Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী মন কি বাত-এর ১৩৭-তম পর্বের কিছু অংশ সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন


আমার প্রিয় দেশবাসী, নমস্কার! ‘মন কি বাত’-এর এই নতুন পর্বে আজ আপনাদের সবাইকে আমি আর ও একবার স্বাগত জানাই। আপনারা সবাই জানেন যে এটি এমন  একটি মঞ্চ যেখানে আমরা নতুন প্রচেষ্টাগুলোকে সামনে নিয়ে আসি। দেশবাসীর উদ্ভাবনী ভাবনা নিয়ে আলোচনা করি। এগুলোর মধ্যে এমন কত ভাবনা রয়েছে যাদের পেছনে মানুষ অক্লান্ত শক্তি ব্যয় করেছেন।        

বন্ধুরা, কিছু দিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ লিখেছিলেন, ‘আষাঢ়ী একাদশীর পবিত্র লগ্নে এটা বলতে আমার অত্যন্ত আনন্দ হচ্ছে যে ইতিহাসকে আকর্ষণীয় করে তোলার নিজস্ব প্রয়াসের শুভারম্ভ করছি।’ তিনি আরও জানান, এই ভাবনাটি খুবই সরল। এই  ওয়েবসাইটে গিয়ে যে কোনো একটি বছর বেছে নিন আপনি। এখানে আপনারা সহজেই জেনে যাবেন যে সেই সময় ভারতের কোন অংশে কার শাসন ছিল। আমার কাছেও বেশ আকর্ষণীয় মনে হয়েছে এটা। আমি ভাবলাম যে এর সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাক। আমি জানতে পারলাম যে এই কাজটি মুম্বইতে থাকা শ্রীমান কৃষ্ণা শেষাদ্রীজি করেছেন। মজার বিষয় হল  কৃষ্ণাজি ওয়েবসাইটের নামও খুব সহজ রেখেছেন www.bharatrajya.com। তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তার তথ্য আপনাদের কাছেও পৌঁছানো উচিত। তাই, আমি ভাবলাম যে সরাসরি শ্রী কৃষ্ণা জির সঙ্গেই কথা বলে নি।

বন্ধুরা, কৃষ্ণা জি আমাদের সঙ্গে ফোনে রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী: কৃষ্ণা জি, নমস্কার।

কৃষ্ণা শেষাদ্রী: নমস্কার স্যার, নমস্কার।  

প্রধানমন্ত্রী: ভাই, আমি জানতে পেরেছি যে আপনি না প্রযুক্তির দুনিয়ার মানুষ, না আপনি ইতিহাসের শিক্ষক, তবুও আপনি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইতিহাসের সাইট বানিয়ে ফেলেছেন। তাই আমি খুব কৌতূহলী, এ সব হল কীভাবে?   

কৃষ্ণা শেষাদ্রী: ধন্যবাদ স্যার, আপনার সঙ্গে কথা বলা আমার খুব বড় সৌভাগ্যের ব্যাপার। তাই স্যার, আমার সম্পর্কে যদি আমি একটু বলি, তাহলে স্যার, আমি একজন ইঞ্জিনিয়ার ছিলাম, তারপর আমি এমবিএ করি, তারপর আমি মার্কেটিং ক্ষেত্রে চলে গেলাম। কিন্তু এ সব যখন করছি আমি তখনও ছোটবেলায় পড়া ইতিহাসে খুব আগ্রহ ছিল আমার। তাই আমি সবসময় ইতিহাস নিয়ে কিছু করতে চেয়েছি, কীভাবে এটিকে আকর্ষণীয় করা যায় এবং আমার এও মনে হত যে আমরা যেভাবে ইতিহাস শেখাই, তাতে আমরা অনেক উন্নতি করতে পারি, তাতে আমরা অনেক পরিবর্তন আনতে পারি, ইতিহাসকে গল্পের মত করে পৌঁছে দিতে পারি মানুষের কাছে।  

প্রধানমন্ত্রী: কৃষ্ণা জি, ভারতীয় ইতিহাসের এমন কোন দিক আছে যার সম্পর্কে আপনার মনে হয়েছে যে সেই ব্যাপারে আরও বেশি-বেশি করে মানুষের জানা উচিত?    

কৃষ্ণা শেষাদ্রী: স্যার, ভারতীয় ইতিহাস যেভাবে আমাদের স্কুল বা কলেজে শেখানো হয়, যেমনটা দেখেন আপনি, তা কোনো একটি সাম্রাজ্য বা কোনো একটি রাজ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে, তার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শেখানো হয় এবং সেই সাম্রাজ্যগুলোকে অসম গুরুত্বও দেওয়া হয়। এর ফলে বাকি অনেকগুলো সাম্রাজ্য যা আমাদের ছিল, সেইসব মহান সাম্রাজ্য যেমন চোল, পল্লব ছিল, কার্কোট বংশ  কাশ্মীরে ছিল, অহোমরা ছিল যারা অন্তত ৬০০ বছর অসমে নিজেদের সংস্কৃতি, নিজেদের মূল্যবোধকে বজায় রেখেছিল — এগুলো সম্পর্কে আমরা জানি না। তাই আমি ভাবলাম, এমন কোনো সাইট বানানো যাক যা এইসব মহান সাম্রাজ্যকেও পরিচয় করিয়ে দেবে মানুষের সঙ্গে।   

 প্রধানমন্ত্রী: কৃষ্ণা জি, আপনি এত পরিশ্রম করছেন, আমি আপনাকে এমনিই একটা কাল্পনিক প্রশ্ন করছি। যদি আপনি ভারতীয় ইতিহাসের যে কোন তিনজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান, তাহলে আপনি কাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইবেন এবং কেন?

কৃষ্ণা শেষাদ্রি: হ্যাঁ স্যার, প্রথমে আমি কথা বলব রাজারাজা চোল বা রাজেন্দ্র চোলের সঙ্গে, তিনি চোল সাম্রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজাদের মধ্যে একজন ছিলেন , আমি তাঁর থেকে এটা জানতে চাইবো যে তাদের এই ভিশন বা দৃষ্টিভঙ্গি কিভাবে এলো, যেমন তারা বৃহদীশ্বর মন্দির বা গঙ্গাইকুন্ডা চোলাপুরম এরকম বড় বড় মন্দির, শিবজির মন্দির নির্মাণ করেছিলেন, সেগুলো এক্সিকিউট করার ভিশন কিভাবে এলো, প্ল্যানিং কিভাবে করলেন, তাদের এই ভাবনাটা কিভাবে এলো যে আমরা এমন কিছু একটা তৈরি করব যা আগামী হাজার বা দু’হাজার বছর ধরে অন্যদের প্রেরণা যোগাবে। সেটা তাদের থেকে আমার জানার ইচ্ছে। দ্বিতীয় যে ব্যক্তির কথা আমি বলব, তিনি আমার মত অনুযায়ী ভারতের ইতিহাসে একজন অত্যন্ত আন্ডার রেটেড পার্সোনালিটি। স্যার, তার নাম হিমু। আমরা তার সম্বন্ধে ভারতীয় ইতিহাসে খুব বেশি হলে দু-তিন লাইন পড়ি। আমরা এটা জানি না যে হিমু একজন কমন ম্যান, সাধারণ মানুষ ছিলেন, একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। সেখান থেকে উনি একটা সাম্রাজ্য স্থাপন করেন। তিনি শুধু একজন সাম্রাজ্যের স্থপতি নন, একজন সমর- চিন্তাবিদও ছিলেন, যিনি মিলিটারি জিনিয়াস ছিলেন নিজের জীবনে ২৩ টি যুদ্ধ লড়েছিলেন, যার মধ্যে ২২টিতে জয়লাভ করেন। তার থট প্রসেস কেমন ছিল, তিনি কিভাবে একজন সাধারণ মানুষ থেকে এত বড় সম্রাট হয়েছিলেন, এই যে তার যাত্রা সেটা জানতে আমি অত্যন্ত আগ্রহী স্যার।

আর তৃতীয় যিনি, তিনি খুব আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি একজন নারী, ত্রিভুবন মহাদেবী। ওডিশাতে এক সাম্রাজ্য ছিল যার নাম ভৌমাকারা রাজবংশ। এর কাহিনীও অত্যন্ত আগ্রহোদ্দীপক। ৮৫০ খ্রিস্টাব্দের আশেপাশে ওঁদের রাজ্যের উপর প্রতিবেশী পাল রাজ্য আচমকা আক্রমণ করে, আর তাতে ওঁর স্বামী, যিনি ওই রাজ্যের রাজা ছিলেন, তিনি যুদ্ধে শহীদ হন। ফলে তার রাজ্য অনেক ছোট হয়ে যায় এবং সেখানকার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা রাজ্য ছেড়ে চলে যেতে শুরু করেন। তখন ত্রিভুবন মহাদেবী নামের মহিলা রাজ্য সামলান এবং তিনি ভারতের ইতিহাসের প্রথম স্বাধীন শাসকদের অন্যতম হয়ে ওঠেন। তিনি রাজ্য কে  শুধু স্থিতিশীল করেননি, তাকে এতটাই শক্তিশালী করে তুলেছিলেন যে পরবর্তী 100 বছর পর্যন্ত কলিঙ্গ অঞ্চলে তারা সাম্রাজ্য চালিয়ে যান। এই তিনজন ইন্টারেস্টিং ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে আমি কথা বলতে চাই স্যার।

প্রধানমন্ত্রী: কৃষ্ণা জি, মনে হচ্ছে আপনি যেন ইতিহাসকে জীবন্ত করে তুলছেন। আপনি পুরোপুরি ইতিহাসে ডুবে গেছেন। দেখুন আমিও অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে আপনার সাইট দেখেছি, আর আমার কাছে সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে যে আপনার সাইটে এমন একটা ট্যাব আছে যেখানে মানুষ কারেকশন এবং সাজেশনও দিতে পারেন। এভাবে কনস্ট্রাক্টিভ ফিডব্যাককে স্বাগত জানানো – এটা খুব বড় একটা বিষয়। আপনি কি মানুষের থেকে পরামর্শ পেতে শুরু করেছেন? আর সেগুলোকে নিয়ে আপনি কিভাবে কাজ করছেন?  

কৃষ্ণা শেষাদ্রি: হ্যাঁ স্যার, মানুষের থেকে অনেক পরামর্শ আসে। পরামর্শগুলো দু ধরনের। এক রকম পরামর্শ হয় যাতে তারা কারেকশন সাজেস্ট করেন। অমুক প্রদেশে, অমুক সময় অমুক দেশে, অমুক রাজা ছিলেন কিম্বা অমুক সময় অমুক যুদ্ধ হয়েছিল এরকম কিছু সাজেশন আসে। দ্বিতীয় প্রকারের সাজেশন আসে যে আপনি এই ওয়েবসাইটে এই ফিচার দিতে পারেন বা ওই ধরনের ফিচার দিতে পারেন আমি দু প্রকারের সাজেশনই গ্রহণ করি। যেমন একটা সাজেশন এল যে, এই রাজ্যে এই রাজা অমুক সময়ে রাজ্য শাসন করেছেন। তখন আমি ওই সাজেশন নিই, আমাদের যে সোর্স আছে সেগুলোর সঙ্গে যাচাই করি। যেমন আমাকে একজন সাজেশন দিয়েছিলেন যে আপনি ভারতকে তো দেখিয়েছেন, যদি রাজ্যস্তরেও দেখাতে পারেন তাহলে আরো ভালো হবে। আমি সেই ফিচার implement করেছি। তারপর আরেকটা ফিচার এসেছিল যাতে আমরা একটা ট্রাম্প কার্ডের মত বানিয়েছিলাম সব এম্পায়ারের ডেটা, স্ট্যাটিসটিক্স দিয়ে যাতে সেগুলি শিশুদের কাছেও পৌঁছতে পারে। কেউ একজন সাজেশন দিয়েছিল যে এগুলিকে আপনি এক জায়গায় নিয়ে আসুন যাতে আমরা সবাই ডাউনলোড করে শেয়ার করতে পারি। আমি সেই ফিচারও ইমপ্লিমেন্ট করেছি। আমাদের এটা মাথায় রাখা জরুরি যে আমরা ভুল করতে পারি কারণ আমরা সর্বশ্রেষ্ঠ নই আর সেটা মাথায় রেখেই আমি কারেকশনের ট্যাব রেখেছিলাম। কারণ এটা আমাদের সবার সাইট। আর ভবিষ্যতে সমস্ত কন্ট্রিবিউশন মাথায় রেখে আমরা এমন একটা সাইট বানাবো যা আগামী কিছু বছরের মধ্যে ইতিহাসকে এক মনোগ্রাহী  আগ্রহোদ্দীপক বিষয় করে তুলবে।

প্রধানমন্ত্রী: কৃষ্ণা জি, আপনি সত্যিই অত্যন্ত বড় একটা কাজ করেছেন। আচ্ছা ইতিহাস ছাড়া আপনার নিশ্চয়ই আরো বেশ কিছু শখ রয়েছে? আরো অনেক কিছু কাজ আপনি করেছেন নিশ্চয়ই?

              কৃষ্ণা শেষাদ্রী:- হ্যাঁ, না স্যার আমি একটু বোরিং টাইপের মানুষ স্যার।
       প্রধানমন্ত্রী:- হাহাহা

কৃষ্ণা শেষাদ্রি:- আমি টেকনোলজি নিয়ে খুবই আগ্রহী, এবং ইতিহাসের বিষয়েও উৎসাহ রয়েছে , এখন যখন টেকনোলজি এবং ইতিহাস মিলেমিশে গেছে এখন এর মধ্যেই ডুবে থাকি সারাদিন।
প্রধানমন্ত্রী:- চলুন কৃষ্ণাজি আপনাকে আমার তরফ থেকে অনেক অনেক শুভকামনা, আপনি একটা খুবই সুন্দর সূচনা করেছেন এবং আপনি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন তাতে অনেক মানুষ আপনার সঙ্গে যুক্ত হবে এটা আমার পূর্ণ বিশ্বাস, তাই আমার তরফ  থেকে আপনাকে অনেক অনেক শুভকামনা। 
বন্ধুরা, কৃষ্ণাজির এই প্রচেষ্টা শুধু ইতিহাসের শিক্ষার্থীদের জন্যই নয়, এতে আমরা সকলেই নিজেদের অতীতকে চমৎকারভাবে জানার সুযোগ পাবো। আপনাদের কাছেও যদি এই ধরনের প্রচেষ্টার বিষয়ে কোনো তথ্য থাকে তাহলে তা অবশ্যই শেয়ার করুন।

আমার প্রিয় দেশবাসী “নেশা মুক্ত যুবা বিকশিত ভারতের জন্য” এই অভিযান এই সময়ে সমগ্র দেশে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এর উদ্দেশ্য খুবই স্পষ্ট, “নেশা মুক্ত  যুব সমজ  ড্রাগ ফ্রী ইন্ডিয়া।” অনেক মানুষ, বিপুল সংখ্যায়, বিশেষ করে আমাদের যুব বন্ধুরা এর অংশ হচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে এটা ভারতের যুবসমাজের স্বাস্থ‍্য,ওদের আনন্দ এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্যও আমাদের সামগ্রিক সংকল্প। 
বন্ধুরা, নেশার প্রতি দুর্নিবার আসক্তি একজন মানুষকেই শুধু গ্রাস করে না এর কুফল তার সমগ্র পরিবার ও সমাজকে ভুগতে হয়। আমি সেই সমস্ত ব্যক্তিদের প্রশংসা করি যারা ড্রাগসের বিরুদ্ধে অন্যকে সচেতন করেন এবং নেশার কবলে পড়ে লড়াই করতে থাকা মানুষদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। নেশা মুক্ত ভারতের জন্য আপনারা কোন powerful শ্লোগান তৈরি করতে পারেন? আমাদের ইয়ং মিউজিশিয়ানসরা এমন গান সৃষ্টি করতে পারেন যেখানে ড্রাগ ফ্রী লাইফের বার্তা থাকবে? ছাত্র-ছাত্রীরা এবং থিয়েটারের দল এর লোকেরা অন্তর ছুঁয়ে যাওয়া কোন ছোট নাটিকা লিখতে পারেন যার মধ্যে ড্রাগের বিপদের সঙ্গে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পথের কথাও বলা থাকবে। আমাদের দেশে দারুন দারুন কনটেন্ট ক্রিয়েটারদের অভাব নেই। আমার অনুরোধ রইল যে ওরা যদি বিভিন্ন ভাষায় এমন কনটেন্ট তৈরি করেন তাহলে সমাজ এই দিশায় এগিয়ে যেতে পারে। আপনারা আপনাদের এই সংক্রান্ত প্রচেষ্টা হ‍্যাশট‍্যাগের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় অবশ্যই শেয়ার করুন। কখনো কখনো ক্রিয়েটিভ এফোর্ট ফরমাল ক্যাম্পেন এর  থেকে বেশি কার্যকরী হয়। আসুন ভারতের যুবশক্তিকে নেশার কবল থেকে রক্ষা করার জন্য, নেশা মুক্ত করার মতো পবিত্র কর্তব্যে আমরা সকলেই নিজেদের ভূমিকা পালন করি। আপনারা আপনাদের প্রচেষ্টাকে নেশা মুক্ত যুব সমাজ এই হ‍্যাশট‍্যাগে সোশ্যাল মিডিয়ায় অবশ্যই শেয়ার করুন।
আমার প্রিয় দেশবাসী, আগস্ট মাসে আমরা চারিদিকে দেশ ভক্তির নানা রঙ দেখতে পাই। এই সময় প্রত্যেক মানুষের মনে দেশপ্রেমের ভাবনা আরো প্রবল হয়ে ওঠে।  ন্যাশনাল হ্যান্ডলুম ডে এবং ভারতছাড়ো আন্দোলনের বর্ষ পূর্তি থেকে শুরু করে বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস এই মাসকে আরো বিশেষ করে তোলে। স্বাধীনতা দিবস এবং ন্যাশনাল স্পেস ডে এর মত দিন প্রত্যেক দেশবাসীকে গর্বে ভরিয়ে তোলে। হর ঘর তিরঙ্গা অভিযান এই ভাবনাকে আরো মজবুত করে। বন্দেমাতরম এর দেড়শো বছর পূর্ণ হওয়ার ফলে এই বছরটা আরো বিশেষ হয়ে উঠেছে। এইবার ৮ কোটিরও বেশি তেরঙা পতাকার সঙ্গে সেলফি আপলোড হয়েছে, তেরঙা পতাকাকে নিয়ে এই উৎসব শুধুমাত্র ভারতবর্ষেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, এই বছর ‘সূর্য পথ তিরঙ্গা’ অভিযানের মাধ্যমে আমাদের তেরঙা পতাকা বিশ্বে এক অনন্য যাত্রাপথে পাড়ি দিয়েছে। ফিজির সুবায় প্রথম সূর্য-কিরণের সঙ্গে তেরঙা পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল।

এরপরে এশিয়া,আফ্রিকা, ইউরোপ আর তারপরে আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকোতে ইন্ডিয়ান mission আর post এ পতাকা উত্তোলন করা হয়। আপনারা কল্পনা করুন, এই দৃশ্য কতটা অদ্ভুত ছিল।  যেমন ভাবে  সারা  বিশ্বে সূর্য  উদিত হতে থাকলো, সেরকম ভাবেই ভারতীয় পতাকা উত্তোলিত হতে থাকলো। এরকম প্রচেষ্টাই সমাজকে এক সূত্রে আবদ্ধ করতে পারে। এদের মাধ্যমে দেশের সঙ্গে আমাদের সংযোগ আরো গভীর হয়। এই প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত মানুষকে আমার অনেক অনেক অভিনন্দন। 

 

আমার প্রিয় দেশবাসী, আমাদের শহর এবং মফস্বলের  রাস্তায় প্রত্যেকদিন সকাল থেকে সন্ধ্যে, লক্ষাধিক মহিলা বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকেন। কেউ সবজি বেচেন, কেউ ফল, কেউ চায়ের দোকান দেন, আবার  কেও ফুল প্রদীপ এবং পূজা সামগ্রী নিয়ে বসেন। অনেক সময় শুধুমাত্র স্বল্প পুঁজি , তাদের ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যাবার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এখন এরকম লাখ লাখ মা-বোনেরা, PM SWANIDHI YOJNA থেকে  নতুন শক্তি পাচ্ছেন।  নারী ক্ষমতায়নের এই দিকটি নিয়ে যতটা আলোচনা হওয়া উচিত ততটা হয় না। PM SWANIDHI YOJNA এর লোভ্যর্থীর মধ্যে প্রায় ৪৬ শতাংশই মহিলা। অর্থাৎ সারা দেশের প্রায় 35 লক্ষ মহিলা এই যোজনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।  

বন্ধুরা, গাজিয়াবাদ এর ববিতা শর্মা জি হলেন এর এক উত্তম উদাহরণ। ববিতা জি পূজা সামগ্রির একটি ছোট stall চালাতেন। ফুল, প্রদীপ, ধুপকাঠি, নারকেলের মত সামগ্রী বিক্রি করে তিনি নিজের সংসারে সাহায্য করতেন। অনেক পরিশ্রম করতেন কিন্তু ব্যবসা বাড়ানোর জন্য পুঁজির অভাব ছিল। PM Swanidhi থেকে উনি আর্থিক সাহায্য পেলেন। তিনি নিজের স্টলের সামগ্রী বাড়ালেন, ব্যবসা বিস্তার করলেন। গ্রাহক বাড়লো, উপার্জন বাড়লো আর ধীরে ধীরে রাস্তার ধারের ছোট্ট স্টলটি একটি দোকানে পরিণত হলো।

বন্ধুরা, বেঙ্গালুরুর T . S. Ningamma জী এর উদাহরণও খুব প্রেরণাদায়ক। Ningamma জি আর ওনার স্বামী মিলে একটি ইডলি, dosa, আর সাম্বার বিক্রি করার কাজ শুরু করেন। দোকান চলতে শুরু করল, কিন্তু একে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুঁজির প্রয়োজন ছিল।Ningammaji ও PM swanidhi থেকে সাহায্য পেলেন। তারা নিজের cart আরো উন্নত করলেন। থোকে জিনিসপত্র কিনতে শুরু করলেন, আর মেনু তেও কিছু নতুন জিনিস যোগ করলেন। গ্রাহক বৃদ্ধি পেল, আয় বৃদ্ধি পেল এবং পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতিও উন্নত হলো। আজ তারা নিজেদের তিন সন্তানকে আরো ভালো শিক্ষা প্রদানে সক্ষম হয়েছেন।    

বন্ধুরা,  মহিলাদের ব্যবসার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গোটা পরিবারের ভবিষ্যৎ এরও অগ্রগতি হয় । বাচ্চাদের শিক্ষায় উন্নতি হয়, ঘরের প্রয়োজন পূরণ হয়, আর নারীদের ভিতর আত্মবিশ্বাস আরও মজবুত হয়। এটাই তো হল  নারী ক্ষমতায়নের এক জীবন্ত রূপ। আমি ফুটপাতের ব্যাবসার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত বোনেদের তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য অনেক শুভকামনা জানাই।  

 আমার প্রিয় দেশবাসী, স্বচ্ছতার একটি অনেক বড় গুন আছে। যখন কোন জায়গাকে পরিষ্কার রাখার সংকল্প সেই জায়গার মানুষের নিজস্ব সংকল্প হয়ে ওঠে, তখন পরিবর্তন শুধু পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর মাধ্যমে ওই জায়গার সমগ্র পরিচয় পাল্টে যায়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্বচ্ছতার এই প্রয়াস, আমাদের নিরন্তর প্রেরণা দেয়। উত্তরপ্রদেশের রামপুরে পাটওয়াই নামে একটি গ্রাম আছে । ওখানে আকাশ এবং রোহন নামের দুই বন্ধু দেখলেন যে তাদের আশেপাশের এলাকা নোংরা আবর্জনায় ভরে গেছে।

 ব্যাস, তারপর আর কি, আকাশ এবং রোহন আবর্জনার  ব্যাগ তুলে নেন এবং পরিচ্ছন্নতার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরেন। আস্তে আস্তে অন্য যুবারা ও তাদের সাথে যুক্ত হতে থাকেন। একটি টিম তৈরী হয়। যার নাম হয়- ‘ ক্লীন- আপ পাটোয়াই ‘। এই যুবারা আজ পর্যন্ত চারটি গঙ্গার ঘাট পরিষ্কার করে ফেলেছেন। এক টনের ও বেশি প্লাস্টিক আবর্জনা সরিয়ে ফেলেছেন। এনারা বেশ কয়েকটি পুকুর এবং সার্বজনিক স্থান ও পরিষ্কার করেছেন। 

বন্ধুরা,এইবার শ্রী অমরনাথ জী র যাত্রা তে ও স্বচ্ছতা এবং জন অংশীদারিত্বের এমনই প্রেরণাদায়ক ছবি দেখা গেছে। দুর্গম রাস্তায় হাজার হাজার স্বচ্ছতা কর্মী দিবারাত্র সেবা প্রদান করে চলেছেন। এই বছর যাত্রা চলাকালীন চারশো মেট্রিক টনের ও বেশি আবর্জনা সংগ্রহ  ও process করা হয়েছে। আমার এই প্রচেষ্টার একটি ব্যাপার, বিশেষ ভাবে ভালো লেগেছে। স্বচ্ছতার এই অভিযানে পুন্যার্থিরা অংশিদার হন। 16 হাজারের ও বেশি যাত্রী স্বচ্ছতার সংকল্প নিয়েছেন। দশ হাজারের ও বেশি যাত্রী দের  ‘Responsible Yatri Certificate ‘ ও দেওয়া হয়। এখানে একটি অত্যন্ত অসাধারণ প্রয়োগ ও করা হয়েছে। যাত্রাপথের ঘোড়া এবং খচ্চরের গোবর  কে Biogas এ রূপান্তরিত করা হয়েছে এবং সেই clean energy থেকে ‘স্বচ্ছ জ্যোতি’ প্রজ্জ্বলিত করা হয়। অর্থাৎ বাবা বর্ফানীর এই পবিত্র যাত্রায় স্বচ্ছতাও, সেবা এবং আস্থার রূপ হয়ে ওঠে।  

বন্ধুরা, আমাদের গ্রাম হোক বা শহর, আমাদের নদী হোক বা তীর্থস্থল, এর পরিচয় আমাদের আচরন থেকে ও পাওয়া যায়। আর যখন স্বচ্ছতা আমাদের আচরনের অঙ্গ হয়ে যায়, সেই স্থানের সৌন্দর্য অনেক বৃদ্ধি পায়।

আমার প্রিয় দেশবাসী, কখনো কখনো, আমাদের এক ক্ষুদ্র শখ জীবনের বড় কোন সম্ভাবনার রাস্তা খুলে দেয়।নাগাল্যান্ডের ‘ফেক’ জেলার বেসালু পুরো জী র পথ চলাও কিছুটা সেরকমই। বেসালু জী কৃষক পরিবারে বড় হয়েছেন। ছোটো বেলায় তিনি তার মা বাবা কে চাষ করতে দেখেছিলেন এবং তার নিজেরও ফুলের প্রতি খুব  টান ছিল     

2021 সালে তিনি এই শখ থেকেই ছোট স্তরে ফুল উৎপাদন করা শুরু করেন। ধীরে  ধীরে এর মধ্যে এক সম্ভাবনা দেখা দিতে থাকে। তিনি লক্ষ্য করেন বিয়ে বাড়ি হোক বা অন্য উৎসব, ফুলের চাহিদা সবসময়ই থাকে। বেসালু জী নিজের এই শখ কে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেন। এই সফরে, তিনি স্থানীয় কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র থেকে  ফুলের বৈজ্ঞানিক চাষের ট্রেনিং নেন এবং তারপর তিনি কেবলমাত্র এক চতুর্থাংশ একড় জমিতে gladiolus এর কয়েক হাজার চারা রোপন করেন। প্রথম প্রচেষ্টা তেই পাঁচ হাজারের ও বেশি ফুল ফোটে। বন্ধুরা, এই সাফল্য বেসালুজী র জন্য এক নতুন সূচনা হয়ে দাড়ায় তিনি ফুলের চাষ কে আরো এগিয়ে নিয়ে যান। যে ফুল কখনো স্থানীয় বাজারে সীমাবদ্ধ ছিল, আজ তা নাগাল্যান্ডের সীমানা অতিক্রম করে দিল্লী, মুম্বইয়ের মত শহরে পৌঁছে যাচ্ছে। বেসালু পুরো জী র  এই যাত্রা আমাদের বলে যে শখ যখন পরিশ্রম আর সঠিক পথ প্রদর্শন সাথে যুক্ত হয় তখন তা নতুন সম্ভাবনার রাস্তা খুলে দিতে পারে।

আমার প্রিয় দেশবাসী, আমাদের আশেপাশে এমন অনেক লোক আছেন, যাঁরা একটি  ছোট প্রচেষ্টা দিয়ে শুরু করেন , আর দেখতে দেখতে তাঁদের প্রয়াস অনেক লোকেদের জীবনে পরিবর্তনের রাস্তা তৈরী করে দেয়। ওড়িশার দেবরীগড়ে একটি গ্রাম আছে, ধোড়রোকুসুম। কয়েক বছর আগে পর্যন্ত এই গ্রামের মৈথিলী ভুয়ে জী প্রায় প্রতিদিন জঙ্গলে যেতেন- কখনো জ্বালানির কাঠ আনতে, কখনো মহুয়া আর কেন্দু পাতা তুলতে, তো কখনো বাঁশের কোপলা এবং অন্যান্য বনজ সামগ্রী আনতে। তাঁর এবং ওখানকার   অনেক পরিবারের বহু চাহিদা এই জঙ্গল থেকেই মিটত। কিন্তু, তারপর মৈথিলী জী দেবরীগড় ‘Eco- Tourism’ এর সাথে যুক্ত হন। এখান থেকে জঙ্গলের সাথে ওনার সম্পর্ক এক নতুন মোড় নেয়। এখন জঙ্গলের রক্ষণাবেক্ষণ ও তাঁর জীবিকার মাধ্যম হয়ে ওঠে।  

  বন্ধুরা, মৈথিলী জী র জীবনে আসা এই পরিবর্তন অন্য মহিলাদের ও প্রেরণা দিয়েছে। আজ ষাটের ও বেশি মহিলা জঙ্গল সংরক্ষণের কাজে যুক্ত হয়েছেন। কেউ বন্যপ্রাণী সুরক্ষার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, কেউ তৃণভুমির বিকাশের সাথে যুক্ত হয়েছেন। আবার কিছু মহিলা ‘Eco- Tourism activity’ তে যোগদান করছেন। বন্ধুরা, মৈথিলী জী ও দেবরীগড়ের এই বোনেরা দেখিয়েছেন যে প্রকৃতিকে রক্ষা ও করা যায় আর জীবনে সমৃদ্ধি ও আনা যায়। এই সমস্ত বোনেদের প্রচেষ্টা আমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত প্রেরণাদায়ক।

বন্ধুরা , আজ আমাদের মেয়েদের স্বপ্নের উড়ান পৃথিবী ছাড়িয়ে মহাকাশে পৌঁছাচ্ছে এবং আপনারা জেনে গর্বিত হবেন যে ভারত এমন স্বপ্ন দেখা বিশ্বের হাজার হাজার মেয়েকে এক সুতোয় বাঁধছে। এই উদ্যোগের নাম Mission ShaktiSAT। এর মাধ্যমে ১০৮টি দেশের ১২ হাজার ছাত্রী স্যাটেলাইট প্রযুক্তি শেখার এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। ২৩শে আগস্ট, জাতীয় মহাকাশ দিবসে (National Space Day) এই মিশনের একটি সুন্দর দৃশ্য উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় দেখা গেছে। গৌতম বুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ে Mission ShaktiSAT-এর দ্বিতীয় ধাপের সূচনা হয়েছে। এই উপলক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও ভারত থেকে আসা প্রায় ১০০ জন ছাত্রী এক জায়গায় একত্রিত হয়েছিল। ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নির্বাচিত ছাত্রীরাও এতে অংশ নিয়েছিল । এই গোটা উদ্যোগের লক্ষ্যটিও অত্যন্ত বিশেষ। বন্ধুরা সম্পূর্ণভাবে ছাত্রীদের দ্বারা নির্মিত একটি স্যাটেলাইটকে চাঁদের কক্ষপথে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।, আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে এদের মধ্য থেকেই বহু ছাত্রী আগামী দিনে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের জগতে নিজেদের এক নতুন পরিচয় গড়ে তুলবে।

আমার প্রিয় দেশবাসী, আজকাল অ্যাভোকাডো (Avocado) ফলের খুব রমরমা। আগে এই ফলটিকে হয়তো খুব কম মানুষই চিনতেন। এর চাহিদাও ছিল কম এবং কদরও ছিল কম, কিন্তু আজ ডাইনিং টেবিলে একে প্রায়শই দেখা যাচ্ছে। আজ এটি স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ ও প্রিমিয়াম মার্কেটের বিশেষ পছন্দের ফল হয়ে উঠেছে। আমাদের কৃষক ভাই-বোনদের জন্যও এটি অত্যন্ত লাভজনক প্রমাণিত হচ্ছে। যেমন অন্ধ্রপ্রদেশের কাডাপা’র বরদরাজ জীর কথাই ধরা যাক। তিনি বহু বছর ধরে নিজের জমিতে টমেটো ও কলার চাষ করছিলেন। একদিন তিনি বন্ধুদের খামারে অ্যাভোকাডোর ফলন দেখতে পান। এরপর তিনি ইউটিউব থেকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৪ টন অ্যাভোকাডো উৎপাদন করে ফেলেছেন। আজ তিনি স্থানীয় দোকানগুলোতে সরাসরি এটি সরবরাহ করছেন। নতুন ধরনের ফসল, বৈজ্ঞানিক পরামর্শ এবং সরাসরি বিপণনের মাধ্যমে তাঁর ছোট্ট খামারের আয় সম্পূর্ণ বদলে গেছে। তামিলনাড়ুর কোডাইকানালে’র কৃষক চন্দ্রশেখরন জী আধা হেক্টর জমিতে অ্যাভোকাডো চাষ শুরু করেছিলেন। তিনি এর খুব ভালো দাম পাচ্ছেন এবং তাঁর উপার্জনও বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্ণাটকের চিকমাগালুরু’র কিছু কৃষক ভাই-বোন তো কফি বাগানের মাঝেই অ্যাভোকাডো গাছ লাগিয়েছেন। এর ফলে কফি ও গোলমরিচের পাশাপাশি তাঁরা বাড়তি উপার্জনও করতে পারছেন। বন্ধুরা, আমরা শহরের রেস্তোরাঁগুলোতে প্রায়ই ‘অ্যাভোকাডো টোস্ট’-এর কথা শুনি, কিন্তু এই অ্যাভোকাডোর মাধ্যমেই আমাদের উদ্ভাবনী কৃষকেরা আয়ের এক নতুন পথ খুঁজে পেয়েছেন। অর্থাৎ নিজের দেশের অ্যাভোকাডো দিয়ে আপনার টোস্টের স্বাদও বাড়ল, আবার কৃষকদের আয়ও বেড়ে গেল।

আমার প্রিয় দেশবাসী, কিছু দিনের মধ্যেই ৩রা সেপ্টেম্বর আমরা মহানায়ক উত্তম কুমারের-এর জন্ম- শত বার্ষিকী পালন করব। বন্ধুরা, উত্তম কুমার একজন versatile  actor ছিলেন, যিনি নিজের অভিনয় দিয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়েগা করে নিয়েছিলেন। Film lovers- রা মানেন যে শ্রী সত্যজিৎ রায়  ফিল্ম ‘নায়ক-the hero’-এর পুরো script মহানায়ক উত্তম কুমার-কে ভেবে লিখেছিলেন। সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন যে তাঁর  মধ্যে dignity-এর সাথে অসাধারণ emotional depth-ও ছিল। চরিত্রকে তিনি জীবন্ত করে তোলার জন্য খুব পরিশ্রম করতেন।

উত্তম কুমার নিজস্ব সহজতার সঙ্গে philanthropy-র জন্যও পরিচিত ছিলেন। তাঁর জীবন থেকে  কখনও হার না মানার একটি আরও বড় শিক্ষা মেলে। তাঁর শুরুর ছবিগুলি খুব বেশি চলেনি, কিন্তু তিনি নিজের কাজের উপর focus বজায় রেখেছিলেন। এরই ফলস্বরুপ  তিনি এত উচ্চতা অর্জন করেছিলেন।

বন্ধুরা, মনে আছে, যখন আমি কলকাতায় road show করছিলাম, তখন আমি উত্তম কুমার-এর বাড়ির সামনে দিয়েও গিয়েছিলাম। সেখানে আমাকে একজন ব্যক্তি তাঁর একটি ছবিও উপহার দিয়েছিলেন। আমি আবার মহানায়ক উত্তম কুমার-কে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি । তিনি সবসময় আমাদের সকলের হৃদয়ে  বিরাজ করবেন। “মহানায়ক উত্তম কুমার চিরদিন মানুষের হৃদয়ে বিরাজ করবেন”  

আমার প্রিয় দেশবাসী, আমাদের উৎসবগুলি, পরম্পরার  সঙ্গে সঙ্গে একে-অপরের সঙ্গে জুড়ে যাওয়ার সুযোগ ও দেয়। আসন্ন দিনগুলিতে আমরা আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব পালন করতে চলেছি। ৪ঠা সেপ্টেম্বর জন্মাষ্টমীর পবিত্র পার্বণ। সেপ্টেম্বরেই আমরা বিশ্বকর্মা পূজাও পালন করব। এই সময়ে, আমাদের আশেপাশের কারিগরদের, শিল্পকারিগরদের এবং বিশ্বকর্মা  বন্ধু দের সম্মান করা উচিত।

কিছু মাস পরে দীপাবলিও আসতে চলেছে, এর প্রস্তুতিও ধীরে-ধীরে শুরু হয়ে গেছে। উৎসবের এই মরসুমে, আমি  আরও এক বার , আপনাদের, vocal for local-এর অনুরোধ করছি। vocal for local-এর অর্থ কেবল মাটির প্রদীপ কেনা নয়, এর vision খুব বড়। আমরা নিজের ঘরের জন্য যে জিনিস কিনি, সেটিকে একবার অবশ্যই দেখে নিই যে, তা ভারতে তৈরি হয়েছে কি না। ভারতের আত্মনির্ভর হয়ে ওঠার পথ, ভারতে তৈরি জিনিসের উপর গর্ব  অনুভব করার মাধ্যমেই প্রশস্ত হবে। এই বার্তাকে যত বেশি সম্ভব  মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াও আমাদের দায়িত্ব। আমাদের creative world-এর বন্ধুরা, ইনফ্লুয়েন্সাররা এবং সেলিব্রিটি দেরও এতে খুব বড় ভূমিকা আছে। আমার অনুরোধ যে,  আপনি নিজেও vocal for local-কে আপন করে নিনএবং অন্যদেরও এর  জন্য অনুপ্রানিত  করুন

বন্ধুরা, আপনাদের আশেপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা নিজের ছোটো-ছোটো প্রয়াসের মাধ্যমে সমাজে বড় পরিবর্তন আনছেন। আপনি তাঁদের সম্বন্ধে ‘মন কি বাত’-এ অবশ্যই লিখুন। আপনার পাঠানো অভিজ্ঞতা, দেশের কোনো  একটি জায়গায় কারুর জন্য, নতুন প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। আমি আপনাদের পরামর্শ ও অভিজ্ঞতার প্রতীক্ষায় রইলাম। অনেক  অনেক ধন্যবাদ। নমস্কার।