Search

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রক্রিয়াকরণকে উৎসাহিত করতে লিথিয়াম ও নিকেল প্রক্রিয়াকরণের জন্য ২,৮১৪ কোটি টাকার মূলধনী ব্যয় সহায়তা প্রকল্পে অনুমোদন মন্ত্রিসভার


নয়াদিল্লি, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬ 

 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ‘গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রক্রিয়াকরণকে উৎসাহিত করতে মূলধনী ব্যয় সহায়তা প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে। পাঁচ বছর মেয়াদী এই প্রকল্পের জন্য ২,৮১৪ কোটি টাকার আর্থিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলির প্রক্রিয়াকরণ বর্তমানে বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি স্থানে কেন্দ্রীভূত হয়ে রয়েছে। এর ফলে সরবরাহ-শৃঙ্খলগুলি ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, মূল্যের ওঠানামা এবং সরবরাহে সম্ভাব্য বাধার মুখে পড়ে, যা সরবরাহ শৃঙ্খলের সুস্থতিস্থিশীলতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি করে। এটি জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলে।

বর্তমানে লিথিয়াম, নিকেল ও কোবাল্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলির অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াকরণ পরিকাঠামো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায়, ভারত পরিশোধিত মধ্যবর্তী পণ্য এবং উচ্চ গুণমানসম্পন্ন উপকরণের জন্য আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশে এই খনিজগুলি প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। বাণিজ্যিক পর্যায়ের প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে উচ্চ মূলধনী বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা, উপযুক্ত প্রযুক্তির অভাব এবং কাঁচামাল সংগ্রহের সীমাবদ্ধতার মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তাই পণ্যের মূল্য সংযোজন সর্বোচ্চ করতে, আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং একটি শক্তিশালী ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে দেশে প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা অপরিহার্য।

এই প্রেক্ষাপটেই, দেশে খনিজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপন ও তা সচল করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় মূলধনী সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে ‘গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রক্রিয়াকরণকে উৎসাহিত করার জন্য মূলধনী ব্যয় সহায়তা প্রকল্প’টি প্রণয়ন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল, ভারতে খনিজ প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা গড়ে তোলা, যার মাধ্যমে দেশে মূল্য সংযোজন করা যাবে, আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ মূল্য-শৃঙ্খল গড়ে উঠবে। এই প্রকল্পের আওতায় লিথিয়াম ও নিকেল আকরিক বা মধ্যবর্তী পণ্যগুলিকে প্রক্রিয়াজাত করে উচ্চ-বিশুদ্ধতাসম্পন্ন যৌগে রূপান্তর করা হবে। এছাড়া, নিকেল উৎপাদনের উপজাত হিসেবে কোবাল্টও পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি বৈদ্যুতিক যানবাহন, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম, ইলেকট্রনিক্স, প্রতিরক্ষা এবং বিশেষায়িত ইস্পাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিকে সহায়তা করবে।

প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের জন্য মোট ২,৮১৪ কোটি টাকার আর্থিক বরাদ্দ ধরা হয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই প্রকল্পের আওতায়, চারটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য বিনিয়োগের ৩০ শতাংশ মূলধনী ভর্তুকি (ক্যাপিটাল সাবসিডি) প্রদান করা হবে। এর মধ্যে থাকবে দুটি লিথিয়াম প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট (প্রতিটির ন্যূনতম সক্ষমতা ৩০ হাজার টন) এবং দুটি নিকেল প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট (প্রতিটির ন্যূনতম সক্ষমতা ৫০ হাজার টন)। লিথিয়াম প্রকল্পের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০০ কোটি টাকা এবং নিকেল প্রকল্পের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯০০ কোটি টাকা পর্যন্ত মূলধনী সহায়তা দেওয়া হবে।

উপভোক্তা নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি দুটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে আবেদনকারীদের কারিগরি যোগ্যতা যাচাই করা হবে; শুধুমাত্র কারিগরিভাবে যোগ্য আবেদনকারীরাই দ্বিতীয় ধাপে আর্থিক বিডিংয়ে (ফাইন্যান্সিয়াল বিডিং) অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। প্রতিটি খনিজের ক্ষেত্রে, ‘সর্বনিম্ন ব্যয়ের’ মানদণ্ডের ভিত্তিতে দুজন উপভোক্তা নির্বাচন করা হবে—অর্থাৎ, যে আবেদনকারীরা এই প্রকল্পের আওতায় সবচেয়ে কম মূলধনী সহায়তা দাবি করবেন, তাদেরকেই বেছে নেওয়া হবে। এই প্রণোদনা বা ইনসেনটিভ নির্দিষ্ট মাইলফলক অর্জনের সাপেক্ষে তিনটি কিস্তিতে প্রদান করা হবে।

 

SC/MP/SB