Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি শ্রী রামনাথ কোবিন্দের আত্মজীবনী প্রকাশকালে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

PM's speech during release of former President Shri Ram Nath Kovind's autobiography


নয়াদিল্লি, ১২ অগাস্ট, ২০২৬ 

 

আমাদের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি শ্রী রামনাথ কোবিন্দ, লোকসভার অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় ওম বিরলা এবং শ্রীমতী সবিতা কোবিন্দ সহ সদনের সকল প্রবীণ সদস্য উপস্থিত আছেন। আমি তাঁদের সকলের নাম উল্লেখ করতে পারব না, কিন্তু এই অনুষ্ঠানটি একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানের মতো মনে হচ্ছে এতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ।
ভাই ও বোনেরা,
আমরা আজ শ্রী রামনাথ কোবিন্দের আত্মজীবনী প্রকাশ করার সুযোগ পেয়েছি। এই অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে আমি আনন্দিত। আমি শ্রী কোবিন্দকে দীর্ঘকাল ধরে চিনি এবং তাঁকে ঘনিষ্ঠভাবে জানার সুযোগ আমার হয়েছে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর নির্দেশনা, সেইসঙ্গে আমার প্রতি তাঁর বিশেষ স্নেহ ও অন্তরঙ্গতা আমার জন্য এক বিরাট সম্পদস্বরূপ। তাঁর জীবন ও কৃতিত্ব সম্পর্কে আমি যা বুঝেছি, তার ভিত্তিতে আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি যে শ্রী রামনাথ কোবিন্দের আত্মজীবনী ভারতীয় গণতন্ত্র এবং ভারতীয় সমাজের জন্য একটি অমূল্য সম্পদ হয়ে উঠবে। কোবিন্দজীর জীবনযাত্রা, সমাজ ও দেশের প্রতি তাঁর অবদান নিয়ে আমি বিশদভাবে অনেক কিছুই বলতে পারতাম, কিন্তু বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে শুধু একটি সূচনা পর্ব থাকা উচিত। আপনারা সবাই বইটি সম্পূর্ণ পড়লে সবচেয়ে ভালো হয়।
বন্ধুগণ,

আপনাদের কোবিন্দজীর জীবনযাত্রা তাঁর নিজের মুখেই জানা উচিত, দেশের নতুন প্রজন্ম তাঁর লেখা ও অভিজ্ঞতাগুলো পড়ুক। এ থেকে সবাই অনেক কিছু শিখবে। এই আত্মজীবনীর জন্য আমি রামনাথ কোবিন্দজীকে অভিনন্দন জানাই।
বন্ধুগণ,
কোবিন্দজী তাঁর বইটির যথার্থ নামকরণ করেছেন – “ভারতীয় গণতন্ত্রের বিজয়: আমার জীবন, আমার সংগ্রাম।” মূল কথা হলো, তাঁর জীবন এবং জীবনের সংগ্রামগুলো ব্যক্তিগত, কিন্তু সেই সংগ্রামের ফলস্বরূপ অর্জিত বিজয়টি ভারতের গণতন্ত্রের।
বন্ধুগণ,
আমরা সবাই প্রায়শই মানুষের একটি স্বভাবের সম্মুখীন হই। মানুষ তাদের সাফল্যের কৃতিত্ব নিজেদের দেয় এবং জীবনের অসুবিধা ও কষ্টের জন্য সমাজকে দোষারোপ করে। তবে, যখন কারও উদার হৃদয় এবং ভারতীয় মূল্যবোধ থাকে, তখন তিনি সমাজের দোষ খুঁজে সময় নষ্ট করেন না। তাঁরা এর ইতিবাচক দিকগুলোর উপর মনোযোগ দেন এবং সমাজকে নিজেদের সাফল্যের সমান অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করেন। কোবিন্দজীর আত্মজীবনী এবং এর শিরোনাম এর উদাহরণ। তাঁর জীবনের কথা ভাবুন। তিনি কানপুরের এক অতি সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কীভাবে এক গ্রীষ্মের দিনে তাঁদের বাড়িতে আগুন লেগেছিল সেইকথা কোবিন্দজী তাঁর বইয়ে লিখেছেন। তাঁর মা নিজের দুশ্চিন্তা ভুলে গিয়ে বাড়ির জিনিসপত্র বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন। কারণ, একটি সাধারণ পরিবারে, প্রতিটি জিনিসই একজন মায়ের কাছে তাঁর সন্তানদের বড় করার একটি মাধ্যম। সেই চেষ্টা করার সময় তাঁর মা আগুনে পুড়ে মারা যান। আপনি কল্পনা করতে পারেন, এত অল্প বয়সে এভাবে মাকে হারানোর মতো একটি ঘটনা কতটা বেদনাদায়ক ছিল। আমি ভাগ্যবান যে আমার মা ১০০ বছরেরও বেশি বেঁচে ছিলেন এবং আমাকে আশীর্বাদ করে গেছেন। তা সত্ত্বেও, আমি এখনও তাঁর অভাববোধ করি।
বন্ধুগণ,
এটি তাঁর জীবনের এক বেদনাদায়ক ঘটনা ছিল। এমন ঘটনায়  যে কেউই ভেঙে পড়তে পারত। কিন্তু কোবিন্দজি সেই প্রতিকূলতার ফলে আরও শক্তিশালী হয়েছিলেন। পাড়ার এক মহিলা তাঁকে বড় হতে সাহায্য করেছিলেন। এটি তাঁকে সামাজিক ঐক্য ও সম্প্রীতির শক্তি বুঝতে সাহায্য করেছিল। এই ঘটনার পর কোবিন্দজির জীবনে তাঁর বাবার ভূমিকা আরও বেড়ে যায়। যেভাবে কোবিন্দজির বাবা তাঁর পরিবার পরিচালনা করতেন ও সন্তানদের মধ্যে মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতেন, তার জন্য কোবিন্দজি তাঁর বাবাকে তাঁর নায়ক বলে মনে করেন।
বন্ধুগণ,

শৈশবের এই সংগ্রামের মধ্যেও কোবিন্দজি তাঁর সম্ভাবনাকে বিকশিত করার পথ হিসেবে শিক্ষাকে বেছে নিয়েছিলেন। তিনি সম্পদের অভাবকে দুর্বলতা হতে দেননি তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন । তিনি এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছিলেন যা তৎকালীন মানুষ কল্পনাও করতে পারত না। তিনি ভারতের মতো বিশাল এক দেশের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন।
বন্ধুগণ,
এত উচ্চ পদে পৌঁছানোর পরেও কোবিন্দজির নম্র ব্যক্তিত্ব এবং সরলতা অক্ষুণ্ণ ছিল। আমার মনে আছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যেতাম। তিনি এমন সব বিষয় নিয়ে কথা বলতেন যা প্রটোকল অনুযায়ী আলোচনা করার অনুমতি ছিল না। প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে তিনি গাড়ির দরজা পর্যন্ত চলে আসতেন। প্রথমদিকে আমি তাঁর কাছে মিনতি করতাম, “দয়া করে এমনটা করবেন না,” কিন্তু তিনি তাঁর সেই বিনয় ত্যাগ করেননি। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর, যখন তিনি তাঁর গ্রাম পারৌঙ্খ-এ গিয়েছিলেন, তখন তিনি তাঁর গুরুদের চরণে হাত দিয়ে প্রণাম করেছিলেন এবং তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন। তিনি গ্রামের মাটিতে মাথা নত করে সাধারণ গ্রামবাসীদের ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। সমগ্র দেশ সেই আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছিল। তাঁর আচরণ বিশ্বের সামনে ভারতীয় মূল্যবোধের এমন এক চিত্র তুলে ধরেছিল, যা নিয়ে প্রত্যেক ভারতীয় গর্বিত।
বন্ধুগণ,
শত শত বছরের পরাধীনতায় আমাদের দেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে অনেক কিছু হারিয়েছিল। আমাদের পূর্বপুরুষেরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সংগ্রাম করেছেন। মহাত্মা গান্ধী, বাবা সাহেব আম্বেদকর, জ্যোতিবা ফুলে, সাবিত্রীবাঈ ফুলে এবং আরও অগণিত মহান ব্যক্তিত্ব ভারতকে পুনর্গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। এমন এক ভারত, যেখানে দরিদ্রতম ও সবচেয়ে বঞ্চিতদেরও সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর সুযোগ থাকবে। কোবিন্দজীর মতো ব্যক্তিত্বরা কেবল তাঁদের কঠোর পরিশ্রম ও যোগ্যতার দ্বারা নিজেদের জীবনকেই বদলে দেননি, তাঁরা শত শত বছরের সেই স্বপ্ন, সেই দূরদৃষ্টিকে বাস্তবায়িত করতেও এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এই লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টা এখনও চলছে। ভবিষ্যতে আমাদের কোবিন্দজীর মতো এমন অনেক তরুণ প্রয়োজন, যাঁরা প্রতিকূলতার কাছে পরাজিত হন না, যাঁরা কঠিন পরিস্থিতিতে হতাশ হন না, বরং যাঁদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রতিটি লক্ষ্যকে সম্ভব করে তোলার সাহস রয়েছে। এই পরিবর্তনই একটি শক্তিশালী ভারত গড়ার সংকল্পকে পূর্ণতা দেবে। এখান থেকেই একটি আত্মনির্ভরশীল ও উন্নত ভারতের পথ প্রশস্ত হবে।
বন্ধুগণ,
এই ধরনের একটি যুবশক্তি গড়ে তোলার জন্য কোবিন্দজীর আত্মজীবনী এক গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।

বন্ধুগণ,
কোবিন্দজী তাঁর আত্মজীবনীতে মোরারজি দেশাইয়ের সঙ্গে তাঁর অভিজ্ঞতাগুলিও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। কোবিন্দজীর মধ্যে যে দেশপ্রেমের চেতনা ছিল, মোরারজির সঙ্গে কাজ করে তিনি যে শিক্ষা লাভ করেছিলেন এবং যে পথ তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন। কোবিন্দজী রাজনীতি এবং সমাজসেবাকে তাঁর পথ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তিনি তাঁর কর্তব্যের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। সেবাকে লক্ষ্য করে তিনি কাজ করেছেন। সংসদে তাঁর কার্যকালই এর সাক্ষ্য বহন করে। রাজ্যপাল হিসেবে তিনি একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবেও আমরা তাঁর এই একই নিষ্ঠা দেখেছি। রাষ্ট্রপতির সর্বোচ্চ পদ থেকে অবসর নেওয়ার পরেও তিনি বিশ্রাম নেননি। তিনি এখনও ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। তিনি দেশকে জাগ্রত করে তুলছেন। এটি এমন একটি বিষয় যার সমাধান দেশের গণতন্ত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। আমি বিশ্বাস করি যে দেশের মানুষ কোবিন্দজীর নিষ্ঠা এবং সেবার মনোভাব থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবে।
বন্ধুগণ,
সামাজিক জীবনে সক্রিয় থাকার কারণে আত্মজীবনী লেখার জন্য সময় বের করা খুব কঠিন। কোবিন্দ জি আমাদের সকলের জন্য এই কাজটি করেছেন। তাঁর জীবনে এমন অনেক কিছু আছে, যার মধ্যে দরিদ্র ও বঞ্চিত পরিবারের অনেক মানুষ তাদের নিজেদের জীবনের প্রতিচ্ছবি দেখতে পান। কীভাবে একটি সাধারণ পরিবার কঠিন পরিস্থিতিতেও জীবনের পবিত্রতা ও সততার  সঙ্গে আপোস করে না, কীভাবে সেই আদর্শগুলো পরবর্তীকালে আমাদের জীবনের ভিত্তি হয়ে ওঠে, কীভাবে আমাদের কঠিন সময়ের মূল্যবোধগুলো সারা জীবন আমাদের আলোকিত করে, কীভাবে এই পবিত্রতা আমাদের দেশসেবার শক্তি জোগায়। বিভিন্ন পদে থেকেও কোবিন্দ জি এই বিষয়গুলো দিয়ে সমাজকে ক্রমাগত অনুপ্রাণিত করেছেন।
বন্ধুগণ,
আমি নিশ্চিত যে কোবিন্দ জি-র আত্মজীবনী শুধু তাঁর জীবনেরই নয়, আমাদের গণতন্ত্রেরও গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি সংরক্ষণ করবে। আমি তাঁর আত্মজীবনীর জন্য আবারও শুভকামনা জানাই। আমি বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে অনুরোধ করছি, এটি রিলের যুগ, এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ইনফ্লুয়েন্সাররা আপনাদের বিভিন্ন গন্তব্যে প্রলুব্ধ করতে পারে। এই শর্টকাটের যুগেও আমাদের একটি কথা মনে রাখতে হবে যে রেলস্টেশনগুলোতে একটি সাইনবোর্ডে লেখা থাকে, “কিছু মানুষের সেতু ব্যবহার না করে রেললাইনে ঝাঁপ দেওয়ার অভ্যাস আছে।” এর মানে হলো, “শর্টকাট আপনাকে বিপদে ফেলবে।” আর যদি শর্টকাট নিতেই হয়, আমি তরুণদের তাদের পছন্দের আত্মজীবনী পড়তে উৎসাহিত করব। আত্মজীবনীগুলো সেই সময়ের ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর উপর একটি অনন্য দৃষ্টিকোণ তুলে ধরে। জীবনীর যুগ ইতিহাসের খুব কাছাকাছি অবস্থান করে।  আমি অবশ্যই আশা করি যে কোবিন্দজীর প্রচেষ্টা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের উপকারে আসবে। আমার শুভকামনা রইল। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

 

 

SC/PM/SB