Search

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

গুজরাটের কেভাদিয়ায় রাষ্ট্রীয় একতা দিবস অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার বঙ্গানুবাদ

গুজরাটের কেভাদিয়ায় রাষ্ট্রীয় একতা দিবস অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার বঙ্গানুবাদ


নতুন দিল্লি, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

 

আমি বলব, “সর্দার প্যাটেল”, আর আপনারা সবাই উত্তর দেবেন, “অমর থাকুন, অমর থাকুন।”

 

সর্দার প্যাটেল – অমর থাকুন, অমর থাকুন।

 

সর্দার প্যাটেল – অমর থাকুন, অমর থাকুন।

 

সর্দার প্যাটেল – অমর থাকুন, অমর থাকুন।

 

আমার প্রিয় দেশবাসী,

 

আজকের অনুষ্ঠানটি কিছুটা ভিন্ন। এতদিন আমরা ‘একতা দিবস’-এর এই কর্মসূচিটি সবসময় সকালবেলা আয়োজন করতাম। এবার তাতে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে; আমরা সবাই আজ সন্ধ্যায় একত্রিত হয়েছি। সকালে লক্ষ লক্ষ নাগরিক জাতীয় ঐক্যের শপথ নিয়ে ‘রান ফর ইউনিটি’ (ঐক্যের দৌড়)-তে অংশগ্রহণ করেছেন। এই দৌড়ে মানুষের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা আমরা দেখেছি। গতকাল সন্ধ্যায় আমি ‘ভারত পর্ব’ প্যাভিলিয়নে চমৎকার সব উপস্থাপনা দেখেছি। আর এখন, এই জাতীয় উপলক্ষ্যে আমরা সর্দার প্যাটেলের পাদদেশে সমবেত হয়েছি।

 

বন্ধুগণ,

 

এটি বিশ্বের উচ্চতম মূর্তি – ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’ বা ‘ঐক্যের মূর্তি’। এই মূর্তি নির্মাণের সঙ্গে সমগ্র জাতির অংশগ্রহণ, এই স্থানের অনন্য পরিবেশ এবং ‘একতা দিবস’-এর অসাধারণ শক্তি ও অনুপ্রেরণা – এখানে এলে মন গর্ব ও কৃতজ্ঞতায় ভরে ওঠে। এই মহান জাতির নাগরিক হতে পেরে গর্ববোধ হয়, আর সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জাগে, যিনি স্বাধীনতার পর ৫৫০টিরও বেশি দেশীয় রাজ্যকে একত্রিত করেছিলেন। তিনি তাঁর ইস্পাতকঠিন সংকল্পের মাধ্যমে এই জাতিকে ঐক্যের সুতোয় গেঁথেছিলেন।

 

বন্ধুগণ,

 

যেকোনো জাতির জন্যই স্বাধীনতা অপরিহার্য। একটি জাতি যখন স্বাধীন থাকে, তখন সে নিজেই নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। তবে একটি প্রজাতন্ত্রের মাধ্যমেই স্বাধীনতা সঠিক দিশা পায়। প্রজাতন্ত্র আমাদের সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথ দেখায়। সংবিধান আমাদের জনগণের কাছে দায়বদ্ধ রাখে। আর ঐক্য আমাদের একটি জাতি হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায়। ঠিক এই কারণেই আমাদের দেশে স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস এবং একতা দিবস – এই প্রতিটি দিনই জাতীয় উৎসব হিসেবে অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালন করা হয়।

 

বন্ধুগণ,

 

আজ আবারও ‘একতা নগর’-এ আমরা ভারতের ঐক্যের এক বিশাল রূপ প্রত্যক্ষ করলাম। এ বছরের ‘জাতীয় ঐক্য কুচকাওয়াজ’ (ন্যাশনাল ইউনিটি প্যারেড)-ও ছিল অসাধারণ। এই কুচকাওয়াজ আমাদের পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সাহস ও বীরত্বের প্রতি উৎসর্গীকৃত। বিভিন্ন ট্যাবলোর মাধ্যমে দেশের ঐতিহ্য ও আকাঙ্ক্ষাগুলোকে জাতির সামনে তুলে ধরা হয়েছে। তাই ‘একতা দিবস’ এখন আর কেবল সরকারি অনুষ্ঠানের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং গণঅংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এটি জাতীয় গর্বের এক উৎসবে পরিণত হয়েছে। জাতীয় একতা দিবস উপলক্ষে আমি সকল দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানাই। আমি সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের চরণে গভীর শ্রদ্ধায় মাথা নত করছি।

 

বন্ধুগণ,

 

সর্দার প্যাটেল ভারতের ইতিহাসের এমন এক মহান ব্যক্তিত্ব, যাঁকে ছাড়া আজকের ভারতকে কল্পনা করাও কঠিন। আজকের যে ভারতকে আমরা চিনি, তা গড়ে তোলার কারিগর ছিলেন সর্দার প্যাটেলই। দেশভাগের পরেও হিমালয় থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত ভারতকে যিনি সুরক্ষিত রেখেছিলেন, তিনি হলেন সর্দার প্যাটেল।

 

বন্ধুগণ,

 

সর্দার প্যাটেল এটি করতে পেরেছিলেন কারণ তিনি ভারতের চরিত্র ও চেতনাকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। তিনি জানতেন যে, ভারতের বৈচিত্র্য কোনো দুর্বলতা নয়; বরং এই বৈচিত্র্যই হলো ভারতের ঐক্যের প্রকৃত ভিত্তি। হাজার হাজার বছর ধরে আমরা এভাবেই বসবাস করে আসছি। এই শক্তির বলেই আমরা প্রগতি ও সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছাতে পেরেছি।

 

বন্ধুগণ,

 

সর্দার প্যাটেল সেই ভারতকে নতুন করে গড়ে তোলার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তিনি কেবল দেশের ভৌগোলিক সীমানাই নির্ধারণ করেননি, বরং আবেগীয় ঐক্যের সুতোয় পুরো দেশকে একসূত্রে গেঁথেছিলেন। গুজরাটে সোমনাথ মন্দির পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে তিনি জাতির সাংস্কৃতিক নবজাগরণেরও সূচনা করেছিলেন।

 

বন্ধুগণ,

 

এ বছর সেই মহান কাজের ৭৫তম বার্ষিকীও পালিত হচ্ছে। আক্রমণকারীরা বারবার সোমনাথ মন্দির ধ্বংস করার চেষ্টা করলেও, হাজার বছর ধরে যেমন এই মন্দিরের ধ্বজা গর্বের সঙ্গে উড়ছে, ঠিক তেমনই আত্মমর্যাদার সেই চেতনা আমাদের ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’ উদযাপনে অনুপ্রাণিত করেছে। আর এ বছরও জাতি সমান উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে সেই উপলক্ষটি উদযাপন করছে।

 

আমার প্রিয় দেশবাসী,

 

আজ, জাতীয় ঐক্যের এই মহান অনুষ্ঠানসমূহ, বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান মর্যাদা, আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতির দ্রুত গতি এবং কাশী বিশ্বনাথ থেকে রাম মন্দির পর্যন্ত আমাদের পবিত্র কেন্দ্রগুলোর পুনরুজ্জীবন – এ সবই নির্দেশ করে যে ভারত কোন পথে এগিয়ে চলেছে। এটি এমন একটি পথ যা আমাদের দেখিয়েছিলেন সর্দার প্যাটেল। আর এর জন্য জাতি তাঁর কাছে চিরঋণী হয়ে থাকবে।

 

বন্ধুগণ,

 

গত বছর আমরা সর্দার প্যাটেলের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেছি। দুই বছর ধরে সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি ও উৎসব আয়োজিত হয়েছিল। আমরা জাতির জন্য বড় বড় সংকল্প গ্রহণ করেছিলাম এবং তা পূরণের অঙ্গীকার করেছিলাম। আর আজ, যখন আমরা তাঁর ১৫১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করছি, তখন আমরা সন্তুষ্টির সঙ্গে বলতে পারি যে, জাতি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই সংকল্পগুলো পূরণ করেছে। এই দুই বছরে দেশ বেশ কিছু অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে।

 

বন্ধুগণ,

 

সর্দার প্যাটেলের ১৫০তম জন্মবার্ষিকীতে, তাঁর চরণে দাঁড়িয়ে আমি বলেছিলাম, “যতদিন না দেশ নকশালবাদ ও মাওবাদী সন্ত্রাস থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়, ততদিন আমরা বিশ্রাম নেব না।” আর ঠিক এক বছর পর, আজ আমরা যখন এখানে দাঁড়িয়ে আছি, তখন সেই জাতীয় সংকল্প পূরণ হয়েছে। আজ দেশে নকশালবাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালে দেশের ১২৬টি জেলা বামপন্থী চরমপন্থার কবলে ছিল। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে, দেশে এমন একটি জেলাও অবশিষ্ট ছিল না যা নকশালবাদের দ্বারা প্রভাবিত। যে জেলাগুলো কয়েক দশক ধরে হিংস্রতা ও রক্তপাতের শিকার হয়েছিল, সেগুলো এখন উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত হচ্ছে। আজ এসব এলাকায় রাস্তাঘাট সম্প্রসারিত হচ্ছে। মানুষের কাছে মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছে যাচ্ছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ-সুবিধা বাড়ছে। যে তরুণরা একসময় অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছিল, তারা এখন শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অগ্রগতির নতুন সুযোগ পাচ্ছে।

 

বন্ধুগণ,

 

এবার, এই ‘একতা দিবস’ উদযাপনে, নকশাল-প্রভাবিত অঞ্চল থেকে আসা পরিবারগুলো বিশেষ অতিথি হিসেবে আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। আমি তাঁদের সবাইকে স্বাগত জানাই এবং তাঁদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাই। আজ, আমি সেই সমস্ত সাহসী নিরাপত্তা কর্মীদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করছি, যারা দেশের এই অঞ্চলগুলোতে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

 

বন্ধুগণ,

 

আজকের ভারত আগের থেকে অনেক বেশি নিরাপদ। আজকের ভারত আগের থেকে অনেক বেশি সংকল্পবদ্ধ। আর এর একটি প্রধান কারণ হলো আমাদের নাগরিকদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাওয়া। আত্মবিশ্বাস আসে সাফল্য থেকে। আত্মবিশ্বাস আসে সরকার ও শাসনব্যবস্থার সংবেদনশীলতা থেকে। আজ আমি এমন একটি বড় জাতীয় সাফল্যের কথা অবশ্যই উল্লেখ করতে চাই।

 

বন্ধুগণ,

 

স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতে দারিদ্র্য দূর করার কথা বলা হয়ে আসছে। দারিদ্র্য দূর করার নাম করেই ভোট চাওয়া হতো। কিন্তু দেশে দারিদ্র্যের প্রকৃত অবস্থা কী ছিল, তা আমরা সবাই জানি। যারা দারিদ্র্য দূর করার স্লোগান দিয়েছিলেন, তাঁরাই বরং ক্রমাগত ধনী হতে থাকেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে। কিছুদিন আগেই বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগের দশ-বারো বছরে ৫০ কোটি ভারতীয় দারিদ্র্যকে জয় করেছেন। এর অর্থ হলো, আগে যেখানে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ২৭ জন – অর্থাৎ জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশের বেশি মানুষ – চরম দারিদ্র্যের কবলে ছিলেন, আজ সেই সংখ্যা কমে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৩ জনেরও নিচে নেমে এসেছে।

 

বন্ধুগণ,

 

পুরো বিশ্বই স্বীকার করছে যে এটি একটি বড় সাফল্য। কিন্তু কীভাবে এটি সম্ভব হলো? এটি সম্ভব হয়েছে কারণ গত বারো বছর ধরে দেশ দরিদ্রদের কল্যাণ ও ক্ষমতায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। এই বারো বছরে দেশ একটি ত্রুটিমুক্ত বা ‘লিক-প্রুফ’ ব্যবস্থা পেয়েছে। ডিবিটি-র মাধ্যমে দিল্লি থেকে পাঠানো প্রতিটি টাকা সরাসরি দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছেছে। বিনামূল্যে রেশন এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্য- পরিষেবা দরিদ্র পরিবারগুলোর অর্থ সাশ্রয়ে সহায়তা করেছে। কোটি কোটি স্থায়ী বাড়ি, কোটি কোটি শৌচাগার এবং ধোঁয়ামুক্ত রান্নাঘর দরিদ্র মানুষের জীবনকে সহজতর করে তুলেছে। কোটি কোটি মানুষ বিমার সুরক্ষা পেয়েছেন, যা সংকটের সময়ে তাঁদের জন্য বড় সহায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৪ সালের আগে দেশের ২৫ কোটি মানুষেরও কোনও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না। আজ প্রায় ১০০ কোটি মানুষ সামাজিক সুরক্ষার বলয়ের আওতায় এসেছেন। 

 

বন্ধুগণ,

 

আজ, যখন সমগ্র জাতি সর্দার সাহেবকে স্মরণ করছে এবং তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছে, তখন নিশ্চয়ই তাঁর আত্মা আমাদের আশীর্বাদ করছে। এই ধরনের প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আমরা দেশ থেকে দারিদ্র্য দূর করব এবং একটি উন্নত ভারত গড়ে তুলব।

 

বন্ধুগণ,

 

জাতীয় ঐক্য একটি জাতির স্থিতিশীলতা ও সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয়। আর বর্তমানের এই বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার সময়ে ঐক্যের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। আপনারা সবাই জানেন যে, আজ বিশ্ব অস্থিরতার আগুনে জ্বলছে। গত কয়েক দশকের মধ্যে এটি অন্যতম কঠিন সময়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। বড় বড় অর্থনীতিগুলো নানা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছে। সম্পদের সংকট ক্রমাগত বাড়ছে। বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা খণ্ডিত হয়ে পড়ছে। এমন এক সময়ে, ভারতের ঐক্য – অর্থাৎ সমস্ত ভারতবাসীর ঐক্যই হলো আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। কারণ, এই ঐক্যই আমাদের প্রতিটি ঝড় কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।

 

ভাই ও বোনেরা,

 

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমরা দেখেছি যে, পুরো বিশ্ব এক জ্বালানি সংকটের মোকাবিলা করছে। এমনকি কিছু দেশে পেট্রোল ও ডিজেল কেনার ওপরও সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। বলা হচ্ছিল যে, ভারত সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে পড়বে, কারণ ভারতের জনসংখ্যা অনেক বেশি এবং এখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেট্রোলিয়াম উৎপাদিত হয় না। এই উদ্বেগের মাঝে ভারত-বিরোধী শক্তিগুলোও সক্রিয় হয়ে উঠেছিল।

 

কিন্তু বন্ধুগণ,

 

এটাই ভারতের শক্তি। আমরা এই বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব আমাদের নাগরিকদের ওপর পড়তে দিইনি। এটি নিঃসন্দেহে দেশের একটি কূটনৈতিক ও কৌশলগত সাফল্য; তবে আমাদের জনগণের ঐক্য ও সংহতিও এতে সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। যখন দেশ বাইরের চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান খুঁজছিল, তখন দেশের ভেতরেই কিছু শক্তি মিথ্যা ও গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টায় ব্যস্ত ছিল। কিন্তু ভারতের জনগণ দেশের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে। এটাই এই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। এটাই আমাদের আত্মবিশ্বাসের সবচেয়ে মজবুত ভিত্তি।

 

বন্ধুগণ,

 

সর্দার প্যাটেল এবং বাবাসাহেব আম্বেদকরের মতো মহান নেতারা যখন ভারতের সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন, তখন তাঁরা শাসক পক্ষ ও বিরোধী পক্ষের একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন। তাঁরা এই ব্যবস্থার গুরুত্বও বুঝিয়েছিলেন। গণতন্ত্রে সরকারের নীতিগুলোর বিরোধিতা করা বিরোধী পক্ষের দায়িত্ব। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আজকের ভারতে বিরোধী পক্ষ তাঁদের সেই দায়িত্ব ভুলে গিয়ে কেবল ‘প্রতিবন্ধকতা’ সৃষ্টিকারী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। হতাশা ও নৈরাশ্যের বশবর্তী হয়ে তাঁরা এখন দেশের উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। একে বিরোধিতা বলা যায় না, এটি হলো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা। তাঁরা এই বাধা সৃষ্টিকেই তাঁদের রাজনীতির মূল ভিত্তি বানিয়ে ফেলেছে। তাঁরা সংবিধানের মর্যাদা ও চেতনাকে খণ্ড-বিখণ্ড করার কাজে লিপ্ত রয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

 

এই শক্তিগুলো প্রতিনিয়ত দেশকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ভারতমাতার সন্তানদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে তাঁদেরকে পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। এক দশকেরও বেশি সময়ের হতাশা ও নৈরাশ্যের কারণে, এই মানুষগুলো এখন প্রকাশ্যে বেরিয়ে এসেছে। বিদেশে কারা গোপনে কার সঙ্গে বৈঠক করছে, কোন ভারত-বিরোধী শক্তি কাকে সমর্থন দিচ্ছে এবং কারা ভারতের শত্রুদের ভাষায় কথা বলছে – তা আমাদের চিহ্নিত করতে হবে। আমাদের এই ধরনগুলো বুঝতে হবে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এদের মোকাবিলা করতে হবে। বিশেষ করে যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়াকে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেভাবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে এবং ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে – এই চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলায় সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা দুর্গম অঞ্চলগুলো থেকে নকশালবাদের অবসান ঘটিয়েছি। কিন্তু দেশে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক নকশালবাদ’-এর হুমকি এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি। এই বুদ্ধিবৃত্তিক নকশালদের বিরুদ্ধে জাতিকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে।

 

বন্ধুগণ,

 

পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন, জাতীয় ঐক্যের এই মহান অভিযান এবং একটি শক্তিশালী ও সক্ষম ভারতের দিকে আমাদের এই যাত্রাকে কোনোভাবেই থামতে দেওয়া যাবে না। এখন আমাদের পরবর্তী বড় লক্ষ্যগুলোর দিকে কাজ করতে হবে। আমাদের দেশের সীমান্তগুলোকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করতে হবে। অনুপ্রবেশ এবং এর ফলে সৃষ্ট জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনগুলোকে রুখতে হবে। পাশাপাশি, আমাদের একটি ‘ধর্মনিরপেক্ষ দেওয়ানি বিধি’-র দিকেও এগিয়ে যেতে হবে।

 

বন্ধুগণ,

 

যখনই কোনো জাতি বড় কোনো সংকল্প গ্রহণ করে বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়, তখন নানা বাধা-বিপত্তি আসবে, কঠিন পরিস্থিতির উদ্ভব হবে এবং ঝড়ের মোকাবিলা করতে হবে। কিন্তু ভারত এখন আর থামবে না। ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর মন্ত্র এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য এখন ভারতের অটল সংকল্পে পরিণত হয়েছে। আমরা কঠোর পরিশ্রমের সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করব। প্রতিটি ঝড়ের মোকাবিলা করব দৃঢ় সংকল্পের সঙ্গে। তবে আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকবে কেবল একটি লক্ষ্যের দিকেই – ২০৪৭ সালে, যখন দেশ স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ করবে, তখন একটি শক্তিশালী, সক্ষম ও বিকশিত ভারত গড়ে তোলা। আমাদের প্রতিটি প্রচেষ্টায় এবং প্রতিটি নিঃশ্বাসে এই আবেগ থাকা চাই। আমাদের হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দনে এই ভাবনাটি অনুরণিত হতে হবে। এই সংকল্প নিয়ে, ‘জাতীয় ঐক্য দিবস’-এ আমি আপনাদের সবাইকে আবারও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।

 

ভারত মাতা কি জয়!

 

ভারত মাতা কি জয়!

 

ভারত মাতা কি জয়!

 

বন্দে মাতরম্।

 

বন্দে মাতরম্।

 

বন্দে মাতরম্।

 

আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।

 

(প্রধানমন্ত্রী তাঁর মূল ভাষণটি হিন্দিতে বলেছেন ।)

 

 

 

MH/SB/AS