নতুন দিল্লি, ২০ অক্টোবর ২০২৬
ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের জয়!
ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের জয়!
ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের জয়!
বিজয়া দশমীর এই শুভক্ষণে আমি প্রভু শ্রী রাম, জানকি মাতা এবং বজরঙ্গবলীর চরণে প্রণাম জানাই। পবিত্র এই মুহূর্তে প্রত্যেক দেশবাসীকে বিজয়া দশমীর আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
বন্ধুগণ,
আজ ভারতের প্রতিটি কোণা ভগবান রামের ভাবনায় পরিপূর্ণ। প্রতিটি গ্রাম ও শহর- সমগ্র দেশ ‘রামলীলা’-র আবহে নিমগ্ন। দেশজুড়ে রামলীলা মঞ্চস্থ করার এই ঐতিহ্য ভগবান রামের আদর্শকে প্রাণ বন্ত রেখেছে। এই ঐতিহ্য অত্যাচার ও আতঙ্কের অবসানের বার্তা দেয়। এর মধ্য দিয়ে এই বিশ্বাস সুদৃঢ় হয় যে, অসত্যের ওপর চিরন্তন সত্যের জয় সর্বদা সুনিশ্চিত। আমাদের কাছে এগুলি শুধু উৎসব নয়, এগুলো ভারতের প্রাণশক্তির প্রতীক। তাই আজ, যখন এ দেশের মানুষ অধর্মকে পরাজিত করে ধর্মের জয়ের উদযাপন করছে, তখন আসুন আপনারা আরও একবার আমার সঙ্গে বলুন-
ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের জয়!
ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের জয়!
ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের জয়!
বন্ধুগণ,
এই দেশের সংস্কৃতি এবং আমাদের পূর্বপুরুষেরা হাজার হাজার বছর ধরে ভগবান শ্রীরামের আরাধনা করে আসছেন। শ্রীরাম রাক্ষসরাজ রাবণকে বধ করেছিলেন বলে শুধু এই বিশ্বাস অটুট নেই বরং এই বিশ্বাসের মূলে রয়েছে সেই আদর্শ, যা মানবজাতির ইতিহাসের পাতায় অনন্য।
বন্ধুগণ,
ভগবান শ্রীরাম তাঁর জীবনে বহু প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছিলেন, তবুও তিনি কখনোই সত্য ও ন্যায়ের পথ ত্যাগ করেননি। “প্রসন্নতাং ইয়া ন গতা অভিষেকতঃ তথা, ন মমল্লে বনবাসদুঃখতঃ।”- তাঁর চরিত্রের বৈশিষ্ট্য ছিল এটি, অর্থাৎ, রাজ্যলাভের আনন্দে তিনি যেমন উচ্ছ্বসিত হননি, তেমনি বনবাসের দুঃখেও তিনি কাতর হননি। সমস্ত প্রতিকূলতা সহ্য করেও তিনি ধর্মকে অনুসরণ করেছেন এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বনবাসকালে তিনি নিষাদরাজকে আলিঙ্গন করেন এবং মাতা শবরীকে সম্মান জানান। তিনি করুণা, দয়া, প্রেম ও সম্প্রীতির সর্বোচ্চ মানদণ্ড স্থাপন করেছিলেন। যখন তিনি অযোধ্যার রাজা হলেন, তখন এমন এক ‘রামরাজ্য’ প্রতিষ্ঠা করলেন, যা আজও সুশাসনের আদর্শ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত। রামরাজ্য মানে এমন এক ব্যবস্থা, যেখানে কারও প্রতি কোনো বৈষম্য নেই, যেখানে প্রত্যেকে ন্যায়বিচার পান, যেখানে সবাই সমান সুযোগ লাভ করে এবং যেখানে ক্ষমতার উদ্দেশ্য শাসন করা নয়, বরং জনগণের কল্যাণে সেবা করা। তাই গোস্বামী তুলসীদাসজি লিখেছিলেন— “দৈহিক দৈবিক ভৌতিক তাপা। রামরাজ নাহিং কাহুহি ব্যাপা।” ‘মর্যাদা পুরুষোত্তম’ ভগবান শ্রীরামের আদর্শ এটি। তাই আমাদের জনগণকে সবসময় ঈশ্বরতুল্য বলে মনে করতে হবে এবং ‘নাগরিকই প্রথম’—এই মন্ত্র নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের সেবাকে আমাদের সবার উপর স্থান দিতে হবে।
বন্ধুগণ,
ভগবান শ্রীরামের জীবন থেকে আমরা মহান এক শিক্ষা পাই। সংকট যতই গভীর হোক বা সমস্যা যতই কঠিন হোক, আমাদের অন্যের মুখাপেক্ষি হওয়া উচিত নয়। আমাদের নিজেদের শক্তিকে জানতে হবে, নিজেদের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখতে হবে, সংকল্পকে শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। ভগবান শ্রীরাম আমাদের শিখিয়েছেন , পথের বাধা আমাদের চলাকে থামাতে পারে না। তাঁর সামনে ছিল বিশাল সমুদ্র, আর লঙ্কা ছিল বহুদূরে। তবে সংকল্প ছিল অটল। তাই ভগবান রাম জনগণের সম্মিলিত শক্তিকে জাগ্রত করেছিলেন। তিনি জন সাধারণের অংশগ্রহণকে নিজের শক্তিতে রূপান্তরিত করে তুলেছিলেন। তিনি প্রাপ্ত সম্পদগুলিকে একত্রিত করেন। আর তিনি এমন এক লক্ষ্য স্থির করেছিলেন, যা আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব বলে মনে হতো। কিন্তু, সেটিই সাফল্যের মূল মন্ত্র। নিজের শক্তির ওপর বিশ্বাস, নিজের ক্ষমতার ওপর আস্থা, নিজেদের সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং লক্ষ্যের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার। আজ আমাদেরও সেই একই মন্ত্র নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের সামনে রয়েছে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য। আমাদের সামনে রয়েছে ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর লক্ষ্য। জনগণের শক্তির মাধ্যমে এবং জনগণের কল্যাণের জন্য, আমাদের নাগরিকদের প্রতিটি চাহিদা পূরণ করতে হবে। আর এর জন্যও ভগবান রামের কাছ থেকেই আমাদের অনুপ্রেরণা নিতে হবে।
বন্ধুগণ,
একটি দেশের তখনই উন্নতি হয় যখন দেশবাসীর আত্মমর্যাদাবোধ থাকে। আর এই আত্মমর্যাদার ক্ষেত্রে ঐতিহ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই, আজ আমাদের দেশ তার ঐতিহ্য ও পরিচিতি রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আমাদের সম্পদ লুট করে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু আজ, আমরা সেই সম্পদ ফিরিয়ে আনছি। গত বারো বছরে সাড়ে ছয়শোরও বেশি প্রাচীন মূর্তি ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। একইভাবে, ভারত তার সাংস্কৃতিক উপাদানগুলিকে বিশ্বমঞ্চের নতুন স্বীকৃতি এনে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আমাদের অনেক জায়গা ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় যুক্ত হয়েছে। গত বছর, ইউনেস্কো দীপাবলিকেও মানবতার ‘অস্পর্শনীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’র তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটি কোটি কোটি ভারতবাসীর সম্মিলিত ইচ্ছাশক্তির ফল। আমাদের এই একই নিষ্ঠা নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
বন্ধুগণ ,
বিজয়াদশমী বিজয়ের উৎসব। এটি সাফল্যের উৎসব। শত্রু যতই শক্তিশালী হোক না কেন, আমরা যদি সত্য ও মানবতার পক্ষে দাঁড়াই, তবে শেষ পর্যন্ত জয় আমাদেরই হবে — এই উৎসব আমাদের সেই বিশ্বাস রাখারই সাহস জোগায়। বিজয়াদশমীর এই চেতনা সবসময় ভারতকে পথ চলার দর্শন হিসেবে কাজ করেছে। আমাদের ঋষিরা যে মন্ত্রে আমাদের অনুপ্রাণিত করেছিলেন, সেটি হল- “সমানো মন্ত্রঃ সমিতিঃ সমানী, সমানং মনঃ সহ চিত্তমেসাম।” এর অর্থ হলো—আমাদের চিন্তাভাবনা ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত, আমাদের সমিতিগুলির এক থাকা উচিত এবং দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলগুলির জাতীয় স্বার্থে একজোট হয়ে দাঁড়ানো উচিত। এই চেতনা নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যে শক্তিগুলি দেশের সম্মান ও মর্যাদার ওপর আঘাত হানে, যারা সমাজকে বিভক্ত করে এবং যারা আমাদের সংস্কৃতির প্রতি ঘৃণার মনোভাব পোষণ করে, তারা সবাই দেশের শত্রু। বিজয়াদশমীর এই শুভলগ্নে আমাদের নতুন করে সংকল্প নিতে হবে। আমাদের ভারতমাতার শত্রুদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের পরাজিত করতে হবে। ‘দেশই প্রথম’ —এই শপথ নিয়ে আমাদের সবাইকে একজোট হতে হবে। আমি নিশ্চিত যে, অযোধ্যা মন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানের সময় ‘রাম থেকে রাষ্ট্র’ এবং ‘দেবত্ব থেকে জাতীয় কর্তব্য’—র যে ভাবনা আমরা উপস্থাপিত করেছিলাম, তা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। দশেরা উপলক্ষে আমি দেশবাসীকে আবারও আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।
জয় শ্রী রাম!
জয় শ্রী রাম!
জয় শ্রী রাম!
ভারতমাতার জয়!
ভারতমাতার জয়!
অনেক অনেক ধন্যবাদ
( প্রধানমন্ত্রীর মূল ভাষণটি হিন্দিভাষায় ছিল)
SC/CB/DM
Vijaya Dashami celebrates the victory of good over evil. It reminds us of the enduring strength of truth and righteousness. https://t.co/jJSlQdNhu2
— Narendra Modi (@narendramodi) October 20, 2026
दिल्ली में श्रद्धा और भव्यता से ओतप्रोत विजयादशमी कार्यक्रम ने अभिभूत कर दिया। https://t.co/qVpa1NjZf1
— Narendra Modi (@narendramodi) October 20, 2026