পিএমইন্ডিয়া
নতুন দিল্লি ১০ অগাস্ট ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী কমনওয়েলথ গেমসের চ্যাম্পিয়ানদের সঙ্গে কথা বললেন। প্রধানমন্ত্রী গত এক দশকে ভারতীয় ক্রীড়া জগতে পরিস্থিতির রূপান্তরের কথা জানিয়ে বিশেষ করে একটি বিষয় তুলে ধরলেন, সেটি হল তাঁর ১২-১৩ বছরের মেয়াদে বাড়িতে জাতীয় ক্রীড়াবিদদের অভ্যর্থনা জানানোটা একটা নিয়মিত মনে রাখার মতো ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, অদম্য নিষ্ঠার সঙ্গে এবং পরের পর সফলতার মাধ্যমে দেশের জন্য নিয়মিত ভারতীয় অ্যাথলিটদের পদক জয় অনেক বেশি করে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের অনুপ্রাণিত করবে সাধারণ পরামর্শের তুলনায়। শ্রী মোদী বলেন, “আপনাদের পদক তাঁদের অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করবে। স্কুলে গিয়ে তাদের কিছু বলার থেকে বেশি”।
প্রধানমন্ত্রী এক অ্যাথলিটের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, মেয়ের খেলাকে বেছে নেওয়ার পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা, তাঁর অগ্রগতির খোঁজ রাখা এবং তাঁর মেয়েদের কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়া যে, আসন্ন কমনওয়েলথ গেমস থেকে তারা ৩টি পদক নিয়ে বাড়ি আসবে। তিনি উষ্ণতার সঙ্গে তাঁর আত্মবিশ্বাসকে সমর্থন জানান এবং উৎসাহ দেন উৎকর্ষ পাওয়ার জন্য।
প্রধানমন্ত্রী অ্যাথলিটদের গভীর অনুভবী যাত্রার উল্লেখ করেন। বলেন, খেলোয়াড়ের ধৈর্য্য ধরে লেগে থাকার বিষয়ে। এক খেলোয়াড় গুরু পূর্ণিমার দিনে পাওয়া জয় উৎসর্গ করেন প্রশিক্ষককে। আর এক অ্যাথলিট, যিনি বিজয় মঞ্চে ওঠার পর কেঁদে ফেলেন। কারণ ৪ বছর ধরে শারীরিক আঘাত এবং ব্যক্তিগত নানা দুঃখ কষ্ট পেরিয়ে যখন তিনি দেখতে পান জাতীয় পতাকাকে উড়তে, তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ধরনের জাতীয় সাফল্য ব্যক্তিগত সাফল্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দীর্ঘ মেয়াদী অনুপ্রেরণায় পরিণত করে। শ্রী মোদী বলেন, “আপনাদের এই জয় আগামী প্রজন্মের জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।”
প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় অ্যাথলিটরা যেরকম সম্মান পাচ্ছেন, এবং ভয় ধরিয়ে দিতে পারছেন সেই নিয়ে। তিনি বলেন, বিশ্বের প্রতিদ্বন্দ্বীরা কোনো ভারতীয় বিপক্ষের সামনে পড়লে এখন অস্বস্তি বোধ করেন। তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেন, ভারতীয় বক্সারদের উত্থানের কথা। সেইসঙ্গেই স্বীকার করেন, অ্যাথলিটদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, তাদের সাফল্যের পেছনে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির মতো তৃণমূল স্তরের উদ্যোগ এবং সরকারের সহায়তার পরের পর প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়ার একটি রূপান্তরকারী ভূমিকা আছে। শ্রী মোদী বলেন, “বিশ্বের খেলোয়াড়রা এখন এই বক্সারদেরও ভয় পেতে শুরু করেছে।”
প্রধানমন্ত্রী বিশেষ জোর দেন খেলার প্রসারের পিছনের মূল দর্শনটির ওপর। জানান, অ্যাথলিটদের সবসময় ছাত্রের মতো শিখে যাওয়ার মনোভাবটা রাখতে হবে। সেইসঙ্গে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের সম্মানকে ছড়িয়ে দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, সত্যিকারের জাতীয় ক্রীড়া সাফল্য শুধুমাত্র পরিকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং তা নির্ভর করে দেশ জুড়ে সার্বিক ক্রীড়া সংস্কৃতি তৈরি হওয়ার ওপর। শ্রী মোদী বলেন, “খেলার পরিকাঠামো এক জিনিস, আর দেশ পদক পায় যখন দেশে ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।”
প্রধানমন্ত্রী প্রশংসা করেন ভারতীয় সেনা অ্যাথলিটের দেশাত্মবোধের, যিনি কার্গিল বিজয় দিবসের দিনে পাকিস্তানী বিপক্ষকে ৫-০-য় হারিয়ে তাঁর জয়কে উৎসর্গ করেন ভারতীয় সেনা বাহিনীর নায়কদের উদ্দেশে। বলেন, এই ধরনের গভীর জাতীয়তাবোধ সাফল্যকে নতুন মাত্রা দেয়। তিনি এক অ্যাথলিটের সঙ্গে হাল্কা রসিকতা করেন। বাহিনীতে তাঁর প্রশিক্ষক নরেন্দ্র রানাকে নিয়ে একটি ঘটনার কথা তুলে। নরেন্দ্র নামটি নিয়ে শ্রী মোদী বলেন, “আপনি শুধু পদকের সংখ্যা বাড়াননি, আপনি একটি প্রজন্মকে তৈরি করেছেন।”
প্রধানমন্ত্রী এক অ্যাথলিটের প্রশংসা করেন, যিনি সাই-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণের সুবিধা পাওয়ার কথা। যার ফলে, স্থানীয় ক্রীড়া কেন্দ্র থেকে আন্তর্জাতিক বিজয় মঞ্চে ওঠা সম্ভব হয়েছে। শ্রী মোদী বলেন, “এটি আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। আপনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং আমাকে মনে রেখেছেন। আমি তারজন্য আপনার কাছে কৃতজ্ঞ।”
প্রধানমন্ত্রী বারাণসী, ভোপাল সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ক্রীড়া কেন্দ্রের উন্নত পরিকাঠামো সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। অ্যাথলিটরা প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথ এবং উজ্জয়িনীর মহাকালেশ্বর মন্দিরও দেখেছেন। সাই এবং ২০১৮-র সূচনা থেকে খেলো ইন্ডিয়ার দেওয়া লাগাতার সাহায্যের প্রশংসা করেন তিনি। যার সাহায্যে তরুণ প্রতিভারা সুষ্ঠুভাবে উন্নত প্রতিযোগিতায় নামতে সক্ষম হয়েছে। শ্রী মোদী বলেন, “নিশ্চিত থাকুন, ভবিষ্যতেও আপনারা জয়ী হবেন এবং এখানে আমাদের আবার দেখা হবে।”
প্রধানমন্ত্রী তাঁর আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং আশীর্বাদ জানান, একাধিক পদক জয়ী খেলোয়াড়কে। যাঁর জন্মদিনও ছিল এদিন। তিনি এই উপলক্ষে মিষ্টিও বিতরণ করেন এবং সব অ্যাথলিটকে উৎসাহিত করে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এই জয়ের ধারা বজায় রাখার জন্য বলেন। তিনি হাসেন এবং তাঁর আশীর্বাদ দেন পুরো দলটিকে পরের পর তিনবার পদক জয়ের জন্য। শ্রী মোদী বলেন, “যাঁরা খেলে তারাই বিকশিত হয়।”
SC/ AP /CS