Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লাল কেল্লার প্রাকার থেকে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণের মূল দিকসমূহ


নতুন দিল্লি, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

 

১. সাধারণ

  • আজ আমরা ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছি। আজ প্রত্যেক ভারতবাসীর হৃদস্পন্দনে ধ্বনিত হচ্ছে ‘বন্দে মাতরম’-এর মন্ত্র।
  • আজ ‘হর ঘর তিরঙ্গা, হর মন তিরঙ্গা’ – অর্থাৎ, প্রত্যেক বাড়িতে ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা, প্রত্যেকের মনে তেরঙা পতাকা’ এই ভাবনায় দেশ উদ্বেলিত। অদম্য উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে জাতি আজ নতুন সংকল্প নিয়ে এগিয়ে চলেছে।
  • আজ দেশ সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করছে সেইসব মহান সন্তানদের, যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছিলেন। তাঁদের কঠোর সাধনা, ত্যাগ ও নিষ্ঠার মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের সমগ্র জীবন স্বাধীনতার একমাত্র লক্ষ্যের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন।
  • শ্রদ্ধেয় বাপু এবং সেই মহান বিপ্লবীদের – যাঁরা ত্যাগের এই মহান ঐতিহ্যকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন – আমি সকল স্বাধীনতা সংগ্রামীর প্রতি সশ্রদ্ধ অভিবাদন জানাই।
  • স্বাধীনতার পর এই প্রথম ১৫ই আগস্ট লাল কেল্লা থেকে ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। আর আজ, যখন আমরা ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছি, তখন এর চেয়ে শুভ মুহূর্ত আর কী হতে পারে?
  • সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস হয়েছে, যার ফলে অসংখ্য পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁদের সেই বেদনা ও দুর্ভোগ আমরা গভীরভাবে অনুভব করি এবং তাতে সমব্যথী। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আমি আশ্বস্ত করছি যে, আমরা এবং সমগ্র জাতি তাঁদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি।
  • একটি জাতি তখনই মহান হয়ে ওঠে এবং নিজের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারে, যখন সে তার স্বপ্ন, সংকল্প ও সক্ষমতার শক্তিতে এগিয়ে চলে।
  • আমাদের আকাঙ্ক্ষাও হতে হবে সুউচ্চ। কারণ, যখন আমাদের স্বপ্ন হয় বিশাল এবং সংকল্প হয় দৃঢ়, তখন আমাদের সক্ষমতার পরিধিও বাড়ে, প্রচেষ্টার ব্যাপ্তিও বিস্তৃত হয়; আর তখনই আমরা আমাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারি।
  • আজ ভারতও এক বিশাল স্বপ্ন দেখেছে। নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে এক দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এই স্বপ্ন দেখা হয়েছে। আর সেই স্বপ্নটি হলো – স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তির সময়, অর্থাৎ ২০৪৭ সালে আমরা একটি ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তুলবো।
  • ১৪০ কোটি নাগরিকের কঠোর পরিশ্রম ও সংকল্পের মাধ্যমেই আমাদের এই লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। আর যখন বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল দেশ একটি উন্নত জাতি হয়ে ওঠার সংকল্প নেয়, তখন তা বিশ্বের চোখে আমাদের সাহসিকতারই প্রতিফলন হয়ে ওঠে। বিশ্ব আমাদের দেখার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। গত ১২ বছরে দেশের কোটি কোটি নাগরিক – তাঁরা দলিত, নিপীড়িত, সুবিধাবঞ্চিত বা আদিবাসী হোন; গ্রাম বা শহরের বাসিন্দা, দরিদ্র বা মধ্যবিত্ত, তরুণ বা প্রবীণ, নারী বা পুরুষ কিংবা উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব বা পশ্চিম—যেকোনো অঞ্চলের মানুষই হোন না কেন – সকলেই দৃঢ় সংকল্প ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।
  • আমি তাঁদের এই প্রচেষ্টাকে সশ্রদ্ধ স্বীকৃতি ও সম্মান জানাই। আর এই প্রচেষ্টারই ফলস্বরূপ, এত অল্প সময়ের মধ্যে ২৫ কোটি নাগরিক দারিদ্র্য জয় করে দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠে এসেছেন।
  • এই নাগরিকদের প্রচেষ্টার ফলেই – একসময় আমাদের ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’ বা ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশগুলোর তালিকায় গণ্য করা হতো; অথচ মাত্র ১২ বছরের মধ্যে আমরা বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছি।
  • গত ১২ বছরে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন প্রায় চার গুণ বেড়েছে। খাদি ও গ্রামীণ শিল্প খাতে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। ইলেকট্রনিক্স পণ্য উৎপাদন বেড়েছে প্রায় সাত গুণ।
  • আধুনিক রেলওয়ে কোচ তৈরির হার ২১ গুণ বেড়েছে। মোবাইল ফোন উৎপাদন বেড়েছে ৩৫ গুণ। শুধু তাই নয়, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও আমরা আধুনিক যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখেছি।
  • ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় চার গুণ বেড়েছে। পেটেন্ট বা মেধাস্বত্ব প্রদানের সংখ্যাও চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ ১০০ গুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে, সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনের সুবিধা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেও আমরা সমান গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করেছি।
  • প্রতি বছর আমরা আগের তুলনায় গড়ে ১৫ গুণ দ্রুতগতিতে বাড়িতে কলের মাধ্যমে পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছে দিয়েছি।
  • প্রতি বছর গড়ে ছয় গুণ দ্রুতগতিতে রান্নার গ্যাসের সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। প্রতি বছর দরিদ্রদের জন্য শৌচাগার নির্মাণের গতি চার গুণ বেড়েছে। এবং প্রতি বছর দরিদ্রদের গৃহ প্রদানের গতি তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • দেশ শাসনব্যবস্থাতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। হাজার হাজার আইনি ও প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা বা কমপ্লায়েন্সের বোঝা দূর করা হয়েছে। শত শত সেকেলে বা অপ্রচলিত আইন বাতিল করা হয়েছে। কারণ, গত শতাব্দীর আইনকানুন নিয়ে আমরা একবিংশ শতাব্দীতে এগিয়ে যেতে পারি না।
  • আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা মেট্রো রেলের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত করেছি এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছি। আমরা যে গতি ও ব্যাপক পরিসরে কাজ করেছি – সেই গতি, সেই সম্প্রসারণ এবং সেই অর্জনগুলো এমন এক বিষয় যা স্বাধীনতার পর গত এক দশকেই ভারত প্রথমবারের মতো প্রত্যক্ষ করেছে।
  • আর যখন আমাদের সামনে এত বিপুল সাফল্য রয়েছে, যখন এমন দ্রুত অগ্রগতি দৃশ্যমান এবং যখন প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গে আমাদের নাগরিকদের সক্ষমতা আরও জোরদার হচ্ছে, তখন ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার আমাদের সংকল্প কখনোই অপূর্ণ থাকতে পারে না।

২. বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক

  • আমাদেরও নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। তাই আমরা ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ে তোলার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগিয়ে চলেছি। আজ ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘স্বদেশী’ এবং ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর মতো উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে প্রতিটি ভারতীয়র মন ও হৃদয় একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
  • ২০১৪ সাল থেকে আমরা বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছি। একবার ভেবে দেখুন, এর ফলে কত বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই বাণিজ্য চুক্তিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ বয়ে এনেছে; তাই আমি বিশেষ করে আমাদের এমএসএমই-গুলোকে বলতে চাই: এই সুযোগ যেন কোনোভাবেই হাতছাড়া না হয়।
  • আমাদের বিশ্বমঞ্চে পৌঁছাতে হবে। প্রতিটি ভারতীয় পণ্যের স্থান বিশ্ববাজারে নিশ্চিত করতে হবে। তা বস্ত্রশিল্পের পণ্যই হোক, যন্ত্রপাতি বা ওষুধ – আমাদের প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। তবে একই সঙ্গে, আমাদের বিশ্বমানের মানদণ্ড পূরণ করতে হবে এবং তা ছাড়িয়ে যেতে হবে। বিশ্ব আমাদের যা দেয়, তার চেয়ে ভালো কিছু আমাদেরই বিশ্বকে উপহার দিতে হবে।
  • আমরা ‘সংস্কারের পথে’ যাত্রা শুরু করেছি এবং আগামী দিনগুলোতে সংস্কারের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাব। তাই সরকার, সমাজ, শিল্পখাত, উৎপাদক ও কৃষক – সকলকেই তাদের প্রথাগত ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে হবে। আমাদের চিন্তাধারা ও লক্ষ্য – উভয় ক্ষেত্রেই সংস্কার প্রয়োজন।
  • আগামী দিনের জন্য আমি যখন ‘সপ্ত ধারা’ বা শক্তির সাতটি উৎসের কথা বলি, তখন তার মধ্যে প্রথমেই আসে উৎপাদন খাতের শক্তি।
  • আমাদের উৎপাদন খাতকে অনেক উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে। উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি, ক্ষুদ্রতম যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে বৃহত্তম পণ্য – সবই আমাদের তৈরি করতে হবে।
  • পুরো ভ্যালু চেইন বা উৎপাদন-মূল্য শৃঙ্খলটি আমাদেরই হতে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের যন্ত্রাংশ প্রয়োজন, আবার পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন ব্যবস্থাও প্রয়োজন; আমাদের সম্পূর্ণ পণ্যও তৈরি করতে হবে। নকশা থেকে শুরু করে চূড়ান্ত উৎপাদন – প্রতিটি পর্যায়ে ভারতকে বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খলের এক নির্ভরযোগ্য কেন্দ্রে পরিণত হতে হবে।
  • আমাদের কারখানাগুলোকে প্রতিযোগিতামূলক হতে হবে। আমাদের পণ্য হতে হবে ব্যবহার-বান্ধব। আমাদের পণ্যের মোড়ক বা প্যাকেজিং হতে হবে আকর্ষণীয়, যা বিশ্বজুড়ে মানুষের নজর কাড়বে। জিরো-ডিফেক্ট এবং নিখুঁত উৎপাদন পদ্ধতিই যেন আমাদের পরিচয় হয়ে ওঠে।
  • আমি প্রতিটি উৎপাদক, প্রতিটি উদ্যোক্তা এবং প্রতিটি এমএসএমই-কে বলতে চাই : বিশ্ববাজারে আমাদের পরিচয় গড়ে তুলতে হবে নির্ভরযোগ্যতা ও গুণমানের ওপর ভিত্তি করে। মানের বিষয়ে কোনো আপস করা চলবে না। তাই আমাদের মূলমন্ত্র হওয়া উচিত: গুণমান, গুণমান এবং গুণমান। এটিই আমাদের বৈশ্বিক ব্র্যান্ড মূল্যের ভিত্তি হয়ে উঠবে।

৩. কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রক

  • সরকার একটি বিশাল আর্থিক বোঝা বহন করছে। বিশ্ববাজারে যে ইউরিয়া সারের দাম ৩,০০০ টাকা, তা আমাদের কৃষকদের কাছে মাত্র ৩০০ টাকায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
  • শুধু তাই নয়, বিশ্ববাজারে ডিএপি-র দাম এখন ৫,০০০ টাকায় পৌঁছেছে; অথচ আমরা তা ১,৩৫০ টাকায় সরবরাহ করছি যাতে আমার দেশের কৃষকদের কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয়।
  • এই ‘সপ্ত ধারা’ বা সাতটি শক্তির উৎসের দ্বিতীয়টি হলো কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন। আমাদের খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের দিকেও এগিয়ে যেতে হবে। বিশ্ববাজার এখন আমাদের কৃষকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে।
  • মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুবাদে আমরা এক বিশাল বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছি। আমাদের সেই বাজারগুলোতে পৌঁছাতে হবে এবং সেখানে নিজেদের উপস্থিতি সুনিশ্চিত করতে হবে। আমাদের কৃষি-খামার থেকে শুরু করে সরাসরি রপ্তানি বাজার পর্যন্ত যাত্রাপথ তৈরি করতে হবে।
  • কৃষকদের রাসায়নিক-মুক্ত চাষাবাদের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত, কারণ বিশ্বজুড়ে এ ধরনের পণ্যের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। যখন আমাদের কৃষি পণ্যগুলো সব দিক থেকে বিশ্বমানের মানদণ্ড পূরণ করবে, তখন আমরা সহজেই বিশ্ববাজারে প্রবেশ করতে পারবো।

৪. ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক

  • মোবাইল ফোন উৎপাদন ৩৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও আমরা আধুনিক যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের বিশেষ অবস্থান তৈরি করেছি।
  • ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় চার গুণ বেড়েছে। পেটেন্ট বা মেধাস্বত্ব প্রদানের সংখ্যাও চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • ডিজিটাল লেনদেন ১০০ গুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে, সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান ও সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যেও আমরা সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছি।
  • বর্তমান ডিজিটাল ও প্রযুক্তি-নির্ভর বিশ্বে আমরা ‘চিপ’-এর গুরুত্ব বুঝি। ইলেকট্রনিক পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম কিংবা পরিবহন ব্যবস্থা – সবক্ষেত্রেই চিপ অপরিহার্য।
  • আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যেখানে চিপ ছাড়া পুরো বিশ্বই স্থবির হয়ে পড়তে পারে। তাই, স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে ভারত সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনটি সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।
  • আমি দেশের মানুষকে জানাতে চাই যে, আগামী সাত-আট বছরের মধ্যে আরও পাঁচটি থেকে আটটি সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্ট স্থাপিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর পথে এই যাত্রা আমাদের ‘বিকশিত ভারত’ হয়ে ওঠার জন্য একটি প্রশস্ত পথ বা মহাসড়ক তৈরি করে দিচ্ছে।
  • আমার ‘সপ্ত ধারা’ বা শক্তির সাতটি উৎসের মধ্যে তৃতীয়টি হলো প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন। বর্তমান যুগ হলো এআই, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, রোবোটিক্স এবং ডেটা সেন্টারের যুগ। আমাদের সামনে এক সম্পূর্ণ নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
  • উদীয়মান প্রযুক্তিগুলোও প্রতিনিয়ত আমাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে। তাই, ভারতকে কেবল বিশ্বের একটি বাজারে পরিণত করলেই চলবে না; ভারতকে উদ্ভাবনের কেন্দ্রে বা ‘হাব’-এ পরিণত করতে হবে।
  • ইউপিআই এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মাধ্যমে আমরা আমাদের সক্ষমতা ও যোগ্যতা প্রমাণ করেছি। এখন ভারতকে তার ডিজিটাল পাবলিক প্রযুক্তি বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে হবে। পরবর্তী প্রজন্মের যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতকে নেতৃত্ব দিতে হবে।
  • আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ‘মেড-ইন-ইন্ডিয়া’ ৬জি প্রযুক্তিকে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া। এই লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টা আরও জোরদার করতে হবে এবং আমাদের অঙ্গীকার ও উদ্যোগ যেন কোনোভাবেই শিথিল না হয়।

৫. খনি মন্ত্রক

  • দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের (ক্রিটিক্যাল মিনারেলস) সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা ‘জাতীয় ক্রিটিক্যাল মিনারেলস মিশন’ চালু করেছি। এছাড়া বাজেটে আমরা ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস করিডোর’-এর কথাও ঘোষণা করেছি। আমরা বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তি করছি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে বিশ্বের অনেক দেশই এখন ভারতের ওপর আস্থা রাখতে শুরু করেছে।

৬. বিদ্যুৎ মন্ত্রক / নব ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রক

  • শক্তি বা জ্বালানি ছাড়া নতুন বিশ্বকে সচল রাখা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। চিপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ডেটা সেন্টার – যাই হোক না কেন, আমাদের প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে।
  • জ্বালানি নিরাপত্তা বর্তমান সময়ের দাবি; আর তাই আমরা এই লক্ষ্যে একের পর এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।
  • জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান উপায় হলো পারমাণবিক শক্তি। সংসদে ‘শান্তি’ আইন পাসের মাধ্যমে আমরা এক নতুন লক্ষ্যের পথে এগিয়ে চলেছি। ২০৪৭ সালের মধ্যে আমরা ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছি।
  • ২০১৪ সালের আগে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস পরিষেবা মাত্র ২০-২২ লক্ষ পরিবারের কাছে পৌঁছাত। আজ আমরা প্রায় ১.৭৫ কোটি পরিবারকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করছি।
  • বারো বছর আগে দেশের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল মাত্র ২ গিগাওয়াট – মাত্র ২ গিগাওয়াট। আজ আমরা ১৬০ গিগাওয়াট সক্ষমতা অর্জন করেছি।
  • আমরা পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনা চালু করেছি। আজ আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, এত অল্প সময়ের মধ্যেই ৫০ লক্ষ পরিবার সৌরশক্তি ব্যবহারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এই কর্মসূচি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে এবং এর ফলে হাজার হাজার পরিবারের বিদ্যুৎ বিল কার্যত শূন্য হয়ে গেছে।
  • নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে হাজার হাজার পরিবার আয়ও করছে। এই উদ্যোগের জন্য সরকার প্রতিটি পরিবারকে ৮০,০০০ টাকা সহায়তা প্রদান করছে এবং এই সহায়তার মাধ্যমে আমরা এই রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পথে এগিয়ে যাচ্ছি।
  • আমাদের ‘সপ্তধারা’ বা শক্তির সাতটি ধারার মধ্যে ষষ্ঠ ধারাটি হলো ‘গ্রিন ইকোনমি’ ও ‘ব্লু ইকোনমি’, যা পরিবেশ-বান্ধব কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করবে।
  • গ্রিন হাইড্রোজেন, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থা, গ্রিন মোবিলিটি এবং গ্রিন ম্যানুফ্যাকচারিং বা পরিবেশ-বান্ধব উৎপাদন – এই সব ক্ষেত্রে আমাদের বিশ্বমানের নেতৃত্ব অর্জন করতে হবে। এই সমস্ত ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদের বিশ্বনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

৭. পারমাণবিক শক্তি বিভাগ

  • জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান উপায় হলো পারমাণবিক শক্তি। সংসদে ‘শান্তি’ আইন পাসের মাধ্যমে আমরা একটি নতুন লক্ষ্যের পথে এগিয়ে চলেছি। ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
  • এই দশকের মধ্যেই আমরা পাঁচটি নতুন পারমাণবিক চুল্লি (রিঅ্যাক্টর) চালু করার লক্ষ্যে কাজ করছি। এ বছর ভারত ‘ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর’ প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এর ফলে, পারমাণবিক জ্বালানির ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হওয়ার পথে আমরা এক বড় পদক্ষেপ নিয়েছি।

৮. পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক

  • ২০১৪ সালের আগে, অর্থাৎ ১২ বছর আগে, সারা দেশে মাত্র ৭০টি শহরে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা চালু ছিল। এই ১২ বছরে আমরা সেই নেটওয়ার্ক ৭০টি শহর থেকে বাড়িয়ে ৭০০টি শহরে বিস্তৃত করেছি। একেই বলে গতি। একেই বলে সম্প্রসারণ। প্রতি বছর গড়ে ছয় গুণ দ্রুতগতিতে গ্যাস সংযোগ প্রদান করা হয়েছে।
  • ২০১৪ সালের আগে পাইপলাইনের গ্যাস মাত্র ২০-২২ লক্ষ পরিবারের কাছে পৌঁছেছিল। আজ আমরা ১.৭৫ কোটি পরিবারকে পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ করছি। বারো বছর আগে দেশের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল মাত্র ২ গিগাওয়াট – মাত্র ২ গিগাওয়াট। আজ আমরা ১৬০ গিগাওয়াট সক্ষমতা অর্জন করেছি।

৯. রেল মন্ত্রক

  • আধুনিক রেল কোচ বা বগি তৈরির পরিমাণ ২১ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের রেল নেটওয়ার্কের বৈদ্যুতিকীকরণ শুরু হয়েছিল ১৯২৫ সালে। অথচ, পরবর্তী ৯০ বছরে – ১৯২৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত – রেল নেটওয়ার্কের মাত্র ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিকীকরণের আওতায় এসেছিল।
  • আমরা মাত্র এক দশকের মধ্যে বাকি কাজ সম্পন্ন করে প্রায় সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিকীকরণ অর্জন করেছি। ৯০ বছরে ৩০ শতাংশ, আর ১০ বছরে ৭০ শতাংশ – প্রগতি বা উন্নয়নের রূপ এমনই হয়।
  • এর ফলে, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ডিজেলের ওপর আমাদের নির্ভরতা কমেছে। আমাদের ট্রেনগুলো ক্রমশ বিদ্যুতের সাহায্যে চলছে, যা পরিবেশের জন্য উল্লেখযোগ্য সুফল বয়ে আনছে।
  • দেশ তার প্রথম হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেনও চালু করেছে। আমি আনন্দিত যে এটিই দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেন এবং এর মাধ্যমে ভারত বিশ্বজুড়ে হাইড্রোজেন ট্রেনের ক্ষেত্রেও তার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে।

১০. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক

  • নকশালবাদ ও মাওবাদ লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীর ভবিষ্যৎ ধ্বংস করেছে। দীর্ঘ চার দশক ধরে নকশালবাদ দেশের বিশাল অংশ এবং বিপুল সংখ্যক মানুষকে বন্দুকের মুখে বিপর্যস্ত করে রেখেছিল। এটি সংবিধানকে ছিন্নভিন্ন করেছিল এবং দেশের সাধারণ নাগরিকদের রক্ষা করার প্রচেষ্টায় আমাদের ৩,৫০০-এরও বেশি পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছিলেন।
  • আজ আমি আনন্দিত যে, নকশাল-মাওবাদী সন্ত্রাস এখন আর টিকে থাকার মতো অবস্থায় নেই। একসময় যেসব জায়গায় নকশালরা বন্দুক চালাত এবং মাটি রক্তে রঞ্জিত হতো, আজ সেই নকশাল-প্রভাবিত অঞ্চলগুলিতেই উন্নয়ন, বিশ্বাস ও প্রচেষ্টার প্রতীক হিসেবে ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা উড্ডীন; কারণ এই এলাকাগুলো এখন নকশাল-মুক্ত হয়ে উঠছে।
  • সশস্ত্র নকশালরা পরাজিত হয়েছে, কিন্তু নকশাল মানসিকতা এখনও রয়ে গেছে। এই শক্তিগুলো সুযোগের অপেক্ষায় আছে। তারা সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের পথ খুঁজছে এবং সমাজকে ভুল পথে চালিত করার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছে।
  • আমাদের এই নকশাল মানসিকতাকে চিহ্নিত করতে হবে। আমাদের এমন সব উপাদানকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে এবং দেশের তরুণ প্রজন্মকে একটি উন্নত জাতি গঠনের মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
  • একটি নিরাপদ ভারত গড়ে তোলা আমাদের সকলের দায়িত্ব। দেশের ভেতর থেকেই হোক বা সীমান্ত পেরিয়ে – যেখান থেকেই চ্যালেঞ্জ আসুক না কেন, ভারত যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত। যুদ্ধের ধরন আজ পরিবর্তিত হচ্ছে। এখন আর এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই যে যুদ্ধ কেবল রণক্ষেত্র বা সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
  • আজ লাল কেল্লা থেকে আমি ঘোষণা করছি যে, আগামী দিনগুলোতে আমরা একটি প্রাণবন্ত ‘সিভিল ডিফেন্স’ বা অসামরিক প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলব। আমরা আমাদের নাগরিক ও অসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীদের আধুনিক ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিতে সজ্জিত করব এবং তাদের প্রস্তুতির সমসাময়িক পদ্ধতিগুলোর সঙ্গে পরিচিত করব।

১১. প্রতিরক্ষা মন্ত্রক

  • ‘সপ্তধারা’-র শক্তির পঞ্চম ধারাটি হলো প্রতিরক্ষা শক্তি। সব দিক থেকেই প্রতিরক্ষা শক্তির গুরুত্ব অনস্বীকার্য। ভারত এখন উপলব্ধি করেছে – এবং বিশ্বও তা স্বীকার করেছে – যে প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
  • আমাদের লক্ষ্য হতে হবে অত্যাধুনিক বা পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি গড়ে তোলা এবং বিশ্বের কাছে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা। আমাদের ড্রোন ও পাল্টা-ড্রোন (কাউন্টার-ড্রোন) ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে এবং হাইপারসনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে হবে।
  • সাইবার নিরাপত্তা আজ প্রতিটি পরিবারের জন্যই একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটিও প্রতিরক্ষার এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে আমরা আমাদের যুবশক্তির সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারি এবং তাদের মেধা দিয়ে দেশ ও বিশ্ব – উভয়েরই কল্যাণ সাধন করতে পারি।
  • আমরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ ঘোষণা করেছিলাম এবং এর কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। বর্তমানে আমাদের প্রতিরক্ষা রপ্তানি প্রায় ৫০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আমাদের তৈরি অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশে পৌঁছাচ্ছে।

১২. সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রক

  • ‘সপ্তধারা’-র চতুর্থ শক্তিটি হলো ‘গতি শক্তি’। ‘গতি শক্তি’-র আওতায় আমাদের দেশের অভ্যন্তরে নিরবচ্ছিন্ন ও দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
  • উচ্চগতির রেল পরিষেবার মাধ্যমে আমাদের শহরগুলোকে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। আমাদের প্রয়োজন আধুনিক মহাসড়ক, অভ্যন্তরীণ জলপথ, বিমানবন্দর এবং মাল্টি-মোডাল লজিস্টিকস বা সমন্বিত পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা।

১৩. বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রক

  • বন্দরগুলোকে কেবল পণ্য ওঠানামা বা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা জাহাজ নোঙর করার স্থান হিসেবে দেখলে চলবে না। বন্দর-কেন্দ্রিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের বন্দরগুলোকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
  • ‘ব্লু ইকোনমি’ বা সমুদ্র-অর্থনীতির ক্ষেত্রেও ভারতের সামনে রয়েছে বিশাল সুযোগ। আমাদের রয়েছে এক বিশাল উপকূলরেখা এবং এই সমুদ্র-অর্থনীতির ক্ষেত্রে রয়েছে অপার সম্ভাবনা।
  • মৎস্যচাষ, উপকূলীয় পর্যটন, সমুদ্র-প্রযুক্তি এবং আরও অনেক ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে আমরা এগিয়ে যেতে পারি।

১৪. মৎস্য, পশুপালন ও দুগ্ধশিল্প মন্ত্রক

  • কেরালা থেকে গুজরাট এবং তামিলনাড়ু থেকে বাংলা – আমাদের দীর্ঘ উপকূলজুড়ে বসবাসকারী মৎস্যজীবীদের জন্য এই এফটিএ-র ফলে চিংড়ি রপ্তানির সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ববাজারে আমাদের সামুদ্রিক খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়ার সুযোগও বেড়েছে।
  • ‘ব্লু ইকোনমি’ বা সমুদ্র-অর্থনীতির ক্ষেত্রেও ভারতের সামনে রয়েছে বিশাল সুযোগ। আমাদের রয়েছে এক বিশাল উপকূলরেখা এবং ‘ব্লু ইকোনমি’ বা সমুদ্র-অর্থনীতিতে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। মৎস্যচাষ, উপকূলীয় পর্যটন, সমুদ্র-প্রযুক্তি এবং আরও অনেক ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে আমরা এগিয়ে যেতে পারি।

১৫. পর্যটন মন্ত্রক

  • ভারতের রয়েছে বন্যপ্রাণী সম্পদের বিশাল ভাণ্ডার। আমাদের দেশে ১০০টিরও বেশি জাতীয় উদ্যান রয়েছে। এর সম্ভাবনা অপরিসীম, কিন্তু বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে আমরা কিছুটা পিছিয়ে পড়েছি। সারা বিশ্ব থেকে পর্যটকদের ভারতে আকৃষ্ট করতে আমাদের ‘সফট পাওয়ার’ বা সাংস্কৃতিক প্রভাবকে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। আমাদের এই সম্ভাবনাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে হবে।
  • বর্তমানে খেলাধুলাও ভারতের প্রতি আকর্ষণের একটি বড় কারণ হয়ে উঠেছে। বিশ্বের বড় বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা কেন ভারতেই আয়োজিত হবে না? ‘কনসার্ট ইকোনমি’ বা সঙ্গীতানুষ্ঠান-কেন্দ্রিক অর্থনীতি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটি দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি বিষয়।
  • বিশ্বের প্রতিটি শিল্পীই কোনো না কোনো সময়ে ভারতে অনুষ্ঠান করতে চান। এটি একটি দারুণ সুযোগ এবং একে কাজে লাগানোর জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

১৬. সংস্কৃতি মন্ত্রক / বস্ত্র মন্ত্রক

  • আমাদের সপ্তম ক্ষেত্রটি হলো ভারতের ‘সফট পাওয়ার’ বা সাংস্কৃতিক ও ভাবমূর্তিসুলভ শক্তি। এটিই ভারতের সফট পাওয়ারের মূল শক্তি। আজ যোগব্যায়াম সমগ্র বিশ্বকে ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। যোগব্যায়াম ক্রমশ বিশ্বের জন্য শক্তির উৎস হয়ে উঠছে।
  • ভারতে রয়েছে আধ্যাত্মিক কেন্দ্র, আয়ুর্বেদ এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা। ‘হিল ইন ইন্ডিয়া’  অভিযানের মাধ্যমে আমরা ভারতের এই সক্ষমতাকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে পারি।
  • হস্তশিল্প, সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, সৃজনশীল জগৎ, ভিএফএক্স, অ্যানিমেশন, গেমিং বা ডিজিটাল কন্টেন্ট – যাই হোক না কেন, সৃজনশীল জগতে ভারত নিজের অবস্থান ও মর্যাদা তুলে ধরতে পারে।
  • আজ ‘ওয়েভস সামিট’-কে ভারত এক বিশাল শক্তি জুগিয়েছে। বিশ্ব এখন ভারতের ‘ওয়ার্ল্ড অডিও-ভিজ্যুয়াল অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট সামিট’-এর দিকে তাকিয়ে আছে; এই আয়োজনটি বিশ্ববাসীর সামনে ভারতের সফট পাওয়ার ও সৃজনশীল জগতকে তুলে ধরবে।

১৭. অর্থ মন্ত্রক / আর্থিক পরিষেবা বিভাগ

  • আমাদের সহনাগরিকদের প্রচেষ্টার ফলেই আমরা ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’ বা ভঙ্গুর অর্থনীতির পাঁচটি দেশ-এর তালিকা থেকে বেরিয়ে এসে একটি প্রধান অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছি এবং মাত্র ১২ বছরের মধ্যে দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হয়ে উঠেছি।
  • একটি জাতি কেবল সরকারের সমষ্টি নয়; প্রতিটি নাগরিকই সেই জাতির অংশ। আগামী এক দশকের মধ্যে ‘ফরচুন ৫০০’ তালিকায় ৫০টি ভারতীয় কোম্পানিকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য আমরা কেন স্থির করতে পারব না? এটি আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত নয় কেন?
  • ইউপিআই এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মাধ্যমে আমরা আমাদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছি এবং নিজেদের নির্ভরযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করেছি। ডিজিটাল লেনদেন ১০০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন ভারতকে তার ডিজিটাল পাবলিক প্রযুক্তি বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে হবে। পরবর্তী প্রজন্মের যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ভারতকে নেতৃত্ব দিতে হবে।
  • আজ ব্যাঙ্কিং খাত সমৃদ্ধ হচ্ছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যাঙ্কগুলোর মধ্যে কোনো ভারতীয় ব্যাঙ্কের পতাকা উড়বে না কেন? বিশ্বের সেরা পাঁচটি ব্যাঙ্কের তালিকায় একটি ভারতীয় ব্যাঙ্কেরও স্থান হওয়া উচিত।
  • প্রায় ৩.২৫ কোটি পরিবার ‘স্বামিত্ব’ প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে এবং এর ফলে প্রায় ১৪০ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে মানুষ ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে নিজেদের ব্যবসা শুরু করতে পারবে।

১৮. স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক

  • ভারতে রয়েছে আধ্যাত্মিক কেন্দ্র, আয়ুর্বেদ এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা। ‘হিল ইন ইন্ডিয়া’  অভিযানের মাধ্যমে আমরা ভারতের এই সক্ষমতাকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে পারি। আমরা ওষুধ শিল্প খাতে ব্যাপক কাজ করেছি। তবে বর্তমান সময়ের দাবি হলো, বিশ্বের বৃহত্তম পাঁচটি ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানির তালিকায় যেন এক বা দুটি ভারতীয় কোম্পানিও স্থান করে নেয়।
  • গত পাঁচ থেকে সাত দশকে যেখানে মাত্র ২৫ কোটি মানুষ আওতাভুক্ত হয়েছিল, সেখানে মাত্র এক দশকের মধ্যেই আমরা ১০০ কোটি নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় নিয়ে এসেছি।
  • ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের আওতায় এখন ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকদেরও ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে।

১৯. শিক্ষা মন্ত্রক

  • আমরা মহাকাশ খাতকে উন্মুক্ত করেছি। আমরা জাতীয় ড্রোন নীতি প্রণয়ন করেছি। আমরা ‘খেলো ইন্ডিয়া’ নীতি চালু করেছি। ৩৫ বছর ধরে কোনো নতুন শিক্ষানীতি ছিল না; আমরা একটি নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়ে এসেছি এবং মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এর সুফল পেয়েছে।
  • ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে আমাদের দেশে ৩৫০টিরও কম বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। আজ, ১০-১২ বছরের মধ্যে প্রায় ৬৫০টি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হয়েছে। আমরা ১,০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
  • ২০১৪ সালের আগে মাত্র ৪০০টি মেডিকেল আসন ছিল; আজ সেখানে প্রায় ৮৫০টি মেডিকেল আসন রয়েছে। শুধু তাই নয়, এখন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও ভারতে আসছে। আমাদের তরুণরা যাতে ভারতেই পড়াশোনা করে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করতে পারে, তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
  • আমরা এমনভাবে কাজ করছি যাতে আমাদের দেশের তরুণদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ গড়ে ওঠে। এ কারণেই আমরা শিশুদের জন্য ১০,০০০-এরও বেশি ‘অটল টিঙ্কারিং ল্যাব’ -এর ব্যবস্থা করেছি, যাতে তারা উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে।
  • আমরা আমাদের তরুণদের বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের রয়েছে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং চমৎকার সব মেধাবী শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। এই সম্পদগুলোকে কাজে লাগিয়ে আমরা দেশের তরুণদের বিনামূল্যে কোচিং প্রদানের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে যাচ্ছি।

২০. যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রক

  • ‘বিকশিত ভারত’-এর যাত্রাপথে তরুণদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শুধু তাই নয়, একটি উন্নত ভারতের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীও হবে আমার দেশের তরুণরাই।
  • তাই, তরুণদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে আমাদের উন্নত ভারতের লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তরুণদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আমাদের সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে।
  • গত ১০-১২ বছরে এ ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’ অভিযানের ফলে আজ সারা দেশে আড়াই লক্ষেরও বেশি নিবন্ধিত স্টার্টআপ গড়ে উঠেছে।
  • আমাদের দেশের তরুণরা কেবল নিজেদের জন্যই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে না, বরং আরও অনেককে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিচ্ছে।
  • সরকার ১ লক্ষ কোটি টাকার একটি উদ্ভাবন তহবিল ঘোষণা করেছে। আমি দেশের যুবসমাজকে বলতে চাই: আপনাদের স্বপ্নগুলো আমাদের কাছে নিয়ে আসুন; আমরা নিশ্চিত করব যেন সম্পদের কোনো অভাব না হয়।
  • ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’-র মাধ্যমে গবেষণার নতুন সুযোগ এবং সাশ্রয়ী মূল্যে ডেটা প্রাপ্তির সুবিধা আমাদের যুবসমাজকে ক্ষমতায়িত করেছে।
  • গড় বয়স ২৮ বছর – এমন তরুণদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় বেসরকারি স্টার্ট-আপগুলো তাদের প্রথম পরীক্ষামূলক উদ্যোগেই কৃত্রিম উপগ্রহ ও রকেট উৎক্ষেপণ করে এক অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেছে।
  • বর্তমানে আড়াই লক্ষেরও বেশি নিবন্ধিত স্টার্ট-আপ রয়েছে। আমরা সম্প্রতি ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’ আয়োজন করেছিলাম। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর প্রসার অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ঘটছে।
  • লাল কেল্লার প্রাকার থেকে আমি দেশের যুবসমাজের উদ্দেশ্যে একটি ঘোষণা করতে চাই। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আগামী এক বছরের মধ্যে ১ কোটি তরুণ-তরুণীকে এআই বিষয়ক দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে আমাদের দেশের যুবসমাজ এআই-এর জগতেও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
  • দেশের যুবসমাজ ‘বায়োইকোনমি’ বা জৈব-অর্থনীতি ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। ২০১৪ সালের আগে এই খাতের লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৬০ হাজার কোটি টাকা; আজ আমাদের বায়োইকোনমি ২০ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
  • ‘টপস’ প্রকল্পটি অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। খেলো ইন্ডিয়া গেমস, ইউনিভার্সিটি গেমস, উইন্টার গেমস, বিচ গেমস, ক্রীড়া পরিকাঠামো, ক্রীড়া প্রশিক্ষণ, স্পোর্টস মেডিসিন এবং স্পোর্টস নিউট্রিশন – এই সব ক্ষেত্রেই ভারত এখন শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পথে এগিয়ে চলেছে।
  • ক্রীড়াজগতে ভারতের পারফরম্যান্স বা ফলাফল উন্নত হচ্ছে এবং ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে আমরা এগিয়ে চলেছি। এছাড়া ২০৩০ সালে কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের জন্যও ভারত প্রস্তুত হচ্ছে।
  • আমরা চাই ২০৩৬ সালের অলিম্পিক যেন ভারতেই অনুষ্ঠিত হয়। তবে ২০৩৬ সালে এমন অনেক ক্রীড়া ইভেন্ট বা প্রতিযোগিতা থাকবে, যাতে ভারত বর্তমানে অংশ নেয় না বা যোগ্যতা অর্জন করতে পারে না, কিংবা যেসব ইভেন্ট থেকে ভারত এতদিন দূরে থেকেছে।
  • সুযোগের তিন-চতুর্থাংশই এখনও আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। ভারত এই ক্ষেত্রগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবে এবং এর জন্য আমরা একটি ‘ট্যালেন্ট-হান্ট’ বা প্রতিভা অন্বেষণ অভিযানও শুরু করতে চাই। ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্য থেকে ক্রীড়া-প্রতিভা খুঁজে বের করার লক্ষ্যে গ্রাম, শহর ও স্কুলগুলোতে একটি প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। তাদের প্রতিভার মূল্যায়ন করা হবে এবং এরপর তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তারা দক্ষ ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম হয়।
  • দেশ ও দেশের যুবসমাজের জন্য মাদকাসক্তি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি মাদকমুক্ত ভারত গড়ে তোলা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব হওয়া উচিত।

২১. মহাকাশ বিভাগ

  • আমার ‘সপ্তধারা’-র তৃতীয় শক্তি হলো প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন। বর্তমান যুগ হলো এআই, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, রোবোটিক্স এবং ডেটা সেন্টারের যুগ; এক সম্পূর্ণ নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
  • উদীয়মান প্রযুক্তিগুলো প্রতিনিয়ত আমাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে; তাই দেশকে কেবল বিশ্বের বাজারে পরিণত হতে দিলে চলবে না – আমাদের উদ্ভাবনের কেন্দ্রে (হাব-এ) পরিণত হতে হবে।
  • আমরা মহাকাশ খাতকে উন্মুক্ত করেছি। আমরা জাতীয় ড্রোন নীতি এবং ‘খেলো ইন্ডিয়া’ নীতি প্রণয়ন করেছি। ৩৫ বছর ধরে কোনো শিক্ষানীতি ছিল না, কিন্তু আমরা নতুন শিক্ষানীতি প্রবর্তন করেছি এবং মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এর সুফল পেয়েছে।

২২. নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক

  • জাতি গঠনে আমাদের বোন ও কন্যাদের অবদান আজ আমাদের সবার জন্য অনুপ্রেরণার এক বিশাল উৎস। যুদ্ধবিমান চালানো হোক কিংবা অসামরিক বিমান চলাচল – সবক্ষেত্রেই আমাদের কন্যারা অগ্রভাগে রয়েছে।
  • আমরা ৩ কোটি বোনকে ‘লাখপতি দিদি’ বানানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম এবং আমরা সেই লক্ষ্য অতিক্রম করেছি। এখন আমরা ৬ কোটি ‘লাখপতি দিদি’ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছি। ৩ কোটি নতুন ‘লাখপতি দিদি’ তৈরি হওয়া মানে হলো নারীর ক্ষমতায়নের শক্তিতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বিশাল রূপান্তর।
  • আজ লাল কেল্লার প্রাচীরে ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকার ছায়াতলে দাঁড়িয়ে আমি দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি – নারীর সম্মানের স্বার্থে আপনারা এগিয়ে আসুন। নিশ্চিত করুন যেন আমাদের মা ও বোনেরা বিধানসভা এবং লোকসভায় ৩৩ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব পান এবং ভারতের নীতি নির্ধারণে অবদান রাখতে পারেন।
  • এটিই সময়ের দাবি। আমি আবারও সমস্ত রাজনৈতিক দলের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি – আসুন, নারী সংরক্ষণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নারীর সম্মান রক্ষার এই উদ্যোগে শামিল হোন। আপনারা খ্যাতি নিন, কৃতিত্ব নিন, কিন্তু আমার মা ও বোনদের তাঁদের অধিকারটুকু দিন।

২৩. সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক

  • আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে এই প্রচেষ্টার কথা স্বীকার করছি; এর ফলেই এত অল্প সময়ের মধ্যে ২৫ কোটি নাগরিক দারিদ্র্য জয় করে তা থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। গত ৫-৭ দশকে যেখানে মাত্র ২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যসীমার উপরে তোলা সম্ভব হয়েছিল, সেখানে আমরা মাত্র এক দশকের মধ্যে ১০০ কোটি নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষার এক রক্ষাকবচ প্রদান করেছি।
  • আমরা ৩ কোটি বোনকে ‘লাখপতি দিদি’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম এবং আমরা সেই লক্ষ্য অতিক্রম করেছি। এখন আমরা ৬ কোটি ‘লাখপতি দিদি’ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছি।
  • ৩ কোটি নতুন ‘লাখপতি দিদি’র সৃষ্টি গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীশক্তির চালনায় এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
  • প্রতি বছর দরিদ্রদের জন্য শৌচাগার নির্মাণের কাজ চার গুণ দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করা হয়েছে।
  • প্রতি বছর দরিদ্রদের গৃহ প্রদানের কাজ তিন গুণ দ্রুত গতিতে করা হয়েছে।
  • ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের আওতায় এখন ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকদেরও ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করা হচ্ছে।

২৪. উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রক

  • গত ১২ বছরে সারা দেশের অগণিত নাগরিক- তাঁরা দলিত, নিপীড়িত, বঞ্চিত বা উপজাতি সম্প্রদায়ের হোন; গ্রাম বা শহরের বাসিন্দা হোন; দরিদ্র বা মধ্যবিত্ত হোন; তরুণ বা প্রবীণ হোন; নারী বা পুরুষ হোন; কিংবা উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব বা পশ্চিম ভারতের বাসিন্দা হোন – সকলেই এক অভিন্ন সংকল্প ও নিষ্ঠা নিয়ে দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য সম্ভাব্য সব রকম প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

২৫. গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রক

  • আমরা আগের তুলনায় গড়ে ১৫ গুণ দ্রুত গতিতে ট্যাপ-ওয়াটার বা কল-বাহিত জলের সংযোগ প্রদান করেছি। প্রতি বছর গড়ে ছয় গুণ বেশি গতিতে মানুষকে রান্নার গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
  • প্রতি বছর দরিদ্রদের জন্য শৌচাগার নির্মাণের কাজ চার গুণ দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতি বছর দরিদ্রদের গৃহ প্রদানের কাজ তিন গুণ দ্রুত গতিতে করা হয়েছে।
  • আমরা ৩ কোটি বোনকে ‘লাখপতি দিদি’ হিসেবে ক্ষমতায়িত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম এবং আমরা সেই লক্ষ্য অতিক্রম করেছি। এখন আমরা ৬ কোটি ‘লাখপতি দিদি’ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছি।
  • ৩ কোটি নতুন ‘লাখপতি দিদি’র সৃষ্টি গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীশক্তির চালনায় এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

২৬. জল শক্তি মন্ত্রক

  • গড়পড়তা হিসেবে, আমরা প্রতি বছর ১৫ গুণ দ্রুত গতিতে কলের জলের সংযোগ প্রদান করেছি।
  • প্রতি বছর দরিদ্রদের জন্য শৌচাগার নির্মাণের কাজ চার গুণ দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হয়েছে।

২৭. অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক

  • আমার দেশের তরুণদের জন্য বিমান পরিবহন খাতটিও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন বিমানবন্দর, নতুন রুট এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
  • রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতি সংক্রান্ত কার্যক্রম সারা দেশে বিপুল সংখ্যক দক্ষ কর্মীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে।
  • ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ (ভারতে তৈরি) বিমান উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমরা সাফল্য অর্জন করেছি।
  • ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ সি-২৯৫ প্রতিরক্ষা পরিবহন বিমানটি ইতিমধ্যেই তার সফল উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে।

২৮. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ

  • ভারত সরকার ১ লক্ষ কোটি টাকার একটি উদ্ভাবন তহবিল ঘোষণা করেছে। আমি দেশের তরুণদের বলতে চাই, আপনারা আপনাদের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে আসুন; সম্পদের কোনো অভাব হতে দেওয়া হবে না।
  • আমরা এমনভাবে কাজ করছি যাতে আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ গড়ে ওঠে। তাই আমরা শিশুদের জন্য ১০,০০০-এরও বেশি ‘অটল টিঙ্কারিং ল্যাব’ চালু করেছি, যাতে তারা উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে।
  • গবেষণার নতুন সুযোগ এবং ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’-র আওতায় সাশ্রয়ী মূল্যে ডেটা বা ইন্টারনেটের প্রাপ্যতা তরুণদের ক্ষমতায়িত করেছে।

২৯. জৈব-প্রযুক্তি বিভাগ

  • দেশের যুবশক্তি জৈব-অর্থনীতি বা বায়ো-ইকোনমির ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। বন্ধুরা, ২০১৪ সালের আগে যে জৈব-অর্থনীতির ব্যবসার পরিমাণ ছিল ৬০,০০০ কোটি টাকা, তা আজ ২০ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

৩০. ভারী শিল্প মন্ত্রক

  • ২০০৯-১০ সালে মাত্র ১.৫ লক্ষ বৈদ্যুতিক যানবাহন বিক্রি হয়েছিল; আর ২০২৫-২৬ সালে ২৫ লক্ষ বৈদ্যুতিক যানবাহন বিক্রি হয়েছে।

৩১. দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোগ মন্ত্রক

  • লাল কেল্লা থেকে আমি দেশের তরুণদের জন্য একটি ঘোষণা করতে চাই। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আগামী এক বছরে আমরা ১ কোটি তরুণকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেব, যাতে আমাদের দেশের তরুণরা এআই-এর জগতে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। বিমান চলাচল খাতটিও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, যা আমাদের তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে। নতুন নতুন বিমানবন্দর ও রুটের ফলে কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
  • রক্ষণাবেক্ষণ ও ওভারহোলিংয়ের মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে সারা দেশে বিপুল সংখ্যক দক্ষ জনশক্তি কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে।
  • ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ (ভারতে তৈরি) বিমান উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমরা সাফল্য অর্জন করেছি; ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ সি-২৯৫ প্রতিরক্ষা পরিবহন বিমানটি ইতিমধ্যেই সফলভাবে তার উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে।

৩২. আইন ও বিচার মন্ত্রক

  • শাসনব্যবস্থাতেও দেশটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। হাজার হাজার নিয়মকানুন বা কমপ্লায়েন্সের বাধ্যবাধকতা দূর করা হয়েছে এবং শত শত সেকেলে বা অপ্রচলিত আইন বাতিল করা হয়েছে। গত শতাব্দীর আইন দিয়ে একবিংশ শতাব্দীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা সম্ভব নয়।
  • এ প্রসঙ্গে আমি রাজ্য সরকার এবং স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোকে এবং সেই সঙ্গে ভারত সরকারেরও দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে – বলতে চাই যে, আমাদের সংস্কারের গতি আরও ত্বরান্বিত করতে হবে।
  • ২০৪৭ সালের লক্ষ্য বা ভিশন বাস্তবায়নের উপযোগী করে আমাদের ব্যবস্থাকে গড়ে তুলতে হবে। আমরা অতীতের নীতি ও নিয়মকানুন আঁকড়ে ধরে চলতে পারি না; আমাদের এমন নীতি ও নিয়ম প্রণয়ন করতে হবে যা ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সহায়ক হবে।

৩৩. পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক / ভারতের জনগণনা

  • জনগণনার প্রক্রিয়া চলছে, গণনা অব্যাহত রয়েছে; আর এই গণনা কেবল সংখ্যার বিষয় নয়।
  • এই তথ্যের অন্তর্নিহিত বিষয়গুলোই নীতি ও পরিকল্পনা নির্ধারণ করে এবং দেশকে অগ্রগতির রূপরেখা তৈরিতে সহায়তা করে; তাই সঠিক তথ্য থাকা অত্যন্ত জরুরি।
  • আমি দেশের যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে জনগণনার ফর্মটি ভালোভাবে বুঝে নেয়।
  • দেশ একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে চলেছে এবং দেশের সময় ও শক্তি সঠিক কাজে ব্যয় হবে – তাই আমি আমার দেশের যুবসমাজকে জনগণনার এই কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।

৩৪. বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক / ফার্মাসিউটিক্যালস বিভাগ

  • ফার্মাসিউটিক্যাল বা ওষুধ শিল্পে আমরা অনেক কাজ করেছি। তবে বর্তমান সময়ের দাবি হলো, এক বা দুটি ভারতীয় ওষুধ কোম্পানি যেন বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি ওষুধ কোম্পানির তালিকায় নিজেদের স্থান করে নিতে পারে।
  • আমাদের কোনো পরামর্শক সংস্থা বা অ্যাকাউন্টিং ফার্ম কেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে থাকবে না? ভারতীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে বিশ্বের নেতৃত্বে নিয়ে আসাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
  • আমাদের এমন সব ব্র্যান্ড থাকা উচিত যা বিশ্বকে আকৃষ্ট করবে। আমাদের ব্র্যান্ডগুলোকে দেশের পরিচয় এবং বিশ্বের কাছে একটি গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

৩৫. উন্নত ভারত

  • একটি দেশ মানেই কেবল সরকার নয়; এর সঙ্গে প্রতিটি নাগরিক জড়িত। আমরা কি এমনটা কল্পনা করতে পারি না? আমরা তো ‘ফরচুন ৫০০’-এর কথা অনেক শুনি। আমরা কেন এমন লক্ষ্য স্থির করব না যে, আগামী এক দশকের মধ্যে এই ‘ফরচুন ৫০০’ তালিকার ৫০টি কোম্পানি ভারত থেকে উঠে আসবে?
  • আমাদের এমন সব ব্র্যান্ড থাকা উচিত যা বিশ্বকে আকৃষ্ট করবে। আমাদের ব্র্যান্ডগুলোকে দেশের পরিচয় এবং বিশ্বের কাছে একটি গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।
  • এ বিষয়ে আমি রাজ্য সরকার ও স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থাগুলোকে বলতে চাই – এবং এটি ভারত সরকারেরও দায়িত্ব – যে আমাদের সংস্কারের গতি ত্বরান্বিত করতে হবে।
  • ২০৪৭ সালের লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমাদের ব্যবস্থাকে উন্নত করতে হবে। আমরা অতীতের নীতি ও নিয়মের ওপর নির্ভর করতে পারি না; বরং আমাদের এমন নীতি প্রণয়ন করতে হবে যা ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে।
  • আমি লাল কেল্লা থেকে ‘পঞ্চ প্রাণ’ (পাঁচটি প্রতিজ্ঞা)-এর কথা বলেছিলাম। এই পাঁচটি প্রতিজ্ঞা জাতিকে এক বিশাল শক্তি জুগিয়েছে; আত্মমর্যাদাবোধ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার এবং নিজেদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দিয়েছে। দাসত্বের মানসিকতাকে আমাদের প্রতিটি মুহূর্তে নির্মূল করে যেতে হবে।
  • ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থাকবে জাতির স্বার্থ। আমাদের নিজেদের স্বার্থের চেয়ে জাতির স্বার্থই বড় হওয়া উচিত এবং কর্তব্যবোধই হোক আমাদের পরিচয়। আমি আমার সকল দেশবাসীকে বলতে চাই – এই সময় আমাদের, এই সুযোগ আমাদের, এই সংকল্পও আমাদের; আসুন, আমরা আমাদের স্বপ্নকে সংকল্পে, সংকল্পকে শক্তিতে এবং শক্তিকে সাফল্যে রূপান্তরিত করি।
  • আসুন, প্রতিটি পদক্ষেপকে উন্নয়নের পদক্ষেপে পরিণত করি; আসুন, আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলি ও হৃদয়ে হৃদয় মেলাই এবং লক্ষ্যের সঙ্গে অবিচলভাবে যুক্ত থাকি। একটি প্রদীপ যেমন হাজারো প্রদীপ জ্বালাতে পারে, তেমনই আসুন আমরা সবাই মিলে একটি উন্নত ভারত গড়ে তুলি।

 

SC/SB/AS/