Search

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রদত্ত ভাষণের বঙ্গানুবাদ

এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রদত্ত ভাষণের বঙ্গানুবাদ


নতুন দিল্লি ১৫  অক্টোবর ২০২৬

 

কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী শ্রী মনসুখ মান্ডব্যজি, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী শ্রীমতী রক্ষা খাড়সেজি, উপস্থিত তরুণ ক্রীড়াবিদ, প্রশিক্ষক, বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ এবং ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ,

আপনাদের সকলের মাঝে উপস্থিত হতে পেরে আমিও নতুন উদ্যমে উজ্জীবিত বোধ করছি। এতজন পদকজয়ী ক্রীড়াবিদকে একসঙ্গে দেখতে পাওয়া এবং তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাওয়া এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। এই অনুভূতি অত্যন্ত আনন্দদায়ক। আপনারা প্রত্যেকেই প্রমাণ করেছেন, নিষ্ঠা ও আবেগ যখন সাফল্যে রূপান্তরিত হয়, তখন তা শুধু পদকই এনে দেয় না, মুখেও ফুটিয়ে তোলে আনন্দের দীপ্তি। একই সঙ্গে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে গোটা দেশ।
বন্ধুগণ,
আপনারা দেশের ১৪০ কোটি নাগরিককে গর্বিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। কারণ, জাতীয় পতাকা তিরঙ্গার মর্যাদা বৃদ্ধি করার চেয়ে বড় সাফল্য আর কী হতে পারে! আপনারা তিরঙ্গার গৌরব বৃদ্ধি করেছেন, তার সম্মান সমুন্নত রেখেছেন। তাই আপনাদের এই সাফল্য শুধু আপনাদের একার নয়; এটি দেশের কোটি কোটি নাগরিকেরও সাফল্য। সমগ্র দেশবাসীর পক্ষ থেকে আপনাদের প্রত্যেককে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। একই সঙ্গে আপনাদের প্রশিক্ষক, সহযোগী কর্মীবৃন্দ এবং পরিবারের সদস্যদেরও জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
বন্ধুগণ,
আজ আমাদের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ড. এ. পি. জে. আব্দুল কালামের জন্মবার্ষিকী। তাঁর জীবন ও আদর্শ আমাদের সকলের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর স্মৃতির প্রতি আমি সশ্রদ্ধ শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করছি।
বন্ধুগণ,

বিভিন্ন দিক থেকেই এবারের এশিয়ান গেমস আমাদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আজ আমাদের পুরুষ ও মহিলা—উভয় হকি দলের সদস্যরাই এখানে উপস্থিত রয়েছেন। এবারের প্রতিযোগিতায় দুই দলই স্বর্ণপদক জয় করেছে। বিশেষ করে, আমাদের মহিলা হকি দল ৪৪ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেছে। ক্রিকেটে পুরুষ ও মহিলা—উভয় দলই পরপর দ্বিতীয়বার পদক জয় করে নিজেদের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করেছে। কবাডিতেও পুরুষ ও মহিলা—উভয় দল স্বর্ণপদক জয় করেছে।

তিরন্দাজিতে পাঁচটি স্বর্ণপদক অর্জনও এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য। আর যেখানে পাঁচের কথা, সেখানে পরম করুণাময়ের আশীর্বাদের কথাও মনে আসে। শ্যুটিংয়ে অসাধারণ সাফল্য, বক্সিং ও কুস্তিতে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব, অ্যাথলেটিক্সে নতুন নতুন রেকর্ড, ২৮ বছর পর ভারোত্তোলনে পদক জয় এবং ১৯৮২ সালের পর প্রথমবার ম্যারাথন ইভেন্টে ভারতের পদক অর্জন—এই সবকিছুই আমাদের কাছে অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়।
বন্ধুগণ,

আমি বিশেষভাবে আমাদের কন্যাদের সাফল্যের প্রশংসা করতে চাই। ভারতের অর্জিত ৮৫টি পদকের মধ্যে ৩৮টি পদক জিতেছেন আমাদের মহিলা ক্রীড়াবিদরা। এর মধ্যে রয়েছে ১১টি স্বর্ণপদকও। এই পদকগুলি নিছক পরিসংখ্যান নয়; এগুলি এক নতুন ভারতের শক্তি ও সম্ভাবনার উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। আজ ভারত এমন সব ক্রীড়া বিভাগেও পদক অর্জন করছে, যেখানে এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এর আগে কখনও পদক জয়ের নজির ছিল না। মিক্সড মার্শাল আর্টস, সফট টেনিস এবং সেইলিংয়ের কয়েকটি বিভাগে প্রথমবার পদক জয়ের মধ্য দিয়ে আমাদের ক্রীড়াবিদরা নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন।
বন্ধুগণ,

এখন ক্রীড়াক্ষেত্রে আমাদের আরও উচ্চ শিখরে পৌঁছতে হবে। আমাদের তা করতেই হবে, তাই নয় কি? আমাদের আরও বেশি সাফল্য অর্জন করতে হবে, তাই নয় কি? আপনাদের সামনে আমি কয়েকটি সংকল্পের কথা তুলে ধরতে চাই। আর আপনারা প্রত্যেকেই পূর্ণ উদ্দীপনার সঙ্গে তার জবাব দেবেন—‘আমরা তা করব!’ আসুন, আমার সঙ্গে পুনরাবৃত্তি করুন:

প্রতিটি ক্রীড়াক্ষেত্রে তিরঙ্গার সম্মান সমুন্নত রাখব—আমরা তা করব!

প্রতিটি ক্রীড়াক্ষেত্রে তিরঙ্গার সম্মান সমুন্নত রাখব—আমরা তা করব!

ক্রীড়াক্ষেত্রে ভারতের নতুন পরিচিতি প্রতিষ্ঠা করব—আমরা তা করব!

প্রতিটি ক্রীড়া বিভাগে নতুন চ্যাম্পিয়ন তৈরি করব—আমরা তা করব!

আমাদের নামে আরও নতুন রেকর্ড গড়ব—আমরা তা করব!
বন্ধুগণ,

আজ আমরা যে স্টেডিয়ামে সমবেত হয়েছি, সেটি হকির কিংবদন্তি মেজর ধ্যানচাঁদজির নামে নামাঙ্কিত। হকির প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ছিল অসাধারণ। রাতেও তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুশীলন করতেন। তাঁর কঠোর পরিশ্রম আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় যে, সংকল্প ও স্বপ্ন একদিনে পূরণ হয় না। এর জন্য প্রয়োজন বছরের পর বছর ধরে ধৈর্য, একাগ্রতা ও নিরলস প্রচেষ্টা।
বন্ধুগণ,

গত ১২ বছরে ভারতও তার ক্রীড়াবিদ এবং ক্রীড়াব্যবস্থার উন্নয়নে ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছে। একটা সময় ছিল, যখন বড় বড় প্রতিযোগিতায় ভারত হাতে গোনা কয়েকটি পদকই অর্জন করতে পারত। দেশের বহু মানুষ অনেক ক্রীড়া বিভাগ সম্পর্কে জানতেনই না। অলিম্পিকের মতো বড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলেও অর্ধেকেরও বেশি ক্রীড়া বিভাগে ভারতের কোনও প্রতিনিধিত্ব থাকত না। একবার ভেবে দেখুন, আমরা যদি প্রতিযোগিতায় অংশই না নিই, তাহলে পদক আসবে কোথা থেকে?

বন্ধুগণ,

আমরা এই নেতিবাচক মানসিকতা দূর করার সংকল্প নিয়েছিলাম। তারই ফলস্বরূপ, আজ বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব ক্রমশ বাড়ছে।
বন্ধুগণ,

এই পরিবর্তন কীভাবে সম্ভব হল? আপনাদের সাফল্যের পিছনে যে নিষ্ঠা ও উদ্যম কাজ করেছে, এই পরিবর্তনের পিছনেও রয়েছে সেই একই মনোভাব। গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে দেশ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিরন্তর কাজ করেছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ ও আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। আপনারা সকলেই জানেন, আমরা টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিম (টপস) চালু করেছি। পাশাপাশি, শুরু করেছি খেলো ইন্ডিয়া প্রকল্প। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রকল্পের পরিধিও আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। মনসুখ ভাই আগেই উল্লেখ করেছেন, খেলো ইন্ডিয়ার পরিসর বৃদ্ধি এবং ক্রীড়া ফেডারেশনগুলিকে শক্তিশালী করার জন্য ৩৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে।

বন্ধুগণ,

আজ সারা দেশে এক হাজারেরও বেশি খেলো ইন্ডিয়া কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে স্টেডিয়াম, মিনি স্টেডিয়াম এবং বহুমুখী ক্রীড়া হল। ছোট-বড় বিভিন্ন শহরে অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক, ফুটবল মাঠ, হকি মাঠ, সুইমিং পুল-সহ হাজার হাজার ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় ক্রীড়াবিদদের সরাসরি আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের দৈনন্দিন খরচ মেটানোর জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা রয়েছে। টপস প্রকল্পের আওতায় ক্রীড়াবিদদের প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কোনও ক্রীড়া বিভাগের প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হলে সরকার সেই ব্যবস্থাও করে এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।
বন্ধুগণ,

যুবসমাজ যাতে খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সর্বাধিক সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করতে উইন্টার গেমসের মতো প্রতিযোগিতার সূচনা করা হয়েছে। শুরু হয়েছে সাংসদ ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও। দেশ নতুন ক্রীড়ানীতি এবং নতুন খেলো ভারত নীতি প্রণয়ন করেছে। আমাদের প্যারা-ক্রীড়াবিদরাও নিজেদের প্রতিভা ও দক্ষতার মাধ্যমে দেশের গৌরব বৃদ্ধি করছেন। তাঁদের জন্যও উন্নত সুযোগ-সুবিধা এবং আধুনিক ক্রীড়া পরিকাঠামো নিশ্চিত করা হচ্ছে। সেই কারণেই আজ প্রত্যেক ক্রীড়াবিদ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অনুভব করছেন যে, তাঁদের সমগ্র যাত্রাপথে দেশ তাঁদের পাশে রয়েছে। একজন ক্রীড়াবিদ যখন এই সমর্থন অনুভব করেন, তখন দেশের জন্য তিনি কতটা সাফল্য অর্জন করতে পারেন, আপনারাই তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

বন্ধুগণ,

এবারের এশিয়ান গেমসে ভারতীয় দলের অনেক ক্রীড়াবিদের বয়স ছিল মাত্র ১৫ থেকে ১৭ বছর। এত অল্প বয়সেই তাঁরা অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দেশের গৌরব বৃদ্ধি করেছেন এবং দেশবাসীর হৃদয় জয় করেছেন। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়, সাফল্যের পথে বয়স কোনও বাধা নয়। বরং, ক্রীড়াক্ষেত্রে অল্প বয়সে যাত্রা শুরু করা বাড়তি সুবিধা এনে দেয়। সেই কারণেই আমাদের লক্ষ্য, ছোটবেলা থেকেই ক্রীড়া প্রতিভা চিহ্নিত করা। পাঁচ থেকে ১৫ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে প্রতিভা অন্বেষণ এবং তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের উপর আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। আগামী বছরগুলিতে খেলো ইন্ডিয়া এবং এমার্জিং খেলো ইন্ডিয়া কর্মসূচির মাধ্যমে হাজার হাজার নতুন ক্রীড়াবিদ তাঁদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবেন।
ভবিষ্যতের ক্রীড়া প্রতিযোগিতাগুলির জন্য আমাদের প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে হবে। ২০২৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হবে অলিম্পিক গেমস। ২০৩০ সালে কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করবে ভারত। আর ২০৩৬ সালে অলিম্পিক গেমস আয়োজন করাও ভারতের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই লালকেল্লা থেকে আমি প্রতিভা অন্বেষণ অভিযান শুরু করার কথা বলেছিলাম। আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গ্রামাঞ্চলে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং তাঁদের বিকাশে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে এই ক্রীড়াবিদরাই ভারতের জন্য পদক নিয়ে আসবেন।
বন্ধুগণ,

আমাদের স্বপ্ন বড়, আমাদের সংকল্পও বড়। আর আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার আত্মবিশ্বাস ভারতের রয়েছে। প্রত্যেক ভারতীয়র মধ্যেই এই আত্মবিশ্বাস রয়েছে। তাই পূর্ণ প্রত্যয়ের সঙ্গে আমি বলছি:

ভারতে বড় মাপের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করব—আমরা তা করব!

ভারতে বড় মাপের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করব—আমরা তা করব!

ভারতে বড় মাপের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করব—আমরা তা করব!

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়াশক্তিগুলির অন্যতম হিসেবে ভারতকে প্রতিষ্ঠিত করব—আমরা তা করব!

ভারতকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ক্রীড়াকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলব—আমরা তা করব!

ভারতে বিশ্বমানের ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তুলব—আমরা তা করব!

ভারতের প্রতিটি প্রান্ত থেকে নতুন চ্যাম্পিয়ন তৈরি করব—আমরা তা করব!
বন্ধুগণ,

এশিয়ান গেমসে আমাদের সাফল্য ভারতের পরিবর্তনশীল মানসিকতারও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট, আজকের যুবসমাজ প্রতিটি উচ্চতা জয় করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ভারতের যুবসমাজের সংকল্পের চেয়ে উঁচু কোনও শৃঙ্গ নেই। আমাদের যুবশক্তির সামর্থ্যের বাইরে কোনও লক্ষ্য নেই। সম্ভাবনার অসীম দিগন্ত আজ আমাদের সামনে উন্মুক্ত, আর ভারতের যুবসমাজ নিজেরাই নিজেদের গন্তব্য নির্ধারণ করছে। সেই কারণেই অল্প সময়ের মধ্যেই ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে পরিণত হয়েছে।

আমাদের যুবসমাজ মহাকাশ ক্ষেত্রে নতুন নতুন সংস্থা গড়ে তুলছে। তারা উপগ্রহ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও তরুণ প্রজন্ম নতুন নতুন প্রযুক্তির বিকাশ ঘটাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে তারা নতুন নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। আর এই পরিবর্তন শুধু বড় শহরগুলিতেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদরা যেমন আজ সুযোগ পাচ্ছেন, তেমনই স্টার্টআপ, গবেষণা ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও ছোট শহর ও গ্রামের তরুণ-তরুণীরা নতুন নতুন ভাবনা নিয়ে এগিয়ে আসছেন।

এই আত্মবিশ্বাসের পিছনে রয়েছে গভীর আস্থা। গত এক দশকে দেশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ব্যবস্থা যুবসমাজের মনে এই বিশ্বাস জাগিয়েছে যে, তারা বড় স্বপ্ন দেখতে পারে। তারা জানে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে দেশ তার পূর্ণ শক্তি নিয়ে তাদের পাশে রয়েছে।
বন্ধুগণ,

আমাদের এই উদ্যোগগুলির সুফল শুধু ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ক্রীড়া প্রশিক্ষণ, ফিজিওথেরাপি, ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা এবং ক্রীড়া সম্প্রচারের মতো ক্ষেত্রেও যুবসমাজের জন্য নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। ক্রীড়াক্ষেত্রের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন পেশারও প্রসার ঘটছে। এর ফলে যুবসমাজের সামনে কর্মসংস্থান ও উদ্যোগ গড়ে তোলার নতুন নতুন সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে।

বন্ধুগণ,

আজ আমরা যে ক্ষেত্রেই কাজ করি না কেন, নিজেদের সাফল্যের জন্য কঠোর পরিশ্রম করা আমাদের কর্তব্য। একই সঙ্গে আগামী প্রজন্মকে গড়ে তোলার দায়িত্বও আমাদের গ্রহণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা এখন আপনাদের রয়েছে। তাই আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ, আপনাদের মতোই যারা এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে, সেই শিশুদের জন্যও কিছুটা সময় বের করুন। নিজেদের পরিশ্রমের মাধ্যমে তাদের স্বপ্নকে লালন করুন এবং বিকশিত হতে সাহায্য করুন। এভাবেই সাফল্যের পথ তৈরি হয়।
সুযোগ পেলেই নিজেদের গ্রাম ও শহরের শিশুদের সঙ্গে দেখা করুন। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে যান। যে মাঠে আপনাদের ক্রীড়াজীবনের সূচনা হয়েছিল, সেখানে যেতেও ভুলবেন না। আপনাদের অভিজ্ঞতা ওই শিশুদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে। আপনাদের বলা একটি কথাই হয়তো কোনও শিশুকে ক্রীড়াক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগাবে।

বন্ধুগণ,

দেশের যুবসমাজ শুধু ক্রীড়াক্ষেত্রেই আপনাদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পায় না। কারণ, খেলাধুলার ভূমিকা ক্রীড়াঙ্গনের গণ্ডি ছাড়িয়ে জীবনের আরও বিস্তৃত ক্ষেত্রে প্রসারিত। খেলাধুলা আমাদের জীবনে শৃঙ্খলা শেখায়। পরাজয়ের পর কীভাবে আবার উঠে দাঁড়াতে হয়, তা শেখায়। হার থেকে শিক্ষা নিয়ে কীভাবে জয়ের পথে এগিয়ে যেতে হয়, তা শেখায়। দীর্ঘ সময় ধরে কোনও লক্ষ্য অর্জনে কীভাবে অবিচল থাকতে হয় এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে কীভাবে নিজেদের মানিয়ে নিতে হয়, খেলাধুলা আমাদের সেই শিক্ষাও দেয়। এই শিক্ষাগুলি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ হয়ে ওঠে। ক্রীড়াসুলভ মানসিকতা সারা জীবন আমাদের পথ দেখায়।
বন্ধুগণ,

আমি প্রায়ই বলি, ‘যে খেলে, সে-ই বিকশিত হয়।’ তাই খেলে যান, বিকশিত হতে থাকুন। আগামী প্রতিযোগিতাগুলির জন্য এবং ভবিষ্যতে আপনাদের সমস্ত প্রচেষ্টার সাফল্য কামনা করে আরও একবার জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। আপনাদের উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাসই নতুন ভারতের অন্যতম প্রধান শক্তি। এই আত্মবিশ্বাসকে পাথেয় করে আমাদের ভারতকে আরও উচ্চ শিখরে পৌঁছে দিতে হবে।
আসুন, আরও একবার পূর্ণ উদ্দীপনায় আমার সঙ্গে বলুন:
বিকশিত ভারত—আমরা তা করব!
২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত—আমরা তা করব!
আমরা তা করব!

বিশ্বের শীর্ষ তিন অর্থনীতির অন্যতম হিসেবে ভারতকে প্রতিষ্ঠিত করব—আমরা তা করব!
বিশ্বের শীর্ষ তিন অর্থনীতির অন্যতম হিসেবে ভারতকে প্রতিষ্ঠিত করব—আমরা তা করব!

আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তুলব—আমরা তা করব!

আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তুলব—আমরা তা করব!

ভারতকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলব—আমরা তা করব!

ভারতকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলব—আমরা তা করব!

প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করব—আমরা তা করব!

মহাকাশ ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি অর্জন করব—আমরা তা করব!

ভারতে অলিম্পিক আয়োজন করব—আমরা তা করব!

নতুন নতুন ক্রীড়া বিভাগে পদক জয় করব—আমরা তা করব!

হ্যাঁ, আমরা তা করব!

আপনাদের সকলকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।
আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।

দ্রষ্টব্য:এটি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের একটি ভাবানুবাদ। মূল ভাষণটি হিন্দিতে দেওয়া হয়েছিল।

 

 

SC/PM/CS