Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তর প্রদেশের হারদোইতে ৫৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রবেশাধিকার-নিয়ন্ত্রিত গ্রিনফিল্ড গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করলেন

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তর প্রদেশের হারদোইতে ৫৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রবেশাধিকার-নিয়ন্ত্রিত গ্রিনফিল্ড গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করলেন


নতুন দিল্লি, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ উত্তর প্রদেশের হারদোইতে ৫৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রবেশাধিকার-নিয়ন্ত্রিত গ্রিনফিল্ড গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেছেন। ভগবান নরসিংহের পবিত্র ভূমি এবং মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে বয়ে চলা মা গঙ্গার দিব্য উপস্থিতিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর ভাষণ শুরু করে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সমগ্র অঞ্চলটি নদীর আধ্যাত্মিক ও প্রতিপালনকারী মাহাত্ম্যে ধন্য একটি তীর্থস্থান। উত্তর প্রদেশের জন্য এই এক্সপ্রেসওয়ে স্বয়ং মা গঙ্গারই আশীর্বাদ বলে তিনি মন্তব্য করেন। 

 

মা গঙ্গার চিরন্তন তাৎপর্য এবং আধুনিক পরিকাঠামোর মধ্যে তুলনা টেনে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যের উন্নয়ন যাত্রায় এই এক্সপ্রেসওয়ের রূপান্তরকারী ভূমিকার ওপর জোর দেন।এই নবনির্মিত মহাসড়কগুলি একটি উন্নয়নশীল ভারতের জীবনরেখার প্রতিনিধিত্ব করে বলে উল্লেখ করে শ্রী মোদী বলেন, এই আধুনিক জীবনরেখাগুলি আজ ভারতের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ঘোষণা করছে।

 

 তাঁর সাম্প্রতিক আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত দিনগুলিতে, অর্থাৎ ২৪শে এপ্রিল বাংলা থেকে শুরু করে গতকাল এবং আজ সকালে কাশী পর্যন্ত, মা গঙ্গার কাছে তাঁর উপস্থিতি, বিশ্বাস এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের এক অসাধারণ মিলন ঘটিয়েছে। রাজ্য সরকারের এক্সপ্রেসওয়েটির নামকরণ মা গঙ্গার নামে করার সিদ্ধান্তে আনন্দ প্রকাশ করে শ্রী মোদী বলেন, “এটি আমাদের উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে এবং আমাদের ঐতিহ্যের ঝলক দেখায়।”

 

সরকারের পরিকাঠামো নির্মাণের দ্রুত গতির উপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দীর্ঘতম গ্রিন করিডোর এক্সপ্রেসওয়ে, গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের কাজ পাঁচ বছরেরও কম সময়ে সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত আধুনিকীকরণের বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এটাই বর্তমান সরকারের কাজের গতি! বর্তমান সরকার এভাবেই কাজ করে!”

 

এক্সপ্রেসওয়ের কৌশলগত তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী এর ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথের রূপরেখা তুলে ধরেন, যা পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলিকে মধ্য উত্তরপ্রদেশের কৃষিপ্রধান অঞ্চলের মধ্য দিয়ে পূর্ব উত্তরপ্রদেশের সাংস্কৃতিক স্থানগুলির সঙ্গে সংযুক্ত করে এবং বারোটি জেলার কোটি কোটি নাগরিককে সরাসরি প্রভাবিত করে।শ্রীমোদী বলেন, “গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে শুধু একটি দ্রুতগতির সড়ক নয়। এটি নতুন সম্ভাবনা, নতুন স্বপ্ন এবং নতুন সুযোগের প্রবেশদ্বার”।

 

কৃষিভিত্তিক জনগোষ্ঠীর দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলোর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপর্যাপ্ত সরবরাহ পরিকাঠামো এবং হিমঘরের অপ্রতুলতার জন্য এই উর্বর অঞ্চলের কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে প্রধান বাজারগুলোতে প্রবেশ করতে পারেননি। উন্নত সংযোগ ব্যবস্থার রূপান্তরকারী সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এর ফলে কৃষকদের আয় বাড়বে।

 

এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ সুবিধার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি যেমন উত্তর প্রদেশের এক প্রান্তকে অন্য প্রান্তের সাথে সংযুক্ত করবে, তেমনই জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের বিপুল সম্ভাবনাকেও কাছে নিয়ে আসবে, কারণ এর উপর দিয়ে যানবাহন চলার ফলে এর দুই পাশে নতুন শিল্পের সুযোগ তৈরি হবে।”

 

এক্সপ্রেসওয়ের পাশে শিল্প সুযোগের উত্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওষুধ, বস্ত্র, তাঁত, চামড়াজাত পণ্য এবং হস্তশিল্পের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে উৎপাদন কেন্দ্রগুলিকে আকৃষ্ট করতে এবং যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হারদোইয়ের মতো জেলাগুলোতে কৌশলগতভাবে শিল্প করিডোর গড়ে তোলা হচ্ছে। মুদ্রা যোজনা এবং এক জেলা এক পণ্য-এর মতো প্রকল্পের মাধ্যমে সুবিধাভোগী রাজ্যের যুবকদের উদ্যোক্তাসুলভ মনোভাবের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র শিল্প এবং এমএসএমইগুলি গতি পাচ্ছে এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা তাদের জন্য নতুন পথ খুলে দেবে। 

 

উত্তর প্রদেশের উল্লেখযোগ্য রূপান্তরের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় অনগ্রসর এবং ‘বিমারু’ হিসেবে চিহ্নিত রাজ্যটি আজ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি একটি বিশাল লক্ষ্য, যার নেপথ্যে রয়েছে বড়মাপের প্রস্তুতি এবং রাজ্যের বিপুল সক্ষমতা ও দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনা। এই জনগোষ্ঠীগত সুবিধাকে কাজে লাগানোর কৌশল ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, উত্তরপ্রদেশকে একটি উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করে তুলতে এই শক্তিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে নতুন শিল্প ও কারখানা স্থাপিত হবে, বড় আকারের বিনিয়োগ আসবে, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে এবং যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল উৎপাদক হিসেবে ভারতের কৃতিত্ব তুলে ধরে শ্রীমোদী বলেন,এক্ষেত্রে উত্তর প্রদেশের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে, দেশের মোবাইল ফোনের অর্ধেক উৎপাদন উত্তরপ্রদেশে হয়।  

 

অত্যাধুনিক প্রযুক্তি খাতে রাজ্যের উদীয়মান ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নয়ডায় সাম্প্রতিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে উত্তর প্রদেশের অগ্রগতির বিষয়টি তুলে ধরেন। ভবিষ্যতে উত্তরপ্রদেশের মানুষের জন্য অসীম সম্ভাবনায় পূর্ণ বিশাল ক্ষেত্র উন্মোচিত হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। 

 

উত্তরপ্রদেশের শিল্পোন্নয়নকে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক কৌশলগত সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের দুটি প্রতিরক্ষা করিডোরের মধ্যে একটি এই রাজ্যের মধ্যেই রয়েছে এবং প্রধান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতারা সেখানে তাদের কার্যক্রম স্থাপন করেছেন। উত্তর প্রদেশে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের মতো বিশ্বখ্যাত ব্যবস্থা তৈরির কথা উল্লেখ করে শ্রী মোদী বলেন, “উত্তর প্রদেশের শিল্প উন্নয়ন আজ ভারতের জন্য একটি কৌশলগত শক্তিতে পরিণত হচ্ছে।”

 

 উত্তরপ্রদেশের যোগাযোগ পরিকাঠামোর ব্যাপক আধুনিকীকরণের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে বিমানবন্দর নেটওয়ার্ক ন্যূনতম ছিল। সেখান থেকে বেড়ে বর্তমানে ২১টি বিমানবন্দর হয়েছে, যার মধ্যে ৫টি আন্তর্জাতিক সুবিধাসম্পন্ন। নবনির্মিত নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে করিডোর থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত।

 

উত্তরপ্রদেশের বর্তমান গতিপথকে এর সমস্যাসংকুল অতীতের সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন উত্তরপ্রদেশের আইন-শৃঙ্খলা সারা দেশে একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের এই রূপান্তর জাতির মূল সংকল্পকে মূর্ত করে তোলে। আজ, সমগ্র দেশ একটি সংকল্প নিয়ে এগিয়ে চলেছে, বিকশিত ভারতের সংকল্প! এই সংকল্প পূরণে উত্তরপ্রদেশের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে।

 

বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা এবং ভারতের উত্থানের প্রতি বাহ্যিক বিরোধিতার কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বাহ্যিক হুমকি সত্ত্বেও উন্নয়নের প্রতি জাতির অটল অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। 

গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েকে এই বৃহত্তর উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সুযোগগুলিকে বাস্তব সমৃদ্ধিতে রূপান্তরিত করার ব্যাপারে উত্তরপ্রদেশের জনগণের ওপর তাঁর আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেন

 

SC/SD/SKD