে কাটার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে না চান, তাহলে আপনারা এমনভাবে ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করুন যাতে স্কুলের ছোট ছোট পড়ুয়ারা খেলাধুলায় উৎসাহিত হয়। এর ফলে অনেক লাভ হবে। কারণ আমাদের তো আরও এগিয়ে যেতে হবে, আরও পদক জয়লাভ করতে হবে। কার্গিল বিজয় দিবসের দিন কে পদক জিতেছিলেন? 

খেলোয়াড় : যেদিন কার্গিল দিবস ছিল, সেইদিনই আমি পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্বিতা করছিলাম। আমি ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য, এইদিন প্রথম থেকেই আমার মনে হচ্ছিল, পাকিস্তানকে হারাতেই হবে। তো আমি পাকিস্তানকে এক তরফা ভাবে ৫-০ হারিয়েছি। আমি সেই জয় আমাদের ভারতের সেনাবাহিনীর কার্গিল হিরোদের উৎসর্গ করেছি।

প্রধানমন্ত্রী : আপনার মনে যখন এই ভাবনা ছিল এবং আপনি নিজে সেনাবাহিনীর সদস্য, তো এ বিষয়ে আমাকে মানতেই হবে যে বীর সৈনিকদের প্রতি আপনার যে মনোভাব, তার ওপর ভিত্তি করেই আপনি কার্গিল বিজয়ীদের আপনার পদক উৎসর্গ করেছেন। এর ফলে এই পদক জয় নতুন এক মাত্রা পেয়েছে। আর যাদের আপনি হারাতে চেয়েছেন তাদের সহজেই পরাজিত করেছেন।  

খেলোয়াড় : পাকিস্তানের প্রসঙ্গ যখন উঠেছে তখন আমার একটি ঘটনা মনে পড়ল। ২০১৫ সালে ওয়ার্ল্ড মিলিটারি গেমে আমার প্রথম প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন পাকিস্তানের এক খেলোয়াড়। সেই দিন সেনাবাহিনী থেকে আমাকে ফোন করে বলা হয়েছিল পাকিস্তানের কাছে আমাদের হেরে গেলে চলবে না। তো আমি ফার্স্ট রাউন্ডে ৪-১এ জিতে গিয়েছিলাম। সেকেন্ড রাউন্ডেও ৩-২এ জিতে গেছি। এইভাবে সেই ইভেন্টে স্যার আমি জয়লাভ করেছি। আমাদের দুজনেরই মাথা ফেটে গিয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী : হ্যাঁ।

খেলোয়াড় : খেলার পর দুজনকেই হাসপাতালে যেতে হয়। আবার ২০১৪ সালে আপনি যখন প্রথম প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন, সেই সময় আমাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর যে কোচ ছিলেন তাঁর নাম ছিল নরেন্দ্র রানা। আমি সেই সময় বেশ মজার এক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলাম। পাকিস্তানের এক প্রতিদ্বন্দ্বী আমাকে বলেন, ভাইজান একটা কথা বলবো, আপনাদের কোচের নাম কি নরেন্দ্র। আপনার নামও নরেন্দ্র। আপনাদের প্রধানমন্ত্রীর নামও নরেন্দ্র। আমার এই নরেন্দ্র নামটাতেই ঘৃণা জন্মাচ্ছে। 

প্রধানমন্ত্রী : আপনি শুধু যে পদকই জিতেছেন তাই নয়, আপনি এক ঐতিহ্য রচনা করেছেন।

খেলোয়াড় : আমার মনও তখন স্যার ধুক-পুক করছিল।

প্রধানমন্ত্রী : আপনি অতো ভাববেন না।

খেলোয়াড় : কিন্তু স্যার…

প্রধানমন্ত্রী : আপনি চাইলে সুন্দর ভাবে কথা বলার জন্য পদকও জিততে পারেন।

খেলোয়াড় :   যখনই আমি আমার বন্ধুদের ভালো  কিছু করার জন্য উতসাহ দিতাম, তাঁদের মধ্যে একজন একবার মন্তব্য করেছিল— “ব্যাপার কী? তুমি কি মোদীর সাথে দেখা করতে যাচ্ছ?”

প্রধানমন্ত্রী : হ্যাঁ। 

খেলোয়াড় :   হরিয়ানার মানুষ প্রায়ই আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি মোদীর সঙ্গে বোঝাপড়া করেছেন? আপনার কথা কেন কেউ শুনবে? আজ আপনার সঙ্গে আমার দেখা হলো, স্যার। এখন আমি তাঁদের বলতে পারব, হ্যাঁ, মোদীজির সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে।

খেলোয়াড় :   কমনওয়েলথ গেমসে রৌপ্যপদক জয়ের কৃতিত্ব আমি সাহেবকেই দিয়েছি। পদক জিতে দেশে ফেরার স্বপ্ন আমার অনেক দিনেরই ছিল, কিন্তু উপযুক্ত কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আমার ছিল না; ‘সাই’ তে যোগ দিয়ে কঠোর প্রশিক্ষণের পরই আমি সেই পদক জিততে পেরেছি। তাই আনন্দের সঙ্গেই আমি সেই কৃতিত্ব স্যার-কে দিয়েছি,  তাঁর জন্যই আমার এত উন্নতি হয়েছিল। 
 

প্রধানমন্ত্রী : এটি আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয়; আপনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং আমাকে মনে রেখেছেন—বন্ধু, আমি আপনার কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। 

প্রধানমন্ত্রী: তুমি বারাণসীতে অনুশীলন করছিলে, তাই না?

খেলোয়াড় :হ্যাঁ স্যার 

প্রধানমন্ত্রী: কেমন হয়েছে স্টেডিয়াম? 

খেলোয়াড় : স্যার, সত্যিই খুব ভালো হয়েছে। আমি সেখানে প্রায় ১০-১২ দিনের প্রশিক্ষণের জন্য গিয়েছিলাম; মন্দির দর্শনের পাশাপাশি আমি  প্রশিক্ষণও নিয়েছি। আমি ওখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চাই, কারণ কাশী বিশ্বনাথকে আমি খুব ভালোবাসি, স্যার। 

প্রধানমন্ত্রী : আপনি ভোপালে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তাই না?

খেলোয়াড় : হ্যাঁ স্যার।
 
প্রধানমন্ত্রী : উজ্জয়িনীতে গিয়েছিলেন নাকি যাননি?

খেলোয়াড় : হ্যাঁ স্যার,  উজ্জয়িনীতেও গিয়েছিলাম। 

প্রধানমন্ত্রী : আচ্ছা, তাহলে  মহাকালেও গিয়েছিলেন। 
খেলোয়াড় : হ্যাঁ স্যার।

প্রধানমন্ত্রী : একবার অবশ্যই কাশী বিশ্বনাথ দর্শন করবেন।

খেলোয়াড় : হ্যাঁ স্যার।

প্রধানমন্ত্রী :  এখন শ্রাবণ মাস।

খেলোয়াড় : আমি আগে বাড়ি গিয়ে তারপর সেখানে যাব, স্যার।

প্রধানমন্ত্রী :   আচ্ছা।  

খেলোয়াড় :  স্যার, সাই-এর কাছ থেকেও আমি প্রচুর সহায়তা পেয়েছি। তাই আমি আজ এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছি। আমি ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পেও অংশ নিয়ে ছিলাম; ২০১৮ সালে আয়োজিত প্রথম ‘খেলো ইন্ডিয়া গেমস’-এ আমি রৌপ্যপদক জিতেছিলাম—এমনকি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আপনাকেও দেখেছিলাম। সেই পদক জয়ের জন্য আমি এই প্রকল্পে জায়গা করে নিতে পারি। এভাবেই আমি এতটা পথ পেরিয়ে এসেছি, স্যার।  

প্রধানমন্ত্রী :   ক্রীড়াক্ষেত্রে পরিকাঠামো এক বিষয়, কিন্তু কোনো দেশ তখনই পদক জয় করে যখন সেখানে একটি ক্রীড়া-সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। বন্ধুরা, আপনারা অসাধারণ এক কৃতিত্ব অর্জন করেছেন এবং দেশ আপনাদের জন্য গর্বিত। আমি আপনাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই; নিশ্চিত থাকুন, ভবিষ্যতেও আপনারা সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখবেন এবং আমাদের সঙ্গে আবারও এখানে দেখা হবে। আপনাদের অনেক ধন্যবাদ ও শুভকামনা। 

প্রধানমন্ত্রী :   দেশের জন্য টানা তৃতীয়বারের মতো পদক জয় করলেন। 

খেলোয়াড় :  থ্যাঙ্ক ইউ স্যার

প্রধানমন্ত্রী :   তোমাকে অনেক আশীর্বাদ করি

খেলোয়াড় :  আর আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ—আমি স্যারের হাত থেকে একটা লাড্ডু খাচ্ছি। গতকাল আমার জন্মদিন ছিল, তাই আজ স্যারের হাত থেকে এটা পাওয়া… 

প্রধানমন্ত্রী :   অনেক অনেক অভিনন্দন! 

প্রধানমন্ত্রী :   একটু তো হাসো। 

প্রধানমন্ত্রী :   যারা খেলে, তারা বিকশিত হবে।

 

 

SC/CB/NS…