পিএমইন্ডিয়া
আমার প্রিয় দেশবাসী, নমস্কার। সেপ্টেম্বর মাসের মন কি বাতে আবার একবার আপনাদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ পেলাম। আমি দেশের প্রতিটি মানুষকে স্বাগত জানাই। মন কি বাতে আমরা দেশবাসীর সদর্থক প্রচেষ্টাকে সামনে আনি। দেশের সাফল্যের কথা বলি। আগামীকাল ভারতের এমনই এক ঐতিহাসিক সাফল্যের দশ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এই সাফল্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের। দশ বছর আগে, ২০১৬ সালের ২৮-২৯ সেপ্টেম্বরে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদীদের ঠিকানায় সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছিল। নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে আমাদের বীর জওয়ানরা যেভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আঘাত হেনেছিল তা দেখে বিস্মিত হয়ে গিয়েছিল দুনিয়া। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক সদর্পে ভারতের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী নীতির এক নতুন উদাহরণ উপস্থিত করেছিল। সন্ত্রাসবাদী হামলার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ভারত যে যন্ত্রণা সহ্য করেছে, সেই কষ্টের বিরুদ্ধে আমাদের নির্ণায়ক জবাব ছিল সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। গত এক দশকে বালাকোটের এয়ার স্ট্রাইক থেকে শুরু করে ‘অপারেশন সিঁদুর’ অবধি ভারত এই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে যদি সন্ত্রাসবাদীরা ভারতকে নিশানা করে তবে তার কড়া জবাব দেওয়া হবে।
বন্ধুরা, সন্ত্রাসবাদী হামলা দীর্ঘ সময় ধরে আহত করেছে ভারতকে। একটা সময় ছিল যখন ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ভারতে খুব সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই সেপ্টেম্বর মাসে অর্থাৎ ২০০৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লীতে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক বিস্ফোরণে বহু নির্দোষ মানুষের মৃত্যু হয়। এর কয়েক সপ্তাহ পরেই মুম্বাইতে ২৬/১১য় বড় হামলা হয়। বন্ধুরা, আগেও প্রতিটি সন্ত্রাসবাদী হামলায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠত কিন্তু সে ব্যাপারে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হত না। সময় অতিবাহিত হওয়ার অপেক্ষা করা হত। এখন আজকের ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো-টলারেন্স নীতি নিয়ে চলছে আর আমরা এর ফলাফলও দেখতে পাচ্ছি।
এই বছর ৯/১১র সন্ত্রাসবাদী হামলার পঁচিশ বছর পূর্ণ হয়েছে। আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে যেসব নির্দোষ মানুষ মারা গিয়েছিলেন তার মধ্যে আমেরিকার পরে সবথেকে বেশি মানুষ ছিলেন ভারতের। আমার মনে আছে, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে যখন আমি আমেরিকা গিয়েছিলাম তখন এইসব নির্দোষ মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে আমি নিউইয়র্ক পৌঁছে গিয়েছিলাম। আর আজ আবার একবার আমি ভারতের কোটি-কোটি নাগরিকদের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারদের প্রতি আমার সমবেদনা জানাচ্ছি।
আমার প্রিয় দেশবাসী, এই সময়টাতে দেশের খুব বড় এক তৈরি হচ্ছে। এই চিত্রে আপনিও আছেন, আপনার পরিবারও আছে, আপনার আশপাশের মানুষজনও রয়েছেন। আমি বলছি ভারতের জনগণনার কথা। দেশের সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এর প্রথম ধাপ প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। বত্রিশ কোটিরও বেশি পরিবারের তথ্য নথিবদ্ধ হয়ে গিয়েছে। এই সময় লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু-কাশ্মীর আর উত্তরাখণ্ডের দুর্গম ও বরফে ঢাকা এলাকাতেও চলছে এই কাজ। সেখান থেকে অনেক প্রেরণাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা সামনে এসেছে। উত্তরাখণ্ডে জনগণনা শুরু হয়েছে চামোলির মানা গ্রাম থেকে। মানা-কে দেশের প্রথম গ্রাম বলা হয়। মানা-তে সবার আগে তিরাশি বছর বয়সি পূর্ণিমা রাওয়াতজিকে দিয়ে শুরু হয় এই কাজ।
উত্তরকাশীর বাগোরি গ্রামের হোমস্টে-র মালিক হরদেব সিংহ রানাজি ডিজিটাল মাধ্যমে নিজের তথ্য নিজেই নথিভুক্ত করেছেন।
বন্ধুরা, জনগণনা আমাদের সবার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। আমি ১৫ অগাস্টও দেশবাসীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলাম যে এর জন্য অবশ্যই নিজের সময় বের করে নিন। জনগণনার জন্য নিজের তথ্য নিজে নথিভুক্ত করার এই ব্যবস্থা অত্যন্ত সহজ। আপনি নিজের মোবাইল থেকেই আপনার ও আপনার পরিবারের তথ্য নথিভুক্ত করতে পারেন। এই সুবিধা হিন্দি সহ ১৬টি ভাষায় উপলব্ধ রয়েছে। বন্ধুরা, এর জন্য আপনাদের জনগণনার অনলাইন পোর্টালে যেতে হবে। এই পোর্টালটি হলো – se.census.gov.in। এই পোর্টালে গিয়ে আপনারা আপনাদের মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন করুন , নিজের অঞ্চল নথিভুক্ত করুন, আপনার পরিবার সম্পর্কিত তথ্য পূরণ করুন আর সাবমিট করে দিন। এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিতে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মতো সময় লাগে। এর জন্য আপনাদের কোনো ডকুমেন্টও আপলোড করতে হবে না। তথ্য সাবমিট করার পর আপনি একটি বিশেষ ID পাবেন। যখন গণনাকর্মী আপনার ঘরে আসবেন, তখন আপনি তাকে এই ID টি বলতে পারেন। আপনার দেওয়া তথ্য যাচাই হওয়ার পর তা জনগণনার অংশ হয়ে যাবে। বন্ধুরা, এখনো পর্যন্ত মোবাইল থেকে ২ কোটি ৬০ লক্ষেরও বেশি মানুষ জনগণনা পোর্টালে নিজেদের তথ্য দিয়েছেন, স্ব-গণনা করেছেন। আপনাদেরও এতে অল্প কিছুটা সময় ব্যয় হবে, কিন্তু দেশের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আপনার সঠিক তথ্য, আপনার পরিবারের সঠিক তথ্য দেশের ভবিষ্যতের প্রকৃত চিত্র নির্মাণ করতে সাহায্য করে।
আমার প্রিয় দেশবাসী, আজ ২৭ সেপ্টেম্বরের এই তারিখ এক বিশেষ কারণে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আজ এমন একজন মহানুভব ব্যক্তির জন্মশতবর্ষ, যিনি নিজের সমগ্র জীবন সংস্কৃতি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য সমর্পণ করেছিলেন। আমি বলছি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রাক্তন আন্তর্জাতিক কার্যকারী অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় স্বর্গীয় অশোক সিংহলজির কথা। ১৯২৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর, আজকের দিনেই আগ্রায় ওঁর জন্ম হয়েছিল। উনি সংসারে থেকেও তপস্বীদের মতো জীবন কাটিয়েছিলেন। উনি রামজন্মভূমি আন্দোলনকে যে দিশা দেখিয়েছিলেন , যে উদ্দীপনা যুগিয়েছিলেন, তার ফলস্বরূপ আজ আমরা অযোধ্যায় সুরম্য মন্দির চাক্ষুষ করছি। আমি তো অত্যন্ত সৌভাগ্যবান, তাঁর এই জীবন আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি তাই শুধু নয়, তাঁর সঙ্গে এই মিশনে যুক্ত হওয়ার সুযোগও পেয়েছি। যখন আমি রামমন্দির প্রাণপ্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছিলাম, তখন বারবার অশোকজীর কথা মনে পড়া খুব স্বাভাবিক ছিল। বন্ধুরা, অশোকজীর বিষয়ে এমন অনেক কথা আছে, যা সেভাবে চর্চিত হয়না। রামমন্দির আন্দোলনের পাশাপাশি উনি সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধেও মহৎ সংগ্রাম করেছিলেন। এক অতীব সমৃদ্ধ পরিবারে তাঁর জন্ম। ওঁর পিতা একজন সিভিল সার্ভিস অফিসার ছিলেন। ওঁর ভাই বোনেদের মধ্যেও অধিকাংশই উঁচু পদে আসীন ছিলেন। উনি নিজেও IIT BHU থেকে স্নাতক। কিন্তু এসব সত্ত্বেও উনি সমাজ ও সংস্কৃতির জন্য নিজের জীবন সমর্পণ করেন। এটাই মহান ব্যক্তিদের অভিজ্ঞান। আজ আমি ওঁর জন্মশতবর্ষে কোটি কোটি গুনমুগ্ধদের তরফ থেকে ওঁকে প্রণাম জানাচ্ছি । আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করছি।
আমার প্রিয় দেশবাসী, এই বছরের শুরুটা আমরা আত্ম-গৌরবের এক বিশেষ পর্বের মাধ্যমে করেছি। এই পর্বটি ছিল “সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব”, আজ থেকে এক হাজার বছর আগে অর্থাৎ ১০২৬ খ্রিস্টাব্দে মাহমুদ গজনী প্রথমবার সোমনাথ মন্দির ধ্বংস করেছিলেন। কিন্তু যারা সোমনাথ মন্দির ধ্বংস করে ভারতবর্ষের ঐতিহ্য নষ্ট করতে এসেছিলেন আজ তাদের কোন অস্তিত্বই নেই, বরং বিরাট সমুদ্রের তীরে অবস্থিত সোমনাথ মন্দির পূর্ণ গৌরবের সঙ্গে ভারতবর্ষকে অমরত্বের আশীর্বাদ দিয়ে চলেছে। এই কারণেই আমরা গর্বের সঙ্গে এই বছর “সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব” উদযাপন করেছি। বন্ধুরা আজ মন কী বাতে এই আলোচনা আমি কেন করছি, তার একটা বিশেষ কারণ রয়েছে। ১০২৬ খ্রিস্টাব্দে যখন গজনীর দ্বারা সোমনাথ মন্দির ধ্বংস হয়, সেই বছরই গুজরাটের মোতেরায় প্রসিদ্ধ সূর্য মন্দিরের ওপরও আক্রমণ হয়েছিল, ওটিও ধ্বংস হয়। অর্থাৎ মোতেরা মন্দির ধ্বংসেরও হাজার বছর পূর্ণ হচ্ছে, সেই সময় সবেমাত্র এক বছর আগেই ওই মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ১০২৫ খ্রিস্টাব্দে ওই মন্দিরটি তৈরি করেছিলেন রাজা প্রথম ভীমদেব। বন্ধুরা আপনারা সেই সময়কালের কথা চিন্তা করুন, যখন এত বড় আক্রমণ হয়েছিল সোমনাথ মন্দিরের মতো এমন বিশ্বাস এর স্থল ভাঙ্গা হয়েছিল, এমন আরো অনেক স্থানেও এই ধরনের আক্রমণ হচ্ছিল, ফলে যে কোন সমাজব্যবস্থা বা শাসনব্যবস্থার মনোবল ভেঙে যেতে পারত। কিন্তু রাজা প্রথম ভীমদেব শুধুমাত্র গজনীর আক্রমণের মোকাবিলাই করেননি, বরং অল্পসময়ের মধ্যেই তিনিই মোতেরা সূর্য মন্দিরের পুনর্নির্মাণ করিয়েছিলেন। এই হার না মানা মনোভাবের কারণেই সোমনাথ মন্দির বারবার ধ্বংস হওয়া সত্বেও তার পুনর্নির্মাণ হতেই থেকেছে।
বন্ধুরা ওই নির্দিষ্ট সময়কালের পরেও মোতেরা সূর্যমন্দিরের ওপর আক্রমণ থামেনি। পরবর্তী সময়ে আলাউদ্দিন খিলজী আবার এই স্থাপত্যশিল্পের অনুপম নিদর্শন এই বিশাল মন্দিরটি ভেঙেছিলেন কিন্তু বন্ধুরা আমরা ভারতবর্ষের মানুষরা সূর্যের আরাধনা শুধুমাত্র নিজেদের বাড়ি বা মন্দিরের মাধ্যমেই করি না আমাদের সূর্য উপাসনার আরেকটি অর্থ হল প্রকাশ, শক্তি, বিজ্ঞান এবং ধারাবাহিকতার অনুপ্রেরণা। এ কারণে মোতেরা আজ শুধুমাত্র সূর্য মন্দিরের কারণেই বিখ্যাত নয় বরং গুজরাতের এই গ্রাম দেশের প্রথম সূর্য গ্রাম অর্থাৎ সোলার ভিলেজ হিসেবে গড়ে উঠেছে। মোতেরা আজ সম্পূর্ণরূপে সৌর শক্তির মাধ্যমে চলে এবং এই গ্রাম সমগ্র দেশের সামনে সাসটেনিবিলিটির একটি বিশেষ উদাহরণ তুলে ধরেছে। মোতেরাকে পর্যটকদদের জন্য আকর্ষণীয় করে তোলা এবং সেই সংক্রান্ত সুবিধা প্রদানের প্রচেষ্টাও শুরু হয়েছে। জানুয়ারি মাসের মকরসংক্রান্তির পর ওখানে মোতেরা নৃত্য মহোৎসবের আয়োজন করা হয়। এখানে ভারতের সাংস্কৃতিক এবং শাস্ত্রীয় নৃত্যের চমৎকার প্রদর্শন করা হয়। আমি চাইব, আপনারা সকলেই একবার মোতেরা অবশ্যই যাবেন এবং ভারতের এই গৌরবময় ঐতিহ্যকে দর্শন করবেন।
বন্ধুরা অতীতের সঙ্গে আমাদের সংযোগ আজও জীবন্ত। এর পেছনে সেই সমস্ত মানুষের অবদান এবং পরিশ্রম আছে যা এটাকে আরো গভীর করে তুলেছে। তামিলনাড়ুর তিরুচিরাপল্লীর মনপপাড়াইয়ে এমনই একটি অভিনব প্রয়াস হচ্ছে। একটি কলেজের ডিপার্টমেন্ট অফ তামিল স্টাডিস এর সঙ্গে যুক্ত এ সেলভারাজুজি এই প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। একটি লেকচার চলাকালীন উনি নিজের এক ছাত্রের কাছে প্রাচীন কিছু মূর্তির ব্যাপারে জানতে পেরেছিলেন। এই আলোচনার পরে উনি ফিল্ড ভিজিটের পরিকল্পনা করেন। এই সফরের সময় উনি বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু মূর্তি এবং প্রাচীন মন্দিরের সন্ধান পান। অতীতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এটা একটা চমৎকার প্রয়াস। এর ফলে আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে আরো ভালোভাবে জানতে পারবো। দেশের অন্যান্য প্রান্তেও এইরকম উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এটা আমাদের ইতিহাস কে অনেক কাছ থেকে দেখার এবং বোঝার সুযোগ করে দেয়।
আমার প্রিয় দেশবাসী, কিছুদিন পরেই দোসরা অক্টোবর পূজনীয় বাপুজির জন্মদিন। বাপুজি আমাদেরকে জীবনের অনেক মন্ত্র দিয়েছেন। পরিচ্ছনতা তাদের মধ্যে অন্যতম। আমরা প্রায়ই আমাদের আশেপাশে পরিচ্ছনতার সঙ্গে জড়িত অনেক প্রচেষ্টা দেখতে পাই। এই প্রচেষ্টা গুলি অনেক প্রেরণাদায়ক এবং উৎসাহ বর্ধক। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এরকম ছবি, এরকম ভিডিও এরকম reels বারবার আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। সম্প্রতি আমি এরকম বেশ কিছু প্রচেষ্টা দেখেছি। মধ্যপ্রদেশের কোথাও কিছু যুবক নদী পরিষ্কার এর কাজ করছেন। ওদের ছোট্ট এই প্রচেষ্টার সঙ্গে পুরো সমাজ যুক্ত হচ্ছে। এ রকমই অন্ধ্রপ্রদেশেও যুবকেরা পুরনো জলাশয় এবং কুয়ো পরিষ্কারের কাজ করছেন। এর ফলে আমাদের পুরনো ঐতিহ্য কে আমরা পুনরুজ্জীবিত করার কাজ করছি। মুম্বাইয়ের কিছু যুবক সমুদ্র সৈকত পরিষ্কার রাখার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রত্যেক সপ্তাহে কোনো না কোনো বিচে (beach) কয়েকশো তরুণ বন্ধু একত্রিত হন স্বচ্ছতার মাধ্যমে সেবা করার জন্য। এখানে দিল্লিতে শিশু এবং যুবকরা মানুষকে আবর্জনা আলাদা আলাদা রাখার এবং নিজেদের আশেপাশে পরিষ্কার রাখার জন্য সচেতন করছেন। পশ্চিমবঙ্গে যুব ছাত্ররা এবং স্থানীয় মানুষেরা মিলে পিকনিক স্পট, বাজার গুলি সাফাই করছেন। কোথাও সূচনা এক ব্যক্তি করেছেন তারপর তার সঙ্গে কিছু আরো মানুষ যুক্ত হয়েছেন, পরম্পরা এভাবেই এগিয়ে গেছে – এটাই তো জনঅংশগ্রহণ। পরিচ্ছনতায় হল বাপুজীর প্রতি আমাদের সবথেকে সুন্দর শ্রদ্ধাঞ্জলি।
আমার প্রিয় দেশবাসী, আমরা যখন পরিবেশ রক্ষা করি তখন আমরা শুধু গাছ-গাছালি বা জীবজন্তু দেরই বাঁচাই না, আমরা সমগ্র জীবনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তুলি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হওয়া কিছু প্রচেষ্টা এই ভাবনাকে খুব সুন্দর ভাবে সামনে নিয়ে আসছে।
বন্ধুরা, আসামে সোনাই রুপাই ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি আছে। একটা সময় ছিল যখন এখানে হাতিদের বসবাস ছিল কিন্তু ধীরে ধীরে জঙ্গলের মাটিতে মানুষের দখল বাড়তে থাকে, যার ফলে হাতিরা এই এলাকা থেকে দূরে চলে যায়।
তিন বছর আগে এই জমিকে জবরদখল থেকে মুক্ত করা হয়, আর এখন এর আশ্চর্যজনক ফল সামনে এসেছে। হাতি এখানে আবার ফিরে এসেছে। যে এলাকায় বছরের পর বছর তাদের চলা ফেরা ছিল না, আজ সেখানে ফের হাতির দল দেখা যাচ্ছে। বন্ধুরা, আসামেই আরো একটি সুন্দর প্রয়াস হয়েছে। এই প্রচেষ্টা হল একটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র প্রাণী পিগমী হগ (Pygmy Hog) কে বাঁচানোর। একটা সময়ে এর অস্তিত্বই ছিল সঙ্কটের মুখে। তখন কেবলমাত্র ছ’টি পিগমী হগকে নিয়ে এক সংরক্ষণ কর্মসূচি (conservation program) শুরু করা হয়। তাদের আবার জঙ্গলে ছাড়া হয়। তাদের থাকার জন্য তৃণভূমি (grassland) কেও উপযুক্ত করে তোলা হয়। আজ এই কর্মসূচির ফলে পিগমী হগের সংখ্যা একশো নব্বই এর বেশি হয়ে গেছে।
বন্ধুরা, প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধুমাত্র তাকে ভালো রাখা পর্যন্তই সীমিত নয় । প্রকৃতিকে আমরা যখনই রক্ষা করি, তখনই সেই প্রকৃতি আমাদের জীবনের অবলম্বন হয়ে ওঠে। পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনে কিছু মহিলা এই সম্পর্কের প্রেরণাদায়ক উদাহরণ প্রস্তুত করেছেন। ঝড়খালির এই মহিলারা Mangrove এর জঙ্গল তৈরী করছেন । এঁদের মধ্যে বেশিরভাগ সেইসমস্ত মহিলারা আছেন যাঁদের স্বামীরা বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন। স্বামীকে হারাবার পর সুন্দরবন থেকেই তাঁরা জীবিকার সন্ধান পেয়েছেন। তাঁদের লাগানো Mangrove আজ গ্রামগুলির জন্য এক প্রাকৃতিক সুরক্ষা কবচের কাজ করছে এবং এগুলি লাগিয়ে এই মহিলাদের রোজগারও হচ্ছে। বন্ধুরা, আসুন আমরা পরিবেশকে রক্ষা করি, প্রকৃতির ভারসাম্য কে সম্মান করি এবং তার বৈচিত্রকে সুরক্ষিত রাখি। আমাদের এইধরনের প্রতিটি প্রচেষ্টা আগামী প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়িত্ব।
আমার প্রিয় দেশবাসী, সম্প্রতি দেশের লক্ষ লক্ষ যুবা, নেশার বিরুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে এক অতি গুরুত্বপূর্ণ সংকল্প গ্রহন করেছেন। যুবারা, নিজেরাও নেশা থেকে দূরে থাকার প্রতিজ্ঞা করেছেন এবং এই বার্তাকে একে অপরের কাছে পৌঁছে দেবার দায়িত্ব নিয়েছেন। এই সব কিছু হচ্ছে ‘নেশামুক্ত যুব অভিযানে’র অন্তর্গত। এই অভিযান একশো সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে। এতে ‘My Bharat’ এর Volunteers’রা যুক্ত আছেন। NSS’এ যুক্ত আমাদের যুবরাও এর অন্তর্ভুক্ত। School-College এবং বিশ্ববিদ্যালয়ও সঙ্গে আছে আর অনেক সামাজিক ও আধ্যাত্মিক সংস্থাও এর সঙ্গে যুক্ত আছে। বিগত কিছু দিনের মধ্যেই দেশজুড়ে হাজার হাজার সংকল্প সমারোহ ও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান হয়েছে। বন্ধুরা, এই অভিযানে একটি ব্যাপার আমার বিশেষভাবে ভালো লেগেছে,- ‘নেশা মুক্তির বার্তা’। আমাদের যুবরা নিজেরা নিজেদের ভাষায়, নিজেদের মতো করে এই বার্তাটি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আমি ‘মন কি বাতে’ ও তরুণ বন্ধুদের কাছে অনুরোধ করেছিলাম যে তাঁরা তাঁদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত হোন। আর আমি খুশি যে হাজার হাজার যুব এই আহ্বানে এগিয়ে এসেছেন। My Bharat’এ Anthem, Slogan Writing ও পথনাটিকার মত নানাধরনের প্রতিযোগিতা হয়েছে। একই ভাবে, Social Media’তে আমাদের যুবরা ‘#নেশা মুক্ত যুব’র সাথে নিজের Creative Content শেয়ার করছেন। অর্থাৎ, বার্তাও যুবদের, মাধ্যমও যুবরা, আর একে আগে এগিয়ে নিয়ে যাবার উদ্দিপনাও যুবদেরই। আগামী দিনে এই অভিযানে Health Check-Up ও ধ্যান শিবিরের মত কার্যকলাপও অন্তর্ভুক্ত হবে।
বন্ধুরা, খুব শীঘ্রই আমাদের অনেক পরব ও উৎসব আসতে চলেছে। এইবার উৎসবের আনন্দের মধ্যে আমাদের আশেপাশেও নজর দিতে হবে। যদি কোন যুব কোন বাজে অভ্যাসে পড়ে তাহলে তার সাথে কথা বলুন।
যদি কেউ নেশা থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করেন, তাহলে তাঁর পাশে দাঁড়ান, আসুন নেশামুক্ত যুব বিকশিত ভারতের এই সংকল্প কে আমরা সম্মিলিত ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাই।
আমার প্রিয় দেশবাসী, লালকেল্লা থেকে আমি এইবার sports এর জন্য talent hunt অভিযানের ঘোষনা করেছিলাম। ভারত ক্রমাগত অসাধারণ প্রদর্শন করুক এরজন্য গ্রাম এবং মফস্বল অবধি পৌঁছে Sporting talent খোঁজা প্রয়োজন। সেখানে এমন অনেকেই আছেন যাঁরা এই কাজের জন্য নিজেদের সমর্পিত করে দিয়েছেন। তাঁদের একটাই passion , talent খুঁজে বার করা এবং তাকে ঘষে মেজে তৈরী করা। আমাদের পাঞ্জাবে এই কাজটাই রাজিন্দর সিংজী করছেন। রাজিন্দর সিংজী এমন একজন ব্যক্তি, যাঁর নামের সাথে senior যুক্ত আছে। উনি, 1980’র Olympic এ Hockey তে Gold Medel জয়ী টিমের সদস্য ছিলেন। 1982’র World Cup এ তার অসামান্য কৃতিত্ব ছিল, 2001 এ ভারত প্রথমবার Men’s Junior World Cup এর খেতাব জিতেছিল। আবার, 2003 সালে, দেশ Senior Asia Cup title জিতেছিল। এই দুটি টুর্নামেন্টেই উনি coach এর ভূমিকায় ছিলেন। এখন ইনি Round Glass Hockey Academy’র মাধ্যমে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর প্রচেষ্টায় গ্রামে নতুন Hockey astroturf বসানো হচ্ছে। রাজিন্দরজীর লক্ষ্য একদম পরিষ্কার। এমন গ্রামের বাচ্চাদের চিহ্নিত করা, যেখানে ভালো coaching এর সুবিধা কম। এই প্রচেষ্টার ফলে বহু খেলোয়াড় ভারতের junior ও senior level এ নিজেদের জায়গা তৈরী করে নিচ্ছে। রাজিন্দর সিংজীর এই নিষ্ঠার যত প্রশংসা করা হোক, তত কম হবে।
আমার প্রিয় দেশবাসী, আমলকী আমাদের সকলের কাছেই অত্যন্ত পরিচিত একটি ফল। অধিকাংশ বাড়িতেই আমলকী দিয়ে তৈরি আচার ও মোরব্বা খাওয়া হয়। অনেকেই আমলকীর juice পান করতে পছন্দ করেন। আবার শীতকালে চ্যবনপ্রাশ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। আমাদের বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমলকীর নানা উপকারিতার কথা বলে আসছেন। বন্ধুগণ, সেই আমলকীই আজ উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করছে। প্রতাপগড়ের সঙ্গে আমলকীর সম্পর্ক বহু পুরোনো। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এখানকার কৃষকেরা আমলকীর চাষ করে আসছেন। আমলকী প্রতাপগড়কে একটি সুদৃঢ় পরিচয় দিয়েছে আর এখন সেই ঐতিহ্যবাহী পরিচয়ই এখানকার কৃষক ও মহিলাদের জন্য নতুন নতুন সুযোগ নিয়ে আসছে। One District One Product বা ODOP প্রকল্পের মাধ্যমে এখানকার আমলকীভিত্তিক স্থানীয় শিল্প ও উদ্যোগগুলিকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতাপগড়ে আমলকী প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১০০টি ইউনিট কাজ করছে। এই উদ্যোগে Self Help Group এর সঙ্গে যুক্ত মহিলারাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এমনই একটি গোষ্ঠী রয়েছে দেবগড় কামাসি গ্রামে। “সাবিত্রী ফুলে Self help group” এর সাথে যুক্ত মহিলারা আমলকী দিয়ে ক্যান্ডি, মোরব্বা ও juice তৈরি করছেন। ODOP প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন নতুন বাজারে তাঁদের তৈরি পণ্য পৌঁছে যাওয়ায় তাঁদের আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে বিন্ধ্যবাসিনী নামে আরও একটি Self Help Group রয়েছে। এই মহিলারা আমলকী দিয়ে আচার, digestive powder বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরি করছেন। পণ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য তাঁরা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি পেয়েছেন এবং ঋণ গ্রহণের সুবিধাও লাভ করেছেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগও পেয়েছেন। এর ফলে ধীরে ধীরে তাঁদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বন্ধুরা, আমাদের দেশের প্রতিটি অঞ্চলেরই নিজস্ব কিছু না কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। কোথাও রয়েছে বিশেষ ধরনের ফল, কোথাও ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা, আবার কোথাও রয়েছে অনন্য কোনও দক্ষতা। ‘One District One Product’ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো এই আঞ্চলিক বিশেষত্বগুলিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমাদের প্রচেষ্টা হওয়া উচিত, আমাদের গ্রাম ও ছোট শহরগুলির নিজস্ব পরিচয় যেন কেবল স্থানীয় বাজারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। সেটি যেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যায়, এমনকি বিশ্বের বাজারেও নিজের জায়গা করে নেয়। এর ফলে ‘Vocal for Local’ এর অভিযান আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। পাশাপাশি এই উদ্যোগ দেশকে আত্মনির্ভর করে তোলার ক্ষেত্রেও অনুপ্রেরণা জোগায়। আগামী উৎসবগুলিতে আমাদের ‘Vocal For Local’ এর মন্ত্রটি ভুলে গেলে চলবে না।
আমার প্রিয় দেশবাসী, সেপ্টেম্বরের এই মাসটি অপুষ্টির বিরুদ্ধে লড়াইকে সমর্পিত। পুষ্টির এই মাসে আলাদা-আলাদা ক্ষেত্রের সাথে যুক্ত মানুষ এবং সংস্থাসমূহ এই সৎ কাজের জন্য এক জায়গায় সমবেত হন। অপুষ্টির মোকাবিলা করার জন্য এই বছর বহু প্রশংসনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছত্তিশগড় ‘হর ঘর মুনগা-ঘর-ঘর মুনগা’ অভিযান শুরু করেছে। এতে মানুষকে পুষ্টিকর মুনগা অর্থাৎ মোরিঙ্গা কে নিজেদের খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। গুজরাটও ওয়াঙ্গি স্পর্ধা অর্থাৎ মিলেটস দিয়ে তৈরি পদ সমূহের প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সস্তা এবং পুষ্টিকর স্থানীয় খাদ্যকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত দুই লক্ষেরও বেশি মানুষ এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেছেন। মহারাষ্ট্রও এই ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় প্রয়াস করছে। সেখানে শিক্ষক, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং বাচ্চাদের অভিভাবকেরা সচেতনতা অভিযানের সাথে যুক্ত হচ্ছেন। মিজোরামেও, এই বছর বহু মানুষ একসাথে পোষণ বাটিকাগুলোর দেখাশোনার জন্য একটি অভিযান শুরু করেছেন। এটি মিজো সমাজের ‘তলো-মড়-য়না’-র ঐতিহ্যের অনুরূপ। এর অর্থ হলো ‘নিঃস্বার্থ সেবা এবং অন্যদের সাহায্যের জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকা’। এই ধরনের প্রয়াস অত্যন্ত প্রশংসনীয়। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলোর সাথে যুক্ত সেই সকল মানুষদের নিয়েও আমি গর্বিত যাঁরা এই ধরণের উদ্যোগে অংশগ্রহন করেছেন। এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলো এখন ‘পোষণ ট্র্যাকার’-এর সাথে ডিজিটালি যুক্ত হয়েছে। প্রায় ৯ কোটি লাভার্থী ইতিমধ্যেই এতে নথিভুক্ত হয়েছেন। এর ফলে শিশু, গর্ভবতী নারী এবং স্তন্যদায়ী মায়েদের আরও সুচারু যত্ন নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। অপুষ্টির বিরুদ্ধে এই লড়াইকে আমাদের এইভাবেই এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের সমাজকে অপুষ্টি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করতে হবে।
বন্ধুরা, আমরা সবাই এই মাসে পূর্ণ শ্রদ্ধা এবং উৎসাহের সাথে গণেশ উৎসব উদযাপন করেছি। দেশজুড়ে পূর্ণ ভক্তিভাবের সাথে গণপতি বাপ্পা কে স্বাগত জানানো হয়েছে। এই পবিত্র উৎসব সমগ্র পরিবেশকে আনন্দ ও উৎসাহে ভরিয়ে তোলে। বন্ধুরা, বিঘ্নহর্তা ভগবান শ্রীগণেশ জ্ঞান, বুদ্ধি এবং শুভ কাজের সূচনার প্রতীক।তাঁর প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ নয়, যেমন শ্রীমান পন্থৌন থীরখানোন জীর কথাই ধরা যাক— তিনি থাইল্যান্ডের বাসিন্দা, সেখানে ভগবান শ্রীগণেশ ‘ফ্রা ফিকানেত’ রূপে পূজিত হন। যখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর, তখন তাঁর পিতা তাঁকে শ্রীগণেশের একটি ছবি উপহার দিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তাঁর মনে এক গভীর ভক্তি জাগ্রত হয়। তিনি ভগবান শ্রীগণেশ-সংক্রান্ত নানা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অধ্যয়নে চার দশকেরও বেশি সময় কাটিয়ে ফেলেছেন। তিনি ভারত এবং নেপাল সহ এশিয়ার বহু দেশ ভ্রমন করেছেন। মহারাষ্ট্রের প্রতি তাঁর রয়েছে এক বিশেষ অনুরাগ; ‘অষ্টবিনায়ক’ ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার পর তিনি বহুবার ভারতে এসেছেন। তাঁর প্রচেষ্টায় থাইল্যান্ডের পুণ্যার্থীদের মধ্যেও অষ্টবিনায়ক যাত্রা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ২০০২ সালে তিনি উত্তর থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই-তে গণেশ হিমাল মিউজিয়াম স্থাপন করেছিলেন। আজ সেখানে ১০ হাজারের বেশি গণেশ মূর্তি রয়েছে। যেসব ভক্ত ভারতে আসতে পারেন না, তাঁদের জন্য এই সংগ্রহালয়ে অষ্টবিনায়কের প্রতিমাও রয়েছে। সেখানে প্রতি রবিবার সকাল ১০টায় নিয়মিত গণেশের পূজা-অর্চনা করা হয়। এছাড়াও গণপতির সাথে যুক্ত বিশেষ তিথিগুলোতেও অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। এটি প্রমাণ করে যে ভারতের ধর্মীয় বিশ্বাস, শিল্পকলা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিদেশের মাটিতেও কতটা জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। গণপতি বাপ্পার আশীর্বাদ যেন সর্বদা আমাদের সবার ওপর বজায় থাকে।
বন্ধুরা, ‘মন কি বাত’-এর প্রতিটি পর্বের পরেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আপনাদের অসংখ্য চিঠি ও বার্তা আমার কাছে পৌঁছায়। । আপনারা এভাবেই অনুপ্রেরণামূলক সব কাহিনি পাঠাতে থাকুন। আপনারা যখন নিজেদের আশেপাশের ইতিবাচক উদ্যোগের প্রশংসা করেন, তখন সেই কাজের সাথে যুক্ত মানুষের উৎসাহ আরও বেড়ে যায়। ‘মন কি বাত’-এর মাধ্যমে সেই খবর জেনে দেশের অন্যান্য প্রান্তের মানুষেরাও অনুপ্রাণিত হন। আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই যাত্রা নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে চলুক। আগামী উৎসবের দিনগুলো আপনারা আপনাদের পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সাথে অত্যন্ত আনন্দ ও উদ্দীপনার সাথে উদযাপন করুন। আপনাদের সবাইকে আবারো জানাই আন্তরিক শুভকামনা। অনেক অনেক ধন্যবাদ। নমস্কার।
Do listen to this month's #MannKiBaat as we discuss a range of subjects. https://t.co/uNlANtGly7
— Narendra Modi (@narendramodi) September 27, 2026
India has made it clear that terrorism will be met with a strong and decisive response.#MannKiBaat pic.twitter.com/xwDUFCAGZs
— PMO India (@PMOIndia) September 27, 2026
The Census is a national responsibility and every citizen has a role to play.#MannKiBaat pic.twitter.com/DikrJ8RimG
— PMO India (@PMOIndia) September 27, 2026
Tributes to Shri Ashok Singhal Ji on his birth centenary. His lifelong dedication to society and the nation continues to inspire generations.#MannKiBaat pic.twitter.com/rWa6GJaNyL
— PMO India (@PMOIndia) September 27, 2026
From the historic Sun Temple to becoming a solar village, Modhera beautifully connects our rich heritage with a sustainable future.#MannKiBaat pic.twitter.com/QAY9ynzcwI
— PMO India (@PMOIndia) September 27, 2026
Tamil Nadu's A. Selvaraju Ji's efforts are helping people discover ancient idols and temples. Such initiatives help us connect with and better understand our heritage.#MannKiBaat pic.twitter.com/gMUU959cih
— PMO India (@PMOIndia) September 27, 2026
Nature conservation is bringing positive change in Assam.#MannKiBaat pic.twitter.com/Xmi5Ft1ncy
— PMO India (@PMOIndia) September 27, 2026
In the Sundarbans, women are planting mangroves that protect villages and support their livelihoods. pic.twitter.com/1Hyh0nX8PM
— PMO India (@PMOIndia) September 27, 2026
India's youth are coming together against drugs. Through the Nasha Mukt Yuva Abhiyan, they are spreading awareness through creative campaigns and activities.#MannKiBaat pic.twitter.com/iL0Rqd5MR3
— PMO India (@PMOIndia) September 27, 2026
Rajinder Singh Senior Ji is helping discover and train young hockey talent. His efforts are giving children in villages better opportunities to pursue the sport.#MannKiBaat pic.twitter.com/xZmiA246mW
— PMO India (@PMOIndia) September 27, 2026
Pratapgarh's famous Amla is creating new opportunities for farmers and women working in Self-Help Groups.#MannKiBaat pic.twitter.com/iVggcTUp5q
— PMO India (@PMOIndia) September 27, 2026
Across India, people are coming together to promote better nutrition and support healthier communities.#MannKiBaat pic.twitter.com/pmiG3ueyo6
— PMO India (@PMOIndia) September 27, 2026
Bhagwan Shri Ganesh's devotion goes beyond India... In Thailand, the Ganesh Himal Museum has over 10,000 Ganesh idols, reflecting the deep cultural ties shared between the two countries.#MannKiBaat pic.twitter.com/RSSGBGqwYB
— PMO India (@PMOIndia) September 27, 2026