Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বিবৃতি

ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বিবৃতি


নতুন দিল্লি ২০  মে ২০২৬

 

মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী মেলোনি,
উভয় দেশের প্রতিনিধিগণ,
সংবাদমাধ্যমের বন্ধুগণ,
নমস্কার!

বনজোনো!

আমাকে এবং আমার প্রতিনিধিদলকে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে, তার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

রোম বিশ্বজুড়ে ‘শাশ্বত নগরী’ হিসেবে পরিচিত। ভারতে আমার লোকসভা কেন্দ্র কাশীকেও একটি শাশ্বত ও চিরস্থায়ী নগরী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যখন দুটি সভ্যতার মিলন ঘটে, তখন আলোচনা কেবল আলোচ্যসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি ইতিহাসের গভীরতা, ভবিষ্যতের স্বপ্ন এবং বন্ধুত্বের স্বাচ্ছন্দ্যকে প্রতিফলিত করে।

বন্ধুগণ,

বিগত সাড়ে তিন বছরে, আমি প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সঙ্গে বেশ কয়েকবার দেখা করার সুযোগ পেয়েছি। এটি ভারত ও ইতালির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা এবং সম্প্রীতির প্রতিফলন। তাঁর নেতৃত্বে, আমাদের সম্পর্ক নতুন গতি, নতুন দিকনির্দেশনা এবং নতুন আস্থা অর্জন করেছে। আমি আনন্দিত যে আমরা আমাদের সম্পর্ককে আরও উন্নত করছি এবং একটি বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব ঘোষণা করছি।

বন্ধুগণ,

আজকের বৈঠকে, আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। ভারত-ইতালি যৌথ কৌশলগত কর্ম পরিকল্পনা ২০২৫-২৯ আমাদের অংশীদারিত্বের জন্য একটি বাস্তবসম্মত ও ভবিষ্যৎমুখী কাঠামো প্রদান করে। আমরা সময়মতো এর ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে চলেছি। আমাদের যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্রুত ২০ বিলিয়ন ইউরোর লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

ভারতে বর্তমানে আট শতাধিক ইতালীয় সংস্থা ভারতের উন্নয়ন যাত্রায় সক্রিয় অংশীদার হয়ে উঠছে। আজকের বাণিজ্যিক মঞ্চ থেকে এটা স্পষ্ট যে, উভয় দেশের বাণিজ্যিক নেতাদের মধ্যে নতুন উদ্যম, নতুন আত্মবিশ্বাস এবং নতুন উচ্চাকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। ইতালি বিশ্বজুড়ে ডিজাইন এবং নিখুঁত কাজের জন্য পরিচিত।

ভারতকে বৃহৎ পরিসর, প্রতিভা এবং সাশ্রয়ী উদ্ভাবনের এক শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তাই, আমরা ‘ভারত ও ইতালিতে ডিজাইন ও উন্নয়ন এবং বিশ্বের জন্য সরবরাহ’—এই নীতিতে এগিয়ে যাব। ফ্যাশন থেকে ফিনটেক, চামড়া থেকে লজিস্টিকস, গতিশীলতা থেকে উৎপাদন পর্যন্ত—আমরা সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে কাজ করার জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের শক্তিকে একত্রিত করব।

ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফ টি এ) সম্পাদনে ইতালির সমর্থনের জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই। ব্যবসায়িক সম্প্রদায় যেন এর পূর্ণ সুবিধা নিতে পারে সেজন্য আমরা এর দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করব। 
 
বন্ধুগণ,

প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনই আমাদের অংশীদারিত্বের চালিকাশক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এ আই), কোয়ান্টাম, মহাকাশ এবং অসামরিক পারমাণবিক শক্তির মতো ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা উভয় দেশের স্টার্টআপ, গবেষণা কেন্দ্র এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংযুক্ত করার জন্য ভারত-ইতালি ইনোভেশন সেন্টার নিয়ে কাজ করছি।

বন্ধুগণ,

প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আমাদের গভীর পারস্পরিক আস্থার প্রতীক। আমাদের সামরিক বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা শিল্প উভয়ের মধ্যেই সহযোগিতা বাড়ছে। আমাদের প্রতিরক্ষা শিল্প রোডম্যাপ যৌথ উন্নয়ন এবং যৌথ উৎপাদনের পথ প্রশস্ত করেছে।

সামুদ্রিক শক্তি হিসেবে, সংযোগের ক্ষেত্রে ভারত ও ইতালির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা স্বাভাবিক। আমরা জাহাজ চলাচল, বন্দর আধুনিকীকরণ, লজিস্টিকস এবং নীল অর্থনীতি নিয়ে একসঙ্গে কাজ করব।

আমরা আমাদের এই পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্বকে তৃতীয় দেশগুলিতে প্রসারিত করার বিষয়েও আলোচনা করেছি। এই লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্য, আমরা আফ্রিকায় সুনির্দিষ্ট প্রকল্পে কাজ করতে সম্মত হয়েছি।

বন্ধুগণ,

ভারত ও ইতালি এ বিষয়ে একমত যে সন্ত্রাসবাদ মানবতার জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ। সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের বিরুদ্ধে আমাদের যৌথ উদ্যোগ সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভারত ও ইতালি একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, দায়িত্বশীল গণতন্ত্র শুধু সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করে না, বরং এর আর্থিক নেটওয়ার্কগুলো ব্যাহত করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপও গ্রহণ করে। ইউক্রেন, পশ্চিম এশিয়া এবং অন্যান্য উত্তেজনার বিষয়ে আমাদের মধ্যে নিরন্তর যোগাযোগ রয়েছে। ভারত মনে করে সমস্ত সমস্যার সমাধান আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে হওয়া উচিত  ।

বন্ধুগণ,

উভয় দেশেই প্রতিটি পদক্ষেপে আমাদের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক সুস্পষ্ট। ইতালিতে ভারতীয় শিল্পকলা, যোগ, আয়ুর্বেদ এবং রন্ধনশৈলীর প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। সংস্কৃত এবং ল্যাটিনের মতো প্রাচীন ভাষাগুলো একই ভাষা পরিবারের অন্তর্গত। এটি প্রমাণ করে যে আমাদের সম্পর্ক কেবল কূটনীতির উপর ভিত্তি করে নয়, বরং অভিন্ন ঐতিহ্যের উপরও নির্ভরশীল।

আগামী বছর ভারত-ইতালি সম্পর্কের ৮০তম বার্ষিকী স্মরণে ‘সংস্কৃতি বর্ষ’ উদযাপিত হবে। এটি আমাদের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। ইতালিতে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ আমাদের সম্পর্কের একটি প্রাণবন্ত সংযোগসূত্র। আমি প্রধানমন্ত্রী মেলোনি এবং ইতালির জনগণকে তাদের অভ্যর্থনার জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।

তিন বছর আগে স্বাক্ষরিত অভিবাসন ও গতিশীলতা অংশীদারিত্ব চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে জনগণের যাতায়াত বৃদ্ধি করেছে।

মাননীয়া,
আজকের এই অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক এবং আপনার বন্ধুত্বের জন্য আমি আবারও আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ১৪০ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে আমি আপনাকে আবারও ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
গ্রাজিয়ে মিলে!

 

SC/ PM /CS…